প্রিন্ট

07/06/2026
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩

( ২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন )

দশম অধ্যায়

জরিমানা, অপরাধ ও দণ্ড

জরিমানা

৫৫। (১) কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করিতে ব্যর্থ হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যক্তিকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা এবং উল্লিখিত ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে প্রথম দিনের পর হইতে প্রতিদিনের ব্যর্থতার জন্য ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(২) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্সের আবেদনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করিয়া লাইসেন্স গ্রহণ করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যক্তিকে অন্যূন ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৩) ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৬) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া এইরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করে যাহাতে উহাকে ফাইন্যান্স কোম্পানি হিসাবে মনে করিবার কারণ থাকে, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এবং উহার ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট পরিচালকগণ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, উক্ত লঙ্ঘনের জন্য তাহাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা, এবং যদি উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে প্রত্যেক দিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৪) ধারা ৬ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস স্থাপন বা বিদ্যমান ব্যবসা কেন্দ্র বা অফিসের স্থান পরিবর্তন করিলে উহার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক পরিচালক বা কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৫) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি এই আইনের ধারা ৯ মোতাবেক নগদ তহবিল ও তরল সম্পদ সংরক্ষণে ব্যর্থ হইলে উহাকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিনের ঘাটতির অনধিক ১ (এক) শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৬) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ২৪ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া আমানত গ্রহণ করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করিয়া অথবা উক্ত আমানতের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা বেশি সেই পরিমাণ টাকা, দায়ী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যার আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৭) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত যুক্ত প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করিয়া অথবা উক্ত ছাড়কৃত ঋণের বিদ্যমান স্থিতি, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা বেশি সেই পরিমাণ টাকা, দায়ী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যার আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৮) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক, ব্যবস্থাপক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নিরীক্ষক, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাববহি, হিসাব প্রতিবেদন, কোনো বিবরণী, ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজ বা অন্যান্য দলিল

(ক) এ মিথ্যা কোনো কিছু সংযোজন করেন বা করিতে সাহায্য করেন; বা

(খ) এর কোনো কিছু গোপন বা নষ্ট করেন; বা

(গ) যাহা তলবকৃত বা দাখিলকৃত উহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন বা কোনো কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করেন;

তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক ব্যক্তিকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৯) যদি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩০ এ উল্লিখিত ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করে, অথবা যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এইরূপ বিবেচনা করে যে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি জ্ঞাতসারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত বিধান লঙ্ঘন করিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের জন্য উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির উপর ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা, এবং যদি উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের প্রথম দিনের পর প্রত্যেক দিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।

(১০) ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া সুদ বা মুনাফা মওকুফ করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত জড়িত প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্তরূপ মওকুফ সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা দায়ী ব্যক্তিবর্গের উপর আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(১১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩৪ এর অধীন আর্থিক বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হইলে প্রতিদিন বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উহাকে ১০ (দশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(১২) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৬ এর অধীন কোনো বহি, হিসাব বা অন্য কোনো দলিল দাখিল করিতে অথবা কোনো বিবরণ বা তথ্য সরবরাহ করিতে, অথবা ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত বা পরীক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কোনো প্রশ্নের জবাব প্রদানে অসম্মত হন, তাহা হইলে অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা এবং অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে, এবং যদি উক্ত অসম্মতি অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ প্রথম দিনের পর হইতে প্রতিদিনের জন্য অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা এবং অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।

(১৩) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৪৮ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা অমান্য করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক উহাকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(১৪) এই ধারার বিভিন্ন উপ-ধারায় নির্দিষ্টকৃত জরিমানা ব্যতীত যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ বা আরোপিত কোনো শর্ত বা কোনো প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অন্যূন ৩ (তিন) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।

জরিমানা অন্য কোনো দায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না

৫৬। ধারা ৫৫ এর অধীন কোনো ব্যক্তির উপর আরোপিত কোনো জরিমানা এই আইন অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে উক্ত ব্যক্তির উপর আরোপযোগ্য বা আরোপিত হইয়াছে এইরূপ কোনো দায়-কে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না।

জরিমানা আরোপ ও আদায় প্রক্রিয়া

৫৭। (১) বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় যথাযথ সময়, যা অনধিক ৩০ দিন, প্রদানপূর্বক কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করিবে।

(২) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব প্রদান না করিলে বা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারা ৫৫ এর আওতায় জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৩) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে এবং সময়মতো জরিমানা পরিশোধ না করিলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাব হইতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা নোটিশে বিকলনের (debit) মাধ্যমে আদায় করিতে পারিবে।

(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত রক্ষিত ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাব বিকলনের মাধ্যমে আদায় সম্ভব না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে এই আইনের ধারা ৫৯ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।

অপরাধ ও দণ্ড

৫৮। (১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হইয়া বা প্রাপ্ত লাইসেন্স বাতিল হইবার পর বা মিথ্যা পরিচয় প্রদানপূর্বক অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

(২) এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করিয়া লাইসেন্স গ্রহণ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

(৩) ধারা ৪ উপ-ধারা (৬) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবে।

(৪) ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো পরিচালক বা কর্মকর্তা ঋণ সুবিধা প্রদান করিলে উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

(৫) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩০ এ উল্লিখিত খেলাপী ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানকারী ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রচলিত আইন অনুসারে মামলা দায়ের করিবে।

(৬) ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া সুদ বা মুনাফা মওকুফ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্তরূপ অপরাধের সহিত জড়িত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।

(৭) বাংলাদেশ ব্যাংক ধারা ৩৬ এর অধীন কোন পরিদর্শন বা পরীক্ষাকার্য সম্পন্ন করিবার পর উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনান্তে যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, ফাইন্যান্স কোম্পানির বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির কার্যাবলি উহার আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি পদ্ধতিতে পরিচালিত হইতেছে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক, লিখিত আদেশ দ্বারা

(ক) উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক নূতন আমানত গ্রহণ নিষিদ্ধ করিতে পারিবে;

(খ) ধারা ৫১ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির অবসায়নের উদ্দেশ্যে আবেদন দাখিল করিতে পারিবে;

(গ) পাওনাদারের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক যেইরূপ সঙ্গত বিবেচনা করে সেইরূপ আদেশ প্রদান বা কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৮) ধারা ৪২ এর অধীন লাইসেন্সবিহীন অর্থায়ন ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তি তদন্তকার্যে অসহযোগিতা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

(৯) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাববহি, হিসাব প্রতিবেদন, কোনো বিবরণী, ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজ বা অন্যান্য দলিলে-

(ক) মিথ্যা কোনো কিছু সংযোজন করিলে বা করিতে সহায়তা করিলে বা উক্ত দলিলের কোনো অংশ/বিষয় গোপন বা নষ্ট করিলে বা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তলবকৃত বা দাখিলকৃত কোনো বিবরণ, প্রতিবেদন বা অন্যান্য দলিলে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে; অথবা

(খ) কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করিলে;

উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

(১০) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের ধারা ৫৭ এর উপ-ধারা (৪) মোতাবেক মামলা দায়ের হইলে, তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

অপরাধের বিচার

৫৯। (১) ধারা ৫৮ এর অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করা যাইবে না।

অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

৬০। এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), আপোষযোগ্য (Compoundable) এবং জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) হইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs