প্রিন্ট

18/05/2026
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন আইন, ২০২৩

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন আইন, ২০২৩

( ২০২৩ সনের ২৫ নং আইন )

সপ্তম অধ্যায়

অপরাধ ও দণ্ড, ইত্যাদি

মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ড

৪৩। যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশন হইতে ঋণ বা অন্য কোনো সুবিধা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা কর্পোরেশনকে কোনো প্রকারে মিথ্যা প্রতিবেদন গ্রহণ করিবার জন্য প্ররোচনা প্রদান করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

সীমানা প্রাচীর, ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণের দণ্ড

৪৪। যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে-

(ক) কর্পোরেশন বা শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর কোনো ভূমি বা স্থাপনা রক্ষার্থে নির্মিত কোনো সীমানা প্রাচীর বা বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করেন; বা

(খ) কর্পোরেশন বা শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীর দালান, প্রাচীর বা অন্য কোনো বস্তুর ভার রক্ষার্থে স্থাপিত কোনো খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করেন; বা

(গ) কোনো কার্যসম্পাদনের প্রয়োজনে কর্পোরেশন কর্তৃক খননকৃত বা ভাঙ্গিয়া ফেলা কোনো সড়ক বা ভূমিতে স্থাপিত কোনো বাতি নিভাইয়া ফেলেন; বা

(ঘ) কর্পোরেশনের আদেশ লঙ্ঘন করিয়া, যাতায়াতের পথ বন্ধকরণ সংক্রান্ত, কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত কোনো খিল, চেইন বা খুঁটি অপসারণ করেন; বা

(ঙ) কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত কোনো অবকাঠামো, স্থাপনা এবং কর্পোরেশনের ভূমি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেন,

তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক
৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ডেভেলপার বা ঠিকাদারকে বাধা প্রদান বা চিহ্ন অপসারণের দণ্ড

৪৫। যদি কোনো ব্যক্তি-

(ক) নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদন বা বাস্তবায়নের জন্য কর্পোরেশন যে ডেভেলপার বা ঠিকাদারের সহিত চুক্তি বা অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করিয়াছে, সেই ব্যক্তির প্রতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা তাহার কোনো ক্ষতিসাধন করেন; বা

(খ) অনুমোদিত কোনো চিহ্ন সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লেভেল বা দিকনির্দেশ করিবার লক্ষ্যে কর্পোরেশন কর্তৃক স্থাপিত কোনো চিহ্ন অপসারণ করেন,

তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

অননুমোদিত ভূমি দখল, স্থাপনা নির্মাণ, ইত্যাদির দণ্ড

৪৬। যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতিরেকে-

(ক) কর্পোরেশনের মালিকানাধীন বা কর্পোরেশনের দখলে রহিয়াছে এইরূপ কোনো ভূমি দখল করেন; বা

(খ) উক্ত ভূমির উপর কোনো ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করেন বা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন; বা

(গ) উক্ত ভূমির উপর দণ্ডায়মান গাছপালা কর্তন করেন বা অন্য কোনোভাবে বিনষ্ট করেন; বা

(ঘ) উক্ত ভূমি অন্য কোনোভাবে জোরপূর্বক দখল করেন; বা

(ঙ) উক্ত ভূমিতে কোনো খনন কাজ করেন বা পানির নালা নির্মাণ করেন,

তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

প্লটের অবৈধ হস্তান্তর, ইত্যাদির দণ্ড

৪৭। (১) যদি কোনো ব্যক্তি কর্পোরেশনের নিকট হইতে শিল্পপার্ক বা শিল্পনগরীতে কোনো প্লট বরাদ্দ প্রাপ্ত হইয়া উক্ত প্লট বা উহার অংশবিশেষ অবৈধভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া প্রদান করেন বা শিল্প কারখানা ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) উপধারা (১) অনুযায়ী কোনো শিল্প প্লটের বরাদ্দ গ্রহীতা দণ্ডিত হইলে কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট প্লটের সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষ নিজ দখলে গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহা পুনঃবরাদ্দ প্রদান করিতে পারিবে।

কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইবার জন্য ক্ষতিপূরণ

৪৮। (১) অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির দ্বারা কর্পোরেশনের কোনো সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে, কর্পোরেশন কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দাবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত, এই আইনে বর্ণিত দণ্ড ও অর্থদণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, কর্পোরেশনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের অর্থ কর্পোরেশনকে প্রদান করা না হইলে, উক্ত অর্থ আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ড আদায়ের ন্যায় আদায় করা যাইবে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থ যথাশীঘ্র সম্ভব কর্পোরেশনকে প্রদানের ব্যবস্থা করিবে।

অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ ও বিচার

৪৯। (১) চেয়ারম্যান বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।

(২) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।

(৩) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, ইহার অধীন অপরাধের অভিযোগ তদন্ত, আপিল ও বিচার সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা

৫০। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আইনের ধারা ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ এ উল্লিখিত পরিমাণ অর্থদণ্ড আরোপ এবং ধারা ৪৮ এ বর্ণিত ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

৫১। (১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে, উক্ত কোম্পানির এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, অংশীদার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘঠিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।

(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্তা হইলে, উক্ত উপধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ব্যতীতও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।

ব্যাখ্যা।- এই ধারায়-

(ক) ‘কোম্পানি’ অর্থে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংগঠনও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং

(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘পরিচালক’ অর্থে উহার কোনো অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs