প্রিন্ট
অষ্টম অধ্যায়
দণ্ড, বিচার, প্রশাসনিক জরিমানা, ইত্যাদি
৩৭। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৪ ও ১৫ এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা, উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অনুমোদন বা লাইসেন্স প্রত্যাহার হওয়া সত্ত্বেও পরিশোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, তাহা হইলে উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০(পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা, উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধানের প্রয়োজন মোতাবেক বা উহার অধীন বা উহার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তলবকৃত বা দাখিলকৃত কোনো বিবরণ, প্রতিবেদন বা অন্যান্য দলিল বা কোনো তথ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং তাহার জ্ঞাতসারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করেন, অথবা, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং তাহার জ্ঞাতসারে, অনুরূপ বিষয়ে তথ্য বা কোনো বিবৃতি প্রদান না করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা, উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৪) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ২১ এর অধীন কোনো হিসাব, বহি বা অন্য কোনো দলিল উপস্থাপন করিতে, অথবা কোনো তথ্য সরবরাহ করিতে অসম্মত হন, অথবা উক্ত ধারার অধীন নিযুক্ত কোনো পরিদর্শক, নিরীক্ষক বা তদন্তকারীর কর্ম সম্পাদনে অসহযোগিতা বা বাধা প্রদান করেন, তাহা হইলে তাহাকে উক্ত অসম্মতি বা অসহযোগিতা বা বাধা প্রদানের জন্য অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা যাইবে।
(৫) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ বা আরোপিত কোনো শর্ত বা প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড, বা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৬) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের সমপরিমান দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
৩৮। (১) এই আইনের অধীন অনুমোদন বা, ক্ষেত্রমত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানি বা কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, কোম্পানি সচিব, অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যাংক-কোম্পানি বা কোম্পানি আইনগত সত্ত্বা হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ব্যতীতও উক্ত কোম্পানিকে পৃথকভাবে একটি কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
৩৯। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable), অ-জামিনযোগ্য (non-bailable) এবং অ-আপসযোগ্য (non-compoundable) হইবে।
৪০। (১) The Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত উহার কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে The Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
৪১। (১) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কোনো ব্যক্তি দণ্ডনীয় অপরাধ করিলে তাঁহার বিরুদ্ধে মামলা না করিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক তাহার উপর কেন আর্থিক জরিমানা আরোপ করিবে না সে সম্পর্কে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে এবং তাহার প্রদত্ত ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হইলে বা তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান না করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাহার উপর উক্ত বিধানে উল্লিখিত যেকোনো অংকের আর্থিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তির উপর জরিমানা আরোপ করা হইলে, তিনি উক্তরূপ আদেশ প্রদানের ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে উহা পরিশোধ করিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে উহা পরিশোধ করিলে তাহার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীন তৎকর্তৃক কৃত অপরাধের জন্য আর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তির উপর জরিমানা আরোপ করা হইলে, তিনি উক্ত জরিমানা আরোপের ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিকট উহা পুনর্বিবেচনার আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং এই বিষয়ে উক্ত পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত জরিমানা উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনোরূপ নোটিশ প্রদান ব্যতিরেকে উক্ত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব হইতে উক্ত জরিমানা আদায় করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি তিনি উক্ত জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কৃত অপরাধের জন্য তাহার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবে।
৪২। (১) এই আইনের অধীন অনুমোদন বা, ক্ষেত্রমত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানি বা কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, কোম্পানি সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা না করিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক তাহাকে কেন তাহার পদ হইতে অপসারণ করা হইবে না সে সম্পর্কে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে এবং তাহার প্রদত্ত ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হইলে বা তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান না করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাহাকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করা হইলে, তিনি উক্ত অপসারণ সংক্রান্ত আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিকট উহা পুনর্বিবেচনার আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং এই বিষয়ে উক্ত পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।