প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫

( ২০২৫ সনের ৭৩ নং অধ্যাদেশ )

গুমের অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়া

৮। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন গুমসংক্রান্ত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে ভুক্তভোগী নিজে অথবা ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী অথবা ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন এমন কোনো ব্যক্তি অভিযোগকারী হিসাবে কমিশনের মনোনীত কর্মকর্তার নিকট সরাসরি, অনলাইনে বা ডাকযোগে অভিযোগ দাখিল করিতে পারিবেন অথবা থানার অফিসার ইনচার্জ বা দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সরাসরি হাজির হইয়া অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে থানার অফিসার ইনচার্জ বা ক্ষেত্রমত দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উক্তরূপ অভিযোগ দাখিল করা হয়, সেইক্ষেত্রে থানার অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটিকে সাধারণ ডায়ারিভুক্ত করিয়া বা, প্রযোজ্যক্ষেত্রে, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি একটি বিবিধ মামলার অধীন রেজিস্ট্রিভুক্ত করিয়া ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে কমিশন বরাবর প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বা অন্য কোনো উপায়ে গুমের অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৬২ নং অধ্যাদেশ) এর প্রযোজ্য বিধান অনুসারে উক্ত অভিযোগের তদন্ত করিবার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করিবে এবং ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করিবে।

(৩) তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক কিংবা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের নিকট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উপস্থাপনপূর্বক এই সংক্রান্ত আবেদন শুনানি করিতে পারিবেন এবং ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী কর্মকর্তার কেস ডায়ারি এবং সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে উক্তরূপ আবেদন নিষ্পত্তি করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকারি ছুটির দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ দায়িত্বরত প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন করা যাইবে।

(৪) তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ কিংবা ফৌজদারি দায় স্বীকার করিলে উক্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে উপস্থাপন করা হইবে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ফৌজদারি কার্যবিধির section 164 অনুসারে রেকর্ড করিতে পারিবেন।

(৫) কোনো অভিযোগের তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তির পর তদন্তকারী কর্মকর্তা ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্নপূর্বক সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণসহ একটি তদন্ত প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দাখিল করিবেন, তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিসংগত কোনো কারণে কমিশন তদন্তের মেয়াদ ৩০ (ত্রিশ) দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে, এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্তকার্য সম্পন্ন না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

(৬) তদন্ত সম্পন্ন হইবার পর যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামতসহ প্রস্তুতকৃত তদন্ত প্রতিবেদন তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক কমিশন বরাবর উপস্থাপিত হইবে এবং প্রাপ্ত প্রতিবেদন এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইপূর্বক কমিশন সন্তুষ্ট হইলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এখতিয়ারসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হইবে এবং উক্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল অপরাধ আমলে গ্রহণপূর্বক বিচারকার্য শুরু করিবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs