প্রিন্ট ভিউ
এই অধ্যাদেশটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪৬ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে ।
চতুর্থ অধ্যায়
কমিশনের কর্মকর্তা, তদন্ত দল, তহবিল ইত্যাদি
২৮। (১) কমিশনের একজন সচিব থাকিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন কমিশন উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনের মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হইবে।
(৩) সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন, ভাতা, ছুটি, ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি, পেনশন ও চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা, প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহকারে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাদি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
(৪) সরকার, কমিশনের লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে এবং কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, কমিশনে, প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রেষণে নিযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীদের সংখ্যা কমিশনের মোট জনবলের ৩০ (ত্রিশ) শতাংশের অধিক হইবে না।
২৯। (১) কমিশন, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হইতে আইন বা মানবাধিকারের সহিত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করিবে এবং অর্থ বিভাগ এই খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করিবে।
(২) কমিশন, ইন্টার্নশিপের সংখ্যা ও শর্তাদি নির্ধারণে এতদ্সংক্রান্ত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করিতে পারিবে বা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৩০। (১) কমিশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন এক বা একাধিক তদন্ত দল গঠন করিতে পারিবে।
(২) কমিশনের লিখিত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে সরকার, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারীকে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কমিশনের তদন্ত দলে প্রেষণে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
1[৩০ক। (১) নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ এবং দণ্ডবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল (Optional Protocol to the Convention against Torture and other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ (National Preventive Mechanism Division), অতঃপর উক্ত বিভাগ বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবে, যথা:—
(ক) চেয়ারপার্সন, যিনি উক্ত বিভাগের প্রধানও হইবেন;
(খ) কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন কমিশনার; এবং
(গ) কারাবন্দি বা স্বাধীনতা বঞ্চিতদের অধিকার ও কল্যাণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ একজন মানবাধিকার কর্মী, যিনি কমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন।
(২) উক্ত বিভাগ পেশাগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে আইন, ফরেনসিক মেডিসিন, মনোবিজ্ঞান বা মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গ (gender) বা আটক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে বা পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উক্ত বিভাগের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার থাকিবে, যথা:—
(ক) কারাগার, হাজতখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, থানা, অভিবাসী আটক কেন্দ্র, মানসিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, সামরিক আটক কেন্দ্র, বন্দি বা আটক ব্যক্তিদের পরিবহন যান, সেফ হোম এবং পরিচর্যা কেন্দ্রসহ যে সকল স্থানে স্বাধীনতা হরণ করা হয়, সেই সকল স্থান চিহ্নিত করা এবং উক্ত স্থানসমূহ নিয়মিত এবং পূর্ব ঘোষণা ব্যতিরেকে পরিদর্শন করা;
(খ) স্বাধীনতা বঞ্চিত ব্যক্তিদের সংখ্যা, পরিচয়, অবস্থান, অবস্থা ও তাহাদের প্রতি আচরণ সংক্রান্ত যেকোনো রেজিস্টার, নথি, রেকর্ড, উপাত্ত, পদ্ধতি ও সামগ্রীসহ প্রাসঙ্গিক সকল তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার লাভ করা;
(গ) প্রয়োজনবোধে স্বাধীনতা বঞ্চিত ব্যক্তিগণ, তাহাদের স্বজন, আটক কেন্দ্রের কর্মীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির একান্ত ও গোপন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা; এবং
(ঘ) স্বাধীনতা বঞ্চিত ব্যক্তিদের সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কমিশনের নিকট সুপারিশ প্রদান করা এবং সুপারিশসমূহের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত কার্যকর যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখা।
(৪) এই ধারার অধীন দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে, উক্ত বিভাগ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটি (Subcommittee on Prevention of Torture), বিভিন্ন দেশের জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বজায় রাখিবে।
(৫) উক্ত বিভাগ পরিদর্শন ও তদন্ত সম্পর্কিত বিষয়ে ধারা ২০ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) উক্ত বিভাগের সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই অধ্যাদেশের অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৭) উক্ত বিভাগ তথ্যের গোপনীয়তা ও তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে ধারা ২৫ এ উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৮) উক্ত বিভাগের কার্যাবলি কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার পর্যাপ্ত জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অর্থ প্রদান করিবে; এবং উক্ত বিভাগের জন্য কমিশনের অধীন একটি পৃথক ও সুরক্ষিত বাজেট বরাদ্দ থাকিবে, যাহা উক্ত বিভাগের কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করিবার জন্য পর্যাপ্ত হইবে।
(৯) উক্ত বিভাগ উহার কার্যক্রম সম্পর্কিত একটি পৃথক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং ধারা ২৪ এর অধীন নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা দাখিল ও প্রকাশ করিবে; একইসঙ্গে উক্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক উপকমিটিতে (Subcommittee on Prevention of Torture) প্রেরণ করা হইবে।]
৩১। (১) আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশনের একটি পৃথক শাখা থাকিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘনের কোনো অভিযোগ বা ঘটনা প্রচলিত আইন বা ব্যবস্থায় কোনো আদালত, মীমাংসা প্রতিষ্ঠান বা অনুরূপ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কার্যকর সুরাহা করা সম্ভব মর্মে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে কমিশন, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শাখার মাধ্যমে, অভিযোগকারীর পক্ষে উপযুক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে মামলা বা অন্যান্য আইনগত কার্যধারা দায়ের ও পরিচালনা, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীর আইনগত সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) কমিশন, মামলা বা আইনি কার্যধারা পরিচালনার জন্য, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীগণের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করিবে এবং প্রবিধান দ্বারা তাহাদের নিয়োগের শর্ত বা সম্মানীর পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
৩২। (১) কমিশন, এই অধ্যাদেশের অধীন অর্পিত কার্যাবলি সম্পাদন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নকল্পে গবেষণা, পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু, প্রবীণ, শ্রমিক, প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, পরিবেশগত অধিকারসহ অন্যান্য বিষয়ে কমিশনের বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কমিটি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং কমিশন কর্তৃক মনোনীত একজন কমিশনার উক্ত কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) উক্ত কমিটি, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, ইহার কার্যপদ্ধতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৪) উক্ত কমিটি, কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে, ধারা 2[২০] এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে এবং কমিটির সুপারিশ কমিশন কর্তৃক অনুমোদন হইলে কমিশন উহা বাস্তবায়নের জন্য এই 3[অধ্যাদেশের] অধীন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
৩৩। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানবাধিকার কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে।
(২) মানবাধিকার কমিশন তহবিল, অতঃপর এই ধারায় তহবিল বলিয়া উল্লিখিত, এর পরিচালনা ও প্রশাসন, কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(৩) তহবিল হইতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তা প্রদানের ব্যয়সহ অনুরূপ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
(৪) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-
(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ;
(খ) প্রচলিত বিধি-বিধান মোতাবেক কোনো বিদেশি সরকার বা সংস্থা বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(গ) কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(ঘ) কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান; এবং
(ঙ) অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ:
তবে শর্ত থাকে যে, স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হইতে পারে কিংবা এই অধ্যাদেশের সহিত অসংগতির কারণ হইতে পারে, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হইতে অনুদান গ্রহণ করা যাইবে না।
(৫) কমিশন 4[প্রবিধান] দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালনা করিবে এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করিবে।
৩৪। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণকে প্রদেয় পারিশ্রমিক ও ভাতাদি সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় হইবে।
5[৩৫। (১) সরকার প্রতি অর্থ বৎসরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যয়ের জন্য, কমিশন হইতে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে, উহার অনুকূলে বাজেটে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে; এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করিবার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত ব্যয় বন্ধ সম্পর্কিত বিধি-বিধান এইক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করা যাইবে না।]
৩৬। (১) কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।
(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তদ্কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের কোনো কমিশনার বা যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সহিত উক্ত বিষয়ে আলোচনা করিতে পারিবেন।
৩৭। কমিশন উহার যেকোনো ক্ষমতা, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারপার্সন, কমিশনার, সচিব বা যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্পণ করিতে পারিবে।
৩৮। (১) কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, ইহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কার্য সম্পাদনে বাধা তৈরি করা হইলে কিংবা আইনগত কর্তৃত্ব অবমাননা সম্পর্কিত দণ্ডবিধির CHAPTER X ও section 228 এ উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(২) কমিশন, ফৌজদারি কার্যবিধির CHAPTER XXXV এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং ইহার কার্যধারা দণ্ডবিধির section 193 ও section 228 এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিচারিক কার্যধারা (Judicial Proceeding) হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) চেয়ারপার্সন, কমিশনার, সচিব, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এই অধ্যাদেশের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দণ্ডবিধির section 21 এর public servant অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant বলিয়া গণ্য হইবেন।
৩৯। যেইক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে বিবেচনাধীন কোনো বিষয়ে কোনো কমিশনারের স্বার্থ জড়িত থাকে, সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনার, যথাশীঘ্র সম্ভব, বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবেন।
৪০। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত, কমিশন লিখিত আদেশ দ্বারা যে পদ্ধতি নির্ধারণ করিবে, কমিশন উহার কার্য নির্বাহের ক্ষেত্রে উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে।
৪১। (১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) এই অধ্যাদেশ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাইবে।
৪২। (১) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-
(ক) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) কমিশনের সচিবসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসাবে গণ্য হইবেন, এবং তাহারা যে শর্তে কমিশনে নিয়োগকৃত বা কর্মরত ছিলেন সেই একই শর্তে কমিশনে নিয়োগকৃত বা কর্মরত রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন;
(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এইরূপভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উহা এই অধ্যাদেশের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে।