মানিলন্ডারিং অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের] ক্ষমতা ও দায়িত্ব
২৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের] নিম্নরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ—
(ক) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হইতে প্রাপ্ত নগদ লেনদেন ও সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত তথ্যাদি [ও অন্য কোন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি] বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে [প্রয়োজনীয়] অতিরিক্ত যে কোন তথ্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হইতে সংগ্রহ এবং উহার [তথ্য-উপাত্ত] সংরক্ষণ করা এবং ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট [তদন্তকারী সংস্থা বা] আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য উক্ত তথ্যাদি প্রদান করা;
[(খ) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হইতে প্রয়োজনীয় তথ্য বা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা;]
(গ) কোন অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে কোন অর্থ বা সম্পত্তি কোন হিসাবে জমা হইয়াছে [বা কোন হিসাবের অর্থ কোন অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতে পারে] মর্মে সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকিলে কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য উক্ত হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা অবরুদ্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত হিসাবের লেনদেন সম্পর্কিত সঠিক তথ্য উৎঘাটনের প্রয়োজন দেখা দিলে লেনদেন[স্থগিত বা অবরুদ্ধ রাখিবার জন্য উক্ত রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে ৩০ (ত্রিশ) দিন করিয়া সর্বোচ্চ ৭ (সাত) বার নির্দেশ প্রদান করা যাইবে];
(ঘ) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করিবার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে, সময় সময়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা;
[(ঙ) প্রয়োজনে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করা;]
(চ) এই আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাসহ [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের] বিবেচনায় যে কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ সভা, সেমিনার, ইত্যাদির আয়োজন করা;
(ছ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে [রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার কার্যক্রম তদারকিসহ] প্রয়োজনীয় অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা।
(২) মানিলন্ডারিং বা সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তে তদন্তকারী সংস্থা কোন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করিলে, প্রচলিত আইনের আওতায় বা যদি অন্য কোন কারণে বাধ্যবাধকতা না থাকে, তাহা হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত তথ্য প্রদান করিবে।
(৩) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা এই ধারার অধীন কোন যাচিত তথ্য যথাসময়ে সরবরাহ করিতে ব্যর্থ হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থাকে প্রতিদিন ১০ (দশ) হাজার টাকা হিসাবে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে এবং কোন সংস্থা ১ (এক) অর্থ বৎসরে ৩ (তিন) বারের অধিক জরিমানার সম্মুখীন হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থা বা সংস্থার কোন শাখা, সার্ভিস সেন্টার, বুথ বা এজেন্টের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা রহিত করিবার উদ্দেশ্যে নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করিতে পারিবে বা ক্ষেত্রমত, নিবন্ধনকারী বা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে উক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত বিষয়টি অবহিত করিবে।
(৪) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা এই ধারার অধীন যাচিত বিষয়ে কোন ভুল বা মিথ্যা তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ করিলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থাকে অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে এবং কোন সংস্থা ১ (এক) অর্থ বৎসরে ৩ (তিন) বারের অধিক জরিমানার সম্মুখীন হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থা বা সংস্থার কোন শাখা, সার্ভিস সেন্টার, বুথ বা এজেন্টের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা রহিত করিবার উদ্দেশ্যে নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করিতে পারিবে বা ক্ষেত্রমত, নিবন্ধনকারী বা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে উক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত বিষয়টি অবহিত করিবে।
(৫) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] কর্তৃক এই আইনের আওতায় জারীকৃত কোন নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থাকে প্রতিদিন ১০ (দশ) হাজার টাকা হিসাবে সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি অপরিপালনীয় বিষয়ের জন্য জরিমানা করিতে পারিবে এবং কোন সংস্থা ১ (এক) অর্থ বৎসরে ৩ (তিন) বারের অধিক জরিমানার সম্মুখীন হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত সংস্থা বা সংস্থার কোন শাখা, সার্ভিস সেন্টার, বুথ বা এজেন্টের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা রহিত করিবার উদ্দেশ্যে নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করিতে পারিবে বা ক্ষেত্রমত, নিবন্ধনকারী বা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে উক্ত সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত বিষয়টি অবহিত করিবে।
(৬) কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর আওতায় [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] কর্তৃক নির্দেশিত কোন অবরুদ্ধ বা স্থগিত আদেশ পরিপালনে ব্যর্থ হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] উক্ত রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে অন্যূন উক্ত ব্যাংক হিসাবে স্থিতির সমপরিমাণ জরিমানা করিতে পারিবে যাহা নির্দেশনা জারীর তারিখে হিসাবে স্থিতির দ্বিগুনের অধিক হইবে না।
(৭) এই আইনের ধারা ২৩ ও ২৫ অনুযায়ী [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] কর্তৃক আরোপিত জরিমানা কোন ব্যক্তি বা সত্তা বা রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা প্রদানে ব্যর্থ হইলে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বাংলাদেশ ব্যাংক-কে অবহিত করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক] সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সত্তা বা রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার নিজ নামে যে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিচালিত হিসাব বিকলনপূর্বক আদায় করিতে পারিবে এবং এক্ষেত্রে জরিমানার কোন অংশ অনাদায়ী থাকিলে তাহা আদায়ে প্রয়োজনে [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] আদালতে আবেদন করিতে পারিবে এবং আদালত যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।
[(৭ক) এই আইনে বর্ণিত অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্তে কোন তদন্তকারী সংস্থা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের হিসাব সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যাদি উপযুক্ত আদালতের আদেশক্রমে অথবা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে সংগ্রহ করিতে পারিবে।]
(৮) উপ-ধারা (৩), (৪), (৫) ও (৬) অনুযায়ী কোন রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থাকে জরিমানা করা হইলে এই জন্য দায়ী উক্ত সংস্থার মালিক, পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধেও [বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট] অন্যূন ১০ (দশ) হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।