প্রিন্ট ভিউ
সপ্তদশ অধ্যায়
ফৌজদারি অপরাধ ও দণ্ড
৮৪। যদি কোনো ব্যক্তি এই অধ্যায়ের অধীন শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ ব্যতীত কপিরাইট সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধিকার লঙ্ঘন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৪(চার) বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, লঙ্ঘনটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ধারায় মুনাফার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয় নাই, তাহা হইলে আদালত অনধিক ৬(ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
৮৫। যদি কোনো ব্যক্তি চলচ্চিত্রের কপিরাইট বা এই আইনে বর্ণিত অন্য কোনো অধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০(দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৮৬। যদি কোনো প্রকাশক কোনো সাহিত্যকর্মের প্রণেতার সহিত সম্পাদিত চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘনপূর্বক, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক, পুস্তকের অতিরিক্ত কপি মুদ্রণ ও প্রকাশ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং উক্ত অতিরিক্ত প্রকাশিত পুস্তক বাজেয়াপ্ত হইবে।
৮৭। সম্প্রচারের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও সম্প্রচারে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কর্মের সম্প্রচার করিয়া থাকেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অবৈধ সম্প্রচারটি বাজেয়াপ্ত হইবে।
৮৮। যদি কোনো কর্মের সম্পাদনে আগ্রহী কোনো ব্যক্তি উক্ত কর্মের প্রণেতার নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ না করিয়া বা উহাতে উল্লিখিত কোনো শর্তের ব্যত্যয় ঘটাইয়া উহার সম্পাদন করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৮৯। যদি কোনো ব্যক্তি কর্মের প্রণেতার মৃত্যুর পূর্বে অপ্রকাশিত কোনো কর্মের ক্ষেত্রে উইলমূলে বা অন্য কোনো আইনগত হস্তান্তর দলিল ব্যতিরেকে বা কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক উহার সম্পাদনের অধিকারী না হইয়া উহার সম্পাদন করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯০। যদি কোনো কপিরাইট সমিতি নির্ধারিত সময়সীমায় এবং পদ্ধতিতে, তৎকর্তৃক প্রদানকৃত লাইসেন্স ও আদায়কৃত ফি, ইত্যাদির বিবরণ সংবলিত রিটার্ন যথাসময়ে রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত কপিরাইট সমিতি অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
৯১। যদি কোনো চলচ্চিত্রের প্রযোজক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চলচ্চিত্রের কপি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে জমা দানে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯২। যদি কোনো প্রকাশক কোনো পুস্তক প্রকাশনার তারিখ হইতে ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে অথবা কোনো সাময়িকী ও সংবাদপত্রের প্রকাশক তৎকর্তৃক প্রকাশিত সাময়িকী বা সংবাদপত্রের কপি উহা প্রকাশিত হইবার সংঙ্গে সংঙ্গে উহাদের কপি জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯৩। যদি কোনো ব্যক্তির অনুকূলে বোর্ড কর্তৃক কোনো কর্মের পুনরুৎপাদন, অভিযোজন অথবা অনুবাদ তৈরি ও প্রকাশের লাইসেন্স মঞ্জুর করা হয় কিন্তু লাইসেন্স প্রদানের যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে উহার পুনরুৎপাদন, অভিযোজন অথবা অনুবাদ তৈরি ও প্রকাশে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১(এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্তরূপ মঞ্জুরকৃত লাইসেন্সটি বাতিল হইবে।
৯৪। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইন বা এতদুদ্দ্যেশে প্রণীত বিধি লঙ্ঘন করিয়া কোনো পুস্তক বা সাময়িকী প্রকাশ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্তরূপ প্রকাশিত পুস্তক বা সাময়িকী বাজেয়াপ্ত হইবে।
৯৫। যদি কোনো কর্ম যথাযথভাবে হস্তান্তরিত হইবার পর পুনরায় একই কর্ম একই ব্যক্তি কর্তৃক ভিন্ন কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য হস্তান্তরকারী অনধিক ৩(তিন) বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ইহা আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রামাণিত হয় যে, হস্তান্তরটি সরল বিশ্বাসে কৃত, সেইক্ষেত্রে আদালত কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
৯৬। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মের কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী না হইয়া উহার প্রকাশ, পরিবেশন বা সম্পাদন করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯৭। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মের কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী বা ভবিষ্যৎ কর্মের কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী নিযুক্ত না হইয়া, অথবা স্বত্ব প্রদানকারী যে পরিমাণ স্বত্ব তাহাকে প্রদান করিয়াছেন তাহার অতিরিক্ত স্বত্বের মালিকানা প্রয়োগ করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯৮। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো কর্মের পান্ডুলিপির মূল কপি অথবা প্রকাশিত বা মুদ্রিত গ্রন্থের বিক্রয় বা পুনঃবিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থের নির্ধারিত অংশ উহার প্রণেতাকে পরিশোধ না করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯৯। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো লোকজ্ঞান ও লোকসংস্কৃতির মৌলিক ঐতিহ্যিক বিন্যাসে পরিবর্তন ও বিকৃতি সাধন কিংবা বাণিজ্যিক অধিকার লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০০। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো তথ্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক ডিজিটাল কর্ম লঙ্ঘন করিয়া উহার অনুলিপি কোনো মাধ্যমে ব্যবহার, প্রকাশ, বিক্রয় বা বিতরণ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৪ (চার) বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক ৪ (চার) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, তথ্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক ডিজিটাল কর্মটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ধারায় মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে লঙ্ঘিত হয় নাই, তাহা হইলে উক্ত অপরাধে দোষী ব্যক্তি অন্যূন ৩ (তিন) মাস কারাদন্ড বা অন্যূন ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০১। যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কোনো কাজ করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, যথা: -
(ক) কপিরাইট রেজিস্টারে কোনো মিথ্যা অন্তর্ভুক্তি সন্নিবেশ করেন বা করিবার কারণ ঘটান; বা
(খ) মিথ্যাভাবে রেজিস্টারে কোনো অন্তর্ভুক্তির অনুলিপির অর্থ বহনকারী কোনা লেখা লিখেন বা লিখান; বা
(গ) মিথ্যা জানিয়া উক্তরূপ কোনো অন্তর্ভুক্তি বা লেখা সাক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন বা প্রদান করেন অথবা উপস্থাপন বা প্রদান করিবার কারণ ঘটান।
১০২। যদি কোনো ব্যক্তি-
(ক) কোনো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাকে এই আইনের কোনো বিধানের আওতায় তাহার যে কোনো কার্য সম্পাদনে প্রতারণা করিবার অভিপ্রায়ে; বা
(খ) এই আইন বা ইহার অধীন কোনো বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছু করিতে বা না করিতে প্রভাবিত করিবার অভিপ্রায়ে,
মিথ্যা জানিয়া কোনো মিথ্যা বিবৃতি বা ব্যাখ্যা প্রদান করেন তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০৩। যদি কোনো ব্যক্তি-
(ক) প্রণেতা নহেন এইরূপ কাহারো নাম কোনো কর্মের ভিতরে বা উপরে বা উক্ত কর্মের পুনরুৎপাদিত অনুলিপির ভিতরে বা উপরে এইরূপে সন্নিবেশ বা সংযুক্ত করেন, যাহাতে এই মর্মে ইঙ্গিত বহন করে যে উক্তরূপ ব্যক্তি কর্মটির প্রণেতা; অথবা
(খ) এইরূপ কোনো কর্ম প্রকাশ, বিক্রয় বা ভাড়ায় প্রদান করেন অথবা বাণিজ্যিকভাবে জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন যে, কর্মের ভিতরে বা উপরে এইরূপ কোনো ব্যক্তির নাম এইরূপে সন্নিবেশ বা সংযুক্ত করা হইয়া থাকে যাহাতে এই মর্মে ইঙ্গিত বহন করে যে, উক্তরূপ ব্যক্তি কর্মটির প্রণেতা বা প্রকাশক, কিন্তু যিনি তাহার জানামতে উক্তরূপ কর্মের প্রণেতা বা প্রকাশক নহেন; অথবা
(গ) দফা (খ) এ উল্লিখিত কোনো কর্ম করেন বা সেই কর্মের পুনরুৎপাদন এইরূপে বিতরণ করেন যে, কর্মের ভিতর বা উপরে কোনো ব্যক্তির নাম এইরূপে সন্নিবেশ বা সংযুক্ত করা হয় যাহাতে এই মর্মে ইঙ্গিত বহন করে যে, উক্তরূপ ব্যক্তি কর্মটির প্রণেতা, কিন্তু যিনি তাহার জানামতে উক্তরূপ কর্মের প্রণেতা নহেন, অথবা কর্মটি জনসমক্ষে সম্পাদন করেন বা কোনো বিশেষ প্রণেতার কর্মরূপে কর্মটি সম্প্রচার করেন যিনি যাহার জানামতে উক্তরূপ কর্মের প্রণেতা নহেন-
তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০৪। যদি কোনো ব্যক্তি শব্দধ্বনি রেকর্ডিং, ভিডিও চিত্র ও ডিজিটাল কর্মে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত না করিয়া কোনো রেকর্ড বা ভিডিও চিত্র বা ডিজিটাল কর্ম প্রকাশ করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০৫। যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কপিরাইট বিদ্যমান রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মের অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি তৈরি করিবার উদ্দেশ্যে কোনো প্লেট বা সফ্ট কিংবা ডিজিটাল বা অনুরূপ অন্য কোনো কপি তৈরি করেন বা দখলে রাখেন, বা কপিরাইটের মালিকের সম্মতি ব্যতিরেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং তাহার ব্যক্তিগত লাভের জন্য উক্তরূপ কোনো কর্মের জনসাধারণ্যে সম্পাদনের কারণ ঘটান, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ২(দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১০৬। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন দন্ডিত হইয়া পুনরায় অনুরূপ কোনো অপরাধে দোষী হন তা হইলে তিনি দ্বিতীয় এবং পরবর্তী প্রত্যেক অপরাধের জন্য অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
১০৭। (১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অন্য কোনো কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানি আইনগত সত্ত্বা হইলে, উক্ত উপধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে এই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে “কোম্পানি” অর্থে নিগমিত বা নিবন্ধিত হউক বা না হউক এইরূপ যে কোনো কোম্পানি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন বা সংস্থা এবং সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন কোনো কোম্পানিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১০৮। (১) সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ কর্মকর্তার অথবা রেজিস্ট্রারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী রেজিস্ট্রার পদামর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো কর্মকর্তার, যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, কোনো কর্মের কপিরাইট লঙ্ঘণ হইয়াছে বা হইতেছে, তাহা হইলে তিনি, গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে, সংশ্লিষ্ট স্থান তল্লাশি করিতে পারিবেন এবং কর্মটির সকল লঙ্ঘিত অনুলিপি এবং এইরূপ অনুলিপি তৈরি, বিতরণ, প্রদর্শন ও বহনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সকল ট্রেসিং প্লেট, সফট কপি বা ডিজিটাল বা অনুরূপ অন্য কোনো কপি সামগ্রী বা উপকরণ জব্দ করিতে পারিবেন এবং, যতদ্রুত সম্ভব, উক্তরূপ জব্দকৃত সকল কপি, ট্রেসিং প্লেট, সফট কপি, সামগ্রী এবং উপকরণ এখতিয়ারভুক্ত আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করিতে হইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত কোনো কর্মের অনুলিপি বা যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী বা প্লেট বা সফট কপি বা ডিজিটাল বা অনুরূপ অন্য কোনো কপিতে বা অনুরূপ দ্রব্যাদিতে স্বার্থ রহিয়াছে এইরূপ যে কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ জব্দ হওয়ার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে অনুরূপ অনুলিপি বা যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী ট্রেসিং, পেস্টিং, সফট কপি বা প্লেট তাহাকে ফেরত প্রদানের জন্য আদালতের নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং আদালত, দরখাস্তকারী ও বাদীর শুনানি গ্রহণের পর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অধিকতর তদন্ত করিয়া স্বীয় বিবেচনা উপযুক্ত আদেশ প্রদান করিবে অথবা সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
১০৯। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, রেজিস্ট্রার কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট সহায়তা চাহিতে পারিবেন, এবং উক্তরূপ সহায়তা চাওয়া হইলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে।
১১০। সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কপিরাইট লঙ্ঘন প্রতিরোধকল্পে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে কপিরাইট টাস্কফোর্স গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত টাস্কফোর্সের কার্যপরিধি ও অন্যান্য বিষয়াদি উক্ত প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
১১১। (১) ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ে বর্ণিত অপরাধ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
(২) কপিরাইটের অধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধ অ-আমলযোগ্য, আপোষযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে।
১১২। এই আইনের বিধানাবলি সহিত অসংগতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই অধ্যায়ে বর্ণিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
১১৩। এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার চলাকালে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হউক বা না হউক, আদালত উহার নিকট অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি বা অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি তৈরি করিবার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত প্লেট বা সফট বা ডিজিটাল বা অনুরূপ অন্য কোনো কপিরূপে প্রতীয়মান বস্তু-তথা অভিযুক্ত ব্যক্তির দখলভুক্ত কর্মটির সমস্ত অনুলিপি বা সমস্ত প্লেট ধ্বংস করিবার বা কপিরাইটের মালিককে বুঝাইয়া দিতে বা আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপে বিলিবণ্টন করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
১১৪। এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্ত কোনো বস্তুকে নিম্নবর্ণিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে, যথা:-
(ক) সংগীত, শব্দধ্বনি রেকর্ডিং, ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্রের ভিসিপি, ভিসিআর, ভিসিডি, ডিভিডি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে (দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক, চতুর্মাত্রিক) কেনো কর্ম বা উহা রেকর্ডিংকারী বস্তু ধ্বংস করা যাইবে;
(খ) কোনো স্থাপত্য শিল্পকর্মের চিত্রাঙ্কন, রেখাচিত্র, খোদাই, আলোকচিত্র, ডিজিটাল কর্ম বিনষ্ট করিয়া অথবা উক্ত কর্মের কপিরাইটের মালিক ইচ্ছুক হইলে, বোর্ড কর্তৃক বাজেয়াপ্তির পরিবর্তে নিরূপিত বিমোচন মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে, তাহাকে প্রদান করা যাইবে;
(গ) কোনো সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, নাট্যকর্মের প্রকাশিত পুস্তক, সাময়িকী ও সংবাদপত্রের অনুলিপি ধ্বংশ করিয়া অথবা উক্ত কর্মের কপিরাইটের মালিক ইচ্ছুক হইলে, বোর্ড কর্তৃক বাজেয়াপ্তির পরিবর্তে নিরূপিত বিমোচন মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে, তাহাকে প্রদান করা যাইবে;
(ঘ) কোনো তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল কর্ম ধ্বংস করিয়া অথবা উক্ত কর্মের কপিরাইটের মালিক ইচ্ছুক হইলে, বোর্ড কর্তৃক বাজেয়াপ্তির পরিবর্তে নিরূপিত বিমোচন মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে, তাহাকে প্রদান করা যাইবে;
(ঙ) কোনো সম্প্রচার কর্মের সম্প্রচার ও উহার সংস্থাপন দ্রব্যাদি বিনষ্ট করা যাইবে; এবং
(চ) ইন্টারনেটে রেকর্ডিংকৃত কর্ম ইন্টারনেট হইতে অপসারণ করা যাইবে।
১১৫। আপাতত বলবৎ অন্যান্য আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে, মোবাইল কোর্ট কর্তৃক বিচার্য হইবে।