প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
দ্বিতীয় অধ্যায়
রেজল্যুশনের কর্তৃত্ব, ইত্যাদি
১৫। (১) এই অধ্যাদেশের অন্যান্য বিধান এবং অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,-
(ক) কোনো তফসিলি ব্যাংক অকার্যকর (non-viable) হইয়াছে বা কার্যকর হইবার সম্ভাবনা নাই; এবং
(খ) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পরিস্থিতিতে কার্যকর হইয়া উঠিবার যুক্তিযুক্ত কোনো সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত তফসিলি ব্যাংককে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রেজল্যুশন করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) কোনো তফসিলি ব্যাংক বর্তমানে অকার্যকর (non-viable) হইয়াছে বা কার্যকর হইবার সম্ভাবনা নাই বা কার্যকর হইবার যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা নাই বলিয়া পরিগণিত হইবে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত তফসিলি ব্যাংক বা তদারককারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত কোনো পদক্ষেপ ব্যাংকটির পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাইবে না, এবং নিম্নবর্ণিত কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, যথা:-
(ক) যেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো তফসিলি ব্যাংক, ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ অথবা তদধীন প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত কোনো প্রবিধান, নির্দেশ, গাইডলাইন্স, নির্দেশনা বা অনুশাসন অথবা আবশ্যকতাসহ নিয়ন্ত্রণমূলক, মূলধন ও তারল্যের শর্তসমূহ পরিপালন করিতে এইরূপভাবে ব্যর্থ হইয়াছে বা ব্যর্থ হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে যাহাতে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত তফসিলি ব্যাংককে প্রদত্ত লাইসেন্স বাতিল করিতে বাধ্য হইত;
(খ) কোনো তফসিলি ব্যাংক দেউলিয়া হইয়া যাইবে অথবা দেউলিয়া হইয়া যাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রতীয়মান হইলে;
(গ) যেক্ষেত্রে কোনো তফসিলি ব্যাংক উহার আমানতকারীগণের বা অন্যান্য পাওনাদারের নিকট তাহার দায়বদ্ধতা পূরণে অক্ষম হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, তফসিলি ব্যাংকটি উহার আমানতকারীগণের বা অন্যান্য পাওনাদারের পাওনা প্রদেয় হইলে উক্ত দায়বদ্ধতা পূরণে অক্ষম হইবে; অথবা
(ঘ) যেক্ষেত্রে কোনো তফসিলি ব্যাংকের প্রকৃত সুবিধাভোগী (Ultimate Beneficial Owners) অথবা দায়ী ব্যক্তিগণ কর্তৃক ব্যাংকটির সম্পদ বা তহবিলকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেদের বা অন্যের স্বার্থে প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করাসহ উক্ত ব্যাংক এইরূপ কোনো বিপজ্জনক বা ত্রুটিপূর্ণ চর্চায় জড়িত হয়, যাহাতে উহার অবস্থা দুর্বল হইবে অথবা সুষ্ঠু কার্যক্রম ঝুঁকির সম্মুখীন হইবে, এবং ফলশ্রুতিতে উহার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধিত হইবে।
ব্যাখ্যা।- এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “প্রকৃত সুবিধাভোগী (Ultimate Beneficial Owner)” অর্থ এইরূপ কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তি যাহারা প্রত্যক্ষ এবং/অথবা পরোক্ষভাবে ব্যাংকের ২ (দুই) শতাংশ বা তাহার অধিক শেয়ারের মালিক অথবা নিয়ন্ত্রণ করেন, অথবা এইরূপ কোনো আইনগত ব্যক্তির উপর প্রভাব রাখেন, যাহার পক্ষে আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়, এবং ইহারা সেইসব ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করিবে যাহারা ব্যাংকের মালিকানার কাঠামোর মধ্যে ব্যাংক বা এইরূপ কোনো আইনগত ব্যক্তির উপর প্রভাব রাখেন বা চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন যাহারা প্রত্যক্ষ এবং/অথবা পরোক্ষভাবে ব্যাংকের ২ (দুই) শতাংশ বা তাহার অধিক শেয়ারের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী হন।
(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আবশ্যক বিবেচিত হইলে, কোনো তফসিলি ব্যাংকের উপর আশু সংশোধনমূলক ব্যবস্থা অথবা অন্য কোনো তত্ত্বাবধানমূলক ব্যবস্থা উক্ত ব্যাংকের উপর রেজল্যুশন পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে বাধাগ্রস্ত করিবে না।
(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো তফসিলি ব্যাংককে রেজল্যুশন করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে-
(ক) উক্ত তফসিলি ব্যাংককে লিখিতভাবে উহার সিদ্ধান্ত অবহিত করিবে এবং এই অধ্যাদেশের অধীন রেজল্যুশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন আরম্ভ করিবে;
(খ) ধারা ১৬-তে বর্ণিত রেজল্যুশন ক্ষমতাসমূহের যেকোনো এক বা একাধিক ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক দফা (ক) এ উল্লিখিত অবহিতকরণের তারিখ হইতে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অন্যূন এইরূপ কোনো একটি রেজল্যুশন ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
(৫) এই অধ্যাদেশের অধীন রেজল্যুশন ব্যবস্থা আরম্ভ করিবার পর রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে উহার ব্যবসা পরিচালনা করিবে।
(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকসমূহের ক্ষেত্রে রেজল্যুশনের শর্তাবলির প্রয়োগ সুনির্দিষ্ট করিবার জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।