অবৈধভাবে বিদেশে কর্মী প্রেরণ, অর্থ গ্রহণ, ইত্যাদির দণ্ড
৩১। কোন ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট—
(ক) এই আইন বা বিধির বিধান লঙ্ঘন করিয়া অপর কোন ব্যক্তিকে কর্মের উদ্দেশ্যে বিদেশে প্রেরণ বা প্রেরণে সহায়তা করিলে বা চুক্তি করিলে;
(খ) কোন ব্যক্তিকে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করিয়া কোন অর্থ বা মূল্যবান দ্রব্য গ্রহণ করিলে বা গ্রহণ করিবার চেষ্টা করিলে;
(গ) কোন অভিবাসী কর্মীর পাসপোর্ট, ভিসা বা অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র বৈধ কারণ ব্যতীত আটকাইয়া রাখিলে;
(ঘ) প্রতারণামূলকভাবে অধিক বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধার মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করিয়া কোন ব্যক্তিকে অভিবাসন করাইলে বা অভিবাসনের নিমিত্ত চুক্তিবদ্ধ হইতে প্রলুব্ধ করিলে অথবা অন্য কোনভাবে প্রতারণা করিলে;
উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অননুমোদিত বিজ্ঞাপন প্রকাশের দণ্ড
৩২। (১) কোন ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট সরকার বা বুর্যোর পূর্বানুমোদন ব্যতীত বৈদেশিক কর্মে নিয়োগের উদ্দেশ্যে বা অভিবাসন বিষয়ক কোন বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা প্রচার করিলে উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্পর্কিত চাহিদাপত্র, ভিসা বা কার্যানুমতিপত্র সংগ্রহে অবৈধ পন্থা গ্রহণ বা ক্রয়-বিক্রয়ের দণ্ড
৩৩। কোন ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট কর্তৃক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নিয়োগকারী বা বিদেশ হইতে চাহিদাপত্র, ভিসা বা কার্যানুমতিপত্র সংগ্রহে অবৈধ পন্থা গ্রহণ করিলে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উহা ক্রয়-বিক্রয় করিলে উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি 1[অন্যূন ২ (দুই) বৎসর এবং অনধিক ৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড] এবং অন্যূন ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহারের পর রিক্রুটমেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রমের দণ্ড।
2[৩৩ক। ধারা ১২ বা ১৩ এর অধীন কোন রিক্রুটিং এজেন্টের যথাক্রমে, লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করা হইলে উক্ত রিক্রুটিং এজেন্ট রিক্রুটমেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অন্যূন ১ (এক) বৎসর ও অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা ও অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।]
বহির্গমন স্থান ব্যতীত অন্য স্থান দিয়া বহির্গমনের ব্যবস্থাকরণের দণ্ড
৩৪। কোন ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য কোন ব্যক্তিকে বহির্গমনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থান দিয়া বাংলাদেশ হইতে বহির্গমনের ব্যবস্থা করিলে বা সহায়তা করিলে উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ১৪ বা ১৪ক এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া শাখা অফিস পরিচালনা ও সাব-এজেন্ট নিয়োপের দণ্ড
3[৩৫। (১) কোন রিক্রুটিং এজেন্ট ধারা ১৪ বা ১৪ক এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া যথাক্রমে, কোন শাখা অফিস পরিচালনা করিলে কিংবা কাউকে সাব-এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত রিক্রুটিং এজেন্ট ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি ধারা ১৪ক এর অধীন নিবন্ধন গ্রহণ না করিয়া কোন রিক্রুটিং এজেন্টের সাব-এজেন্টরূপে কাজ করিলে অথবা নিজেকে সেই মর্মে উপস্থাপন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা এবং অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।]
অন্যান্য অপরাধের দন্ড
4[৩৫ক।কোন ব্যক্তি যদি এই আইনের এইরূপ কোন বিধান লঙ্ঘন করেন, যেক্ষেত্রে এই আইনে সুনির্দিষ্টভাবে দণ্ডের বিধান উল্লেখ নাই, তাহা হইলে উক্ত ক্ষেত্রে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।]
অপরাধ সংঘটনের সহায়তা, প্ররোচনা, ইত্যাদির দণ্ড
৩৬। কোন ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্ট এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা বা প্ররোচনা প্রদান করিলে এবং উক্ত সহায়তা বা প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হইলে, উক্ত সহায়তাকারী বা প্ররোচনাকারী তাহার সহায়তা বা প্ররোচনা দ্বারা সংঘটিত অপরাধের জন্য নির্দিষ্টকৃত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
৩৭। কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিযাছে উক্ত কোম্পানীর এইরূপ পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
ব্যাখ্যা ।— এই ধারার উদ্দেশ্য পুরণকল্পে—
(ক) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থে নিগমিত বা নিবন্ধিত হউক বা না হউক, যে কোন কোম্পানী, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন বা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(খ) ‘‘পরিচালক’’ অর্থে অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হইবে।
বিচার
৩৮। (১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ হইতে ৪ (চার) মাসের মধ্যে এই আইনের অধীন বিচার কার্য সমাপ্ত করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে কোন মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সময়সীমা অনধিক ২ (দুই) মাস বৃদ্ধি করিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন।
অপরাধের আমলযোগ্যতা, আপসযোগ্যতা, ইত্যাদি
5[৩৯। ধারা ৩১, ৩৩ ও ৩৪ এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য এবং 6[ ধারা ৩২, ৩৩ক, ৩৫ ও ৩৫ক] এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য হইবে।]
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
7[৪০। আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের 8[ধারা ৩২, ৩৩ক, ৩৫ ও ৩৫ক] এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার্য হইবে।]
সরকারের নিকট অভিযোগ উত্থাপন
৪১। (১) এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের অধিকারকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরকারের নিকট রিক্রুটিং এজেন্টসহ যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারনা, অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ অথবা কর্মসংস্থান চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য যে কোন অভিযোগ উত্থাপন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অভিযোগ প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কার্য দিবসের মধ্যে সরকার বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তি তদন্ত সমাপ্ত করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিচালিত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে, তদন্ত শেষ হইবার তারিখ হইতে অনধিক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সরকার বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তি, আদেশ দ্বারা সরাসরি বা সালিসের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন সালিসের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
1
“অন্যূন ২ (দুই) বৎসর এবং অনধিক ৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি এবং বন্ধনীগুলি “অনধিক ৭ (সাত) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনীর পরিবর্তে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৪১ নং আইন) এর ৯ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।