প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
৩। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-
(১) “অকার্যকর (non-viable)” অর্থ ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তফসিলি ব্যাংকের কোনো অবস্থা;
(২) “অবসায়ন” অর্থ সম্পদ বিক্রয় করিয়া নগদে পরিণত করা এবং মার্কেট হইতে প্রস্থান করিবার উদ্দেশ্যে সকল প্রকার ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করা;
(৩) “অবসায়ন আদেশ” অর্থ ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা (৭) এর অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ;
(৪) “আমানত সুরক্ষা তহবিল” অর্থ ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ১৮ নং আইন) এ উল্লিখিত তহবিল;
(৫) “আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থা (Prompt Corrective Action Framework)” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যবস্থা, যাহা কোনো তফসিলি ব্যাংক এবং উহার পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে উক্ত ব্যাংকের অবনতিশীল আর্থিক ও পরিচালনগত অবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরাইয়া আনিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতাকে নির্দেশ করে;
(৬) “ইসলামি ব্যাংক” অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক;
(৭) “উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারক” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর ধারা ১৪খ-তে সংজ্ঞায়িত শেয়ার ধারক;
(৮) “কমন ইকুইটি টিয়ার ১ মূলধন উপাদান, এডিশনাল টিয়ার ১ মূলধন উপাদান ও টিয়ার ২ মূলধন উপাদান” অর্থ এইরূপ কোনো মূলধন উপাদান, যাহা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, স্থানীয় তফসিলি ব্যাংক ও বিদেশি তফসিলি ব্যাংক উভয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়;
(৯) “কাউন্সিল” ধারা ৪২ এর অধীন গঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিল;
(১০) “কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ)-তে সংজ্ঞায়িত কোম্পানি;
(১১) “গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম (critical functions)” অর্থ তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক তৃতীয় পক্ষের জন্য এবং তাহার পক্ষে তফসিলি ব্যাংক ব্যতীত অন্য কোনো পক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি, যেখানে উক্ত তফসিলি ব্যাংকের আকার অথবা মার্কেট শেয়ার, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আন্তঃসংযুক্ততা, জটিলতা অথবা তফসিলি ব্যাংকের আন্তঃসীমান্ত কার্যক্রমের কারণে এইরূপ কোনো কার্যাবলি সম্পাদনে ব্যর্থতা ঘটিলে বাস্তব অর্থনীতির (real economy) কার্যকারিতা অথবা আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করিবার জন্য অপরিহার্য ব্যাংকিং পরিষেবাসমূহের ব্যাঘাত ঘটিতে পারে;
(১২) “জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ২৯ক-তে সংজ্ঞায়িত সত্তা;
(১৩) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972) এর Article 2(j)-তে সংজ্ঞায়িত কোনো ব্যাংক;
(১৪) “দাবিসমূহের অগ্রাধিকারের ক্রম (Hierarchy of claims)” অর্থ ধারা ৬৭-তে উল্লিখিত দাবিসমূহ পরিশোধের অগ্রাধিকারের ক্রম;
(১৫) “দায়ী ব্যক্তি” অর্থ ধারা ৭৭ এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি;
(১৬) “দেউলিয়া” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২৪২ এবং/অথবা ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৬৫ এর উপ-ধারা (৪) উল্লিখিত কোনো পরিস্থিতি;
(১৭) “নন-রেগুলেটেড অপারেশনাল এন্টিটি” অর্থ এইরূপ কোনো সত্তা যাহা ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর আওতা বহির্ভূত থাকিয়া ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের মধ্যে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমসমূহের ধারাবাহিকতার জন্য প্রয়োজনীয় সেবা, যেমন-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ মূল্যায়ন, হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ সহায়তা, ট্রেজারি সার্ভিসেস, আইটি লেনদেন প্রক্রিয়া, আইনি পরিষেবা ও প্রতিপালন, ইত্যাদি প্রদান করে;
(১৮) “নিয়ন্ত্রণ” অর্থে ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (ছছ)-তে উল্লিখিত কার্যক্রমসহ কোনো ব্যাংক বা আইনি সত্তার আর্থিক ও পরিচালনগত নীতি সিদ্ধান্তসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করা অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৯) “নেটিং” অর্থ কোনো চুক্তির পক্ষগণের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেন হইতে উদ্ভূত দায়-দেনা সমন্বয় করিবার পর নিট দাবি বা বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ;
(২০) “পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ (systemically important) ব্যাংক” অর্থ কোনো তফসিলি ব্যাংক যাহার আকার, আন্তঃসংযুক্ততা, প্রতিস্থাপনযোগ্যতার অভাব, জটিলতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো মানদণ্ডের কারণে যাহার ব্যর্থতা আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে অথবা ফেলিতে পারে;
(২১) “পরিবার” বা “পরিবারের সদস্য” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (ঝঝ)-তে সংজ্ঞায়িত পরিবার বা পরিবারের সদস্য;
(২২) “পাওনাদার” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (ঝ)-তে সংজ্ঞায়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
(২৩) “পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা” অর্থ তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত, রক্ষণাবেক্ষণকৃত ও কার্যকরকৃত এইরূপ কোনো পরিকল্পনা যাহাতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অকার্যকারিতা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত উহার কার্যকারিতা বজায় রাখিবার জন্য ব্যাংকের অবনতিশীল আর্থিক ও পরিচালনগত পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে সময়োপযোগী পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ বর্ণিত থাকে;
(২৪) “প্রশাসক” অর্থ ধারা ২০ এর অধীন নিযুক্ত ব্যক্তি;
(২৫) “ফাইন্যান্স কোম্পানি” অর্থ ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (১৭) এ সংজ্ঞায়িত ফাইন্যান্স কোম্পানি;
(২৬) “ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ” অর্থ আর্থিক প্রকৃতির কার্যক্রম সম্পাদনকারী এইরূপ সত্তাসমূহের সমন্বয়ে গঠিত কোনো গোষ্ঠী যাহার মধ্যে তফসিলি ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত থাকে;
(২৭) “বহি” অর্থ ব্যাংকার বহি সাক্ষ্য আইন, ২০২১ (২০২১ সনের ২৭ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ঠ)-তে সংজ্ঞায়িত নথিপত্র;
(২৮) “বাংলাদেশ ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President's Order No. 127 of 1972) এর অধীন স্থাপিত বাংলাদেশ ব্যাংক;
(২৯) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি (natural person) এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থা বা আইনি সত্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩০) “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (ঢ)-তে সংজ্ঞায়িত ব্যক্তি;
(৩১) “ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশন তহবিল” অর্থ ধারা ১৭ এর অধীন গঠিত তহবিল;
(৩২) “ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ২৬গ-তে সংজ্ঞায়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
(৩৩) “ব্যাংকিং গ্রুপ” অর্থ ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ এর দফা (টটটট)-তে সংজ্ঞায়িত সত্তা;
(৩৪) “ব্রিজ ব্যাংক (Bridge Bank)” অর্থ রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম (critical functions) ও কার্যকর পরিচালন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং পরিশেষে তৃতীয় পক্ষের নিকট উহা বিক্রয় করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি ব্যাংক;
(৩৫) “মুখ্য ব্যবস্থাপনা কর্মী (Key Management Personnel)” অর্থ ক্রেডিট, ফাইন্যান্স, ট্রেজারি, অপারেশনস, কমপ্লায়েন্স, অডিট, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, কোম্পানি সেক্রেটারিয়েট, তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলিসহ কোনো তফসিলি ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী;
(৩৬) “যোগ্য দায় (Eligible liability)” অর্থ ধারা ৩৩ এর উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত যেকোনো দায়;
(৩৭) “রেজল্যুশন” অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ধারা ৯ এ উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংকের উপর ধারা ১৬-তে উল্লিখিত এক বা একাধিক ব্যবস্থার প্রয়োগ;
(৩৮) “রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংক” অর্থ এইরূপ কোনো তফসিলি ব্যাংক, যাহার উপর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক রেজল্যুশন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ধারা ৯ এ উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে;
(৩৯) “রেজল্যুশন পরিকল্পনা” অর্থ ধারা ১২ এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অধীন প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক অথবা কোনো পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ (systemically important) ব্যাংকের জন্য প্রণীত পরিকল্পনা;
(৪০) “রেজল্যুশন ক্ষমতা” অর্থ ধারা ১৬-তে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তফসিলি ব্যাংকের রেজল্যুশন সম্পর্কিত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা;
(৪১) “শেয়ার ধারক” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২(১) এর দফা (ধ)-তে সংজ্ঞায়িত তফসিলি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক;
(৪২) “সরকারি সহায়তা” অর্থ ধারা ৩৫ এ বর্ণিত আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা;
(৪৩) “সাবঅর্ডিনেটেড ভেট হোল্ডার” অর্থ অবসায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ঋণ ধারকগণের দাবি পরিশোধের পর পরিশোধযোগ্য এইরূপ কোনো ঋণের ধারক;
(৪৪) “সুরক্ষিত আমানত” অর্থ ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ এর অধীন আমানতের সুরক্ষিত অংশ;
(৪৫) “সুরক্ষিত আমানতকারী” অর্থ ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ এর অধীন সুরক্ষিত আমানতকারী;
(৪৬) “স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী” অর্থ ধারা ১৮ এর অধীন রেজল্যুশনের উদ্দেশ্যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের সম্পদ, দায় অথবা শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করিবার নিমিত্ত ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩৯ এ উল্লিখিত যেকোনো স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান;
(৪৭) “স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান” অর্থ এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান, যাহা একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান, যেমন- হোল্ডিং কোম্পানি, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান অথবা উভয়ই তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চার, উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক একক বা যৌথভাবে পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত;
(৪৮) “হোল্ডিং কোম্পানি” অর্থ এইরূপ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থা, যাহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংকের মালিকানা রয়েছে; এবং
(৪৯) “হ্রাসকরণ (Write down)” অর্থ ক্ষতি বা ব্যয় সমন্বয়ের বিপরীতে তাহার কিছু মূল্য সমন্বয় করিবার মাধ্যমে কোনো সম্পদের স্থিতিপত্রে মূল্য হ্রাস করা।