প্রিন্ট

27/06/2026
বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩

বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩

( ২০২৩ সনের ৫৩ নং আইন )

ষষ্ঠ অধ্যায়

পেটেন্ট রদ

পেটেন্ট রদ (Revocation)

৩৩।   (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইন প্রবর্তিত হইবার পূর্বে হউক বা পরে, কোনো ব্যক্তি বা সরকার কর্তৃক পিটিশন দাখিল করা হইলে বা উক্ত পেটেন্ট লঙ্ঘনের মোকদ্দমায় পাল্টা-দাবির ক্ষেত্রে জেলা আদালত কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কারণে কোনো পেটেন্ট বাতিল করা যাইবে, যথা:-

(ক) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনটি বাংলাদেশে অন্য কোনো পেটেন্টের সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় কোনো বৈধ দাবিতে উহার পূর্বের অগ্রাধিকার তারিখে দাবি করা হইয়া থাকে;

(খ) যদি উদ্ভাবনটি এইরূপ কোনো ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুর করা হয় যাহার এই আইনের অধীন আবেদন করিবার অধিকার নাই;

(গ) যদি উদ্ভাবনটি কোনো পিটিশনারের অধিকার লঙ্ঘন করিয়া অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়;

(ঘ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনের বিষয় ধারা ২ এর দফা (৬) অনুযায়ী কোনো উদ্ভাবন না হয়;

(ঙ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনটি, দাবির অগ্রাধিকার তারিখের পূর্বে অন্য কোথাও জনগণের নিকট জ্ঞাত থাকে বা জনগণের মধ্যে ব্যবহৃত হইয়া থাকে বা বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও বা ধারা ২৩ এ উল্লিখিত কোনো দলিলে প্রকাশিত হইয়া থাকে এবং উক্ত বিবেচনায় ধারা (২) এর দফা (১০) এর অর্থ অনুযায়ী উহা নূতন না হয়;

(চ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনটি, দাবির অগ্রাধিকার তারিখের পূর্বে বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও জনগণের নিকট জ্ঞাত থাকে বা জনগণের মধ্যে ব্যবহৃত হইয়া থাকে বা বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও প্রকাশিত হইয়া থাকে এবং উক্ত বিবেচনায় উহা প্রতীয়মাণ হয় বা ধারা ২ এর দফা (৭) এর অর্থ অনুযায়ী কোনো উদ্ভাবনী ধাপ সম্পর্কিত না হয়;

(ছ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনটি ধারা ২ এর দফা (২) এর বিধান অনুযায়ী না হয় বা ব্যবহারযোগ্য না হয়;

(জ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামা ধারা ৮ এর উপ-ধারা (৫), (৬), (৮), (৯), (১০) ও (১১) এর বিধান অনুযায়ী ও পদ্ধতিতে সম্পাদনের কথা থাকে, অর্থাৎ উদ্ভাবনটি পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় বর্ণিত পদ্ধতি বা নির্দেশাবলি সংশ্লিষ্ট বা সমরূপ প্রযুক্তিতে সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তিকে উদ্ভাবনটি পরিচালনায় সক্ষম করিয়া তুলিবার জন্য পর্যাপ্ত নহে বা উদ্ভাবনটি পরিচালনার জন্য আবেনকারীর জ্ঞাত সর্বোত্তম পদ্ধতি এবং যাহার জন্য তিনি সুরক্ষার অধিকারী ছিলেন উহা প্রকাশ করা না হয়;

(ঝ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার কোনো দাবির বৈশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গভাবে বা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করা হয় বা সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার কোনো দাবি বিশেত্বনামায় প্রকাশিত বিষয়ের উপর যথাযথভাবে ভিত্তি করিয়া না হয়;

(ঞ) যদি পেটেন্ট মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বা অপূর্ণ প্রস্তাব বা বিবৃতির মাধ্যমে অর্জিত হয়;

(ট) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামার বিষয়বস্তু ধারা ৬ এর বিধান অনুযায়ী পেটেন্টযোগ্য না হয়;

(ঠ) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় উদ্ভাবনের জন্য ব্যবহৃত জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) উপাদানের উৎস বা ভৌগোলিক উৎস (অরিজিন) প্রকাশ না করা হয় বা ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়;

(ড) যদি সম্পূর্ণ বিশেষত্বনামায় দাবিকৃত উদ্ভাবনটি মৌখিক বা অন্য কোনোভাবে প্রাপ্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে অনুমান করা হয় যে, বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও স্থানীয় বা প্রচলিত সমাজে বা গোত্রে পাওয়া যায়।

(২) এই ধারার অধীন পেটেন্ট বাতিলের আবেদনের একটি নোটিশ, মহাপরিচালকের নিকট প্রতীয়মান উক্ত পেটেন্টের সকল স্বত্বাধিকারীকে বা যাহাদের উহাতে শেয়ার বা স্বার্থ আছে তাহাদেরকে, প্রদান করা হইবে এবং অন্য কোনো ব্যক্তিকে এইরূপ নোটিশ প্রদানের প্রয়োজন হইবে না।

জনস্বার্থে (Public interest) পেটেন্ট প্রত্যাহার

৩৪।   যদি সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো পেটেন্ট বা উহার কার্যপদ্ধতি জনস্বাস্থ্য বা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে সরকার, পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদানপূর্বক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পেটেন্ট প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত পেটেন্ট বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs