প্রিন্ট ভিউ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০

( ২০১০ সনের ৬৩ নং আইন )

প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
১।(১) এই আইন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
 
 
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
 
 
সংজ্ঞা
২।-বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
 
 
(১) ‘‘অধিনায়ক (Commanding Officer) ” অর্থ কোন ইউনিট বা বর্ডার গার্ড সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত কোন স্বতন্ত্র দল বা সংগঠনকে আদেশ প্রদান এবং নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা;
 
 
(২) ‘‘অপরাধ’’ অর্থ এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধ এবং অসামরিক অপরাধও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(৩) ‘‘অবাধ্যতা’’ অর্থ অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক মৌখিক, লিখিত, সাংকেতিক বা অন্য কোনভাবে প্রদত্ত কোন আইনানুগ আদেশ অমান্য করা;
 
 
(৪) ‘‘অসামরিক অপরাধ’’ অর্থ অসামরিক আদালতে বিচার্য কোন অপরাধ;
 
 
(৫) ‘‘অসামরিক আদালত’’ অর্থ অন্য কোন আইনের অধীন গঠিত সাধারণ ও বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ফৌজদারী আদালত বা ট্রাইব্যুনাল;
 
 
(৬) ‘‘অসামরিক কারাগার’’ অর্থ কোন অপরাধে বন্দী রাখিবার উদ্দেশ্যে Prisons Act, 1894 (Act No.IX of 1894) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন কারাগার;
 
 
(৭) ‘‘অসামরিক পদ’’ অর্থ ধারা ৬(১) এ উল্লিখিত পদ ব্যতীত অন্য কোন পদ;
 
 
(৮) ‘‘অসামরিক বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ বাহিনীর অধীন অসামরিক পদে নিয়োজিত (প্রেষণে ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ) সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী;
 
 
(৯) ‘‘আইন কর্মকর্তা’’ অর্থ সরকার কর্তৃক সশস্ত্র বাহিনী অথবা অন্য কোন সরকারী কর্মবিভাগ হইতে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন আইন কর্মকর্তা;
 
 
(১০) ‘‘ইউনিট’’ অর্থ বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে একটি ইউনিট;
 
 
(১১) ‘‘উইং’’ অর্থ কতিপয় কোম্পানী সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর ষ্ট্যাটিক প্রতিষ্ঠান (static establishment) ;
 
 
(১২) ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (Superior Officer) ” অর্থ অধিভুক্ত কোন ব্যক্তিকে আদেশ প্রদানে সক্ষম কোন কর্মকর্তা, তবে তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্যগণ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না;
 
 
(১৩) ‘‘এখতিয়ারভুক্ত এলাকা’’ অর্থ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চৌকি বা এলাকা এবং অন্য কোন আইনের অধীন বা সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত কোন এলাকা;
 
 
(১৪) ‘‘কর্মকর্তা’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তা;
 
 
(১৫) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থ কোন উইং বা ব্যাটালিয়ন বা সদর দপ্তরের অংশবিশেষ বা উইং এর সহিত সংযুক্ত কতিপয় প্লাটুনের সমন্বয়ে গঠিত সাব-ইউনিট;
 
 
(১৬) ‘‘গার্ড পুলিশ’’ অর্থ ধারা ৬৯ এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত কোন গার্ড পুলিশ;
 
 
(১৭) ‘‘চৌকি (Post) ” অর্থ সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর কোন অবস্থান, যে স্থান হইতে প্রয়োজনীয় অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং উহার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং বর্ডার অপারেশন পোস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(১৮) ‘‘জুনিয়র কর্মকর্তা (Junior Officer) ” অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (খ) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তা;
 
 
(১৯) ‘‘ডিটাচমেন্ট’’ অর্থ কোম্পানীর সদর দপ্তর হইতে বিচ্ছিন্ন ও স্বতন্ত্রভাবে কর্মরত কোন সাব-ইউনিট;
 
 
(২০) ‘‘তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (ঘ) এ উল্লিখিত কোন সদস্য;
 
 
(২১) ‘‘নির্দেশমালা’’ অর্থ এই আইনের অধীন মহাপরিচালক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত কোন নির্দেশমালা;
 
 
(২২) ‘‘পদবিধারী বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ ধারা ৬(১) এর দফা (গ) এ উল্লিখিত বাহিনীর সদস্য;
 
 
(২৩) ‘‘প্রজ্ঞাপন’’ অর্থ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন;
 
 
(২৪) ‘‘প্রবিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধি;
 
 
(২৫) ‘‘প্রহরী (Sentry) ” অর্থ বাহিনীর এমন কোন সদস্য যিনি কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, স্থান বা সম্পত্তি বা সীমান্ত রক্ষা নিমিত্ত বিশেষভাবে একক বা দলগতভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন;
 
 
(২৬) ‘‘বর্ডার গার্ড আদালত’’ অর্থ ধারা ৭০ এর অধীন গঠিত যে কোন আদালত;
 
 
(২৭) ‘‘বর্ডার গার্ড হাজত (Border Guard Custody) ” অর্থ কোন বর্ডার গার্ড সদস্যকে গ্রেফতার করিয়া অন্তরীণ রাখিবার আইন সম্মত কোন নির্দিষ্ট স্থান;
 
 
(২৮) ‘‘বর্ডার গার্ড সদস্য’’ অর্থ বাহিনীতে কর্মরত সকল পোষাকধারী ও অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী;
 
 
(২৯) ‘‘ব্যাটালিয়ন’’ অর্থ কতিপয় কোম্পানীর সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন;
 
 
(৩০) ‘‘বাহিনী’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ;
 
 
(৩১) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি;
 
 
(৩২) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক;
 
 
(৩৩) ‘‘রিজিয়ন কমান্ডার’’ অর্থ অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা যিনি একাধিক সেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত রিজিয়নের অধিনায়ক;
 
 
(৩৪) ‘‘শক্র’’ অর্থ দেশ ও বাহিনীর সদস্যগণের জন্য হুমকি স্বরূপ সকল প্রকারের বিদ্রোহী, দাঙ্গাকারী, সন্ত্রাসী, জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী;
 
 
(৩৫) ‘‘সক্রিয় কর্তব্য (active duty) ” অর্থ কোন অধিভুক্ত ব্যক্তি যখন বাহিনীর সদস্য হিসাবে বা উহার অংশ হিসাবে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় টহল বা প্রহরায় অথবা সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে অথবা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধমূলক কার্যে নিয়োজিত অথবা শত্রুর বিরুদ্ধে কোন অপারেশনে কর্তব্যরত অথবা সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের যে কোন স্থানে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের কার্যে নিয়োজিত থাকেন;
 
 
(৩৬) ‘‘সেক্টর কমান্ডার’’ অর্থ উপ-মহাপরিচালক পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা যিনি একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত সেক্টরের অধিনায়ক;
 
 
ব্যাখ্যা।-এই আইনে ‘‘বিশ্বাস করিবার কারণ (reason to believe) ’’, ‘‘অপরাধজনক বল প্রয়োগ (criminal force) ’’, ‘‘আক্রমণ (assault) ’’, ‘‘প্রতারণামূলকভাবে (fraudulently) ’’ এবং ‘‘স্বেচ্ছায় আঘাতকরণ (voluntarily causing hurt) ’’ অভিব্যক্তিসমূহ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এ উলিখিত অভিব্যক্তিসমূহের অনুরূপ হইবে; অধিকন্তু, এই আইনে যে সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হইয়াছে কিন্তু সংজ্ঞায়িত হয় নাই, সেই সকল শব্দ এবং অভিব্যক্তির আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে প্রদত্ত সংজ্ঞা এবং অভিব্যক্তির অনুরূপ হইবে।
অধিভুক্ত ব্যক্তি
৩।(১) এই আইনে অধিভুক্ত ব্যক্তি অর্থে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ-
 
 
(ক) কর্মকর্তা;
 
 
(খ) জুনিয়র কর্মকর্তা;
 
 
(গ) পদবিধারী ও তালিকাভুক্ত বর্ডার গার্ড সদস্য;
 
 
(ঘ) অসামরিক বর্ডার গার্ড সদস্য যিনি সীমান্ত এলাকা কিংবা অন্য যে কোন স্থানে সক্রিয় কর্তব্যে নিয়োজিত থাকাকালীন অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি বা বাহিনীর কোন সম্পত্তি বা দাপ্তরিক বিষয় সম্পর্কিত কোন অপরাধে অভিযুক্ত হন;
 
 
(ঙ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যকালীন বাহিনীর সংরক্ষিত অংশের কোন সদস্য; এবং
 
 
(চ) অন্য কোনভাবে অধিভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও যাহাদের বিরুদ্ধে-
 
 
(অ) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তিকে তাহার কর্তব্য বা সরকারের প্রতি তাহার আনুগত্য প্রদর্শন করা হইতে বিরত থাকিতে প্ররোচনা করিবার বা প্ররোচনা করিবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবার অপরাধে অভিযোগ আনয়ন করা হয়, বা
 
 
(আ) বর্ডার গার্ড বা উহার কোন স্থাপনা বা অবস্থানস্থল বা অর্পিত যে কোন দায়িত্বের স্থান বা উহার সহিত সংশ্লিষ্ট কোন জাহাজ বা বিমানপোত বা অনুরূপ সম্পর্কিত কোন কার্যক্রম যাহা Official Secrets Act, 1923 (Act No. XIX of 1923) এ উল্লিখিত অপরাধে অভিযোগ আনয়ন করা হয়।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ক)-(ঙ) এ উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তি যতদিন না চাকুরী হইতে অবসরগ্রহণ, চাকুরীচ্যুত, অপসারিত, বরখাস্ত বা অব্যাহতিলাভ করেন ততদিন পর্যন্ত অধিভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।
 
 
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (চ) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি যতদিন না তাহার অপরাধের নিষ্পত্তি হইবে ততদিন পর্যন্ত অধিভুক্ত বলিয়া গণ্য হইবেন।
আইনের প্রাধান্য
৪। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs