প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২

( ২০১২ সনের ১৯ নং আইন )

কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা
৪।(১) এই আইন কার্যকর হইবার পর, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করিবে।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধান সাপেক্ষে ইহার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার বা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা নিজের নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
 
 
কর্তৃপক্ষের কার্যালয়
৫। (১) কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার এক বা একাধিক শাখা কার্যালয়, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করিতে পারিবে।
 
 
কর্তৃপক্ষের গঠন
৬। (১) একজন চেয়ারম্যান ও চার জন সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হইবে।
 
 
(২) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহারা কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন।
 
 
(৩) চেয়্যারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হইবেন।
 
 
(৪) চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
 
 
(৫) চেয়্যারম্যান ও সদস্যগণ এই আইন বা তদ্‌ধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান দ্বারা বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত বা অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।
 
 
(৬) কেবল কোন সদস্য পদে শূন্যতা বা কর্তৃপক্ষ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কর্তৃপক্ষের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবেনা বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবেনা।
 
 
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ
৭। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, নিয়োগের তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন এবং সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, চেয়ারম্যান বা যেকোন সদস্যকে পুনঃনিয়োগ করিতে পারিবে।
 
 
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
৮। 1[(১) পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নিযুক্ত হইবেন;
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন বিষয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে একজন সদস্য নিয়োগ করা যাইবে।]
 
 
(২) এমন কোন ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিয়োগ পাইবার যোগ্য হইবেন না, যিনি-
 
 
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক নহেন; বা
 
 
(খ) কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপী হিসাবে উক্ত ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক বা আদালত কর্তৃক ঘোষিত হইয়াছেন; বা
 
 
(গ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দেউলিয়াত্বের দায় হইতে অব্যাহতি লাভ করেন নাই; বা
 
 
(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ সংঘটনের দায়ে আদালত কর্তৃক ২ (দুই) বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছেন, এবং উক্ত দণ্ড হইতে মুক্তিলাভের পর ৫ (পাঁচ) বৎসর সময় অতিক্রান্ত হয় নাই; বা
 
 
(ঙ) মালিক, শেয়ার হোল্ডার, পরিচালক, কর্মকর্তা, অংশীদার বা পরামর্শক হিসাবে বা অন্যবিধ কারণে ধারা ১১ এ উল্লিখিত কর্মকাণ্ড সম্পৃক্ত বিষয়ের সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
 
 
চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগ, অপসারণ ও দায়িত্ব পালনে অসমর্থতা
৯। (১) চেয়ারম্যান বা যে কোন সদস্য তাহার চাকুরীর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে যেকোন সময়, এক মাসের নোটিশ প্রদানপূর্বক, সরকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।
 
 
(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সরকার চেয়ারম্যান বা যে কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
 
 
(ক) শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন বা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানান; বা
 
 
(খ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের জন্য কোন আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্থ হন; বা
 
 
(গ) এমন কোন কাজ করেন যাহা কর্তৃপক্ষের বা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়।
 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত কারণে চেয়ারম্যান অথবা কোন সদস্য তাহার পদে বহাল থাকার অযোগ্য বলিয়া মনে করিলে, সরকার, এতদ্‌সংক্রান্ত প্রচলিত বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক, উক্ত কারণের যথার্থতা যাচাই করিবার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং উক্ত তদন্ত কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে।
 
 
(৪) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শূন্য পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত, কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠতম সদস্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
 
 
কর্তৃপক্ষের সভা
১০। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ ইহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
 
 
(২) সভার আলোচ্যসূচী, তারিখ, সময় ও স্থান চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে এবং চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, কর্তৃপক্ষের সচিব এইরূপ সভা আহবান করিবেন।
 
 
(৩) চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক মনোনীত অন্য কোন সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
 
 
(৪) চেয়ারম্যানসহ অন্যূন তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম হইবে, তবে মূলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।
 
 
(৫) উপস্থিত কর্তৃপক্ষের সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট থাকিবে।
 
 
(৬) চেয়ারম্যান, সদস্যগণের সহিত আলোচনাপূর্বক, প্রয়োজনবোধে, সংশ্লিষ্ট যেকোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিশেষজ্ঞগণ বা প্রতিনিধিবৃন্দকে কর্তৃপক্ষের সভায় পরামর্শ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবেন, তবে উক্ত আমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।
 
 
কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং কার্যাবলী
১১। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে, যথাঃ-
 
 
(১) এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার বিধানাবলী অনুযায়ী পরমাণু শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহার প্রতিপালিত হইতেছে কিনা ইহা নিশ্চিতকরণ;
 
 
(২) প্রয়োজনীয় মানদণ্ড, সংবিধি (code) এবং নির্দেশাবলী প্রণয়ন ও প্রয়োগ;
 
 
(৩) ধারা ১৮ এ উল্লিখিত সকল কার্যাবলীর জন্য অনুমোদন অর্থাৎ লাইসেন্স, সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন, পারমিট, ইত্যাদি প্রদান, সংশোধন, স্থগিত অথবা বাতিলকরণ;
 
 
(৪) ধারা ১৮ এ উল্লিখিত সকল কার্যাবলীর জন্য কর্মকাণ্ড ভেদে নিউক্লীয় নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা, সিকিউরিটি, সেফগার্ড, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং ভৌত সুরক্ষা (physical protection) সম্পর্কিত বিধানাবলী যথার্থভাবে প্রতিপালিত হইতেছে ইহা নিশ্চিতকরণ;
 
 
(৫) নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যাবলীর পুন:নিরীক্ষণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;
 
 
(৬) পরিদর্শন পরিচালনার উদ্দেশ্যে কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;
 
 
(৭) পুনঃনিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন, পরিদর্শন এবং লাইসেন্স প্রদান;
 
 
(৮) বলবৎযোগ্য কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গাইডলাইন প্রণয়ন এবং এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের বিধানাবলী প্রতিপালিত না হইলে উহার বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণ এবং উহা অব্যাহত রাখা;
 
 
(৯) প্রবর্জন (exclusion) সংক্রান্ত বিষয়াদি নির্ধারণ করা ;
 
 
(১০) কোন স্থাপনা বা নিউক্লীয় স্থাপনার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার (regulatory control) হইতে অব্যাহতি সংক্রান্ত বিষয়াদি নির্ধারণ ও প্রদান করা;
 
 
(১১) অনুমোদনপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থনৈতিক বিষয়াদিসহ উহার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা;
 
 
(১২) মাটি, পানি ও বায়ুতে এবং মানুষ ও জীবজন্তুর আহার্য অথবা অন্যবিধভাবে ব্যবহারকালে যে কোন বস্ত্তুর উপর তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নির্ধারণ;
 
 
(১৩) স্থাপনাসমূহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সহিত সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে আগ্রহী পক্ষগণের সহিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টমিডিয়া এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য এবং পরামর্শের জন্য জনগণের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ;
 
 
(১৪) সিকিউরিটির প্রস্ত্ততি বাস্তবায়নের জন্য ডিজাইন বেসিস থ্রেট (design basis threat) এর সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ে অংশগ্রহণ;
 
 
(১৫) বিকিরণ উৎসের জন্য একটি জাতীয় নিবন্ধন বহি প্রস্ত্তত , সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ;
 
 
(১৬) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের অধীন কর্মকাণ্ড বা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের একটি জাতীয় নিবন্ধন বহি প্রস্ত্তত , সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদকরণ;
 
 
(১৭) সেফগার্ড চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সংগঠক এবং সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন;
 
 
(১৮) নিউক্লীয় ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের সেফগার্ড ব্যবস্থা ও ভৌত সুরক্ষা, অবৈধ পাচার সহ নিউক্লীয় নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা ও রেডিওলজিক্যাল জরুরী ব্যবস্থা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি, এগ্রিমেন্ট, প্রটোকল ও কনভেনশন (যাহাতে বাংলাদেশ চুক্তিভুক্ত পক্ষ) বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা;
 
 
(১৯) নিউক্লীয় পদার্থের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং হিসাবের জন্য একটি স্থায়ী পদ্ধতি প্রণয়ন ও পরিচালনা;
 
 
(২০) রেগুলেটরি বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা;
 
 
(২১) স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সিকিউরিটি এবং বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনে দক্ষতাসম্পন্ন বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সহিত যোগাযোগ এবং সমন্বয় সাধন;
 
 
(২২) জাতীয় নিউক্লীয় ও রেডিওলজিক্যাল জরুরী পরিকল্পনা প্রণয়নে এবং তদ্‌সম্পর্কিত সকল কার্যক্রমে সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন;
 
 
(২৩) বিকিরণজনিত ঘটনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর রিপোর্টিং পদ্ধতি অনুমোদন এবং নিউক্লীয় ও রেডিওলজিক্যাল জরুরী অবস্থায় জরুরী প্রস্ত্ততি এবং সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হইয়াছে মর্মে নিশ্চিতকরণ;
 
 
(২৪) নিউক্লীয় ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং স্থাপনার ভৌত সুরক্ষার জন্য যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে নিশ্চিতকরণ;
 
 
(২৫) নিউক্লীয় ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং উহাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনার অননুমোদিত বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্ম সনাক্তকরণ, নিবারণ, ও সাড়া প্রদানসহ এইরূপ পদার্থ বা স্থাপনার সিকিউরিটির জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণ;
 
 
(২৬) নিউক্লীয় স্থাপনা, বিকিরণ উৎপাদক, নিউক্লীয় পদার্থ, নিউক্লীয় উপাদান বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ, সংশ্লিষ্ট বিষয় অনিরাপদ বা সম্ভাব্য অনিরাপদ অবস্থায় সনাক্ত করা হইলে তদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংশোধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হইয়াছে মর্মে নিশ্চিতকরণ;
 
 
(২৭) নিউক্লীয় ক্ষতির দায় ও পরিধি নির্ধারণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা;
 
 
(২৮) নিউক্লীয় নিরাপত্তা এবং বিকিরণ সুরক্ষা বিষয়ে যে কোন বিদেশী নিউক্লীয় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা অথবা এজেন্সীর সহিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা;
 
 
(২৯) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরীর শর্তাবলী নির্ধারণ;
 
 
(৩০) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী গ্রহণ এবং পরিচালনা;
 
 
(৩১) অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত নিয়ন্ত্রণমূলক তথ্য বিনিময় এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণ;
 
 
(৩২) প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা, জনগণ এবং মিডিয়ার সহিত যোগাযোগ;
 
 
(৩৩) নিউক্লীয় নিরাপত্তা এবং বিকিরণ সুরক্ষা সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ;
 
 
(৩৪) ফি ও চার্জ সম্পর্কিত তফসিল প্রণয়ন;
 
 
(৩৫) উহার দায়িত্বাধীন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়ন এবং আদেশ জারি করা এবং উহা বাস্তবায়ন;
 
 
(৩৬) বিধি বা প্রবিধান বা সরকার কর্তৃক, সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত অন্য যে কোন নির্ধারিত অথবা অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন।
 
 
 
অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব
১২। (১) কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করিবার জন্য সরকার একজন সার্বক্ষণিক অর্থ উপদেষ্টা ও একজন সচিব নিয়োগ করিবে।
 
 
(২) অর্থ উপদেষ্টা ও সচিবের বেতন, ভাতা, পদমর্যাদা, জ্যেষ্ঠতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
 
 
কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
১৩। (১) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষ উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
ক্ষমতা অর্পণ
১৪। কর্তৃপক্ষ, লিখিত আদেশ দ্বারা উক্ত আদেশে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে উহার সকল বা যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে পেশাদারী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
 
 
কর্তৃপক্ষের তহবিল
১৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে অর্থ জমা হইবে, যথাঃ-
 
 
(ক) সরকার কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত বার্ষিক অনুদান;
 
 
(খ) এই আইনের অধীন আদায়কৃত ফি ও চার্জ;
 
 
(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন ব্যক্তি, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নিকট হইতে প্রাপ্ত অনুদান; এবং
 
 
(ঘ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষের তহবিল কর্তৃপক্ষের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিতে হইবে, তবে প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল পরিচালিত হইবে।
 
 
ব্যাখ্যাঃ ‘‘তফসিলি ব্যাংক’’ বলিতে Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. 127 of 1972) এর Article-2(j) তে সংজ্ঞায়িত Scheduled Bank কে বুঝাইবে।
 
 
(৩) কর্তৃপক্ষ উক্ত তহবিল হইতে উহার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করিবে এবং উদ্বৃত্ত অর্থ (যদি থাকে) সরকারি কোষাগারে জমা হইবে।
 
 
উপদেষ্টা পরিষদ
১৬। (১) এই আইনের অধীন নিউক্লীয় নিরাপত্তা ও বিকিরণ সুরক্ষা সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক (regulatory) বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের নিমিত্ত কর্তৃপক্ষ আদেশ দ্বারা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করিতে পারিবে, যথাঃ-
 
 
(ক) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান - সভাপতি;
 
 
(খ) ভৌত বিজ্ঞানের যে কোন শাখায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী এবং নিউক্লীয় নিরাপত্তা - সদস্য;
 
 
ও বিকিরণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে
 
 
এমন একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী
 
 
(গ) ভৌত বিজ্ঞানের যে কোন শাখায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী এবং নিউক্লীয় বিজ্ঞান ও - সদস্য;
 
 
প্রযুক্তি বিষয়ে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন একজন
 
 
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী
 
 
(ঘ) প্রকৌশল বিদ্যার যে কোন শাখায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী এবং নিউক্লীয় বিজ্ঞান - সদস্য;
 
 
ও প্রযুক্তি বিষয়ে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন একজন
 
 
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী
 
 
(ঙ) পরমাণু চিকিৎসা, রেডিওলজি ও ইমেজিং বা রেডিওথেরাপিতে স্নাতকোত্তর - সদস্য;
 
 
ডিগ্রীধারী এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে
 
 
এমন একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক
 
 
(চ) ভূ-পদার্থ, ভূ-প্রকৌশল বা ভূ-তত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে - সদস্য;
 
 
অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতা রহিয়াছে এমন একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী
 
 
(ছ) কৃষি বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের - সদস্য;
 
 
অভিজ্ঞতা রহিয়াছে একজন প্রখ্যাত পরমাণু কৃষি বিজ্ঞানী
 
 
(জ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ঝ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ঞ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ট) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ঠ) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ড) বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য;
 
 
(ঢ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা - সদস্য।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজন মনে করিলে, সময় সময়, আদেশ দ্বারা উপদেষ্টা পরিষদের পরিধি বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
 
 
(৩) কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন সংক্রান্ত আদেশে উপদেষ্টা পরিষদের মেয়াদ, দায়িত্ব, কার্যপরিধি এবং অন্যান্য শর্তাবলী নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।
 
 
(৪) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
 
 
(৫) উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির অনুমোদনক্রমে, সভার আলোচ্যসূচী তারিখ, সময় এবং স্থান নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
 
বিশেষজ্ঞ কমিটি
১৭। কর্তৃপক্ষ, সময় সময়, আদেশ দ্বারা ইহার কার্যে সহায়তাদানের জন্য এক বা একাধিক সদস্য অথবা উহার যে কোন কর্মকর্তা অথবা এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশে কমিটির দায়িত্ব, মেয়াদ, সম্মানি, কার্যপরিধি এবং অন্যান্য শর্তাবলীও নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে।

  • 1
    উপ-ধারা (১) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০১৪ (২০১৪ সনের ১১ নং আইন) এর ২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs