প্রিন্ট
এই অধ্যাদেশটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৬ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে ।
তৃতীয় অধ্যায়
অভিযোগ, ভদন্ত ও প্রতিকার
১৬। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে কমিশন নিম্নবর্ণিত উপায়ে অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও নিষ্পত্তি করিবে, যথা:-
(ক) মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কমিশনের নিকট অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবেন এবং অভিযোগ দাখিলের জন্য কোনো প্রকার ফি প্রদেয় হইবে না;
(খ) লিখিত, মৌখিক অথবা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা যাইবে এবং অভিযোগ দাখিল হইলে কমিশন অভিযোগকারীকে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করিবে;
(গ) কোনো অভিযোগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তারিখ হইতে সাধারণভাবে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে কমিশনে দাখিল করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ভুক্তভোগীর অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থের কারণে কমিশন যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাইয়া আবেদন দাখিলে বিলম্ব মওকুফ করিতে পারিবে;
(ঘ) দফা (ক) এর অধীন কোনো অভিযোগ প্রাপ্ত হইলে অথবা গণমাধ্যমসহ অন্য যেকোনো মাধ্যম হইতে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে এবং কমিশনের যেকোনো কমিশনার, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তদন্ত দলের সদস্যের মাধ্যমে উক্ত অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালিত হইবে;
(ঙ) অভিযোগ বা তথ্যের প্রাথমিক সত্যতা নিরূপণে কমিশন অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়া গেলে কমিশন অভিযোগটি নথিজাত করিবে এবং যেইক্ষেত্রে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে কমিশন সন্তুষ্ট হইবে, সেইক্ষেত্রে 1[***] তদন্তকারী নিযুক্ত করিয়া তদন্তের আদেশ প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কমিশন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট, সেইক্ষেত্রে কারণ উল্লেখপূর্বক অনুসন্ধান ব্যতিরেকে সরাসরি তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে;
(চ) তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ হইতে অনধিক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নপূর্বক প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করিতে হইবে, তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে তদন্তকারীর আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবে;
(ছ) অনুসন্ধান বা, ক্ষেত্রমত, তদন্ত প্রতিবেদনের ১ (এক) টি কপি কমিশন অভিযোগকারী বরাবর প্রেরণ করিবে;
(জ) দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া, প্রয়োজনে, কমিশন অন্য কোনো তদন্তকারী নিযুক্ত করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(ঝ) তদন্ত প্রতিবেদন বা, ক্ষেত্রমত, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতীয়মান না হইলে কমিশন অভিযোগটি নথিজাত করিবে এবং মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হইলে কমিশন উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করিবে;
(ঞ) শুনানিতে উপস্থিত পক্ষ বা পক্ষদের শুনানি শেষে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হইলে এবং বিষয়টি একটি আপসঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে প্রতীয়মান হইলে কিংবা প্রচলিত আইন বা ব্যবস্থায় কোনো আদালত বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কমিশনের চাইতে বিষয়টির কার্যকর সুরাহা করা সম্ভব প্রতীয়মান হইলে কমিশন উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে এবং অভিযোগকারীকে উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে শরণাপন্ন হইবার পরামর্শ প্রদান করিবে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(ট) শুনানি শেষে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হইলে এবং বিষয়টি দফা (ঞ) এর আওতাবহির্ভূত হইলে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি বরাবর উপযুক্ত যেকোনো পরিমাণের ক্ষতিপূরণ বা, ক্ষেত্রমত, জরিমানা পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারিবে;
(ঠ) দফা (ট) এর অধীন ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করিবার পাশাপাশি কিংবা উক্তরূপ ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান না করিয়াও, কমিশন উপযুক্ত ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য যেকোনো বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবে এবং কমিশনের সুপারিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহা বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কমিশনের আদেশ বাস্তবায়নে বিশেষ কোনো অসুবিধা তৈরি হয়, সেইক্ষেত্রে সুপারিশ প্রাপ্তির ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনকে অবহিত করিবে এবং কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করিয়া যে সুপারিশ প্রেরণ করিবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত সুপারিশ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে;
(ড) অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত যাবতীয় সিদ্ধান্ত কমিশন তাহার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচারিক কার্যধারা আরম্ভ করিবার নিমিত্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কমিশন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ কমিশন কর্তৃক বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিম্নবর্ণিত প্রক্রিয়ায় তদন্তযোগ্য হইবে, যথা:-
(ক) উক্তরূপ অপরাধের তদন্তের নিমিত্ত কমিশন পৃথক তদন্ত দল গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত তদন্ত দলের গঠন ও আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে;
(খ) উক্তরূপ অপরাধ তদন্তের জন্য কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, কমিশনের কোনো সদস্যকে বা দফা (ক)-এ বর্ণিত তদন্ত দলের কোনো কর্মকর্তাকে বা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোনো কর্মকর্তাকে কিংবা কমিশনের বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হইলে উক্ত কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য যে প্রতিষ্ঠানে বা বাহিনীতে কর্মরত, সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর কোনো ব্যক্তি দ্বারা উক্ত অভিযোগ তদন্ত করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা যে প্রতিষ্ঠানেরই হউক না কেন, কমিশন ব্যতিরেকে অন্য কেহ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার নির্দেশনা প্রদানের এখতিয়ার রাখিবে না এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে নহে, বরং সরাসরি কমিশন বরাবর তাহার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন, প্রয়োজনে, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ আদেশ প্রদান করা হইলে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে উক্ত মামলার কেস ডকেট কমিশনের নির্দেশ অনুসারে হস্তান্তর করিতে হইবে;
(গ) দফা (খ) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, সরকার বা সরকারের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলবসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন থানায় দায়েরকৃত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরূপ যাবতীয় ক্ষমতা থাকিবে এবং যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য হইলে তাহাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হইবে না।
১৭। (১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন অভিযোগ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হইবার আগে যেকোনো পর্যায়ে উভয়পক্ষ যদি অভিযোগের বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে আগ্রহী হয় এবং বিষয়টি প্রচলিত আইন অনুসারে আপসঅযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত না হয়, তাহা হইলে কমিশন অনুসন্ধান, তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করিয়া বা, ক্ষেত্রমত, চালু রাখিয়া বিষয়টি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবে এবং উক্ত মধ্যস্থতা সফল না হইলে, যেইক্ষেত্রে কার্যধারা স্থগিত রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে কার্যধারা যেই পর্যায়ে স্থগিত হইয়াছিল, সেই পর্যায় হইতে পুনরায় কার্যধারা আরম্ভ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে মধ্যস্থতা চলাকালে অনুসন্ধান, তদন্ত বা প্রতিকার প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে অনধিক ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করিতে হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকারীর নিয়োগের পদ্ধতি এবং ক্ষমতা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করা যাইবে।
(৪) মীমাংসা কার্যকর করণার্থে কমিশন তৎকর্তৃক যথাযথ বিবেচিত ক্ষতিপূরণ বা, ক্ষেত্রমত, জরিমানা প্রদানের নির্দেশসহ অন্যান্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
১৮। (১) অনুসন্ধান বা তদন্তকালে যেইক্ষেত্রে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ভুক্তভোগী অবিলম্বে বিশেষ কোনো সহায়তা বা সুরক্ষা না পাইলে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হইবেন, সেইক্ষেত্রে কমিশন যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিত আদেশ দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা, সুরক্ষা বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ বাস্তবায়ন করিবে।
(২) কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে কমিশন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেকোনো আইনানুগ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উক্ত নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করিবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা প্রদান করিতে অর্থ ব্যয় হয়, সেইক্ষেত্রে কমিশন পরবর্তীতে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে উক্ত অর্থ আদায় করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
১৯। (১) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন আবেদন হইতে উদ্ভূত কোনো বিষয় তদন্তক্রমে প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য সুপ্রীম কোর্ট, কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত বিষয়ে কমিশন তদন্ত করিয়া রেফারেন্সে উল্লিখিত সময়সীমা, যদি থাকে, এর মধ্যে সুপ্রীম কোর্টে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে।
২০। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিংবা অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশন, কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিম্নবর্ণিত বিষয়ে Code of Civil Procedure (Act No. V of 1908) এর অধীন একটি দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(ক) সাক্ষীর সমন ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং সাক্ষীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা;
(খ) কোনো লিখিত বা মৌখিক সাক্ষ্য শপথের মাধ্যমে প্রদানের জন্য তলব করা;
(গ) কোনো ব্যক্তিকে কমিশনের কোনো বৈঠকে উপস্থিত হইয়া সাক্ষ্য দেওয়া বা তাহার দখলে আছে এমন কোনো দলিল উপস্থাপন করিবার জন্য তলব করা; এবং
(ঘ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা।
(২) কমিশন, তদ্কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি বা 2[তদন্তকারী কর্মকর্তা] কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করিতে পারিবে এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ এইক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করিবে।
(৩) অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছু থাকুক না কেন, কমিশন তাহার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত স্থানের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ বা তাহাদিগকে অবহিত করিবার আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনের পরিদর্শন কাজে সহযোগিতা করিবে।
(৪) কমিশন ইহার কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিংবা তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রমে জনগণ কিংবা যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।
২১। (১) কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হইবেন।
(২) কমিশনের সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদানকালে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি বা বক্তব্যের জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা রুজু করা যাইবে না বা উক্ত বিবৃতি বা বক্তব্য তাহার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি কার্যধারায় ব্যবহার করা যাইবে না, তবে উক্তরূপ বিবৃতি বা বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিথ্যা সাক্ষ্য থাকিলে তজ্জন্য তিনি ফৌজদারি দায় হইতে অব্যাহতি পাইবেন না।
২২। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন প্রত্যেক সমন চেয়ারপার্সন বা কমিশনার বা কমিশন কর্তৃক তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে জারি করা হইবে।
(২) প্রত্যেক সমন উহাতে উল্লিখিত ব্যক্তির নিকট এবং যেইক্ষেত্রে তাহা সম্ভব না হয় সেইক্ষেত্রে জানামতে তাহার সর্বশেষ বাসস্থানের ঠিকানায় সরবরাহ করিয়া বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া জারি করা হইবে এবং ইহা ছাড়াও উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির যেকোনো মাধ্যমে প্রেরণ করা হইবে।
(৩) যে ব্যক্তির নিকট সমন জারি করা হয় তিনি উহাতে উল্লিখিত সময় ও স্থানে কমিশনের সম্মুখে উপস্থিত থাকিবেন এবং কমিশন কর্তৃক তাহাকে জিজ্ঞাসিত সকল প্রশ্নের জবাব দিবেন এবং তাহার নিকট হইতে যাচিত এবং তাহার দখলে আছে এইরূপ সকল দলিল সমনের মর্মার্থ অনুসারে উপস্থাপন করিবেন।
২৩। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার অর্থ দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান বা ভবিষ্যৎ সম্পত্তি হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার অনাদায়ী অর্থ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টর এর মাধ্যমে আদায় করা যাইবে এবং অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য কমিশন এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, কালেক্টর এর নিকট অনুরোধপত্র প্রেরণ করিলে উহার ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ ও ৩৮৭ এর প্রক্রিয়া অনুসারে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া আরম্ভ হইবে 3[;] প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধিতে জরিমানা আদায়ের জন্য বর্ণিত পদ্ধতিতে পরোয়ানা জারি করিতে পারিবেন এবং জারির পর অনাদায়ী সম্পূর্ণ অর্থ বা উহার কোনো অংশের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অনধিক ৩ (তিন) মাস অথবা পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে ঘটে, কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
২৪। (১) প্রতি বৎসরের ৩১ মার্চ এর মধ্যে কমিশন উহার পূর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির নিকট পেশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদনের সহিত একটি স্মারকলিপি থাকিবে, যাহাতে, অন্যান্যের মধ্যে, কমিশনের সুপারিশ অনুসারে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে সেইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিবার কারণ কমিশন, যতদূর অবগত ততদূর, লিপিবদ্ধ থাকিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন দাখিল করার ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন তাহার ওয়েসবাইটে উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং কমিশনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে পরামর্শ গ্রহণের লক্ষ্যে মানবাধিকার রক্ষায় নিয়োজিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সহিত, যথাশীঘ্র সম্ভব, একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করিবে।
২৫। (১) কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার তথ্য প্রমাণ কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রকাশ করিলে তিনি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ৭ নং আইন) এর অধীনে সুরক্ষার অধিকারী হইবেন এবং উক্ত আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) কমিশন নিজ বিবেচনায় বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধির আবেদনের ভিত্তিতে মানবাধিকার লংঘন সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশকারী, ভুক্তভোগী বা কোনো সাক্ষীর গোপনীয়তা রক্ষার্থে কিংবা প্রতিশোধ, ভীতিপ্রদর্শন, হুমকি বা যেকোনো প্রকার বিরূপ কার্য হইতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উপযুক্ত যেকোনো 4[আদেশ প্রদান করিতে পারিবে] এবং উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
২৬। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত আদেশ প্রতিপালন করিতে বাধ্য থাকিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, তাহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা ও অসদাচরণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং যদি উক্ত ব্যক্তি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, তবে উক্ত অদক্ষতা ও অসদাচরণ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাহার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ এবং প্রযোজ্য চাকরি বিধি অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ উপযুক্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে এবং যেইক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত না থাকেন, সেইক্ষেত্রে তাহার বিরুদ্ধে কমিশনের বিবেচনায় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ 5[করা যাইবে এবং কমিশন কোনো আদেশ প্রদান করিলে আদিষ্ট ব্যক্তি কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নপূর্বক দ্রুততম সময়ে তাহা কমিশনকে অবহিত করিবে]।
(৩) কোনো প্রতিষ্ঠান কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে বা গাফিলতি প্রদর্শন করিলে, যেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা শৃঙ্খলা-বাহিনী হয়, সেইক্ষেত্রে উহার সচিব বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং যেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান কোনো কোম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে উহার মালিক, অংশীদার, স্বত্ত্বাধিকারী, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার, ম্যানেজার বা এজেন্ট, কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, উক্ত ব্যর্থতা তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত ব্যর্থতা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
২৭। আদালতে বিচারাধীন বা ন্যায়পাল কর্তৃক বিবেচ্য কোনো বিষয়ে কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত বিষয়ের সহিত যদি মানবাধিকার লংঘনের বিষয় জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে আদালত বা, ক্ষেত্রমত, ন্যায়পালের অনুমোদনক্রমে কমিশন বিষয়টির উপর তদন্ত পরিচালনা করিতে পারিবে এবং তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত বা ন্যায়পালের নিকট দাখিল করিবে।