প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১

( ২০০১ সনের ১৮ নং আইন )

দশম অধ্যায়

পরিদর্শন ও বাধ্যতামূলক গ্রহণ ও নিষ্পত্তি

পরিদর্শক নিয়োগ

৬০৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকাল্পে কমিশন উহার যে কোন 1[উপযুক্ত কর্মকর্তাকে] পরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে৷

পরিদর্শকের ক্ষমতা

৬১৷ (১) এই আইনের বিধানাবলী বাস্তবায়নের প্রয়োজনে, একজন পরিদর্শক উপ-ধারা (৩) সাপেক্ষে-

 
 

(ক) যে কোন যুক্তিসংগত সময়ে যে কোন স্থানে প্রবেশ করিতে পারিবেন, যদি তাহার এইরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, উক্ত স্থানে-

 
 

(অ)এই আইনের অধীনে অনুমোদিত নহে এইরূপ বেতার যন্ত্রপাতি বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি আছে বা ব্যবহার করা হইতেছে; বা

 
 

(আ)এই আইনের অধীনে অনুমোদিত নহে এইরূপ কোন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি আছে; বা

 
 

(ই) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা পারমিট ব্যতিরেকে বা উহার শর্ত ভঙ্গ করিয়া টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান বা বেতার যন্ত্রপাতি স্থাপন বা পরিচালনা করা হইতেছে;

 
 

(খ) উক্ত যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে উহা পরীতগা করিতে পারিবেন;

 
 

(গ) উক্ত স্থানে দৃষ্ট যে কোন লগ বুক, প্রতিবেদন, উপাত্ত, নথিপত্র, বিল বা অন্যবিধ দলিল পরীতগা করিতে পারিবেন, যদি তিনি যুক্তিসংগত কারণে মনে করেন যে, এই আইন বা প্রবিধান বা তদধীনে কমিশন প্রদত্ত নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রয়োগের জন্য উক্ত পরীতগা প্রয়োজন, এবং তিনি উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষের অনুলিপি বা ফটোকপি; বা প্রয়োজনীয় তথ্যাদিও (extract) সংগ্রহ করিতে পারেন;

 
 

(ঘ) উক্ত ব্যবস্থা বা যন্ত্রপাতির দখলকার, ব্যবহারকারী বা নিয়ন্ত্রণকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারেন এবং তাহার পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলিয়া মনে করিলে তাহাকে গ্রেপ্তার করিতে এবং উক্ত যন্ত্রপাতি সরাইয়া ফেলা বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে তাহা আটক করিতে পারেন;

 
 

(ঙ) যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা সেবা প্রদানের জন্য যে যন্ত্রপাতি অনুমোদিত নহে উহা আটকের জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করিতে পারেন৷

 
 

(২) উপ-ধারা (১)(ঙ) অনুযায়ী প্রাপ্ত সুপারিশ বিবেচনান্তে কমিশন উক্ত যন্ত্রপাতি আটক করিতে পারিবে এবং এইরূপ আটককৃত যন্ত্রপাতি আপাতঃ দৃষ্টে মালিকবিহীন হইলে উহা কমিশনে ন্যস্ত হইবে, এবং পরবর্তী অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে কোন ব্যক্তি উক্ত যন্ত্রপাতির মালিকানা দাবী করিলে, প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের পর, কমিশন তাহাকে উহা ফেরত দিতে পারিবে বা কমিশনের বিবেচনামতে অন্যবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে৷

 
 

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত স্থানে কাহারো আবাসস্থল হইলে, পরিদর্শক উহার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তত্ত্ববধানকারীর সম্মতি ব্যতীত, সেখানে প্রবেশ করিতে পারিবেন না, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে তিনি উক্ত সম্মতি ব্যতিরেকে প্রবেশ করিতে পারেন:-

 
 

(ক) যদি উপ-ধারা (৪) এর অধীনে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়ারেন্ট ইস্যু করিয়া থাকেন; বা

 
 

(খ) যদি এমন বিশেষ পরিস্থিতি থাকে যে, ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নহে৷

 
 

ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ম্যাজিষ্ট্রেটের ওয়ারেন্ট সংগ্রহজনিত বিলম্বের কারণে জীবন, সম্পত্তি বা সংঘটিত অপরাধের সাতেগ্যর নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন বা সাতগ্য বিনষ্ট বা অপসারিত হইতে পারে; এইরূপ পরিস্থিতি দফা (খ) এর আওতায় বিশেষ পরিস্থিতি বলিয়া গণ্য হইবে৷

 
 

(৪) পরিদর্শকের কোন প্রতিবেদন অথবা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক সত্যতার প্রত্যায়নসহ প্রদত্ত কোন তথ্যের ভিত্তিতে যদি প্রতীয়মান হয় যে-

 
 

(ক) এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত কোন আবাসস্থলে প্রবেশ করা পরিদর্শকের প্রয়োজন; এবং

 
 

(খ) উহাতে প্রবেশের জন্য সম্মতি দেওয়া হয় নাই, বা ইহা বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ আছে যে, সম্মতি দেওয়া হইবে না;

 
 

তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের আবেদনক্রমে একজন প্রথম শ্রেণীর 2[জুডিশিয়াল] ম্যাজিষ্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত পরিদর্শককে উক্ত গৃহে প্রবেশের ক্ষমতা দিয়া এবং যথাযথক্ষেত্রে বল প্রয়োগের ক্ষমতাসহ একটি ওয়ারেন্ট ইস্যু করিতে পারেন, এবং এইরূপ ওয়ারেণ্টে পরিদর্শকের নাম উল্লেখ করিবেন ও প্রয়োজনবোধে কোন শর্তও আরোপ করিতে পারিবেন৷

 
 

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীনে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টবলে কোন আবাসস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে, পরিদর্শক বল প্রয়োগ করিবেন না; যদি তাহার সংগে কোন পুলিশ ফোর্স না থাকে৷

 
 

(৬) পরিদর্শক কোন স্থানে প্রবেশ করিলে তাহাকে উহার দখলকার বা তত্ত্বাবধানকারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরিদর্শকের অনুরোধকৃত তথ্য সরবরাহসহ অন্যবিধ সকল যুক্তিসংগত সহায়তা করিবেন, যাহাতে এই আইনের অধীন দায়িত্ব পরিদর্শক যথাযথভাবে পালন করিতে পারেন৷

 
 

(৭) এই আইনের অধীন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকালে কোন ব্যক্তি-

 
 

(ক) পরিদর্শককে বাধা দিবেন না বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিবেন না; অথবা

 
 

(খ) স্বজ্ঞানে কোন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, মৌখিক হউক বা লিখিত হউক, পরিদর্শকের নিকট উপস্থাপন করিবেন না৷

 
 

3[(৮) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৭) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]

পরিদর্শকের প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদনের প্রাথমিক সত্যতা
৬২৷ (১) এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন পরিদর্শকের পরিদর্শন বা পরীতগার ফলাফল সম্বলিত প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদনে উক্ত পরিদর্শকের দস্তখত আছে বলিয়া আপাতঃ দৃষ্টে বিবেচনা করা হইলে উক্ত প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদন এই আইনের অধীন যে কোন কার্যধারায় সাতগ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে, এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে উহাতে বিধৃত বিষয়গুলিই হইবে উক্ত পরিদর্শন বা পরীক্ষণের প্রমাণ৷
 
 
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে কোন কার্যধারা সূচনা করার পূর্বে কমিশন উক্ত প্রত্যয়নপত্র বা প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকট ব্যক্তিগতভাবে বা তাহার সর্বশেষ কর্মস্থলে বা বাসস্থলে প্রেরণ করিবে৷
 
 
 
 
(৩) অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পরিদর্শককে আদালতের কার্যধারায় জেরা করার উদ্দেশ্যে তাহাকে হাজির হইবার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারে৷
বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন আদেশ ইস্যুকরণ এবং উহার লংঘনের দণ্ড

৬৩৷ (১) কোন লাইসেন্সধারী বা পারমিটের বা সনদের ধারক যদি-

 
 

(ক) এই আইন বা প্রবিধানের কোন বিধান, বা লাইসেন্স বা পারমিটের আওতায় পরিচালিত ব্যবস্থা বা সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোন শর্ত লংঘন করেন; বা

 
 

(খ) ভুল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে লাইসেন্স বা পারমিট বা কারিগরী গ্রহণযোগ্যতা সনদ হাসিল করিয়া থাকেন,

 
 

তাহা হইলে কমিশন একটি নোটিশের মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি বা লাইসেন্সধারী বা পারমিট বা সনদের ধারককে ৩০ দিনের মধ্যে এই মর্মে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিতে পারিবে যে কেন তাহার বিরুদ্ধে একটি বাধ্যতামূলক বাস্তবায়ন আদেশ (enforcement order) ইস্যু বা উক্ত লাইসেন্স পারমিট বা সনদ বাতিল করা হইবে না৷

 
 

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লেখিত নোটিশে লংঘনের প্রকৃতি এবং উহার সংশোধন বা প্রতিকারের জন্য করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা থাকিতে হইবে৷

 
 

(৩) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীনে ইস্যুকৃত নোটিশের কোন জবাব বা অভিযোগকৃত বিষয় সম্পর্কে কমিশনের নিকট সন্ত্মোষজনক ব্যাখ্যা উপস্থাপন না করা হয় বা কমিশন কর্তৃক নির্দেশিত সময়ে উহার নির্দেশিত সংশোধন বা প্রতিকার না করা হয়, তাহা হইলে কমিশন লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক একটি আদেশ দ্বারা-

 
 

4[(ক) উক্ত লঙ্ঘনকারীর উপর অনধিক ৯৯ (নিরানব্বই) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত আদেশের পর যতদিন লঙ্ঘন চলিতে থাকিবে উহার প্রতিদিনের জন্য অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।]

 
 

(খ) যথাযথ ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা পারমিট বা সনদ স্থগিত বা বাতিল করিতে বা অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করিতে পারে৷

চলিত বা সম্ভাব্য লংঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা

৬৪৷ (১) কমিশন যদি মনে করে যে, কোন ব্যক্তি এমন কাজ করিতে উদ্যত হইয়াছেন বা করিতেছেন যাহার ফলে এই আইন, প্রবিধান, লাইসেন্স বা পারমিটের কোন শর্ত বা কমিশনের নির্দেশ বা নির্দেশনা লংঘিত হইতেছে বা হইবে, তাহা হইলে উক্ত কাজ হইতে কেন তিনি বিরত থাকিবেন না সেই মর্মে ৭ (সাত) দিনের একটি লিখিত নোটিশ দিয়া তত্সম্পর্কে তাহার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং এই ব্যাপারে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে তাহা বিবেচনায় অন্যবিধ নির্দেশ দিতে পারিবে:

 
 

তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত লংঘন বা সম্ভাব্য লংঘনের প্রকৃতি এমন যে, অবিলম্বে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত কাজ হইতে বিরত রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে কমিশন উক্ত নোটিশ জারীর সময়েই তাহাকে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারিবে যে, বিষয়টি সম্পর্কে কমিশনের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি উক্ত লংঘন বা সংশ্লিষ্ট কাজ হইতে বিরত থাকিবেন৷

 
 

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন নির্দেশ দেওয়া হইলে উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজ হইতে বিরত থাকিবেন বা ক্ষেত্রমত কমিশনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করিবেন৷

 
 
 

5[(৩) উক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে কমিশন তাহার উপর অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত জরিমানা পরিশোধ না করা হইলে উক্ত লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক ৯৯ (নিরানব্বই) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]

প্রশাসনিক জরিমানা

6[৬৫।  (১) এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধানে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা রহিয়াছে, উহার অতিরিক্ত হিসাবে কমিশন, এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার কোন বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ সত্ত্বেও লঙ্ঘনকারীর নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাইবে, তবে এরূইপ জরিমানার বিধান কোম্পানির বিনিয়োগ এবং টার্নওভারের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হারে প্রয়োগ করিতে হইবে:

আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ৩৫(১), ৫৫(১) এবং ৫৭(২) লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এইরূপ প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।

(২) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারা বা বিধি বা প্রবিধানের অধীন কার্যক্রম গ্রহণ না করিলে, সেই ক্ষেত্রে কমিশন লঙ্ঘনকারীকে এই মর্মে একটি নোটিশ দিবে যে, তিনি উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর তাহার দোষ স্বীকার করিয়া নোটিশে নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানা উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদানের মাধ্যমে দায়মুক্ত হইতে পারেন এবং এই ব্যাপারে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে তাহাও উপস্থাপন করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত লংঘনের ব্যাপারে-

(ক) এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রাসংগিক তথ্যাদিসহ নির্ধারিত নোটিশের ফরম পূরণ এবং দস্তখত করিয়া উক্ত নোটিশ-

(অ) অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকট ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করিবেন; অথবা

(আ) উক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জানামতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ বাসস্থান বা কর্মস্থলের ঠিকানায় প্রেরণ করিবেন;

(খ) অভিযোগকৃত লঙ্ঘনের যে সকল বিষয় বিবেচনা ও যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হইবে এবং দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে আরোপণীয় প্রশাসনিক জরিমানার পরিমাণ কত হইবে তাহাও নোটিশে উল্লেখ করিবেন;

(গ) অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত লঙ্ঘন-

(অ) স্বীকার করিয়া নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক জরিমানা জমা দিতে পারিবেন;

(আ) স্বীকার করতঃ লংঘনের পরিস্থিতি বর্ণনাক্রমে উক্ত জরিমানা কমানোর জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কমিশন সমীপে আবেদন করিতে পারিবেন; বা

(ই) অস্বীকার এবং উহার সমর্থনে তাহার লিখিত বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় দলিল বা তথ্য পেশ করিয়া উক্ত জরিমানার দায় হইতে অব্যাহতির জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কমিশন সমীপে আবেদন করিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩)(গ) এর উপ-দফা (আ) বা (ই) এর অধীন আবেদন করা হইলে অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ধারা, বিধি বা প্রবিধানের অধীন আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা কমানোর জন্য বা উক্ত দায় হইতে অব্যাহতির জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নোটিশ গ্রহীতা তাহার লিখিত বক্তব্য দাখিল করিলে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা সমগ্র বিষয়টি বিবেচনাক্রমে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন এবং এইরূপ সিদ্ধান্তের ৩ (তিন) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে সিদ্ধান্তের অনুলিপি প্রদান করিবেন।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সিদ্ধান্ত প্রদান তারিখের অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত পুনরীক্ষণের (revision) জন্য কমিশনের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ আবেদন সম্পর্কে কমিশন সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ও আবেদনকারীকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।

(৬) লঙ্ঘনকারী উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত নোটিশে অভিযোগকৃত লঙ্ঘন স্বীকার করিয়া প্রশাসনিক জরিমানার অর্থ জমা দিলে বা উপ-ধারা (৪) বা (৫) এর অধীনে তাহার অনুকূলে দায় মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রদত্ত হইলে তদনুযায়ী তিনি দায়মুক্ত হইবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত লঙ্ঘন অপরাধ হিসাবে বা প্রদত্ত জরিমানা অর্থদণ্ড হিসাবে গণ্য হইবে না।

(৭) কোন লঙ্ঘনকারী এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার অধীন তাহার উপর আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা জমা না দিলে বা নোটিশের প্রেক্ষিতে হাজির না হইলে উক্ত লঙ্ঘন একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তদনুসারে তিনি দণ্ডনীয় হইবেন।

(৮) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণ করিলে, উপ-ধারা (৪), (৫), (৬) ও (৭) এর বিধান অনুসৃত হইবে।]


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs