প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
প্রথম অধ্যায়
প্রারম্ভিক
২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-
(ক) “আপীল ট্রাইব্যুনাল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৮২ এর অধীন গঠিত সাইবার আপীল ট্রাইব্যুনাল;
(খ) “উপাত্ত-ভান্ডার” অর্থ টেক্সট, ইমেজ, অডিও বা ভিডিও আকারে উপস্থাপিত তথ্য, ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত বা বিযুক্ত ডিজিটাল ডকুমেন্টস বা ইলেক্ট্রনিক ফাইল, জ্ঞান, ঘটনা, মৌলিক ধারণা বা নির্দেশাবলি, যাহা-
(অ) কোনো কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ওয়ারেবলস, বা ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) ডিভাইস বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার এজেন্ট, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা টুল, ইত্যাদি দ্বারা আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হইতেছে বা হইয়াছে; এবং
(আ) কোনো কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ওয়ারেবলস, বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার এজেন্ট, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা টুল, ইত্যাদিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হইয়াছে;
(গ) “এজেন্সি” অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি;
(ঘ) “কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম” বা “কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম” অর্থ ধারা ৯ এর উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম বা কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম;
(ঙ) “কম্পিউটার সিস্টেম” অর্থ এক বা একাধিক কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস এর মধ্যে আন্তঃসংযোগকৃত প্রক্রিয়া যাহা এককভাবে বা একে অপরের সহিত সংযুক্ত থাকিয়া তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করিতে সক্ষম;
(চ) “কম্পিউটার ডাটা” অর্থ যেকোনো তথ্য, উপাত্ত বা ধারণার এমন উপস্থাপনা, যাহা কম্পিউটার সিস্টেমে প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী, যাহার মধ্যে এইরূপ প্রোগ্রামও অন্তর্ভুক্ত, যাহা কম্পিউটার সিস্টেমকে কোনো নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম করিবে;
(ছ) “কাউন্সিল” অর্থ ধারা ১২ এর অধীন গঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল;
(জ) “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (Critical Information Infrastructure-CII)” অর্থ সরকার কর্তৃক ঘোষিত এইরূপ কোনো বাহ্যিক বা ভার্চুয়াল তথ্য পরিকাঠামো যাহা কোনো তথ্য-উপাত্ত বা কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চারণ বা সংরক্ষণ করে এবং যাহা ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকটাপন্ন হইলে-
(অ) জননিরাপত্তা, বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বা জনস্বাস্থ্য, এবং
(আ) জাতীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্ব, এর উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়িতে পারে;
(ঝ) “গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স” অর্থ এমন একটি কর্ম-প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যাহার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর সাইবার সুরক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার খাতে বৈশ্বিক হুমকি এবং ঝুঁকির তথ্য ও লগ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং রিপোর্ট করা হয় যাহার উদ্দেশ্য হইল সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য রিপোর্ট করা, সাইবার ডিফেন্স ও কৌশল সমাধান প্রস্তাব করা যাহা কোনো ব্যক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে এইরূপ হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে সহায়তা করে;
(ঞ) “জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (National Cyber Emergency Response Team-NCERT)” অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি সত্তা যাহা সাইবার আক্রমণ এবং সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত ঘটনাসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফোরকাস্ট ও পর্যালোচনা, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োগের কারিগরি জ্ঞান নির্মাণ ও বিস্তারে সহায়তা এবং সাইবার অপরাধের আইনি তদন্তের জন্য সকল ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে;
(ট) “জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার (National Security Operation Center-NSOC)” অর্থ একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত সংস্থা যাহা একটি দেশের জাতীয় পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য কাজ করে; এটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো (যেমন-বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, যোগাযোগ ব্যবস্থা) এবং সরকারি ডাটা সিস্টেমের সুরক্ষা নিশ্চিত করিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে; জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার সাধারণত সাইবার হুমকি শনাক্ত, প্রতিরোধ, মোকাবিলা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বিশ্লেষণ পরিচালনা করে; এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ, সাইবার সন্ত্রাসবাদ এবং ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার লক্ষ্য করিয়া পরিচালিত আক্রমণসমূহের প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারদের সহিত সমন্বয় সাধন করে এবং সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে; এছাড়াও, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কাজ করিতে পারে যাহা দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার এর কার্যক্রম পরিচালনা ও স্বীকৃতি প্রদান করে সঠিক নিয়মাবলি এবং প্রবিধান অনুসরণ নিশ্চিত করে; এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অপারেশন সেন্টার দেশের সকল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার এর মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী হিসাবে কাজ করে এবং তাহাদের কার্যক্রম ও সাফল্য সূচক (Key performance Indicator-KPI) তদারকি করে;
(ঠ) “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৬৮ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল;
(ড) “ট্রাফিক ডাটা” অর্থ কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে সংঘটিত যোগাযোগ সম্পর্কিত যেকোনো কম্পিউটার ডাটা, যাহা যোগাযোগের শৃঙ্খলে অংশ নেওয়া কম্পিউটার সিস্টেম দ্বারা উৎপন্ন হয় বা অনুরূপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম দ্বারা উৎপন্ন হয়, যাহা যোগাযোগের উৎস, গন্তব্য, পথ, সময়, তারিখ, আকার, সময়কাল বা প্রাথমিক সেবার ধরন নির্দেশ করে;
(ঢ) “ডিজিটাল” অর্থ যুগ্ম-সংখ্যা (০ ও ১/বাইনারি) বা ডিজিটভিত্তিক কার্য পদ্ধতি এবং এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, বায়োমেট্রিক, ইলেকট্রোকেমিক্যাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল, ওয়্যারলেস বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টেকনোলজি, ব্লকচেইন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ও মেশিন ভিশনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ণ) “ডিজিটাল ডিভাইস” অর্থ কোনো ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র বা সিস্টেম, যাহা ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক বা অপটিক্যাল ইমপালস ব্যবহার করিয়া যৌক্তিক, গাণিতিক এবং স্মৃতি কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং কোনো ডিজিটাল বা কম্পিউটার ডিভাইস সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সহিত সংযুক্ত এবং সকল ইনপুট, আউটপুট, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চিতি, ডিজিটাল ডিভাইস সফটওয়্যার বা যোগাযোগ সুবিধাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে যাহাতে সফটওয়্যার, এপিআই, কোডিং, সফটওয়্যার এপ্লিকেশন, এ্যালগরিদম, ডাটা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কাজ করে, বা যাহাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল কাজ করে, যাহাতে ওয়েবসাইট বা পোর্টাল চলে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং, গেইমিং, কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেশিন ভিশন, ব্লক চেইন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) সহ এতদ্সংশ্লিষ্ট আধুনিক কম্পিউটিং বা সফটওয়্যার বা অ্যাপস কাজ করে;
(ত) “ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব” অর্থ একটি অনুমোদিত পরীক্ষাগার যাহা জাতীয় আইন, আন্তর্জাতিক মান, সাইবার সুরক্ষার বিভিন্ন প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে, যাহা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন করিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতাসহ গঠিত হয়;
(থ) “ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত উপাদান” অর্থ যে কোনো মাধ্যমে, কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করিয়া তৈরি করা কোনো উপাদান বা উপস্থাপনা যাহা-
(অ) দৃষ্টিগত, শ্রবণযোগ্য, বা পাঠ্যগতভাবে, অথবা অন্যকোনোভাবে, চিত্রিত বা বর্ণনা করে, যাহা বাস্তব বা অনুকৃত (simulated) যৌন সম্পর্কিত স্পষ্ট কার্যকলাপ, অথবা কোনো যৌন অঙ্গ, অথবা যৌন শোষণ বা নির্যাতন, অথবা যৌনসেবা, অথবা শিশুসহ অন্য ব্যক্তির সহিত যৌনতাপূর্ণ যোগাযোগ, অথবা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত যৌন অপরাধ যাহা শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন) এর ধারা ২(১৭) ও ৪ এ সংজ্ঞায়িত কোনো শিশুর সম্পর্কিত বা উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়; বা
(আ) দৃষ্টিগত, শ্রবণযোগ্য, বা পাঠ্যগতভাবে, অথবা অন্যকোনোভাবে কোনো শিশুকে প্ররোচিত, উত্তেজিত, উৎসাহিত বা নির্দেশিত করে, কোনো বাস্তব বা অনুকৃত (simulated) যৌনতাপূর্ণ কাজে জড়িত হইতে বা পর্যবেক্ষণ করিতে, অথবা কোনো যৌন অঙ্গ প্রদর্শন করিতে, অথবা যৌন শোষণ বা নির্যাতন, অথবা যৌন সেবায় জড়িত হইতে বা সহায়তা করিতে, অথবা শিশুসহ অন্য ব্যক্তির সহিত যৌনতাপূর্ণ যোগাযোগে জড়িত হইতে বা পর্যবেক্ষণ করিতে, অথবা প্রযোজ্য আইনে সংজ্ঞায়িত অন্যান্য যৌন অপরাধে জড়িত হইতে বা সহায়তা করিতে (যাহার মধ্যে রহিয়াছে যৌন সেবার জন্য অর্থ প্রদান বা গ্রহণ করা) অথবা যৌন শোষণের জন্য কোনো শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা যৌন উদ্দেশ্যে কোনো শিশুকে প্রলুব্ধ করা; বা
(ই) দৃষ্টিগত, শ্রবণযোগ্য, বা পাঠ্যগতভাবে, অথবা অন্যকোনোভাবে প্ররোচনা, উত্তেজনা, উৎসাহ, হুমকি বা নির্দেশ প্রদান করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো সাহায্য বা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো শিশুকে কোনো বাস্তব বা অনুকৃত (simulated) যৌনতাপূর্ণ কাজে জড়িত হইতে বা পর্যবেক্ষণ করিতে, অথবা কোনো যৌন অঙ্গ প্রদর্শন করিতে, অথবা যৌন শোষণ বা নির্যাতন, অথবা যৌন সেবায় জড়িত হইতে বা সহায়তা করিতে, অথবা শিশুসহ অন্য ব্যক্তির সহিত যৌনতাপূর্ণ যোগাযোগে জড়িত হইতে বা পর্যবেক্ষণ করিতে, অথবা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত অন্যান্য যৌন অপরাধে জড়িত হইতে বা সহায়তা করিতে, যাহার মধ্যে রহিয়াছে যৌন সেবার জন্য অর্থ প্রদান বা গ্রহণ করা, যৌন শোষণের জন্য কোনো শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করা, অথবা যৌন উদ্দেশ্যে কোনো শিশুকে প্রলুব্ধ করা:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের উপাদান যৌন উত্তেজনা বা পরিতৃপ্তি সৃষ্টি বা প্ররোচিত করিবার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হইয়াছে কিনা তাহা অপ্রাসঙ্গিক বলিয়া বিবেচ্য হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের যেকোনো উপাদান যাহা স্পষ্টভাবে আইন প্রয়োগের স্বার্থে বা অপরাধ তদন্ত, চিকিৎসা সেবা, বা অনুমোদিত গবেষণা, শিক্ষা, বা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্দেশ্যে কেবল বৈধ উদ্দেশ্যে তৈরি এবং/অথবা ব্যবহৃত হইয়াছে, তাহা এই সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হইবে না;
(দ) “পুলিশ অফিসার” অর্থ সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো পুলিশ অফিসার;
(ধ) “প্রোগ্রাম” অর্থ কোনো পাঠযোগ্য মাধ্যমে যন্ত্র সহযোগে শব্দ, সংকেত, পরিলেখ বা অন্য কোনো আকারে প্রকাশিত নির্দেশাবলি, যাহার মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস দ্বারা কোনো বিশেষ কার্য-সম্পাদন বা বাস্তবে ফলদায়ক করা যায়;
(ন) “ফৌজদারি কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898);
(প) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থা, ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে উহার নিয়ন্ত্রণকারী এবং আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো সত্তা বা কৃত্রিম আইনগত সত্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ফ) “বে-আইনি প্রবেশ” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বা উক্তরূপ অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনক্রমে কোনো কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশ, বা উক্তরূপ প্রবেশের মাধ্যমে উক্ত তথ্য ব্যবস্থার কোনো তথ্য-উপাত্তের আদান-প্রদানে বাধা প্রদান বা উহার প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত বা ব্যাহত করা বা বন্ধ করা, বা উক্ত তথ্য-উপাত্তের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন বা সংযোজন বা বিয়োজন করা অথবা কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে কোনো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ; ক্যাশ (Cache) হইতে তথ্য-উপাত্ত সরানো, সফটওয়্যার লগ, ট্রেস, রেকর্ড মুছে দেওয়া বা সরানো, ক্ষেত্রমত, স্থানান্তর, ব্লক করা, যাহা অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিং নামেও অভিহিত হইবে;
(ব) “ভৌত অবকাঠামো” অর্থ সকল ধরনের হার্ডওয়ারভিত্তিক উপাদান ও প্রযুক্তি, যাহা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং ভার্চুয়াল পরিবেশের কার্যক্রমকে সমর্থন করে; ডাটা সেন্টার, সার্ভার এবং কম্পিউটার হার্ডওয়ার, নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো, ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ ফোরজি বা ফাইভজিসহ নূতন যোগাযোগ প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট সিস্টেম, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও যোগাযোগ টাওয়ার, যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক, ভূমি ও নদীর তলদেশের ক্যাবল, সাবমেরিন ক্যাবল, ওভারহেড ফাইবার ক্যাবল, অপটিক্যাল সঞ্চালন নেটওয়ার্কও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ভ) “মহাপরিচালক” অর্থ এজেন্সির মহাপরিচালক;
(ম) “ম্যালওয়্যার” অর্থ এইরূপ কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক নির্দেশ, তথ্য-উপাত্ত, প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্স যাহা-
(অ) কোনো কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস কর্তৃক সম্পাদিত কার্যকে পরিবর্তন, বিকৃত, বিনাশ, ক্ষতি বা ক্ষুণ্ণ করে বা উহার কার্য-সম্পাদনে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে, বা প্রবেশাধিকারের সীমা বা গভীরতা বাড়ায়; বা
(আ) নিজেকে (ব্যক্তি, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার টুল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট বা টুল) অন্য কোনো কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইসের সহিত সংযুক্ত করিয়া উক্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের কোনো প্রোগ্রাম, তথ্য-উপাত্ত বা নির্দেশ কার্যকর করিবার বা কোনো কার্য-সম্পাদনের সময় স্বপ্রণোদিতভাবে ক্রিয়াশীল হইয়া উঠে এবং উহার মাধ্যমে উক্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে কোনো ক্ষতিকর পরিবর্তন বা ঘটনা ঘটায়; বা
(ই) কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্য চুরি, তথ্য পরিবর্তন ও বিকৃতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদিত তথ্য অনুপ্রবেশ বা উহাতে হিউম্যান বা নন হিউম্যান এআই এজেন্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে, বা কোডিং বা এলগরিদম পরিবর্তন করে;
(য) “যৌন হয়রানি” অর্থ-
(অ) সাইবার স্পেসে বারংবার নগ্ন ছবি চাহিবার মাধ্যমে হয়রানি করা, প্রশাসনিক অথবা পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়া সাইবার স্পেসে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া; বা
(আ) সাইবার স্পেসে কোনো ব্যক্তির যৌনাঙ্গের ছবি বা যৌন উদ্দীপক উপাদান বা পর্নোগ্রাফিক উপাদান অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রেরণ, কারো অনুমতি ব্যতিরেকে তাহার ছবিকে কোনো প্রযুক্তির সহায়তায় পর্নোগ্রাফিক উপাদানে রূপদান করা বা যৌনকরণ করা; বা
(ই) সাইবার স্পেসে সম্পর্কের প্রস্তাবে সাড়া প্রদান না করিবার কারণে হমকি প্রদান, প্রলোভন বা হুমকির মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা;
(র) “রিভেঞ্জ পর্ন” অর্থ কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিত তাহার ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তির অন্তরঙ্গ অথবা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও অথবা অনুরূপ উপাত্ত যে কোনো প্রকার প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া ছড়াইয়া দেওয়া;
(ল) “সাইবার সুরক্ষা” অর্থে ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, ডিজিটাল ওয়ারেবলস, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার ডাটা, সিগনালিং ডাটা, ট্রাফিক ডাটা, ডাটাসেন্টার ও ক্লাউডসহ সাইবার স্পেসে ভৌত অবকাঠামোর সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যক্তিগত, প্রতিষ্ঠানিক, আর্থিক ও ব্যবসায়িক তথ্যের সুরক্ষা, সরকারি-বেসরকারি সফটওয়্যার, এপিআই, কোডিং, সফটওয়্যার অ্যালগরিদম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুল, এবং পোর্টাল বা নেটওয়ার্কে সঠিক ও অনুমোদিত প্রবেশাধিকার সীমায় কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিদের দ্বারা সঠিক অ্যাক্সেস নিশ্চিতকরণসহ উক্তরূপ বিষয়াবলিতে কোনো ব্যক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট বা টুলের এক্সেস 1[বুঝাইবে] এবং নাগরিকদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(শ) “সাইবার স্পেস” অর্থে আন্তঃসংযোগকৃত সকল ডিজিটাল ডিভাইস এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কসমূহের সকল ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল জগত বুঝাইবে (যেমন-ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ক, গেইমিং নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেশিন ভিশন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য সকল আধুনিকতম ইলেকট্রনিক ও অপটিক্যাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে ডাটা তৈরি, ডাটা মিররিং, অ্যাক্সেস, প্রেরণ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনাসহ সকল ধরনের হিউম্যান ও নন-হিউম্যান অনলাইন 2[কর্মকান্ড সংঘটিত হয়) এবং] ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার ডাটা, সিগনালিং ডাটা, ট্রাফিক ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপন্ন ডাটাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ষ) “সিগনালিং ডাটা” অর্থে ডিজিটাল ডিভাইস, সার্ভার এবং নেটওয়ার্কের মধ্যকার সংযোগ স্থাপনকালীন বা কানেকশন সেটআপ সম্পর্কিত তথ্যকে বুঝাইবে;
(স) “সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (Security Operation Center-SOC)” অর্থ যাহা একটি নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অবকাঠামো ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য কাজ করে; সাধারণত প্রতিষ্ঠানের আইটি সিস্টেমের সাইবার হুমকি শনাক্ত, প্রতিরোধ, ডাটা সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং অননুমোদিত বা ক্ষতিকারক কার্যক্রম শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে সহায়তা করে; সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকি (যেমন- ফিশিং, ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার, ডাটা লিক) এবং অস্বাভাবিক নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক নিরীক্ষণ করে; প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক কার্যক্রম নিশ্চিত করিতে, শিল্প মানদণ্ড (industry standard/compliance) অনুসরণ করিতে এবং নিরাপত্তা পরিবেশের মান উন্নত করিতে কৌশলগত ভূমিকা পালন করে;
(হ) “সেবা প্রদানকারী” অর্থ-
(অ) কোনো ব্যক্তি, সফটওয়্যার নির্মাতা বা এলগরিদম ডেভেলপার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভার্চুয়াল এজেন্ট ডেভেলপার যিনি কম্পিউটার বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ব্যবহারকারীকে যোগাযোগের সামর্থ্য প্রদান করেন; বা
(আ) এইরূপ কোনো ব্যক্তি, সফটওয়্যার নির্মাতা বা এলগরিদম ডেভেলপার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভার্চুয়াল এজেন্ট ডেভেলপার, সত্তা বা সংস্থা যিনি বা যাহা উক্ত সার্ভিসের বা উক্ত সার্ভিসের ব্যবহারকারীর পক্ষে কম্পিউটার ডাটা প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণ করেন; বা
(ই) এজেন্সি কর্তৃক স্বীকৃত আইএসও বা আইইসি মানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষাগার যাহা সফটওয়্যার টেস্টিং পরীক্ষাগার, সাইবার সিকিউরিটি পেনিট্রেশন টেস্টিং পরীক্ষাগার, সাইবার স্পেসে ব্যবহৃত পণ্যের টেস্টিং, সাইবার সুরক্ষা মূল্যায়ন, সাইবার সুরক্ষা পণ্য বা সেবার সনদ প্রদানকারী, সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অডিটিং এবং সাইবার সুরক্ষা রিপোর্ট প্রদান করে এবং উক্ত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত সেবা প্রদানকারী প্রযুক্তিবিদ বা অডিটর; বা
(ঈ) তৃতীয় পক্ষ হিসাবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যাহারা সাইবার সুরক্ষা পরিচালনা বা পর্যবেক্ষণকারী (সাইবার সিকিউরিটি পরিচালনা কেন্দ্র) এবং প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োজিত সেবা প্রদানকারী প্রযুক্তিবিদ বা বিশ্লেষক; বা
(উ) সাইবার সুরক্ষায় নিয়োজিত ভিএলএসআই বা সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন বা টেস্টিং বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী পরীক্ষক, নকশাকারী, প্রযুক্তিবিদ;
(ড়) “সেক্সটর্শন” অর্থ এক প্রকার প্রতারণা বা এক্সটর্শন যাহার দ্বারা কোনো ব্যক্তির অন্তরঙ্গ অথবা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও সংরক্ষণ বা সংরক্ষণের দাবি করিবার মাধ্যমে তাহা প্রকাশ করিবার হুমকি প্রদানের মাধ্যমে অর্থ, সুযোগ-সুবিধা লাভ বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা।
(২) এই অধ্যাদেশে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।