প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১

( ২০০১ সনের ১৮ নং আইন )

চর্তুদশ অধ্যায়

বিবিধ

জনসেবক
৯৪৷ কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কমিশনার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী, পরামর্শক এবং কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের বা দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য কমিশনের নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি Penal Code (Act XLV of 1860) এর Section 21 এ বর্ণিত অর্থে Public Servant বা জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন৷
দায় মুক্তি
৯৫৷ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধান বা প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশ প্রদানের জন্য বা উহার অধীনে সরল বিশ্বাসে কৃত বা কৃত বলিয়া আপাতঃ দৃষ্টে বিবেচনা করা যায় এমন কিছুর কারণে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি মন্ত্রী বা সরকারের কোন কর্মচারী অথবা কমিশনের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন কমিশনার বা কর্মকর্তা ও কর্মচারী বা পরামর্শকের বিরুদ্ধে কোন ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করিতে পারিবেন না৷
বেতার যন্ত্রপাতি, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি অধিগ্রহণ
৯৬৷ (১) সরকার জনস্বার্থে কোন বেতার যন্ত্রপাতি, বা উহা ব্যবহারের স্থান, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উহাদিগকে চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দখলে নিয়া যে কোন মেয়াদে উক্ত দখল অব্যাহত রাখিতে এবং উক্ত মেয়াদে যন্ত্রপাতি বা ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালনকারীকে ও তাহার কর্মচারীগণকে সার্বক্ষণিকভাবে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োজিত রাখিতে পারিবে৷
 
 
 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দখল গৃহীত বেতার যন্ত্রপাতি বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মালিক বা নিয়ন্ত্রক তাহার দখল সরকারের অনুকূলে পরিত্যাগ করিবেন এবং উক্ত উপ-ধারায় উল্লেখিত পরিচালনকারী ও কর্মচারীগণ বিশ্বস্ততা ও যথাযথ যত্নসহকারে সরকারের যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশমত কাজ করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তার নির্দেশিত সংকেত, কল, বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণ করিবেন৷
 
 
 
 
(৩) এই ধারার অধীনে সরকার কর্তৃক দখল গৃহীত বেতার যন্ত্রপাতি বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মালিক বা নিয়ন্ত্রককে সরকার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিবে, এবং প্রদেয় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সম্পর্কে উভয়পক্ষ এক মত না হইলে
 
 
সরকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আদালতে প্রেরণ করিবে এবং জেলাজজ নিজে বা তাহার অধীনস্থ কোন অতিরিক্ত জেলাজজের দ্বারা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত বিচারক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং বিধির অবর্তমানে তাহার বিবেচনামত উপযুক্ত যে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবেন এবং এতদবিষয়ে তাহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
জরুরী পরিস্থিততে সরকারের অগ্রাধিকার
৯৭৷ (১) যুদ্ধ চলাকালে বা কোন বিদেশী শক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করিলে বা আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ বা নৈরাজ্য দেখা দিলে বা অন্য কোন কারণে বাংলাদেশের প্রতিরতগা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা অন্যান্য জরুরী রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন দেখা দিলে, যে কোন বেতার যন্ত্রপাতি বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন পরিচালনকারী বা অন্য যে কোন ব্যবহারকারীর তুলনায় সরকারের অগ্রাধিকার থাকিবে৷
 
 
 
 
1[(২) এই আইন বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা ঘোষণা করিলে অথবা সরকারের বিবেচনায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার এই আইনের অধীন প্রদত্ত বা ইস্যুকৃত সকল বা যে কোন সনদ, আদেশ বা লাইসেন্সের কার্যকারিতা অথবা যে কোন পরিচালনাকারী কর্তৃক প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান নির্ধারিত সময়ের জন্য স্থগিত বা সংশোধন করিতে পারিবে৷]
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশেষ বিধান
2[৯৭ক৷ (১) এই আইন বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যে কোন টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারকারীর প্রেরিত বার্তা ও কথোপকথন প্রতিহত, রেকর্ড ধারণ বা তত্সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহের জন্য সরকার সময় সময় নির্ধারিত সময়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থার কোন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীকে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং পরিচালনাকারী উক্ত নির্দেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবে৷
 
 
 
 
(২) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “সরকার” বলিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বুঝাইবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এই ধারার বিধান প্রয়োগযোগ্য হইবে৷
সাতগ্যমূল্য
৯৭খ৷ সাতগ্য আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সনের ১নং আইন) বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৯৭ক এর অধীন সংগৃহীত কোন তথ্য বিচার কার্যক্রমে সাতগ্য হিসাবে গ্রহণযো্য হইবে৷
ধারা ৯৭ক এর বিধান লঙ্গনের দণ্ড
৯৭গ৷ ধারা ৯৭ক মোতাবেক গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রতগার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া কোন আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিলে এবং উক্ত আদেশ যদি কোন ব্যক্তি লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে তিনি-
 
 
 
 
(ক) প্রথমবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ লক্ষ টাকা হইতে দশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
 
 
 
 
(খ) দ্বিতীয়বার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা দশ লক্ষ টাকা হইতে বিশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
 
 
 
 
(গ) তৃতীয়বার এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পঁচিশ লক্ষ টাকা হইতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং আদালত যথার্থ বিবেচনা করিলে উক্ত ব্যক্তির নামীয় লাইসেন্স বাতিলের জন্য কমিশনকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে৷]
বিধি প্রণয়নে সরকারের ক্ষমতা
৯৮৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
প্রবিধান প্রণয়নে কমিশনের ক্ষমতা
৯৯।(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে 3[সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে] কমিশন, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন ও সরকার প্রণীত বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
 
(২) প্রবিধান সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে কমিশন উক্ত প্রবিধানের অনুলিপি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করিবে এবং মন্ত্রণালয় উক্ত প্রবিধান এই আইন ও বিধির সহিত সংগতিপূর্ণ কিনা তাহা পরীতগা করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারিবে; এবং কমিশন তদনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
প্রকল্পের বিলুপ্তি ইত্যাদি
১০০৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইন বা কোন চুক্তি বা অন্য কোন দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন “বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) স্থাপন” শীর্ষক কারিগরী সহায়তা প্রকল্প বা কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই আইন প্রবর্তনের পূর্বে সরকার কর্তৃক গৃহীত অন্য কোন প্রকল্প, অতঃপর উক্ত প্রকল্প বলিয়া উল্লেখিত,-
 
 
 
 
(ক) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে বিলুপ্ত হইবে; এবং
 
 
(খ) বিলুপ্তির সংগে সংগে উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন সরকারের সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা এবং সুবিধাদি কমিশনে ন্যস্ত হইবে; এবং
 
 
 
 
(গ) উক্ত প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য শর্তাধীনে কমিশনের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন:
 
 
 
 
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রকল্প বিলুপ্তির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কমিশনের চাকুরীতে না থাকিবার ইচ্ছা ব্যক্ত করিলে তিনি উক্তরূপ ইচ্ছা ব্যক্ত করিবার তারিখ হইতে কমিশনের চাকুরীতে নিয়োজিত বলিয়া গণ্য হইবেন না৷
জটিলতা নিরসনে সরকারের ক্ষমতা
১০১৷ কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে এই আইনের বিধানে অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া গেজেটে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদান করতঃ কমিশনের করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতে পারিবে৷
আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ
১০২৷ এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ করিবে, এবং এই অনুবাদ অনুমোদিত ইংরেজী পাঠরূপে গণ্য হইবে, তবে এই আইন ও উক্ত পাঠের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে এই আইন কার্যকর হইবে৷
 
 

  • 1
    উপ-ধারা (২) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৭ নং আইন) এর ৩ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত৷
  • 2
    ধারা ৯৭ক, ৯৭খ এবং ৯৭গ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৭ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে সন্নিবেশিত৷
  • 3
    “সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে” শব্দগুলি "এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে" শব্দগুলির পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪১নং আইন) এর ৫৩ ধারাবলে সন্নিবেশিত।
Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs