প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
৯। (১) এই অধ্যাদেশে ভিন্নরূপ কোনো বিশেষ বিধান না থাকিলে, বাণিজ্যিক আদালত, বাণিজ্যিক বিরোধ সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানাবলি অনুসরণ করিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে বাদী সুদ দাবি করেন, সেই ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি-এর Order VII, Rule 1-এ উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সুদ সংক্রান্ত দাবির বিস্তারিত বিবরণ বাদীর আরজিতে উল্লেখ করিতে হইবে।
(৩) মোকদ্দমা দায়েরের পর যে-কোনো সময় বাণিজ্যিক আদালত মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় (maintainable) নয় মর্মে সন্তুষ্ট হইলে আরজি নাকচ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে বাদী বা ক্ষেত্রমতো বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(৪) বিবাদীপক্ষ হইতে জবাব দাখিল করিবার পর প্রথম শুনানির দিন মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা (Suit Management) শুনানি অনুষ্ঠিত হইবে; উক্ত শুনানিতে উভয়পক্ষ স্ব স্ব দাবি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করিবে এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতপূর্বক বাণিজ্যিক আদালত-
(ক) মূল বিচার্য বিষয়সমূহ নির্ধারণ করিবে;
(খ) ঘটনাগত এবং আইনগত বিচার্য বিষয়সমূহ পৃথকভাবে চিহ্নিত করিবে;
(গ) শুধুমাত্র দালিলিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তিযোগ্য কি না তাহা নির্ধারণ করিবে;
(ঘ) কোন কোন বিচার্য বিষয় প্রমাণে মৌখিক সাক্ষ্য প্রয়োজন এবং কোন কোন বিচার্য বিষয় প্রমাণে দালিলিক সাক্ষ্যই যথেষ্ট, তাহা নির্ধারণ করিবে;
(ঙ) কোন পক্ষ কতজন সাক্ষী উপস্থাপন করিবে, তাহার প্রাথমিক সংখ্যা নির্ধারণ করিবে;
এবং
(চ) মোকদ্দমায় কতটি পর্যায় প্রয়োজন হইবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় ব্যয় হইবে তাহা স্থির করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, দেওয়ানি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা শুনানিতে কোনো পক্ষ অনুপস্থিত থাকিলে বাণিজ্যিক আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির Order IX এর বিধান প্রয়োগ করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) এই অধ্যাদেশের অধীন আনীত কোনো মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানির পূর্বে যে-কোনো পক্ষ উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সর্বোচ্চ তিনবার সময় প্রার্থনা করিতে পারিবে এবং বাণিজ্যিক আদালত সন্তুষ্ট হইলে যুক্তিসঙ্গত খরচ নির্ধারণ করিয়া উক্ত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারিবে।
(৬) বাণিজ্যিক আদালত, যেই তারিখে মোকদ্দমাটিকে চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে, কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে, চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো পক্ষের ইচ্ছাকৃত কর্ম, কর্মবিরতি বা গাফিলতির কারণে এই উপ-ধারায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে বাণিজ্যিক আদালত তাহার বিবেচনায় উক্ত পক্ষের উপর উপযুক্ত পরিমাণ খরচ আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত খরচ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সেই পক্ষ মোকদ্দমার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না; পক্ষ কর্তৃক খরচ পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বাণিজ্যিক আদালত মূল ডিক্রির সহিত উক্ত খরচ সংযুক্তপূর্বক উহা আদায়ের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
(৭) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা বাদীর ব্যর্থতায় খারিজ হয় কিংবা বিবাদীর অনুপস্থিতিতে একতরফা ডিক্রি হয়, সেইক্ষেত্রে বিবিধ মামলা দায়েরের প্রয়োজন হইলে নিয়মিত সমন জারি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অপরপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীকে নোটিশ প্রদান করাই যথেষ্ট হইবে, যদি না উক্ত আইনজীবী লিখিতভাবে জানান যে, উক্ত মামলায় তিনি আর নিযুক্ত আইনজীবী নহেন; অনুরূপ বিবিধ মামলা যথাসম্ভব মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতিরেকে কেবল শুনানি ও খরচ প্রদানের মাধ্যমে অথবা ক্ষেত্রমত এফিডেভিটকৃত জবানবন্দি ও দালিলিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হইবে।
(৮) যেক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত মনে করে, উভয়পক্ষের দাখিলি এফিডেভিটকৃত বক্তব্য, দালিলিক প্রমাণ ও শুনানির উপর ভিত্তি করিয়া কোনো মোকদ্দমার রায় প্রদান সম্ভব, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতিরেকেই রায় প্রদান করিতে পারিবে; যেক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা আবশ্যক বলিয়া মনে হয়, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত বিচার্য বিষয় অনুসারে মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্র নির্ধারণপূর্বক সাক্ষীদের এফিডেভিটকৃত মৌখিক সাক্ষ্য ও সংক্ষিপ্ত জেরা গ্রহণ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রের বাহিরে অন্য কোনো বিষয়ে বা মোকদ্দমার ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে না।
(৯) বাণিজ্যিক আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং পক্ষগণকে ক্ষতিগ্রস্ত না করিয়া মোকদ্দমার বিভিন্ন পর্যায় একই ধার্য তারিখে সম্পন্ন করিবার আদেশ দিতে পারিবে।
(১০) কোনো মোকদ্দমায় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো প্রকল্প বা উল্লেখযোগ্য গুরুত্বসম্পন্ন বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকিলে বাণিজ্যিক আদালত উহার বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উক্ত মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় আদেশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১১) পক্ষগণের দ্বারা অন্যভাবে সাব্যস্ত না হইলে-
(ক) রায়ে অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকিলে পরিশোধিতব্য অর্থের সহিত, বিরোধ উদ্ভব হইবার তারিখ হইতে রায় প্রদান করিবার তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার সম্পূর্ণ বা অংশের জন্য চুক্তিতে নির্ধারিত হারে বা, অনুরূপ হার না থাকিলে, বাণিজ্যিক আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হারে সুদ যুক্ত করা যাইবে; এবং
(খ) রায়ে অন্যভাবে আদেশ প্রদত্ত না হইলে, রায় প্রদান করিবার তারিখ হইতে অর্থ পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত সময়কালের জন্য রায় দ্বারা যে অর্থ পরিশোধের জন্য আদেশ প্রদান করা হইবে উক্ত অর্থের সহিত প্রচলিত ব্যাংক হার অপেক্ষা ২% অধিক বাৎসরিক হারে সুদ প্রদেয় হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারার "ব্যাংক হার" অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত সুদের হারকে বুঝাইবে।
(১২) বাণিজ্যিক আদালত উহার রায়ে খরচ প্রদানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হইবে-
(ক) মোকদ্দমায় যে পক্ষ ব্যর্থ হইবে, সাধারণ নিয়মে উক্ত পক্ষ সফল পক্ষকে খরচ পরিশোধ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ব্যর্থ পক্ষ মামলার কোনো অংশে সফল হন, বা ব্যর্থ পক্ষের মোকদ্দমায় কোনোরূপ অসাধু উদ্দেশ্য (mala fide) না থাকে, বা বাণিজ্যিক আদালতের বিবেচনায় ব্যর্থ পক্ষের বিরুদ্ধে খরচ আরোপ করা অন্যায্য প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত খরচ প্রদানের আদেশ প্রদান হইতে বিরত থাকিতে পারিবে বা, ক্ষেত্রমত, হ্রাসকৃত খরচ প্রদান করিতে পারিবে।
(খ) খরচ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক আদালত উভয় পক্ষকে খরচের বিস্তারিত হিসাব দাখিল করিতে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং দাখিলকৃত হিসাব পর্যালোচনা করিয়া উহা যুক্তিসঙ্গত করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় "খরচ" অর্থে মোকদ্দমায় ব্যয়িত কোর্ট-ফি, আইনজীবীর ফি, সাক্ষীদের রাহাখরচসহ মোকদ্দমা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১৩) ডিক্রি জারি করিবার ক্ষেত্রে দায়িকের সম্পত্তি শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক আদালত দায়িককে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত প্রদান করিবার আদেশ দিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।