প্রিন্ট ভিউ

পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬

( ২০১৬ সনের ৩২ নং আইন )

পঞ্চম অধ্যায়

অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি

এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিবার দণ্ড
২০। (১) যদি-
 
 
(ক) কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় অধ্যায়ের কোনো বিধান বা তদ্‌সংশ্লিষ্ট প্রণীত বিধির বিধানাবলী লঙ্ঘনপূর্বক পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার করেন; বা
 
 
(খ) কোনো ব্যক্তি ধারা ৪ বা ধারা ৫ এর সহিত সংশ্লিষ্ট ধারা ৩১ এর অধীন প্রণীত কোনো বিধির বিধানাবলী লঙ্ঘন করেন; বা
 
 
(গ) লাইসেন্স গ্রহীতা বা তদ্‌কর্তৃক পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণের স্থান বা পরিবহনরত যানের নিয়ন্ত্রণে বা তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেন; বা
 
 
(ঘ) কোনো পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের স্থান বা পরিবহনরত যানের আপাতত নিয়ন্ত্রণে বা দায়িত্বে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ধারা ১৩ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে -
 
 
(অ) উক্ত স্থানে বা, ক্ষেত্রমত, যানে কোনো পেট্রোলিয়াম পরিদর্শনের সময় বা উক্ত পরিদর্শনে যুক্তিসঙ্গত সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকার বা অবহেলা করেন, অথবা
 
 
(আ) পেট্রোলিয়ামের নমুনা সংগ্রহ করিতে অসহযোগিতা করেন;
 
 
(ঙ) ধারা ২৪ এর অধীন সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ প্রদানে ব্যর্থ হন,
 
 
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(২) যদি পেট্রোলিয়াম আমদানি, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের স্থান বা পরিবহনরত যানের আপাতত নিয়ন্ত্রণে বা দায়িত্বে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ধারা ১০ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে-
 
 
(অ) উক্ত স্থান বা, ক্ষেত্রমত, যান পরিদর্শনে বাধা প্রদান করেন বা যুক্তিসঙ্গত সহযোগিতা প্রদানে ব্যর্থ হন, অথবা
 
 
(আ) উক্ত পেট্রোলিয়ামের সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধারণপাত্র, প্ল্যান্ট বা সরঞ্জামাদি প্রদর্শন করিতে অস্বীকার বা অবহেলা করেন,
 
 
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
 
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বার বা পুনঃপুন একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হইবেন।
পেট্রোলিয়াম এবং ধারণপাত্র বাজেয়াপ্তকরণ
২১। ধারা ২০ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (খ) বা (গ) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে দণ্ড প্রদানকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট-
 
 
(ক) অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট পেট্রোলিয়াম, বা
 
 
(খ) পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ ও বিতরণের জন্য অনুমোদিত পরিমাণ অপেক্ষা অধিক পরিমাণ পেট্রোলিয়াম আমদানি বা, ক্ষেত্রমত, পরিবহন, মজুদ বা বিতরণের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হইলে, উক্ত পেট্রোলিয়ামের মধ্যে যে পরিমাণ পেট্রোলিয়াম অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সেই পরিমাণ পেট্রোলিয়াম,
 
 
উহার ধারণপাত্রসহ বাজেয়াপ্তির নির্দেশ প্রদান করিবেন।
কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
২২। (১) কোন কোম্পানি কর্তৃক কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত ব্যক্তিস্বত্বা বিশিষ্ট সংস্থা (Body Corporate) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারি মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
 
 
ব্যাখ্যা। এই ধারায়-
 
 
(ক) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত;
 
 
(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ‘‘পরিচালক’’ অর্থে উহার কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।
প্রবেশ এবং তল্লাশির ক্ষমতা
২৩। (১) এই আইন বা বিধির বিধান অনুসরণ ব্যতিরেকে কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, উৎপাদন, শোধন, মিশ্রণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার উপযোগী করা হইতেছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা উক্ত স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি করিতে এবং এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইলে উক্ত কর্মকর্তা উক্ত পেট্রোলিয়ামের সকল বা উহার অংশ বিশেষ জব্দ, আটক বা উক্ত স্থান হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন।
 
 
(২) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন সকল তল্লাশির ব্যাপারে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
পেট্রোলিয়ামজনিত দুর্ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদন
২৪। কোনো পেট্রোলিয়াম বা উহার বাষ্পের প্রজ্জ্বলনে, বা সম্ভাব্য বিপজ্জনক অবস্থায় কোনো স্থান বা উহার নিকটবর্তী কোনো স্থানে পেট্রোলিয়াম রাখিবার ফলে উক্তরূপ কোনো প্রজ্জ্বলনে যদি বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটে, এবং উহাতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিলে বা কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা কোনো সম্পত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির কর্তৃত্বে আপাতত উক্ত পেট্রোলিয়াম রহিয়াছে সেই ব্যক্তি অবিলম্বে তাহার নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এবং বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শককে উক্ত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করিবেন।
পেট্রোলিয়ামজনিত গুরুতর দুর্ঘটনার অনুসন্ধান
২৫। (১) যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের এইরূপ বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, পেট্রোলিয়াম বা পেট্রোলিয়াম বাষ্পের প্রজ্জ্বলনের ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৭৬ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে অনুসন্ধান পরিচালনা করিতে হইবে।
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু না হইলেও, যদি কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন বা কোনো সম্পত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহা হইলে সুরতহাল করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত দুর্ঘটনাটি অনুসন্ধান করিবেন, যদি তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, পেট্রোলিয়াম বা পেট্রোলিয়াম বাষ্পের প্রজ্জ্বলনের কারণে উক্ত দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে।
 
 
(৩) এই ধারার অধীন সম্পন্ন সকল অনুসন্ধানের ফলাফল, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকার এবং বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শক এর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
অপরাধের বিচার
২৬। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
২৭। এই আইনের অধীন কৃত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs