প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫

( ২০২৫ সনের ৬২ নং অধ্যাদেশ )

তৃতীয় অধ্যায়

অভিযোগ, ভদন্ত ও প্রতিকার

অভিযোগ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও নিষ্পত্তি

১৬। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে কমিশন নিম্নবর্ণিত উপায়ে অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও নিষ্পত্তি করিবে, যথা:-

(ক) মানবাধিকার লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের প্ররোচনা সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কমিশনের নিকট অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবেন এবং অভিযোগ দাখিলের জন্য কোনো প্রকার ফি প্রদেয় হইবে না;

(খ) লিখিত, মৌখিক অথবা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা যাইবে এবং অভিযোগ দাখিল হইলে কমিশন অভিযোগকারীকে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করিবে;

(গ) কোনো অভিযোগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তারিখ হইতে সাধারণভাবে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে কমিশনে দাখিল করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, ভুক্তভোগীর অসামর্থ্য, ভয়ভীতি, বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থের কারণে কমিশন যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাইয়া আবেদন দাখিলে বিলম্ব মওকুফ করিতে পারিবে;

(ঘ) দফা (ক) এর অধীন কোনো অভিযোগ প্রাপ্ত হইলে অথবা গণমাধ্যমসহ অন্য যেকোনো মাধ্যম হইতে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে এবং কমিশনের যেকোনো কমিশনার, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তদন্ত দলের সদস্যের মাধ্যমে উক্ত অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালিত হইবে;

(ঙ) অভিযোগ বা তথ্যের প্রাথমিক সত্যতা নিরূপণে কমিশন অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়া গেলে কমিশন অভিযোগটি নথিজাত করিবে এবং যেইক্ষেত্রে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে কমিশন সন্তুষ্ট হইবে, সেইক্ষেত্রে 1[***] তদন্তকারী নিযুক্ত করিয়া তদন্তের আদেশ প্রদান করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে কমিশন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট, সেইক্ষেত্রে কারণ উল্লেখপূর্বক অনুসন্ধান ব্যতিরেকে সরাসরি তদন্তের আদেশ দিতে পারিবে;

(চ) তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণের তারিখ হইতে অনধিক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নপূর্বক প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করিতে হইবে, তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে তদন্তকারীর আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবে;

(ছ) অনুসন্ধান বা, ক্ষেত্রমত, তদন্ত প্রতিবেদনের ১ (এক) টি কপি কমিশন অভিযোগকারী বরাবর প্রেরণ করিবে;

(জ) দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করিয়া, প্রয়োজনে, কমিশন অন্য কোনো তদন্তকারী নিযুক্ত করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে;

(ঝ) তদন্ত প্রতিবেদন বা, ক্ষেত্রমত, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতীয়মান না হইলে কমিশন অভিযোগটি নথিজাত করিবে এবং মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতীয়মান হইলে কমিশন উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করিবে;

(ঞ) শুনানিতে উপস্থিত পক্ষ বা পক্ষদের শুনানি শেষে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হইলে এবং বিষয়টি একটি আপসঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে প্রতীয়মান হইলে কিংবা প্রচলিত আইন বা ব্যবস্থায় কোনো আদালত বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কমিশনের চাইতে বিষয়টির কার্যকর সুরাহা করা সম্ভব প্রতীয়মান হইলে কমিশন উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে এবং অভিযোগকারীকে উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে শরণাপন্ন হইবার পরামর্শ প্রদান করিবে বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত আদালত বা প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;

(ট) শুনানি শেষে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হইলে এবং বিষয়টি দফা (ঞ) এর আওতাবহির্ভূত হইলে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি বরাবর উপযুক্ত যেকোনো পরিমাণের ক্ষতিপূরণ বা, ক্ষেত্রমত, জরিমানা পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারিবে;

(ঠ) দফা (ট) এর অধীন ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করিবার পাশাপাশি কিংবা উক্তরূপ ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান না করিয়াও, কমিশন উপযুক্ত ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য যেকোনো বিভাগীয়, শৃঙ্খলামূলক বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করিতে পারিবে এবং কমিশনের সুপারিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহা বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কমিশনের আদেশ বাস্তবায়নে বিশেষ কোনো অসুবিধা তৈরি হয়, সেইক্ষেত্রে সুপারিশ প্রাপ্তির ২ (দুই) মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনকে অবহিত করিবে এবং কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করিয়া যে সুপারিশ প্রেরণ করিবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত সুপারিশ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করিয়া কমিশনকে অবহিত করিবে;

(ড) অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্পর্কিত যাবতীয় সিদ্ধান্ত কমিশন তাহার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিচারিক কার্যধারা আরম্ভ করিবার নিমিত্ত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কমিশন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ কমিশন কর্তৃক বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিম্নবর্ণিত প্রক্রিয়ায় তদন্তযোগ্য হইবে, যথা:-

(ক) উক্তরূপ অপরাধের তদন্তের নিমিত্ত কমিশন পৃথক তদন্ত দল গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত তদন্ত দলের গঠন ও আনুষঙ্গিক বিষয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে;

(খ) উক্তরূপ অপরাধ তদন্তের জন্য কমিশন, লিখিত আদেশ দ্বারা, কমিশনের কোনো সদস্যকে বা দফা (ক)-এ বর্ণিত তদন্ত দলের কোনো কর্মকর্তাকে বা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোনো কর্মকর্তাকে কিংবা কমিশনের বিবেচনায় উপযুক্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর কোনো সদস্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হইলে উক্ত কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য যে প্রতিষ্ঠানে বা বাহিনীতে কর্মরত, সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর কোনো ব্যক্তি দ্বারা উক্ত অভিযোগ তদন্ত করা যাইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা যে প্রতিষ্ঠানেরই হউক না কেন, কমিশন ব্যতিরেকে অন্য কেহ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার নির্দেশনা প্রদানের এখতিয়ার রাখিবে না এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে নহে, বরং সরাসরি কমিশন বরাবর তাহার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন, প্রয়োজনে, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ আদেশ প্রদান করা হইলে ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টার মধ্যে উক্ত মামলার কেস ডকেট কমিশনের নির্দেশ অনুসারে হস্তান্তর করিতে হইবে;

(গ) দফা (খ) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, সরকার বা সরকারের অধীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলবসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন থানায় দায়েরকৃত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরূপ যাবতীয় ক্ষমতা থাকিবে এবং যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা-বাহিনীর সদস্য হইলে তাহাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হইবে না।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs