প্রিন্ট ভিউ
তৃতীয় অধ্যায়
আমানত সুরক্ষা তহবিলের উৎস, ব্যবহার, ইত্যাদি
১০। (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীগণের সুরক্ষা প্রদানের জন্য নিম্নরূপ ২ (দুই)টি পৃথক তহবিল গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক কোম্পানি); এবং
(খ) আমানত সুরক্ষা তহবিল (ফাইন্যান্স কোম্পানি)।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিলসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিলসমূহ পরস্পরের মধ্যে বিনিময়যোগ্য হইবে না অথবা এক তহবিল হইতে অন্য তহবিলে কোনোরূপ ঋণ প্রদান বা গ্রহণ করা যাইবে না।
(৪) তহবিল ২ (দুই)টি বাংলাদেশ ব্যাংকে দুইটি পৃথক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হইবে, যাহা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য তহবিল হইতে স্বতন্ত্র ও পৃথক হইবে এবং তহবিলের দায়-সম্পদ বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়-সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(৫) তহবিল বা উহার কোনো অংশ ধারা ১৯ এর উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো বিশেষ ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে ব্যবহৃত হইবে না।
১১। নিম্নলিখিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ আমানত সুরক্ষা তহবিলের উৎস হিসাবে বিবেচিত হইবে, যথা:-
(ক) সদস্য প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম, নিয়মিত প্রিমিয়াম এবং বিশেষ প্রিমিয়াম;
(খ) সদস্য প্রতিষ্ঠান হইতে এই অধ্যাদেশের অধীন আরোপিত ও সংগৃহীত জরিমানা;
(গ) আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক কোম্পানি) এর ক্ষেত্রে ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিলের জমাকৃত সমুদয় অর্থ;
(ঘ) আমানত সুরক্ষা তহবিল (ফাইন্যান্স কোম্পানি) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার, বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত প্রাথমিক তহবিল (seed funding);
(ঙ) বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত মুনাফা;
(চ) অবসায়িত সদস্য প্রতিষ্ঠানের পরিসম্পদ এবং হস্তান্তরগ্রহীতা হইতে সমন্বয়কৃত অর্থ; এবং
(ছ) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অন্যান্য উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।
১২। (১) ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ এর অধীন বীমাকৃত ব্যাংক কোম্পানি এবং এই অধ্যাদেশ জারির পর বাংলাদেশে নূতন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ব্যাংক কোম্পানি এই অধ্যাদেশের অধীন সদস্য প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) বাংলাদেশে কার্যরত প্রতিটি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং এই অধ্যাদেশ জারির পর বাংলাদেশে নূতন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ফাইন্যান্স কোম্পানি ১ জুলাই, ২০২৮ তারিখ হইতে এই অধ্যাদেশের অধীন সদস্য প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে।
১৩। (১) কোনো নূতন সদস্য প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম হিসাবে উহার পরিশোধিত মূলধনের অন্যূন ০.৫০ (শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য) শতাংশ হারে অথবা ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে বা পরিমাণে এককালীন অর্থ জমা প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অর্থের পরিমাণ কোনোক্রমেই পরিশোধিত মূলধনের ০.৫০ (শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য) শতাংশের কম হইবে না।
(২) ধারা ১২ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ এর অধীন বীমাকৃত ব্যাংক কোম্পানির জন্য কোনো প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম প্রযোজ্য হইবে না।
(৩) ধারা ১২ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সকল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে ৩১ জুলাই, ২০২৮ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা প্রদান করিতে হইবে।
১৪। (১) প্রত্যেক সদস্য প্রতিষ্ঠান আমানত সুরক্ষা প্রাপ্তির জন্য ধার্যকৃত নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর প্রদান করিবে।
(২) প্রত্যেক অর্থ বৎসরে প্রদেয় প্রিমিয়ামের হার, পূর্ববর্তী অর্থ বৎসরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(৩) সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির মাত্রা এবং তহবিলের নির্ধারিত আকারের পরিমাণ বিবেচনা করিয়া, ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক, ঝুঁকিভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসকৃত প্রতিটি ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী প্রিমিয়াম হার নির্ধারিত হইবে।
(৪) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে, প্রতি ৩ (তিন) মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট সদস্য প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী ৩ (তিন) মাসের গড় আমানতের ভিত্তিতে নিয়মিত প্রিমিয়াম হিসাবায়ন ও সংগ্রহ করা হইবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রিমিয়াম সংগ্রহ আরম্ভ করিবার পূর্ব পর্যন্ত পূর্বের বলবৎ নিয়মে প্রিমিয়াম হিসাবায়ন (Calculation) ও সংগ্রহ করা হইবে।
(৬) সকল সদস্য প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ামের অর্থ স্ব স্ব আমানত সুরক্ষা তহবিলের নির্ধারিত হিসাবে পরবর্তী মাসের ১৫ (পনেরো) তারিখের মধ্যে জমা প্রদান করিবে।
(৭) সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত প্রিমিয়াম স্বীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৮) প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে অন্তর্ভুক্তির পর হইতে নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান করিবে।
১৫। (১) ধারা ১৬ তে বর্ণিত পরিশোধিতব্য সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ অথবা ব্যাংক রেজল্যুশনে প্রদেয় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ, তহবিলের মোট পরিমাণের অধিক হইলে ট্রাস্টি বোর্ড ঘাটতি অর্থ সংগ্রহে বিশেষ প্রিমিয়াম ধার্য করিতে পারিবে।
(২) বিশেষ প্রিমিয়াম বৎসরে একবারের অধিক ধার্য করা যাইবে না এবং উহা নিয়মিত প্রিমিয়াম হারের অধিক হইবে না।
১৬। (১) কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের ক্ষেত্রে আমানতকারীকে প্রদেয় সুরক্ষিত আমানত পরিশোধ করিবার নিমিত্ত আমানত সুরক্ষা তহবিল প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করা হইবে।
(২) রেজল্যুশনের অধীন তফসিলি ব্যাংকের আমানতকারীগণ যদি কোনো হস্তান্তর-গ্রহীতার মাধ্যমে তাহাদের সুরক্ষিত আমানত ব্যবহারের সুযোগ প্রাপ্ত হন, তাহা হইলে উক্ত ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৩৮ এর বিধান অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোম্পানির রেজল্যুশনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে তহবিল ব্যবহার করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদেয় আর্থিক সহায়তা নিম্নবর্ণিত শর্তাবলির অধীন প্রদান করা যাইবে, যথা:-
(ক) সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোম্পানি অবসায়নের ক্ষেত্রে প্রদেয় সুরক্ষিত আমানতের মোট পরিমাণের তুলনায় রেজল্যুশনে প্রদেয় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অধিক হইবে না;
(খ) রেজল্যুশনের অধীন উক্ত তফসিলি ব্যাংকের লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাহার করা হইয়াছে, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক বা রেজল্যুশনের কর্তৃত্ব নির্দিষ্ট তারিখে উহা প্রত্যাহার করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে;
(গ) রেজল্যুশনের অধীন উক্ত তফসিলি ব্যাংকের সকল সম্পদ ও দায় রেজল্যুশন কর্তৃত্ব কর্তৃক এক বা একাধিক হস্তান্তর গ্রহীতার নিকট স্থানান্তর বা বিক্রয় করা হইয়াছে, এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৩৩ এর বিধান প্রয়োগ করা হইয়াছে; বা
(ঘ) রেজল্যুশনের অধীন উক্ত তফসিলি ব্যাংকের আংশিক সম্পদ ও দায় রেজল্যুশনের কর্তৃত্ব কর্তৃক এক বা একাধিক হস্তান্তর গ্রহীতার নিকট স্থানান্তর বা বিক্রয় করা হইয়াছে, এবং অবশিষ্ট অংশ আবশ্যিকভাবে অবসায়িত বা সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিতে স্থানান্তরিত হইয়াছে।
(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন তহবিল হইতে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে, রেজল্যুশন কর্তৃত্ব, সংশ্লিষ্ট আর্থিক সহায়তা এবং সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করিয়া ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ও নির্দেশিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরণ করিবে।
(৫) আর্থিক সহায়তা নগদ বা নগদ সমতুল্য (এবং/অথবা সরকারি সিকিউরিটিজ) আকারে সংশ্লিষ্ট হস্তান্তর গ্রহীতাকে প্রদান করা যাইবে।
(৬) রেজল্যুশনের অধীন কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক বা রেজল্যুশনের কর্তৃত্ব, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৯৫ এর অধীন নির্ধারিত শর্ত বিবেচনায়, ফাইন্যান্স কোম্পানির রেজল্যুশনের জন্য, উপ-ধারা (৩) এর অনুরূপ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে, উক্ত তহবিল হইতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) তহবিলের আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত অনুমোদিত বার্ষিক বাজেট অনুযায়ী ব্যয়ের জন্য তহবিলের অর্থ ব্যবহৃত হইবে।
(৮) এই অধ্যাদেশের ধারা ১৯ এর অধীন গৃহীত ঋণ তহবিল হইতে পরিশোধ করা যাইবে।
(৯) তহবিল হইতে সুরক্ষিত আমানত পরিশোধ এবং রেজল্যুশনে আর্থিক সহায়তা প্রদানে ব্যয়িত অর্থ, অবসায়িত সদস্য প্রতিষ্ঠানের পরিসম্পদ এবং হস্তান্তর গ্রহীতা হইতে সমন্বয়ের জন্য, সরকারের অনুমোদনক্রমে, ট্রাস্টি বোর্ড প্রবিধানমালা প্রণয়ন করিবে।
১৭। (১) ট্রাস্টি বোর্ড প্রতি ৫ (পাঁচ) বৎসরে অন্যূন একবার তহবিলের কাঙ্খিত পরিমাণ নির্ধারণ করিবে, যাহা সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মোট সুরক্ষিত আমানতের আনুপাতিক হারে নির্ধারিত হইবে।
(২) ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য তহবিলের পরিমাণ পৃথকভাবে নির্ধারিত হইবে।
(৩) তহবিলের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ট্রাস্টি বোর্ড নিয়মিত প্রিমিয়ামের হার সমন্বয় করিতে পারিবে।
১৮। (১) তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক মুনাফা অর্জন অপেক্ষা নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র, বৈচিত্র্য ও তহবিলের তারল্য সংরক্ষণকে প্রাধান্য প্রদান করিতে হইবে।
(২) বিনিয়োগ কার্যক্রমের যথাযথ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে, প্রয়োজনে, কোনো পেশাগত সম্পদ ব্যবস্থাপক নিয়োগ প্রদান করা যাইবে।
(৩) তহবিলের অর্থ, স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ খাত তথা সার্বভৌম বন্ড এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) দেশসমূহের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রেটিং এজেন্সি কর্তৃক সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত অন্যান্য সিকিউরিটিজসমূহে বিনিয়োগ করা যাইবে।
১৯। (১) ধারা ১৬ এর উপ-ধারা (১), (২) ও (৬) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তহবিল অপ্রতুল হইলে, ঘাটতি অর্থ নিম্নবর্ণিত উপায়ে সংস্থান করা হইবে, যথা:-
(ক) সদস্য প্রতিষ্ঠান হইতে বিশেষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ; এবং
(খ) সরকার অথবা অন্য কোনো উৎস হইতে অনুদান বা ঋণ গ্রহণ।
(২) ঘাটতি অর্থায়ন মোকাবিলায়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এই অধ্যাদেশ জারির পর অনতিবিলম্বে সরকারের সহিত সমঝোতা স্মারক অথবা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষর করিবে।
(৩) ধারা ১৬ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তহবিলের আওতাধীন সরকারি সিকিউরিটিজ অথবা অন্য কোনো সম্পদ জামানত রাখিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ আকারে জরুরি অর্থ সহায়তা প্রদান করিতে পারিবে।
২০। (১) তহবিলের আয় বা মুনাফা বা প্রাপ্তি প্রত্যক্ষ করমুক্ত থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর আইন, ২০২৩ এ প্রয়োজনীয় বিধান সংযোজন করিতে পারিবে।