প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫

( ২০২৫ সনের ৭৬ নং অধ্যাদেশ )

কমিশনের কার্যাবলি

১৩। কমিশন নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-

(১) পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনয়ন, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান:

(ক) নিয়মিত পরিবীক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(খ) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধ সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে পুলিশি কার্যক্রম পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(গ) সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিতে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় অপরাধ তদন্ত ও প্রসিকিউশন কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উত্তরণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান;

(ঘ) আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত কাজে মানবাধিকার রক্ষায় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে দিকনির্দেশনা প্রদান ও এতদসংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশি কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি ও পরিবীক্ষণ (Oversight and Monitoring) পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরামর্শ প্রদান;

(ঙ) পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধি-বহির্ভূত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার করিলে, তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ প্রদান;

(চ) পুলিশ বাহিনীর দুর্নীতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রদান এবং অবৈধ সম্পত্তির তথ্য উদঘাটিত হইলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রদান;

(ছ) জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির নিমিত্ত গণশুনানি, পরামর্শসভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন; এবং

(জ) কমিশনের কার্যক্রম ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রকাশ।

(২) নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি:

(ক) নাগরিক কর্তৃক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের অনুসন্ধান, দায় নির্ধারণ, নিষ্পত্তি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা;

(খ) অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় শাস্তি প্রদানের যৌক্তিকতা নিরূপণ এবং তাহা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান;

(গ) নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান কার্যক্রম ন্যায়সঙ্গত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগে শাখা বা কার্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা;

(ঘ) অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিতকরণ;

(ঙ) পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান ও এই বিষয়ে প্রতিবেদন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ; এবং

(চ) নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘনে পুলিশকে অপব্যবহারের কোনো ঘটনা বা উদ্যোগ পরিলক্ষিত হইলে তাহা প্রতিরোধ করিবার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।

(৩) পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন:

(ক) পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসনে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ ও সংক্ষোভনিরসনের কার্যক্রম পরিচালনা;

(খ) বিধি-বহির্ভূত প্রভাব, বৈষম্য ও অনিয়ম, অবৈধ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধ্যকরণ, হয়রানি, বঞ্চনা বা অন্যায্য আচরণ ইত্যাদি সংক্রান্ত সংক্ষোভনিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান;

(গ) পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান; এবং

(ঘ) সংক্ষোভ নিরসন সংক্রান্ত বিষয়াবলি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ।

(৪) পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান:

(ক) আধুনিক, দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী পুলিশ গঠনের লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার প্রশিক্ষণ, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, আবাসন, লজিস্টিকস্, পুরস্কার ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান;

(খ) আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধাবী ও দক্ষ প্রশিক্ষক পুল গঠন ইত্যাদি বিষয়ে সুপারিশ প্রদান;

(গ) প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক উপায়ে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা, পুলিশ সদস্যদের নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক আচরণভিত্তিক প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়নে সুপারিশ প্রদান;

(ঘ) পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও মনোবিদ সমন্বয়ে চিকিৎসক পুল গঠন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান; এবং

(ঙ) মানবাধিকার বা সুশাসন বিষয়ক সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, যুবসমাজ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনদের সম্পৃক্ত করিয়া জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সেমিনার, কর্মশালা ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন।

(৫) আইন, বিধি ও নীতি প্রণয়নে এবং গবেষণা পরিচালনায় পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান:

(ক) ফৌজদারি অপরাধ সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ, পুলিশ আইন, পুলিশ রেগুলেশনস্, পুলিশের দায়িত্ব পালনে আইনি সুরক্ষাসহ পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন, বিধি ও প্রবিধান ইত্যাদি প্রণয়ন, সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন দেখা দিলে, তাহা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান; এই-লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে কমিশন গঠনের পর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করিবার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী পুলিশ আইনের খসড়া প্রস্তুতপূর্বক তাহা প্রণয়নের জন্য সরকারের নিকট প্রস্তাব করা;

(খ) পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও পুরস্কার, নৈতিক মূল্যবোধ ও জনসংযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির মানদণ্ড নির্ধারণে সুপারিশ প্রদান;

(গ) জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নে সুপারিশ প্রদান;

(ঘ) জাতীয় নিরাপত্তা নীতির আলোকে জননিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে সরকারকে সুপারিশ ও সহায়তা প্রদান;

(ঙ) আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের সহিত সমন্বয় সাধনপূর্বক আধুনিক পুলিশিং এবং আইন প্রয়োগ বিষয়ক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়; এবং

(চ) পুলিশি কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জরিপ, জনমত, কেস স্টাডি ও গবেষণা পরিচালনা।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs