প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
৪। উক্ত আইনের ধারা ২ এর-
(ক) দফা (৮ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৮ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৮ক) “কৃষি শ্রমিক” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক অথবা বাৎসরিক ভিত্তিতে অথবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনে মজুরির বিনিময়ে কৃষিকর্মে অথবা কৃষিখামারে নিযুক্ত থাকেন;”;
(খ) দফা (৮ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৮খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৮খ) “কৃষি খামার” অর্থ ফসল, ফল, ফুল উৎপাদন, মৎস্য চাষ এবং পোল্ট্রি, পশু ও প্রাণী পালন হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে নিয়োজিত থাকে;”;
(গ) দফা (৯ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৯খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৯খ) “গৃহ পরিচারক (Domestic Worker)” অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খন্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন, এইক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও ‘গৃহ’ হিসাবে বিবেচিত হইবে;”;
(ঘ) দফা (১২) এর পর নিম্নরূপ দফা (১২ক) ও (১২খ) সংযোজিত হইবে, যথা:-
“(১২ক) “জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম” অর্থ এমন কোনো কাজ বা পরিষেবা, যাহা কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া এবং শাস্তির হুমকি দিয়া বা শোষণমূলক পদ্ধতিতে আদায় করা হয়, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম হিসাবে গণ্য হইবে না, যথা:-
(ক) জাতীয় আপৎকালীন বা দুযোর্গকালীন সামরিক বাহিনীর আইনের অধীন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশগ্রহণ;
(খ) নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক সেবামূলক কাজ;
(গ) আদালতের আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির কাজ, তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কাজ বা পরিষেবা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হইতে হইবে এবং উক্ত ব্যক্তিকে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি, কোম্পানি বা সমিতির তত্ত্বাবধানে ভাড়ায় নিয়োগ বা নিয়োজিত করা যাইবে না;
(ঘ) জরুরি পরিস্থিতিতে আদায়কৃত যেকোনো কাজ বা পরিষেবা, যেমন- যুদ্ধ, আগুন, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, মহামারি, পশু বা পোকামাকড়ের উপদ্রব অথবা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো দুর্যোগ;
(ঙ) সমাজের কল্যাণে কৃত গৌণ সেবামূলক কাজ, যাহা উক্ত সমাজের সদস্যগণ বা তাহাদের প্রতিনিধিদের সহিত প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পরামর্শক্রমে করা হইবে;
(১২খ) “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে এমন সহিংসতা ও হয়রানি যাহা জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি, অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া ঘটে, অথবা যাহা একটি নির্দিষ্ট জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয় বা জেন্ডার অভিব্যক্তির ব্যক্তিদের উপর ক্ষতিকর বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, ইহার মধ্যে যৌন হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;
(ঙ) দফা (১৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (১৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(১৫) “ট্রেড ইউনিয়ন” অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকগণের বা কর্মকর্তাগণের বা মালিকগণের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি এবং কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও কনফেডারেশনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;
(চ) দফা (১৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (১৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(১৯ক) “দুর্ঘটনা” অর্থ কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রের বাহিরে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বা মালিকের এখতিয়ারাধীন অবস্থায় আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো ঘটনা যাহার কারণে শারীরিক জখম বা মানসিক আঘাত বা প্রাণহানি ঘটে;”;
(ছ) দফা (২৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (২৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(২৩) “নাবিক (Seafarers)” অর্থ মাস্টার এবং শিক্ষানবিশসহ জাহাজের কার্যে জাহাজের যে-কোনো পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;”;
(জ) দফা (৩০) এর উপ-দফা (ক) এবং (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-দফা (ক) এবং (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(ক) মৃতের স্ত্রী বা স্বামী, নাবালক সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা মাতা, এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মৃত্যুর সময় তাহার আয়ের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল হইবার ক্ষেত্রে- মাতা, পিতা, বিধবা কন্যা, নাবালক ভ্রাতা, অবিবাহিত বা বিধবা ভগ্নি, বিধবা পুত্রবধূ, মৃত পুত্রের নাবালক সন্তান, মৃত মেয়ের নাবালক সন্তান যদি তাহার পিতা জীবিত না থাকেন, অথবা মৃত শ্রমিকের পিতা জীবিত না থাকিলে তাহার দাদা ও দাদী;”;
(ঝ) দফা (৩৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৩৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৩৪) “প্রসূতি কল্যাণ” অর্থ চতুর্থ অধ্যায়ের অধীন কোনো নারী শ্রমিককে তাহার প্রসূতি হইবার কারণে প্রদেয় মজুরিসহ ছুটি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধা;”;
(ঞ) দফা (৩৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৩৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:
“(৩৯ক) “বন্দর কর্তৃপক্ষ” অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, ঘোষিত অন্য কোনো বন্দর কর্তৃপক্ষ;”;
(ট) দফা (৪০) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৪০) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:
“(৪০) “বাগান” অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাবার, কফি, চা ইত্যাদি উৎপাদন অথবা সংরক্ষণ করা হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে;”;
(ঠ) দফা (৪১) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৪১ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৪১ক) “বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ অর্থ ধারা ৩৪৮গ-এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষ;”
(ড) দফা (৪৯) এর উপ-দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনামূলক বা প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনিক বা তদারকির জন্য লিখিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি;”;
(ঢ) দফা (৪৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৪৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৪৯ক) “মাস” অর্থ খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জির মাস;”;
(ণ) দফা (৫২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৫২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-
“(৫২) ‘‘যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি (CBA)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের এমন কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন যাহা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত প্রতিষ্ঠানে, প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে, বা খাতভিত্তিক, জাতীয় বা অন্যান্য স্তরে যৌথ দর-কষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি;”;
(ত) দফা (৫২) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৫২ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-
“(৫২ক) “যৌন হয়রানি” অর্থ-
(ক) নিম্নলিখিত কোনো আচরণ; যথা:-
(১) অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ (সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতে) যেমন: শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের প্রচেষ্টা;
(২) প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া কাহারো সহিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা;
(৩) যৌন-নিপীড়নমূলক উক্তি;
(৪) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন;
(৫) পর্ণোগ্রাফি দেখানো;
(৬) যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা ভঙ্গি;
(৭) অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোনো ব্যক্তির অলক্ষ্যে তাহার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করিয়া ঠাট্টা বা উপহাস করা;
(৮) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ছবি, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, ফ্যাক্টরির দেওয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কোনো কিছু লেখা বা আঁকা;
(৯) ব্লাকমেইল অথবা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ করা;
(১০) যৌন ইঙ্গিত বা হয়রানি প্রত্যাখ্যানের কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ হইতে জোরপূর্বক বিরত রাখা;
(১১) প্রেম নিবেদন করিয়া প্রত্যাখাত হইয়া হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা;
(১২) ভয় দেখাইয়া বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনে চেষ্টা করা;
(১৩) ‘কুইড প্রো কো হয়রানি’, অর্থাৎ যৌন প্রকৃতির যেকোনো শারীরিক, মৌখিক বা অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক অন্যান্য আচরণ যাহা নারী ও পুরুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং যাহা গ্রহণকারীর কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, অযৌক্তিক ও আপত্তিকর, এবং এই ধরনের আচরণ প্রত্যাখ্যান বা মানিয়া নেওয়াকে কোনো ব্যক্তির চাকুরির সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করিবার ভিত্তি হিসাবে স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা;
(খ) যৌন প্রকৃতির শারীরিক, মৌখিক এবং অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া পরিচালিত আচরণ যাহা নারী ও পুরুষ কর্মীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং একটি ভীতিপ্রদ, প্রতিকূল, অপমানজনক, আপত্তিকর ও অবমাননাকর কাজের পরিবেশ তৈরি করে;”;
(থ) দফা (৬১) এর উপ-দফা (ট) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-দফা (টট) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(টট) জাহাজ ভাঙা (Ship breaking);”;
(দ) দফা (৬৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৬৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :
“(৬৫) “শ্রমিক” অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোনো ব্যক্তি, তাহার চাকুরির শর্তাবলি প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোনো ঠিকাদার, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ইহার মাধ্যমে মজুরি বা অর্থের বিনিময়ে কোনো দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা করণিক কাজে নিযুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তা হিসাবে যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, তবে ২(৪৯)(খ) নিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত সকল ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;
(ধ) দফা (৭৭) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৭৮) ও (৭৯) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-
“(৭৮) “ব্ল্যাক লিস্টিং (Black Listing)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা মালিকদের কোনো সংগঠন কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো কার্যক্রম যাহা ঐ প্রতিষ্ঠানের বা মালিকদের কোনো সংগঠনের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সাময়িক ও বদলি শ্রমিকসহ ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা অন্যকোনো কারণে চাকুরি অবসানের পর নূতন করিয়া কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি লাভের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করিবার উদ্দেশ্যে তালিকা বা ডাটাবেইস তৈরী করা;
(৭৯) “সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে সকল অগ্রহণযোগ্য আচরণ, চর্চা, রীতি, একক বা দলবদ্ধভাবে উৎপীড়নমূলক কার্যকলাপ বা হুমকি অথবা মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতন, যাহা একবার বা একাধিকবার ঘটিতে পারে এবং যার উদ্দেশ্য, ফলাফল বা সম্ভাব্য পরিণাম হলো শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, ইহার মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।’’।