প্রিন্ট ভিউ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮

( ২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন )

সপ্তম অধ্যায়

বিবিধ

মাদকশুল্ক
৫৮৷ (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তপশিলে উল্লিখিত মাদকদ্রব্যের উপর মাদকশুল্ক নামে এক প্রকার শুল্ক আরোপ করিতে পারিবে এবং সময় সময় উক্ত শুল্ক পরিবর্তন করিতে পারিবে :
 
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো উৎপাদিত অ্যালকোহল বা প্রিকারসর কেমিক্যালস রপ্তানি করা হইলে উহার উপর উক্ত মাদকশুল্ক আরোপ করা হইবে না।
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত শুল্ক, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহাপরিচালক বা তদধীন কোনো কর্মচারী কর্তৃক আদায় করা হইবে।
মাদকপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণা
৫৯। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার জনস্বার্থে মাদকের ভয়াবহতার বিষয় বিবেচনা করিয়া দেশের যে-কোনো অঞ্চলকে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য বিশেষ মাদকপ্রবণ অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ঘোষিত অঞ্চলে মাদকদ্রব্য অপরাধ প্রতিরোধের জন্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
ক্ষতিপূরণ, ইত্যাদির দাবি অগ্রহণযোগ্য
৬০। এই আইনের অধীন প্রদত্ত আদেশের কারণে কোনো লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসধারী ব্যক্তির কিংবা যেখানে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন অভিযান পরিচালনা করা হইয়াছে এইরূপ স্থানের কোনো মালিক অথবা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি তজ্জন্য অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করিতে পারিবে না অথবা তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো ফিস ফেরত চাহিতে পারিবে না।
মাদকাসক্ত ব্যক্তির তালিকা প্রণয়ন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন এবং মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র, ইত্যাদি
৬১। (১) অধিদপ্তর মাদকাসক্ত ব্যক্তির তালিকা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-
 
(ক) অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে এবং উহা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি অধিদপ্তরের চাকরি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে; এবং
 
(খ) সরকারি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠানকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসাবে নির্ধারণ বা ঘোষণা করিতে পারিবে।
 
(৩) বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি সরকার প্রদান করিতে পারিবে এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদন্ডে উহা পরিচালিত হইবে।
রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন ও উহার প্রতিবেদন
৬২। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-
 
(ক) মাদকদ্রব্য অথবা মাদকদ্রব্যের কোনো উপাদানের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক পরীক্ষাগার স্থাপন করিতে পারিবে এবং উহার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকরির শর্তাবলি অধিদপ্তরের চাকরি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে; এবং
 
(খ) সরকারি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠানকে রাসায়নিক পরীক্ষাগার হিসাবে নির্ধারণ করিতে পারিবে।
 
(২) এই আইনের অধীন পরিচালিত কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে কোনো বস্তুর রাসায়নিক পরীক্ষার প্রয়োজন অনুভূত হইলে উহা উপ-ধারা (১) এর অধীন স্থাপিত বা নির্ধারিত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে প্রেরণ করিতে হইবে।
 
(৩) রাসায়নিক পরীক্ষকের স্বাক্ষরযুক্ত রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলা দায়ের, মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্ত, অনুসন্ধান, বিচার অথবা অন্য কোনো প্রকার কার্যধারায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে।
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘রাসায়নিক পরীক্ষক’ অর্থ এই আইনের অধীন সরকার কর্তৃক স্থাপিত বা নির্ধারিত সরকারি রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নিয়োগকৃত অথবা স্বীকৃত যে-কোনো পদমর্যাদার রাসায়নিক পরীক্ষক।
কমিটি গঠন ও উহার দায়িত্ব
৬৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নিম্ন-বর্ণিত এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে, যথা:-
 
(ক) জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটি;
 
(খ) জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটি;
 
(গ) জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচার কমিটি; এবং
 
(ঘ) উপজেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচার কমিটি।
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রজ্ঞাপনে বা বিধি দ্বারা সরকার কমিটিসমূহের দায়-দায়িত্ব, সভা অনুষ্ঠান, কার্য পদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়াদি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
ক্ষমতা অর্পণ
৬৪। মহাপরিচালক এই আইনের অধীন তাহার কোনো ক্ষমতা অথবা দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে, লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার অধস্তন যে-কোনো অফিসারকে অর্পণ করিতে পারিবেন।
তপশিল সংশোধন
৬৫। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে-কোনো তপশিল সংশোধন করিয়া কোনো মাদকদ্রব্যের নাম অর্ন্তভূক্তি বা কর্তন করিতে পারিবে।
পারস্পরিক সহযোগিতায় বাধ্যবাধকতা
৬৬। এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ব্যাপারে এবং তথ্য বিনিময় করিবার ব্যাপারে কোনো ব্যক্তি অনুরুদ্ধ হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসারগণকে সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবেন।
জটিলতা নিরসনে সরকারের ক্ষমতা
৬৭। এই আইনের কোনো অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
৬৮। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, উক্ত বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোনো বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা যাইবে, যথা:-
 
(ক) অ্যালকোহল;
 
(খ) মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা;
 
(গ) লাইসেন্স, পারমিট ও ফিস;
 
(ঘ) বাজেয়াপ্তকরণ;
 
(ঙ) ডোপ টেস্ট;
 
(চ) মাদকাসক্তদের তালিকা; এবং
 
(ছ) অফিসার-কর্মচারী নিয়োগ:
 
(৩) এই ধারার অধীন বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, প্রয়োজনে, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ ও সম্পাদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
রহিতকরণ ও হেফাজত
৬৯। (১) এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, (১৯৯০ সনের ২০ নং আইন), অতঃপর ‘উক্ত আইন’ বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।
 
(২) উক্ত আইন রহিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে, উহার অধীন গঠিত-
 
(ক) ‘জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড’ বিলুপ্ত হইবে; এবং
 
(খ) ‘জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তহবিল ও এতৎসংক্রান্ত ‘জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ( তহবিল রক্ষণাবেক্ষণ ও অর্থ ব্যয় ) বিধি, ২০০১’ বিলুপ্ত হইবে, এবং বিলুপ্ত তহবিলে গচ্ছিত সকল অর্থ সরকারি কোষাগারে স্থানান্তরিত হইবে।
 
(৩) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উহার অধীন-
 
(ক) কৃত কোনো কার্য বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
 
(খ) প্রণীত কোনো বিধি, জারিকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ বা কার্যক্রম উক্তরূপ রহিত হইবার অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের অধীন প্রণীত, জারিকৃত বা প্রদত্ত না হওয়া পর্যন্ত, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে বলবৎ থাকিবে;
 
(গ) দায়েরকৃত অনিষ্পন্ন ফৌজদারি কার্যধারা এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই;
 
(ঘ) প্রতিষ্ঠিত বা অনুমোদিত মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র এ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা অনুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
 
(ঙ) স্থাপিত বা অনুমোদিত রাসায়নিক পরীক্ষাগার এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা অনুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে।
 
(৪) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও, উহাতে সংযুক্ত দ্বিতীয় তপশিলে উল্লিখিত মাদক শুল্কের হার এই আইনের অধীন নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
আইনের ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ
৭০। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
 
(২) বাংলা পাঠ এবং ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs