প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১

( ২০০১ সনের ১৮ নং আইন )

সপ্তম অধ্যায়

টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ও সেবার মান ইত্যাদি

টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির মান
৫১৷ (১) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, কমিশন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতির কারিগরী দিক সম্পর্কে জাতীয় মান (Standards) ও মানদণ্ড (Criteria) নির্ধারণ করিয়া দিতে পারে৷
 
 
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশন-
 
 
 
 
(ক) এইরূপ বিভিন্ন শ্রেণীর যন্ত্রপাতির বিভিন্ন মান, মানদণ্ড এবং উহা পালিত হইতেছে কিনা তাহা যাচাইয়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারে;
 
 
 
 
(খ) সরকারী গেজেটে এবং অন্ততঃ দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নোটিশ দ্বারা এইরূপ মান, মানদণ্ড ও পদ্ধতি নির্ধারণের ইচ্ছা ব্যক্ত করিবে এবং উহাতে প্রস্ত্মাবিত মান ও মানদণ্ড সম্পর্কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনসাধারণের নিকট হইতে মন্তব্য বা পরামর্শ আহ্বান করিবে, এবং এইরূপ মান, মানদণ্ড ও পদ্ধতি কখন হইতে কার্যকর হইবে তাহাও প্রকাশ করিবে;
 
 
 
 
(গ) দফা (খ) এর অধীনে কোন মন্তব্য বা পরামর্শ পাওয়া গেলে কমিশন উহা বিবেচনান্তে সংশ্লিষ্ট মান, মানদণ্ড ও পদ্ধতি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করিবে এবং উহা পুনরায় একইভাবে প্রকাশ করিবে;
 
 
 
 
(ঘ) বেতার যন্ত্রপাতি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতির মান এবং প্রযোজ্য কারিগরী শর্তাবলী নির্ধারণ করিতে পারে৷
 
 
 
 
(৩) এই ধারার অধীনে মান ও মানদণ্ড এবং উহা যাচাইয়ের পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশন একটি নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা এবং আন্ত্মঃসংযোগের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রাখিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে৷
 
 
 
 
(৪) এই ধারার অধীনে মান ও মানদণ্ড এবং তত্সম্পর্কিত লাইসেন্সের শর্তাবলী নির্ধারণ ব্যতীত, কমিশন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বা লাইসেন্সযোগ্য সেবায় কোন নির্দিষ্ট কোম্পানী, প্রতিষ্ঠান বা উত্পাদনকারীর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হইবে কিনা তত্সম্পর্কে কোন বাধা-নিষেধ আরোপ করিবে না৷
প্রান্তিক যন্ত্রপাতির কারিগরী মান ইত্যাদি
৫২৷ (১) প্রান্তিক যন্ত্রপাতির নাম, বিবরণ (Specification), কারিগরী মান ও আনুষংগিক বিষয়াদি নির্ধারণ করিয়া কমিশন সময় সময় নির্দেশিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে৷
 
 
 
 
(২) প্রান্তিক যন্ত্রপাতি উত্পাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ এবং উহা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি উক্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করিবে৷
টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবার সুরক্ষা

1[৫২ক।  (১) কমিশন টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করিয়া নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং বিধি-বিধান বা গাইডলাইন অথবা নির্দেশনা প্রদান করিবে।

(২) টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে কমিশন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সৃষ্ট, উদ্ভূত, প্রেরিত, গৃহীত অথবা সংরক্ষিত ট্রাফিক বা ইন্টারনেট ডাটা সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করিবার কার্যক্রম (for preparing analytics) গ্রহণ করিতে পারিবে বা এতদকার্যক্রম সম্পর্কে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীকে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “ট্রাফিক বা ইন্টারনেট ডাটা” অর্থ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে উৎপন্ন, প্রেরিত, প্রাপ্ত বা সংরক্ষিত কোনো ডেটা, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত ডেটার ধরন রাউটিং, সময়কাল বা সময় সম্পর্কিত ডেটা, ডেটা প্যাকেট, আইপি ইত্যাদি তথ্য।

(৩) কমিশন প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা ব্যবস্থার যে কোন অংশ যাহার জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা বা পরিষেবা ব্যাহত হইতে পারে এবং ইহার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, জাতীয় ঐক্য ও জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করিতে পারে, সেই টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশকে "গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামো" হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবে।

(৪) কমিশন টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোর মান, নিরাপত্তা অনুশীলন, প্রয়োজনীয় উন্নয়ন এবং পরিচালনা পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) কমিশন প্রয়োজনে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন মনিটরিং বা সাইবার আক্রমণ প্রতিহতকরণ যন্ত্রপাতি স্থাপন করিবার নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) অপ্রাপ্তবয়ষ্ক বা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হয়রানি রোধকল্পে কমিশন অভিভাবকবৃন্দের তত্ত্বাবধান (প্যারেন্টাল কন্ট্রোল) এর কারিগরি সুযোগ এবং ইহার প্রয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বয়স-ভিত্তিক যাচাই পদ্ধতি নিশ্চিত করিতে পারিবে এবং তদবিষয়ক বিস্তারিত পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।]

ক্ষতিকর প্রতিবন্ধকতা (Interference) অনুসন্ধান ইত্যাদি
৫৩৷ (১) কমিশন ক্ষতিকর প্রতিবন্ধকতা খুঁজিয়া বাহির করিতে পারে এবং যে ব্যক্তির দখলে বা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বেতার যন্ত্রপাতি বা অন্যবিধ যন্ত্রপাতি আছে বলিয়া কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহাকে উক্ত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বন্ধ রাখিবার আদেশ দিতে পারে বা আদেশে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উহার যথাযথ মেরামত বা পরিবর্তন করার নির্দেশ দিতে পারে যেন উক্ত প্রতিবন্ধকতা আর না থাকে, এবং উক্ত আদেশ উক্ত ব্যক্তি পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন৷
 
 
(২) যদি কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ লংঘন করেন বা উহা পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত লংঘন বা ব্যর্থতা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বত্সর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
 
 
 
 
(৩) ক্ষতিকর প্রতিবন্ধকতা অনুসন্ধানের জন্য পরিবীক্ষণ বা সতর্ক তত্ত্বাবধান (surveillance) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যাদি সম্বলিত মুদ্রিত দলিলে কমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দস্তখত থাকিলে বা এইরূপ পরিবীক্ষণ বা তত্ত্বাবধানের প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক কৌশল অবলম্বনে প্রাপ্ত তথ্যকে উক্ত কর্মকর্তা সত্যায়ন করিলে উহা উক্ত প্রতিবন্ধকতার অস্ত্মিত্ব প্রমাণের সাতগ্য হিসাবে কমিশন কর্তৃক গৃহীত বা আদালতের কার্যধারায় গ্রহণযোগ্য হইবে৷
টেলিযোগাযোগ সেবার মান নির্ধারণ
৫৪৷ (১) কমিশন প্রবিধান দ্বারা, বা ঢাকা হইতে প্রকাশিত এবং বহুল প্রচারিত অন্ততঃ দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সময় সময় প্রচারিত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য বিভিন্ন মান নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং এইরূপ মান অনুসারে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানে লাইসেন্সধারী বাধ্য থাকিবেন৷
 
 
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন সেবার মান নির্ধারিত হইলে গ্রাহকগণ যাহাতে সহজে উক্ত মান সম্পর্কে অবহিত হইতে পারেন তজ্জন্য কমিশন সময় সময় প্রচারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
 
 
 
 

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs