প্রিন্ট ভিউ

[সেকশন সূচি]

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১

( ২০০১ সনের ১৮ নং আইন )

চর্তুদশ অধ্যায়

বিবিধ

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও আইনানুগ ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত বিশেষ বিধান

1[2[৯৭ক।  (১) এই আইন বা অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, অথবা গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধের স্বার্থে, প্রয়োজনীয়তা (necessity), আনুপাতিকতা (proportionality) এবং আইনি বৈধতা (legality) নিশ্চিত করিয়া, সরকার কিংবা তদকর্তৃক নির্ধারিত কোনো অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কোনো টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারীর প্রেরিত বার্তা, কথোপকথন বা সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রতিহত, পর্যবেক্ষণ, ধারণ (intercept), সংরক্ষণ বা বিশ্লেষণের জন্য অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি বা অন্য কোনো সংস্থার তথ্য ভান্ডারের তথ্য সন্নিবেশ এবং বিশ্লেষণ করিতে পারিবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কোনো ইন্টারসেপশন কার্যক্রম আদালত বা ক্ষেত্রমত, সরকার কর্তৃক গঠিত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কার্যকর হইবে না; তবে জরুরি পরিস্থিতিতে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে ইন্টারসেপশন অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপুরণকল্পে সরকার একটি কেন্দ্রীয় আইনানুগ ইন্টারসেপশন সহায়তাকারী সংস্থা নির্ধারণ করিবে এবং উপধারা (১) ও (২) এর অধীন কার্যক্রমসমূহ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করিবে।

(৪) কোনো টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ প্রাপ্তির পর, উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে;

(৫) ইন্টারসেপশন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালন করিতে হইবে, যথা:-

(ক) ইন্টারসেপশন কেবলমাত্র অনুমোদিত সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত এবং আদালত বা সরকার কর্তৃক গঠিত কর্তৃপক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে সম্পাদিত হইবে;

(খ) ইন্টারসেপশনের সময়সীমা, পরিধি ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকিবে;

(গ) অন্য কোনো অনুপ্রবেশমূলক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব না হইলে কেবল সেই ক্ষেত্রেই ইন্টারসেপশন অনুমোদিত হইবে;

(ঘ) ইন্টারসেপশন কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ লগ, রেকর্ড ও নিরীক্ষা ট্রেইল সংরক্ষণ করিতে হইবে;

(ঙ) এই ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা ইন্টারসেপশন কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না;

(৬) ইন্টারসেপশনকৃত তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে হইবে এবং নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হইলে, যদি না উহা বিচারাধীন কার্যক্রমে প্রয়োজন হয়, তাহা ধ্বংস করিতে হইবে;

(৭) সরকার একটি স্বাধীন রিভিউ কাউন্সিল/ কমিটি গঠন করিবে, যাহা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইন্টারসেপশন কার্যক্রমের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও জবাবদিহিতা পর্যালোচনা করিবে;

(৮) রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণের মধ্যে ন্যায্য ভারসাম্য বজায় রাখিতে হইবে।

(৯) এই আইনের ধারা ৯৭ক এবং ৯৭খ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(১০) এই আইনের ধারা ৯৭ক এবং ৯৭খ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে "সরকার" বলতে "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়"কে বুঝাইবে।]


  • 1
    ধারা ৯৭ক, ৯৭খ এবং ৯৭গ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৭ নং আইন) এর ৪ ধারাবলে সন্নিবেশিত|
  • 2
    ধারা ৯৭ক বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৫১ নং আইন) এর ৬৪ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখ হইতে কার্যকর)।
Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs