প্রিন্ট ভিউ

রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬

( ২০০৬ সনের ৩৭ নং আইন )

প্রথম অধ্যায়

প্রাথমিক বিষয়াদি

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, প্রয়োগ ও প্রবর্তন
১৷ (১) এই আইন রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷
 
 
(২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে৷
 
 
(৩) সমগ্র বাংলাদেশে ইহার প্রয়োগ হইবে৷
সংজ্ঞা
২৷ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী না হইলে, এই আইনে-
 
 
(ক) “অনুমোদিত উদ্দেশ্য” অর্থ-
 
 
(অ) শিল্প, কৃষি, গবেষণা, চিকিত্সা, ঔষধশিল্প বা অন্য কোন শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার;
 
 
(আ) বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ও রাসায়নিক অস্ত্রের ক্ষতিকর প্রভাবের মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার;
 
 
(ই) রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সহিত সম্পর্কযুক্ত নহে এবং যুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান হিসাবে ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল নহে এমন সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার;
 
 
(ঈ) অভ্যন্তরীণ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণসহ আইন প্রয়োগের কাজে ব্যবহার;
 
 
(খ) “কনভেনশন” অর্থ ১৩ জানুয়ারী, ১৯৯৩ইং তারিখে প্যারিসে স্বাক্ষরিত রাসায়নিক অস্ত্রের উন্নয়ন, উত্পাদন, মজুদ ও উহার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং উহাদের ধ্বংসকরণ সম্পর্কিত কনভেনশন;
 
 
(গ) “চেয়ারম্যান” অর্থ জাতীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান;
 
 
(ঘ) “চ্যালেঞ্জ পরিদর্শন” অর্থ কনভেনশনের পক্ষভূক্ত অন্য কোন রাষ্ট্রের অনুরোধে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে, বা রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণাধীন, কোন স্থাপনা, স্থান ও যানবাহনে প্রতিপাদন পরিশিষ্টের নবম ভাগে বিধৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত পরিদর্শন;
 
 
(ঙ) “জাতীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ২৩ এর অধীন গঠিত জাতীয় কর্তৃপক্ষ;
 
 
(চ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;
 
 
(ছ) “তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য” অর্থ তফসিল ১, ২ বা ৩ এ বিধৃত যে কোন রাসায়নিক দ্রব্য;
 
 
(জ) “দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পদার্থ” অর্থ তফসিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্য নহে এমন রাসায়নিক দ্রব্য যাহার সংস্পর্শে মানুষের ইন্দ্রিয়দাহ্যতা বা শারীরিক অক্ষমতার সৃষ্টি করে এবং উক্ত সংস্পর্শের সমাপ্তিতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই যাহা দূরীভূত হয়;
 
 
(ঝ) “নির্বাহী সেল” অর্থ ধারা ২৮ এর অধীন গঠিত রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ ও নিরস্ত্রীকরণ সেল;
 
 
(ঞ) “নৈমিত্তিক পরিদর্শন” অর্থ প্রতিপাদন পরিশিষ্টের দ্বিতীয় হইতে নবম ভাগে বিধৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত পরিদর্শন;
 
 
(ট) “পরিচালক” অর্থ ধারা ২৮(৩) এর অধীন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পরিচালক;
 
 
(ঠ) “প্রতিপাদন পরিশিষ্ট (Verification Annex)” অর্থ কনভেনশনের প্রতিপাদন পরিশিষ্ট;
 
 
(ড) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ the Code of Criminal Procedurem 1898 (V of 1898);
 
 
(ঢ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
 
 
(ণ) “বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য” অর্থ জীবন প্রক্রিয়ার উপর রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে মানুষ বা প্রাণীর মৃত্যু ঘটানো, সাময়িক অক্ষমতা বা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হইতে পারে এমন কোন রাসায়নিক দ্রব্য এবং উত্স ও প্রস্তুত প্রণালী নির্বিশেষে, যুদ্ধোপকরণ প্রস্তুতকারী কারখানা বা অন্য কোন স্থানে উত্পাদিত হউক না কেন, এইরূপ সকল রাসায়নিক দ্রব্যও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
 
 
(ত) “ব্যক্তি” অর্থে কোম্পানী, সমিতি বা ব্যক্তি সমষ্টি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক, অন্তর্ভূক্ত হইবে;
 
 
(থ) “রাসায়নিক অস্ত্র” অর্থ-
 
 
(অ) কনভেনশনের অধীনে নিষিদ্ধ করা হয় নাই এমন উদ্দেশ্যে বা অনুমোদিত উদ্দেশ্যে যতটুকু পরিমাণের ও শ্রেণীর বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ও উহার সৃজন উপাদান ব্যবহার করা যাইবে, সে পরিমাণ ও শ্রেণীর অতিরিক্ত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ও উহার সৃজন উপাদানসমুহ;
 
 
(আ) দফা (অ) তে উল্লিখিত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের বিষাক্ত উপাদানের মাধ্যমে মৃত্যু বা অন্য কোন ক্ষতির কারণ ঘটাইবার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত যুদ্ধোপকরণ ও কৌশল যাহা প্রয়োগের ফলে বিষাক্ত উপাদান নির্গত (released) হইতে পারে;
 
 
(ই) দফা (আ) তে উল্লিখিত যুদ্ধোপকরণ বা কৌশল প্রয়োগের সহিত সরাসরি সম্পর্কিত বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত কোন সরঞ্জাম;
 
 
(দ) “সদস্য” অর্থ জাতীয় কর্তৃপক্ষের সদস্য;
 
 
(ধ) “সহায়তা পরিদর্শন” অর্থ প্রতিপাদন পরিশিষ্টের দ্বিতীয় ও একাদশ ভাবে বিধৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত পরিদর্শন;
 
 
(ন) ”সৃজন-উপাদন (Precursor)” অর্থ যে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ক যাহা যে কোন পদ্ধতিতে বা বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য উত্পাদনের যে কোন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে এবং দ্বিযোগ বা বহুযোগ উপাদানবিশিষ্ট রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মূল উপাদানও ইহার অন্তর্ভূক্ত;
 
 
(প) “সংস্থা” অর্থ কনভেনশনের অধীন স্থাপিত Organization for the Prohibition of Chemical Weapons৷
আইনের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ
৩৷ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে-
 
 
(ক) বাংলাদেশের কোন নাগরিক বা বাংলাদেশের পক্ষে চাকুরীতে কর্মরত কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়া থাকিলে; এবং
 
 
(খ) বাংলাদেশের কোন জাহাজ বা বিমানে আরোহণরত বা অবস্থানরত কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধ সংঘঠিত হইয়া থাকিলে৷
আইনের প্রাধান্য
৪৷ আপাততঃ বলবত্ কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
 
 

Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs