প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
পঞ্চম অধ্যায়
ফাইন্যান্স কোম্পানির কার্যাবলি
৩০। (১) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি, সময় সময়, ইহার খেলাপী ঋণগ্রহীতার তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্যাংক কোম্পানিতে প্রেরণ করিবে।
(৩) কোনো খেলাপী ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না।
(৪) প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতার তালিকা প্রস্তুত করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সময় সময়, উক্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রাপ্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্যাংক-কোম্পানিতে প্রেরণ করিবে।
(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ এবং চূড়ান্তকরণ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করিবে।
(৭) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতার নাম চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে তাহার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে, এবং অনুরূপ ঋণ গ্রহীতা নাম চূড়ান্তকরণের তারিখ হইতে প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি উহা ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে সেই মর্মে অবহিত করিবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর বিধান অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত হইবার ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(৯) বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রেরণ করিতে পারিবে এবং তাহাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশিন, রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) এর নিকট কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করিলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১০) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত হইলে উপ-ধারা (৮) এর বিধান সাপেক্ষে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাহার পরিচালক পদ শূন্য ঘোষণা করিতে পারিবে।
(১১) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি উক্ত তালিকা হইতে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়, যাহা ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক হইবে না, অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হইবার যোগ্য হইবেন না।
(১২) উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর অধীন কোনো ব্যক্তি, ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত হইলে এবং উপ-ধারা (৮) এর অধীন উক্ত তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করা না হইলে অথবা আপিল নামঞ্জুর হইলে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি উক্ত ঋণগ্রহীতাকে ২(দুই) মাস সময় প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে প্রাপ্য সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত চাহিয়া নোটিশ প্রদান করিবে।
(১৩) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১২) এর বিধান অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির পর ২ (দুই) মাসের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা তাহার নিকট প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি, ক্ষেত্রমত, উহার পরিচালক পর্ষদের অনুমোদনক্রমে তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করিবে এবং এইরূপ মামলা সংশ্লিষ্ট ঋণ বা অগ্রিম বা পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থ ঋণ আদালতের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করিবে না।