আর্থিক ব্যবস্থাপনা
৩। (১) সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নতি সাধন এবং বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ধারণযোগ্য পর্যায়ে রাখার জন্য কার্যকর সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(২) সরকার সুষ্ঠু আর্থিক ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে এবং ঋণের স্থিতি পরিশোধযোগ্য সীমার মধ্যে রাখিবার উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থাপনাসমূহ গ্রহণ করিবে, যথা :-
(ক) অভ্যন্তরীণ উৎস হইতে সংগৃহীত ঋণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা এবং উক্ত উৎস হইতে সংগৃহীত বার্ষিক ঋণের পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে রাখা;
(খ) সরকার কতৃর্ক প্রদত্ত গ্যারান্টিজনিত প্রচ্ছন্ন দায় (contingent liability) ধারণযোগ্য পর্যায়ে রাখা; এবং
(গ) অভ্যন্তরীণ ও বহিঃউৎস হইতে গৃহীত সরকারি ঋণের স্থিতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদের শতকরা অংশ হিসাবে প্রতি বৎসর ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা।
(৩) দৈনন্দিন নগদ অর্থের চাহিদা পূরণ করিবার জন্য সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে উপায়-উপকরণ অগ্রিম গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উপায়-উপকরণ অগ্রিম গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করিলে, বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে অতিরিক্ত অর্থ ওভার ড্রাফ্ট হিসাবে গ্রহণ ব্যতিত সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে কোন ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত, সরকার কর্তৃক জারীকৃত প্রাইমারী সিকিউরিটিসমূহ যেমন, ট্রেজারী বিল, বণ্ড প্রভৃতি ক্রয় করিতে পারিবে।
(৫) সরকার, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাজেট ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ উৎস ও বহিঃউৎস হইতে গৃহীত ঋণ এবং গ্যারান্টিজনিত প্রচ্ছন্ন দায় ইত্যাদির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা, অভ্যন্তরীণ ও বহিঃউৎস হইতে গৃহীত ঋণের স্থিতি-সীমা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রাইমারী সিকিউরিটি ক্রয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করিবে।