প্রিন্ট ভিউ

ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮

( ২০১৮ সনের ৫৬ নং আইন )

ধারা ৮(৪) লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৩। কোনো ব্যক্তি যদি রপ্তানির উদ্দেশ্য ভিন্ন ওজন বা পরিমাপন বা সংখ্যামানের মানদণ্ড ব্যতীত কোনো ওজন বা পরিমাপন যন্ত্র তৈরি বা উৎপাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৮(৫) লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৪। কোনো ব্যক্তি যদি রপ্তানির উদ্দেশ্য ভিন্ন ওজন বা পরিমাপনের উপরিভাগে এইরূপ কোনো ওজন, পরিমাণ বা সংখ্যামান খোদাই করেন, যাহাতে মানদণ্ড একক অনুসরণ করা হয় নাই বা ওজন বা পরিমাপনের মানদণ্ডের অনুরূপ নহে, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ১০, ১১ এবং ১২ লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৫। কোনো ব্যক্তি যদি সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য পরিলক্ষিত ত্রুটি সংশোধন ব্যতীত, অন্য কোনো উপায়ে রেফারেন্স মানদণ্ড, সেকেন্ডারি মানদণ্ড বা প্রচলিত মানদণ্ড পরিবর্তন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হইবেন।
ধারা ১৮ লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৬। কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত, এই আইনের অধীন কোনো রেকর্ড বা দলিলপত্র রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ বা অপারগ হন, অথবা পরিদর্শক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক নির্দেশিত হইয়া, কোনো যুক্তি সঙ্গত কারণ ব্যতীত, কোনো রেকর্ড বা দলিলপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থ বা অপারগ হন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হইবেন।
ধারা ২০ লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৭। (১) কোনো ব্যক্তি যদি, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত, কোনো ওজন বা পরিমাপনের মডেল অনুমোদনের জন্য দাখিল করিতে ব্যর্থ হন বা অপারগ হন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬(ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
(২) কোনো ব্যক্তি যদি, ধারা ২০ এর অধীন ওজন বা পরিমাপন সম্পর্কিত মডেল অনুমোদনের সনদ গ্রহণ ব্যতীত উহা বিক্রয়, বিতরণ, সরবরাহের জন্য তৈরি বা উৎপাদন করেন, অথবা বিক্রয় বা ব্যবসায় বা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে তিনি, অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
(৩) কোনো ব্যক্তি যদি, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সুপারিশ বা অনুমোদন বহির্ভূত বস্তু দ্বারা কোনো ওজন বা পরিমাপন তৈরি বা উৎপাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডসহ অনূর্ধ্ব ৩(তিন) বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২১ লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৮। কোনো ব্যক্তি যদি, লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে বিক্রয়, বিতরণ, সরবরাহের উদ্দেশ্যে কোনো ওজন বা পরিমাপন যন্ত্র উৎপাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২২ লঙ্ঘনের দণ্ড
৩৯। কোনো ব্যক্তি যদি, ধারা ২২ এর বিধান অনুসরণ ব্যতীত, কোনো ওজন বা পরিমাপন তৈরি বা উৎপাদন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৩ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪০। কোনো ব্যক্তি যদি নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ব্যতীত এলপিজি, এলএনজি বটলিং, টার্মিনাল, প্লান্ট, পেট্রোলপাম্প স্টেশন, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, এলপিজি ফিলিং স্টেশন, বা এলএনজি ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৪ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪১। কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ২৪ বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলি লঙ্ঘন করিয়া, মোড়কজাত আকারে, যে কোনো পণ্য বিক্রয়, পরিবেশন, সরবরাহ বা হস্তান্তর করেন অথবা পরিবেশন বা সরবরাহের ব্যবস্থা করেন, তাহা হইলে তিনি, অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৫ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪২। কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ০৬(ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৬ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৩। কোনো ব্যক্তি যদি সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত মোড়কজাত আকারে, কোনো ওজন বা পরিমাপন বা পণ্য রপ্তানি করেন, যাহা ওজন বা পরিমাপের মানদণ্ডের অনুরূপ নহে, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৭ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৪। কোনো ব্যক্তি যদি মেট্রিক পদ্ধতির এককে পরিমাপের উপযোগী নয় বা মেট্রিক পদ্ধতির এককের পাশাপাশি অন্য পদ্ধতির এককেও পরিমাপের উপযোগী ওজন বা পরিমাপন যন্ত্র আমদানি করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৮ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৫। কোনো ব্যক্তি যদি ওজন বা পরিমাপন বা, ক্ষেত্রমত, সংখ্যামানের মানদণ্ড ব্যতীত, অন্য কোনো ওজন বা পরিমাপন বা সংখ্যামান ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬(ছয়) মাসের কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ২৯ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৬। কোনো ব্যক্তি যদি-
 
(ক) যে কোনো পরিমাণের বা সংখ্যায় কোনো বস্তু বা পণ্য বিক্রয়, সরবরাহ বা বিক্রয় বা সরবরাহের ব্যবস্থা করেন, যাহা চুক্তি বা অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে প্রাপ্য পরিমাণ বা সংখ্যা হইতে কম হয়; বা
 
(খ) ওজন বা পরিমাপন বা সংখ্যা দ্বারা কোনো সেবা প্রদান করেন, যাহা চুক্তি বা অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে সেবার তুলনায় কম হয়; বা
 
(গ) কোনো বস্তু বা পণ্য অথবা কোনো পরিমাণ বা সংখ্যার চুক্তি বা নির্দিষ্ট মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ বা সংখ্যা দাবি বা দাবির ব্যবস্থা করেন, অথবা গ্রহণ বা গ্রহণের ব্যবস্থা করেন,
 
তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৩০ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৭। কোনো ব্যক্তি যদি ধারা ৩০ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ০২(দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০(বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৩২ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৮। কোনো ব্যক্তি যদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিপাদন ও স্ট্যাম্পযুক্ত না করিয়া বা বৈধ ভেরিফিকেশন বা, ক্ষেত্রমত, ক্রমাঙ্কন সনদ গ্রহণ ব্যতীত কোনো বাণিজ্যিক ওজন বা পরিমাপন বিক্রয়, সরবরাহ, ব্যবহার করেন বা অধিকারে রাখেন অথবা ব্যবহার বা অধিকারে রাখিবার ব্যবস্থা করেন তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৬৭ লঙ্ঘনের দণ্ড
৪৯। কোনো ব্যক্তি যদি ওজন, পরিমাণ বা সংখ্যামান মানদণ্ড একক ব্যতীত ভিন্নভাবে ধারা ৬৭ তে বর্ণিত ক্ষেত্রে উদ্ধৃত করেন, তাহা হইলে তিনি ১(এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
সীলমোহর জালকরণের দণ্ড, ইত্যাদি
৫০। কোনো ব্যক্তি যদি-
 
(ক) কোনো সীলমোহর অথবা স্ট্যাম্প জাল করেন; বা
 
(খ) জাল সীলমোহর অধিকারে রাখেন, বিক্রয় বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করেন; বা
 
(গ) কোনো স্ট্যাম্প সরাইয়া ফেলেন বা বিকৃত করেন; বা
 
(ঘ) কোনো স্ট্যাম্প সরাইয়া ফেলেন এবং অন্য কোনো ওজন বা পরিমাপনের উপরে আঁটিয়া বা প্রবিষ্ঠ করান; বা
 
(ঙ) কোনো ব্যক্তিকে প্রতারিত করিবার উদ্দেশ্যে বা প্রতারিত হইতে পারে এইরূপ বিশ্বাসে কোনো ওজন বা পরিমাপন বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করেন,
 
তাহা হইলে তিনি ৬(ছয়) মাস হইতে অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কতিপয় ক্ষেত্রে অনুমান করা
৫১। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো প্রতারণামূলক (false) বা অপ্রতিপাদিত ওজন বা পরিমাপন তৈরি বা উৎপাদন করেন বা তাহার অধিকারে রাখেন অথবা হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তাহা হইলে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত, অনুমান করা হইবে যে, এইরূপ ওজন বা পরিমাপন ব্যবসা বা বাণিজ্যের কার্যক্রমে ব্যবহার বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক ও অপ্রতিপাদিত ওজন বা পরিমাপন এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক জ্ঞাতসারে তৈরি বা উৎপাদিত, অধিকারভুক্ত বা নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।
যেক্ষেত্রে দণ্ডের বিধান নির্দিষ্ট নহে
৫২। কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, যাহা লঙ্ঘনের জন্য এই আইনে দণ্ডের বিধান নাই, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
কর্মচারীর ছদ্মবেশ গ্রহণের দণ্ড
৫৩। কোনো ব্যক্তি যদি কোনোভাবে পরিদর্শক, ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অন্য কোনো কর্মচারীর ছদ্মবেশ গ্রহণ করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৫(পাঁচ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদানের দণ্ড
৫৪। কোনো ব্যক্তি যদি পরিদর্শক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ বা তাহার কার্য সম্পাদনে বাধা প্রদান করেন অথবা তাহার ক্ষমতা ব্যবহারে বাধা বা ভয় প্রদর্শন করিয়া তাহার দায়িত্ব হইতে নিবৃত্ত করিতে চাহেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
মিথ্যা তথ্য বা বিবরণ প্রদানের দণ্ড
৫৫। কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা জানিয়া বা মিথ্যা হইতে পারে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য বা বিবরণী প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬(ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
অপরাধ পুনঃসংঘটনের দণ্ড
৫৬। কোনো ব্যক্তি যদি এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ দণ্ডনীয় হইবেন।
অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ
৫৭। কোনো আদালত, ইনস্টিটিউশন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা পরিদর্শকের লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
অপরাধের বিচার
৫৮। (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কর্তৃক বিচার্য হইবে।
 
(২) এই আইনের অধীন অপরাধ পুনঃসংঘটনের ক্ষেত্রে উহার বিচার, ক্ষেত্রমত, ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
৫৯। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তপশিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, ধারা ৫৭ এর বিধান অনুসরণক্রমে, মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা
৬০। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির উপর এই আইনের কোনো ধারায় উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ধারায় উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
বিভিন্ন অপরাধের মীমাংসা
৬১। (১) ধারা ৩৭, ৩৮, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১ বা ৫৩ এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের অভিযোগ গঠনের পূর্বে বা পরে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মচারী দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ইনস্টিটিউটের বরাবরে পরিশোধপূর্বক মীমাংসিত হইতে পারিবে :
 
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ অর্থ, কোনো অবস্থাতেই এইরূপ অপরাধ মীমাংসার জন্য এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণকে অতিক্রম করিবে না।
 
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান এইরূপ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাইবে না, যিনি তাহার দ্বারা সংঘটিত প্রথম অপরাধ মীমাংসা হইবার তারিখ হইতে ৩(তিন) বৎসরের মধ্যে একই বা সদৃশ অপরাধ সংঘটিত করেন।
 
(৩) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ মীমাংসা করা হয়, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম বা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না এবং অপরাধী হেফাজতে থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে অভিযোগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হইবে।
 
(৪) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ এই ধারার বিধান ব্যতীত মীমাংসা করা যাইবে না।
ব্যয় বহন
৬২। এই আইনের অধীন যে কোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে, যদি আদালত এই আইনে উল্লিখিত দণ্ড আরোপ করে, তাহা হইলে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে, এই আইনের অধীন গৃহীত যে কোনো বিশ্লেষণ বা পরীক্ষার ব্যয়সহ তৎকর্তৃক নির্ধারিত ব্যয়, ইনস্টিটিউশন বরাবর প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এইরূপ অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে এইরূপে আদায় করা হইবে যেন উক্ত অর্থদণ্ড এই আইনের অধীন আরোপ করা হইয়াছে।
কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
৬৩। (১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে বা অপরাধ সংঘটনের সময় ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারি উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট সংস্থা (Body Corporate) হইলে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারি মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
 
ব্যাখ্যা।- এই ধারায়-
 
(ক) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশিদারি কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত;
 
(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ‘‘পরিচালক’’ অর্থে উহার কোনো অংশিদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।
৬৪। এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্র
৬৪। এই আইনের অধীন ওজন বা পরিমাপন সংক্রান্ত অপরাধসমূহের ক্ষেত্রে, Penal Code, 1860(Act No. XLV of 1860 এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে না।
অসৎ উদ্দেশ্যে কার্য, ইত্যাদির দণ্ড
৬৫। কোনো সরকারি কর্মচারী এই আইন প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করিবার ক্ষেত্রে অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো কার্য করিলে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিলে তিনি প্রচলিত আইন অনুসারে দণ্ডিত হইবেন।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs