প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১

( ২০০১ সনের ১৮ নং আইন )

দ্বাদশ অধ্যায়

তথ্য প্রবাহ

কমিশনের নিকট হিসাব ও তথ্য সরবরাহ
৮৪৷ (১) কমিশন যে কোন পরিচালনকারীকে বা বিশেষ শ্রেণীর পরিচালনকারীগণকে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারে:-
 
 
(ক) এই আইনের বিধানাবলী পালন বা কমিশনের ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের ব্যয় চিহ্নিতকরণের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোন হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ:
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ হিসাব পদ্ধতি কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ তে বর্ণিত হিসাব সংক্রান্ত বিধানের সহিত সংগতিপূর্ণ হইতে হইবে; এবং
 
 
1[(খ) এই আইনের বিধানাবলী বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে, কমিশনের নিকট নির্দিষ্ট সময়ান্তে দাখিলযোগ্য প্রতিবেদন কমিশন কতৃর্ক নির্ধারিত কোন ফরমে বা পদ্ধতিতে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি এবং কমিশনের বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সরবরাহ।]
 
 
(২) যুক্তিসঙ্গত কারণে কমিশন যদি বিশ্বাস করে যে, এই আইন বাস্তবায়নের জন্য কোন পরিচালনকারী বা অন্যান্য লাইসেন্সধারী, পারমিটধারী বা সনদের ধারক বা অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন তথ্য বা দলিল সংগ্রহ করা প্রয়োজনীয়, তাহা হইলে উক্ত তথ্য সরবরাহের জন্য কমিশন উক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত ব্যক্তি এই নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবেন:
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীনে এমন কোন দলিল বা উহার বিষয়বস্তু উপস্থাপনের জন্য কোন ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না যাহা দেওয়ানী মামলার সূত্রে আদালতে উপস্থাপনে উক্ত ব্যক্তি বাধ্য নহেন; উক্তরূপে বাধ্য না হওয়ার বিষয়টি প্রমাণের দায়িত্ব বর্তাইবে উক্ত ব্যক্তির উপর৷
তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ ও গোপনীয় তথ্যাদি
৮৫৷ (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কার্যাবলী সম্পাদনের সূত্রে কমিশনের গোচরীভূত সকল তথ্যই যাহাতে জনসাধারণ পরিদর্শন এবং উহার অনুলিপি সংগ্রহ করিতে পারে তাহা কমিশন নিশ্চিত করিবে:
 
 
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, কোন তথ্যকে গোপনীয় বলিয়া কমিশন মনে করিলে উহার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা যাইবে৷
 
 
 
 
(২) কমিশনার বা কমিশনের কোন পরামর্শক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা কমিশন কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি সজ্ঞানে এমন কোন গোপন তথ্য অন্য কোন ব্যক্তির নিকট প্রকাশ করিবেন না বা উহাকে প্রকাশিত হইতে দিবেন না যাহাতে উক্ত অন্য ব্যক্তি গোপন তথ্য ব্যবহার করিয়া লাভবান হন, বা উক্ত তথ্য যাহার সহিত সংশ্লিষ্ট তাহার ক্ষতি হয়; এইরূপ গোপনীয় তথ্য প্রকাশ একটি অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হইবে৷
 
 
 
 
ব্যাখ্যা৷- কমিশনার বা কমিশনের পরামর্শক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ছিলেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এই উপ-ধারা প্রযোজ্য৷
 
 
 
 
(৩) কমিশন যদি উহার কোন কার্য-ধারা চলাকালে কোন তথ্য প্রাপ্ত হয় এবং কমিশন মনে করে যে, উক্ত তথ্য, জনস্বার্থে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তাহা হইলে উহাতে আপাতঃদৃষ্টে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়া উক্ত তথ্য প্রকাশ করা বা না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে এবং যথাযথ ক্ষেত্রে কমিশন নিজেই উহা প্রকাশ করিতে পারে বা উহা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারে৷
সাধারণ অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৮৬৷ কমিশন স্বীয় উদ্যোগে বা যে কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনে এমন যে কোন বিষয়ে বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারে যে বিষয়টি বা কর্মকাণ্ড এই আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বা অনুমোদিত বা যাহা করা এই আইনের অনুসারে প্রয়োজনীয়৷
গণশুনানী ও উহার পদ্ধতি
৮৭৷ (১) কোন আবেদন বা অন্য কোনভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, কমিশন যদি মনে করে যে, জনস্বার্থ রতগার জন্য উহার কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা প্রস্ত্মাবিত প্রয়োগের বিষয়ে বা অন্য বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে গণশুনানীর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে কমিশন বিষয়টি সম্পর্কে গণশুনানীর ব্যবস্থা করিতে পারে৷
 
 
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গণশুনানী অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কমিশন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি গণশুনানী কমিটি, অতঃপর এই অধ্যায়ে কমিটি বলিয়া উল্লেখিত, গঠন করিতে পারে; কমিশনের চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান কমিটির সভাপতি এবং কমিশন কর্তৃক মনোনীত অন্য কোন কমিশনার বা কর্মকর্তা কমিটির অপর দুইজন সদস্য হইবেন৷
 
 
 
 
(৩) গণশুনানীর ব্যাপারে অনুসরণীয় পদ্ধতি প্রবিধানে বর্ণিত না থাকিলে, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, কমিটির বিবেচনামত যথাযথ পদ্ধতিতে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হইবে৷
 
 
 
 
(৪) কমিটি উহার সদস্যদের সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে যে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত করিবে৷
 
 
 
 
(৫) প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ পাওয়ার জন্য কমিটি তদন্তাধীন বিষয়ে লিখিতভাবে নির্দিষ্ট সাতগ্য বা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারে এবং যে বিষয়ে মৌখিক সাতগ্য বা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা যাইবে তাহাও নির্ধারণ করিতে পারে৷
 
 
 
 
(৬) কমিটি যথাযথ বিবেচনা করিলে উহার সম্মুখে সাতগ্য বা কোন তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাহার মনোনীত একজন এডভোকেট বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বা প্রতিনিধকে উক্ত সাতগ্য বা তথ্য উপস্থাপনে বা সেই ব্যাপারে সহায়তা করার অনুমতি দিতে পারিবে৷
 
 
 
 
(৭) গণশুনানীর কার্যধারা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে এবং উহাতে উপস্থাপিত সাতগ্য ও অন্যান্য তথ্য এবং কমিটি কর্তৃক বিবেচিত ঘটনাবলী গণশুনানীর কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ করানোর জন্য কমিটির সভাপতি ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
 
 
 
 
(৮) তলব করা হইয়াছে এইরূপ যে কোন ব্যক্তি, বা তলব না পাওয়া সত্ত্বেও তদন্তাধীন বিষয়ে গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের কারণে যাহার স্বার্থতগুণ্ন বা প্রভাবিত হইতে পারে যা উক্ত বিষয় সম্পর্কে ওয়াকেফহাল আছেন এইরূপ যে
 
 
কোন ব্যক্তি, নিজে বা তাহার ক্ষমতাপ্রদত্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে, কমিটির সম্মুখে হাজির হইয়া তাহার বক্তব্য পেশ করিতে পারেন৷
 
 
 
 
(৯) তদন্তকালে বা তদন্ত শেষে, কমিটি-
 
 
 
 
(ক) তদন্তাধীন বিষয় বা উহার অংশবিশেষ সম্পর্কে সংতিগপ্ত কারণ উল্লেখপূর্বক সিদ্ধান্ত দিতে পারে;
 
 
 
 
(খ) তদন্তাধীন কোন বিষয় বা উহার অংশবিশেষকে তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক বা ভিত্তিহীন বা জনস্বার্থে তত্সম্পর্কে গণশুনানী চালাইয়া যাওয়ার প্রয়োজন নাই বা উহা কাম্য নহে বলিয়া মনে করিলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বা উহার সংশ্লিষ্ট অংশকে তদন্ত হইতে বাদ দিতে বা তত্সম্পর্কে শুনানী হইতে বিরত থাকিতে পারিবে;
 
 
 
 
(গ) উহার বিবেচনাধীন, যে কোন বিষয়ের উপর ত্বরিত এবং ন্যায্য শুনানী অনুষ্ঠান এবং তত্সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বার্থে সাধারণভাবে যে কোন নির্দেশ দিতে এবং অন্যবিধ যে কোন কাজ করিতে পারিবে৷
 
 
 
 
(১০) উপ-ধারা (৯)(ক) এর অধীনে প্রদত্ত প্রধান প্রধান সিদ্ধান্ত বা উহার সারাংশ অন্ততঃ দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করিতে হইবে এবং গণশুনানীতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক আগ্রহী পক্ষকে প্রতিটি নির্দেশ ও সিদ্ধান্তের অনুলিপি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফিস প্রদান সাপেক্ষে সরবরাহ করিতে হইবে৷
গণশুনানীতে সাতগ্য প্রদান এবং সাক্ষী তলব
৮৮৷ (১) দেওয়ানী আদালতে কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে তলব বা তাহার সাতগ্য দেওয়ার ব্যাপারে Code of Civil Procedure, 1908 2[(Act V of 1908)] অনুযায়ী উক্ত আদালত যে ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে, গণশুনানীতে কমিটির নিকট সাতগ্য প্রদানকারী বা বক্তব্য উপস্থাপনকারী সকল ব্যক্তি কর্তৃক সাতগ্য প্রদানের ক্ষেত্রে কমিটিও সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্ত Code এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷
 
 
(২) ধারা ৮৭ এর অধীন অনুষ্ঠিত তদন্তের কোন বিষয়ে কোন ব্যক্তি সাতগ্য প্রদানে বা দলিল উপস্থাপনে সক্ষম বলিয়া মনে করিলে কমিটি গণশুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারীর মাধ্যমে তাহাকে তলব করিতে এবং তাহার সাতগ্য গ্রহণ করিতে পারিবে, গণশুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য তলবকৃত ব্যক্তিকে যুক্তিসংগত খরচও প্রদান করা যাইবে৷
 
 
(৩) গণশুনানীতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলবকৃত ব্যক্তি-
 
 
(ক) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে, তাহার নোটিশে উল্লেখিত সময়ে ও স্থানে হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে;
 
 
(খ) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে, কমিটির কোন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করিলে বা উক্ত প্রশ্নের উত্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য বা বিবৃতি দিলে, ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তাধীন কোন বিষয়ের তথ্য গোপন করিলে, বা
 
 
(গ) তাহার দখলে থাকা কোন দলিল বা তথ্য কমিটির তলব মোতাবেক উপস্থাপন করিতে অস্বীকার করিলে বা যু্‌ক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে উপস্থাপনে ব্যর্থ হইলে,
 
 
তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত উপেতগা করার কারণে আদালত অবমাননার অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী হইবেন, এবং তদনুসারে দণ্ডনীয় হইবেন৷
 
 
(৪) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৩)-এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করিয়াছেন মর্মে কমিটি মনে করিলে কমিটি উহার সভাপতির দস্তখতে তন্মর্মে একটি প্রতিবেদন হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে পারিবে৷
 
 
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত অবমাননার অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতি কর্তৃক দস্তখতকৃত বলিয়া আপাতঃদৃষ্টে বিবেচিত (purported) প্রতিবেদনটি উক্ত কার্যধারায়-
 
 
(ক) সাতগ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণের প্রয়োজন হইবে না; এবং
 
 
(খ) উহাতে বিধৃত ঘটনাবলী এবং তত্সম্পর্কে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের সত্যতা নির্দেশক প্রাথমিক (prima facie) সাতগ্য হইবে৷
 
 
(৬) Contempt of Courts Act, 1926 (XII of 1926) এর অধীন আদালত অবমাননার বিচার যে পদ্ধতিতে হয় এবং উহার জন্য যে দণ্ড আরোপ করা যায় সেই পদ্ধতিতে উপ-ধারা (৩) এ উল্লেখিত অবমাননার বিচার হাইকোর্ট বিভাগে অনুষ্ঠিত হইবে এবং উপরোক্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর উক্ত Act এ উল্লেখিত দণ্ড আরোপ করা যাইবে৷

  • 1
    দফা(খ) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪১নং আইন) এর ৫০ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
  • 2
    “(Act V of 1908)" বন্ধনী, শব্দগুলি ও সংখ্যা (Act of 1908)বন্ধনী, শব্দগুলি ও সংখ্যার পরিবর্তে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০১০(২০১০ সনের ৪১নং আইন) এর ৫১ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত।
Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs