প্রিন্ট ভিউ

আয়কর আইন, ২০২৩

( ২০২৩ সনের ১২ নং আইন )

Income-tax Ordinance, 1984 রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন 

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর ও বলবৎ রাখা হয়; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলা ভাষ্যে নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু আয়কর, অগ্রিম আয়কর, উৎসে কর, ন্যূনতম কর, সারচার্জ ও অন্য কোনো প্রকারের কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984) রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম এবং প্রবর্তন

১।  (১) এই আইন আয়কর আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২।  বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(১) “অবলোপিত মূল্য” অর্থ তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ সংজ্ঞায়িত অবলোপিত মূল্য;

(২) “অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) এবং যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল);

(৩) “অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার;

(৪) “অনিবাসী” অর্থ নিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;

(৫) “অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ২ এর বিধান অনুসারে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল;

(৬) “অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ১ এর বিধান অনুসারে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল;

(৭) “অংশীদার” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো অংশীদার এবং লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে অংশীদার হিসাবে বিবেচিত কোনো নাবালকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮) “অংশীদারিত্ব” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে অংশীদারিত্ব;

(৯) “আইনগত প্রতিনিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর section 2 এর clause (11) এ সংজ্ঞায়িত কোনো আইনগত প্রতিনিধি;

(১০) “আত্মীয়” অর্থ কোনো ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন বা বংশানুক্রমিক পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি;

(১১) “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

(১২) “আপিল ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর আপিল ট্রাইব্যুনাল;

(১৩) “আয়” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর আরোপণযোগ্য যেকোনো উৎস হইতে উদ্ভূত আয়, প্রাপ্তি, মুনাফা বা অর্জন;

(খ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন উৎসে কর্তন বা সংগ্রহযোগ্য যেকোনো পরিমাণ অর্থ;

(গ) উপ-দফা (ক) তে উল্লিখিত আয়, মুনাফা বা অর্জন সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষতি;

(ঘ) চতুর্থ তফসিল এর ৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ধার্যকৃত মিউচুয়াল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালিত কোনো বিমা ব্যবসা হইতে অর্জিত মুনাফা বা প্রাপ্তি;

(ঙ) এই আইনের যেকোনো বিধানের অধীন আয় হিসাবে গণ্য বা বিবেচিত যেকোনো অর্থ, অথবা বাংলাদেশে উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত যেকোনো আয় অথবা উপচিত, উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত হিসাবে বিবেচিত যেকোনো অর্থ;

(চ) কর আরোপ করা হয় এইরূপ যেকোনো পরিমাণ অর্থ, পরিশোধ বা লেনদেন;

(১৪) “আয়কর” অর্থ এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য যেকোনো প্রকারের কর বা সারচার্জ;

(১৫) “আয়বর্ষ” অর্থ করবর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থবৎসর এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) কোনো ব্যবসা প্রথম শুরুর তারিখ হইতে পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;

(খ) নূতনভাবে কোনো আয়ের উদ্ভব ঘটিলে যে তারিখ হইতে তাহা শুরু হইয়াছে সেই তারিখ হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;

(গ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া কোনো ব্যবসা সমাপ্তির তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, অনিগমিত কোনো সংস্থার বিলুপ্তি বা কোনো কোম্পানির অবসানের তারিখ পর্যন্ত সময়;

(ঘ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সময়;

(ঙ) অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী তারিখ হইতে উক্ত অনিগমিত সংস্থার অপর কোনো অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ;

(চ) কোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা উহার কোনো সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বৎসরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী ১২ (বারো) মাস:

তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো মূল কোম্পানির সহযোগী কোম্পানি, সহযোগী কোম্পানির সহযোগী কোম্পানিসহ, বা উহার কোনো হোল্ডিং কোম্পানি বা উহার কোনো ব্রাঞ্চ, রিপ্রেজেন্টেটিভ বা লিয়াজোঁ অফিসের ক্ষেত্রে, যদি উক্তরূপ কোম্পানি উহার হিসাব মূল কোম্পানির হিসাবের সহিত সমন্বয় করিবার উদ্দেশ্যে ভিন্ন কোনো আয়বর্ষ অনুসরণ করিবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে, তাহা হইলে, উপকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, পৃথক কোনো ১২ (বারো) মাস আয়বর্ষ হিসাবে গণ্য হইতে পারিবে;

(১৬) “আয়ের উপর প্রদেয় কর” অর্থ এই আইনের অধীন আয়ের ভিত্তিতে আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থ;

(১৭) “উপকর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত উপকর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি, এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং অফিসার, সহকারী কর কমিশনার, অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার ও ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৮) “একীভূতকরণ (merger)” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত একীভূতকরণ;

(১৯) “কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর কমিশনার বা কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট);

(২০) “কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর কমিশনার (আপিল);

(২১) “কর” অর্থ আয়ের উপর প্রদেয় কর, এবং যেকোনো অতিরিক্ত কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, দণ্ড কর, সুপার কর, জরিমানা, সুদ, ফি অথবা এই আইনের অধীন অন্যবিধ আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২২) “করদাতা” অর্থ করারোপযোগ্য অর্থ উপার্জনকারী কোনো ব্যক্তি এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:

(ক) এই আইনের অধীন কোনো কর বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;

(খ) এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি-

(অ) যাহার আয়, অথবা যাহার আয়ের সহিত অন্য কোনো ব্যক্তির আয় নির্ধারণযোগ্য; অথবা

(আ) যাহার বা অপর ব্যক্তির প্রাপ্য পাওনা নির্ধারণের জন্য এই আইনের অধীন কার্যক্রম গৃহীত হইয়াছে;

(গ) যাহাকে ন্যূনতম কর পরিশোধ করিতে হইবে;

(ঘ) কোনো রিটার্ন, দলিল বা বিবরণী দাখিলে বা তথ্য প্রদানে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;

(ঙ) কর নির্ধারণে ইচ্ছুক এবং রিটার্ন দাখিলকারী কোনো ব্যক্তি;

(চ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন করদাতা বা খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য কোনো ব্যক্তি;

(ছ) যাহার বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা হইয়াছে;

(২৩) “করদিবস” অর্থ-

(ক) কোম্পানি ব্যতীত কোনো করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নভেম্বর মাসের ৩০ (ত্রিশ) তম দিন;

(খ) কোম্পানির ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী সপ্তম মাসের ১৫ (পনেরো) তম দিন অথবা যেইক্ষেত্রে উক্ত পনেরোতম দিন সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ (পনেরো) তম দিনের পূর্বের তারিখে পড়ে, সেইক্ষেত্রে আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাসের পনেরোতম দিন;

(গ) পূর্বে কখনোই রিটার্ন দাখিল করেন নাই এইরূপ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে আয়বর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ৩০ জুন তারিখ;

(ঘ) বিদেশে অবস্থানরত কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে, তার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন হইতে ৯০ (নব্বই) তম দিন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তি-

(অ) উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটিতে অথবা চাকরির জন্য প্রেষণে বা লিয়েনে নিযুক্ত হইয়া বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন; বা

(আ) অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসা এবং পারমিটধারী হয়ে বাংলাদেশে বাহিরে অবস্থান করেন;

(ঙ) যদি উপ-দফা (ক) ও (খ) তে উল্লিখিত দিন সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহা হইলে উক্ত দিনের অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস;

(২৪) “করবর্ষ” অর্থ প্রত্যেক বৎসর জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া ১২ (বারো) মাস মেয়াদ এবং এই আইনের বিধানাবলির অধীন করবর্ষ হিসাবে গণ্য কোনো মেয়াদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২৫) “কর্মচারী” অর্থ কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে, অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য যেকোনো পরিচালক ও এইরূপ কোনো ব্যক্তি এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, পদবি নির্বিশেষে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সহিত সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালন করেন;

(২৬) “কর অব্যাহতি” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে নিম্নবর্ণিত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই আইনের অধীন উদ্ভূত কোনো করদায় হইতে আংশিক বা সম্পূর্ণ মুক্ত করা, যথা:-

(ক) রেয়াত, অবকাশ, অব্যাহতি;

(খ) হ্রাসকৃত হারে কর পরিশোধ; বা

(গ) মোট আয় পরিগণনা হইতে কোনো আয় বাদ দেয়া;

(২৭) “করমুক্ত সীমা” অর্থ মোট আয়ের কোনো সীমা যাহা শূন্য করহার বিশিষ্ট;

(২৮) “করারোপিত লভ্যাংশ” অর্থ সেই লভ্যাংশ আয় যাহার উপর ইতোমধ্যে এই আইনের অধীন আয়কর পরিশোধ করা হইয়াছে;

(২৯) “কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস্‌ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৭০ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট;

(৩০) “কারিগরি সেবার ফি” অর্থ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি বা পরামর্শক সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিদান, এককালীন প্রাপ্ত প্রতিদানসহ, এবং কোনো কারিগরি বা অন্য কোনো পেশাজীবীর সেবাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) প্রতিদান গ্রহীতা কর্তৃক গৃহীত কোনো নির্মাণ কার্য, যন্ত্রাদি জোড়া প্রদানের কার্য, খনি বিষয়ক কার্য বা এইরূপ বিষয় সংক্রান্ত প্রকল্প হইতে প্রাপ্য প্রতিদান; অথবা

(খ) প্রতিদান গ্রহীতার “চাকরি হইতে আয়” আয় হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য কোনো প্রতিদান;

(৩১) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো কোম্পানি, এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের লিয়াজোঁ অফিস, রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস বা ব্রাঞ্চ অফিস;

(খ) যেকোনো বিদেশি সত্তা বা ব্যক্তির স্থায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান;

(গ) বাংলাদেশের বাহিরের কোনো দেশের আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;

(ঘ) যেকোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

(ঙ) যেকোনো শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠন, ফাউন্ডেশন, সমিতি, সমবায় সমিতি এবং যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

(চ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির সহিত নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান;

(ছ) কোনো ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, জয়েন্ট ভেঞ্চার বা ব্যক্তিবর্গের সংগঠন, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তিবর্গের কেহ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো কোম্পানি বা বিদেশি সত্তা হয়;

(জ) সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা;

(ঝ) আপাতত বলবৎ কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা গঠিত যেকোনো সত্ত্বা;

(ঞ) স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও তহবিল ব্যতীত অন্য সকল সত্ত্বা;

(ট) কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিগমিত নহে, এইরূপ কোনো বিদেশি সংঘ বা সংস্থা যাহা, বোর্ড কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোম্পানি হিসাবে ঘোষিত হইতে পারে;

(৩২) “খেলাপি করদাতা” অর্থ-

(ক) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী কোনো কর পরিশোধে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(খ) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইয়াছেন;

(৩৩) “গবেষণা ও উন্নয়ন” অর্থ প্রণালিবদ্ধ (systematic), অনুসন্ধানী (investigative) এবং পরীক্ষামূলক (experimental) অধ্যয়ন যাহা-

(ক) অভিনব অথবা কারিগরি ঝুঁকি সংবলিত হইতে হইবে;

(খ) বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি জগতের হইতে হইবে;

(গ) নূতন জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হইতে হইবে; অথবা

(ঘ) উৎপাদন অথবা উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, কৃষিপণ্য বা প্রক্রিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে অধ্যয়নের ফলাফল ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হইতে হইবে,

তবে নিম্নবর্ণিত লক্ষ্যে পরিচালিত অধ্যয়ন গবেষণা বা উন্নয়ন অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(অ) উপকরণ, যন্ত্র বা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ বা রুটিন টেস্টিং;

(আ) শিল্পকলা ও মানবতা এবং সামাজিক বিজ্ঞানে পরিচালিত গবেষণা;

(ই) আর্থিক দলিলাদি বা আর্থিক পণ্যের সৃষ্টি ও উন্নয়ন;

(ঈ) বাজার গবেষণা বা বিক্রয় প্রচার, রুটিন উপাত্ত (data) সংগ্রহ, ইফিসিয়েন্সি সার্ভে বা ব্যবস্থাপনা অধ্যয়ন;

(উ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির রুটিন অদলবদল বা পরিবর্তন;

(ঊ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির সামান্য (cosmetic) অদলবদল বা স্টাইলের পরিবর্তন; বা

(ঋ) ট্রেডমার্ক বা সুনাম সৃষ্টি বা উন্নতি;

(৩৪) “গণকর্মচারী” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো গণকর্মচারী;

(৩৫) “চাকরি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) কোনো পদ যাহাতে নিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত বা, সময় সময়, নির্ধারিতব্য পারিশ্রমিক প্রাপ্তির অধিকারী;

(খ) কোনো পরিচালক পদ বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো পদ;

(গ) সরকারি অফিসের কোনো পদের দায়িত্বে থাকা বা কার্য করা;

(৩৬) “চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) এ সংজ্ঞায়িত কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট;

(৩৭) “ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট” বা “প্রফিট এন্ড লস অ্যাকাউন্ট” অর্থে International Financial Reporting Standards (IFRS) এর আওতায় প্রস্তুতকৃত আয় বিবরণী এবং হিসাব সংক্রান্ত অন্যান্য সমরূপ বিবরণীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৩৮) “ট্রাস্ট” অর্থ Trust Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর অধীন গঠিত ট্রাস্ট এবং Specific Relief Act, 1877 (Act No. II of 1877) এ সংজ্ঞায়িত ট্রাস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে ট্রাস্ট কোনো কোম্পানি বা তহবিল গঠনের পূর্বশর্ত অথবা কোম্পানি বা তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানি বা, ক্ষেত্রমত, তহবিল করযোগ্য সত্ত্বা হইবে এবং ট্রাস্ট করযোগ্য সত্ত্বা হিসাবে বিবেচিত হইবে না;

(৩৯) “ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;

(৪০) “ডিমার্জার” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত ডিমার্জার;

(৪১) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর article 2(j) -তে সংজ্ঞায়িত কোনো তফসিলি ব্যাংক;

(৪২) “তহবিল” অর্থ আপাতত বলবৎ কোনো আইন বা বিধির অধীন সৃষ্ট বা স্বীকৃত কোনো তহবিল;

(৪৩) “দাতব্য উদ্দেশ্য” অর্থ-

(ক) দরিদ্রের জন্য ত্রাণ, শিক্ষা ত্রাণ, চিকিৎসা ত্রাণ; এবং

(খ) সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার,

তবে সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার দাতব্য উদ্দেশ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না-

(অ) যদি না উহা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়; এবং

(আ) যদি উহা নিম্নবর্ণিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়-

(১) কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসায় প্রকৃতির কোনো কার্যক্রম উহা যেকোনো ধরনের বা প্রকারের হউক না কেন; অথবা

(২) পণের বিনিময়ে কোনো সেবা প্রদান করিলে এবং কোনো আয়বর্ষে এইরূপ পণের মোট মূল্য ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে;

(৪৪) “ধারকৃত অর্থ” অর্থে ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে জমার মাধ্যমে গৃহীত অর্থও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৪৫) “নিবাসী” অর্থ কোনো আয়বর্ষে-

(ক) এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি নিম্নবর্ণিত সময়ব্যাপী বাংলাদেশে অবস্থান করিয়াছেন-

(অ) ধারাবাহিকভাবে অথবা উক্ত বর্ষে সমষ্টিগতভাবে ন্যূনতম ১৮৩ (একশত তিরাশি) বা ততোধিক দিন; বা

(আ) উক্ত বর্ষে ধারাবাহিকভাবে বা সমষ্টিগতভাবে সর্বমোট ৯০ (নব্বই) দিন বা ততোধিক দিন এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪ (চার) বৎসরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে মোট ৩৬৫ (তিনশত পঁয়ষট্টি) অথবা ততোধিক দিন;

(খ) কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;

(গ) কোনো বাংলাদেশি কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানি যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে সংঘটিত হইয়াছে; এবং

(ঘ) কোনো ট্রাস্ট, তহবিল, সত্ত্বা বা আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা যাহাদের সৃষ্টি বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন হইয়াছে বা যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;

(৪৬) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(৪৭) “নিয়োগকর্তা” অর্থে প্রাক্তন নিয়োগকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৪৮) “ন্যায্য বাজার মূল্য” অর্থ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য;

(৪৯) “পণ্য” অর্থ সিকিউরিটিজ ও অর্থ ব্যতীত সকল প্রকার দৃশ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি;

(৫০) “পণ্য সরবরাহ” অর্থ-

(ক) পণ্যের বিক্রয়, বিনিময় বা অন্যবিধভাবে পণ্যের অধিকার হস্তান্তর; বা

(খ) লিজ, ভাড়া, কিস্তি বা অন্য কোনোভাবে পণ্যে ব্যবহারের অধিকার প্রদান এবং ফাইন্যান্স লিজের অধীন পণ্য বিক্রয় ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫১) “পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার এবং পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনার;

(৫২) “পরিদর্শক” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর পরিদর্শক;

(৫৩) “পরিচালক” বা “ব্যবস্থাপক” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো পরিচালক বা ব্যবস্থাপক;

(৫৪) “প্রধান কর্মকর্তা” অর্থে কোনো কোম্পানি, সংস্থা বা ব্যক্তিসংঘের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:-

(ক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, কোষাধ্যক্ষ, এজেন্ট বা অ্যাকাউন্টেন্ট, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অথবা উক্ত কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি, সংস্থা বা সংঘের কার্যাদি পরিচালনা বা হিসাব সম্পাদনের জন্য দায়ী কোনো কর্মকর্তা; এবং

(খ) কোনো কোম্পানি, সংস্থা বা সংঘের ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি যাহাকে উপকর কমিশনার কর্তৃক উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা গণ্যে নোটিশ করা হইয়াছে;

(৫৫) “পারকুইজিট” অর্থ ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট;

(৫৬) “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি” অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৩১ এর অধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি;

(৫৭) “ফটকা কারবার” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যবসা যেইক্ষেত্রে পণ্যের ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তি এইরূপভাবে সম্পন্ন করা হয়, যাহার ফলে পণ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরিত বা সরবরাহ না করিয়াও অন্যভাবে নিষ্পত্তি হইতে পারে, তবে এইরূপ কোনো ব্যবসা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যাহাতে-

(ক) কোনো কাঁচামাল অথবা পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করিবার সময় ভবিষ্যৎ দরদাম হ্রাসবৃদ্ধি জনিত লোকসান হইতে অব্যাহতি পাইবার জন্য উহার নিশ্চিত মূল্য প্রাপ্তির স্বার্থে কোনো উৎপাদক যথাযথভাবে বিলি বণ্টন বা সরবরাহ করিবার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়;

(খ) দরদাম হ্রাসবৃদ্ধির কারণে স্বীয় দখলীকৃত স্টক ও শেয়ারের লোকসানের আশঙ্কা হইতে অব্যাহতি পাইবার লক্ষ্যে ডিলার বা বিনিয়োগকারীর সহিত স্টক ও শেয়ারের বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করা হয়; এবং

(গ) অগ্রিম বাজার বা স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো সদস্য তাহার পাইকারি ও মধ্যস্বত্ব প্রকৃতির ব্যবসার লোকসানে, যাহা উক্ত সদস্যের ব্যবসার স্বাভাবিকতায় দেখা দিতে পারে, এইরূপ আশঙ্কার প্রতিকারার্থে কোনো চুক্তি সম্পাদন করেন;

ব্যাখ্যা। - এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(অ) পণ্য অর্থে শেয়ার বা স্টকও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(আ) কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় ফটকা কারবার হিসাবে অভিহিত হইবে না;

(৫৮) “ফার্ম” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ফার্ম;

(৫৯) “বৎসর” অর্থ অর্থবৎসর;

(৬০) “বাজারমূল্য” অর্থ-

(ক) যেইক্ষেত্রে কৃষিজাত পণ্য কাঁচা অবস্থায় সাধারণভাবে বাজারে বিক্রয় করা হয় বা উৎপাদনের সহিত নিযুক্ত কৃষকের মাধ্যমে বিক্রয়ার্থে প্রক্রিয়াজাতপূর্বক বিক্রয় উপযোগী করা হয়, সেইক্ষেত্রে পণ্যটি হইতে উদ্ভূত আয়ের উপর সর্ব প্রথম যেই বৎসর কর নির্ধারণ করা হইবে উহার পূর্ববর্তী সমগ্র বৎসরব্যাপী উহা যে মূল্যে বিক্রয় করা হইয়াছে উহার গড়মূল্য; এবং

(খ) যেইক্ষেত্রে উক্ত কৃষিজাত পণ্য সাধারণত কাঁচা অবস্থায় বাজারে বিক্রয় করা না হইয়া থাকে, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অর্থের সমষ্টি¾

(অ) চাষাবাদের ব্যয়;

(আ) উৎপাদিত ফসল যে ভূমিতে জন্মায় উক্ত ভূমি উন্নয়ন কর বা ভাড়া; এবং

(ই) উপকর কমিশনার কর্তৃক কৃষিপণ্য হিসাবে বিবেচিত ও তর্কিত পণ্যের ‌বিক্রয়মূল্যের উপর পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে যুক্তিসঙ্গতভাবে নির্ধারিত মুনাফার হার;

(৬১) “বাংলাদেশি কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত ও নিগমিত কোনো কোম্পানি, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত কার্যালয় রহিয়াছে এইরূপ কোনো সত্ত্বাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৬২) “বার্ষিক মূল্য” অর্থ কোনো সম্পত্তি ভাড়ার ক্ষেত্রে-

(ক) বৎসরান্তে সম্পত্তির যুক্তিসংগত ভাড়া; বা

(খ) যেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ উপ-দফা (ক) অনুযায়ী নিরূপিত অঙ্কের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া;

(৬৩) “বিক্রয়লব্ধ অর্থ” অর্থ-

(ক) পরিসম্পদ বিক্রয় করা হইলে উক্ত পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা ন্যায্য বাজার মূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক;

(খ) বিনিময়ের মাধ্যমে পরিসম্পদ হস্তান্তর হইলে উক্ত হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;

(গ) বিক্রয় বা বিনিময় ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পরিসম্পদ হস্তান্তর করা হইলে উক্ত হস্তান্তরের বিনিময়ে প্রাপ্ত পণমূল্য;

(ঘ) কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন, ধ্বংস বা হারাইয়া গেলে উক্ত পরিসম্পদের স্ক্র্যাপ মূল্য, বা পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য অর্থসহ উহা বিক্রয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অর্থ;

(ঙ) বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ অধিগ্রহণ করা হইলে, অধিগ্রহণকৃত বাবদ পরিশোধিত ক্ষতিপূরণ;

(চ) করদাতার কৃষিকাজে পরিসম্পদের ব্যবহার সমাপ্ত হইলে, সমাপ্ত হইবার সময় উক্ত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;

(ছ) কোনো প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে ব্যবহারের পর তাহা বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা হস্তান্তর হইলে প্রাপ্ত রপ্তানি মূল্য;

(জ) কোনো যাত্রীবাহী যানের মূল্য তৃতীয় তফসিলের অধীন সর্বোচ্চসীমা সাপেক্ষে হইলে তাহার পরিমাণ হইবে –

ক × (খ/গ), যেখানে-

ক= যানটি বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ;

খ= তৃতীয় তফসিলে যেই পরিমাণ উল্লেখ করা হইয়াছে;

গ= যানটি অর্জনের জন্য নির্বাহকৃত প্রকৃত ব্যয়;

ব্যাখ্যা।-“বিক্রয়” অর্থে বিনিময় বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর বা বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যকভাবে অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৬৪) “বিদেশি কোম্পানি” অর্থ কোনো কোম্পানি যাহা বাংলাদেশি কোম্পানি নহে;

(৬৫) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৬৬) “বৈজ্ঞানিক গবেষণা” অর্থ জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে প্রাকৃতিক বা ফলিত বিজ্ঞান বিষয়ে পরিচালিত কোনো কার্যক্রম;

(৬৭) “বৈজ্ঞানিক গবেষণামূলক ব্যয়” অর্থে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি বিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত দান অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) অবচয় বা অ্যার্মোটাইজেশন ভাতা প্রযোজ্য এইরূপ কোনো পরিসম্পদ বা স্পর্শাতীত (intangible) পরিসম্পদ অধিগ্রহণ;

(খ) স্থায়ী পরিসম্পদ অধিগ্রহণ; বা

(গ) কোনো প্রাকৃতিক পরিসম্পদের অস্তিত্ব, অবস্থান, ব্যাপ্তি বা মান নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;

(৬৮) “বোর্ড” অর্থ National Board of Revenue Order, 1972 (President’s Order No. 76 of 1972) এর article 3 এর clause (1) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;

(৬৯) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ট্রাস্ট, তহবিল ও কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭০) “ব্যবসা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদন;

(খ) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদনধর্মী কোনো ঝুঁকি গ্রহণ বা কর্মপ্রচেষ্টা;

(গ) লাভজনক বা অলাভজনক কোনো সত্তার পণ্য বা সেবার বিনিময়; বা

(ঘ) যেকোনো পেশা বা বৃত্তি;

(৭১) “ব্যাংক কোম্পানি” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ব্যাংক-কোম্পানী, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে এইরূপ কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭২) “ব্যাংক ট্রান্সফার” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) ব্যাংকের এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে ক্রসড চেক বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোনো পন্থায় অর্থের স্থানান্তর;

(খ) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর মাধ্যমে এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর;

(গ) চালানের মাধ্যমে সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি, চার্জ, শুল্ক-করাদি বা অন্য কোনো অর্থ সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুকূলে পরিশোধ;

(৭৩) “মজুদ” অর্থ ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায়-

(ক) উৎপাদিত বা তৈরিকৃত যেকোনো কিছু;

(খ) তৈরি, বিক্রয় বা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে আহরিত বা ক্রয়কৃত যেকোনো কিছু; অথবা

(গ) উৎপাদন বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হইয়াছে এইরূপ সকল উপাদান বা সরবরাহ,

তবে শেয়ার বা স্টক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৭৪) “মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);

(৭৫) “মহাপরিচালক (পরিদর্শন)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (পরিদর্শন);

(৭৬) “মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ);

(৭৭) “মূলধনি পরিসম্পদ” অর্থ-

(ক) কোনো করদাতা কর্তৃক ধারণকৃত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সম্পত্তি;

(খ) কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ (undertaking) সামগ্রিকভাবে বা ইউনিট হিসাবে;

(গ) কোনো শেয়ার বা স্টক,

তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(অ) করদাতার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ধারণকৃত কোনো মজুদ, ভোগ্য পণ্য বা কাঁচামাল;

(আ) ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, যেমন- অস্থাবর সম্পত্তি অর্থে অন্তর্ভুক্ত পরিধেয় পোশাক, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, ফিক্সার বা কারুপণ্য, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন যাহা করদাতা কর্তৃক অথবা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় এবং তাহার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় নাই;

(৭৮) “মোট আয়” অর্থ এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে হিসাবকৃত ধারা ২৬ এ উল্লিখিত মোট আয়, এবং তৎসহ এই আইনের বিধানাবলির অধীন কোনো করদাতার সর্বমোট আয়ের সহিত সংযুক্ত হইতে পারে এইরূপ অন্য যেকোনো আয়;

(৭৯) “রয়্যালটি” অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জিত হইতে পারে এইরূপ কোনো প্রতিদান এবং “মূলধনি আয়” খাতে প্রাপকের আয় হিসাবে গণ্য প্রতিদান ব্যতীত এককালীন কোনো প্রতিদানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির অনুমোদিত লাইসেন্সসহ সকল বা যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর করিবার মাধ্যমে;

(খ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;

(গ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির এইরূপ সম্পত্তি ব্যবহার করিবার মাধ্যমে;

(ঘ) প্রযুক্তিগত, শৈল্পিক, বাণিজ্যিক বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা কলা-কৌশল সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;

(ঙ) সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের বিক্রয়, বিতরণ বা প্রদর্শন ব্যতীত কপিরাইট বা ফিল্মের লাইসেন্স প্রদানসহ যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর; অথবা

(চ) পূর্বে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের সহিত সম্পৃক্ত কোনো সেবা প্রদানের মাধ্যমে;

(৮০) “রপ্তানি” অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার বাহিরে কোনো পণ্য বা সেবার সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাক টু ব্যাক এলসির অধীন রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ ও রপ্তানি অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮১) “লভ্যাংশ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ, যদি এইরূপ বণ্টনের ফলে কোম্পানির পরিসম্পদ বা রিজার্ভ পূর্ণ বা আংশিকভাবে হ্রাস পায়;

(খ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, যেকোনো প্রকারের ডিবেঞ্চার, ডিবেঞ্চার স্টক বা ডিপোজিট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ;

(গ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানির অবসায়নকালে উক্তরূপ অবসায়নের অব্যবহিত পূর্বে কোম্পানির পুঞ্জিভূত মুনাফা আকারে সংরক্ষিত অর্থ হইতে উহার শেয়ার হোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;

(ঘ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, মূলধন হ্রাসকরণের জন্য কোম্পানি কর্তৃক উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;

(ঙ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে প্রেরিত কোনো মুনাফা;

(চ) কোনো মিউচুয়াল ফান্ড, রিয়াল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, একচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এর মুনাফা বিতরণ;

(ছ) কোনো প্রাইভেট কোম্পানি উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা হইতে কোনো শেয়ারহোল্ডারগণকে অগ্রিম বা ঋণ হিসাবে পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ, উহা কোম্পানির পরিসম্পদের অংশ হউক বা না হউক, অথবা এইরূপ কোনো শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এইরূপ কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ,

তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(অ) যেইক্ষেত্রে কোম্পানির অবসায়নকালে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির উদ্বৃত্ত পরিসম্পদে অংশীদারিত্বের অধিকারী নহে, সেইক্ষেত্রে উপ-দফা (গ) বা (ঘ) অনুসারে অগ্রাধিকার শেয়ারসহ যেকোনো শেয়ারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নগদ অর্থ আকারে বিতরণ, অথবা ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার-স্টকের দায়মোচন;

(আ) যেইক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করাই কোনো কোম্পানির মূল ব্যবসা সেইক্ষেত্রে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় কোনো শেয়ারহোল্ডারকে প্রদত্ত অগ্রিম বা ঋণ;

(ই) কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধকৃত কোনো লভ্যাংশ যাহা ইতঃপূর্বে পরিশোধিত সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো অর্থের বিপরীতে কোম্পানি কর্তৃক সমন্বয় করা হইয়াছে এবং উপ-দফা (ঙ) এর অর্থে লভ্যাংশ হিসাবে বিবেচিত, যাহার ক্ষেত্রে উক্তরূপে সমন্বয় করা হইয়াছে ততটুকু;

(ঈ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত বোনাস শেয়ার;

ব্যাখ্যা।-“পুঞ্জিভূত মুনাফা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে,-

(ক) এই দফায়, এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য কোনো ভাতা, কর্তন বা অব্যাহতির মাধ্যমে সৃষ্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ রিজার্ভ;

(খ) উপ-দফা (ক), (খ) ও (ঘ) এর ক্ষেত্রে, এইরূপ বণ্টনের তারিখ পর্যন্ত কোম্পানির সকল মুনাফা; এবং

(গ) উপ-দফা (গ) এর ক্ষেত্রে, কোম্পানিটি অবসায়নের তারিখ পর্যন্ত উহার সকল মুনাফা;

(৮২) “শেয়ারহোল্ডার” অর্থে অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮৩) “সদস্য (কর)” অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর) হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;

(৮৪) “সন্তান” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তির সৎ সন্তান ও পোষ্য সন্তানও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮৫) “সমবায় সমিতি” অর্থ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭ নং আইন), বা সমবায় সমিতি নিবন্ধন সম্পর্কিত আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সমবায় সমিতি;

(৮৬) “সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন সহকারী কর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;

(৮৭) “সিকিউরিটিজ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে¾

(ক) সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল, বন্ড, mÂqcÎ, ঋণপত্র (Debenture), সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত সিকিউরিটি বা অনুরূপ দলিল;

(খ) কোনো কোম্পানি বা আইনগত সত্তা বা ইস্যুয়ার কর্তৃক ইস্যুকৃত শেয়ার বা স্টক, বন্ধক বা চার্জ বা হাইপোথিকেশনের মাধ্যমে ইস্যুকৃত দলিল, বন্ড, ডিবেঞ্চার, ডেরিভেটিভস, মিউচুয়াল ফান্ড বা অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসহ যেকোনো যৌথ বিনিয়োগ স্কিমের ইউনিট, সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত অনুরূপ দলিল, এবং পূর্বোল্লিখিত দলিল গ্রহণার্থে ক্রয়ের অধিকার বা ক্ষমতাপত্র (warrant):

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মুদ্রা বা নোট, ড্রাফট, চেক, বিনিময়পত্র, ব্যাংকের স্বীকৃতিপত্র, ব্যবসায়িক দেনাদারদের নিকট প্রাপ্য অর্থ (trade receivables) বা ব্যবসায়িক পাওনাদারদেরকে প্রদেয় অর্থ (trade payables) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৮৮) “সুদ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) যেকোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা, যেমন- ঋণ, ধার, ট্রেড ক্রেডিট, অগ্রিম, সিকিউরিটি বা গ্যারান্টির বিপরীতে পরিশোধিত যেকোনো প্রকারের সুদ বা আর্থিক দায়; বা

(খ) সেবা ফি বা এইরূপ কোনো প্রকারের দায় বা পরিশোধ যাহা আর্থিক সমতুল্যে সুদ হিসাবে গণ্য হইবে,

তবে অর্থ বা মূলধন সংগ্রহের সহিত জড়িত ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৮৯) “সেবা” অর্থ যেকোনো সেবা, তবে পণ্য, স্থাবর সম্পত্তি এবং অর্থ (money) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৯০) “স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল” অর্থ এইরূপ ভবিষ্য তহবিল যাহা দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ৩ এর বিধানাবলির অধীন কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত;

(৯১) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ;

(৯২) “স্থায়ী স্থাপনা (permanent establishment)” অর্থ ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে, ব্যবসার সেইরূপ নির্দিষ্ট স্থান বা কার্যক্রম যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ ব্যবসা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়, এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) ব্যবস্থাপনার কোনো স্থান;

(খ) কোনো শাখা;

(গ) কোনো এজেন্সি;

(ঘ) কোনো অফিস;

(ঙ) কোনো গুদাম;

(চ) কোনো কারখানা;

(ছ) কোনো কর্মশিবির;

(জ) কোনো খনি, তৈল অথবা গ্যাসকূপ, ভূ-গর্ভস্থ খাদ অথবা প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন বা আহরণের জন্য অন্য কোনো স্থান;

(ঝ) কোনো খামার বা বৃক্ষায়ন;

(ঞ) কোনো নির্মাণ স্থান, কোনো নির্মাণ, স্থাপন বা সংযোজন প্রকল্প বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো তদারকি কার্যক্রম;

(ট) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বা উক্ত ব্যক্তির দ্বারা এই উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কোনো জনবল কর্তৃক কনসালটেন্সি সেবাসহ কোনো সেবা প্রদান, যদি উক্তরূপ কার্যক্রম বাংলাদেশে (একই কাজে বা উক্ত কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কাজে) অব্যাহতভাবে চলে; এবং

(ঠ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির সহযোগী সত্তা বা উক্ত অনিবাসী ব্যক্তির উপর বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি যিনি অনিবাসী ব্যক্তির বাংলাদেশে সম্পাদিত কোনো বিক্রয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেন;

(৯৩) “হস্তান্তর” অর্থে মূলধনি পরিসম্পদের ক্ষেত্রে, বিক্রয়, বিনিময় বা ত্যাগ বা পরিসম্পদের কোনো স্বত্ব বিলোপিত হওয়া অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর যদি দানমূলে, উইলমূলে, অছিয়তমূলে বা অবাতিলযোগ্য কোনো ট্রাস্টমূলে সংঘটিত হয়;

(খ) কোম্পানির অবসায়নকালে শেয়ার হোল্ডারগণের নিকট যদি উহার পরিসম্পদ যেকোনো উপায়ে বিতরণ করা হয়; এবং

(গ) ফার্ম বা অন্যবিধ ব্যক্তিসংঘের বিলুপ্তির মুহূর্তে অথবা, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বিভক্তিকালে যদি কোনো মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণ করা হয়।

আইনের প্রাধান্য

৩। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

(২) অন্য কোনো আইন বা উহার কোনো বিধান যদি এই আইনের কোনো বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে সেই আইন বা সেই আইনের বিধান যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।

আয়কর কর্তৃপক্ষ

৪। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত আয়কর কর্তৃপক্ষ থাকিবে, যথা:-

(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;

(খ) মুখ্য কর কমিশনার;

(গ) মহাপরিচালক (পরিদর্শন);

(ঘ) কর কমিশনার (আপিল);

(ঙ) কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট);

(চ) মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ);

(ছ) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);

(জ) কর কমিশনার;

(ঝ) অতিরিক্ত কর কমিশনার যিনি অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার;

(ঞ) যুগ্মকর কমিশনার যিনি যুগ্মকর কমিশনার (আপিল), পরিচালক (প্রশিক্ষণ), পরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), পরিচালক (পরিদর্শন) বা পরিদর্শী যুগ্মকর কমিশনার;

(ট) উপকর কমিশনার;

(ঠ) কর কমিশনার কর্তৃক তাহার অধিক্ষেত্রাধীন উপকর কমিশনারগণের মধ্য হইতে মনোনীত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার;

(ড) সহকারী কর কমিশনার;

(ঢ) অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার; এবং

(ণ) কর পরিদর্শক।

আয়কর কর্তৃপক্ষ নিয়োগ

৫।  (১) প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান সাপেক্ষে, আয়কর কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত হইবেন।

‌ (২) বোর্ড, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কোনো ব্যক্তিকে আয়কর কর্তৃপক্ষ হিসাবে নিয়োগ ও পদায়ন করিতে পারিবে।

(৩) বোর্ড, সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

ক্ষমতা অর্পণ

৬। বোর্ড, আদেশ দ্বারা, কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা অপর কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে।

আয়কর কর্তৃপক্ষের অধীনস্থতা ও নিয়ন্ত্রণ

৭।  বোর্ড, আদেশ দ্বারা, আয়কর কর্তৃপক্ষসমূহের অধীনস্থতা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিধান করিতে পারিবে।

আয়কর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি এবং অধিক্ষেত্র

৮।  (১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, সদস্য (কর) সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

(২) মহাপরিচালক (পরিদর্শন) নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিবেন, যথা:-

(ক) এই আইনের অধীন কার্যধারার বাস্তবায়ন পরিদর্শন;

(খ) পরিদর্শনের উপর ভিত্তি করিয়া করনীতি সংস্কারের প্রস্তাব এবং কর প্রশাসন উন্নয়নের ক্ষেত্র শনাক্তকরণ;

(গ) বোর্ডের নিকট বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে মতামত এবং সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করিয়া প্রতিবেদন আকারে পেশকরণ; এবং

(ঘ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কার্য।

(৩) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিবেন, যথা:-

(ক) করদাতাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্য;

(খ) গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্যের সহিত সংশ্লিষ্ট আয়কর রেকর্ড বিশ্লেষণ;

(গ) অংশ ১৩ এবং অংশ ১৫ এ উল্লিখিত কর পরিহার, গোপনকৃত আয় ও অনিয়ম শনাক্তকরণ;

(ঘ) কর ফাঁকি বা গোপনকৃত আয় উদঘাটন বা কর সংক্রান্ত অন্য কোনো অনিয়ম প্রমাণ করিবার জন্য এবং জরিমানা প্রদানপূর্বক কর পুনরুদ্ধারের জন্য কর জালিয়াতি বা কর জালিয়াতির পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে, উপযুক্তরূপে মামলা পরিচালনার সুপারিশ প্রদানের জন্য তদন্ত পরিচালনা;

(ঙ) অন্য কোনো আইন দ্বারা অনুমোদিত বা বোর্ড কর্তৃক অর্পিত অন্য কোনো কার্য;

(৪) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, আয়কর কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিতে পারিবে, এবং প্রয়োজনে, আয়কর কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে বা কার্যাবলি পরিবর্তন করিতে পারিবে বা এক আয়কর কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি ও ক্ষমতা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত এইরূপ হস্তান্তর স্বাভাবিক কার্যধারার যেকোনো পর্যায়ে করা যাইবে এবং যে পর্যায়ে হস্তান্তর হইয়াছিল সেই পর্যায় হইতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।

(৬) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, করদাতাগণের কর নির্ধারণের স্থান নির্ধারণ করিতে পারিবে।

উত্তরসূরি কর্তৃক কর্তৃত্ব প্রয়োগ

৯। এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার ক্ষেত্রে, যদি কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ আয়কর কর্তৃপক্ষ পূর্বসূরি কোনো কার্য যে পর্যায়ে অসমাপ্ত রাখিয়া গিয়াছেন উক্ত পর্যায় হইতে শুরু করিবে।

বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ

১০। এই আইনের অধীন কোনো কার্য-সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তি, উক্তরূপ কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে, বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা অনুসরণ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আপিল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগ্ম অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর বিবেচনায় হস্তক্ষেপ হইতে পারে এইরূপ কোনো আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রদান করা যাইবে না।

উপকর কমিশনারের প্রতি নির্দেশনা

১১। এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম পরিচালনাকালে উপকর কমিশনার যে আয়কর কর্তৃপক্ষের অধীনস্ত থাকিবেন সেই কর্তৃপক্ষ অথবা বোর্ড কর্তৃক এতদ্‌বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তি উপকর কমিশনারকে সহযোগিতা অথবা নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।

কর নির্ধারণী কার্যক্রমে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের ক্ষমতা প্রয়োগ

১২। (১) কমিশনার, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, তাহার অধীক্ষেত্রাধীন নির্দিষ্ট কোনো মামলা বা মামলা শ্রেণি বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণি সম্পর্কিত সকল বা কোনো কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, এই আইনের অধীন কোনো কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যক্রম উক্ত কর্তৃপক্ষের অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ করা যাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত কোনো আদেশ, এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত কোনো বিধির অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষের কোনো রেফারেন্স অব্যবহিত ঊর্দ্ধতন আয়কর কর্তৃপক্ষ বরাবর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

কর আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা

১৩। (১) এই আইনের অধীন আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার একজন প্রেসিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে, সময় সময়, কর আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে।

(২) কোনো ব্যক্তি আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবেন না, যদি না-

(ক) তিনি কোনো সময়ে বোর্ডের সদস্য হইয়া থাকেন বা বর্তমানে বোর্ডের সদস্যের দায়িত্বে থাকেন;

(খ) তিনি জেলা জজ আছেন বা ছিলেন;

(গ) তিনি কর কমিশনার হইয়া থাকেন;

(ঘ) তিনি ধারা ৩২৭ এর অধীন কর আইনজীবী এবং পেশাগতভাবে আয়কর কার্যালয়ে অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন; বা

তিনি পেশাগতভাবে আর্থিক ও কর সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়ন কার্যে বিশেষজ্ঞ এবং অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন;

(৩) সরকার, আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের মধ্য হইতে একজন সদস্যকে, যিনি বোর্ডের সদস্য ছিলেন বা আছেন, প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করিবে।

বেঞ্চ কর্তৃক ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা প্রয়োগ

১৪। (১) প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গঠিত কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে বা শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত প্রদান না করা হইলে, আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যসমূহ ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চসমূহ, অতঃপর বেঞ্চ বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বেঞ্চে অন্যূন ২ (দুই) জন সদস্য থাকিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত প্রতিটি বেঞ্চের অন্যূন একজন সদস্য নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ হইতে নিযুক্ত হইবেন, যথা :

(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সদস্য, বা

(খ) কর কমিশনার।

বেঞ্চের সিদ্ধান্ত

১৫। (১) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো মামলার ক্ষেত্রে বা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।

(২) কোনো বিষয়ে বেঞ্চের সদস্যগণ সমানভাবে বিভক্ত হইলে তাহা লিখিতভাবে বর্ণনা করিতে হইবে এবং উহা প্রেসিডেন্ট আপিল ট্রাইব্যুনালের এক বা একাধিক সদস্যের নিকট শুনানির জন্য প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণের, যাহারা প্রথমবার শুনানি করিয়াছেন তাহারাসহ, মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।

(৩) আপিল ট্রাইব্যুনালের কেবল ২ (দুই) জন সদস্য থাকিলে এবং মতামত ভিন্ন হইলে, উক্ত মামলাটি শুনানির উদ্দেশ্যে সরকার আপিল ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত সদস্য নিয়োগ করিতে পারিবে এবং মামলার সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণের অধিকাংশের মতামত অনুযায়ী গৃহীত হইবে।

একজন সদস্য কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ

১৬।  ধারা ১৪ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ইহার কোনো এক বা একাধিক সদস্য কর্তৃক যৌথভাবে বা পৃথকভাবে ব্যবহার প্রয়োগের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ

১৭। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, আপিল ট্রাইব্যুনাল ইহার নিজস্ব ও বেঞ্চসমূহ কোন্‌ স্থানে কার্যনিষ্পত্তি করিবে তাহাসহ অন্যান্য কার্যনিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিষয়সমূহ নিরসন সংক্রান্ত কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

প্রথম অধ্যায়

কর ধার্যকরণের ভিত্তি

কর ধার্যকরণ

১৮। (১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের ভিত্তিতে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে।

(২) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন কোনো করবর্ষভিত্তিক নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে:

তবে আয়বর্ষ ব্যতীত অন্য কোনো মেয়াদে অর্জিত আয়ের উপর নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা যাইবে।

(৩) এই আইনের বিধানানুযায়ী নিম্নবর্ণিত করাদি ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে, যথা:-

(ক) উৎসে কর;

(খ) অগ্রিম আয়কর;

(গ) ন্যূনতম কর; এবং

(ঘ) অন্য কোনো কর।

(৪) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন নির্ধারিত হারে ও প্রকৃতিতে সারচার্জ অথবা অন্য কোনো চার্জ ধার্য, আরোপ বা সংগ্রহ করা হইবে।

(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে অংশ ৭ এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত হারে কর আরোপিত হইবে, যথা:-

(ক) মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়;

(খ) লভ্যাংশ হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়; এবং

(গ) লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে এইরূপ প্রাপ্তি।

অতিরিক্ত কর আরোপ

১৯। এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক নহে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে কোনো আয়বর্ষে তাহার ব্যবসায় বা পেশায় নিয়োগ প্রদান বা কর্মের সুযোগ প্রদান করিলে এইরূপ ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক, অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধ করিবে।

আমদানি, রপ্তানি বা বিনিয়োগের পার্থক্যের উপর কর আরোপ

২০। যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত বিবরণী হইতে প্রতীয়মান হয় যে, করদাতা-

(ক) কোনো আমদানি বা রপ্তানি করেন এবং করদাতার ঘোষিত আমদানি বা রপ্তানির জন্য পরিশোধিত বা গৃহীত অর্থের পরিমাণের সহিত প্রকৃত লেনদেন মূল্যের পার্থক্য রহিয়াছে; অথবা

(খ) কোনো বিনিয়োগ করেন এবং করদাতার ঘোষিত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণের সহিত প্রকৃত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণের পার্থক্য রহিয়াছে,

সেইক্ষেত্রে এই আইনের অন্যান্য বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, দফা (ক) তে উল্লিখিত পার্থক্যের উপর অথবা, ক্ষেত্রমত, দফা (খ) তে উল্লিখিত ঘোষিত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণের সহিত প্রকৃত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণের পার্থক্যের উপর ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) হারে কর পরিশোধযোগ্য হইবে।

রিটার্নে অপ্রদর্শিত বিদেশস্থ সম্পত্তির উপর জরিমানা আরোপ

২১। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো নিবাসী বাংলাদেশি করদাতার রিটার্নে প্রদর্শিত নহে, এইরূপ কোনো বিদেশস্থ সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায় এবং করদাতা উক্তরূপ সম্পত্তি অর্জনের উৎস বা প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হন অথবা উপস্থাপিত ব্যাখ্যা উপকর কমিশনারের নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান না হয়, সেইক্ষত্রে উপকর কমিশনার বিদেশস্থ সম্পত্তির ন্যায্য বাজার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসাবে উক্ত করদাতার উপর আরোপ করিবেন এবং আদায় করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন উদ্ভূত কোনো দায়কে ক্ষুণ্ন করিবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে করদাতাকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।

(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত জরিমানা করদাতার কোনো পরিসম্পদ বা করদাতার পক্ষে অন্য কেহ কোনো পরিসম্পদ ধারণ করিলে তাহা বিক্রয় বা বাজেয়াপ্ত করিয়া আদায় করিতে পারিবেন।

(৫) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, করদাতার রিটার্নে অপ্রদর্শিত বিদেশস্থ সম্পত্তি রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে দেশে ও বিদেশে তদন্ত করিতে পারিবেন।

(৬) বোর্ড, রিটার্নে অপ্রদর্শিত কোনো সম্পত্তি ধারণ প্রতিরোধে বা বিদেশে পাচারকৃত কোনো সম্পত্তি উদ্ধারে-

(ক) যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে; বা

(খ) উপকর কমিশনারের নিম্নে নহে এইরূপ যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার নিমিত্ত সম্মতি প্রদান, অনুমতি প্রদান বা ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

সংরক্ষিত আয় (retained earnings), সঞ্চিতি (reserve), উদ্বৃত্ত (surplus), ইত্যাদির উপর কর আরোপ

২২। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো করবর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক সংরক্ষিত আয়ে অথবা কোনো তহবিল, সঞ্চিতি বা উদ্বৃত্তে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, পূর্ববর্তী করবর্ষের কর পরিশোধিত নীট আয় হইতে অর্থ স্থানান্তর করিয়া থাকে এবং উক্ত স্থানান্তরিত অর্থের পরিমাণ পূর্ববর্তী করবর্ষের কর পরিশোধিত নীট আয়ের ৭০% (সত্তর শতাংশ) অতিক্রম করে, তাহা হইলে সেই করবর্ষে কোম্পানি কর্তৃক যেই পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হইয়াছে উহার ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।

স্টক লভ্যাংশের উপর কর আরোপ

২৩। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশ ঘোষিত বা বিতরণকৃত নগদ লভ্যাংশকে অতিক্রম করিলে অথবা নগদ লভ্যাংশ ব্যতীত কেবল স্টক লভ্যাংশের ঘোষণা বা বিতরণ করা হইলে, সেই আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।

বিশেষ কর প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগ বা আয়ের স্বপ্রণোদিত প্রদর্শন, ইত্যাদি

২৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিনিয়োগের উপর প্রথম তফসিলে নির্ধারিত হারে এবং শর্তে কর পরিশোধ করিলে সেই বিনিয়োগের উৎস এই আইনের বিধান মোতাবেক ব্যাখ্যায়িত বলিয়া গণ্য করিবার বিধান করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত বিনিয়োগ উক্তরূপে ব্যাখ্যায়িত বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে প্রথম তফসিলে নির্ধারিত হারে কর ও প্রযোজ্য অন্যান্য অর্থ পরিশোধ এবং তফসিলে বর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, এই আইনের বিধান মোতাবেক কোনো ব্যক্তিকে কোনো অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শনের সুযোগ প্রদান করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে আয় প্রদর্শনের সুযোগ থাকিবে।

কর পরিগণনার বিশেষ বিধান

২৫। যেইক্ষেত্রে অষ্টম তফসিলে কোনো ব্যক্তি শ্রেণির আয় পরিগণনার জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট আয় পরিগণনার জন্য বিশেষ বিধান করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

দ্বিতীয় অধ্যায়

আয়ের আওতা

মোট আয়ের আওতা

২৬। এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) কোনো নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত (derived) নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-

(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত (accrued) বা উদ্ভূত (arised), অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;

(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত;

(ই) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা

(ঈ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;

(খ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-

(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত, অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা

(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য।

বাংলাদেশে উপচিত বা উদ্ভূত বলিয়া গণ্য আয়

২৭। নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ বাংলাদেশে উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-

(ক) পরিশোধের স্থান নির্বিশেষে চাকরি হইতে আয় খাতভুক্ত যেকোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশে অর্জিত হয়; বা

(আ) সেবা প্রদানের বিপরীতে যদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে পরিশোধ করা হয়;

(খ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, উপচিত বা উদ্ভূত কোনো আয়, যথা:-

(অ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো স্থায়ী স্থাপনা;

(আ) বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো স্পর্শাতীত (intangible) সম্পত্তি, বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো সম্পত্তি, অধিকার, অথবা আয়ের অন্য কোনো উৎস; বা

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর;

(ঈ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ক্রেতার নিকট ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়; বা

(উ)বাংলাদেশে ব্যবহৃত কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি;

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,

(ক) বাংলাদেশে নিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার, তাহা যাহার নিকট থাকুক না কেন, বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে, যদি-

(অ) স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত হয়; বা

(আ) যেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশে অনিবাসী, সেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তিটি যদি উপরিবর্ণিত অনিবাসীর বাংলাদেশে অবস্থিত স্থায়ী এস্টাব্লিসমেন্টের সহিত সংশ্লিষ্ট হয়:

(গ) বাংলাদেশে অনিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরিত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর যেখানেই সংঘটিত হউক না কেন, এবং উক্ত কোম্পানির বাংলাদেশে কোনো পরিসম্পদ থাকিলে উক্ত হস্তান্তরিত শেয়ারমূল্যের যতটুকু বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদের মূল্যের সহিত সম্পর্কিত ততটুকু পর্যন্ত অঙ্ক বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদ হস্তান্তর বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধিত কোনো লভ্যাংশ;

(ঙ) সুদ হিসাবে প্রদেয় কোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়;

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি ঋণ বা ধারকৃত অর্থ-

(১) বাংলাদেশের বাহির হইতে গৃহীত হয়; এবং

(২) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়;

(ই) বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত বা ব্যবহৃত কোনো ঋণের বা ধারকৃত কোনো অর্থের বিপরীতে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;

(চ) কারিগরি সেবার জন্য ফি হিসাবে প্রাপ্ত কোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়; বা

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত ফি-

(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়; অথবা

(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়;

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত সেবার ফি হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;

ছ) রয়্যালটি আয়, যাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে উহা প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত রয়্যালটি-

(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়; অথবা

(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়;

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের জন্য ব্যবহৃত কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;

(জ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো ঝুঁকি হইতে রক্ষার বিপরীতে কোনো নিবাসী বা অনিবাসী দ্বারা উপচিত বা প্রদেয় বিমা বা পুনঃবিমার প্রিমিয়াম।

মোট আয়ের আওতায় একই আয় দুই বার অন্তর্ভুক্ত না হওয়া

২৮। যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে কোনো অর্থ কোনো ব্যক্তির বরাবর উপচিত বা উদ্ভূত হইয়া অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া সম্পূর্ণ বা আংশিক আয় হিসাবে মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ উক্ত ব্যক্তির বরাবর বাংলাদেশে অন্য কোনো আয়বর্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

প্রথম অধ্যায়

মোট আয়

মোট আয় পরিগণনা

২৯। সকল খাতের আয় যোগ করিয়া মোট আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

আয়ের খাতসমূহ

৩০। এই আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু না থাকিলে, আয়কর আরোপ এবং মোট আয় পরিগণনার জন্য, যেকোনো আয় নিম্নবর্ণিত কোনো একটি খাতে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-

(ক) চাকরি হইতে আয়;

(খ) ভাড়া হইতে আয়;

(গ) কৃষি হইতে আয়;

(ঘ) ব্যবসা হইতে আয়;

(ঙ) মূলধনি আয়;

(চ) আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়;

(ছ) অন্যান্য উৎস হইতে আয়।

আয় একীভূতকরণ

৩১। (১) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:¾

(ক) উক্ত ব্যক্তি কোনো ফার্মের অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘের সদস্য হইলে, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের আয়ে তাহার অংশ;

(খ) উক্ত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয়, যদি¾

(অ) উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান তাহার উপর নির্ভরশীল হন;

(আ) এইরূপ আয়ের উপর উক্ত ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ থাকে; বা

(ই) তিনি এইরূপ একীভূতকরণে ইচ্ছুক হন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পৃথক কর নির্ধারণ করা হইলে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(২) কোনো ব্যক্তি কোনো ফার্মের অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘের সদস্য হইলে, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের আয়ে তাহার অংশ নিম্নরূপ সূত্র দ্বারা নিরূপিত হইবে, যথা:-

ক = খ + (গ - ঘ) এর ঙ %, যেখানে¾

ক = ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে উক্ত ব্যক্তির আয়ের অংশ,

খ = উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত বেতন, সুদ, কমিশন বা অন্যান্য পারিতোষিক,

গ = উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের মোট আয়,

ঘ = উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক সকল অংশীদার বা সদস্যকে প্রদেয় বেতন, সুদ, কমিশন বা অন্যান্য পারিতোষিকের যোগফল,

ঙ = উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘে উক্ত ব্যক্তির শেয়ারের শতকরা হার।

দ্বিতীয় অধ্যায়

চাকরি হইতে আয়

চাকরি হইতে আয়

৩২। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, চাকরি হইতে আয় অর্থে নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:¾

(ক) চাকরি হইতে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য যেকোনো প্রকার আর্থিক প্রাপ্তি, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা;

(খ) কর্মচারী শেয়ার স্কিম হইতে অর্জিত আয়;

(গ) কর অনারোপিত বকেয়া বেতন; বা

(ঘ) অতীত বা ভবিষ্যতের কোনো নিয়োগকর্তা হইতে প্রাপ্ত যেকোনো অঙ্ক বা সুবিধা।

(২) নিম্নবর্ণিত প্রাপ্তিসমূহ চাকরি হইতে আয় এর অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:¾

(ক) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নহে এইরূপ অন্য কোনো কর্মচারীর হার্ট, কিডনি, চক্ষু, লিভার ও ক্যানসার অপারেশন সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ; বা

(খ) সম্পূর্ণরূপে এবং কেবল চাকরির দায়িত্ব পরিপালনের জন্য প্রাপ্ত এবং ব্যয়িত যাতায়াত ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা।

ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,¾

(ক) “বেতন” অর্থ কর্মচারী কর্তৃক চাকরি হইতে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকৃতির অঙ্ক এবং নিম্নবর্ণিত বিষয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:¾

(অ) যেকোনো বেতন, মজুরি বা পারিশ্রমিক;

(আ) যেকোনো ভাতা, ছুটি ভাতা, ছুটি নগদায়ন, বোনাস, ফি, কমিশন, ওভারটাইম;

(ই) অগ্রিম বেতন;

(ঈ) আনুতোষিক, অ্যানুইটি, পেনশন বা ইহাদের সম্পূরক;

(উ) পারকুইজিট‌;

(ঊ) বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি অথবা বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি;

খ) “বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি” অথবা “বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে¾

(অ) চাকরির অবসানের কারণে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(আ) ভবিষ্য তহবিল বা অন্য কোনো তহবিলে কর্মচারীর অনুদানের অংশ ব্যতিরেকে অবশিষ্ট অংশ;

(ই) চাকরির চুক্তির শর্তাবলির পরিবর্তনের ফলে প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;

(ঈ) চাকরিতে যোগদানকালে বা চাকরির অন্য কোনো শর্তের অধীন প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;

(গ) “পারকুইজিট” অর্থ নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীকে প্রদত্ত ইনসেনটিভ বোনাসসহ যেকোনো প্রকারের পরিশোধ বা সুবিধা, তবে নিম্নবর্ণিত পরিশোধসমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:¾

(অ) মূল বেতন, বকেয়া বেতন, অগ্রিম বেতন, উৎসব ভাতা,
ছুটি নগদায়ন ও ওভারটাইম;

(আ) স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত পেনশন তহবিল, অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল ও অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;

(ঘ) “মূল বেতন” অর্থ মাসিক বা অন্য প্রকারে প্রদেয় বেতন যাহার ভিত্তিতে অন্যান্য ভাতা এবং সুবিধা নির্ধারিত হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ভাতা বা সুবিধাদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:¾

(অ) সকল প্রকার ভাতা, পারকুইজিট, অ্যানুইটি, বোনাস ও সুবিধা; এবং

(আ) নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীর বিভিন্ন তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;

(ঙ) “নিয়োগকর্তা” অর্থ যিনি নিয়োগ দান করিয়া থাকেন এবং বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করিয়া থাকেন বা নিয়োগকর্তার পক্ষে উক্ত কাজ সম্পন্নকারী ব্যক্তিও নিয়োগকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন।

পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধাদির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ

৩৩। আর্থিক মূল্যে প্রদেয় পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধা ব্যতীত অন্যান্য পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধার আর্থিক মূল্য নিম্নবর্ণিত সারণী মোতাবেক নির্ধারিত হইবে, যথা:-

সারণী

 

 ক্রমিক নং

পারকুইজিট, ভাতা, সুবিধা, ইত্যাদি

নির্ধারিত মূল্য

()

()

()

আবাসন সুবিধা

() আবাসনের ভাড়া সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিশোধিত হইলে অথবা নিয়োগকর্তা কর্তৃক আবাসনের ব্যবস্থা করা হইলে আবাসনের বার্ষিক মূল্য;

() হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রাপ্ত আবাসনের ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ () অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া এবং পরিশোধিত ভাড়ার পার্থক্য 

মোটরগাড়ি প্রতি সুবিধা

() ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ১০ (দশ) হাজার টাকা;

()   ২৫০০ সিসির অধিক এইরূপ গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা

অন্য কোনো পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধা

পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধার আর্থিক মূল্য বা ন্যায্য বাজার মূল্য

 

কর্মচারী শেয়ার স্কিম হইতে অর্জিত আয় নির্ধারণ

৩৪। (১) কর্মচারী শেয়ার স্কিম অর্থ কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থাপনা যাহার অধীন একটি কোম্পানি-

(ক) তাহার কোনো কর্মচারী বা তাহার কোনো সহযোগী কোম্পানি কর্মচারী বরাবর শেয়ার ইস্যু করিতে পারিবে; বা

(খ) একটি ট্রাস্টের ট্রাস্টি বরাবর শেয়ার ইস্যু করিতে পারিবে এবং পরবর্তীতে ট্রাস্টি ট্রাস্টের দলিল মোতাবেক উক্ত শেয়ার উক্ত কোম্পানি বা তাহার কোনো সহযোগী কোম্পানি কোনো কর্মচারী বরাবর ইস্যু করিতে পারিবে।

(২) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার প্রাপ্ত হইলে, শেয়ার প্রাপ্তির বৎসরে ক-খ নিয়মে আয় চাকরি হইতে আয়ের সহিত যোগ হইবে, যেখানে-

ক = প্রাপ্তির তারিখে শেয়ারের ন্যায্য বাজার মূল্য,

খ = শেয়ার অর্জনের ব্যয়।

(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত শেয়ার অর্জনের ব্যয় বলিতে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহের যোগফল বুঝাইবে, যথা:-

(ক) কর্মচারী শেয়ার অর্জনে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন;

(খ) কর্মচারী শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন।

(৪) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার অর্জনের প্রাপ্ত অধিকার বা সুযোগ কর্মচারী বিক্রয় বা হস্তান্তর করিলে চাকরি হইতে আয়ের সহিত ক-খ নিয়মে আয় যোগ হইবে, যেখানে-

ক = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য,

খ = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে পরিশোধিত মূল্য।

তৃতীয় অধ্যায়

ভাড়া হইতে আয়

সংজ্ঞা

৩৫। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(১) “গৃহসম্পত্তি” অর্থ-

(ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

(খ) গৃহ যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি, তবে কোনো কারখানা ভবন অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান, তবে নিজস্ব মালিকানাধীন হউক বা না হউক, কোনো তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, কোনো উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা মুদারাবা বা লিজিং কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৩) “সম্পত্তি” অর্থ গৃহ সম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায়।

ভাড়া হইতে আয়

৩৬। (১) কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য হইতে এই অধ্যায়ে বর্ণিত সর্বমোট অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দিলে যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহাই হইবে উক্ত সম্পত্তি হইতে উক্ত ব্যক্তির ভাড়া হইতে আয়।

(২) কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির কোনো অংশে উক্ত ব্যক্তির নিজ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত থাকিলে এবং তাহা হইতে প্রাপ্ত আয় উক্ত ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় খাতে পরিগণনাযোগ্য হইলে, এবং উক্ত অংশের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) কোনো সম্পত্তির ভাড়ার প্রকৃতি, কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসা নির্বিশেষে যে ধরনেরই হউক না কেন, ভাড়া হইতে আয় খাতের অধীন আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

(৪) যে ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সম্পত্তির মালিক হন, সেইক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির ভাড়া হইতে কোনো ব্যক্তির প্রাপ্ত আয়কে নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণনা করিতে হইবে, যথা:-

 

যদি সম্পত্তিতে কোনো ব্যক্তির অংশের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট এবং নিশ্চিত হয়

মালিকানার শেয়ারের আনুপাতিক হারে

যদি সম্পত্তিতে কোনো ব্যক্তির অংশের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট না হয়

উক্ত সম্পত্তির ভাড়া হইতে কোনো ব্যক্তির কর পরিগণনার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিগণ ব্যক্তিসংঘ হিসাবে পরিগণিত হইবেন

 

মোট ভাড়ামূল্য পরিগণনা

৩৭। মোট ভাড়ামূল্য পরিগণনা।- কোনো আয়বর্ষে কোনো সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণনা করিতে হইবে, যথা:-

ক = (খ+গ+ঘ)-ঙ-চ, যেখানে-

ক = মোট ভাড়ামূল্য,

খ = উক্ত সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত ভাড়ার পরিমাণ, বা সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক,

গ = উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত অগ্রিম ভাড়া প্রকৃতির অর্থ, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,

ঘ = উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত অন্য যেকোনো অঙ্ক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যাহা ‘খ’ বা ‘গ’তে উল্লিখিত অঙ্কের অতিরিক্ত,

ঙ = এইরূপ কোনো অগ্রিম অঙ্ক, যাহা পূর্ববর্তী কোনো আয়বর্ষে গৃহীত হইবার কারণে মোট ভাড়ামূল্যে অন্তর্ভুক্ত হইয়াছিল, তবে উক্ত অগ্রিম বিবেচ্য আয়বর্ষের ভাড়ার বিপরীতে ভাড়াগ্রহণকারী কর্তৃক সমন্বয় করা হইয়াছে,

চ = শূন্যতা ভাতা:

তবে শর্ত থাকে যে, ভাড়া আয় না থাকা সম্পর্কে উপকর কমিশনারকে প্রতিমাসের ৩০ তারিখের মধ্যে অবহিত করিতে হইবে।

ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজনসমূহ

৩৮। ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয় হিসাবের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত খরচ বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:-

(ক) কোনো সম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকির বিপরীতে কোনো বিমা করা হইলে তাহার জন্য পরিশোধিত প্রিমিয়াম;

(খ) সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে কোনো মূলধনি ঋণ গ্রহণ করা হইলে সেই ঋণের উপর পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা;

(গ) সম্পত্তির উপর পরিশোধিত কোনো কর, ফি বা অন্য কোনো বার্ষিক চার্জ, যাহা মূলধনি চার্জ প্রকৃতির নহে;

(ঘ) মেরামত, ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত অঙ্ক, যথা:-

             সারণী

 

ক্রমিক নং

সম্পত্তির ধরন

বিয়োজনযোগ্য খরচ

(মোট ভাড়া মূল্যের শতকরা হারে)

(১)

(২)

(৩)

১।

বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি

৩০% (ত্রিশ শতাংশ)

(১)

(২)

(৩)

২।

অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি

 

২৫% (পঁচিশ শতাংশ)

৩।

অন্যান্য সম্পত্তি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

১০% (দশ শতাংশ):

          

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে ভাড়া গ্রহীতা সম্পত্তির ভাড়া পরিশোধের পাশাপাশি এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যয়সমূহ বাবদ সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে এই বিয়োজন প্রযোজ্য হইবে না;

(ঙ) সম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, মেরামত, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যবহৃত কোনো মূলধনি ঋণের উপর কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা হইয়া থাকিলে সেই সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর সহিত সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ হইতে একাদিক্রমে মোট ৩ (তিন) আয়বর্ষে সমকিস্তিতে বিয়োজনযোগ্য হইবে;

(চ) ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা বা তাহার কোনো অংশ, যদি থাকে, দফা (ঙ)-তে বর্ণিত সময়ের পরে বিয়োজনযোগ্য হইবে না।

 

খরচ অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা

৩৯। (১) উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে, অথবা কর্তিত বা আদায়কৃত কর এই আইনের বিধান অনুযায়ী যথানিয়মে সরকারের অনুকূলে জমা করা না হইলে, উক্ত ব্যয় এই অধ্যায়ের অধীন খরচ হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে না।

(২) সম্পত্তির আংশিক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়ার বিপরীতে আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি আয়বর্ষের অংশবিষেশের জন্য ভাড়া প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে ভাড়া প্রদানকৃত সময়ের আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।

চতুর্থ অধ্যায়

কৃষি হইতে আয়

কৃষি হইতে আয়

৪০। (১) কোনো ব্যক্তির কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে অর্জিত আয় কৃষি হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা এবং রাবার এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৪০% (চল্লিশ শতাংশ) ব্যবসা আয় এবং ৬০% (ষাট শতাংশ) কৃষি হইতে আয় বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) কৃষি অর্থে যেকোনো প্রকার উদ্যান পালন, পশু-পাখি পালন, ভূমির প্রাকৃতিক ব্যবহার, হাস-মুরগি ও মাছের খামার, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর খামার, নার্সারি, ভূমিতে বা জলে যেকোনো প্রকারের চাষাবাদ, ডিম-দুধ উৎপাদন, কাঠ, তৃণ ও গুল্ম উৎপাদন, ফল, ফুল ও মধু উৎপাদন এবং বীজ উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত হইবে।

বিশেষ কৃষি আয়

৪১। (১) ধারা ৪০ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ কৃষি আয় গণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) কোনো পরিসম্পদ করদাতার ধারা ৪০ এর কৃষিকাজে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হইলে তাহা নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণিত হইবে, যথা:-

 

 

ক্রমিক নং

বিক্রয়লব্ধ অর্থ

আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ

()

()

(৩)

১।

বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারমূলধনি আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারকৃষি হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

২।

বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারকৃষি হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

(৩) কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক তাহার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত পরিসম্পদের অবলোপিত মূল্যের অধিক হইলে উক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে কৃষি হইতে আয় খাতে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

 

 

ক্রমিক নং

বিক্রয়লব্ধ অর্থ

আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ

()

()

(৩)

১।

বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়

-  এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারমূলধনি আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

-  এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারকৃষি হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

()

()

(৩)

২।

বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারকৃষি হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

 

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

ক = পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ,

খ= পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং

গ= তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,

-কে বুঝাইবে।

(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ‘কৃষি হইতে আয়’ খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

কৃষি হইতে আয় খাতে আয় গণনার ক্ষেত্রে অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনসমূহ

৪২। (১) এই আইনের অধীন, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির কৃষি হইতে আয় খাতে করযোগ্য আয় গণনার ক্ষেত্রে, উক্ত বৎসরে করদাতা কর্তৃক, মূলধনি ব্যয় বা ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যতীত, সর্ম্পূণরূপে এবং কেবল কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যয়িত অর্থ বিয়োজন হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ সাধারণ বিয়োজন হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-

(ক) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার উপর পরিশোধিত যেকোনো প্রকার কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা;

(খ) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় এবং চাষাবাদ ব্যয়;

(গ) কৃষির উদ্দেশ্যে গৃহীত ঋণের পরিশোধযোগ্য সুদ বা মুনাফা;

(ঘ) কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং চাষাবাদের জন্য পালিত গবাদিপশুর লালন-পালন, তৎসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহণ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ঙ) ভূমির বা আঙ্গিনার ক্ষতিপূরণে অথবা ভূমি বা আঙ্গিনা হইতে উৎপাদিত ফসল বা পণ্যের ক্ষতিপূরণে অথবা গবাদিপশু পালনে নিরাপত্তার লক্ষ্যে পরিশোধযোগ্য বিমার প্রিমিয়াম;

(চ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হইতে কৃষিকে রক্ষার নিমিত্ত ব্যয়িত অর্থ;

(ছ) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ-

(অ) করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কৃষিতে ব্যবহৃত সম্পদের অবচয়;

(আ)সংশ্লিষ্ট কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্পর্শাতীত সম্পদের অ্যামোর্টাইজেশন;

(জ) যেইক্ষেত্রে করদাতার কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশুর মৃত্যু হইয়াছে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হইয়া গিয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত পশুর প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং, ক্ষেত্রমত, সেই পশু বিক্রয় বা তাহার মাংস বিক্রয় হইতে প্রাপ্ত অর্থ, এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক;

(ঝ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কৃষি সম্পর্কিত কোনো ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়, যাহা মূলধনি প্রকৃতির নহে;

(ঞ) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে এইরূপ কোনো স্কিমের সহিত সম্পর্কিত বিষয়ের উপর বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;

(ট) কোনো কৃষি সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা খাতে নির্বাহকৃত ব্যয় বা এইরূপ কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনায় নির্বাহকৃত ব্যয় যাহার দ্বারা গবেষণাটি সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে করদাতার কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে পরিচালিত হইয়াছে।

(২) এই ধারার অধীন কোনো ব্যয়ের যতটুকু অংশ কৃষি হইতে আয় এর সহিত সম্পর্কিত কেবল ততটুকু অংশই অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।

হিসাববহি রক্ষণাবক্ষেণ না করিবার ক্ষেত্রে বিশেষ বিয়োজন পরিগণনা

৪৩। (১) যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে,–

(ক) করদাতা নিয়মিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করিতেছেন না;

(খ) করদাতা এইরূপ কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করিতেছেন যাহার ভিত্তিতে করদাতার আয় বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নহে বলিয়া উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হইতেছে;

(গ) করদাতা হিসাব বা লেনদেনের রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(ঘ) করদাতা যে হিসাব বা লেনদেনের রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করিয়াছেন তাহা যাচাইযোগ্য নহে,

তাহা হইলে, অন্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্তরূপে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজার মূল্যের ৬০% (ষাট শতাংশ) অনুমোদিত ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে ভূমি বা আঙ্গিনার মালিক আধি, বর্গা, ভাগা বা অংশহারে কৃষি হইতে আয় প্রাপ্ত হইবেন সেইক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না

৪৪। (১) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ সকল ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলির পরিপালন না হইলে এই অধ্যায়ের অধীন দাবিকৃত বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না।

(২) ধারা ৫৫ এ বর্ণিত বিধানাবলি এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন বিধানাবলি এই অধ্যায়ের সহিত সম্পর্কিত।

পঞ্চম অধ্যায়

ব্যবসা হইতে আয়

ব্যবসা হইতে আয়

৪৫। করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ ব্যবসা হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-

(ক) আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত বা পরিচালিত বলিয়া গণ্য ব্যবসায়ের কোনো লাভ ও মুনাফা;

(খ) কোনো ব্যবসায় বা পেশাজীবী সংগঠন বা এইরূপ কোনো সংগঠন কর্তৃক উহার সদস্যদের নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত কোনো আয়;

(গ) কোনো ব্যক্তির অতীত, বর্তমান বা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বা সম্পর্কের কারণে উদ্ভূত কোনো সুবিধার ন্যায্য বাজার মূল্য, তাহা অর্থে রূপান্তরযোগ্য হউক বা না হউক;

(ঘ) কোনো ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, মুদারাবা ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসহ, কর্তৃক উদ্ভূত কোনো ব্যবস্থাপনা ফি;

(ঙ) নিজের অথবা অন্যের মালিকানাধীন কোনো পরিসম্পদ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট লীজ প্রদানের বিপরীতে লীজদাতা ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রাপ্য কোনো অর্থ;

(চ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে মুদ্রা বিনিময় হইতে নগদায়িত লাভ (realized gain);

(ছ) বন্ধ হইয়া যাওয়া কোনো ব্যবসা হইতে আয়বর্ষে গৃহীত কোনো আয়।

ব্যবসা হইতে আয়ের বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ

৪৬। (১) ধারা ৪৫ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) করদাতার যে ব্যবসায়ের জন্য আয় পরিগণিত হইতেছে সেই ব্যবসায়ে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয়, তাহা হইলে উক্ত বিক্রয়লব্ধ আয়ের পরিমাণ হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

 

ক্রমিক নং

বিক্রয়লব্ধ অর্থ

আয়ের পরিমাণ

()

()

(৩)

১।

বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতারমূলধনি আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

 

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতারব্যবসা হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

 

২।

বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার  ‘ব্যবসা হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

 

 

 

(৩) করদাতার ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহার পরিমাণ যদি উক্ত সম্পদের অবলোপিত মূল্যের চাইতে অধিক হয় তাহা হইলে এই ক্ষেত্রে আয়ের অঙ্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

 

ক্রমিক নং

ক্রয়লব্ধ অর্থ

আয়ের পরিমাণ

()

()

()

১।

বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয়

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারমূলধনি আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

 

- এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারব্যবসা হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে

 

২।

বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয়

যেইক্ষেত্রে >, সেইক্ষেত্রে - এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারব্যবসা হইতে আয়শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

 

যেইক্ষেত্রে <, সেইক্ষেত্রে - এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতারব্যবসা হইতে আয়পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯ এর অধীন ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে

 

 

 

(৪) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ব্যবসা হইতে আয় খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণীতে বর্ণিত-

ক = পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ,

খ = পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং

গ = তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,

-কে বুঝাইবে।

(৬) যদি কোনো রপ্তানিকারক করদাতা সরকার কর্তৃক তাহার অনুকূলে বণ্টনকৃত রপ্তানি কোটার সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো আয়বর্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিয়া থাকেন, তাহা হইলে এইরূপ হস্তান্তরিত কোটার আনুপাতিক রপ্তানি মূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(৭) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় কোনো ব্যক্তির নিকট প্রদেয় সুদ বা মুনাফা বাবদ কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং যেই আয়বর্ষে বিয়োজিত হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি উক্ত সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা না হয় তাহা হইলে বর্ণিত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে উক্ত সুদ বা মুনাফার অপরিশোধিত অঙ্ক করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো সুদ বা মুনাফা যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনা হইতে বাদ যাইবে।

(৮) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় যদি করদাতার কোনো ট্রেডিং দায় হিসাবে নেওয়া হয় এবং–

(ক) পরবর্তী কোনো আয় উক্ত আয়বর্ষে করদাতা যদি ট্রেডিং দায় বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হয় তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) উক্ত ট্রেডিং দায় যেই আয়বর্ষে হিসাবে নেওয়া হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি ট্রেডিং দায় বা তাহার কোনো অংশ অপরিশোধিত থাকে তাহা হইলে উক্ত অপরিশোধিত ট্রেডিং দায় উক্ত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্রেডিং দায় যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয় তাহা হইলে পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সেই অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনায় বাদ যাইবে।

(৯) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় লোকসান, কুঋণ বা কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে করদাতা যদি সেই বিয়োজিত লোকসান, কুঋণ বা খরচ বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হন তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(১০) ধারা ১৮০ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে বৎসরে রিটার্ন দাখিল হইয়াছে তাহার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রদর্শিত প্রারম্ভিক মূলধনের যেকোনো পরিমাণের ঘাটতি ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(১১) কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কুঋণ বা সন্দেহজনক ঋণ হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণের উপর সুদ বা মুনাফা আয় যেই আয়বর্ষে লাভ ক্ষতির হিসাবে ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, অথবা যেই আয়বর্ষে প্রকৃতভাবে গৃহীত হইবে, দুইয়ের মধ্যে যাহা আগে হয় সেই আয়বর্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে।

(১২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) বিক্রয়ের পূর্বে পরিসম্পদটি যে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই ব্যবসা পরিসম্পদ বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) করদাতার ব্যবসায় ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা স্থানান্তরিত হইলে, উক্ত রপ্তানির বা স্থানান্তরের তারিখই পরিসম্পদ বিক্রয়ের তারিখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সম্পদের ক্রয়মূল্যকে উহা বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বলিয়া বিবেচনা করা হইবে।

কতিপয় ব্যবসায়ের মুনাফা পরিগণনা

৪৭। নিম্নবর্ণিত সারণির কলাম (২) এ উল্লিখিত ব্যবসায়ের মুনাফা সারণির কলাম (৩) এ বর্ণিত তফসিলের বিধান অনুসারে পরিগণনা করা হইবে, যথা:-

 

সারণি

 

ক্রমিক নং

ব্যবসা

তফসিল

()

()

()

বিমা ব্যবসা

চতুর্থ তফসিল

প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তৈল বা অন্যান্য খনিজ উত্তোলন অনুসন্ধান

পঞ্চম তফসিল

ফটকা ব্যবসাকে পৃথকভাবে বিবেচনা

৪৮। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ফটকা কারবার পরিচালিত হইলে তাহা উক্ত ব্যক্তির অন্যান্য ব্যবসা হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্র ব্যবসা হিসাবে বিবেচিত হইবে।

ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য সাধারণ বিয়োজনসমূহ।-

৪৯। এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্বতন্ত্র এবং ভিন্ন ব্যবসায়ের জন্য নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) কাঁচামাল, মজুদ, ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ও ব্যবসায়ে ব্যবহারের নিমিত্ত পণ্য ক্রয় বাবদ ব্যয় এবং কোনো অবলোপিত মজুদ ব্যয়;

(খ) এই আইন ও দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন পরিশোধিত নহে, তবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিশোধিত এইরূপ শুল্ক-করাদি, পৌর কর, স্থানীয় কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা ও সরকারি ফি;

(গ) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয়;

(ঘ) এই আইনের অধীন চাকরি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়, কল্যাণ ব্যয় বা পারিশ্রমিক;

(ঙ) মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয়;

(চ) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে কৃত ও পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম;

(ছ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ অন্যান্য পরিষেবা ব্যয়;

(জ) পণ্য পরিবহণ, ক্লিয়ারিং এবং ফরওয়ার্ডিং চার্জ;

(ঝ) বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কমিশন, দালালি, ডিসকাউন্ট বা ওয়ারেন্টি চার্জ প্রকৃতির ব্যয়;

(ঞ) বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয়;

(ট) কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয়;

(ঠ) বিক্রয় প্রতিনিধিদের সম্মেলন, হোটেল ও আবাসন বাবদ ব্যয়;

(ড) যাতায়াত ও ভ্রমণ বাবদ ব্যয়;

(ঢ) ইন্টারনেট সেবা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ণ) আইনি সেবা, নিরীক্ষা সেবা ও অন্যান্য পেশাদারী সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ত) আপ্যায়ন ও অতিথিশালা সংক্রান্ত ব্যয়;

(থ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে, বৈদেশিক মুদ্রার নগদায়িত বিনিময় ক্ষতি;

(দ) কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক সমিতিতে প্রবেশ ফি-সহ তাহাদের সুবিধাদির ব্যবহারের জন্য চাঁদা;

(ধ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কোনো ট্রেড ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়;

(ন)রয়্যালটি, কারিগরি ফি, হেড অফিস ব্যয়;

(প) শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৫ নং আইন) এর ধারা ২৩৪ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদত্ত অর্থ যাহা প্রদর্শিত নীট ব্যবসায়িক মুনাফার ৫% (পাঁচ শতাংশ) এর অধিক নহে; এবং

(ফ) সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত অন্যান্য ব্যয়।

ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিশেষ বিয়োজনসমূহ

৫০। (১) নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা ও শর্ত অনুযায়ী বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:-

(ক) সাধারণ অবচয় ভাতা;

(খ) প্রারম্ভিক অবচয় ভাতা;

(গ) ত্বরান্বিত অবচয় ভাতা;

(ঘ) অ্যামোর্টাইজেশন ভাতা; এবং

(ঙ) গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়।

(২) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি অবলোপিত মূল্য অপেক্ষা কম হয়, তাহা হইলে করদাতা কর্তৃক বিয়োজন দাবি সাপেক্ষে, অবলোপিত মূল্য এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক।

(৩) ধারা ৫১ অনুযায়ী অনুমোদিত কুঋণ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।

(৪) ধারা ৫২ ও ৫৩ অনুযায়ী অনুমোদিত সুদ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।

কুঋণ ব্যয় অনুমোদন

৫১। (১) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-

(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;

(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হইয়া থাকে;

(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।

(২) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-

(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ International Accounting Standards (IAS) ও বাংলাদেশে প্রযোজ্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;

(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়;

(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।

সুদ বা মুনাফার বিশেষ বিয়োজন পরিগণনা

৫২। (১) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ধারকৃত কোনো মূলধনের উপর কোনো সুদ পরিশোধ বা, ক্ষেত্রমত, কোনো মুনাফা ভাগের অর্থ পরিশোধ করা হইলে তাহা ব্যবসায়িক ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে।

(২) যদি দেখা যায় যে, ধারকৃত অর্থের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইয়াছে বা ধারকৃত অর্থে অর্জিত সম্পদের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হইয়াছে যেখানে অর্থলগ্নী করা স্থানান্তরকারীর ব্যবসা নহে, তাহা হইলে উক্ত অর্থ বা সম্পদের যে অংশ ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহার করা হইয়াছে সেই অংশের আনুপাতিক হারে সুদ বা মুনাফা ব্যয় অনুমোদিত হইবে।

সুদ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সীমা

৫৩। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক ধারা ২৩৩ এ সংজ্ঞায়িত কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান বরাবর কোনো করবর্ষে সুদ ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি ও সীমা অনুযায়ী অনুমোদিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আয়বর্ষে পরিশোধিত সুদের পরিমাণ ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

বিয়োজন অনুমোদনের সাধারণ শর্তাবলি

৫৪। (১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন এইরূপ কোনো ব্যয় যদি বিয়োজন হিসাবে অনুমোদিত হয় যাহা সর্ম্পূণ বা আংশিকভাবে কোনো পরিসম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে তাহা হইলে উক্ত পরিসম্পদ বাবদ একই আয়বর্ষে আর কোনো বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য হইবে না।

(২) ধারা ৪৯ এর অধীন কোনো ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনার ক্ষেত্রে আমলে লওয়া হইবে, যথা:-

(ক) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়;

(খ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় রাজস্ব প্রকৃতির হয়; এবং

(গ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত হয়।

কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য না হওয়া

৫৫। এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যথা:-

(ক) যেকোনো প্রকারের ব্যয় বা পরিশোধ যাহার ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করা হয় নাই;

(খ) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যকে প্রদত্ত সুদ, বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক;

(গ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক শেয়ারহোল্ডার পরিচালককে কোনো কমিশন বা ডিসকাউন্ট প্রদান;

(ঘ) ধারা ৩২ এর ব্যাখ্যাতে সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোনো কর্মচারীকে প্রদত্ত ১০ (দশ) লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোনো অঙ্ক:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত মজুরি বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না;

(ঙ) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি সেবা ফি, কারিগরি কৌশল বাবদ ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ব্যবহার বাবদ নির্বাহকৃত সমপ্রকৃতির অন্য যেকোনো ফি বাবদ মোট ব্যয়সমষ্টির ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ) এর অতিরিক্ত ব্যয়;

(চ) বাংলাদেশে নিবন্ধিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক নির্বাহকৃত হেড অফিস অথবা ইন্ট্রা-গ্রুপ ব্যয়, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ) এর অতিরিক্ত ব্যয়;

(ছ) ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অতিরিক্ত অঙ্ক:

তবে শর্ত থাকে যে, করদাতা সরকারকে কোনো সেবা প্রদানের কাজে বিদেশ ভ্রমণ করিলে সেইক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, এই দফায় অধীন পরিগণিত অতিরিক্ত অঙ্কের সমর্থনে প্রমাণাদি উপস্থাপন করিলে এবং উহার বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা প্রমাণিত হইলে এই দফায় প্রদত্ত সীমা প্রযোজ্য হইবে না;

(জ) আপ্যায়ন ব্যয় হিসাবে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-

(অ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকার ৪% (চার শতাংশ); এবং

(আ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকা বাদে পরবর্তী অঙ্কের ২% (দুই শতাংশ);

(ঝ) ফ্রি স্যাম্পল বিতরণে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-

(অ) ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ২% (দুই শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(আ) খাদ্য, প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ১% (এক শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;

(ই) অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.১% (শূন্য দশমিক এক শতাংশ) হারে;

(ঞ) বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অধিক অঙ্ক;

(ট) কর্মচারীর চাকরি হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত এইরূপ কোনো অর্থ যদি ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়;

(ঠ) কোনো পরিশোধ যাহা ভাড়া হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত তাহা ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;

(ড) কাঁচামাল বাবদ যেকোনো অঙ্কের পরিশোধ ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধিত না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধিত হইয়া থাকিলে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অতিরিক্ত পরিশোধিত অঙ্ক;

(ঢ) দফা (ট), (ঠ) ও (ড) ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার অতিরিক্ত অঙ্ক ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;

(ণ) ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা ২৫, ২৬, ২৮, ২৯, ৩৬, ৩৭, ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে বাধ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত কোনো অঙ্ক, যদি অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয়;

(ত)মূলধনি প্রকৃতির কোনো ব্যয় কিংবা করদাতার ব্যক্তিগত কোনো ব্যয়;

(থ) যেকোনো দায় যাহা সুস্পষ্টভাবে নিরূপিত নহে;

(দ) ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের সহিত সম্পর্কিত নহে এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়;

(ধ) International Financial Reporting Standard মোতাবেক কোনো পরিসম্পদের Right of Use বাবদ দাবিকৃত কোনো অবচয় ভাতা ও সুদ বিয়োজন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনুমোদন করিতে হইবে;

(ন) ধারণাগত পরিসম্পদ অনিষ্টজনিত ক্ষতি (impairment loss);

(প) বোর্ড কর্তৃক অননুমোদিত কোনো তহবিলে প্রদত্ত অর্থ;

(ফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বিধান পরিপালন না হইলে প্রমাণকহীন সকল খরচ।

ব্যাখ্যা।– এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(অ) “নীট ব্যবসায় মুনাফা” অর্থ কোনো সত্তা কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত ব্যবসায়িক মুনাফা, তবে কোনো সাবসিডিয়ারি, অ্যাসোসিয়েট বা জয়েন্ট ভেঞ্চার হইতে অর্জিত মুনাফা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(আ)“প্রচারণামূলক ব্যয়” অর্থ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে কোনো বস্তু, অর্থ বা অন্য কোনো প্রকারের সুবিধার প্রদানের বিপরীতে দাবিকৃত ব্যবসায়িক খরচ দাবি, তবে বিজ্ঞাপন ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

বিশেষ ব্যবসা আয় পরিগণনা

৫৬। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ধ) এর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য দফার অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ব্যবসা আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) এই অধ্যায়ের অধীন “বিশেষ ব্যবসা আয়” বা “ব্যবসা হইতে আয়” এর বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ হিসাবে গণ্য কোনো আয়ের বিপরীতে কোনো প্রকারের ব্যয়, লোকসানের সমন্বয় বা জের টানা এবং তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর সাধারণ করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে।

ষষ্ঠ অধ্যায়

মূলধনি আয়

মূলধনি আয়

৫৭। মূলধনি পরিসম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত মুনাফা ও লাভ মূলধনি আয় হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, International Accounting Standards (IAS) বা International Financial Reporting Standards (IFRS) অনুযায়ী ন্যায্য বাজার মূল্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া কোনো পরিসম্পদ যাহা প্রকৃত অর্থে হস্তান্তরিত হয় নাই, উহা হইতে উদ্ভূত কোনো ধারণাগত লাভ বা মুনাফা মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত হইবে না।

মূলধনি আয় পরিগণনা

৫৮। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তির মূলধনি আয় হইবে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য এবং উক্ত পরিসম্পদের অর্জন মূল্যের পার্থক্য।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য বলিতে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য হইবে ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে যাহা অধিক, যেখানে-

ক = পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে প্রাপ্ত বা উপচিত অর্থ; এবং

খ = হস্তান্তরের তারিখে পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;

(খ) “পরিসম্পদের অর্জন মূল্য” বলিতে-

(অ) কোনো পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইবে নিম্নবর্ণিত খরচসমূহের সমষ্টি-

(১) এইরূপ কোনো খরচ যাহা কেবল উক্ত পরিসম্পদের স্বত্ব হস্তান্তরের সহিত সম্পর্কিত;

(২) পরিসম্পদের ক্রয়মূল্য; এবং

(৩) ধারা ৩৮, ৪২, ৪৯, ৫০ বা ৬৪ অনুযায়ী অনুমোদিত খরচ ব্যতীত উক্ত পরিসম্পদ উন্নয়নের খরচ, যদি থাকে;

(আ) যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারি উক্ত পরিসম্পদ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জন করিয়াছেন-

(১) কোনো উপহার, দান বা উইলের অধীন;

(২) সাকসেশন, উত্তরাধিকার বা পরম্পরাক্রমে;

(৩) প্রত্যাহারযোগ্য বা অপ্রত্যাহারযোগ্য কোনো ট্রাস্টের হস্তান্তরের অধীন;

(৪) কোনো কোম্পানি অবসায়নের জন্য মূলধনি পরিসম্পদের কোনো বিতরণের মাধ্যমে; বা

(৫) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভাজনের ক্ষেত্রে মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণের মাধ্যমে,

সেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারী কর্তৃক উক্ত পরিসম্পদের মালিকানা অর্জনের তারিখের ন্যায্য বাজার মূল্য উক্ত পরিসম্পদের অর্জনমূল্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।

পরিগণনার সময়

৫৯। মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত আয় উক্ত হস্তান্তর যেই আয়বর্ষে সংঘটিত হইয়াছে সেই আয়বর্ষের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

বিয়োজন অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা

৬০। উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহা যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হইলে, উক্ত ব্যয়কে এই অধ্যায়ের অধীন অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে না।

মূলধনি আয় নির্ধারণে অন্যান্য বিষয়াবলি

৬১। (১) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য অপেক্ষা ১৫% (পনেরো শতাংশ) এর অধিক হইলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার সেই পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করিবেন।

(২) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত অর্জন মূল্য অপেক্ষা ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক হইলে উপকর কমিশনার, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত পরিসম্পদ ঘোষিত অর্জন মূল্যে ক্রয় করিবার জন্য প্রস্তাব দিতে পারিবেন।

(৩) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নূতন কোনো কোম্পানির নিকট কোনো অংশীদারি ফার্মের সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের ফলে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে তাহা করমুক্ত থাকিবে যদি সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের বিনিময় মূল্য নূতন কোম্পানি ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়।

সপ্তম অধ্যায়

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়

৬২। (১) কোনো ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) সরকারি বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;

(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার বা অন্য কোনো প্রকারের সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;

(গ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্য সুদ বা মুনাফা, যথা: -

(অ) কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত আমানত, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(আ) কোনো আর্থিক পণ্য বা স্কিম;

(ঘ) লভ্যাংশ।

(২) আর্থিক পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে অর্জিত মূলধনি আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” শ্রেণিভুক্ত হইবে না।

আয় পরিগণনার সময়

৬৩। কোনো ব্যক্তি যেই আয়বর্ষে আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় প্রাপ্ত হইবেন বা যেই আয়বর্ষে তাহার হিসাবে উক্ত আয় জমা হইবে, এর মধ্যে যাহা পূর্বে ঘটে, সেই আয়বর্ষে তাহা অন্তর্ভুক্ত হইবে।

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য খরচ

৬৪। “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে, যথা:-

(ক) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক করদাতাকে সুদ বা মুনাফা প্রদানের বিপরীতে আয়কর ব্যতীত কর্তনকৃত অর্থ;

(খ) কেবল “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণকৃত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ;

(গ) কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, দফা (ক) বা (খ)তে উল্লিখিত ব্যয় ব্যতীত, নির্বাহকৃত অন্য কোনো ব্যয়।

কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য না হওয়া

৬৫। এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে না, যথা:-

(ক) বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধযোগ্য কোনো সুদ যাহা হইতে এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন বা পরিশোধ করা হয় নাই;

(খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত প্রযোজ্য এইরূপ আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়ের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা কমিশন;

(গ) মূলধনি বা ব্যক্তিগত প্রকৃতির কোনো ব্যয়।

অষ্টম অধ্যায়

অন্যান্য উৎস হইতে আয়

অন্যান্য উৎস হইতে আয়

৬৬। কোনো করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্যান্য উৎস হইতে আয় খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত ও পরিগণিত হইবে, যথা:-

(ক) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের জন্য ফি এবং স্পর্শাতীত সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয়;

(খ) সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি;

(গ) ধারা ৩০ এ বর্ণিত অন্য কোনো খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হয় নাই এইরূপ কোনো উৎস হইতে আয়।

অন্যান্য উৎস হইতে আয়ের বিশেষ ক্ষেত্র

৬৭। (১) ধারা ৬৬ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, এই অধ্যায়ের বিধান অনুসারে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” পরিগণনার ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে করদাতার হিসাবের বহিতে অথবা অন্য কোনো দলিলাদিতে এইরূপ কোনো অঙ্কের ক্রেডিট (any sum found credited) দেখা যায়, যাহার প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে করদাতা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করিতে পারেন না অথবা করদাতার ব্যাখ্যা উপকর কমিশনারের নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত অঙ্ক উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে করদাতা কোনো আয়বর্ষে কোনো সম্পদের মালিক হন বা কোনো ঋণ গ্রহণ করেন বা ব্যয় নির্বাহ করেন বা এইরূপ কোনো লেনদেন করেন যাহা করদাতার পরিসম্পদকে প্রভাবিত করে, সেইক্ষেত্রে (ঘ+ঙ+চ) অপেক্ষা (ক+খ+গ) অধিক হইলে, (ক+খ+গ)- (ঘ+ঙ+চ) এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে, যেখানে-

ক= নীট পরিসম্পদের পরিবৃদ্ধি,

খ= নির্বাহকৃত প্রকৃত খরচ,

গ= ক ও খ ব্যতীত তহবিল হইতে অন্যান্য ব্যয়,

ঘ= মোট নিরূপিত আয়,

ঙ= নিরূপিত কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়, এবং

চ= ঘ ও ঙ ব্যতীত তহবিলের অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রাপ্তি।

(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা বাণিজ্যিক মজুদ বা আর্থিক পরিসম্পদ ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করেন এবং উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত মূল্য ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম, সেইক্ষেত্রে পরিশোধিত মূল্য ও ন্যায্য বাজার মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য, তাহা করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইয়া “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।

(৫) কোনো চুক্তি বাতিল বা রদ করিবার অথবা চুক্তির কোনো শর্তে পরিবর্তন বা সংশোধনের কারণে কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা ফি, কমিশন, ক্ষতিপূরণ সুনামমূল্য, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, এইরূপ কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহা সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৬) লিজ বা ভাড়ার মাধ্যমে সেলামী বা প্রিমিয়াম আকারে কোনো করদাতা কর্তৃক কোনো আয়বর্ষে কোনো এককালীন অর্থ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হইলে তাহা করদাতার উক্ত আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৭) কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর্তৃক কোনো পরিসম্পদ অর্জনকালে পরিশোধিত অর্থ হইতে অংশ ৭ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এইরূপ পরিশোধিত অর্থ করদাতার উক্ত আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৮) ঋণের দায় মওকুফের প্রেক্ষিতে কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা যদি কোনো প্রকার লাভ বা সুবিধা প্রাপ্ত হন, তবে তাহা অর্থে রূপান্তরযোগ্য হউক বা না হউক, উক্ত লাভ বা সুবিধার অর্থমূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইবে এবং তাহা “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার বিধান নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) কোনো তফসিলি ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বরাবর ঋণ অথবা সুদ মওকুফ;

(খ) কোনো ব্যক্তি করদাতার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনকৃত কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বিপরীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ বা উহার অধীন প্রণীত বিধির আলোকে নিবন্ধিত মার্চেন্ট ব্যাংকার এন্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার বা স্টক ব্রোকার কর্তৃক কোনো মার্জিন লোন বা উহা হইতে উদ্ভূত সুদ মওকুফের কারণে অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) লক্ষ টাকা লাভ বা সুবিধা।

(৯) কোনো আয়বর্ষে করদাতা লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে, এইরূপ প্রাপ্তি উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে।

(১০) যেইক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নহে, এইরূপ কোনো কোম্পানি কোনো আয়বর্ষে কোনো শেয়ারহোল্ডারের নিকট হইতে ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত নগদে পরিশোধিত মূলধন প্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধিত মূলধন উক্ত আয়বর্ষে কোম্পানি করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন হিসাবে নগদ ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ বা সেবা গৃহীত হইলে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(১১) যেইক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি করদাতা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনোভাবে যেকোনো পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ যেই বৎসর ঋণ হিসাবে গৃহীত হইয়াছিল, সেই আয়বর্ষে উক্ত করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইবে এবং তাহা “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারায় বর্ণিত কোনো ঋণ বা তাহার অংশবিশেষ পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে পরিশোধ করা হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপে পরিশোধিত অর্থ উক্ত পরবর্তী আয়বর্ষের আয় পরিগণনার সময় বাদ যাইবে।

(১২) যেইক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি করদাতা সরাসরি বা ভাড়ায় এক বা একাধিক মোটর কার বা জিপ ক্রয় করে এবং কোনো মোটর কার বা জিপের মূল্য রিজার্ভ ও পুঞ্জিভূত মুনাফাসহ তাহার পরিশোধিত মূলধনের ১০ (দশ) শতাংশের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ ১০% (দশ শতাংশ) অতিক্রান্ত হওয়া অর্থের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(১৩) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি করদাতা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো অগ্রিম, ঋণ, দান বা অন্য কোনো প্রকার ডিপোজিট হিসাবে সর্বমোট ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক পরিমাণের কোনো অর্থ গ্রহণ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে গৃহীত অর্থ যেই বৎসর অগ্রিম, ঋণ, দান বা অন্য কোনো প্রকার ডিপোজিট হিসাবে গৃহীত হইয়াছিল, সেই আয়বর্ষে উক্ত করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে এই উপ-ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না

(ক) স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা বা সন্তানের নিকট হইতে এইরূপ অর্থ গ্রহণ করা হইলে এবং উহা দাতার ব্যাংক হিসাব হইতে উত্তোলিত হইলে;

(খ) ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির সহিত নিবন্ধিত কোনো সংস্থা কর্তৃক গৃহীত কোনো ডিপোজিট।

(১৪) যেইক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িত নহে এইরূপ কোনো করদাতা কোনো গৃহসম্পত্তি বা তাহার অংশবিশেষ নির্মাণ বা মেরামতের জন্য বাকিতে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করেন এবং এইরূপ ক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী ২ (দুই) আয়বর্ষের মধ্যে তাহা পরিশোধ না করেন, সেইক্ষেত্রে তাহা উক্ত ২ (দুই) আয়বর্ষ সমাপ্ত হইবার পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে ।

(১৫) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা ধারা ১৭৫, ১৮০ বা ২১২ এর অধীন কোনো সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন এবং উক্ত সংশোধিত রিটার্নে এইরূপ কোনো আয় প্রদর্শন করেন যাহা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহারের আওতাধীন, সেইক্ষেত্রে ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে, যেখানে-

ক = কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহারের আওতাধীন আয় হিসাবে সংশোধিত রিটার্ন বা ভুল-সংশোধনী রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থ,

খ = মূল রিটার্নে প্রদর্শিত আয়:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে ব্যাংকিং মাধ্যম সংযুক্ত থাকিবে এবং উপযুক্ত প্রমাণাদি উপস্থাপিত হইবে, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

অন্যান্য উৎস হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন

৬৮। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, মূলধনি বা ব্যক্তিগত ব্যয় নহে এইরূপ ব্যয় খরচ হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(২) ধারা ৬৭ এর উপ-ধারা (৫) ও (৬) ব্যতীত ধারা ৬৭ এর অন্যান্য উপ-ধারার অধীন আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে কোনপ্রকারের ব্যয় অনুমোদিত হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে, উক্ত খরচের যৌক্তিকতা বিবেচনা করিতে হইবে।

কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদিত না হওয়া

৬৯। (১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন কোনো সম্পদের বিপরীতে খরচ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অনুমোদিত হইলে তাহা একই সম্পদের বিপরীতে পুনরায় অনুমোদিত হইবে না।

(২) খরচ অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কিত ধারা ৫৫ এ উল্লিখিত বিধানাবলি এই অধ্যায়ের এইরূপ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

নবম অধ্যায়

ক্ষতির সমন্বয় এবং জের টানা

ক্ষতির সমন্বয় এবং জের টানা

৭০। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি অন্য খাতের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে।

(২) নিম্নবর্ণিত সারণী উল্লিখিত কোনো ক্ষতি কেবল সেই খাত বা উৎসের আয় ব্যতীত অন্য কোনো খাত বা উৎসের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে না, যথা:-

 

                                সারণী

 

ক্রমিক নং

আয়ের উৎস বা খাত

যেরূপে সমন্বয় করা যাইবে

(১)

(২)

(৩)

মূলধনি ক্ষতি

কেবল মূলধনি আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে

 

ব্যবসায়িক ক্ষতি

কেবল ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে

ফটকা ব্যবসায় ক্ষতি

কেবল ফটকা ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে

 

তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবসায় ক্ষতি

কেবল তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে

 

(৩) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাইবে না।

(৪) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত ক্ষতি কেবল উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে এবং উক্ত ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যের আয়ের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।

(৫) কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি উক্ত বৎসরের অন্য কোনো খাতের বা উৎসের আয়ের সহিত সম্পূর্ণ সমন্বয় করা না গেলে অসমন্বিত ক্ষতির জের টানিয়া পরবর্তী ৬ (ছয়) করবর্ষে সমন্বয় করা যাইবে।

(৬) অষ্টম তফসিল সাপেক্ষে, ব্যবসা বা পেশায় উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হইলে, উত্তরসূরি নিজের কোনো আয়ের বিপরীতে পূর্বসূরির ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানিতে পারিবেন না।

অবচয় ভাতার জের টানা

৭১। (১) এই আইনানুযায়ী অনুমোদিত কোনো অবচয় কোনো করবর্ষের গ্রস আয়ের বিপরীতে ব্যয় হিসাবে সম্পূর্ণরূপে চার্জ করা না গেলে তাহা পরবর্তী করবর্ষের অবচয়ের সহিত যুক্ত হইবে।

(২) এই আইনের কোনো বিধান পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে কোনো অবচয় ভাতা অননুমোদিত হইলে উহার জের টানা যাইবে না।

(৩) জের টানা অবচয়ের ভাতা চার্জ করিবার পূর্বে জের টানা ক্ষতির সমন্বয় করিতে হইবে।

(৪) অনুমোদিত অবচয় ভাতা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয়কৃত হওয়া পর্যন্ত জের টানা যাইবে।

দশম অধ্যায়

হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

৭২। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, একজন ব্যক্তির আয়কে নিয়মিতভাবে প্রয়োগকৃত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসারে পরিগণনা করিতে হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি মনে করেন যে, হিসাব পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি অভিষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর উপকর কমিশনার করদাতার আয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অনুমোদন করিতে পারিবেন।

(৩) বোর্ড, বিধি দ্বারা, কোনো ব্যবসা, বা কোনো শ্রেণির ব্যবসা, বা অন্য কোনো উৎস, বা কোনো উৎসের আয়ের জন্য হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও অন্যান্য যাচাই মানদণ্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৪) পূর্ববর্তী বিধানসমূহ ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোনো কোম্পানি International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব রক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।

কোম্পানি, ইত্যাদি কর্তৃক নিরীক্ষাকৃত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল

৭৩। কোনো কোম্পানি, ৩ (তিন) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে টার্নওভার রহিয়াছে এইরূপ ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, তহবিল এবং দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি হইতে আয় প্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি আয়বর্ষের রিটার্নের সহিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা প্রত্যয়িত আয় বিবরণী এবং স্থিতিপত্রের একটি অনুলিপি এই মর্মে প্রদান করিবে যে-

(ক) উক্ত করবর্ষের জন্য International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব সংরক্ষণ করা হইয়াছে এবং বিবরণী প্রস্তুত ও দাখিল করা হইয়াছে;

(খ) বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হইয়াছে; এবং

(গ) International Standards on Auditing (ISA) অনুসারে উহা নিরীক্ষা করা হইয়াছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

৭৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণিভুক্ত এবং গণনাকৃত আয়ের জন্য উপচিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করেন, সেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হইতে উদ্ভূত আয় সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি অনুসারে গণনা করিতে হইবে।

(২) কোনো করবর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের শতাংশ, উক্ত করবর্ষ শেষ হইবার পূর্বে চুক্তিতে মোট বরাদ্দকৃত ব্যয় এবং সংঘটিত খরচের সহিত চুক্তির শুরুতে নির্ধারিত আনুমানিক মোট চুক্তিব্যয়ের মধ্যে তুলনার মাধ্যমে নির্ধারিত হইবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) "দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি" অর্থ উৎপাদন, স্থাপন, বা নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি, বা এতৎসংক্রান্ত প্রতিটি চুক্তি সম্পর্কিত পরিষেবা সমূহের সম্পাদন, যাহা চুক্তির অধীন কাজ আরম্ভ হইবার করবর্ষের মধ্যে সম্পন্ন হয় নাই, তবে চুক্তির অধীন কাজ শুরু হইবার দিন হইতে আনুমানিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে শেষ হইবে এইরূপ চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তি;

(খ) "সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি" অর্থ সার্বজনীনভাবে গৃহীত হিসাবরক্ষণ নীতি যাহার অধীন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতাধীন রাজস্ব ও ব্যয় উপ-ধারা (২) এর অধীন সংশোধনকৃত চুক্তির সমাপ্তির পর্যায়ে স্বীকৃত হয়।

অসম্পূর্ণ বা ভুল হিসাব, ইত্যাদি

৭৫। (১) কোনো করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত রিটার্ন, বিবরণ বা জমাকৃত নথি, বা অডিট বা কর নির্ধারণ কার্যক্রম চলাকালে উল্লিখিত দাবি যাচাইযোগ্য না হইলে তাহা অগ্রাহ্য করিবার ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের কোনো কিছুই আয়কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাকে বারিত করিবে না।

(২) যেইক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণের কোনো প্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় নাই, বা উপকর কমিশনার করদাতার হিসাবসমূহের সঠিকতা বা সম্পূর্ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন, বা করদাতার হিসাবসমূহ ধারা ৭৩ এর বিধান অনুসারে প্রস্তুত এবং সংরক্ষণ করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে করদাতার কর নিরূপণ করিবেন।

প্রথম অধ্যায়

অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ

কর অব্যাহতি

৭৬। (১) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে বা কোনো শ্রেণীর ব্যক্তিগণকে কর অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে এই আইন ব্যতীত অন্য কোনো আইন বা আইন হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো আইনগত দলিলের বিধানানুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে, অন্য আইনে বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা না হইলে উক্তরূপ বিধান কার্যকর হইবে না।

(৩) বোর্ড এই ধারার অধীন প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে যেকোনো কর অব্যাহতি বাতিল করিতে পারিবে।

(৪) এই আইনের অধীন কোনো কর অব্যাহতি ভূতাপেক্ষভাবে প্রদান করা যাইবে না।

(৫) অংশ ৬ এবং এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তি কোনো করবর্ষে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবেন না যদি তিনি নিম্নবর্ণিত শর্তাবলির পরিপালনে ব্যর্থ হন, যথা:-

(ক) করদিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল; বা

(খ) ধারা ১৬৬ এবং ১৭১ এর বিধানাবলি পরিপালনপূর্বক রিটার্ন দাখিল; বা

(গ) উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ, জমা বা এতদসংক্রান্ত রিটার্ন দাখিল এবং অংশ ৭ এর
বিধানাবলির পরিপালন; বা

(ঘ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত কোনো খাত হইতে সকল প্রকার প্রাপ্তি ও আয় ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যেমে গ্রহণে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে প্রাপ্তির খাত “কৃষি হইতে আয়” হিসাবে পরিগণিত এবং কোনো আয়বর্ষে মোট প্রাপ্তির পরিমাণ ১ (এক) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে নহে সেইক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না;

(৬) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো উৎসের আয় বা ব্যক্তির আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদিত কোনো ব্যয়, ক্ষেত্রমত, উক্ত উৎসের আয় বা ব্যক্তির আয় বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর প্রদেয় হইবে।

মোট আয় হইতে বাদ

৭৭। (১) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ১ এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অর্জিত আয় উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির মোট আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা উক্ত আয়বর্ষের তহবিলের উৎস পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) রিটার্নের মোট আয় হইতে বাদ সংশ্লিষ্ট কলামে আয়ের হিসাব যথাযথভাবে দেখাইতে হইবে; এবং

(খ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করিতে হইবে।

(২) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের অর্থ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির করদায় পরিগণনার সময় মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইবে, যথা:-

(ক) উক্ত অনুদান রিটার্ন বা বিবরণ বা রিটার্নের সহিত সংযুক্ত দলিলাদিতে প্রতিফলিত হইয়াছে;

(খ) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন প্রদত্ত অনুদানের মোট পরিমাণ উক্ত ব্যক্তির অনুদান পূর্ববর্তী প্রদর্শিত মোট আয়ের ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক নহে;

(গ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করা হইয়াছে।

কতিপয় বিনিয়োগ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ কর রেয়াত

৭৮। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে এবং ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ এ নির্ধারিত সীমা, শর্তাবলি এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে কোনো বিনিয়োগ করা হইলে, কোনো করবর্ষে মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হইতে নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ও অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নিম্নবর্ণিতভাবে কর রেয়াত প্রাপ্য হইবেন-

(ক) ০.০৩ × ‘ক’; বা

(খ) ০.১৫ × ‘খ’; বা

(গ) ১০ (দশ) লক্ষ টাকা,

এই তিনটির মধ্যে যাহা কম,

এইক্ষেত্রে-

‘ক’ = কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এইরূপ আয় এবং ন্যূনতম কর প্রযোজ্য এইরূপ আয় বাদ দিয়া পরিগণিত মোট আয়, এবং

‘খ’ = কোনো আয়বর্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ অনুসারে করদাতার মোট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ।

সমবায় সমিতির কতিপয় আয়ের অব্যাহতি

৭৯। কোনো সমবায় সমিতি কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম হইতে অর্জিত আয় প্রদেয় কর হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে, যথা:-

(ক) ফসল উৎপাদন;

(খ) কুটির শিল্প পরিচালনা;

(গ) ইহার সদস্যগণ কর্তৃক কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণ।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কুটির শিল্প" অর্থ একটি উদ্যোগ, যাহা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধনপ্রাপ্ত নহে, যেখানে-

(ক) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন বিনিয়োগকারী, পূর্ণসময়কালীন কর্মী এবং প্রকৃত উদ্যোক্তা;

(খ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট, যন্ত্রপাতি ও উপকরণে বিনিয়োগকৃত মূলধন আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করে না;

(গ) মালিক ও তাহার পরিবারের সদস্যসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ (পনেরো) জনের অধিক নহে।

দ্বিতীয় অধ্যায়

গড়করণ

গড়করণ

৮০। (১) ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্য বা ফার্মের কোনো অংশীদারের মোট আয়ে ব্যক্তিসংঘ বা, ক্ষেত্রমত, ফার্ম হইতে উদ্ভূত করারোপিত শেয়ার আয় অন্তর্ভুক্ত হইলে উক্ত শেয়ার আয়ের উপর গড় হারে হিসাবকৃত কর পরিশোধযোগ্য হইবে না।

(২) নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুসারে গড় হারে কর হিসাব করিতে হইবে, যথা:-

ট= ক × (খ/গ), যেইক্ষেত্রে-

ট= গড় হারে কর,

ক= মোট আয়ের উপর হিসাবকৃত কর (ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের
শেয়ার আয়সহ),

খ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়,

গ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়সহ মোট আয়।

তৃতীয় অধ্যায়

কর অবকাশ

অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয়

৮১। (১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা কর্তৃক অর্জিত ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতের অন্তর্ভুক্ত আয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত সীমা, শর্ত এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৪ এবং এই অধ্যায়ের অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে করছাড় সুবিধাপ্রাপ্ত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আয়কর ছাড়ের সুবিধা প্রাপ্ত হইলে তাহা করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা রিটার্নের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রদর্শন করিতে হইবে।

(৩) কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে করছাড় সুবিধা প্রদান করা যাইবে, যথা:-

(ক) উক্ত সত্তা এইরূপ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীনে এবং ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত, যিনি-

(অ) আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা যাহার প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে অবস্থিত;

(আ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত অফিস রহিয়াছে এইরূপ কোম্পানি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হইবার তারিখে ক্রয়কৃত বা পরিশোধিত মূলধন ২০ (বিশ) লক্ষ টাকার নিম্নে নহে;

(খ) উক্ত সত্তা ইতোমধ্যে অস্তিত্ব রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যবসা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া বা পুনর্গঠন বা পুনঃসংযোজনের মাধ্যমে গঠিত হয় নাই;

(গ) কোনো কারখানা, যন্ত্রপাতি, উপকরণ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি যদি বাংলাদেশের অন্য কোনো সত্তা কর্তৃক ইতঃপূর্বে ব্যবহৃত না হইয়া থাকে;

(ঘ) উক্ত সত্তা-

(অ) টিআইএন গ্রহণ করিয়াছে;

(আ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ করিয়াছে;

(ই) স্বতন্ত্রভাবে এবং পৃথকভাবে হিসাব রক্ষণ করিয়াছে।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা” অর্থ কোনো আয়বর্ষের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো সত্তা যাহার ব্যবসা হইতে আয় রহিয়াছে এবং যাহা-

(ক) এই অধ্যায়ের অধীন আংশিক বা সম্পূর্ণ করছাড়ের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে;

(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত করছাড় বা করহ্রাসের জন্য অনুমোদিত হইয়াছে।

বোর্ড কর্তৃক কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা অনুমোদন

৮২। (১) কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য কোনো ব্যবসায়িক সত্তাকে ইহার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হইবার মাসের মধ্যে, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন দাখিল করিতে হইবে।

(২) আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, বোর্ড, লিখিত আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৩) বোর্ড উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে, কর অবকাশ প্রাপ্তির আবেদনটি অস্থায়ীভাবে মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং, উক্ত বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত ব্যবসায়িক সত্তাকে কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা হিসাবে গণ্য করা হইবে।

(৪) আবেদনকারীকে যুক্তিসঙ্গতভাবে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া বোর্ড কোনো আবেদন বাতিল করিবে না।

(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে কোনো আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হইলে, সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির ৪ (চার) মাসের মধ্যে উক্ত আবেদনকারী বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং বোর্ড পূর্ববর্তী আদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবে এবং তৎবিবেচনায় উপযুক্ত আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(৬) উপ-ধারা (১) এর বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার কর পরিপালন নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপে এই ধারার অধীন অনুমোদন মঞ্জুর ও পুনর্বিবেচনা বা যেকোনো বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

সহযোগী সত্তার সহিত লেনদেন

৮৩। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা ইহার অন্য কোনো সহযোগী সত্তার সহিত লেনদেনে জড়িত থাকে এবং যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে,-

(ক) লেনদেন উন্মুক্ত বাজার মূল্যে হয় নাই; এবং

(খ) এই ধরনের লেনদেনের ফলে কোনো আয়বর্ষে কোনো সহযোগী সত্তার আয় প্রকৃত আয় আপেক্ষা কম হইয়াছে,

সেইক্ষেত্রে সহযোগী সত্তাটির জন্য যে পরিমাণে আয় কম পরিগণনা করা হইয়াছে তাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাটির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং তাহা উক্ত আয়বর্ষের জন্য "অন্যান্য উৎস হইতে আয়" খাতে শ্রেণিভুক্ত হইবে।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) কোনো সত্তা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার সহযোগী সত্তা হিসাবে বিবেচিত হইবে, যদি-

(অ) কোনো সত্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক কিংবা একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে, অন্য কোনো সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে; অথবা

(আ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি ও বংশধরসহ, উভয় সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক বা একাধিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে; অথবা

(ই) কোনো সত্তা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, অন্য কোনো সত্তার ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা

(ঈ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি বা বংশধরসহ, উভয় সত্তায় ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা

(উ) দুইটি সত্তা একই গ্রুপের সদস্য হয়।

(খ) "উন্মুক্ত বাজার মূল্য" অর্থ মুক্ত বাজারে সম্পর্কহীন (দুইটি পক্ষের মধ্যে সম্মত মূল্য;

(গ) "সত্তা" শব্দ অর্থে কোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবে।

অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় পরিগণনা

৮৪। (১) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় অন্য কোনো ব্যবসা হইতে পৃথকভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।

(২) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয়ের ন্যায় একইভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।

(৩) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ উল্লিখিত কেবল সাধারণ অবচয় ভাতা প্রযোজ্য হইবে।

(৪) কোনো আয়বর্ষের জন্য অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার পরিগণিত ক্ষতি করদাতার অন্য কোনো সত্তা বা খাত, যাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত নহে, উহার লাভের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।

(৫) ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদনের ফলে উক্ত সত্তার উদ্ভূত আয়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্তরূপ আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপ করা হইবে।

কর ছাড় বাতিল বা অননুমোদন

৮৫। (১) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন গৃহীত কোনো কার্যধারা হইতে দেখা যায় যে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা এই অধ্যায়ে বর্ণিত কোনো শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে অবকাশ সুবিধা প্রদান করিতে পারিবেন না এবং উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সত্তার জন্য নিয়মিত পদ্ধতিতে ও হারে প্রদেয় কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

(২) অনুমোদিত কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত সত্তা উক্তরূপ সুবিধা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ অনুমোদনের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন দাখিল করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আবেদন প্রাপ্ত হইলে বোর্ড তৎবিবেচনায় উপযুক্ত কোনো আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(৩) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড জনস্বার্থে, এই ধারার অধীন অনুমোদিত কোনো ছাড় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবে।

প্রথম অধ্যায়

নিবাসী হইতে কর কর্তন

চাকরির আয় হইতে উৎসে কর কর্তন

৮৬। (১) কোনো প্রাপককে "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো চাকরির অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধের সময়, উক্ত খাতের অধীন প্রাপকের আনুমানিক মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলের পুঞ্জিভূত স্থিতি হইতে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ৩ এর অনুচ্ছেদ ৬ এ উল্লিখিত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর কর্তন করিবেন।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা আয়নকারী ও ব্যয়নকারী কর্মকর্তা (ডিডিও) হিসাবে কার্য সম্পাদন করিয়াছেন বা সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে "চাকরি হইতে আয়" উত্তোলন করিবার জন্য নিজের বা অন্য কোনো সরকারি অধীনস্তের জন্য বিল প্রস্তুত বা স্বাক্ষর করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিল তৈরি বা স্বাক্ষরের সময়, উক্ত আয়বর্ষের জন্য প্রদেয় বার্ষিক বেতন যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহা হইলে উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট আয়ের জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন কোনো কর্তনের সময়, পূর্ববর্তী কোনো উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সহিত সমন্বয়ের জন্য উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সমপরিমাণ অর্থ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাইবে।

(৫) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন প্রদেয় অগ্রিম করসহ, এই ধারার অধীন ইতোমধ্যে উৎসে কর প্রদান করা হইয়াছে এবং কোনো কর্মচারীর সম্ভাব্য মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর উক্তরূপে প্রদেয় করের পরিমাণের কাছাকাছি বলিয়া বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত কর্মচারী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন এবং প্রদত্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অবশিষ্ট আয়বর্ষের জন্য এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র জারি করিতে পারিবেন যে, উক্ত কর্মচারীর নিকট হইতে কোনো কর কর্তন করা হইবে না বা কম হারে কর কর্তন করা হইবে।

সংসদ সদস্যদের সম্মানী হইতে কর কর্তন

৮৭। সংসদ সদস্যের সম্মানী হিসাবে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, প্রদেয় সম্মানীর উপর, প্রযোজ্য পরিমাণে আয়কর প্রাপকের উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট সম্মানীর জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর্তন করিবেন।

শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিলে প্রদত্ত অর্থ হইতে উৎসে কর্তন

৮৮। এই আইনের অন্যান্য বিধানে বা বিদ্যমান অন্য কোনো আইনে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কর ছাড় সংক্রান্ত যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল হইতে ইহার কোনো সুবিধাভোগীকে কোনো অর্থ প্রদানকালে, উক্তরূপে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

ঠিকাদার, সরবরাহকারী ইত্যাদিকে প্রদত্ত অর্থ হইতে কর কর্তন

৮৯। যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে নিম্নবর্ণিত কারণে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়-

(ক) অংশ ৭ এর অন্য কোনো ধারায় উল্লিখিত পরিষেবা প্রদান বা সরবরাহের জন্য চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তি সম্পাদন;

(খ) পণ্য সরবরাহ;

(গ) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা রূপান্তর;

(ঘ) মুদ্রণ, প্যাকেজিং বা বাঁধাই,

সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটকালে ভিত্তিমূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ১০% (দশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।

সেবার ক্ষেত্রে পরিশোধ হইতে কর্তন

৯০। কোনো সেবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।

স্পর্শাতীত সম্পত্তির জন্য পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন

৯১। রয়্যালটি, ফ্র্যাঞ্চাইজ বা লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, কপিরাইট, শিল্প নকশা, উদ্ভিদের জাত, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বা মেধাসত্ত্ব সংক্রান্ত অন্য কোনো সম্পত্তি অথবা অভৌত বা অমূর্ত বা নিরাকার বিষয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটের সময় নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে কর কর্তন করিবেন, যথা:-

 

সারণী

পরিশোধের বর্ণনা

কর কর্তনের হার

(১)

(২)

ভিত্তিমূল্যের পরিমাণ ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে

১০% (দশ শতাংশ)

ভিত্তিমূল্যের পরিমাণ ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে

১২% (বার শতাংশ)

 

প্রচার মাধ্যমের বিজ্ঞাপন আয় হইতে কর কর্তন

৯২। নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক বিজ্ঞাপন, প্রচার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বেসরকারি রেডিও স্টেশন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে (মিডিয়া বায়িং এজেন্ট ব্যতীত) অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

অভিনেতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, ইত্যাদি ব্যক্তিকে পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন

৯৩। (১) কোনো চলচ্চিত্র, নাটক বা টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রাম ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইহার আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধিত বা পরিশোধযোগ্য অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন বা কোনো টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রামে অভিনয় করিবার জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফি, ইত্যাদি হইতে কর্তন বা উৎসে কর সংগ্রহ

৯৪। (১) কোনো পরিবেশককে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে পণ্য বা সেবা সরবরাহ বা বিপণনের জন্য কমিশন, বাট্টা, ফি, ​​প্রণোদনা বা কর্মদক্ষতা ভাতা বা কর্মদক্ষতা সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রণোদনা বা এইরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ বা একই প্রকৃতির সুবিধার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি বা ফার্ম অর্থ পরিশোধকালে বা অনুমোদিত কোনো অঙ্কের অর্থ প্রদানকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পরিশোধযোগ্য পরিমাণ বা প্রদেয় অনুমোদিত অঙ্কের অর্থ বা অনুমোদিত সুবিধার আর্থিক মূল্য, ক্ষেত্রমত, এর উপর শতকরা ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।

(২) কোনো কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কোনো অর্থ পরিশোধকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের জন্য প্রাপ্ত অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(৩) তেল বিপণন কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানি বা ফার্ম, যাহা –

(ক) কোনো পরিবেশক; বা

(খ) চুক্তির অধীন অন্য কোনো ব্যক্তি,

-এর নিকট উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্য হইতে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করে, উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে খ × গ এর সমপরিমাণ মূল্যের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে, যেইক্ষেত্রে-

খ = পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট কোম্পানি বা ফার্মের বিক্রয় মূল্য;

গ = ৫% (পাঁচ শতাংশ):

তবে শর্ত থাকে যে, সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিক্রয়কালে উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পণ্যের বিক্রয় মূল্য এবং উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের
৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে।

ট্রাভেল এজেন্টের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

৯৫। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন বা ছাড় বা অন্য কোনো সুবিধার মাধ্যমে, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, কোনো নিবাসীকে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধকালে যাত্রী টিকিট বিক্রয় বা কার্গো বিমানে পণ্য পরিবহণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে রূপান্তরযোগ্য মোট অর্থের উপর ০.৩% (শূন্য দশমিক তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন বা অগ্রিম কর সংগ্রহ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত টিকেট বিক্রয়ের মাধ্যমে বা বিমানে কার্গো পরিবহণ হইতে ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধিত হইলে উক্তরূপ অর্থ পরিশোধকালে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক/খ x গ এর সমপরিমাণ অর্থ কর্তন করিবেন, যেখানে-

"ক"= এই উপ-ধারাতে উল্লিখিত ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা,

"খ"= কমিশন বা ডিসকাউন্ট বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার পরিমাণ, এবং

"গ"= কমিশন বা ছাড় বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার উপর উৎস করের পরিমাণ।

(৩) টিকিট বা চার্জের মূল্য গণনাকালে কোনো প্রারম্ভিক ফি, ভ্রমণ কর, ফ্লাইট সুরক্ষা বিমা, নিরাপত্তা কর এবং বিমানবন্দর কর বাবদ পরিশোধিত অর্থ মূল্য বা চার্জ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

ঋণপত্রের কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর্তন

৯৬। নিজ বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য পণ্য আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ঋণপত্রের কমিশন সংগ্রহকালে, কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে ৫% (পাঁচ শতাংশ) কর কর্তন করিবেন।

স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর্তন

৯৭। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো স্থানীয় ঋণপত্র বা উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থা নহে এইরূপ অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির অধীন ব্যবসা বা প্রক্রিয়া বা রূপান্তরের পরে পুনঃবিক্রি করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ক বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি খ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট হইতে বাংলাদেশে কোনো পণ্য ক্রয়ের জন্য কোনো ঋণ সুবিধা প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ক কর্তৃক ক্রয়ের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো পরিবেশককে এইরূপ কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থার অধীন কোনো ঋণসুবিধা প্রদান করিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি
গ বলিয়া উল্লিখিত, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে তাহার কোনো পরিবেশক, অতঃপর ব্যক্তি
ঘ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট পণ্য বিক্রি বা ইনভয়েসের বিপরীতে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি গ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ঘ এর অনুকূলে ইনভয়েসকৃত পণ্যের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(৩) ধান, গম, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুটি, ছোলা, মশুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, ডাল, ভূট্টা, মোটা আটা, আটা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, কালো গোল মরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, পাট, তুলা, সুতা এবং সকল প্রকার ফল ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ২% (দুই শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ‘পরিবেশক’ বলিতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত পণ্য সর্বশেষ ক্রেতার নিকট প্রত্যক্ষভাবে বা অন্য কোনো মধ্য স্বত্বভোগীর মাধ্যমে সরবরাহের কার্যক্রম পরিপালন করেন।

সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর কর্তৃক পরিশোধিত অর্থের উপর কর কর্তন

৯৮।  কোনো সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কোনো আয় বন্টন বা কোনো লাইসেন্স ফি বা অন্য কোনো ফি বা চার্জ, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, বাবদ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জমা বা অর্থ পরিশোধকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত পরিমাণ অর্থের ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

জীবন বিমা পলিসির প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত কোনো পরিশোধ হইতে কর কর্তন

৯৯। কোনো নিবাসীকে কোনো জীবন বিমা কোম্পানির সহিত কৃত কোনো জীবন বিমা পলিসির জন্য প্রদত্ত প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, পলিসি গ্রাহককে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ প্রদানকালে ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, পলিসি গ্রহীতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।

বিমার কমিশনের অর্থ হইতে কর্তন

১০০। কমিশন বা অন্য কোনো উপায়ে সম্মানি বা পুরষ্কারের মাধ্যমে বিমা গ্রহণের জন্য আহ্বান বা বিমা সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিমা পলিসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নবায়ন বা পুনরুজ্জীবনের সহিত সম্পর্কিত ব্যবসার জন্য কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অঙ্ক গ্রহীতার হিসাবে জমা প্রদানকালে বা উক্ত অঙ্কের অর্থ নগদ বা চেক বা ড্রাফট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে প্রদানকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত অঙ্কের উপর পাঁচ শতাংশ (৫%) হারে কর কর্তন করিবেন।

সাধারণ বিমা কোম্পানি জরিপকারীদের ফি, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন

১০১। কোনো বিমাকারীর বিমা দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কোনো জরিপ পরিচালনার জন্য কোনো নিবাসীকে পারিশ্রমিক বা ফি দ্বারা অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অর্থ পরিশোধকালে, মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে আয়কর কর্তন করিবেন।

সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন

১০২। (১) এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো নিবাসী ব্যক্তিকে কোনো ব্যাংক, কো-অপারেটিভ ব্যাংক, ইসলামী নীতি মোতাবেক পরিচালিত কোনো ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো লিজিং কোম্পানি অথবা কোনো হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদী আমানত বা অন্য কোনো প্রকার আমানতের বিপরীতে কোনো সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করিলে, সুদ বা মুনাফা পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুদ বা মুনাফা কোনো ব্যক্তির হিসাবে ক্রেডিটের সময় অথবা সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময়, যাহা পূর্বে ঘটে, নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে উৎসে কর কর্তন করিয়া সরকারি কোষাগারে জমা করিবেন-

 

সারণী

 

ক্রমিক নং

প্রাপকের ধরণ

কর কর্তনের হার

(১)

(২)

(৩)

কোম্পানির ক্ষেত্রে

২০% (বিশ শতাংশ)

কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে

১০% (দশ শতাংশ)

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মান্থলি পে অর্ডারভূক্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট বা চার্টার্ড সেক্রেটারীজ ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে

১০% (দশ শতাংশ)

স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল, অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল পেনশন তহবিলের ক্ষেত্রে

% (পাঁচ শতাংশ)।

 

 

(২) এই ধারার কোনো কিছুই নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) সরকার বা সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে তফসিলভুক্ত কোনো ব্যাংক কর্তৃক স্পন্সরকৃত কোনো ডিপোজিট পেনশন স্কিম হইতে উদ্ভূত কোনো সুদ বা মুনাফা; বা

(খ) বোর্ড কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, অন্য কোনোভাবে কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রাপক বা প্রাপক শ্রেণি।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নাবালকের আইনানুগ অভিভাবকের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ নাবালকের রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে।

পোস্ট অফিস সঞ্চয় ব্যাংকে রক্ষিত অর্থের সুদ হইতে প্রাপ্ত আয়ের উপর উৎসে কর কর্তন

১০৩। ডাক (পোস্ট অফিস) সঞ্চয় ব্যাংকের কোনো হিসাবে সুদ হইতে জমাকৃত অর্থ হইতে আয়কর আদায়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি বা প্রাপকের হিসাবে অর্থ প্রদানের সময়, যাহা পূর্বে ঘটে, ১০% (দশ শতাংশ) হারে আয়কর কর্তন করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ড কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো প্রাপক বা বেতনভোগী শ্রেণির কর্মচারীর ক্ষেত্রে, এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

নিবাসীর সুদ আয় হইতে কর কর্তন

১০৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত ব্যক্তি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো ঋণ বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত সুদ পরিশোধকালে পরিশোধিত সুদের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) বোর্ড করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই সাপেক্ষে, এই মর্মে লিখিত সার্টিফিকেট প্রদান করিতে পারিবে যে, এই ধারা অধীন করদাতার প্রাপ্য অর্থের উপর কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে।

সঞ্চয় পত্রের মুনাফা হইতে কর কর্তন

১০৫। (১) এই আইনের অন্য কোনো বিধান বা অন্য কোনো আইনে অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল বা গ্র্যাচ্যুইটি তহবিল বা স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল বা শ্রমিক স্বার্থ অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের উপর প্রাপ্ত মুনাফা কর অব্যাহতির বিষয়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) কোনো আয়বর্ষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে, উক্তরূপ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত মুনাফা হইতে এই ধারার অধীন কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।

(৩) বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারীর উন্নয়ন বন্ড, মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো বিনিয়োগ বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ড হইতে উদ্ভূত সুদ বা লভ্যাংশ হইতে কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।

সিকিউরিটিজের সুদ হইতে উৎসে কর কর্তন

১০৬। সরকারি সিকিউরিটিজ অথবা সরকার বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজ ইস্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ডিসকাউন্ট, সুদ বা মুনাফা পরিশোধ বা ক্রেডিটকালে, যাহা আগে ঘটে, ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড়ের উপর উৎসে কর কর্তন

১০৭। বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড় বা কর্তনের জন্য কোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, উহার উপর প্রযোজ্য পরিমাণের সর্বোচ্চ হারে কর কর্তন করিবেন।

আন্তর্জাতিক ফোন কলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর কর্তন

১০৮। (১) আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে সেবা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা প্রদানকারীর হিসাবে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে জমাকৃত মোট অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।

(২) আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা অপারেটর, যাহার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কিত কোনো অর্থ প্রদান করা হয় অথবা ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস (এএনএস), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) এর সহিত চুক্তির অধীন কোনো হিসাবে অর্থ জমা প্রদান করা হয়, উক্ত চুক্তির আওতায় পরিশোধ বা জমাকৃত মোট অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে বহির্গামী আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) পরিষেবাদি বা অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক পরিষেবাদি (এএনএস) প্রদানের বিনিময়ে কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান বা জমা দেওয়া হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১), (২) বা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে বোর্ড কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, লিখিতভাবে কোনো সনদ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আয়কর হইতে মুক্ত হইবে বা এই ধারায় উল্লিখিত হারের নিম্ন হারে কর প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হইবে এবং এই ধরনের অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে অর্থ পরিশোধ করিবেন-

(ক) কর কর্তন ব্যতীত; অথবা

(খ) সনদে উল্লিখিত হারে কর কর্তন সাপেক্ষে।

ভাড়া হইতে উৎসে কর কর্তন

১০৯। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি-

(ক) কোনো গৃহ সম্পত্তি;

(খ) হোটেল বা গেস্ট হাউজ;

(গ) খালি স্থান বা প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি; বা

(ঘ) সরকারি জলাধার ব্যতীত অন্য কোনো জলাধার,

ভাড়া করেন সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির ভাড়া পরিশোধকালে প্রদেয় ভাড়ার উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৎসরের কর নির্ধারণের পর দেখা যায় যে, গৃহ সম্পত্তির মালিক কর্তৃক কোনো কর প্রদেয় নাই বা প্রদত্ত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষা অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত হারে কর্তিত অর্থ ফেরত প্রদান করা হইবে,-

(ক) কোনো কর প্রদেয় না হইলে, সম্পূর্ণ অংশ; বা

(খ) কর্তিত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষে অধিক হইলে, যতটুকু অধিক সেইটুকু।

(৩) যেইক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার এতদুদ্দেশ্যে কৃত আবেদনের ভিত্তিতে, নির্ধারিত ফরমে সদ্‌বিশ্বাসে এই মর্মে সনদ প্রদান করেন যে, উক্ত বৎসরে গৃহ সম্পত্তির মালিকের কোনো মূল্যায়নযোগ্য আয় নাই বা এই আইনের বিধাবাবলি সাপেক্ষে উহা আয়কর মুক্ত, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত সনদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত উক্ত গৃহ সম্পত্তির ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয়ের উপর কর কর্তনযোগ্য হইবে না।

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "ভাড়া" অর্থ কোনো পরিশোধ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহা কোনো লিজ, ভোগ স্বত্ত (tenancy) বা কোনো চুক্তি বা সমঝোতার মাধ্যমে কোনো আসবাবপত্র, জিনিসপত্র এবং ভূমিসহ কোনো ভবন ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়।

কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, ইত্যাদি হইতে সেবা প্রদানের জন্য কর কর্তন

১১০। যেইক্ষেত্রে কোনো কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, কক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, হল, হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার বা কোনো রেস্টুরেন্ট ভাড়া বা স্থান ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত সেবার জন্য পরিশোধিত সম্পূর্ণ পরিমাণের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর উক্ত পরিশোধের সময় কর্তন করিবেন।

সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হইতে উৎসে কর কর্তন

১১১। কোনো স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য উহার মালিককে কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় নিম্নবর্ণিত হারে কর কর্তন করিবেন,-

(ক) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৬% (ছয় শতাংশ);

(খ) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাহিরে অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৩% (তিন শতাংশ)।

নগদ রপ্তানি ভর্তুকির উপর উৎসে কর কর্তন

১১২। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য রপ্তানিকারককে নগদ রপ্তানি ভর্তুকির কারণে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, অর্থ প্রদান বা জমার সময়, প্রদেয় মোট অর্থের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।

পরিবহণ মাশুল ফরওয়ার্ড এজেন্সি কমিশন হইতে কর কর্তন

১১৩। পরিবহণ মাশুল ফরওয়ার্ড এজেন্সি কমিশনের কারণে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, প্রাপককে অর্থ প্রদান বা জমার সময়, প্রদেয় মোট অর্থের ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে কর কর্তন

১১৪। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তি, বিদ্যুৎ ক্রয়ের অর্থ পরিশোধকালে প্রদেয় অর্থের ৬% (ছয় শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ, কর্তন বা পরিশোধ করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন হইতে কোনো আয়বর্ষের আয় এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, বোর্ড, উক্ত আয়বর্ষের আয় কোনোরূপ সংগ্রহ বা কর্তন ব্যতীত অথবা আনুপাতিকভাবে হ্রাসকৃত হারে সংগ্রহ বা কর্তন প্রযোজ্য হইবে মর্মে প্রত্যয়ন করিতে পারিবে।

রিয়েল এস্টেট উন্নয়নকারীর (ডেভেলপার) নিকট হইতে ভূমির মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন

১১৫। যেইক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়ন (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ব্যবসার সহিত জড়িত কোনো ব্যক্তি সাইনিং মানি, পণমূল্য (subsistence money), বাড়ির ভাড়া বা অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমি উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা কোনো চুক্তি বা কোনো লিখিত চুক্তি দ্বারা প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ভূমি মালিককে কোনো অর্থ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে অর্থ প্রদানকালে মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করা হইবে।

বিদেশি ক্রেতার এজেন্টকে প্রদত্ত কমিশন বা পারিশ্রমিক হইতে কর কর্তন

১১৬। যেইক্ষেত্রে, ঋণপত্রের শর্তাবলি বা কোনো নির্দেশের অধীন কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রপ্তানিকারক পণ্য রপ্তানির জন্য অর্থ প্রদান করে, কোনো এজেন্ট এর হিসাবে পণ্য রপ্তানি হইতে কোনো পরিমাণ অর্থ কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক হিসাবে প্রদান করে, বৈদেশিক ক্রেতা হিসাবে প্রতিনিধিত্বকারী বা উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক প্রদানের সময় ব্যাংক ১০% (দশ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।

লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন

১১৭। বাংলাদেশ নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির মুখ্য কর্মকর্তা (প্রধান নির্বাহী), কোনো শেয়ারহোল্ডারকে কোনো লভ্যাংশ প্রদানকালে, কোনো নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশির ক্ষেত্রে, উক্ত লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন করিবেন,-

(ক) শেয়ারহোল্ডার যদি কোনো কোম্পানি হয়, তাহা হইলে কোম্পানির উপর প্রযোজ্য হারে;

(খ) শেয়ারহোল্ডার যদি কোম্পানি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি হয়, উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) হইলে ১০% (দশ শতাংশ) হারে বা উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) না হইলে ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান কোনো কোম্পানির কর লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবেনা, যদি উক্ত কর লভ্যাংশ ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা ৩২ এর অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

লটারি, ইত্যাদি হইতে প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন

১১৮। লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, ২০% (বিশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “যেকোনো পরিমাণ" অভিব্যক্তিটির অর্থ কোনো পণ্য বা সম্পত্তির মূল্য যেখানে উক্ত বিজয়ীর হিসাবে নগদে অর্থ বা সম্পদ দ্বারা প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়

অনিবাসীর নিকট হইতে কর কর্তন

অনিবাসীদের আয় হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ

১১৯। (১) এই অধ্যায়ের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কোনো অনিবাসীকে এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধ করেন যাহা এই আইনের অধীন উক্ত অনিবাসীর জন্য করযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত অর্থ প্রদানকারী, যদি না তিনি নিজেই এজেন্ট হিসাবে কর পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, প্রদেয় অর্থের উপর নির্ধারিত, অনধিক ৩০% (ত্রিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে বোর্ড, এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোনো অনিবাসীকে কর সংক্রান্ত চুক্তি বা অন্য কোনো কারণে বাংলাদেশে কোনো কর প্রদান করিতে হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদান করিতে হইবে, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিশোধ কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তনপূর্বক করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন কর্তনকৃত কর, যে আয়ের উপর উক্ত কর কর্তন করা হইয়াছে, উক্ত আয়ের উপর প্রাপকের ন্যূনতম করদায় বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোনো দাবির বিপরীতে উহা সমন্বয় করা যাইবে না।

(৪) কোনো কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তর হইতে কোনো অনিবাসী করদাতার পক্ষে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর কার্যকরের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, উক্ত মূলধনি আয়ের উপর প্রদেয় কর পরিশোধিত না হইলে, উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবেন না।

(৫) এই ধারার অধীন সংগৃহীত কোনো কর নিবাসী কোনো ব্যক্তির নামে জমা হইলে এই ধারার অধীন কর সংগৃহীত হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।

(৬) অনিবাসী বরাবর প্রেরিত নিম্নবর্ণিত অর্থ রেমিটকালে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) আরবিট্রেশন ফি;

(খ) হজ্ব বাবদ প্রেরিত অর্থ;

(গ) প্রায়োরিটি পাস বাবদ অর্থ।

তৃতীয় অধ্যায়

উৎসে কর সংগ্রহ

আমদানিকারকদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

১২০। কমিশনার, কাস্টমস বা এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা পণ্যের আমদানি মূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ) হারে, উৎসে কর সংগ্রহ করিবেন।

জনশক্তি রপ্তানি হইতে কর সংগ্রহ

১২১। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক-

(ক) জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সিসমূহকে জনশক্তি রপ্তানিতে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না যদি না এজেন্সিসমূহ জনশক্তি রপ্তানি বাবদ গৃহীত সার্ভিস চার্জ বা ফি’র ১০% (দশ শতাংশ) কর জমার চালানের কপি আবেদনের সহিত জমা প্রদান করে;

(খ) বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৮ নং আইন) এর ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করিবেন না যদি না জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সি এই মর্মে দাখিলকৃত আবেদনের সহিত ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার করের চালান জমা প্রদান করে।

ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

১২২। Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর অধীন অনুমোদিত কোনো ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট কর্তৃক কোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানিকালে ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট এর প্রাপ্য কমিশনের উপর, কমিশনার, কাস্টমস ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।

রপ্তানি আয় হইতে কর সংগ্রহ

১২৩। (১) কোনো ব্যাংক, যেকোনো পণ্য রপ্তানিকারক কর্তৃক রপ্তানির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রপ্তানিকারকের হিসাবে জমা প্রদানকালে মোট রপ্তানি আয়ের ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তনপূর্বক তাহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে, বোর্ড, আবেদনের ভিত্তিতে এই মর্মে লিখিতভাবে সনদ প্রদান করিয়া থাকে যে, রপ্তানিকারকের আয় এই আইনের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃতহারে করযোগ্য, তাহা হইলে ব্যাংক সনদে উল্লিখিত সময়ের জন্য করদাতার হিসাবে কোনো কর্তন ব্যতিরেকে বা সনদে উল্লিখিত হ্রাসকৃতহারে কর কর্তনপূর্বক উহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।

কোনো সেবা, রেভিনিউ শেয়ারিং, ইত্যাদি বাবদ বিদেশ হইতে প্রেরিত আয় হইতে কর কর্তন

১২৪। ফি, সেবা চার্জ বা পারিশ্রমিক, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা যেকোনো নামে বা প্রকৃতির রেভিনিউ শেয়ারিং এর মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কাজের বিনিময়ে বিদেশ হইতে প্রেরিত অর্থ কোনো ব্যক্তির হিসাবে পরিশোধ বা জমা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রাপকের হিসাবে অর্থ পরিশোধ বা জমা প্রদানকালে উক্ত পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন, যথা:-

(ক) বাংলাদেশে প্রদত্ত কোনো সেবার জন্য;

(খ) কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিদেশি ব্যক্তিকে পরিষেবা প্রদান বা কোনো কাজের জন্য;

(গ) বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য:

তবে শর্ত থাকে যে,-

(১) ম্যানুফ্যাকচারিং, প্রসেস বা কনভারশন, পূর্ত কাজ, নির্মাণ, প্রকৌশল বা সমজাতীয় অন্য কোনো কাজের জন্য সম্পাদিত চুক্তির বিপরীতে বিদেশ হইতে বাংলাদেশে প্রেরিত অর্থ প্রাপকের হিসাবে অর্থ পরিশোধ বা জমা প্রদানকালে উক্ত পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে:

(২) বিদেশ হইতে প্রেরিত নিম্নবর্ণিত অর্থের বিপরীতে কোনো কর্তন করা যাইবে না, যথা:-

(অ) ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা ১৭ ও ৩৩ দ্বারা মোট আয় বহির্ভূত অর্থ;

(আ) কোনো নিবাসীর সফটওয়্যার বা সেবার বিক্রয়লব্ধ অর্থ, যদি উক্ত বিক্রয় বা সেবা হইতে প্রাপ্ত আয় ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা ২১ এর মোট আয় বহির্ভূত অর্থ হয়।

সম্পত্তি হস্তান্তর, ইত্যাদি হইতে কর সংগ্রহ

১২৫। (১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর section 17 এর sub-section (1) এর clauses (b), (c) বা (d) এর অধীন দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা, নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ ব্যতীত, কোনো দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধন করিবেন না।

(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করের হার-

(ক) জমির ক্ষেত্রে কাঠা প্রতি ১.৬৫ (এক দশমিক পয়ষট্টি শতাংশ) ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা;

(খ) কোনো স্থাপনা, ভবন, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লোর স্পেস এর ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ১ (এক) হাজার টাকা; অথবা

(গ) দলিলে উল্লিখিত মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ),

যাহা অধিক হয়, তাহা অতিক্রম করিবে না।

(৩) এই ধারার কোনো কিছুই নিম্নরূপ কোনো দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রয়;

(খ) ঋণের বিপরীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রদত্ত বন্ধকী সম্পদ;

(গ) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সুকুক ইস্যুর নিমিত্ত গঠিত কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল হইতে অথবা কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল বরাবর কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর।

রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়নকারীর নিকট হইতে কর সংগ্রহ

১২৬। (১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর বিধান মোতাবেক কোনো ভূমি বা ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের জন্য কোনো দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, নির্ধারিত হারে কর প্রদান না করা পর্যন্ত, হস্তান্তরকারী কর্তৃক ভূমি উন্নয়ন ব্যবসায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরের দলিলাদি নিবন্ধন করিবেন না।

(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করের হার-

(ক) আবাসিক উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে ১ (এক) হাজার ৬০০ (ছয়শত) টাকা,

(খ) আবাসিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য না হইলে ৬ (ছয়) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) টাকা,

(গ) ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের সহিত সংশ্লিষ্ট ভূমির ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের ৫% (পাঁচ শতাংশ),

এর অধিক হইবে না।

সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বাবদ পরিশোধিত কমিশন হইতে কর সংগ্রহ

১২৭। সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বা অনুরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো কিছু বিক্রয়ের বিপরীতে কোনো কমিশন, বাট্টা বা ফি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, পরিশোধকালে পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ পরিশোধিত অর্থ হইতে ১০% (দশ শতাংশ) হারে উৎসে কর কর্তন করিবেন।

সম্পত্তির ইজারা হইতে কর সংগ্রহ

১২৮। Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর অধীন নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের মেয়াদের কোনো স্থাবর সম্পত্তির ইজারা সম্পর্কিত কোনো দলিল নিবন্ধন করিবেন না, যদি না উক্তরূপ সম্পত্তির ইজারা মূল্যের উপর ৪% (চার শতাংশ) হারে কর পরিশোধ করা হয়।

সিগারেট উৎপাদনকারীর হইতে কর সংগ্রহ

১২৯। কোনো সিগারেট প্রস্তুতকারকের কাছে ব্যান্ডরোল বিক্রির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, ব্যান্ডরোল বিক্রয়কালে, উক্তরূপ প্রস্তুতকারকের নিকট হইতে ব্যান্ডরোলের মোট মূল্যমানের ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "সিগারেটের উৎপাদন" অর্থ কোনোরূপ যান্ত্রিক সহায়তা ব্যতীত প্রচলিত বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে সিগারেট উৎপাদন।

ইট প্রস্তুতকারকের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

১৩০। ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর অধীন ইট তৈরির অনুমতি প্রদান বা অনুমতি নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, উক্তরূপ অনুমতি প্রদান বা উহা নবায়ন করিবেন না, যদি না উক্তরূপ অনুমতি প্রদান বা উহার নবায়নের জন্য করা আবেদনের সহিত উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়িত ও নিম্নবর্ণিত হারে পরিশোধিত আয়কর চালান সহ পূর্ববতী করবর্ষের কর পরিশোধ সনদ প্রদান করা হয়, যথা:-

(ক) এক সেকশন (one section) ইট ভাটার জন্য- ৪৫ (পয়তাল্লিশ) হাজার টাকা;

(খ) দেড় সেকশন (one and half-section) ইট ভাটার জন্য- ৭০ (সত্তর) হাজার টাকা;

(গ) দুই সেকশন (two section) ইট ভাটার জন্য- ৯০ (নব্বই) হাজার টাকা;

(ঘ) স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে ইট উৎপাদনকারী ভাটার জন্য- ১ (এক) লক্ষ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা।

ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় কর সংগ্রহ

১৩১। বাণিজ্যিক লাইসেন্স নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিটি বাণিজ্যিক লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিম্নবর্ণিত হারে কর সংগ্রহ করিবে, যথা:-

(ক) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩ (তিন) হাজার টাকা;

(খ) অন্য কোনো সিটি কর্পোরেশনে ২ (দুই) হাজার টাকা;

(গ) কোনো জেলা সদর দফতরের পৌরসভায় ১ (এক) হাজার টাকা;

(ঘ) কোনো পৌরসভায় ৫০০ (পাঁচশত) টাকা।

কোনো নিবাসীর জাহাজ ব্যবসা হইতে কর সংগ্রহ

১৩২। যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাস্টমস কমিশনার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, কোনো নিবাসী করদাতার মালিকানাধীন বা ভাড়াকৃত যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক ​​বা পণ্য পরিবহনকারী কোনো জাহাজকে পোর্ট ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না, যদি না উক্ত নিবাসী করদাতা সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সনদ গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশ বা বিদেশে প্রেরিতব্য মোট মালামালের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর প্রদান করেন:

তবে শর্ত থাকে যে, দুই বা ততোধিক দেশ কর্তৃক প্রদত্ত পরিষেবার বিনিময়ে গৃহীত বা গৃহীতব্য পরিবহণকৃত মালের উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করা হইবে।

প্রকাশ্য নিলামের বিক্রি হইতে কর সংগ্র

১৩৩। (১) কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট মালিকের কোনো পণ্য বা সম্পত্তি সীলমোহরযুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করিলে উক্ত পণ্য বা সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তর অথবা কোনো অধিকার চর্চার অনুমতি প্রদানের পূর্বে মোট বিক্রয় মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।

(২) প্রকাশ্য নিলামে চা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে উৎসে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে প্লট আকারে কোনো জমি বিক্রয় করা হইলে এই ধারার অধীন কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) “কোনো পণ্য বা সম্পত্তি বিক্রয়” অর্থে কোনো পণ্য বা সম্পত্তির ইজারা, জলমহাল, বালুমহাল, সায়রাত মহালের ইজারা, যেকোনো প্রকারের অধিকারের ইজারা, অক্ট্রয় ফি (octroi duties) বা অন্যান্য আরোপনীয় কর, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, সংগ্রহের অধিকারসহ কোনো ব্যক্তির নামে কোনো ইজারা প্রদানের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কোনো জমির প্লট বিক্রয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(খ) “নির্দিষ্ট মালিক" অর্থ সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, ইউনিটসহ কোনো কর্পোরেশন বা সংস্থা, যাহার কার্যক্রম বা প্রধান কার্যক্রম কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিল দ্বারা অনুমোদিত বা বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন অনুমোদিত বা প্রতিষ্ঠিত কোনো সত্তা বা কোনো কোম্পানি।

শেয়ার হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ

১৩৪। নিবাসী কোনো ব্যক্তি হইতে অপর কোনো ব্যক্তির নিকট তালিকাভুক্ত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ হস্তান্তর নিবন্ধন করিবেন না, যদি না হস্তান্তরকারী নিবাসী ব্যক্তি হস্তান্তরিত শেয়ারের অভিহিত মূল্য এবং ন্যায্য মূল্যের cv_©‡K¨i উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর জমা প্রদানের চালান নিবন্ধনের আবেদনের সহিত সংযুক্ত করেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যেপূরণকল্পে,-

(ক) “অভিহিত মূল্য” অর্থ ইস্যুকারী কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে যদি উহা-

(অ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়; এবং

(আ) করদাতার আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়;

(খ) “ন্যায্য মূল্য” অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের পূর্বে কৃত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (valuation report) পেশাদার মূল্যায়নকারী (Professional valuer) দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য;

(গ) “পেশাদার মূল্যায়নকারী (Professional valuer)” বলিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক স্বীকৃত কোনো পেশাদার মূল্যায়নকারীকে বুঝাইবে।

সিকিউরিটিজ হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ

১৩৫। (১) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা, ক্ষেত্রমত, স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ার হস্তান্তর ঘোষণার সময় কোনো স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার বা কোনো পরিচালক বা কোনো হোল্ডিং কোম্পানি স্পন্সর বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড এর ইউনিট হস্তান্তরের অনুমতি মোতাবেক বা কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের স্পন্সর বা ধারক হস্তান্তর মূল্য এবং সিকিউরিটিজ বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের অধিগ্রহণের খরচের মধ্যে পার্থক্যের ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে-

(ক) “হস্তান্তর" অর্থে উপহার, দান, উইল বা কোনো অপরিবর্তনীয় ট্রাস্টের অধীন স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) কোনো সুরক্ষা বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের "স্থানান্তর মূল্য" সিকিউরিটিজ এবং এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক প্রদত্ত দিনের সম্মতিতে থাকা সিকিউরিটিজ বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের সমাপনী মূল্য হিসাবে গণ্য করা হইবে, অথবা যেখানে এই ধরনের সিকিউরিটিজ বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট এইরূপ দিনে বিক্রি করা হয় না যখন সিকিউরিটিজ বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের শেষ বিক্রি হয় উক্ত দিনের সমাপনী মূল্য।

স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার স্থানান্তর হইতে কর সংগ্রহ

১৩৬। (১) স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত কোনো লভ্যাংশ এবং প্রাপ্তির উপর শেয়ার হস্তান্তর, শেয়ার ঘোষণা বা উক্ত শেয়ার বিনিময় করিবার সময়, যাহা আগে ঘটে, ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন শেয়ারের লভ্যাংশ এবং প্রাপ্তি গণনার উদ্দেশ্যে এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫নং আইন) কার্যকর হইবার পূর্বের শেয়ারের অর্জন মূল্যকে উক্ত শেয়ারের অর্জন মূল্য হিসাবে গ্রহণ করা হইবে।

স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

১৩৭। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যের দ্বারা প্রদত্ত সিকিউরিটিজ লেনদেনের মূল্য পরিশোধকালে ০.০৫% (শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান তালিকাভুক্ত কোনো সুকুক ও বন্ড হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মোটরযান হইতে কর সংগ্রহ

১৩৮। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, মোটরযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না, যদি না নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের চালান মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা হয়, যথা:-

 

সারণী

 

ক্রমিক নং

গাড়ির ধরন

অগ্রিম কর (টাকা )

(১)

(২)

(৩)

৫২ আসনের অধিক আসন বিশিষ্ট বাস

১৬ (ষোল) হাজার

৫২ আসনের অধিক আসন নহে এইরূপ বাস

১১ (এগারো) হাজার ৫০০ (পাঁচশত)

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস

৩৭ (সাঁইত্রিশ) হাজার  ৫০০ (পাঁচশত)

ডাবল ডেকার বাস  

১৬ (ষোল) হাজার

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিনিবাস/কোস্টার

১৬ (ষোল) হাজার

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নহে এইরূপ মিনিবাস/কোস্টার

(ছয়) হাজার ৫০০ (পাঁচশত)

প্রাইম মুভার

২৪ (চব্বিশ) হাজার

(পাঁচ) টনের অধিক পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি

১৬ (ষোল) হাজার

. (দেড়) টনের অধিক, তবে (পাঁচ) টনের অধিক নহে এইরূপ পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি

(নয়) হাজার ৫০০ (পাঁচশত)

১০

. (দেড়) টনের অধিক নহে এইরূপ পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি

(চার) হাজার

১১

পিকআপ ভ্যান, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা অটো রিক্সা

(চার) হাজার

১২

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সিক্যাব

১১ (এগারো) হাজার ৫০০ (পাঁচশত)

১৩

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নহে এইরূপ ট্যাক্সিক্যাব

(চার) হাজার

 

 

(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধিতব্য কর নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোর ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-

ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং

খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন অগ্রিম কর সংগ্রহ করা যাইবে না, যদি মোটরযানটি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়, যথা:-

(ক) সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ;

(খ) সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন কোনো প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;

(গ) কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও ইহার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ;

(ঘ) বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং ইহার সংযুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ;

(ঙ) সরকারের এমপিওভুক্ত (Monthly Payment Order) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

(চ) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (public university);

(ছ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা; বা

(জ) অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে না মর্মে বোর্ড হইতে সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান।

 

নৌযান পরিচালনা হইতে কর সংগ্রহ

১৩৯। (১) Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এর অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত Ordinance এর section 9 এর অধীন কোনো নৌযানকে সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন না বা section 12 এর অধীন সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করিবেন না, যদি না সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম কর জমার চালান সংযুক্ত করা হয়, যথা:-

 

সারণী

 

ক্রমিক নং

নৌযানের বর্ণনা

অগ্রিম কর (টাকা )

(১)

(২)

(৩)

অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত নৌ-যানের ক্ষেত্রে

দিবাকালীন যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে যাত্রী প্রতি ১২৫ (একশত পঁচিশ) টাকা

অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত কার্গো, কন্টেইনার (মাল্টিপারপাস) বা কোস্টারের ক্ষেত্রে           

মালামাল পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রস টনেজ প্রতি ১৭০ (একশত সত্তর) টাকা

অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত ডাম্পবার্জের ক্ষেত্রে            

মালামাল পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রস টনেজ প্রতি ১২৫ (একশত পঁচিশ) টাকা

 

 

(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধতব্য কর সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা কোনো বৎসরের ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-

ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং

খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ।

(৪) এই ধারায় “নৌ-যান (Inland Ship)” এবং “অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ (Inland Water)” বলিতে Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এ সংজ্ঞায়িত যথাক্রমে “Inland Ship” এবং “Inland Water” কে বুঝাইবে।

চতুর্থ অধ্যায়

সাধারণ বিধানাবলি

সংজ্ঞা

১৪০। সংজ্ঞা।-এই অংশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,

(১) "অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি" বলিতে-

(অ) "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বয়ং নিয়োগকর্তা বা যেইক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এবং উহাদের প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(আ) "আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, উক্ত আর্থিক পরিসম্পদ ইস্যুকারী কোনো সংস্থা, কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা উক্ত সংস্থা, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা; এবং

(ই) এই আইনের অধীন করযোগ্য আয় হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বা এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, স্বয়ং অর্থ প্রদানকারী অথবা অর্থ প্রদানকারী কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হইলে, উহার প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২) “চুক্তি” অর্থে উপ-চুক্তি, উপ-উপ-চুক্তি, অনুযাত (subsequent) চুক্তি, কোনো সমঝোতা (agreement) বা বন্দোবস্ত (arrangement) যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৩) “নির্দিষ্ট ব্যক্তি” অর্থ-

(ক) কোনো কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট বা তহবিল;

(খ) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ;

(গ) কোনো বিদেশি ঠিকাদার, বিদেশি এন্টারপ্রাইজ বা বাংলাদেশের বাহিরে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;

(ঘ) কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার;

(ঙ) বার্ষিক এক কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট কোনো ই-কমার্স প্লাটফর্ম, যাহা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নহে, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(চ) বার্ষিক ১ (এক) কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি;

(ছ) কৃষক নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি তামাক পাতা, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও অন্যান্য তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহে জড়িত;

(৪) “পরিশোধ” বলিতে স্থানান্তর, ক্রেডিট, পরিশোধের সমন্বয় বা কোনো পরিশোধ করিবার আদেশ বা নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) “ভিত্তিমূল্য” বলিতে নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) টি বিষয়ের মধ্যে যাহা অধিক তাহাকে বুঝাইবে-

(অ) চুক্তি মূল্য;

(আ) বিল বা ইনভয়েসের অঙ্ক; বা

(ই) পরিশোধ।

কর ব্যতীত পরিশোধ এর ক্ষেত্রে গ্রস-আপ পূর্বক কর কর্তন বা সংগ্রহ

১৪১। (১) যেইক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো কর ব্যতীত কোনো পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে পরিগণিত অঙ্কের উপর প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করিতে হইবে, যথা:-

গ = (১০০ × ক)/(১০০-খ), যেখানে-

গ = কর্তনের উদ্দেশ্যে পরিগণিত অঙ্ক,

ক = কর ব্যতীত পরিশোধ এর পরিমাণ,

খ = প্রযোজ্য করহার।

(২) যেইক্ষেত্রে, কর ব্যতীত পরিশোধের প্রাপক,-

(ক) রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনে বাধ্য কিন্তু উহা উপস্থাপনে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(খ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ গ্রহণে ব্যর্থ হইয়াছেন,

সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ‘খ’ এই অধ্যায়ের বিধানানুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “কর ব্যতীত পরিশোধ” অর্থ কোনো চুক্তি বা বন্দোবস্তের আওতায় উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ ব্যতিরেকে পরিশোধকারী কর্তৃক প্রাপকের বরাবর কোনো পরিশোধ।

উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের সাধারণ বিধান

১৪২। (১) ধারা ১১৯ এর ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ও এই অধ্যায়ের অন্যান্য ধারায় ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই অধ্যায়ের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।

(২) ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই অংশের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি চুক্তিমূল্য, বিল, ভাড়া, ফি, চার্জ, রেমুনারেশন, বেতনাদি বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বাবদ কোনো অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ না করিলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।

কর্তন, সংগ্রহ, ইত্যাদির ব্যর্থতার ফলাফল

১৪৩। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি এই অংশের বিধানাবলির অধীন-

(ক) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিতে ব্যর্থ হন; বা

(খ) অপেক্ষাকৃত কম হারে বা পরিমাণে কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন; বা

(গ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর তাহা সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে ব্যর্থ হন অথবা যেই পরিমাণ কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন তাহার চাইতে কম পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করেন; বা

(ঘ) অন্য কোনো প্রকার পরিপালনে ব্যর্থ হন,

সেইক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তি খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি, এই আইনের অধীন অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন তাহা ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্নবর্ণিত অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা:-

(ক) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা হয় নাই;

(খ) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা আবশ্যক এবং প্রকৃতভাবে যাহা কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থ; বা

(গ) কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর যেই পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয় নাই তাহার সমপরিমাণ অর্থ; এবং

(ঘ) অন্য কোনো বিধানাবলি পরিপালনের ব্যর্থতায় অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিমাণের অর্থ পরিশোধ ছাড়াও, উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর দফা (ক), (খ) এবং (গ) এ উল্লিখিত পরিমাণের উপর নিম্নবর্ণিত সারণীতে প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ গণনার ভিত্তি অঙ্কের উপর প্রতিমাসে ২% (দুই শতাংশ) হারে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী হইবেন, যথা:-

 

সারণী

 

ক্রমিক নং

ক্ষেত্রসমূহ

অতিরিক্ত অর্থ পরিগণনার ভিত্তি

(১)

(২)

(৩)

এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন বা সংগ্রহের ব্যর্থতা

যেই পরিমাণ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হয়নি

কমহারে বা কম পরিমাণে কর কর্তন বা সংগ্রহ

যেই পরিমাণ উৎসে কর কম কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে

কর্তন বা সংগ্রহের পর উহা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া বা পরিমাণে কম জমা দেওয়া

উৎসে কর কর্তনের পর যেই পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় নাই

 

 

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন অতিরিক্ত অর্থ পরিগণনার মেয়াদ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ হইতে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ মেয়াদ ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হইবে না।

(৫) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থসহ উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

(৬) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ডে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-

(ক) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ; অথবা

(খ) ছাড়পত্র, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স, পারমিট প্রদান, অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ,

এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।

(৭) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-

(ক) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজে, এবং

(খ) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ-

এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।

(৮) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর সংগ্রহযোগ্য বা কর্তনযোগ্য, তিনি ইতোমধ্যে উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত সকল প্রকারের অর্থ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করিয়া থাকিলে, উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত অর্থ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে না।

প্রকৃত কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধ ব্যতীত কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধের সার্টিফিকেট প্রদানের ফলাফল

১৪৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে পরিশোধ ব্যতীত, উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধের সার্টিফিকেট প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি, অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন, উহা ক্ষুণ্ন না করিয়া, যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে জমা করা হয় নাই তাহা পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন।

(২) উপকর কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

কর কর্তন, ইত্যাদির সার্টিফিকেট

১৪৫। (১) এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে যে ব্যক্তি কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন তিনি, উক্তরূপ কর কর্তন বা সংগ্রহক্রমে যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, তাহাকে উক্তরূপ কর্তন বা সংগ্রহ সম্পর্কিত একটি সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন, যেখানে উল্লেখ থাকিবে-

(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে তাহার নাম ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), যদি থাকে;

(খ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থের পরিমাণ;

(গ) যে ধারা বা ধারাসমূহের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে;

(ঘ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান সংক্রান্ত বিবরণ; এবং

(ঙ) নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।

(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি নির্ধারণ করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে, বা মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল মাধ্যমে, কর সংগ্রহ বা কর্তনের সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণ করিবার ক্ষেত্রসমূহ;

(খ) উক্ত ইলেক্ট্রনিক, মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণের পদ্ধতি।

কর্তিত কর সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান

১৪৬। (১) এই অংশের বিধানাবলির অধীন কর্তন বা সংগ্রহকৃত সকল অর্থ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অথবা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে, কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তি কর্তৃক সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে হইবে।

(২) এই আইনের বিধানাবলি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কর হিসাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না, এবং এইরূপভাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করা হইলে তাহা এই ধারা অনুসারে জমা করিতে হইবে।

উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ ও যাচাইকরণ

১৪৭। (১) কর কমিশনার বা মহাপরিচালক, কর পরিদর্শক বা মহাপরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যে বা এই অংশের বিধানাবলির প্রয়োগের উদ্দেশ্যে-

(ক) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের-

(অ) প্রাঙ্গণ, স্থান, পণ্য, হিসাব বহি এবং যেকোনো প্রকারে বা পদ্ধতিতে রক্ষিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডে পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন প্রবেশ করিতে পারিবে;

(আ) কম্পিউটারে রক্ষিত বা লভ্য (available) কোনো এনক্রিপ্টেড উপাত্তকে পাঠযোগ্য ও বোধগম্য বিন্যাসে (format) বা পাঠে (text) আনস্ক্র্যামবল বা রিট্রান্সফরম করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো তথ্য, কোড বা প্রযুক্তিতে প্রবেশ করিতে পারিবে;

(ই) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ডে বা সিস্টেমে সংরক্ষিত উপাত্ত, ইমেজ বা অন্য কোনো ইনপুট এক্সট্রাক্ট (extract) করিতে পারিবে;

(ঈ) পাসওয়ার্ড ব্রেক করিয়া সিস্টেমে প্রবেশ করিতে পারিবে;

(উ) কোনো তথ্য, হিসাবের বহি, দলিলাদি, ইমেজ বা ইনপুটের কপি বা বিশ্লেষণ করিতে পারিবে;

(ঊ) হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিলাদিতে শনাক্ত চিহ্ন বা স্ট্যাম্প ছাপ দিতে পারিবে এবং উহাদের কপি বা এক্সট্রাক্ট লইতে পারিবে;

(ঋ) যেকোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম জব্দ করিতে এবং নিজেদের দখলে রাখিতে পারিবে;

(এ) কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্যকলাপ করা বা করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে পারিবে;

(খ) যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ বিশেষজ্ঞ, মূল্য নির্ধারক বা বাহিনী নিজেদের সহিত নিতে পারিবে।

(২) এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির প্রাঙ্গণে বা স্থানে প্রবেশ করিলে বা প্রবেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া যদি কোনো প্রকার বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতার সম্মুখীন হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।

(৩) কোনো ব্যক্তি এই ধারার বা এই আইনের এই অংশের বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধপূর্বক, বা কোনোরূপ ব্যাখ্যার অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করিয়া নিরূপিত কর ও আরোপিত জরিমানা আদায় করিবেন।

অন্যান্য পদ্ধতি ক্ষুণ্ন না করিয়া কর আরোপের ক্ষমতা

১৪৮। এই অংশের অধীন কর্তন বা সংগ্রহের মাধ্যমে কর আরোপের ক্ষমতা অন্যান্য পদ্ধতিতে কর আদায়ের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া প্রযুক্ত হইবে।

উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি

১৪৯। যেইক্ষেত্রে এই অংশের অধীন কর হিসাবে কোনো অর্থ সংগ্রহ বা কর্তন করা হয় এবং সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে-

(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি কর্তৃক তাহা পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে;

(খ) এইরূপ কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, দফা (ক) এ উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন না এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইলে কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারী দায়মুক্তি পাইবেন।