জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫

( ২০২৫ সনের ৩০ নং অধ্যাদেশ )

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ

যেহেতু তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের বর্ণবাদী, নিপীড়নমূলক ও বৈষম্যমূলক নীতি এবং বাংলাদেশের জনগণকে নির্বিচারে গণহত্যার কারণে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হইয়া উঠে; এবং

যেহেতু ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়া লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করিয়াছে; এবং

যেহেতু জনগণের অব্যাহত সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও সুবিচার, মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত হয় নাই; এবং

যেহেতু জানুয়ারি ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ হইতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান অকার্যকর হইয়াছে; অন্যায়ভাবে শক্তি প্রয়োগ করিয়া বিরোধীমত দমন, গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হইয়াছে; দেশের অর্থ পাচার ও লুটপাট নীতির ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হইয়াছে; নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কাঠামোগত সহিংসতার শিকার হইয়াছেন এবং জনগণের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ করিয়া জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করিবার সৃষ্ট প্রেক্ষাপট জনগণকে শঙ্কিত করিয়াছে; এবং

যেহেতু জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আপামর জনতার দীর্ঘ পনেরো বৎসরের ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এক দুর্দম গণআন্দোলন হইতে ক্রমান্বয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ লাভ করিয়া ০৫ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ফ্যাসিবাদী শাসককে জনগণের কাছে পরাজিত হইয়া দেশ ছাড়িয়া পলায়নে বাধ্য করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক সংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করিয়াছেন এবং দেশব্যাপী সহস্রাধিক নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা শহিদ হইয়াছেন, অগণিত মানুষ অতি গুরুতর আহত বা গুরুতর আহত বা আহত হইয়াছেন এবং অধিকাংশই আঘাত ও নৃশংসতার বিভীষিকায় পর্যুদস্ত এবং তাঁহাদের এই আত্মত্যাগকে যথার্থ সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য এবং এহেন ত্যাগের দৃষ্টান্ত জাতির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসাবে সমুন্নত রাখা কর্তব্য; এবং

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি, সম্মান, কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং

যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ সাধন ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

সূচি

ধারাসমূহ

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

২। সংজ্ঞা

৩। অধ্যাদেশের প্রাধান্য

৪। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা

৫। অধিদপ্তরের সিলমোহর

৬। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি

৭। অধিদপ্তরের কার্যাবলি

৮। মহাপরিচালক

৯। অন্যান্য কর্মচারী

১০। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদের ভালিকা প্রকাশ, সংশোধন, হালনাগাদ, ইত্যাদি

১১। আহত জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ, সংশোধন, হালনাগাদ, ইত্যাদি

১২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধা

১৩। আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, ইত্যাদি

১৪। গবেষণা ও ইতিহাস সংরক্ষণ

১৫। অপরাধ ও দণ্ড

১৬। অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা

১৭। অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল, ইত্যাদি

১৮। অধিদপ্তরের তহবিল

১৯। হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা

২০। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

২১। বার্ষিক প্রতিবেদন

২২। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৩। অসুবিধা দূরীকরণ

২৪। ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

২৫। রহিতকরণ ও হেফাজত