প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

আয়কর আইন, ২০২৩

( ২০২৩ সনের ১২ নং আইন )

তল্লাশি ও জব্দ করিবার ক্ষমতা

২০৬। (১) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিতরূপে কোনো ব্যক্তির তথ্য তল্লাশি এবং জব্দকরণের ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন যদি বোর্ড বা তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে-

(ক) কোনো ব্যক্তি, যাহার নিকট এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশের মাধ্যমে আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে বলা হইয়াছে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি তাহা সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন;

(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপনের সম্ভাবনা নাই; অথবা

(গ) এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশ জারিকরণ বা উপস্থাপনের জন্য আয় সম্পর্কিত কোনো রেকর্ড প্রস্তুতের কারণে, উক্তরূপ আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ প্রস্তুত বা উপস্থাপনের ব্যর্থ হইয়াছে বা ব্যর্থ হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে।

(২) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ, সহকারী কর কমিশনার পদবির নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো কর্মকর্তাকে (অতঃপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলিয়া উল্লিখিত), এই ধারার অধীন তল্লাশি ও জব্দ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।

(৩) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) যেকোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমানে প্রবেশপূর্বক, যেইক্ষেত্রে সন্দেহ করিবার কারণ রহিয়াছে সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বা হেফাজতে রক্ষিত কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশি;

(খ) কোনো দরজা, বাক্স, লকার, সেফ, আলমারি বা অন্য কোনো আধার খোলার চাবি পাওয়া না গেলে প্রবেশ বা তল্লাশির উদ্দেশ্যে তাহা ভাঙ্গিয়া উন্মুক্তকরণ;

(গ) এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি যিনি কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমান হইতে বাহির হইয়াছেন বা বাহির হইবার উপক্রম করিয়াছেন, বা ভিতরে রহিয়াছেন, যদি তাহার সম্পর্কে এইরূপ সন্দেহ করিবার কারণ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি তাহার হিসাব, নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেম, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী গোপন করিয়াছেন;

(ঘ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বিষয়াদি তল্লাশির ফলে পাওয়া গেলে তাহা জব্দকরণ;

(ঙ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডে শনাক্তকরণ চিহ্ন স্থাপন বা ইলেকট্রনিক সংখ্যা প্রদান বা তাহার সারাংশ তৈরি বা তৈরির উদ্যোগ বা তাহার কপি প্রস্তুতকরণ;

(চ) অর্থ, মূল্যবান ধাতব পিণ্ড, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা জিনিসপত্রের নোট তৈরি বা তালিকা প্রস্তুতকরণ; এবং

(ছ) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য, ছবি বা কোনো উপাত্ত উদ্ধারকরণ অথবা পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা ভাঙ্গিয়া প্রবেশকরণ বা আয় সংক্রান্ত তথ্য কপি বা বিশ্লেষণকরণ।

1[(জ) দফা (ঘ) ও (ঙ) এর মাধ্যমে জব্দকৃত মালামাল সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের মহাফেজখানায় সংরক্ষণ;]

(৪) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সকল বা কোনো একটি উদ্দেশ্যে তাহাকে সহায়তা করিবার জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাহিতে পারিবেন; এবং সেবা চাহিতে পারিবেন, এবং এইরূপে সহায়তা চাওয়া হইলে উক্তরূপ কর্মকর্তা বা পেশাদার বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হইবে চাহিত সহায়তা প্রদান করা।

(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু জব্দ করা সম্ভব নহে, সেইক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাহার মালিক বা কোনো ব্যক্তি যিনি তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকেন তাহাকে এইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, তাহার পূর্ব অনুমতি ব্যতীত উহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করিবেন না; এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ পরিপালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত মালিক বা কোনো ব্যক্তি যদি এই উপ-ধারার বিধানসমূহ পরিপালনে ব্যর্থ হন এবং যদি মূল্যবান ধাতু, গহনা, মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু স্থানান্তর করেন, বা তাহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করা হয়, তাহা হইলে এইরূপ মালিক বা ব্যক্তিকে, উপকর কমিশনার মালিক হিসাবে চিহ্নিত করিতে পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন করখেলাপি হিসাবে গণ্য করা হইবে।

(৬) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি বা জব্দের সময়, কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু পরীক্ষার সময় এবং কোনো ব্যক্তির দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শপথ গ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা প্রমাণে ব্যবহার করা যাইবে।

(৭) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশির সময় কোনো ব্যক্তির দখলে বা নিয়ন্ত্রণে পাওয়া যায়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ বিবেচনা করা যাইবে যে-

(ক) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা, বস্তু বা সামগ্রী উক্ত ব্যক্তির স্বত্বভুক্ত;

(খ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডের বিষয়বস্তু সত্য; এবং

(গ) এইরূপ কোনো হিসাব বহি বা দলিলাদিতে প্রদত্ত স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর সেই ব্যক্তির স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হিসাবে পরিগণিত হইবে যাহার স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হওয়া উচিত।

2[(৮) উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত ব্যক্তির দখলে বা নিয়ন্ত্রণে প্রাপ্ত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি বা জব্দের স্থান ও সময়ে, উল্লিখিত ব্যক্তি বা তদকর্তৃক নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে, জব্দতালিকা প্রস্তুত করিবেন এবং তাহাকে কপি প্রদান করিবেন এবং জব্দকৃত রেকর্ড ও মালামাল নিজ হেফাজতে গ্রহণ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, তল্লাশি বা জব্দকরণকালে উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত ব্যক্তি বা তাহার নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি উপস্থিত না থাকিলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি বা জব্দের স্থান ও সময়ে জব্দ তালিকা ও তাহার কপি প্রস্তুত করিবেন এবং জব্দের স্থান সিলগালা করিতে পারিবেন।]

3[***]

4[(১০) তল্লাশি, জব্দকরণ ও সংরক্ষণে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যতদূর সম্ভব, এই উপ- ধারার অধীন Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড, সময় সময়, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।]

5[(১০ক) এই ধারায় উল্লিখিত সকল কার্যক্রম মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), পরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) এবং কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট) একইভাবে পরিচালনা করিতে পারিবেন।]

(১১) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কার্যক্রম" শব্দটির অর্থ এই আইনের অধীন কোনো বৎসরের কোনো কার্যক্রম যাহা এই ধারার অধীন কোনো তল্লাশির জন্য অনুমোদিত তারিখে অনিষ্পন্ন বা উক্ত তারিখে বা ইহার পূর্বেই সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং এই আইনের অধীন সকল কার্যক্রম যাহা কোনো বৎসরে এইরূপ তারিখের পরে আরম্ভ হইয়াছে তাহা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।


  • 1
    দফা (জ) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৯(ক) ধারাবলে সংযোজিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
  • 2
    উপ-ধারা (৮) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৯(খ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
  • 3
    উপ-ধারা (৯) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৯(গ) ধারাবলে বিলুপ্ত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
  • 4
    উপ-ধারা (১০) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৯(ঘ) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
  • 5
    উপ-ধারা (১০ক) অর্থ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৬ নং আইন) এর ১১৯(ঙ) ধারাবলে সন্নিবেশিত (১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs