প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
দ্বিতীয় অধ্যায়
প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্হাপনা
৫। (১) এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা, কল্যাণ, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার প্রাথমিক দায়িত্ব বন অধিদপ্তরের উপর অর্পিত থাকিবে এবং বন অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন ও অন্যান্য ওয়ার্ডেনগণ নিম্নবর্ণিত কার্যাবলি সম্পাদন করিবে, যথা:-
(ক) নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে দেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে এবং অবস্থান অনুযায়ী মহাবিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ও প্রায়-বিপদাপন্ন বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করিবে;
(খ) দফা (ক) এ উল্লিখিত তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রকার বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি হ্রাস, কল্যাণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখিবে, in-situ ও ex-situ সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(গ) তফসিল ৪ এ বর্ণিত রক্ষিত উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্হাপনায় উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;
(ঘ) ধারা ১৬ অনুসারে ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ, স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং কুঞ্জবন সংরক্ষণে দায়িত্ব গ্রহণ করিবে;
(ঙ) বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ে, মানুষ-বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসনে ও সহাবস্থান নিশ্চিত করিতে, বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ রোধে এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(চ) এই অধ্যাদেশের অধীন লাইসেন্স এবং পজেশন সার্টিফিকেট প্রদান ও বাতিল, নিবন্ধন সনদ ইস্যু ও বাতিল, লালন-পালন যোগ্য বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন, বন্যপ্রাণী লালন-পালন ও বন্যপ্রাণীর ক্যাপটিভ ব্রিডিং নিয়ন্ত্রণে নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট প্রাপ্ত বন্যপ্রাণীর অবস্থা পরিবীক্ষণ করিবে;
(ছ) প্রকৃতি হইতে বিলুপ্ত বন্যপ্রাণীর প্রকৃতিতে পুনরায় ফিরাইয়া আনিতে এবং বিপদাপন্ন প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(জ) উদ্ধারকৃত ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে এবং বন্যপ্রাণীর শুশ্রূষা ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে;
(ঝ) বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭ (২০১৭ সনের ২নং আইন)-সহ বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সকল আইন ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করিবে;
(ঞ) CITES সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করিয়া ট্রফিসহ বন্যপ্রাণীর আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করিবে এবং পাচারকৃত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করিবে;
(ট) যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত সাপেক্ষে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে নিজস্ব হেফাজতে ফিরাইয়া আনিতে পারিবে;
(ঠ) সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে ইকোট্যুরিজম নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করিবে, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার স্বার্থে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করিবে, সাফারি পার্ক ও ইকোপার্কসহ বন্যপ্রাণী পরিদর্শনের সুযোগ রহিয়াছে এইরূপ রক্ষিত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে;
(ড) নির্দেশিকা অনুসরণ করিয়া বন্যপ্রাণীর কল্যাণ ও সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তা গ্রহণ, ব্যক্তি অনুদান গ্রহণসহ অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করিবে;
(ঢ) বন্যপ্রাণী ও তাহাদের আবাসস্হল সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্হার সহিত যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করিতে পারিবে;
(ণ) সরকার কর্তৃক অনুসমর্থিত বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের প্রতিপালন করিবে;
(ত) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে এবং উপদেষ্টা বোর্ডের নিকট উপস্থাপন করিবে;
(থ) সরকার কর্তৃক নিয়োজিত অডিটরের মাধ্যমে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে; এবং
(দ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন করিবে।
(২) এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রধান বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ অনুরোধ করা হইলে উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সহায়তা প্রদান করিবে।