প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২

( ২০১২ সনের ১৯ নং আইন )

জরুরী প্রস্ত্ততি, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা
৪০। (১) জন-স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সম্পত্তির উপর সম্ভাব্য নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল দুর্ঘটনা বা ঘটনার প্রভাব বা ক্ষতি কার্যকরভাবে মোকাবেলা করিবার লক্ষ্যে প্রত্যেক অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অপারেটর বা বিদেশী অপারেটরের জরুরী প্রস্ত্ততি, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা থাকিতে হইবে।
 
 
(২) জরুরী পরিকল্পনা বলিতে নিউক্লীয় স্থাপনা বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনায় বা তেজস্ক্রিয় উৎস সম্পৃক্ত কোন ঘটনা এবং দুর্ঘটনা সনাক্তকরণ এবং আয়ত্ত্বকরণের জন্য এবং নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনা পরিচালনাকালে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বা ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবস্থাপনাকালে এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবহনকালে পরিবেশে তেজস্ক্রিয় উপাদানের নিঃসরণের (release) পরিণতি সনাক্ত ও উপশমকরণের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ এবং কার্যপ্রণালীর সমষ্টিকে বুঝাইবে।
 
 
(৩) জরুরী হিসাবে চিহ্নিত পরিকল্পনাগুলো হইবে নিম্নরূপঃ
 
 
(ক) নির্মাণকালে স্থাপনা এলাকার প্রাথমিক জরুরী পরিকল্পনা (Preliminary on-site emergency plan) , যাহাতে নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনা অথবা কতিপয় নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনার স্থাপনা এলাকায় গৃহীতব্য সময়োচিত পদক্ষেপসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;
 
 
(খ) একই অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত এক বা একাধিক নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনার স্থাপনা এলাকার জরুরী পরিকল্পনা (on-site emergency plan) , যাহাতে গৃহীতব্য সময়োচিত পদক্ষেপসমূহ এবং স্থাপনা বহিঃস্থ এলাকার জরুরী পরিকল্পনার সহিত সংযুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;
 
 
(গ) স্থাপনা বহিঃস্থ এলাকার জরুরী পরিকল্পনা (off-site emergency plan) , যাহাতে পরিবেশে তেজস্ক্রিয় উপাদান নিঃসরণের সময় জরুরী পরিকল্পনা অঞ্চলের (emergency planning zone) মধ্যে অবস্থিত জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য গৃহীতব্য পদক্ষেপসমূহ এবং স্থাপনা এলাকার জরুরী পরিকল্পনার সহিত সংযুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;
 
 
(ঘ) জরুরী পরিবহন নির্দেশাবলী, যাহাতে নিউক্লীয় পদার্থ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বা ব্যবহৃত জ্বালানির স্থানান্তরকালে ঘটনা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গৃহীতব্য ব্যবস্থাদি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে;
 
 
(ঙ) কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রদান কার্যক্রমের অংশ হিসাবে আবেদনের ভিত্তিতে প্রত্যেক নিউক্লীয় স্থাপনার জন্য সম্পূর্ণ অঞ্চল সীমানা (exclusion area boundary) এবং জরুরী পরিকল্পনা অঞ্চলের (emergency planning zone) আয়তন অনুমোদন করিবে।
 
 
(৪) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অপারেটর বা বিদেশী অপারেটর নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনায় কিংবা তেজস্ক্রিয় পদার্থ স্থানান্তরকালে ঘটনা বা দুর্ঘটনা নিরোধক পদক্ষেপ গ্রহণ, ঘটনা বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হইলে পরিণতি উপশমকরণ বা দুরীভূত করিবার জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহণ এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থাদি এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করিবার বিষয়ে দায়ী থাকিবেন।
 
 
(৫) জরুরী পরিকল্পনার বিষয়বস্ত্তর বিস্তারিত বিবরণ, উহা উপস্থাপন ও অনুমোদন, পদক্ষেপ গ্রহণ, কার্যপ্রণালী প্রণয়ন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ তৎসহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (criteria) অনুসারে ঘটনার তীব্রতার মাত্রা নির্ধারণ, কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে অবহিতকরণের বিস্তারিত বিবরণ, দরখাস্ত দাখিলের সময়সীমাসহ সম্পূর্ণ অঞ্চল সীমানা এবং জরুরী পরিকল্পনা অঞ্চলের আয়তন অনুমোদনের লক্ষ্যে দরখাস্তের সহিত সংযুক্ত সোর্স দলিলাদির (source document) উপাদানের বিস্তারিত বিবরণ, পরিবীক্ষণ পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ, প্রশিক্ষণ, অনুশীলন ও জরুরী পরিকল্পনার হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ, নিউক্লীয় বা রেডিওলজিক্যাল স্থাপনায় এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ স্থানান্তরের সময় ঘটনা বা দুর্ঘটনার প্রদানযোগ্য উপাত্ত ও সময়-পরিক্রমার বিস্তারিত বিবরণ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 
 
 
 
 
 
জরুরী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা
৪১। (১) কোন প্রাপ্ত তথ্য বা অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি কর্তৃপক্ষের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন এলাকার বিকিরণ মাত্রা উক্ত এলাকার জনসাধারণ, জীব-জন্তু, সম্পদ বা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝুঁকির সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ উক্ত এলাকার জনসাধারণ ও পরিবেশের উপর সম্ভাব্য ঝুঁকি লাঘবের জন্য উপযুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করিবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবহিত করিবে।
 
 
(২) কর্তৃপক্ষ, জরুরী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিকট হইতে সহায়তা লাভ করিতে পারিবে।
 
 
(৩) কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা এবং গণমাধ্যমে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে নির্দেশনা জারি করিতে পারিবেঃ
 
 
(ক) বিকিরণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবস্থান;
 
 
(খ) উক্ত এলাকা হইতে ব্যক্তি, জীব-জন্তু বা সম্পদ অপসারণ; অথবা
 
 
(গ) উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা দূষণপ্রাপ্ত জীব-জন্তু ও সম্পদের ধ্বংসসাধন।
 
 
(৪) সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ কমিশনার উপ-ধারা (৩) এর অধীন জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং কোন ব্যক্তি উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে অথবা অবহেলা করিলে, প্রয়োজনবোধে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত বলপ্রয়োগ করিতে পারিবেন।
 
 
(৫) কর্তৃপক্ষ অন্যরূপ নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ কমিশনার এর অনুমতি ব্যতীত উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত স্থানে প্রবেশ করিতে পারিবেন না এবং যদি কোন ব্যক্তি উক্তরূপ অনুমতি ব্যতীত, উক্ত স্থানে প্রবেশ করে বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহা হইলে প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ কমিশনার এর নিয়ন্ত্রণাধীনে বল প্রয়োগ করিয়া তাহাকে উক্ত স্থান হইতে অপসারণ করা যাইবে এবং প্রয়োজনে দোষী ব্যক্তিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট সোপর্দ করা বা তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
 
 
(৬) এই ধারার অধীন গৃহীত ব্যবস্থার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ কমিশনার অথবা সরকার বা কর্তৃপক্ষের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ দাবি করিবার অধিকারী হইবেন না।
 
 
নিউক্লীয় ও রেডিওলজিক্যাল জরুরী পরিকল্পনা
৪২। কর্তৃপক্ষ জাতীয় নিউক্লীয় ও রেডিওলজিক্যাল জরুরী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জরুরী অবস্থা উপশমকল্পে গৃহীত সকল কার্যক্রমে সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs