প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫

( ২০১৫ সনের ১৮ নং আইন )

ষষ্ঠ অধ্যায়

অংশীদারিত্ব চুক্তির শর্তাবলি

অংশীদারিত্ব চুক্তির শর্তাবলি

২৬। (১) এই আইন, তদ্‌ধীন প্রণীত প্রবিধিমালা ও সম্মত শর্তাবলি সাপেক্ষে, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ অংশীদারিত্ব চুক্তি প্রণয়ন করিবে।

 
 

(২) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারের আইনগত সম্পর্ক, ঝুঁকির বন্টন ও উহাদের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব অংশীদারিত্ব চুক্তির শর্তাবলি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

 
 

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিধিকে সীমিত না করিয়া, পিপিপি চুক্তিতে নিম্ন-বর্ণিত যে কোন বা সকল বিষয়াদি সংক্রান্ত বিধান থাকিতে পারিবে, যথা:-

 
 

(ক) প্রকল্পের ধরন;

 
 

(খ) পিপিপি চুক্তির মেয়াদ;

 
 

(গ) 1[গণপণ্য] ও গণসেবা;

 
 

(ঘ) কারিগরি নমূনা ও প্রতিপালন মানদন্ড;

 
 

(ঙ) পরিবেশগত ও নিরাপত্তা চাহিদা;

 
 

(চ) বাস্তবায়ন নির্দেশক এবং সমাপ্তির তারিখ;

 
 

(ছ) লেভী আদায়ের মাধ্যমে ব্যয় পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ও উহা সমন্বয়ের কৌশল;

 
 

(জ) নির্মাণ কার্য ও পরিচালনা অঙ্গীকারনামা;

 
 

(ঝ) বীমা;

 
 

(ঞ) স্বীকৃতি পরীক্ষা (Acceptance test) ও পদ্ধতি;

 
 

(ট) পিপিপি চুক্তির পক্ষসমূহের অধিকার ও দায়িত্ব, ঝুঁকি বন্টন;

 
 

(ঠ) সরকারি আর্থিক অংশগ্রহণের ধরন ও পরিমাণ;

 
 

(ড) পিপিপি চুক্তি সমাপ্তিতে সম্পদ হস্তান্তর (যদি থাকে);

 
 

(ঢ) হস্তান্তর পরবর্তী নির্ভরপত্র এবং পদ্ধতি;

 
 

(ণ) প্রতিবেদন দাখিল;

 
 

(ক) চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান কৌশল;

 
 

(থ) সম্পদের মালিকানা;

 
 

(দ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়কালীন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ;

 
 

(ধ) নিয়ন্ত্রণকারী আইন (Governing Law);

 

(ন) সালিশী ব্যবস্থা;

 
 

(প) প্রকল্প এলাকার উপর অধিকার; এবং

 
 

(ফ) নিরাপত্তা স্বার্থ।

 
 

(৪) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অংশীদারিত্ব চুক্তি পক্ষগণের সম্মত ভাষায় প্রণয়ন করা যাইবে।

নিয়ন্ত্রণকারী আইন (Governing Law)
২৭। অংশীদারিত্ব চুক্তিতে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন হইবে অংশীদারিত্ব চুক্তির নিয়ন্ত্রণকারী আইন (Governing Law) ।
প্রবেশাধিকার
২৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে, চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বেসরকারি অংশীদার বা প্রকল্প কোম্পানি বা উহার কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিম্নবর্ণিত যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা:-
 
 
(ক) প্রকল্প এলাকার যে কোন ভূমিতে প্রবেশ, উহাতে অবস্থিত কোন বস্তু পরিদর্শন এবং তৎসংশ্লিষ্ট যে কোন রেকর্ডপত্র বা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, যাচনা ও পর্যালোচনা করা; এবং
 
 
(খ) প্রকল্প এলাকা ও তদস্থিত ভূমিতে অনুসন্ধান, নমুনা সংগ্রহ, জরিপ, নির্মাণ ও খননসহ প্রয়োজনীয় যে কোন কার্য সম্পাদন করা।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রবেশাধিকার প্রয়োগ করিবার ক্ষেত্রে জমির মালিক বা দখলদারকে অন্যূন ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের নোটিশ প্রদান করিতে হইবে।
 
 
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কৃত কোন কার্যের জন্য কোন ভূমির কোনরূপ ক্ষতি সাধিত হইলে, প্রকল্প কোম্পানিকে উহার জন্য, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে, ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।
লেভি নির্ধারণ, আরোপ ও সমন্বয়
২৯। (১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গণপণ্য বা গণসেবা সরবরাহ করিবার বিনিময়ে অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী লেভি আরোপ করিবার অধিকার বেসরকারি অংশিদার বা প্রকল্প কোম্পানির থাকিবে।
 
 
(২) পিপিপি চুক্তিতে লেভি নির্ধারণের এবং সমন্বয়ের পদ্ধতি ও সূত্র বিধৃত থাকিতে হইবে।
 
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘লেভি’’ অর্থ গণপণ্য বা গণসেবা সরবরাহ করিবার বিনিময়ে অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প কোম্পানি কর্তৃক প্রাপ্য অর্থ; এবং ট্যারিফ, টোল, ফি, বা চার্জও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
বিরোধ নিষ্পত্তি
৩০। (১) পিপিপি চুক্তির বিধান প্রয়োগ বা ব্যাখা বা উভয়ের ক্ষেত্রে কোন বিরোধ উদ্ভূত হইলে, পক্ষগণ কর্তৃক পিপিপি চুক্তির অধীন সম্মত নিম্নবর্ণিত উপায়ে উহা নিষ্পত্তি করিবে, যথা:-
 
 
(ক) চুক্তির পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে; বা
 
 
(খ) দফা (ক) এর অধীন বিরোধ মিমাংসা না হওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে; বা
 
 
(গ) দফা (খ) এর অধীন বিরোধ মিমাংসা না হওয়ার ক্ষেত্রে পিপিপি পক্ষগণের সালিস (Arbitration) এর মাধ্যমে।
 
(২) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পিপিপি চুক্তির দ্বারা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান গ্রহণ করা যাইবে এবং সালিশি ব্যবস্থা ঢাকায় হইবে; তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সম্মতির ভিত্তিতে অন্য কোন দেশেও হইতে পারিবে।
 
 
(৩) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিলে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পিপিপি চুক্তির বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিরোধ উপ-ধারা (১) এর অধীন নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ না করিয়া কোন পক্ষ জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করিতে পারিবে না।
 
 
(৪) এই ধারার অধীনে সালিশি ব্যবস্থার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
 
 
সামাজিক বিচার্য বিষয়
৩১। অংশীদারিত্ব চুক্তিতে এমন কোন শর্তের সন্নিবেশ করা যাইবে না যাহা শ্রমিকদের মজুরির মান ও সাধারণ জনগণের সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত কোন বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs