প্রিন্ট ভিউ
[সেকশন সূচি]
দশম অধ্যায়
পরিদর্শন ও বাধ্যতামূলক গ্রহণ ও নিষ্পত্তি
1[৬৫। (১) এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধানে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা রহিয়াছে, উহার অতিরিক্ত হিসাবে কমিশন, এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার কোন বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অনধিক ৪৯ (উনপঞ্চাশ) কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইনের অধীন প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ সত্ত্বেও লঙ্ঘনকারীর নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাইবে, তবে এরূইপ জরিমানার বিধান কোম্পানির বিনিয়োগ এবং টার্নওভারের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হারে প্রয়োগ করিতে হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ৩৫(১), ৫৫(১) এবং ৫৭(২) লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এইরূপ প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।
(২) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারা বা বিধি বা প্রবিধানের অধীন কার্যক্রম গ্রহণ না করিলে, সেই ক্ষেত্রে কমিশন লঙ্ঘনকারীকে এই মর্মে একটি নোটিশ দিবে যে, তিনি উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর তাহার দোষ স্বীকার করিয়া নোটিশে নির্ধারিত প্রশাসনিক জরিমানা উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদানের মাধ্যমে দায়মুক্ত হইতে পারেন এবং এই ব্যাপারে তাহার কোন বক্তব্য থাকিলে তাহাও উপস্থাপন করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত লংঘনের ব্যাপারে-
(ক) এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রাসংগিক তথ্যাদিসহ নির্ধারিত নোটিশের ফরম পূরণ এবং দস্তখত করিয়া উক্ত নোটিশ-
(অ) অভিযুক্ত ব্যক্তির নিকট ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করিবেন; অথবা
(আ) উক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জানামতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ বাসস্থান বা কর্মস্থলের ঠিকানায় প্রেরণ করিবেন;
(খ) অভিযোগকৃত লঙ্ঘনের যে সকল বিষয় বিবেচনা ও যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হইবে এবং দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে আরোপণীয় প্রশাসনিক জরিমানার পরিমাণ কত হইবে তাহাও নোটিশে উল্লেখ করিবেন;
(গ) অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত লঙ্ঘন-
(অ) স্বীকার করিয়া নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক জরিমানা জমা দিতে পারিবেন;
(আ) স্বীকার করতঃ লংঘনের পরিস্থিতি বর্ণনাক্রমে উক্ত জরিমানা কমানোর জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কমিশন সমীপে আবেদন করিতে পারিবেন; বা
(ই) অস্বীকার এবং উহার সমর্থনে তাহার লিখিত বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় দলিল বা তথ্য পেশ করিয়া উক্ত জরিমানার দায় হইতে অব্যাহতির জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে কমিশন সমীপে আবেদন করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩)(গ) এর উপ-দফা (আ) বা (ই) এর অধীন আবেদন করা হইলে অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ধারা, বিধি বা প্রবিধানের অধীন আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা কমানোর জন্য বা উক্ত দায় হইতে অব্যাহতির জন্য নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে নোটিশ গ্রহীতা তাহার লিখিত বক্তব্য দাখিল করিলে কমিশন কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা সমগ্র বিষয়টি বিবেচনাক্রমে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন এবং এইরূপ সিদ্ধান্তের ৩ (তিন) দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে সিদ্ধান্তের অনুলিপি প্রদান করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সিদ্ধান্ত প্রদান তারিখের অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত পুনরীক্ষণের (revision) জন্য কমিশনের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ আবেদন সম্পর্কে কমিশন সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ও আবেদনকারীকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।
(৬) লঙ্ঘনকারী উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত নোটিশে অভিযোগকৃত লঙ্ঘন স্বীকার করিয়া প্রশাসনিক জরিমানার অর্থ জমা দিলে বা উপ-ধারা (৪) বা (৫) এর অধীনে তাহার অনুকূলে দায় মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রদত্ত হইলে তদনুযায়ী তিনি দায়মুক্ত হইবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত লঙ্ঘন অপরাধ হিসাবে বা প্রদত্ত জরিমানা অর্থদণ্ড হিসাবে গণ্য হইবে না।
(৭) কোন লঙ্ঘনকারী এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার অধীন তাহার উপর আরোপিত প্রশাসনিক জরিমানা জমা না দিলে বা নোটিশের প্রেক্ষিতে হাজির না হইলে উক্ত লঙ্ঘন একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তদনুসারে তিনি দণ্ডনীয় হইবেন।
(৮) এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিমালা বা প্রবিধানমালার যে সকল বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপণীয় সেই সকল ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণ করিলে, উপ-ধারা (৪), (৫), (৬) ও (৭) এর বিধান অনুসৃত হইবে।]