প্রিন্ট ভিউ

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০

( ২০১০ সনের ৫৮ নং আইন )

পঞ্চম অধ্যায়

আবেদন নিষ্পত্তি, বিচার, আপীল, ইত্যাদি

আবেদন নিষ্পত্তি
২০। (১) এই আইনের অধীন প্রতিটি আবেদন, ধারা ১৬ এর অধীন ক্ষতিপূরণ আদেশের আবেদন ব্যতীত, নোটিশ জারীর তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত নিষ্পত্তি করিবে।
 
 
(২) কোন অনিবার্য কারণে উপ-ধারা (১) উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ১৫ (পনের) কার্য দিবসের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং তদসম্পর্কে লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে।
 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে আদালত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আরো ৭ (সাত) কার্য দিবস সময় নিতে পারিবে এবং এইরূপ সময় বর্ধিতকরণ সম্পর্কে লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে।
 
 
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, আদালত যথাশীঘ্র সম্ভব আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৭ (সাত) দিন অন্তর অন্তর আবেদনটির নিষ্পত্তির প্রতিবেদন লিখিতভাবে আপীল আদালতকে অবহিত করিবে, তবে আপীল আদালত যে কোন পক্ষ কর্তৃক আবেদন অথবা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে আবেদনটি এখতিয়ার সম্পন্ন অন্য কোন আদালতে স্থানান্তর করিতে পারিবে।
 
 
(৫) উপ-ধারা (৪) অধীন কোন আবেদন স্থানান্তর করা হইলে উহা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং যে পর্যায়ে আবেদনটি স্থানান্তরিত হইয়াছে সে পর্যায় হইতে উহার কার্যক্রম পরিচালনা করা হইবে, যেন উক্ত আদালতে আবেদনটি ঐপর্যায়ে নিষ্পন্নাধীন ছিল এবং ইহা কখনও স্থানান্তরিত হয় নাই।
 
 
 
 
বিচার
২১। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দাখিলকৃত আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
 
 
(২) ক্ষতিপূরণ আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কোন নির্দিষ্ট সীমা থাকিবে না।
বিচারের কার্যপদ্ধতি
২২। (১) এই আইনের অধীন কোন আবেদন বা অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
 
 
(২) এই আইনের অধীন আবেদন অপরাধের বিচার বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি প্রযোজ্য হইবে ।
নিভৃত কক্ষে বিচার কার্যক্রম
২৩। সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের সম্মতির ভিত্তিতে অথবা আদালত স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন বিচার কার্যক্রম রুদ্বদ্বার কক্ষে (trial in camera)করিতে পারিবে।
সরেজমিনে তদন্ত
২৪। কোন আবেদন বা কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণকে অবহিত করিয়া ঘটনার সত্যতা নিরূপনের নিমিত্ত সরেজমিনে তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে এবং উক্তরূপ তদন্ত কাজ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে।
আদেশ জারী
২৫। (১) আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশ ফৌজদারী কার্যবিধিতে উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের নিকট জারীর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
 
 
(২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত যে কোন আদেশ জারীকারক বা পুলিশ বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে জারি করা যাইবে :
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতারী পরোয়ানা পুলিশ কর্তৃক তামিল করিতে হইবে।
 
 
(৩) জারীকারক বা পুলিশ বা প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জারীকরণের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত আদেশের অনুলিপি ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে জারী করিবেন এবং জারী সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যয়নসহ আদালতে প্রেরণ করিবেন।
 
 
(৪) প্রয়োজনে, উক্তরূপ জারীর সহিত রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা আদেশ ক্ষেত্রমত, নোটিশ জারী করা যাইবে, এইরূপ একাধিক পদ্ধতিতে জারীর ক্ষেত্রে খরচ আবেদনকারী বহন করিবেন।
প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতিতে বিচার
২৬। (১) প্রতিপক্ষের প্রতি উপস্থিতির জন্য নোটিশ জারী করা হইলেও প্রতিপক্ষ যদি আদালতে উপস্থিত না হন বা একবার উপস্থিত হইয়া পরবর্তীতে আর উপস্থিত না হন, তাহা হইলে আদালত প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতিতে নিষ্পন্নাধীন আবেদন এক তরফাভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
 
 
(২) আদালতে উপস্থিতির জন্য প্রতিপক্ষের প্রতি নোটিশ জারী করা হইলে, তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হইলে বা একবার উপস্থিত হইয়া পরবর্তীতে আর উপস্থিত না হইলে আদালত তাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করিতে পারিবে।
আবেদন খারিজ
২৭। আবেদনকারীর অনুপস্থিতির কারণে কোন আবেদন খারিজ হইলে যে আদালত কর্তৃক আবেদনটি খারিজ করা হইয়াছে সেই আদালত আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে এবং যুক্তিসংগত বলিয়া বিবেচিত হইলে খারিজকৃত আবেদন যে পর্যায়ে খারিজ হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে আবেদন পুনরম্নজ্জীবিত করিতে পারিবে :
 
 
তবে শর্ত থাকে যে আবেদন খারিজের ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে উক্তরূপ আবেদন করিতে হইবে এবং একবারের অধিক আবেদন করা যাইবে না।
আপীল
২৮। (১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আপীল আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(২) এই আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে যে কোন সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপীল করিতে পারিবে।
 
 
(৩) আপীল দায়েরের ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে আপীল আবেদন নিষ্পত্তি করিতে হইবে এবং উপযুক্ত কারণ ব্যতীত আপীল একাধিকবার বদলী করা যাইবে না।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs