প্রিন্ট ভিউ
প্রথম অধ্যায়
কর পরিহার রোধ সংক্রান্ত সাধারণ বিধানাবলি
২৩০। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(১) “কর সুবিধা” অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, আয়করদায় পরিহার বা হ্রাস করা;
(খ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো ব্যক্তিকে আয়কর পরিশোধের দায় হইতে, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় হইতে মুক্ত করা;
(গ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো করদায়, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের কোনো সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় পরিহার, স্থগিত বা হ্রাসকরণ;
(ঘ) আয়কর পরিশোধে বিলম্বকরণ;
(ঙ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ এবং সরকারি কোষাগারে উক্ত কর জমা প্রদানের বাধ্যবাধকতা পরিহার;
(২) “ব্যবস্থা” অর্থ বলবৎযোগ্য বা অবলবৎযোগ্য কোনো সম্মতি, চুক্তি, পরিকল্পনা বা সমঝোতা এবং উক্ত সকল পদক্ষেপ ও লেনদেন যাহার মাধ্যমে তাহা কার্যকর হয়;
(৩) “কর ব্যবস্থার অপব্যবহার” অর্থ কোনো ব্যবস্থা, যাহার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তি যাহার মাধ্যমে সম্পাদিত হউক না কেন –
(ক) যাহা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো সরল উদ্দেশ্যে (bonafide purpose) গৃহীত বা সৃজিত হয়; বা
(খ) যাহা, একাধিক ব্যবস্থার একটি অংশ এবং উক্ত একাধিক ব্যবস্থা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত একাধিক ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দশ্যে ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গৃহীত বা সৃজিত হয়।
২৩১। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো কার্যক্রম চলাকালে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর ব্যবস্থার (tax arrangement) অপব্যবহারের মাধ্যমে কর সুবিধা নিয়েছেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই ধারায় উল্লিখিত কার্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দ্বারা উক্ত অপব্যবহারের মাধ্যমে গৃহীত কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সমন্বয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) আয় বৃদ্ধিকরণ;
(খ) করদায় সংশোধন;
(গ) কর প্রত্যর্পণের সমন্বয়;
(ঘ) ভাতাদি, রেয়াত ইত্যাদির সংশোধন;
(ঙ) অন্য কোনো আদেশ যাহা কর সুবিধা প্রত্যাহার করে।
(৩) এই ধারার অধীন যেকোনো সমন্বয় এই আইনের অধীন সকল উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কার্যকর থাকিবে।
২৩২। (১) কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত বিষয় উল্লেখপূর্বক করদাতার প্রতি নোটিশ জারি করিবেন, যথা:-
(ক) করদাতা কর ব্যবস্থার 1[অপব্যবহারের] মাধ্যমে কর সুবিধা গ্রহণ করিয়াছেন মর্মে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ;
(খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সমন্বয়ের উদ্দেশ্য উল্লেখসহ যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক তাহার বিবরণ;
(গ) করদাতাকে নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপকর কমিশনারের নিকট হাজির
হইবার;
(ঘ) কর সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিবরণী, দলিলাদি ও তথ্যাদি উপস্থাপনের।
(২) কর সুবিধা সমন্বয়ের করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং করদাতার উপর উক্ত শুনানির জারীকৃত নোটিশ অবহিতকরণের তারিখ হইতে শুনানির দিন পর্যন্ত অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় প্রদান করিতে হইবে।
(৩) উপকর কমিশনার রেকর্ড, করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত ও শুনানিকালে উপস্থাপিত দলিলাদির ভিত্তিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত সকল তথ্যাদি বিবেচনাপূর্বক কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করিবেন এবং আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়
ট্রান্সফার প্রাইসিং
২৩৩। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(১) “আর্মস লেংথ প্রাইস” অর্থ কোনো লেনদেনের মূল্য যাহার শর্তাদি (যেমন মূল্য, মার্জিন বা মুনাফার বিভাজন) তুলনীয় পরিস্থিতির অধীন স্বাধীন সত্ত্বাসমূহের মধ্যে পরিচালিত কোনো তুলনীয় অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্তাদি হইতে ভিন্ন হয় নাই;
(২) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অথবা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ দ্বারা সম্পর্কিত, এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত নিম্নবর্ণিত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, যথা:-
(ক) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরিগণসহ), প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা এক) বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে, উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে;
(খ) এক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন শেয়ার ধারণ করে;
(গ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ [তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন পূর্বসূরিগণসহ], প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে উভয় শেয়ার ধারণ করে;
(ঘ) এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ঙ) একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাহী পরিচালক বা গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি হন;
(চ) উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ছ) উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বা নির্বাহী সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(জ) একটি প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করিবার কার্যকর ক্ষমতা থাকে;
(ঝ) উভয় প্রতিষ্ঠান একই প্যারেন্ট কোম্পানি বা গ্রুপের সদস্য, সাবসিডিয়ারি বা কনসার্ন;
(ঞ) উভয় প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্বন্ধযুক্ত থাকে;
(ট) এক প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্রমযোজিত দায়ের পরিমাণ ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক হয়; বা
(ঠ) এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রদত্ত গ্যারান্টির ক্রমযোজিত পরিমাণ অন্য প্রতিষ্ঠানের মোট দেনার বুক ভ্যালুর ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক হয়;।
(৩) “প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা যেকোনো প্রকারের উদ্যোগ (উক্ত ব্যক্তি বা উদ্যোগের স্থায়ী স্থাপনাসহ);
(৪) “স্বাধীন প্রতিষ্ঠান” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে এইরূপ প্রতিষ্ঠান;
(৫) “আন্তর্জাতিক লেনদেন” অর্থ কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মধ্যে, যাহার কোনো একটি বা উভয়ই অনিবাসী, ট্যানজিবল বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা লিজ অথবা সেবা বিনিময়, বা অর্থ ধার দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো লেনদেন, অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মুনাফা, আয়, ক্ষতি, পরিসম্পদ, আর্থিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক মূল্যের সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো লেনদেনকে বুঝাইবে, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হইবে খ এর সহিত গ এর কোনো লেনদেন যদি উক্ত লেনদেনের উপর ক এর কর্তৃত্ব থাকে, যেইক্ষেত্রে-
(ক) খ ও ক সহযোগী প্রতিষ্ঠান; এবং
(খ) গ, খ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে;
(৬) “সম্পত্তি” অর্থ পণ্য, আর্টিকেল, সামগ্রী বা আইটেম, পেটেন্ট, ইনভেনশন, ফর্মুলা, প্রসেস, নকশা, প্যাটার্ন, বাস্তবজ্ঞান, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, ট্রেড নাম, ব্রান্ড নাম, সাহিত্য, সংগীত বা শৈল্পিক কম্পোজিশন, ফ্রানসাইজি, লাইসেন্স বা চুক্তি, পদ্ধতি, প্রোগ্রাম, সফটওয়ার, ডাটাবেজ, সিস্টেম, কার্যপ্রণালি, প্রচারাভিযান, জরিপ, সমীক্ষা, পূর্বাভাস, প্রাক্কলন, ক্রেতা তালিকা, কারিগরি উপাত্ত, যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি বা বিজ্ঞাপন বা বিপণন, কোনো আইটেম যাহার প্রকৃত মূল্য রহিয়াছে বা যেকোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭) “রেকর্ড” অর্থ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ধারণকৃত তথ্য, দলিল এবং রেকর্ড ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) “ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা” অর্থ ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা হিসাবে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ;
(৯) ”লেনদেন” অর্থে দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যকার কোনো ব্যবস্থা, সমঝোতা বা কার্য অন্তর্ভুক্ত হইবে, তাহা আনুষ্ঠানিক বা লিখিত হউক বা না হউক বা যাহা কোনো আইনি কার্যধারার মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করিবার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক;
(১০) “অনিয়ন্ত্রিত লেনদেন” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘটিত কোনো লেনদেন।
২৩৪। অংশ ১৫ এর তৃতীয় অধ্যায় এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আন্তর্জাতিক লেনদেন হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা ব্যয়ের পরিমাণ আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করিতে হইবে।
২৩৫। (১) লেনদেনের প্রকৃতি, নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রাপ্যতা, সম্পাদিত কার্যাদি, নিযুক্ত সম্পদ, গৃহীত ঝুঁকি কিংবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ফ্যক্টরের ভিত্তিতে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি (method) অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে হইবে, যথা:-
(ক) কমপারেবল আনকন্ট্রোলড প্রাইস মেথড (comparable uncontrolled price method);
(খ) রিসেল প্রাইস মেথড (resale price method);
(গ) কস্ট প্লাস মেথড (cost plus method);
(ঘ) প্রফিট স্প্লিট মেথড (profit split method);
(ঙ) ট্রানজেকশনাল নেট মার্জিন মেথড (transactional net margin
method);
(চ) অন্য যেকোনো পদ্ধতি, যেইক্ষেত্রে প্রমাণ দেওয়া যায় যে,-
(অ) আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবার জন্য দফা (ক) হইতে (ঙ) এ উল্লিখিত কোনো পদ্ধতি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা সম্ভবপর নহে; এবং
(আ) উক্ত পদ্ধতি আর্মস লেংথ প্রাইসের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে।
(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) বা (চ) এ উল্লিখিত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনো একটি পদ্ধতিকে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি হিসাবে প্রয়োগ করা হয় এবং আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ৬ (ছয়) বা তাহার অধিক এন্ট্রি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডাটাসেটের ৩০ (ত্রিশ) হইতে ৭০ (সত্তর) পার্সেন্টাইল মধ্যে অবস্থিত ডাটা লইয়া একটি আর্মস লেংথ রেঞ্জ গঠন করিতে হইবে এবং নিম্নবর্ণিত শর্তানুসারে আমর্স লেংথ প্রাইস নির্ধারিত হইবে, যথা:-
(ক) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরি-বর্ণিত রেঞ্জের মধ্যে থাকে তবে উক্ত মূল্যই আর্মস লেংথ প্রাইস হিসাবে বিবেচিত হইবে;
(খ) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরোল্লিখিত রেঞ্জের মধ্যে না থাকে তবে ডাটাসেটের মধ্যমাকে আর্মস লেংথ প্রাইস ধরিতে হইবে;
(গ) যদি আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ছয়ের কম সংখ্যক এন্ট্রি থাকে, তবে ডাটাসেটের অন্তর্ভুক্ত সকল ভ্যালুর গাণিতিক গড়ই হইবে আমর্স লেংথ প্রাইস।
(৩) আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের জন্য উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত মেথড বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইসের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত মোট আয় উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রকৃতপক্ষে যে মূল্যে সম্পন্ন হইয়াছিল সেই মূল্যই ধার্য বা পরিশোধিত বিবেচিত হইলে যে মোট আয় পাওয়া যেতো তাহা অপেক্ষা কম হইবে না।
(৪) যেইক্ষেত্রে অংশ ১০ এর অধীন কোনো কর নির্ধারণকালে উপকর কমিশনার এইরূপ অভিমত পোষণ করেন যে,-
(ক) করদাতা কর্তৃক আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ধার্যকৃত বা পরিশোধিত মূল্য উপ-ধারা (১) ও (৩) অনুসারে নির্ধারণ করা হয় নাই;
(খ) করদাতা ধারা ২৩৭ অনুসারে তথ্য, দলিলাদি বা রেকর্ড রাখিতে ব্যর্থ হইয়াছে; বা
(গ) করদাতা কর্তৃক যে তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইয়াছে তাহা নির্ভরযোগ্য বা শুদ্ধ নহে,
সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার তাহার নিকট প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে উপ-ধারা (১) ও (৩) এর বিধানাবলি অনুসারে উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার তাহার নিকটে প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে কেন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইবে না তৎমর্মে নোটিশ প্রদানপূর্বক নোটিশে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে করদাতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিবেন।
(৬) যেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারা (৪) ও ধারা ২৩৬ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্তরূপে নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনা করিয়া লিখিত আদেশ দ্বারা করদাতার মোট আয় পরিগণনা শুরু করিবেন।
২৩৬। (১) ধারা ২৩৫ এই যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে উপকর কমিশনার ধারা ২৩৫ এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের বিষয়টি ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মচারীর কাছে প্রেরণ করিতে পারিবেন;
(খ) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করিতে পারিবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রেফারেন্স অথবা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা করদাতাকে বিচারাধীন আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা করিবার জন্য করদাতা যেসকল প্রমাণাদির উপর নির্ভর করিয়াছিল তাহা নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপস্থাপনের বা উপস্থাপন করানোর জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন।
(৩) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিকট উপস্থাপিত প্রমাণ বা তিনি কোনো বিশেষ পয়েন্টে করদাতার নিকট বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো প্রমাণ অধিযাচন করিলে তৎসহ তাহার নিকট প্রাপ্ত বা উপস্থিত প্রমাণ বিবেচনা করিয়া এবং তাহার সংগৃহীত সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র বিবেচনাক্রমে লিখিত আদেশ দ্বারা ধারা ২৩৫ অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবেন এবং উপকর কমিশনারের নিকট তাহার একটি অনুলিপি প্রেরণ করিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (৩) এর অধীন আদেশের কপি প্রাপ্তির পর ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস অনুসারে করদাতার মোট আয় পরিগণনার কার্যক্রম শুরু করিবেন এবং এইরূপ আয় পরিগণনাকালে যদি কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির আয় পরিগণনা করিতে হয় তবে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস এর ভিত্তিতে যে সমন্বয় পাওয়া যাইবে তাহা উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপিত হইবে।
(৫) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিজস্ব উদঘাটন অথবা করদাতা বা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাহার নজরে আনিবার প্রেক্ষিতে পরিদৃষ্ট হন যে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশে এইরূপ ভুল রহিয়াছে যাহা রেকর্ডদৃষ্টে প্রতীয়মান, তাহা হইলে তিনি উক্ত ভুল সংশোধন করিতে পারিবেন এবং সেই অনুসারে এইক্ষেত্রে ধারা ৩৩০ এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোনো সংশোধন করা হইলে, ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার আদেশের একটি অনুলিপি উপকর কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিবেন যিনি পরবর্তীতে উক্ত আদেশ অনুসারে কর নির্ধারণী আদেশ সংশোধন করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
২৩৭। (১) আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলিকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ড তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবার মেয়াদ বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
২৩৮। আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি রিটার্নের সহিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে একটি আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত বিবরণী দাখিল করিবেন।
২৩৯। উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে অথবা কোনো আয়বর্ষের হিসাব বহিতে সংরক্ষিত রেকর্ড অনুসারে ৩ (তিন) কোটি টাকার অধিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ধারা ২৩৭ এর অধীন দাখিলকৃত সকল তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড বা তাহার অংশবিশেষ সম্পর্কিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর একটি প্রতিবেদন সরবরাহ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
তৃতীয় অধ্যায়
কর পরিহার রোধ সম্পর্কিত অন্যান্য বিধান
২৪০। যেইক্ষেত্রে একজন নিবাসী ও একজন অনিবাসীর মধ্যে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হয় এবং উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কের ফলে ব্যবসায়ের কার্যক্রম এইরূপভাবে বিন্যস্ত করা হইয়াছে যে, উভয়ের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলস্বরূপ নিবাসী ব্যক্তির কোনো মুনাফা অর্জিত হয় নাই, অথবা হইলেও তাহা উক্ত ব্যবসার ঈপ্সিত স্বাভাবিক মুনাফা অপেক্ষা কম, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যবসা হইতে নিবাসী ব্যক্তির উদ্ভূত হইতে পারে এইরূপ যুক্তিসঙ্গত আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন এবং উক্তরূপ নির্ধারিত আয় নিবাসীর মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
২৪১। (১) একক বা সহযোগী কর্মকান্ডের সহিত সম্মিলিতভাবে, যেভাবে হউক না কেন, কোনো সম্পদ হস্তান্তরের কারণে বা ফলস্বরূপ কোনো আয় কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় হলে উক্ত আয় এইরূপ কোনো ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে যিনি-
(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মাধ্যমে এইরূপ কোনো অধিকার অর্জন করেন যাহার কারণে বা ফলশ্রুতিতে তিনি উক্ত অনিবাসীকে প্রদেয় আয় তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তীকালে ভোগ করিবার ক্ষমতা রাখেন;
(খ) এইরূপ লেনদেন বা সহযোগী কর্মকান্ডের সুবাদে যেকোনো সময় কোনো অর্থ যাহা ঋণ বা ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে পরিশোধিত বা প্রদেয় অথবা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেন বা গ্রহণ করিবার অধিকার প্রাপ্ত হন, তবে আয় হিসাবে বা পূর্ণ আর্থিক মূল্য হিসাবে পরিশোধিত বা প্রদেয় কোনো অর্থ নহে।
(২) যে আয় একজন অনিবাসীকে প্রদেয় হয় এবং উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য করা হয় সেই আয় এই আইনের সকল উদ্দেশ্যে আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে, বর্ণিত আয় এই ধারার বিধান ব্যতীত অন্যভাবে করযোগ্য হউক বা না হউক ।
(৩) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগ করা যাইবে না, যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে-
(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মধ্যে করদায় পরিহারের এক বা একাধিক উদ্দেশ্য নিহিত ছিল না; বা
(খ) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী সকল কর্মকান্ডে প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন নিহিত ছিল এবং করদায় পরিহারের পরিকল্পনা নিহিত ছিল না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন আয় হিসাবে গণ্য হইয়া করারোপিত হইয়াছে এমন কোনো আয় পুনর্বার কোনো ব্যক্তির আয়ের অংশ হিসাবে গণ্য করিয়া করারোপ করা যাইবে না।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তির কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে, যদি-
(ক) যেকোনো সময় যেকোনো রূপে উক্ত ব্যক্তির সুবিধা নিশ্চিত করিবার জন্য এইরূপ আয় প্রকৃতপক্ষে পরিগণনা করা হইয়াছে;
(খ) এইরূপ আয়ের প্রাপ্তি বা আয় উদ্ভূত হইবার ফলশ্রুতিতে উক্ত ব্যক্তির দখলাধীন বা সুবিধাধীন কোনো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে;
(গ) উক্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইতে পারে এইরূপ সুবিধা যেকোনো সময় প্রাপ্ত হন বা প্রাপ্তির অধিকারী হন-
(অ) এইরূপ আয় হইতে; বা
(আ) এইরূপ অর্থ হইতে, যাহা উক্তরূপ আয় এবং উক্তরূপ আয়ের প্রতিরূপকারী সম্পদের উপর সহযোগী কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে বা অনুক্রমিক ফলশ্রুতিতে উপলব্ধ হয় বা উপলব্ধ হইতে পারে;
(ঘ) এইরূপ ব্যক্তি নিযুক্তি, রদকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্মতিতে বা সম্মতি ব্যতিরেকে এইরূপ আয়ের সুবিধা ভোগের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন; বা
(ঙ) এইরূপ ব্যক্তি যেকোনো পদ্ধতিতেই উক্তরূপ আয়ের ব্যবহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হন।
(৬) কোনো ব্যক্তির আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে কিনা তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যেকোনো হস্তান্তর এবং সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফল ও প্রভাব বিবেচনা করিতে হইবে এবং এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফলস্বরূপ যেকোনো সময় এইরূপ ব্যক্তির নিকট উদ্ভূত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সুবিধা, যাহা উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায় তাহা বিবেচনা করিতে হইবে।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “পরিসম্পদ” বলিতে যেকোনো ধরনের সম্পত্তি বা অধিকারও অন্তর্ভুক্ত হইবে এবং যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরিত সম্পদ কোনো অধিকার সেইক্ষেত্রে ‘হস্তান্তর’ বলিতে উক্তরূপ অধিকার সৃষ্টিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) কোনো হস্তান্তরের ক্ষেত্রে “সহযোগী কর্মকাণ্ড” বলিতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কিত কোনো কর্মকান্ডকে বুঝাইবে, যথা:-
(অ) হস্তান্তরিত কোনো সম্পদ;
(আ) উক্তরূপ সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো আয়; বা
(ই) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত পুঞ্জিভূত আয়;
(গ) “সুবিধা” বলিতে যেকোনো ধরনের পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ঘ) “হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো পুঞ্জিভূত” বলিতে উক্ত সম্পদ বা আয় বা পুঞ্জিভূত আয়ের হস্তান্তর যে কোম্পানির নিকট বা যে ব্যক্তির নিকট হইয়াছে সেই কোম্পানির শেয়ার বা দায়-দায়িত্বের উল্লেখ অথবা সেই ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের উল্লেখও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(ঙ) বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো সংস্থা অনিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে।
২৪২। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো সিকিউরিটিজের মালিক তাহার সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করিবার পর পুনরায় তাহা ক্রয় বা অর্জন করেন, অথবা একই ধরনের সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন, এবং উক্তরূপ লেনদেনের ফলশ্রুতিতে মালিক কর্তৃক মূল সিকিউরিটিজের বিক্রয় বা হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে প্রদেয় কোনো সুদ মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদ এই আইনের সকল উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অন্য কোনো ব্যক্তির আয় না হইয়া তাহা উক্ত মালিকের আয় হিসাবে গণ্য হইবে, পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদের উপর এই উপ-ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কর আরোপ হউক বা না হউক।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আয়বর্ষের কোনো সময়ের জন্য কোনো সিকিউরিটিজে লাভভোগী হইবার স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে এবং উক্ত বৎসরের মধ্যে এইরূপ সিকিউরিটিজ বা তাহা হইতে উদ্ভূত আয়ের লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক আয় গৃহীত হয় নাই অথবা আয় হিসাবে যেই পরিমাণ অর্থ তিনি গ্রহণ করেন, তাহা যদি উক্ত সিকিউরিটিজ হইতে উল্লিখিত সময়ের আনুপাতিক হারে দিনের পর দিন যে পরিমাণে পুঞ্জিভূত ও অংশানুপাতে জমাকৃত হইতে পারিত তাহা অপেক্ষা কম হয়, তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত সময়ে এইরূপ সিকিউরিটিজ হইতে উদ্ভূত সমুদয় আয় উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ সিকিউরিটিজ লেনদেন সংক্রান্ত ব্যবসায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন এবং উক্ত সিকিউরিটিজ উক্ত অপর ব্যক্তির নিকট পুনরায় বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন অথবা তাহার নিকট একই ধরনের সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন এবং উক্ত লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক ক্রয়কৃত বা অর্জিত সিকিউরিটিজের জন্য প্রদেয় সুদ তিনি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও উক্ত আয় উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলির কারণে তাহার আয় হিসাবে গণ্য হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উক্ত লেনদেন সম্পর্কে এই আইনের যেকোনো উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ধরনের আয় গণনাকল্পে উক্তরূপ ব্যবসা হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা লোকসান বিবেচিত হইবে না।
(৪) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, উক্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ২৮ (আঠাশ) দিনের কম নহে, কোনো ব্যক্তিকে তাহার মালিকানাধীন সকল সিকিউরিটিজের বিবরণ বা নোটিশে বর্ণিত সময়ে যে সকল সিকিউরিটিজে এইরূপ ব্যক্তির সুবধিাভোগী হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ছিল, সেইরূপ সিকিউরিটিজের বর্ণনা দাখিলের জন্য এবং এই ধারার অন্যান্য উদ্দেশ্যে ও সিকিউরিটিজ বাবদ প্রাপ্ত সুদের কর সংক্রান্ত হিসাব চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উপকর কমিশনার যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করেন সেইরূপ অন্যান্য তথ্যাদি সরবরাহ করিবার নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(ক) “সুদ” বলিতে লভ্যাংশও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের মোট নামমাত্র মূল্য অথবা তাহা ধারণ করিবার ফরম বা হস্তান্তরের পদ্ধতিতে যে পার্থক্যই থাকুক না কেন, এইরূপ সিকিউরিটিজ বলিতে সকল সিকিউরিটিজকে বুঝানো হইবে, যাহা তাহার মালিককে একই ব্যক্তির সুদ ও মুনাফার ক্ষেত্রে একই প্রকার অধিকার প্রদান করিয়া এবং উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একইরূপ সুযোগ প্রদান করে।
২৪৩। (১) বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ব্যতীত, যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল নন অথবা যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল কিন্তু বাংলাদেশ ত্যাগের সময় আয়কর কর্তৃপক্ষের অভিমত এইরূপ যে তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিবেন না, সেইক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপকর কমিশনারের নিকট হইতে এই মর্মে নিম্নবর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করিতে পারিবেন না, যথা:-
(ক) কর পরিশোধের সার্টিফিকেট, বা
(খ) তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিতে ইচ্ছুক থাকিলে, একটি অব্যাহতি সার্টিফিকেট, যাহা কেবল তখনই ইস্যু করা যাইবে যখন উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এইরূপ ইচ্ছা আছে; এবং এইরূপ অব্যাহতি সার্টিফিকেট একবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে বা সার্টিফিকেটে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে একাধিকবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে, প্রদান করা যাইতে পারে।
(২) কোনো বিমান বা জাহাজের মালিক অথবা চার্টারার উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ণিত কোনো ব্যক্তিকে যদি উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া সেইরূপ বিমান বা জাহাজ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে যেকোনো স্থানে ভ্রমণের অনুমতি দেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত মালিক বা চার্টারারকে-
(ক) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ব্যক্তির নিকট পাওনা কর বা তাহার নিকট পাওনা হইবে এবং তাহার দ্বারা প্রদেয় হইবে এইরূপ কর পরিশোধ করিতে হইবে এবং সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা পরিশোধ করিতে হইবে; এবং
(খ) সেইরূপ কর এবং জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্যে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং এইক্ষেত্রে এই আইনের সকল বিধান প্রযোজ্য হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “অব্যাহতি সার্টিফিকেট” বলিতে সার্টিফিকেটে উল্লিখিত এক বা একাধিকবার ভ্রমণের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে কর পরিশোধ সার্টিফিকেট হইতে অব্যাহতি প্রদান করিবার উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে;
(খ) “মালিক” অথবা “চার্টারার” বলিতে কোনো জাহাজ বা বিমানের মালিক অথবা চার্টারার কর্তৃক উক্ত জাহাজ বা বিমানে ভ্রমণের অধিকার ইস্যু করিবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি, এজেন্ট অথবা কর্মচারীও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(গ) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “কর পরিশোধ সার্টিফিকেট” বলিতে এই আইন অথবা দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো দায় নাই অথবা উক্ত ব্যক্তির সকল প্রকার কর পরিশোধের অথবা তাহার দ্বারা প্রদেয় বা প্রদেয় হইতে পারে এইরূপ যেকোনো প্রকার কর পরিশোধের উদ্দেশ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গৃহীত হইয়াছে মর্মে প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে।