গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন (International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance) কার্যকর করিবার লক্ষ্যে প্রণীত
অধ্যাদেশ
যেহেতু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গৃহীত এবং ২০১০ সালের ২৩ ডিসেম্বর কার্যকর হইয়াছে এবং যেহেতু ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট উক্ত সনদে বাংলাদেশ অংশীদার হইয়াছে; এবং
যেহেতু সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights), নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights), আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংক্রান্ত রোম সংবিধি (Rome Statute of the International Criminal Court) এবং অন্যান্য মানবাধিকারসংক্রান্ত চুক্তিসমূহ অনুসরণ করিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এবং
যেহেতু সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সংরক্ষণ এবং ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ করিয়াছে এবং ৩৩(১) অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তারের কারণ না জানাইয়া আটক রাখা বা আইনজীবীর সহিত পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ করিয়াছে এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে যন্ত্রণা প্রদান কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড প্রদান কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করিয়াছে; এবং
যেহেতু গুম হইতে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার নিমিত্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪(১) মোতাবেক বাংলাদেশ কর্তৃক গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করিয়া বিধান প্রণয়নে বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে;
যেহেতু বাংলাদেশে বহু ব্যক্তি গুমের শিকার হইয়াছেন, যাহা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়সহ বহু দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকৃত ও নথিভুক্ত;
যেহেতু উপরিউক্ত কনভেনশন ও সংবিধানে বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহের কার্যকারিতা প্রদানে বাংলাদেশে আইনি বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং
যেহেতু সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;
সেহেতু সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-
সূচি
ধারাসমূহ
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
৬। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অথবা অন্য ধরনের অজুহাত অগ্রহণযোগ্য
৭। কমিশনের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কার্যাবলি, ইত্যাদি
৮। গুমের অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়া
৯। কতিপয় ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন
১০। গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান প্রক্রিয়া এবং অনুসন্ধানে তল্লাশি পরোয়ানা জারি
১২। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার
১৩৷ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল
১৫। মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
১৭। ক্ষতিপূরণ ও উহা আদায়ের পন্থা
১৮। অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনঅযোগ্যতা ইত্যাদি
১৯৷ ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা
২০। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ, ইত্যাদি
২১। ভুক্তভোগী, তথ্য প্রকাশকারী ও সাক্ষীর গোপনীয়তা ও সুরক্ষা
২৩। স্ত্রী বা সন্তান কর্তৃক গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি
২৪৷ ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল
২৬। ট্রাইব্যুনাল ও কমিশনের আদেশ প্রতিপালনে বাধ্যবাধকতা
২৭। গুমসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার ও বার্ষিক প্রতিবেদন
২৮। হেফাজত ও ক্রান্তিকালীন বিধান
৩০। নির্ভরযোগ্য ইংরেজি পাঠ প্রকাশ
| গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ |