প্রিন্ট ভিউ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০

( ২০১০ সনের ৬৩ নং আইন )

দ্বাদশ অধ্যায়

বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি

আপত্তি
৮১। (১) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালত ও স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে, আদালত গঠিত হইবার পর, যথা শীঘ্র সম্ভব, আদালতের সভাপতি এবং অন্যান্য সদস্যের নাম অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পড়িয়া শুনাইতে হইবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই মর্মে জিজ্ঞাসা করা হইবে যে, আদালতে আসন গ্রহণ কারী কোন কর্মকর্তা দ্বারা বিচারে তাহার কোন আপত্তি আছে কিনা।
 
 
(২) অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্তরূপ কোন কর্মকর্তার ব্যাপারে আপত্তি করিলে তাহার আপত্তি এবং যে কর্মকর্তার বিরূদ্ধে আপত্তি করা হইয়াছে, তাহার প্রত্যুত্তর শোনা হইবে এবং অবশিষ্ট কর্মকর্তাগণ আপত্তিকৃত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে উক্ত আপত্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
 
 
(৩) ভোটাধিকারী কর্মকর্তাগণের অর্ধেক বা তদতিরিক্ত ভোটে আপত্তিটি গৃহীত হইলে এবং আপত্তিকৃত কর্মকর্তাকে উক্ত আদালতের সদস্য পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে হইবে এবং অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক অভিযুক্ত ব্যক্তির আপত্তির অধিকার সাপেক্ষে, বিধি অনুসারে তাহার শূন্য আসন পূরণ করা যাইবে।
 
 
(৪) যদি কোন আপত্তি উত্থাপিত না হয়, অথবা উত্থাপিত করা হইলেও উহা বৈধ না হয় অথবা সফলভাবে আপত্তিকৃত কোন কর্মকর্তার স্থান এমন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক পূরণ করা হয়, যাহার বিরূদ্ধে কোন আপত্তি উত্থাপিত হয় নাই বা আপত্তি উত্থাপিত হইলেও উহা বৈধ হয় নাই, তাহা হইলে উক্ত সদস্যগণ আদালতের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবেন।
 
 
সদস্য, আইন কর্মকর্তা এবং সাক্ষীর শপথ গ্রহণ
৮২। (১) বিচার আরম্ভ হইবার পূর্বেই বর্ডার গার্ড আদালতের প্রত্যেক সদস্য ও আইন কর্মকর্তাকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শপথ বা হলফ গ্রহণ করিতে হইবে।
 
 
(২) বর্ডার গার্ড আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, শপথ বা হলফ গ্রহণ করিতে হইবে;
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন শিশু অপ্রাপ্ত বয়স্ক বিধায় শপথ বা হলফের প্রকৃতি অনুধাবন করিতে অসমর্থ, সেই ক্ষেত্রে আদালত তাহাকে শপথ বা হলফ গ্রহণ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
সদস্যগণের ভোটদান
৮৩। (১) বর্ডার গার্ড আদালতের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে উক্ত সিদ্ধান্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুকূলে নিষ্পত্তি হইবে।
 
 
(২) স্পেশাল বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে আদালতের সদস্যগণের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি ব্যতিরেকে মৃত্যুদণ্ড-জনিত কোন দণ্ড প্রদান করা যাইবে না।
 
 
(৩) আপত্তি বা রায় বা দণ্ড ব্যতীত অন্য সকল বিষয়ে সভাপতির একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
 
 
সাক্ষী সম্পর্কিত সাধারণ নিয়ম
৮৪। এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষ, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক গৃহীত সকল কার্যধারার সাক্ষীর ক্ষেত্রে Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) প্রযোজ্য হইবে।
ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ইত্যাদি সাক্ষীমূল্য
৮৫।Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) -এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অপরাধ সংঘটন বা সংঘটনে প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনের সহায়তা সংক্রান্ত কোন ঘটনার চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোন কথাবার্তা বা আলাপ আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে, উক্ত চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা টেপ বা ডিস্ক বা যে কোন প্রযুক্তি নির্ভর তথ্যসম্মলিত বস্তু বা দলিল উক্ত অপরাধের বিচারে প্রমাণ হিসাবে বর্ডার গার্ড আদালতে গ্রহণযোগ্য হইবেঃ
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, কেবল উক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করিয়া বর্ডার গার্ড আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দণ্ড প্রদান করিতে পারিবে না।
 
 
সাক্ষীর প্রতি সমন
৮৬। (১) আদালত গঠনকারী কর্মকর্তা, বর্ডার গার্ড আদালত অথবা তদন্ত আদালতের সভাপতি, আইন কর্মকর্তা অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিনায়ক তাহার স্বহস্তে সম্পাদিত সমন দ্বারা সাক্ষী প্রদান অথবা কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু উপস্থাপন করিবার জন্য যে কোন ব্যক্তিকে উক্ত সমনে উলিস্নখিত সময়ে এবং স্থানে উপস্থিত হইতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
 
 
(২) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির সাক্ষী গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহার অধিনায়কের নিকট সমন প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত অধিনায়ক তদানুসারে উহা উক্ত সাক্ষীর উপর জারী করিবেন।
 
 
(৩) অন্যান্য সাক্ষীর ক্ষেত্রে, এখতিয়ার সম্পন্ন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সমন প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সমন এমনভাবে জারী করিবেন যেন, উল্লিখিত সাক্ষীকে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই তলব করা হইয়াছে।
 
 
(৪) কোন সাক্ষীকে তাহার জিম্মায় বা অধীন রক্ষিত কোন দলিল বা বিষয় উপস্থাপন করিতে সমন জারী করা হইলে, উক্ত সমনে উহার যুক্তিসঙ্গত সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকিতে হইবে।
 
 
(৫) যদি বর্ডার গার্ড আদালতের জন্য আবশ্যক হয়, তাহা হইলে ডাক ও টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ, কুরিয়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট অপারেটর কর্তৃপক্ষর জিম্মায় রক্ষিত যে কোন নথি বা দলিল আদালতে তলব করিতে পারিবেঃ
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন কিছুই Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) section 123 এবং 124 এর বিধানকে ক্ষুণ্ণ করিবে না।
 
 
সাক্ষীকে পরীক্ষা করিবার কমিশন
৮৭। (১) যদি বর্ডার গার্ড আদালত চলাকালীন সময়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন সাক্ষীকে পরীক্ষা করা অপরিহার্য বলিয়া আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় এবং উক্ত সাক্ষীর উপস্থিতি যদি অহেতুক বিলম্ব, অত্যাধিক ব্যয় অথবা অন্যান্য অসুবিধার কারণে সম্ভবপর না হয় বা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক বলিয়া গণ্য হয়, তাহা হইলে উক্ত আদালত এখতিয়ারসম্পন্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন কর্মকর্তাকে সাক্ষী গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ করিতে পারিবে।
 
 
(২) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা কর্মকর্তাকে কমিশন নিযুক্ত করা হইলে, তিনি সাক্ষী যে স্থানে বসবাস করেন, সেই স্থানে গমন করিবেন এবং তিনি Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এবং Evidence Act, 1872 (Act No. I of 1872) এর বিধান অনুযায়ী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করিবেন।
কমিশন কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষা
৮৮। (১) ধারা ৮৭ এর অধীন গঠিত কমিশন, প্রশ্নমালার আলোকে, মামলার প্রসিকিউটরের উপস্থিতিতে উক্ত সাক্ষীকে পরীক্ষা করিবেন।
 
 
(২) প্রসিকিউটর এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর মাধ্যমে অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তরীণ না থাকিলে, সশরীরে অনুরূপ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা কর্মকর্তার সম্মুখে উপস্থিত হইতে পারিবেন এবং প্রয়োজনমত উক্ত সাক্ষীকে জবানবন্দী, জেরা এবং পুনঃ জবানবন্দী গ্রহণ করিতে পারিবেন।
 
 
(৩) উক্ত কমিশনের কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদিত হইবার পর কমিশন কর্তৃক পরীক্ষিত সাক্ষীর জবানবন্দীসহ উহা বর্ডার গার্ড আদালতের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
 
 
(৪) যেক্ষেত্রে ধারা ৮৭ এর অধীন কমিশন নিয়োগ করা হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ প্রতিটি কমিশনের কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার পর উহা সম্পন্ন করিবার নিমিত্ত নির্ধারিত যুক্তিসঙ্গত সময়ের জন্য বিচারকার্য মুলতবী করা যাইবে।
 
 
অভিযোগ গঠন করা হয় নাই এমন অপরাধে দণ্ড প্রদান
৮৯। (১) পলায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যাক্তিকে পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণের অভিযোগে অথবা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির জন্য বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(২) পলায়নের প্রচেষ্টা গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে, ছুটি ব্যতীত, অনুপস্থিতির জন্য বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(৩) কোন ব্যক্তি অপরাধজনক বলপ্রয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে আক্রমণের (assault) অভিযোগে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(৪) কোন ব্যক্তি হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে অবাধ্যতামূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(৫) কোন ব্যক্তি ধারা ৩৬ এর দফা (ক) এবং (খ) উল্লিখিত যে কোন অপরাধে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে উক্ত অপরাধসমূহের যে কোনটির জন্য, যাহাতে সে অভিযুক্ত হইতে পারিত, বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(৬) কোন ব্যক্তি বর্ডার গার্ড আদালতের ধারা ৫২ এর অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত হইলে, তাহাকে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান অনুসারে যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাইত উক্তরূপ যে কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে।
 
 
(৭) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য বর্ডার গার্ড আদালতে অভিযুক্ত হইলে তাহাকে উক্ত অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা অথবা প্ররোচনার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, যদিও উক্ত প্রচেষ্টা অথবা প্ররোচনার অভিযোগে তাহাকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা হয় নাই।
তালিকাভুক্তির ফরম
৯০। (১) তালিকাভুক্তিকারী কর্মকর্তা কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে কোন তালিকাভুক্তি ফরমে প্রদত্ত স্বাক্ষর এই আইনের যে কোন কার্যধারায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি যেরূপ বিবৃতির মাধ্যমে উত্তর প্রদান করিয়াছেন সেইরূপে উহা সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।
 
 
(২) তালিকাভুক্তি ফরমের জিম্মাদার কর্মকর্তা কর্তৃক তালিকাভুক্তি ফরমের মূলকপি বা এতদুদ্দেশ্যে প্রত্যায়িত তালিকাভুক্তি ফরমের একটি অনুলিপি উপস্থাপনের মাধ্যমে অনুরূপ ব্যক্তির তালিকাভুক্তি প্রমাণ করা যাইবে।
 
 
কতিপয় দলিলের সাক্ষ্যমূল্য
৯১।(১) কোন অধিভুক্ত ব্যক্তি যিনি কোন ইউনিট হইতে বরখাস্ত বা অব্যাহতি লাভ করিয়াছিলেন, অথবা বাহিনীর কোন ইউনিটে তিনি চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন বা চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন না সেই সম্পর্কিত কোন পত্র, রিটার্ণ বা অন্য কোন দলিল সরকার বা মহাপরিচালক বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন কর্মকর্তা বা তাহার পক্ষে অন্য কোন কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইলে, উক্ত পত্র, রিটার্ণ বা দলিলে উল্লিখিত ঘটনা সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে।
 
 
(২) বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত বাহিনীর সদস্যগণের কোন তালিকা বা গেজেটে প্রকাশিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা জুনিয়র কর্মকর্তার পদ ও মর্যাদা এবং অনুরূপ কর্মকর্তা কর্তৃক সদর দপ্তর, ব্যাটালিয়ন, ইউনিট, উইং, শাখায় ধারণকৃত নিযুক্তি লাভ সংক্রান্ত পত্র, উল্লিখিত ঘটনার সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(৩) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি অনুসারে কোন সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ কোন বিবরণ বা কর্তব্যের প্রতিপালনে সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ কোন বিবরণ যাহা অধিনায়ক বা অনুরূপ বিবরণ লিপিবদ্ধকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত, উহা অনুরূপ দলিলে উল্লিখিত সমস্ত ঘটনার সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(৪) কোন সার্ভিস বহির কোন বিবরণীর বিষয়ে উক্ত সার্ভিস বহির জিম্মাদার কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত অনুলিপি উক্ত লিপির সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(৫) যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির পলায়ন বা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির অভিযোগে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন ইউনিট বা কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তির হেফাজতে আত্মসমর্পণ করেন বা অনুরূপ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেফতার হন, সেইক্ষেত্রে তৎসংক্রান্ত বিষয়ে উক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক বা গ্রেফতারকারী ব্যক্তির ইউনিটের অধিনায়ক কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদ, প্রয়োজনবোধে, উক্ত আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার হইবার ঘটনা, তারিখ এবং স্থান সম্বলিত বর্ণনার সনদ, উল্লিখিত বিষয়ের সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(৬) যেক্ষেত্রে অধিভুক্ত কোন ব্যক্তির পলায়ন অথবা ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিতির অভিযোগে বিচার অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিম্ন পদবীর নহেন এমন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ করেন অথবা অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক গ্রেফতার হন, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদ, যাহাতে উক্ত ব্যক্তির আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের ঘটনা, তারিখ ও স্থানের বর্ণনা রহিয়াছে উহা উল্লিখিত বিষয়ে সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে।
 
 
(৭) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বা স্বীকৃত কোন রাসায়নিক পরীক্ষক বা সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষকের নিকট পরীক্ষার জন্য উপস্থাপিত কোন বস্ত্ত বা বিষয়ের উপর পরীক্ষা বা বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদনের জন্য প্রেরিত হইলে উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের স্বাক্ষরিত রিপোর্ট, এই আইনের অধীনে কোন কার্যধারার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে।
 
 
অভিযুক্ত কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তার বরাত (reference)
৯২। (১) যেক্ষেত্রে পলায়ন বা অনুমতি ব্যতিরেকে ছুটি বা ছুটি সমাপ্ত হইবার পর ছুটিতে থাকা অথবা তলব করিবার পরও চাকুরীতে যোগদান না করা সংক্রান্ত অপরাধের বিচারে বা কোন কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে পর্যাপ্ত বা যুক্তিসংগত অযুহাত উপস্থাপন করিয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তার বরাত দেন এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনে উক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত হইতে পারে বলিয়া আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত বা কার্যধারা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা উক্ত কর্মকর্তাকে এতদুদ্দেশ্যে তাহার বক্তব্য প্রদান করিবার জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং তাহার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আদালত সাময়িকভাবে মূলতবী রাখিবেন।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন কর্মকর্তার নিকট হইতে লিখিত জবাব প্রাপ্তির পর, উহা তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত হইলে, সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে এবং আদালতে বা কার্যধারা পরিচালনাকারী কর্মকর্তার সম্মুখে শপথ বা হলফ করিয়া বক্তব্য প্রদানের ন্যায় গুরুত্ব বহণ করিবে।
 
 
(৩) উক্তরূপ জবাব প্রাপ্তিতে অত্যধিক বিলম্ব হইলে, আদালত অন্যান্য সকল বিষয় বিবেচনাপূর্বক যাহা ন্যায়সঙ্গত বিবেচিত হইবে তদনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
 
 
পূর্বের দণ্ড এবং সাধারণ চরিত্র সম্পর্কিত সাক্ষ্য
৯৩।(১) অধিভুক্ত কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হইলে, উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত উক্ত ব্যক্তির পূর্বের কোন বর্ডার গার্ড আদালত বা অসামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড বা এই আইনের অধীন সংক্ষিপ্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রদত্ত দণ্ড সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং সাক্ষ্য গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করিতে পারিবেন এবং অধিকন্তু উক্ত ব্যক্তির সাধারণ চরিত্র ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ে অনুসন্ধান এবং উহার ফলাফল লিপিবদ্ধ করিতে পারিবে।
 
 
(২) এই ধারার অধীন গৃহীত সাক্ষ্য মৌখিক অথবা লিখিত আকারে বা বর্ডার গার্ড আদালতের কার্যধারা হইতে সত্যায়িত উদ্ধৃতাংশ অথবা অন্য কোন দাপ্তরিক নথি হইতে সংকলিত হইতে পারে এবং অপরাধীকে বিচারের পূর্বে তাহার পূর্বের দণ্ড বা সাধারণ চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে মর্মে কোন প্রকার অবহিত করিবার প্রয়োজন হইবে না।
 
 
(৩) সামারী বর্ডার গার্ড আদালতে, আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তা যথাযথ মনে করিলে অভিযুক্তের পূর্বের দণ্ড, তাহার সাধারণ চরিত্র এবং অনুরূপ অন্যান্য নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে যাহা তাহার স্বীয় জ্ঞান হইতে লদ্ধ, এই ধারার পূর্ববর্তী বিধান অনুসারে প্রমাণ না করিয়া লিপিবদ্ধ করিতে পারিবেন।
 
 
অপরাধী অপ্রকৃতিস্থ হইবার ক্ষেত্রে বিধান
৯৪। (১) যেক্ষেত্রে কোন বর্ডার গার্ড আদালতের বিচারের পর্যায়ে আদালতের নিকট প্রতিয়মান হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ হইবার কারণে তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে অযোগ্য অথবা উক্ত ব্যক্তি আনীত অভিযোগে উল্লিখিত কার্যটি সংঘটিত করিলেও অপ্রকৃতিস্থতার কারণে কৃতকর্মের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করিতে অপারগ ছিলেন অথবা ইহা অনুধাবন করিতে অক্ষম ছিলেন যে উহা অন্যায় বা আইনের পরিপন্থী, সেইক্ষেত্রে আদালত তদানুসারে তাহার রায় লিপিবদ্ধ করিবে।
 
 
(২) আদালতের সভাপতি, অথবা সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষেত্রে বিচার পরিচালনাকারী কর্মকর্তা অবিলম্বে কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তাকে বা, যেক্ষেত্রে সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, সেইক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি অবহিত করিবেন।
 
 
(৩) কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তা যাহাকে উপ-ধারা (২) এর বিধানমতে বিষয়টি অবহিত করা হইয়াছে, তিনি যদি রায়টি অনুমোদন না করেন, তাহা হইলে অভিযুক্তকে মূল অভিযোগের বিচার সম্পন্ন করিবার জন্য উক্ত আদালত বা অন্য কোন বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন।
 
 
(৪) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে নির্ধারিত কর্মকর্তা যাহার নিকট সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের রায় সম্পর্কে অবহিত করা হইয়াছে এবং কার্যধারা অনুমোদনকারী কর্মকর্তা অনুরূপ রিপোর্টকৃত বিষয়ে রায় অনুমোদন করিবার পর অভিযুক্তকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অন্তরীণ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের সিদ্ধান্তে জন্য উপস্থাপন করিবেন।
 
 
(৫) উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুসারে রিপোর্ট প্রাপ্তির পর, সরকার অভিযুক্তকে পাগলাগারদে আটক বা অন্য কোন উপযুক্ত স্থানে নিরাপদ জিম্মায় রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির সুস্থ হইবার পর বিচার
৯৫। যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ হইবার কারণে আত্মপক্ষ সমর্থনে অযোগ্য হন এবং অন্তরীণ বা বন্দী থাকেন, সেইক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মকর্তা-
 
 
(ক) যদি অনুরূপ ব্যক্তি ধারা ৯৪ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন অন্তরীণ থাকেন, তাহা হইলে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে সক্ষম মর্মে মেডিকেল অফিসার রিপোর্ট প্রদান করিলে; অথবা
 
 
(খ) যদি অনুরূপ ব্যক্তি ধারা ৯৪ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীন নিরাপদ জিম্মায় থাকেন, তাহা হইলে মহাকারা পরিদর্শক এবং যদি উক্ত উপ-ধারার অধীন পাগলাগারদে থাকেন, তবে উক্ত পাগলাগারদের যে কোন দুই বা ততোধিক পরিদর্শনার্থী এবং যদি অভিযুক্ত অন্য কোন স্থানে আটক থাকেন তাহা হইলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অপরাধী আত্মপক্ষ সমর্থনে সক্ষম মর্মে সনদ প্রদান করিলে;
 
 
উক্ত বর্ডার গার্ড আদালত বা অন্য কোন বর্ডার গার্ড আদালতে আনীত মূল অভিযোগের বিচারের অথবা অসামরিক অপরাধের ক্ষেত্রে অসামরিক আদালতে বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
 
 
অপ্রকৃতিস্থ অভিযুক্তের অবমুক্তি
৯৬। যেক্ষেত্রে ধারা ৯৪ এর উপ-ধারা (৪) অনুসারে কোন ব্যক্তি কারাগারে অন্তরীণ থাকেন অথবা উক্ত ধারার উপ-ধারা (৫) অনুসারে আটক বা নিরাপদ জিম্মায় থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
 
 
(ক) উপ-ধারা (৪)-এর অধীন অন্তরীণের ক্ষেত্রে, মেডিকেল অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে, অথবা
 
 
(খ) উপ-ধারা (৫) এর অধীন আটকের ক্ষেত্রে, অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নিজের বা অপরের কোন ক্ষতিসাধন করিবার ভীতি না থাকিবার কারণে মুক্তি দেওয়া যাইতে পারে মর্মে ধারা ৯৫ এর দফা (খ) এ উল্লিখিত যে কোন কর্তৃপক্ষর সনদের প্রেক্ষিতে,
 
 
সরকার উক্ত ব্যক্তিকে মুক্তির আদেশ প্রদান অথবা কারাগারে অন্তরীণ রাখিবার অথবা যদি তাহাকে ইতোমধ্যে অনুরূপ পাগলাগারদে না পাঠানো হইয়া থাকে, তাহা ইলে পাগলাগারদে পাঠাইবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
বিচারাধীন অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট মালামালের হেফাজত ও নিষ্পত্তি সম্পর্কে আদেশ
৯৭। বর্ডার গার্ড আদালতে বিচারে যখন কোন মালামাল সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হয় বা যখন কোন অপরাধ সংঘটনে উহাকে ব্যবহার করা হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তখন আদালত তাহার নিজস্ব বিবেচনায় যেভাবে যথাযথ মনে করে সেইভাবে বিচারকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উহার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত মালামাল যদি পচনশীল বা দ্রূত বিনষ্টযোগ্য হইবার বিষয়বস্তু হয়, তাহা হইলে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করিয়া উহা বিক্রয় বা অন্যভাবে নিষ্পত্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
অপরাধের সহিত সংশিস্নষ্ট মালামালের বিলি-বন্টন
৯৮।(১) বর্ডার গার্ড আদালতে বিচার সমাপ্ত হইবার পর, আদালত বা বর্ডার গার্ড আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশ অনুমোদনকারী কর্মকর্তা অথবা তাহার ঊর্ধ্বতন কোন কর্তৃপক্ষ অথবা সামারী বর্ডার গার্ড আদালতের বিচারের ক্ষেত্রে, যখন রায় ও দণ্ড অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না, তখন স্পেশাল সামারী বর্ডার গার্ড আদালত গঠন করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তা যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেইরূপে আদালতের নিকট উপস্থাপিত মালামাল বা নথিপত্র যাহা অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইয়াছে, উহা ধ্বংস, সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বা বৈধ দাবিদারের নিকট অথবা অন্যভাবে হস্তান্তর করিতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
 
(২) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) অনুসারে কোন আদেশ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে বিচারের স্থান নির্বিশেষে, উক্ত আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষর স্বাক্ষরিত ও প্রত্যায়িত একটি অনুলিপি উক্ত মালামাল সংক্রান্ত অপরাধ যে জেলায় সংঘটিত হইয়াছে, উক্ত জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং আদেশ প্রাপ্তির পর উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধান অনুসারে আদেশ কার্যকর করিবার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
 
 
(৩) এই ধারায় ‘মালামাল’ অর্থে যে মালামালের ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়, শুধুমাত্র উক্ত মালামাল অন্তর্ভুক্ত করিবে না, বরং এইরূপ মালামালকে বুঝাইবে যাহা রূপান্তরিত বা বিনিময় হইয়াছে এবং রূপান্তর বা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জিত মালামালও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
 
 
এই আইনের অধীন কার্যধারার ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড আদালতের ক্ষমতা
৯৯। এই আইনের বিধান অনুসারে বর্ডার গার্ড আদালত কর্তৃক অনুষ্ঠিত কোন বিচারিক কার্যধারা Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) অনুযায়ী বিচারিক কার্যধারা হিসাবে গণ্য হইবে এবং বর্ডার গার্ড আদালত Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) অনুযায়ী আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs