প্রিন্ট ভিউ
এই আইন বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৩ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে।
তৃতীয় অধ্যায়
পেটেন্ট আবেদন দাখিল ও মঞ্জুর
৬। (১) কোনো উদ্ভাবনের দাবিদার ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে বা আইনানুগ প্রতিনিধি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে নির্দিষ্টকৃত ফি প্রদানপূর্বক, নিমণবর্ণিত শর্তাধীনে পেটেন্টের জন্য রেজিস্ট্রারের নিকট সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা (Complete specification) বা সাময়িক বিশেষত্বনামা (Provisional specification) সহকারে আবেদন করিতে পারিবেন, যথা :¾
(ক) আবেদনকারী কর্তৃক সাময়িক বিশেষত্বনামা দাখিলের ১২ (বার) মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা দাখিল করিতে হইবে;
(খ) সাময়িক বিশেষত্বনামায় উদ্ভাবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য থাকিতে হইবে এবং উহা পরবর্তীতে দাখিলকৃত সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত ফরমে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকিতে
হইবে, যথা:¾
(ক) আবেদনকারী ও উদ্ভাবকের নাম ও পরিচয় সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য;
(খ) উদ্ভাবনের শিরোনাম;
(গ) প্রার্থিত পেটেন্টের সুস্পষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বর্ণনা;
(ঘ) আবেদনের নির্দিষ্ট অংশে উদ্ভাবনের বিবরণ;
(ঙ) উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য উল্লেখপূর্বক এক বা একাধিক দাবি;
(চ) উদ্ভাবনের সার-সংক্ষেপ;
(ছ) অগ্রাধিকার সংক্রান্ত দাবির নম্বর ও তারিখ, যদি থাকে।
(৩) যদি আবেদন গ্রহণের সময় রেজিস্ট্রারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত শর্তাদি পূরণ করা হয় নাই, তাহা হইলে তিনি আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনয়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা না হইলে আবেদন পরিত্যক্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) পেটেন্ট আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:¾
(ক) আবেদনকারী কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদন দাখিল করিলে, উক্ত প্রতিনিধির অনুকূলে প্রদত্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩৫ নং আইন) এর অধীন প্রদত্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কপি;
(খ) পেটেন্ট আবেদনকারী নিজে উদ্ভাবক না হইলে, তাহার অধিকারের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করিয়া একটি প্রত্যয়নপত্র বা হস্তান্তরপত্র;
(গ) অগ্রাধিকার সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে, এই আইনের ধারা ১১ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রত্যায়িত অনুলিপি।
(৫) যদি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক অত্যধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতিরেকে সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ভাবন ব্যবহার বা কার্যকর করা যায় তাহা হইলে দাবিকৃত উদ্ভাবন সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ হিসাবে প্রকাশ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে।
(৬) উদ্ভাবন সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয়তার নিরিখে অংকন (drawing) প্রদান করিতে হইবে।
(৭) উদ্ভাবন সুরক্ষার বিষয়বস্ত্ত¾
(ক) দাবি আকারে উল্লেখ করিতে হইবে,
(খ) সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্তহইতে হইবে এবং উহা বর্ণনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গরূপে সমর্থিত হইতে হইবে,
(গ) ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের বিবরণ ও অংকন ব্যবহার করা যাইবে।
(৮) পেটেন্ট সুরক্ষা ব্যাখ্যা করিবার উদ্দেশ্যে সার-সংক্ষেপে কারিগরি তথ্য প্রদান করিতে হইবে এবং, বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত, উক্ত সার-সংক্ষেপ ৩০০ (তিনশত) শব্দের অধিক হইবে না।
(৯) জেনেটিক অরিজিন বা বায়োলজিক্যাল রিসোর্স এর ক্ষেত্রে দাবিকৃত উদ্ভাবনে প্রত্যক্ষবা পরোক্ষভাবে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সংগৃহীত জেনেটিক অরিজিন বা বায়োলজিক্যাল রিসোর্সের সুস্পষ্ট পরিচিতি এবং উহাদের সহিত সম্পৃক্ত বা সম্পৃক্ত নহে এইরূপ ঐতিহ্যগত জ্ঞানের উপাদান যাহা, উহার সৃষ্টিকারীর পূর্বানুমতি ব্যতীত, দাবিকৃত উদ্ভাবনে প্রত্যক্ষবা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা হইয়াছে, তাহা উদ্ভাবনের বিবরণীতে উল্লেখ করিতে হইবে।
(১০) রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশে পেটেন্টকৃত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তার ঘটাইবার লক্ষ্যে, পেটেন্ট মঞ্জুরের পূর্বে কোনো বিদেশি পেটেন্ট আবেদনকারীকে তাহার পেটেন্টের বর্ণনা বাংলাদেশের নাগরিকদের সাধারণ দক্ষতার উপযোগী করিয়া অভিযোজিত করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
ব্যাখ্যা।¾এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ‘‘সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি’’ বলিতে বাংলাদেশের এইরূপ কোনো নাগরিককে বুঝাইবে যিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান লাভ করিয়াছেন এবং দাবিকৃত উদ্ভাবনের কারিগরি বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা লাভ করিয়াছেন।
৭। (১) যদি আবেদনকারী এই মর্মে ঘোষণা প্রদান করেন যে, আবেদনে উল্লিখিত অণুজীব বা অণুজীবসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো ডিপোজিটরি কর্তৃপক্ষের নিকট গচ্ছিত রাখা হইয়াছে এবং প্রমাণস্বরূপ উক্ত ডিপোজিটরি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত দলিলের একটি কপি দাখিল করা হয়, তাহা হইলে রেজিস্ট্রার অণুজীব সম্পর্কিত পেটেন্ট আবেদন বিবেচনা করিবেন।
(২) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অণুজীব সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি জনগণের জন্য সহজলভ্য করা যাইবে।
৮। (১) আবেদনকারী তাহার আবেদনটি মঞ্জুর হইবার পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময় উহা প্রত্যাহার করিতে পরিবেন।
(২) যেক্ষেত্রে¾
(ক) পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত না করিয়াই কোনো আবেদন প্রত্যাহার করা হয়,
(খ) কোনো অগ্রাধিকার দাবি করা না হয়,
(গ) বাংলাদেশে উক্ত আবেদনের সহিত কোনো অনিষ্পন্ন অধিকার না থাকে,
সেইক্ষেত্রে একই উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশে পুনরায় আবেদন করা যাইবে।
(৩) আবেদন সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনের জন্য, বাংলাদেশে দাখিলকৃত আবেদন প্রথম আবেদন হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং পুনরায় আবেদন দাখিল করা হইলে, প্রথমবার দাখিলকৃত আবেদনের জন্য কোনো অগ্রাধিকার দাবি করা যাইবে না।
৯। (১) কেবল একটি উদ্ভাবনের জন্য বা একটি স্বতন্ত্র সাধারণ উদ্ভাবন-ধারণা গঠন করে এইরূপ পারস্পরিক সংযুক্ত উদ্ভাবনের সমষ্টির জন্য পেটেন্টের আবেদন করা যাইবে।
(২) পেটেন্ট আবেদন মঞ্জুর হইবার পূর্বে আবেদনকারী যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় ফি দাখিল সাপেক্ষে আবেদন সংশোধন করিতে পরিবেন, তবে প্রথম আবেদনে যে বিষয়টি দাবি করা হইয়াছিল সংশোধনের ক্ষেত্রে তদতিরিক্ত কোনো দাবি করা যাইবে না।
১০। (১) আবেদনকারী পেটেন্ট মঞ্জুর হইবার পূর্বে যে কোনো সময় পেটেন্ট আবেদন ২ (দুই) বা ততোধিক আবেদনে বিভাজিত করিতে পারিবেন, তবে বিভাজিত আবেদনের দাবি প্রাথমিক আবেদনে দাবিকৃত বিষয়ের অতিরিক্ত হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন বিভাজিত আবেদন প্রথম আবেদন দাখিলের তারিখে দাখিল করা হইয়াছিল মর্মে গণ্য হইবে এবং, ক্ষেত্রমত, প্রথম আবেদনের অগ্রাধিকার তারিখ বিভাজিত আবেদনের অগ্রাধিকার তারিখ হিসাবে বিবেচিত হইবে।
১২। (১) রেজিস্ট্রার, প্রয়োজনে, পেটেন্ট আবেদনকারীকে বিদেশি আবেদন সংক্রান্ত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি দাখিলের নোটিশ জারি করিতে পারিবেন এবং নোটিশ জারির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে উহা দাখিল করিতে হইবে, যথা :¾
(ক) বিদেশি আবেদন পরীক্ষার ফলাফল এবং অনুসন্ধান তথ্য সংক্রান্ত কোনো পত্র আবেদনকারীকে প্রদান করা হইলে, উহার একটি কপি;
(খ) বিদেশি আবেদনের ভিত্তিতে প্রদত্ত পেটেন্ট মঞ্জুরের একটি কপি;
(গ) বিদেশি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হইলে উহার একটি কপি;
(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, মঞ্জুরিকৃত পেটেন্ট বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের একটি কপি;
(২) আবেদনকারী কর্তৃক দলিলাদি অনুবাদের জন্য সময় প্রার্থনা করা হইলে রেজিস্ট্রার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৩) যদি আবেদনকারী রেজিস্ট্রারের অনুরোধ প্রতিপালনে, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, ব্যর্থ হন বা প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রদান না করেন, তাহা হইলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বাতিলযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।
১৩। রেজিস্ট্রার, পেটেন্ট আবেদন গ্রহণের তারিখকে পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হিসাবে বিবেচনা করিবেন।
১৪। (১) আবেদন দাখিলের ১৮ (আঠারো) মাস অতিবাহিত হইবার পর, রেজিস্ট্রার, পেটেন্ট আবেদন জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পেটেন্ট আবেদনের বিষয়বস্ত্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশ বা
প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নিম্নবর্ণিত বিষয় প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণকে অবহিত করিতে হইবে, যথা :¾
(ক) উদ্ভাবনের শিরোনাম;
(খ) পেটেন্ট আবেদনকারী ও উদ্ভাবকের নাম;
(গ) আবেদন দাখিলের তারিখ ও নম্বর;
(ঘ) অগ্রাধিকার নম্বর ও তারিখ, যদি থাকে;
(ঙ) পেটেন্ট এর শ্রেণিবিন্যাস;
(চ) উদ্ভাবনের মূল উপাদান চিত্রায়িত করে এইরূপ অংকন, যদি থাকে;
(ছ) বিষয়বস্ত্তর সার-সংক্ষেপ।
(৩) পেটেন্ট আবেদন প্রকাশনা সংক্রান্ত ফি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) কোনো ব্যক্তি, প্রয়োজনে, জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য প্রকাশিত আবেদনের পেটেন্ট সংক্রান্ত পূর্ণ বিবরণের কপি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ওয়েবসাইটে বা প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার তৃতীয় কোনো পক্ষকে আবেদন পরিদর্শন করিবার অনুমতি বা উহার কোনো তথ্য প্রদান করিবেন না।
(৬) আবেদনকারী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক, ১৮ (আঠারো) মাস মেয়াদ সমাপ্তির পূর্বে যে কোনো সময়ে রেজিস্ট্রারকে পেটেন্ট আবেদন জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করিবার অনুরোধ করিতে পারিবেন।
১৫। (১) জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশে দাখিলকৃত যে কোনো আবেদন গোপন রাখিতে হইবে এবং রেজিস্ট্রার কোনো আবেদন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মনে করিলে, তাহা জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করিবেন।
(২) জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ উহা প্রাপ্তির অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে দাবিকৃত উদ্ভাবন জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কি না সে বিষয়ে রেজিস্ট্রারকে অবহিত করিবেন এবং যদি উক্ত সময়ের মধ্যে বিষয়টি রেজিস্টারকে অবহিত করা না হয়, তাহা হইলে পেটেন্টের আবেদনটি প্রকাশ করা যাইবে।
(৩) আবেদনকারী, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পেটেন্ট এর বিষয়ে রেজিস্ট্রার কর্তৃক অবহিত না হওয়া পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (২) এর অধীন সময়সীমা অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, এতদ্বিষয়ক কোনো পেটেন্ট আবেদন বিদেশে দাখিল করিবেন না।
(৪) জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্ভাবন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত, ব্যবহার, লাইসেন্স প্রদান এবং হস্তান্তর করা যাইবে না।
১৬। (১) এই আইনের ধারা ১৪ এর উপ-ধারা (২) এবং ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ওয়েবসাইটে বা প্রজ্ঞাপনে প্রকাশের তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে, স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ রেজিস্ট্রারের নিকট পেটেন্ট আবেদনের বিরোধিতা করিয়া আপত্তিপত্র দাখিল করিতে পারিবেন।
(২) আপত্তিপত্রে আপত্তিকৃত পেটেন্ট আবেদন শনাক্ত করিতে হইবে এবং আপত্তির কারণ উল্লেখপূর্বক উহার সমর্থনে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণাদি দাখিল করিতে হইবে।
(৩) পেটেন্টের বিরোধিতাকারী পক্ষ এই আইনের ধারা ৩, ৪, ৫ ও ৬ এর বিধান মোতাবেক পেটেন্ট প্রাপ্তির জন্য আবশ্যকীয় শর্তাবলি প্রতিপালনের ব্যর্থতা সম্পর্কে অভিযোগে উল্লেখ করিতে পারিবেন।
(৪) রেজিস্ট্রার ওয়েবসাইটে এবং, প্রয়োজনে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা আপত্তির নোটিশ প্রকাশ করিবেন।
(৫) আবেদনকারী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অভিযোগ খণ্ডন করিয়া প্রতি বিবৃতি দাখিল করিতে পারিবেন।
(৬) রেজিস্ট্রার, প্রয়োজনে, আবেদনকারী ও বিরোধিতাকারী পক্ষের শুনানি গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং উভয় পক্ষও যুক্তি বা পাল্টা-যুক্তি প্রদানসহ মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করিতে পারিবেন।
১৭। (১) পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৩৬ (ছত্রিশ) মাসের মধ্যে, আবেদনকারী নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক রেজিস্ট্রারকে তাহার পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার অনুরোধ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে অনুরোধ দাখিল করা না হইলে, আবেদনটি পরিত্যক্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদ, প্রয়োজনে, ৩(তিন) মাস বৃদ্ধি করা যাইবে, তবে উক্ত মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বে রেজিস্ট্রারের নিকট নির্ধারিত ফি’সহ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুরোধপত্র দাখিল করিতে হইবে।
(৪) রেজিস্ট্রার বিধি মোতাবেক পেটেন্ট আবেদন পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
১৮। (১) উদ্ভাবনের পেটেন্ট মঞ্জুর সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করা হইয়াছে বলিয়া রেজিস্ট্রারের নিকট প্রতীয়মান হইলে তিনি উদ্ভাবনটির পেটেন্ট মঞ্জুর করিবেন এবং উক্ত শর্তাবলি পূরণ না হইলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করিবেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই গৃহীত সিদ্ধান্ত আবেদনকারীকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন।
(২) রেজিস্ট্রার পেটেন্ট মঞ্জুরের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন, যথা:¾
(ক) পেটেন্ট মঞ্জুরের বিষয়টি ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশ;
(খ) ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপনে প্রকাশের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষেরকোনো বিরোধিতা না থাকিলে সিলিং ফি পরিশোধ সাপেক্ষে পেটেন্ট আবেদনকারীকে পেটেন্ট মঞ্জুরের সনদ (লেটার্স অব পেটেন্ট) প্রদান;
(গ) পেটেন্ট আবেদনটি ধারা ৩৩ এ উল্লিখিত নিবন্ধন বহিতে নিবন্ধন;
(ঘ) জনসাধারণের নিকট পেটেন্টের কপি সহজলভ্য করিবেন এবং ফি পরিশোধ সাপেক্ষে যে কোনো আবেদনকারীকে পেটেন্টের কপি প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।
(৩) রেজিস্ট্রার পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পেটেন্টের মাধ্যমে অর্পিত সুরক্ষার পরিধি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে উহার মূলপাঠ ও অংকন পরিবর্তন করিতে পারিবেন, তবে কোনো ক্ষেত্রেই উক্ত পরিবর্তন প্রথম আবেদনে দাবিকৃত যে সকল পেটেন্ট সুবিধা মঞ্জুর করা হইয়াছিল তাহার অতিরিক্ত হইবে না।