প্রিন্ট ভিউ
এই অধ্যাদেশ বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৫৬ নং আইন) দ্বারা রহিত করা হইয়াছে।
তৃতীয় অধ্যায়
বনভূমি ব্যবস্থাপনা
৬। (১) বৃক্ষাচ্ছাদন থাকুক বা না-ই থাকুক, গেজেট দ্বারা ঘোষিত বনভূমি বন বিভাগের নামে রেকর্ড নিশ্চিত করিতে হইবে।
(২) রক্ষিত ও অর্জিত বনভূমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত হইবে ও বন বিভাগের ব্যবস্থাপনায় থাকিবে, এবং বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন রক্ষিত, অর্পিত, অর্জিত বনভূমি বন্দোবস্তি প্রদান করা যাইবে না।
(৩) কোনো বনভূমি বিধি মোতাবেক অবমুক্ত হইয়া থাকিলে সেই ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) ও (২) প্রযোজ্য হইবে না।
(৪) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর বন অধিদপ্তর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনভূমির জরিপ ও বনভূমির সীমানা চিহ্নিত করিতে এবং রেকর্ড হালনাগাদ করিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।
(৫) যে সকল দাগে বন বিভাগের আংশিক ভূমি রহিয়াছে, সেই সকল দাগ এবং বনভূমির দাগ সংলগ্ন খাস ভূমি বন্দোবস্তের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করিয়া যৌথ জরিপের মাধ্যমে বনভূমি ও খাস ভূমির সীমানা চিহ্নিত করিতে হইবে।
(৬) বনের অখণ্ডতা রক্ষার্থে সরকার বনের অভ্যন্তরে বিদ্যমান খাস ভূমি বন বিভাগের অনুকূলে হস্তান্তর করিতে পারিবে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি বন বিভাগের অনুকূলে অধিগ্রহণপূর্বক বন ঘোষণা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে ভূমিসহ অন্যান্য ঐতিহ্যগত ও প্রথাগতভাবে ভোগকৃত বন অধিকার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে।
৭। (১) কোনো প্রাকৃতিক বন বনবিরুদ্ধ বা বনবর্হিভূত কাজে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে অন্যান্য বনভূমির ক্ষেত্রে শুধু অপরিহার্য জাতীয় প্রয়োজনে এবং অন্য কোনো বিকল্প না থাকিলে নিরপেক্ষ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি, বিপদাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ঝুঁকি বিবেচনা করিয়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার বনভূমির বনবর্হিভূত ব্যবহার (Non-Forest Use) অনুমোদন করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের ক্ষেত্রে বিকল্প বা পরিপূরক বাস্তুসংস্থানের পরিকল্পনা বন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত হইবে এবং ইহার বাস্তবায়ন বন অধিদপ্তর তদারকি করিবে; এবং একইসঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিপরীতে প্রদেয় অর্থ বন অধিদপ্তর কর্তৃক আদায়যোগ্য হইবে, এবং এতদুদ্দেশ্যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সরকার নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।
(৩) ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের বিপরীতে আদায়যোগ্য অর্থ বন অধিদপ্তর পরিচালিত একটি নির্দিষ্ট তহবিলে জমা হইবে, যাহা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বনায়নের কাজে ব্যবহৃত হইবে, এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্যে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।
৮। (১) কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমির অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নভাবে এক একরের নিম্নে কোনো বনভূমি থাকিলে অপরিহার্যতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই অধ্যাদেশের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে বিনিময়ের অনুমতি প্রদান করা যাইবে ।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উক্ত বনভূমির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন সংলগ্ন বনায়ন উপযোগী দ্বিগুণ নিষ্কণ্টক ভূমি উক্ত সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বন বিভাগকে হস্তান্তর করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হস্তান্তরিত ভূমি সরকার সংরক্ষিত বনভূমি হিসাবে ঘোষণা করিবে।