প্রিন্ট ভিউ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০

( ২০১০ সনের ৬৩ নং আইন )

অষ্টম অধ্যায়

অপরাধ

শত্রু সম্পর্কিত গুরূতর অপরাধ
২৫। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন চৌকি, স্থান অথবা প্রহরাস্থল শত্রুর নিকট পরিত্যাগ বা অর্পণ করেন বা উক্ত কার্য করিতে অন্যকে বাধ্য করেন;
 
 
(খ) শত্রুর উপস্থিতিতে তাহার অস্ত্র, গোলাবারূদ, যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম পরিত্যাগ করেন;
 
 
(গ) প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে শত্রুকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, দ্রব্যসামগ্রী বা অর্থ দ্বারা সাহায্য করেন;
 
 
(ঘ) বন্দী না হওয়া সত্ত্বেও শত্রুকে স্বেচ্ছায় আশ্রয় প্রদান বা রক্ষা করেন;
 
 
(ঙ) যুদ্ধকালে বা কোন অভিযানের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে চৌকি, শিবির, সামরিক বা বর্ডার গার্ড ছাউনিতে মিথ্যা বিপদ সংকেত করেন অথবা ত্রাস বা নৈরাশ্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করেন;
 
 
(চ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি ব্যতীত অথবা কাপুরুষতাবশতঃ শত্রুর নিকট শান্তি পতাকা বা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রেরণ করেন;
 
 
(ছ) ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বক্তব্য রাখেন বা তাহার অন্য কোন আচরণের মাধ্যমে অধিভুক্ত অন্য কোন ব্যক্তি অথবা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য শত্রুর বিরূদ্ধে সক্রিয় হইতে বিরত থাকিতে বাধ্য হন বা বিরত থাকিতে প্ররোচিত হন অথবা শত্রুর বিরূদ্ধে সক্রিয় হইতে নিরৎসাহিত বোধ করেন;
 
 
(জ) প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া শত্রু পক্ষের সহিত পত্রযোগাযোগ অথবা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করেন অথবা এইরূপ যোগাযোগ বা আদান-প্রদান সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকতা করিয়া উহা অধিনায়ক অথবা অন্য কোন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর নিকট প্রকাশ না করেন;
 
 
(ঝ) যুদ্ধ বা অভিযান চলাকালীন সময়ে তাহার অধিনায়ককে অথবা চৌকি, প্রহরাস্থল, টহল হইতে যথাযথভাবে মুক্ত না হইয়া বা অনুমতি ব্যতীত পরিত্যাগ করেন;
 
 
(ঞ) যুদ্ধবন্দী থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় শত্রুকে সেবা অথবা সাহায্য করেন; অথবা
 
 
(ট) যুদ্ধাবস্থা বিরাজকালীন সময়ে বাংলাদেশ শৃঙ্খলা বাহিনীর অথবা উক্তরূপ বাহিনীর কোন অংশের সফলতাকে জ্ঞাতসারে বিপদাপন্ন করিয়া তোলেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক সর্বোচ্চ ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শত্রু সম্পর্কিত অন্যান্য অপরাধ
২৬। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর নির্দেশ ব্যতীত যুদ্ধবন্দী অথবা দ্রব্যসামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার অথবা আহতদেরকে পশ্চাৎভাগে অপসারণের অজুহাতে তাহার অবস্থান পরিত্যাগ করেন;
 
 
(খ) যথাযথ সতর্কতার অভাবে অথবা আদেশ অমান্য করিয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে কর্তব্যে অবহেলা করিয়া বা যুদ্ধবন্দী অবস্থা হইতে মুক্ত হইয়া চাকুরীতে যোগদানে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও চাকুরীতে যোগদান করিতে ব্যর্থ হন; অথবা
 
 
(গ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর অনুমতি ব্যতীত শক্রর সহিত পত্র বা অন্য কোন মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেন অথবা গোপনতথ্য আদান-প্রদান করেন বা সাময়িক যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব প্রেরণ করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্য অবস্থায় কৃত অপরাধ
২৭। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন প্রহরীকে বলপ্রয়োগ করেন, আঘাত করেন অথবা অপরাধজনক বল প্রয়োগ করেন;
 
 
(খ) লুন্ঠন করিবার উদ্দেশ্যে কোন বাড়ি বা অন্য কোন স্থানে বল প্রয়োগপূর্বক প্রবেশ করেন;
 
 
(গ) প্রহরীর কর্তব্যরত অবস্থায় পর্যবেক্ষণ চৌকিতে নিদ্রা যান, মাতাল হন বা, অনুমতি ব্যতীত পর্যবেক্ষণ চৌকি ত্যাগ করেন;
 
 
(ঘ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর অনুমতি ব্যতিরেকে পর্যবেক্ষণ চৌকি, টহল বা প্রহরীদল ত্যাগ করেন;
 
 
(ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলা করিয়া কোন চৌকি, শিবির, সামরিক বা বর্ডার গার্ড ছাউনিতে মিথ্যা বিপদ সংকেত করেন অথবা ত্রাস বা নৈরাশ্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালান; অথবা
 
 
(চ) জানিবার অধিকারী নহেন এমন ব্যক্তির নিকট ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ সংকেত বা শব্দ সংকেতমালা বা শনাক্তকরণ অবহিত করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
 
 
(অ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে; এবং
 
 
(আ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ৭ (সাত)বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বিদ্রোহ
২৮। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) বাহিনীর অভ্যন্তরে অথবা শৃঙ্খলা বাহিনীতে কোন বিদ্রোহ সংঘটনের সূচনা করেন, বিদ্রোহের প্ররোচনা প্রদান করেন, বিদ্রোহের কারণ সৃষ্টি করেন অথবা অন্য কোন ব্যক্তির সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন অথবা বিদ্রোহে যোগদান করেন;
 
 
(খ) উক্তরূপ কোন বিদ্রোহে উপস্থিত থাকিয়া উহা দমনের জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা না করেন;
 
 
(গ) উক্তরূপ কোন বিদ্রোহ সম্পর্কে জ্ঞাত থাকিয়া বা উক্তরূপ কোন বিদ্রোহের অস্তিত্ব রহিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করিয়া অথবা উক্তরূপ কোন বিদ্রোহের কারণ ঘটানোর কথা জ্ঞাত থাকিয়া অথবা উক্ত কোন বিদ্রোহ, উত্তেজনা বা ষড়যন্ত্রের কথা যুক্তিযুক্তভাবে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও যুক্তিসঙ্গত বিলম্ব ব্যতিরেকে তাহার অধিনায়ক বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত না করেন; অথবা
 
 
(ঘ) বাহিনীর অভ্যন্তরে অথবা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাহার কর্তব্য বা আনুগত্য হইতে বিরত থাকিবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
ব্যাখ্যা।-‘‘বিদ্রোহ’’ অর্থ অধিভুক্ত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সম্মিলিতভাবে বাহিনী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন কর্তৃপক্ষর আইনানুগ আদেশ অমান্য করা বা উক্ত কর্তৃপক্ষর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা, প্রতিহত করা বা উৎখাত করা অথবা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি তাহাদের বৈধ বা অবৈধ অসন্তুষ্টি সম্মিলিতভাবে কর্তৃপক্ষর নিকট প্রকাশ করা বা উক্তরূপ কার্যকরণের কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।
চাকুরী হইতে পলায়ন এবং উহাতে সহায়তাকরণ
২৯। (১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি চাকুরী হইতে পলায়ন করেন অথবা চাকুরী হইতে পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
 
 
(ক) যুদ্ধাবস্থায় অথবা যুদ্ধাবস্থার নির্দেশ প্রাপ্তির পর অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধটি সংঘটন করিবার ক্ষেত্রে ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং
 
 
(খ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে উপরি-উল্লিখিতভাবে বাহিনী অথবা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যকে চাকুরী হইতে পলায়নে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত)বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিত
৩০। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিত থাকেন;
 
 
(খ) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অনুমোদিত ছুটির অতিরিক্ত সময় অনুপস্থিত থাকেন;
 
 
(গ) ছুটিতে থাকা অবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষর নিকট হইতে তাহার কর্মস্থল বা ইউনিট অথবা ডিটাচমেন্টকে অথবা ইউনিট বা ডিটাচমেন্টের অংশ যাহার সহিত তিনি সংযুক্ত উক্ত ইউনিট বা ডিটাচমেন্টকে যুদ্ধাবস্থায় যাওয়ার অথবা সক্রিয় কর্তব্য পালনে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে মর্মে সংবাদ প্রাপ্তির পর যথাযথ কারণ ব্যতীত অনতিবিলম্বে ইউনিটে যোগদান করিতে ব্যর্থ হন;
 
 
(ঘ) কোন প্যারেড, অথবা অনুশীলন বা কর্তব্য পালনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে যথাযথ কারণ ব্যতীত যথাসময়ে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হন;
 
 
(ঙ) প্যারেড কিংবা লাইন অব মার্চে থাকা অবস্থায় যথাযথ কারণ ব্যতীত উক্ত প্যারেড বা লাইন অব মার্চ পরিত্যাগ করেন;
 
 
(চ) চৌকি, ইউনিট বা অন্য কোন স্থানে থাকা অবস্থায় উক্ত চৌকি বা ইউনিটে বা উক্ত স্থানের পরিসীমার বাহিরে বা নিষিদ্ধ স্থান যাহা কোন স্থায়ী বা রুটিন আদেশ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হইয়াছে সেই স্থানে অবস্থান করেন; অথবা
 
 
(ছ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদিত ছুটি ব্যতীত অথবা যথেষ্ট কারণ ব্যতীত কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা অন্য কোন শিক্ষালয়ে উপস্থিত থাকিবার আদেশ প্রদান করা সত্ত্বেও অনুপস্থিত থাকেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘু দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন
৩১। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপর অপরাধজনক বল প্রয়োগ বা বল প্রয়োগের চেষ্টা করেন বা আক্রমণ করেন;
 
 
(খ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি হুমকি প্রদর্শন অথবা অবাধ্যতা প্রকাশ অথবা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন; অথবা
 
 
(গ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজে বাধা প্রদান অথবা গার্ড পুলিশের কোন সদস্যকে কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পক্ষে আদেশ পালনকারী কোন ব্যক্তি অথবা গার্ড পুলিশ সদস্যের সাহায্যের জন্য তলব করা হইলে, সাহায্য করিতে অস্বীকার করেন ;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক যুদ্ধাবস্থায় অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় উক্ত অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে, এবং উক্ত অপরাধটি যুদ্ধাবস্থায় অথবা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
অধঃস্তন কোন ব্যক্তিকে আঘাত
৩২। যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি তাহার নিম্ন পদমর্যাদা সম্পন্ন অধঃস্তন কোন ব্যক্তিকে আঘাত অথবা তাহার প্রতি দুর্ব্যবহার (ill-treat) করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনানুগ আদেশ অমান্যকরণ
৩৩। (১) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে প্রদত্ত আইনানুগ আদেশ, যাহা তিনি মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে বা সংকেতের মাধ্যমে অথবা অন্য কোন উপায়ে প্রদান করেন, এমনভাবে অগ্রাহ্য করেন যাহাতে তাহার কর্তৃত্বের প্রকাশ্য বিরূদ্ধাচরণ প্রকাশ পায়, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনানুগ আদেশ অগ্রাহ্য করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
 
 
(ক) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধটি সংঘটিত হইলে অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং
 
 
(খ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
গ্রেফতারকালীন অবাধ্যতা এবং প্রতিবন্ধকতা
৩৪। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন কলহ, প্রকাশ্য স্থানে মারামারি বা বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত থাকার কারণে তাহার অপেক্ষা নিম্নপদবীর হইলেও কোন কর্মকর্তা তাহাকে গ্রেফতার করিবার আদেশ প্রদান করিলে, উহা মান্য করিতে অবাধ্যতা প্রকাশ করেন অথবা উক্তরূপ কর্মকর্তার প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়োগ বা আক্রমণ করেন;
 
 
(খ) অধিভুক্ত হউক বা না হউক কোন ব্যক্তির আইনানুগ জিম্মায় রাখা হইয়াছে এবং তিনি তাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হউক বা না হউক তাহার প্রতি তিনি অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেন অথবা আক্রমণ করেন; অথবা
 
 
(গ) কোন প্রহরী যাহার কর্তব্য অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা অথবা তাহাকে হেফাজতে নেওয়া উক্ত প্রহরীকে তাহার কর্তব্য কর্মে বাধা প্রদান করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তালিকাভুক্তি ফরমে মিথ্যা তথ্য প্রদান
৩৫। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি তালিকাভুক্তির সময়ে তালিকাভুক্তিকরণ কর্মকর্তার নিকট সুনির্দিষ্ট তালিকাভুক্তিকরণ ফরমে প্রদত্ত কোন প্রশ্নে স্বেচ্ছায় মিথ্যা উত্তর প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রতারণামূলক অপরাধ
৩৬। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) সরকারি বা বাহিনীর কোন সম্পত্তি বা অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির বা শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য বা যে কোন ব্যক্তি যিনি বাহিনীতে কর্মরত বা উহার সহিত সংযুক্ত রহিয়াছে তাহার সম্পত্তি চুরি বা অসাধুভাবে আত্মসাৎ বা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করেন;
 
 
(খ) উপ-দফা (ক) এ উল্লিখিত চোরাই সম্পত্তি জ্ঞাতসারে বা উহা চোরাই সম্পত্তি বলিয়া বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে উহা গ্রহণ করেন বা নিজের নিকট রাখেন;
 
 
(গ) প্রতারণার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভবান বা অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে কোন কার্য বা বিচ্যুতি ঘটান; অথবা
 
 
(ঘ) ইচ্ছাকৃতভাবে তাহার উপর অর্পিত কোন সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
মর্যাদাহানিকর আচরণ
৩৭। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কর্তব্য এড়াইবার উদ্দেশ্যে অসুস্থতার ভান করেন বা ছলনা করেন বা নিজের মধ্যে রোগ বা অসুস্থতা সৃষ্টি করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে সুস্থ হইতে বিলম্ব করেন বা নিজের মধ্যে রোগ বা অসুস্থতা বৃদ্ধিসাধন করেন;
 
 
(খ) নিজেকে বা অধিভুক্ত কোন ব্যক্তিকে চাকুরীর অযোগ্য করিবার লক্ষ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে বা উক্ত ব্যক্তিকে আঘাত করেন; অথবা
 
 
(গ) কোন নির্দয় বা অশালীন বা অশ্লীল বা অস্বাভাবিক প্রকৃতির হানিকর আচরণ করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
 
 
সীমান্ত কর্তব্য অবহেলা, উৎকোচ গ্রহণ বা প্রদান, ইত্যাদি
৩৮।(১) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি-
 
 
(ক) চোরাচালানের সহিত সম্পৃক্ত হন;
 
 
(খ) চোরাচালানে সহায়তা করেন;
 
 
(গ) চোরাচালান দমনে ব্যর্থ হন;
 
 
(ঘ) উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে আটককৃত চোরাচালানী মালামাল ছাড়িয়া দেন;
 
 
(ঙ) আটককৃত চোরাচালানী মালামালের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ আত্মসাৎ করেন;
 
 
(চ) মাদকদ্রব্য বা মনুষ্য পাচারে সম্পৃক্ত হন বা সহায়তা করেন; অথবা
 
 
(ছ) সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত থাকিয়া দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(২) যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কোন কার্য বা চাকুরী সংক্রান্ত কোন কার্য করিবার বা কোন কার্য করা হইতে বিরত থাকিবার বা কোন ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাত বা পক্ষপাতহীনতা প্রদর্শনের কারণে পুরস্কার স্বরূপ, তাহার বৈধ পারিতোষিক ব্যতীত, অন্য কোন পারিতোষিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজের বা অন্য কাহারও জন্য, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে গ্রহণ করেন বা লাভ করেন বা গ্রহণ করিতে সম্মত হন বা গ্রহণের চেষ্টা করেন অথবা অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির উৎকোচ গ্রহণের বিষয় জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত না করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
জুয়াখেলা, মদ্যপ অবস্থায় মাতলামী করা বা মাদকাসক্ত হওয়া
৩৯। যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি, কর্তব্যরত অবস্থায় হউক বা না হউক, জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন অথবা মদ্যপ অবস্থায় মাতলামী করেন অথবা অভ্যাসগতভাবে মাদকাসক্ত হন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
 
 
(ক) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে; এবং
 
 
(খ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০১ (এক) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বন্দী ব্যক্তি সম্পর্কিত অপরাধ
৪০। (১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হইয়া কোন বন্দীকে বা বাহিনীর হাজত হইতে কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুক্ত করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক-
 
 
(ক) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ১৪(চৌদ্দ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; অথবা
 
 
(খ) যুদ্ধাবস্থায় বা সক্রিয় কর্তব্যরত ব্যতীত অন্যান্য অবস্থায় এই অপরাধ সংঘটিত হইলে, অনধিক ০৫(পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) অবহেলা করিয়া অথবা কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত তাহার হেফাজতে রক্ষিত কোন যুদ্ধবন্দীকে বা বন্দীকে পালাইয়া যাইতে সুযোগ প্রদান করেন; অথবা
 
 
(খ) যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মুক্ত হওয়া ব্যতীত একজন আইনানুগ বন্দী হওয়া সত্ত্বেও হাজত হইতে পলায়ন করেন বা পলায়নের চেষ্টা করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(৩) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার পর আইনানুগ কারণ ব্যতিরেকে উক্ত ব্যক্তিকে বিচারের জন্য সোপর্দ না করিয়া অথবা বিষয়টি তদন্তের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষর গোচরিভূত করিতে ব্যর্থ হইয়া উক্ত ব্যক্তিকে আটক রাখেন; অথবা
 
 
(খ) কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার পর উক্ত ব্যক্তিকে বিচারের নিমিত্ত নির্ধারিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষর নিকট হস্তান্তরকালে অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব এবং যে কোন ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার কারণ লিখিত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে উপরোক্ত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষর নিকট দাখিল করিতে ব্যর্থ হন;
 
 
তাহা হইলে তিনি, কর্মকর্তা হইলে, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক, চাকুরী হইতে বরখাস্ত অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে, এবং, কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য পদবীর হইলে, অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অস্ত্র বা সরকারি বা বাহিনীর সম্পত্তি বিনষ্টকরণ, হারানো
৪১। যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি তাহার নিজের ব্যবহারের জন্য ইস্যুকৃত বা জিম্মায় প্রদত্ত বা বাহিনীর কার্যে ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, পোষাক-পরিচ্ছদ অথবা অন্য কোন সামগ্রী যাহা সরকারি বা বাহিনীর সম্পত্তি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করেন বা হারাইয়া ফেলেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক, অনধিক ০৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অবহেলা জনিত কারণে অপরাধটি সংঘটিত হইলে, অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন
৪২। যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি-
 
 
(ক) মিথ্যা জানিয়া বা মিথ্যা বলিয়া বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও এই আইনের অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির বিরূদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করেন; অথবা
 
 
(খ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট এই আইনের অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির বিরূদ্ধে অভিযোগ আনয়নের ক্ষেত্রে মিথ্যা জানিয়া বা অনুরূপ বক্তব্য মিথ্যা বলিয়া বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও চরিত্র ও সুনামের জন্য ক্ষতিকর এমন কোন বিবৃত্তি প্রদান করেন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন প্রাসঙ্গিক সত্যকে গোপন করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
সরকারি দলিল জালকরণ ও মিথ্যা ঘোষণা
৪৩। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক অপরাধ করেন, যথাঃ-
 
 
(ক) কোন বিবরণ, প্রতিবেদন, তালিকা, সনদ, বহি অথবা বাহিনীর বা দাপ্তরিক দলিলপত্রাদি যাহা তাহার দ্বারা প্রস্তুতকৃত বা স্বাক্ষরিত বা কোন বিষয়বস্তু যাহার যথার্থতা নিরূপণ তাহার দায়িত্ব, উহাতে জ্ঞাতসারে বা গোপনে কোন মিথ্যা বা প্রতারণামূলক তথ্য বা বিবরণ প্রদান করেন অথবা জ্ঞাতসারে বা গোপনে প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে কোন বিচ্যুতি ঘটান;
 
 
(খ) জ্ঞাতসারে বা ক্ষতিসাধন করিবার উদ্দেশ্যে বাহিনীর বা দাপ্তরিক দলিল গোপন করেন, পরিবর্তন করেন বা অপসারণ করেন বা বিনষ্ট করেন বা মুছিয়া ফেলেন; অথবা
 
 
(গ) বাহিনীর বা দাপ্তরিক কোন বিষয় জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও তৎসম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
 
 
সাদা কাগজে স্বাক্ষর এবং প্রতিবেদন উপস্থাপনে ব্যর্থতা
৪৪। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) বেতন, অস্ত্র, গোলাবারুদ, সরঞ্জাম, পোষাক-পরিচ্ছদ বা ভাতার সম্পর্কিত কোন সরকারি বা বাহিনীর সম্পত্তির দলিল স্বাক্ষরের সময় জ্ঞাতসারে উহার গুরূত্বপূর্ণ কোন অংশ ফাঁকা রাখেন; অথবা
 
 
(খ) কোন বিবরণ বা প্রতিবেদন সম্পাদন করা বা প্রেরণ করা তাহার কর্তব্য হওয়া সত্ত্বেও উহা সম্পাদনে অস্বীকার বা অপরাধমূলক অবহেলা প্রদর্শন করেন; তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বর্ডার গার্ড আদালত ও তদন্ত আদালত সংক্রান্ত অপরাধ
৪৫। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) বর্ডার গার্ড আদালতে বা তদন্ত আদালতে শপথ বা হলফ করিবার প্রয়োজন হইলে, শপথ বা হলফ গ্রহণে অস্বীকার করেন;
 
 
(খ) বর্ডার গার্ড আদালত বা তদন্ত আদালতে কোন প্রশ্নের উত্তর বা কোন তথ্য, দলিল বা অন্যান্য নথিপত্র প্রদান বা উপস্থাপন করিবার যথার্থ প্রয়োজন হইলে, উক্ত প্রশ্নের উত্তর, তথ্য, দলিল বা অন্যান্য নথিপত্র প্রদান বা উপস্থাপন না করেন;
 
 
(গ) বর্ডার গার্ড আদালতে বা তদন্ত আদালতে মিথ্যা অথবা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন বা এইরূপ বিবৃতি প্রদান করেন অথবা আদালতের কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেন; অথবা
 
 
(ঘ) বর্ডার গার্ড আদালতে বা তদন্ত আদালতে অপমানজনক, হুমকি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করেন বা বর্ডার গার্ড আদালত বা তদন্ত আদালতের কার্যপদ্ধতি চলাকালীন সময় উহার ধারাবাহিকতায় বাধা প্রদান করেন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
 
 
অবৈধভাবে বেতন স্থগিতকরণ
৪৬। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি বাহিনীর সদস্যগণের বেতন ভাতা গ্রহণ করিয়া উক্ত বেতন ভাতা অবৈধভাবে আটক করেন অথবা উহা যথাসময়ে প্রদান না করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বলপূর্বক ও অবৈধভাবে অর্থ, সম্পদ, ইত্যাদি গ্রহণ
৪৭। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন অর্থ, সম্পদ, বস্তু, দ্রব্য বা অন্য কোন কিছু, বাহিনীর সদস্যের হউক বা না হউক, বলপূর্বক গ্রহণ করেন; অথবা
 
 
(খ) যথাযথ কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন ব্যক্তির নিকট হইতে অবৈধ উপায়ে অর্থ, সম্পদ, বস্তু, দ্রব্য বা সেবা গ্রহণ করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
অশোভন আচরণ
৪৮। কোন কর্মকর্তা বা কোন জুনিয়র কর্মকর্তা যদি তাহার পদমর্যাদার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এমন কোন আচরণ কিংবা চাকুরীর আচরণের পরিপন্থী কোন কার্য করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০২ (দুই) বৎসরের সশ্রম কারদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
সু-আচরণ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্য বা বিচ্যুতি
৪৯। যদি অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি এমন কোন কার্য বা বিচ্যুতি সংঘটনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন যাহা এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধের আওতায় পড়ে না কিন্তু উক্ত কার্য বা বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে সু-আচরণ ও বাহিনীর শৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বিবিধ অপরাধ
৫০। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি-
 
 
(ক) কোন চৌকি, স্থান, প্রহরার স্থান বা অভিযানের দায়িত্বে থাকিয়া তাহার অধঃস্তন কোন বর্ডার গার্ড সদস্য যিনি কোন ব্যক্তিকে প্রহার করিয়াছেন অথবা অন্যভাবে দুর্ব্যবহার অথবা অত্যাচার করিয়াছেন অথবা কোন মেলায় বা বাজারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন অথবা জনসম্মুখে দাঙ্গা সংঘটন করিয়াছেন অথবা কোন গৃহে, দোকানে বা কোন স্থানে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করিয়াছেন মর্মে অভিযোগ প্রাপ্ত হইয়া তদমর্মে ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন অথবা তাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করিতে ব্যর্থ হন;
 
 
(খ) কোন ধর্মীয় গ্রন্থ বা স্থানকে অবমাননা করেন অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করেন;
 
 
(গ) আত্মহত্যা করিবার প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ গ্রহণ করেন অথবা অনুরূপ কোন প্রচেষ্টার নিমিত্ত কোন কার্য সংঘটিত করেন;
 
 
(ঘ) বাহিনীর জুনিয়র কর্মকর্তা ও তদনিম্ন পদবীর কোন সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় না থাকিয়া বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হইয়া বাজার, শহর বা কোন আবাসস্থলে অথবা জনসম্মুখে পোশাক পরিহিত অবস্থায় অথবা অনুরূপ অবস্থায় অস্ত্র বহন করিয়া ঘোরা-ফেরা করেন;
 
 
(ঙ) অসাধু উপায়ে বা জ্ঞাত আয়ের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এমন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেন;
 
 
(চ) নারী ঘটিত কোন অপরাধে লিপ্ত হন বা কর্তৃপক্ষর অনুমতি ব্যতীত বহু বিবাহে আবদ্ধ হন বা বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য গোপন করেন; অথবা
 
 
(ছ) অপরাধজনক অসদাচরণ করেন;
 
 
তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনধিক ০৩ (তিন) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা
৫১। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি এই আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন এবং অনুরূপ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতঃ উক্ত অপরাধ সংঘটনের নিমিত্ত কোন কার্য করেন, এবং এই আইনে উক্ত প্রচেষ্টা গ্রহণের শাস্তি বিধানের জন্য যদি কোন সুষ্পষ্ট বিধান না থাকে, তাহা হইলে তাহাকে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক নিম্নবর্ণিত দণ্ড প্রদান করা হইবে, যথাঃ-
 
 
(ক) প্রচেষ্টাজনিত অপরাধটি সংঘটিত হইলে যদি উহার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয় তবে, অনধিক চৌদ্দ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড;
 
 
(খ) প্রচেষ্টাজনিত অপরাধটি সংঘটিত হইলে যদি উহার শাস্তি সশ্রম কারাদ- হয়, তবে উক্ত অপরাধের জন্য প্রদেয় সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের অর্ধমেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড।
 
 
অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা
৫২। অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি বাহিনীর আইনে উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন, তাহা হইলে তিনি বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় উল্লিখিত দণ্ডে, অথবা যে কোন লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অসামরিক অপরাধ
৫৩। (১) ধারা ৫৪ এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে, এই আইনে উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত, কোন অসামরিক অপরাধ সংঘটন করিলে, উক্ত অপরাধ এই আইনের অধীনকৃত বলিয়া গণ্য হইবে এবং বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে, তাহাকে সংশ্লিষ্ট অসামরিক অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্ধারিত দণ্ড অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড প্রদান করা হইবে।
 
 
বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক বিচার্য নয় এমন অসামরিক অপরাধ
৫৪। (১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি যদি খুন বা খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ দণ্ডনীয় নরহত্যার অপরাধ করে বা ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত করে, তাহা হইলে উক্ত অপরাধ বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক এই আইনের অধীন বিচার্য হইবে না, যদি না অধিভুক্ত ব্যক্তি উক্ত অপরাধ নিম্নবর্ণিত পরিস্থিতিতে সংঘটন করেঃ-
 
 
(ক) যুদ্ধকালীন অবস্থায়; বা
 
 
(খ) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন অধিভুক্ত ব্যক্তির বিরূদ্ধে উক্ত অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে তাহাকে সংশ্লিষ্ট অসামরিক অপরাধ সংঘটনের জন্য নির্ধারিত দণ্ড অথবা এই আইনের অধীন যে কোন লঘুদণ্ড প্রদান করা যাইবে।
 
 

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs