প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২

( ২০২২ সনের ০৮ নং আইন )

তৃতীয় অধ্যায়

কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি

কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা দায়িত্ব

১০। (১) কর্তৃপক্ষ, এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) বন্দর সীমানার মধ্যে ডক, মুরিং, পিয়ার, বার্থ, জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, সিএফএস, শেড, ওভার পাস, আন্ডার পাস, টানেল, স্লুইস গেইট, সেতু, রাস্তা, ভবন, রেলপথ, নালা, ছাদ, কালভার্ট, বেড়া, প্রবেশপথ, নির্মাণ, স্থাপন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা ;

(খ) বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন সরবরাহ লাইন সংক্রান্ত স্থাপনা নির্মাণ, উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি স্থাপন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা, বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা;

(গ) বন্দর সীমানার মধ্যে গ্রাহকগণের নিকট জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস মূল্যপ্রদান সাপেক্ষে প্রদান;

(ঘ) বন্দর সীমানার মধ্যে যাত্রী, যানবাহন এবং পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ও ফেরি সংগ্রহ, মেরামত, সংরক্ষণ এবং পরিচালনা;

(ঙ) জাহাজ হইতে পণ্য নামানো, জাহাজিকরণ বা অন্য কোনো কারণে পণ্য পরিবহন, গ্রহণ, পরিচালনা এবং সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রেলওয়ে, ওয়্যারহাউজ, শেড, ইঞ্জিন, ক্রেন, স্কেলস্ (scales) এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি নির্মাণ, সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, সংরক্ষণ এবং পরিচালনা;

(চ) জলমগ্ন অবস্থা হইতে নদীর তীর, চর বা তলদেশ উদ্ধার, ভরাট, খনন, ঘেরাও বা বেড়া নির্মাণ;

(ছ) জাহাজের বার্থিং (berthing) ও পণ্য বোঝাই এবং খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি তৈরি, সংগ্রহ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা;

(জ) জাহাজ এবং উহাতে রক্ষিত জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে এবং জাহাজের নিরাপদ বার্থিং (berthing) এবং ডুবন্ত জাহাজ বা সম্পদ উদ্ধারকল্পে উপযুক্ত জাহাজ (vessel), যন্ত্রপাতি, যানবাহন সংগ্রহ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা;

(ঝ) জাহাজে জ্বালানি বা পানি সরবরাহ;

(ঞ) বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, বার্থ, শেড, সিএফএস এর অগ্নি নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ;

(ট) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো কিছু অর্জন, ভাড়া, ক্রয়, নির্মাণ, স্থাপন, তৈরি, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামত;

(ঠ) বন্দর বা বন্দর সংলগ্ন এলাকার সর্বোচ্চ জোয়ার রেখার (high watermark) উপর বা নীচ যাহাই হউক, ডক বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ এবং অন্যান্য কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ;

(ড) বন্দরে পণ্য বোঝাই ও খালাস বা ওয়্যারহাউজ এবং ইয়ার্ডে পণ্য সংরক্ষণ করিবার জন্য বা ভেসেলের বাঙ্কারিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাদি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;

(ঢ) বন্দর বা সংলগ্ন এলাকার প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ দখল ও কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং অবৈধ নির্মাণাদি অপসারণ;

(ণ) বন্দর সীমানার মধ্যে Customs Act, 1969 (Act No.IV of 1969) এর অধীন লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিনিধিগণের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ;

(ত) বন্দরের প্রয়োজনে উহার অবকাঠামো নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার হিসাবে নিয়োগ প্রদান ;

(থ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যে কোনো ধরনের চুক্তি, বন্ড বা অনুরূপ আইনগত দলিলাদি সম্পাদন;

(দ) নিরাপদ নৌচলাচল ও বন্দর সীমানায় চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষার্থে ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নদী খনন, বালি, মাটি, পাথর উত্তোলন এবং নদী সংরক্ষণের জন্য ট্রেনিং ওয়ালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ, ড্রেজার, বয়া, বাতি ও লাইট হাউস স্থাপন, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ;

(ধ) নদীর গতিপথ ও নাব্যতা রক্ষার্থে জরিপ, গবেষণা, পরিবীক্ষণ এবং কারিগরি গবেষণা বা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে অন্য কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা কারণ অন্বেষণ, পরিবীক্ষণ বা কারিগরি গবেষণায় সহযোগিতা গ্রহণ;

(ন) চ্যানেল খনন, ঢেউ প্রতিরোধক নির্মাণ, জেটি, বার্থ, টার্মিনাল, ইয়ার্ড, শেড এবং সিএফএস এর স্থান ও স্থাপনা নির্মাণ এবং বন্দর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নদী শাসন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন;

(প) বন্দর সংশ্লিষ্ট কোনো কাজের জন্য যে কোনো স্থানীয়, বিদেশি বা সরকারি সংস্থার নিকট হইতে পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণ;

(ফ) বন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত দেশি বা বিদেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহিত সহযোগী বন্দরের (সিস্টার পোর্ট) সম্পর্ক স্থাপন, সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ আইনগত দলিলাদি স্বাক্ষর;

(ব) রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন মনে করিলে, বন্দর স্থাপনা এবং উহার সংযোগকারী কোনো রাস্তা বা উহার অংশ বিশেষের ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধকরণ;

(ভ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বন্দর ব্যবহারকারীগণের নিকট হইতে আদায়যোগ্য টোল, রেইট ও ফি এর তপশিল প্রণয়ন;

(ম) বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন; এবং

(য) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বন্দর সংক্রান্ত সরকারের সকল সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনা বাস্তবায়ন।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs