প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
১৩৷ (১) এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ ও বিচারের জন্য সরকার প্রত্যেক বিভাগ বা জেলায় ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণপূর্বক এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে; এইরূপ ট্রাইব্যুনাল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হইবে।
(২) ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসাবে গণ্য হইবে এবং কেবল কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করিয়া তাহার বিচার করিতে পারিবে।
(৩) ট্রাইব্যুনাল এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার এবং বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৩৫ নং আইন) মোতাবেক স্থানান্তরিত মামলাসমূহের বিচার করিতে পারিবে।
(৪) একজন বিচারক সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে এবং সরকার বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকগণের মধ্য হইতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযু্ক্ত করিবে।
(৫) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ব্যক্তি পাবলিক প্রসিকিউটর বলিয়া গণ্য হইবেন।
1[(৬) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করিতে পারিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, কমিশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা কমিশন না থাকা অবস্থায়, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করিতে পারিবে বা ট্রাইব্যুনাল যেই জেলায় বা বিভাগে অবস্থিত সেই জেলা বা বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তরের জেলা বা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর বা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।]
(৭) যদি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের সহিত অন্য কোনো অপরাধ এমনভাবে জড়িত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয় অপরাধের বিচার একই সঙ্গে বা একই মামলায় করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত অন্য অপরাধটির বিচার এই আইনের অধীন অপরাধের সহিত এই আইনের বিধান অনুসরণে একই সঙ্গে বা একই ট্রাইব্যুনালে করা যাইবে।
(৮) এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার অভিযোগ গঠনের ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হইলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারককে পরবর্তী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা সুপ্রীম কোর্টের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, যাহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত ব্যাখ্যা বিবেচনা করিয়া কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে বা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
(৯) ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীন অপরাধ আমলে গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণের আবশ্যকতা প্রযোজ্য হইবে না।