প্রিন্ট ভিউ
1[2[Income-tax Ordinance, 1984 রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন
যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং
যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর ও বলবৎ রাখা হয়; এবং
যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলা ভাষ্যে নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং
যেহেতু আয়কর, অগ্রিম আয়কর, উৎসে কর, ন্যূনতম কর, সারচার্জ ও অন্য কোনো প্রকারের কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক; এবং
যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984) রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
১। (১) এই আইন আয়কর আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-
(১) “অবলোপিত মূল্য” অর্থ তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ সংজ্ঞায়িত অবলোপিত মূল্য;
(২) “অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) এবং যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল);
(৩) “অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার;
(৪) “অনিবাসী” অর্থ নিবাসী নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(৫) “অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ২ এর বিধান অনুসারে 3[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল;
(৬) “অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল” অর্থ দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ১ এর বিধান অনুসারে 4[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল;
(৭) “অংশীদার” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো অংশীদার এবং লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে অংশীদার হিসাবে বিবেচিত কোনো নাবালকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) “অংশীদারিত্ব” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে অংশীদারিত্ব;
(৯) “আইনগত প্রতিনিধি” অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর section 2 এর clause (11) এ সংজ্ঞায়িত কোনো আইনগত প্রতিনিধি;
(১০) “আত্মীয়” অর্থ কোনো ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন বা বংশানুক্রমিক পূর্বসূরি বা উত্তরসূরি;
5[***]
(১২) “আপিল ট্রাইব্যুনাল” অর্থ ধারা ১৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর আপিল ট্রাইব্যুনাল;
(১৩) “আয়” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর আরোপণযোগ্য যেকোনো উৎস হইতে উদ্ভূত আয়, প্রাপ্তি, মুনাফা বা অর্জন;
(খ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন উৎসে কর্তন বা সংগ্রহযোগ্য যেকোনো পরিমাণ অর্থ;
(গ) উপ-দফা (ক) তে উল্লিখিত আয়, মুনাফা বা অর্জন সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষতি;
(ঘ) চতুর্থ তফসিল এর ৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ধার্যকৃত মিউচুয়াল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালিত কোনো বিমা ব্যবসা হইতে অর্জিত মুনাফা বা প্রাপ্তি;
(ঙ) এই আইনের যেকোনো বিধানের অধীন আয় হিসাবে গণ্য বা বিবেচিত যেকোনো অর্থ, অথবা বাংলাদেশে উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত যেকোনো আয় অথবা উপচিত, উদ্ভূত, সৃষ্ট বা প্রাপ্ত হিসাবে বিবেচিত যেকোনো অর্থ;
(চ) কর আরোপ করা হয় এইরূপ যেকোনো পরিমাণ অর্থ, পরিশোধ বা লেনদেন;
6[(ছ) কোনো পরিসম্পদের অর্জন যাহা—
অ) প্রাকৃতিক নহে;
আ) কোনো ব্যক্তির স্বীয় সৃষ্টি নহে;
ই) দায় বা বন্ধকের বিপরীতে অধিগ্রহণ (foreclosure) নহে;
ঈ) উত্তরাধিকার, উইল, অছিয়ত বা ট্রাস্টমূলে অর্জিত নহে;
(উ) বিনিময় বা ক্রয়মূলে অর্জিত নহে;]
(১৪) “আয়কর” অর্থ এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য যেকোনো প্রকারের কর বা সারচার্জ;
(১৫) “আয়বর্ষ” অর্থ করবর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থবৎসর এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো ব্যবসা প্রথম শুরুর তারিখ হইতে পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;
(খ) নূতনভাবে কোনো আয়ের উদ্ভব ঘটিলে যে তারিখ হইতে তাহা শুরু হইয়াছে সেই তারিখ হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময়;
(গ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া কোনো ব্যবসা সমাপ্তির তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, অনিগমিত কোনো সংস্থার বিলুপ্তি বা কোনো কোম্পানির অবসানের তারিখ পর্যন্ত সময়;
(ঘ) জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত সময়;
(ঙ) অনিগমিত কোনো সংস্থার অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী তারিখ হইতে উক্ত অনিগমিত সংস্থার অপর কোনো অংশীদারের অবসর বা মৃত্যুর তারিখ বা, ক্ষেত্রমত, উক্ত অবসর বা মৃত্যুর তারিখের অব্যবহিত পরবর্তী জুন মাসের ৩০ তারিখ;
(চ) কোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা উহার কোনো সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট বৎসরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া পরবর্তী ১২ (বারো) মাস:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো মূল কোম্পানির সহযোগী কোম্পানি, সহযোগী কোম্পানির সহযোগী কোম্পানিসহ, বা উহার কোনো হোল্ডিং কোম্পানি বা উহার কোনো ব্রাঞ্চ, রিপ্রেজেন্টেটিভ বা লিয়াজোঁ অফিসের ক্ষেত্রে, যদি উক্তরূপ কোম্পানি উহার হিসাব মূল কোম্পানির হিসাবের সহিত সমন্বয় করিবার উদ্দেশ্যে ভিন্ন কোনো আয়বর্ষ অনুসরণ করিবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে, তাহা হইলে, উপকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, পৃথক কোনো ১২ (বারো) মাস আয়বর্ষ হিসাবে গণ্য হইতে পারিবে;
(১৬) “আয়ের উপর প্রদেয় কর” অর্থ এই আইনের অধীন আয়ের ভিত্তিতে আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থ;
(১৭) “উপকর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত উপকর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি, এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং অফিসার, সহকারী কর কমিশনার, অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার ও ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৮) “একীভূতকরণ (merger)” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত একীভূতকরণ;
(১৯) 7[“কমিশনার” অর্থ দফা (২৬ক) এ উল্লিখিত কর কমিশনার;]
(২০) “কমিশনার (আপিল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর কমিশনার (আপিল);
(২১) “কর” অর্থ আয়ের উপর প্রদেয় কর, এবং যেকোনো অতিরিক্ত কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, দণ্ড কর, সুপার কর, জরিমানা, সুদ, ফি অথবা এই আইনের অধীন অন্যবিধ আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য অর্থও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২২) “করদাতা” অর্থ করারোপযোগ্য অর্থ উপার্জনকারী কোনো ব্যক্তি এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:
(ক) এই আইনের অধীন কোনো কর বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;
(খ) এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি-
(অ) যাহার আয়, অথবা যাহার আয়ের সহিত অন্য কোনো ব্যক্তির আয় নির্ধারণযোগ্য; অথবা
(আ) যাহার বা অপর ব্যক্তির প্রাপ্য পাওনা নির্ধারণের জন্য এই আইনের অধীন কার্যক্রম গৃহীত হইয়াছে;
(গ) যাহাকে ন্যূনতম কর পরিশোধ করিতে হইবে;
(ঘ) কোনো রিটার্ন, দলিল বা বিবরণী দাখিলে বা তথ্য প্রদানে বাধ্য কোনো ব্যক্তি;
(ঙ) কর নির্ধারণে ইচ্ছুক এবং রিটার্ন দাখিলকারী কোনো ব্যক্তি;
(চ) এই আইনের কোনো বিধানের অধীন করদাতা বা খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য কোনো ব্যক্তি;
(ছ) যাহার 8[ক্ষেত্রে] এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা হইয়াছে;
9[***]
(২৪) “করবর্ষ” অর্থ প্রত্যেক বৎসর জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া ১২ (বারো) মাস মেয়াদ এবং এই আইনের বিধানাবলির অধীন করবর্ষ হিসাবে গণ্য কোনো মেয়াদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
10[(২৫) “কর্মচারী” অর্থ যেকোনো কর্মচারী এবং নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(অ) কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে, উহার যেকোনো পরিচালক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পদবি নির্বিশেষে ব্যবস্থাপনার সহিত সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালন করেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(আ) কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে, পদবি নির্বিশেষে ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনার সহিত সম্পর্কিত কোনো দায়িত্ব পালন করেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি;
(ই) এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি নিয়োগকারী হইতে বেতন প্রাপ্ত হন, নিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন ও নিয়োগকারীর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালিত হন এবং নিয়োগকারী কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে কাজ করেন;
(ঈ) ধারা ৩২ অনুযায়ী চাকরি হইতে আয় প্রাপ্ত হয় এইরূপ সকল ব্যক্তি:
তবে শর্ত থাকে যে, চা-বাগানের কোনো শ্রমিক এবং দিনমজুর ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;]
(২৬) “কর অব্যাহতি” অর্থ কোনো ব্যক্তিকে নিম্নবর্ণিত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এই আইনের অধীন উদ্ভূত কোনো করদায় হইতে আংশিক বা সম্পূর্ণ মুক্ত করা, যথা:-
(ক) রেয়াত, অবকাশ, অব্যাহতি;
(খ) হ্রাসকৃত হারে কর পরিশোধ; বা
(গ) মোট আয় পরিগণনা হইতে কোনো আয় বাদ দেয়া;
11[(২৬ক) “কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত এবং ধারা ৫ এর অধীন নিযুক্ত বা পদায়িত কর কমিশনার, মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) 12[, মহাপরিচালক (পরিদর্শন), কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট), কর কমিশনার (আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট), কর কমিশনার (উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট) ও কর কমিশনার (ই-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ইউনিট);]
(২৬খ) “কর নির্ধারণ” অর্থ এই আইনের অধীন যেকোনো প্রকারের কর নির্ধারণ এবং পুনঃকর নির্ধারণ, অতিরিক্ত কর নির্ধারণ, অধিকতর কর নির্ধারণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;]
(২৭) “করমুক্ত সীমা” অর্থ মোট আয়ের কোনো সীমা যাহা শূন্য করহার বিশিষ্ট;
(২৮) “করারোপিত লভ্যাংশ” অর্থ সেই লভ্যাংশ আয় যাহার উপর ইতোমধ্যে এই আইনের অধীন আয়কর পরিশোধ করা হইয়াছে;
(২৯) “কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস্ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৭০ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট;
(৩০) “কারিগরি সেবার ফি” অর্থ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি বা পরামর্শক সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিদান, এককালীন প্রাপ্ত প্রতিদানসহ, এবং কোনো কারিগরি বা অন্য কোনো পেশাজীবীর সেবাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) প্রতিদান গ্রহীতা কর্তৃক গৃহীত কোনো নির্মাণ কার্য, যন্ত্রাদি জোড়া প্রদানের কার্য, খনি বিষয়ক কার্য বা এইরূপ বিষয় সংক্রান্ত প্রকল্প হইতে প্রাপ্য প্রতিদান; অথবা
(খ) প্রতিদান গ্রহীতার “চাকরি হইতে আয়” আয় হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসযোগ্য কোনো প্রতিদান;
(৩১) ‘‘কোম্পানি’’ অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো কোম্পানি, এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের লিয়াজোঁ অফিস, রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস বা ব্রাঞ্চ অফিস;
(খ) যেকোনো বিদেশি সত্তা বা ব্যক্তির স্থায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান;
(গ) বাংলাদেশের বাহিরের কোনো দেশের আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;
(ঘ) যেকোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান;
(ঙ) যেকোনো শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠন, ফাউন্ডেশন, সমিতি, সমবায় সমিতি এবং যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
(চ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির সহিত নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান;
(ছ) কোনো ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, জয়েন্ট ভেঞ্চার বা ব্যক্তিবর্গের সংগঠন, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তিবর্গের কেহ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো কোম্পানি বা বিদেশি সত্তা হয়;
(জ) সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা;
(ঝ) আপাতত বলবৎ কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বা গঠিত যেকোনো সত্ত্বা;
(ঞ) স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও তহবিল ব্যতীত অন্য সকল সত্ত্বা;
(ট) কোনো আইন দ্বারা বা আইনের অধীন নিগমিত নহে, এইরূপ কোনো বিদেশি সংঘ বা সংস্থা যাহা, বোর্ড কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোম্পানি হিসাবে ঘোষিত হইতে পারে;
(৩২) “খেলাপি করদাতা” অর্থ-
(ক) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী কোনো কর পরিশোধে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা
(খ) কোনো ব্যক্তি যিনি এই আইনানুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইয়াছেন;
(৩৩) “গবেষণা ও উন্নয়ন” অর্থ প্রণালিবদ্ধ (systematic), অনুসন্ধানী (investigative) এবং পরীক্ষামূলক (experimental) অধ্যয়ন যাহা-
(ক) অভিনব অথবা কারিগরি ঝুঁকি সংবলিত হইতে হইবে;
(খ) বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি জগতের হইতে হইবে;
(গ) নূতন জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হইতে হইবে; অথবা
(ঘ) উৎপাদন অথবা উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, কৃষিপণ্য বা প্রক্রিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে অধ্যয়নের ফলাফল ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হইতে হইবে,
তবে নিম্নবর্ণিত লক্ষ্যে পরিচালিত অধ্যয়ন গবেষণা বা উন্নয়ন অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) উপকরণ, যন্ত্র বা পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ বা রুটিন টেস্টিং;
(আ) শিল্পকলা ও মানবতা এবং সামাজিক বিজ্ঞানে পরিচালিত গবেষণা;
(ই) আর্থিক দলিলাদি বা আর্থিক পণ্যের সৃষ্টি ও উন্নয়ন;
(ঈ) বাজার গবেষণা বা বিক্রয় প্রচার, রুটিন উপাত্ত (data) সংগ্রহ, ইফিসিয়েন্সি সার্ভে বা ব্যবস্থাপনা অধ্যয়ন;
(উ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির রুটিন অদলবদল বা পরিবর্তন;
(ঊ) উপকরণ, যন্ত্র, পণ্য, প্রক্রিয়া বা উৎপাদন পদ্ধতির সামান্য (cosmetic) অদলবদল বা স্টাইলের পরিবর্তন; বা
(ঋ) ট্রেডমার্ক বা সুনাম সৃষ্টি বা উন্নতি;
(৩৪) “গণকর্মচারী” অর্থ Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 21 এ সংজ্ঞায়িত অর্থে কোনো গণকর্মচারী;
(৩৫) “চাকরি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো পদ যাহাতে নিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত বা, সময় সময়, নির্ধারিতব্য পারিশ্রমিক প্রাপ্তির অধিকারী;
(খ) কোনো পরিচালক পদ বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো পদ;
(গ) সরকারি অফিসের কোনো পদের দায়িত্বে থাকা বা কার্য করা;
(৩৬) “চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট” অর্থ Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973) এ সংজ্ঞায়িত কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট;
13[(৩৬ক) “চার্টার্ড সেক্রেটারি” অর্থ চার্টার্ড সেক্রেটারীজ আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ২৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ সংজ্ঞায়িত কোনো চার্টার্ড সেক্রেটারি;]
(৩৭) “ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট” বা “প্রফিট এন্ড লস অ্যাকাউন্ট” অর্থে International Financial Reporting Standards (IFRS) এর আওতায় প্রস্তুতকৃত আয় বিবরণী এবং হিসাব সংক্রান্ত অন্যান্য সমরূপ বিবরণীও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩৮) “ট্রাস্ট” অর্থ Trust Act, 1882 (Act No. II of 1882) এর অধীন গঠিত ট্রাস্ট এবং Specific Relief Act, 1877 (Act No. II of 1877) এ সংজ্ঞায়িত ট্রাস্টও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে ট্রাস্ট কোনো কোম্পানি বা তহবিল গঠনের পূর্বশর্ত অথবা কোম্পানি বা তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানি বা, ক্ষেত্রমত, তহবিল করযোগ্য সত্ত্বা হইবে এবং ট্রাস্ট করযোগ্য সত্ত্বা হিসাবে বিবেচিত হইবে না;
(৩৯) “ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(৪০) “ডিমার্জার” অর্থ অষ্টম তফসিলে সংজ্ঞায়িত ডিমার্জার;
(৪১) “তফসিলি ব্যাংক” অর্থ Bangladesh Bank Order, 1972 (President’s Order No. 127 of 1972) এর article 2(j) -তে সংজ্ঞায়িত কোনো তফসিলি ব্যাংক;
(৪২) “তহবিল” অর্থ আপাতত বলবৎ কোনো আইন বা বিধির অধীন সৃষ্ট বা স্বীকৃত কোনো তহবিল;
(৪৩) “দাতব্য উদ্দেশ্য” অর্থ-
(ক) দরিদ্রের জন্য ত্রাণ, শিক্ষা ত্রাণ, চিকিৎসা ত্রাণ; এবং
(খ) সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার,
তবে সাধারণ জন-উপযোগের কোনো উদ্দেশ্যের উন্নতি বা প্রসার দাতব্য উদ্দেশ্য বলিয়া বিবেচিত হইবে না-
(অ) যদি না উহা 14[কর কমিশনার] কর্তৃক অনুমোদিত হয়; এবং
(আ) যদি উহা নিম্নবর্ণিত কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়-
(১) কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসায় প্রকৃতির কোনো কার্যক্রম উহা যেকোনো ধরনের বা প্রকারের হউক না কেন; অথবা
(২) পণের বিনিময়ে কোনো সেবা প্রদান করিলে এবং কোনো আয়বর্ষে এইরূপ পণের মোট মূল্য 15[১ (এক) কোটি] টাকা অতিক্রম করিলে;
(৪৪) “ধারকৃত অর্থ” অর্থে ব্যাংক কোম্পানির ক্ষেত্রে জমার মাধ্যমে গৃহীত অর্থও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৪৫) “নিবাসী” অর্থ কোনো আয়বর্ষে-
(ক) এইরূপ 16[কোন স্বাভাবিক ব্যক্তি] যিনি নিম্নবর্ণিত সময়ব্যাপী বাংলাদেশে অবস্থান করিয়াছেন-
(অ) ধারাবাহিকভাবে অথবা উক্ত বর্ষে সমষ্টিগতভাবে ন্যূনতম ১৮৩ (একশত তিরাশি) বা ততোধিক দিন; বা
(আ) উক্ত বর্ষে ধারাবাহিকভাবে বা সমষ্টিগতভাবে সর্বমোট ৯০ (নব্বই) দিন বা ততোধিক দিন এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৪ (চার) বৎসরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অথবা সমষ্টিগতভাবে মোট ৩৬৫ (তিনশত পঁয়ষট্টি) অথবা ততোধিক দিন;
(খ) কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;
(গ) কোনো বাংলাদেশি কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানি যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে সংঘটিত হইয়াছে; এবং
(ঘ) কোনো ট্রাস্ট, তহবিল, সত্ত্বা বা আইনের দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা যাহাদের সৃষ্টি বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন হইয়াছে বা যাহার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সম্পূর্ণরূপে উক্ত বর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত হইয়াছে;
(৪৬) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(৪৭) “নিয়োগকর্তা” অর্থে প্রাক্তন নিয়োগকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
17[(৪৮) “ন্যায্য বাজার মূল্য” অর্থ, কোনো মূলধনী সম্পদ বা ব্যবসা বা উদ্যোগ এর ক্ষেত্রে-
(ক) সংশ্লিষ্ট দিনে খোলা বাজারে উক্ত সম্পদ বা ব্যবসা বা উদ্যোগ বিক্রয় করা হইলে যেই মূল্য পাওয়া যাইতো সেই মূল্য, এবং, যেই ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নহে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার কর্তৃক, কর কমিশনারের লিখিত অনুমোদনক্রমে, ধার্যকৃত মূল্য;
(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক কোনো সম্পদ ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে ইজারা চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে বা অন্য কোনোভাবে উক্ত চুক্তির সমাপনান্তে ইজারাগ্রহীতার নিকট হইতে প্রাপ্ত অবশিষ্ট মূল্য:
তবে এইক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, এইরূপ অবশিষ্ট মূল্য এবং ইজারা চুক্তি বহাল থাকাকালীন উক্ত সম্পদের মূল্য বাবদ যেই পরিমাণ অর্থ আদায়কৃত হইয়াছে তাহার একত্রিত মূল্য ইজারাদাতা ফাইন্যান্স কোম্পানির অর্জনমূল্য বাবদ ব্যয়িত অর্থের চাইতে কম হইবে না;]
(৪৯) “পণ্য” অর্থ সিকিউরিটিজ ও অর্থ ব্যতীত সকল প্রকার দৃশ্যমান অস্থাবর সম্পত্তি;
(৫০) “পণ্য সরবরাহ” অর্থ-
(ক) পণ্যের বিক্রয়, বিনিময় বা অন্যবিধভাবে পণ্যের অধিকার হস্তান্তর; বা
(খ) লিজ, ভাড়া, কিস্তি বা অন্য কোনোভাবে পণ্যে ব্যবহারের অধিকার প্রদান এবং ফাইন্যান্স লিজের অধীন পণ্য বিক্রয় ও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৫১) “পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার এবং পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনার;
(৫২) “পরিদর্শক” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত কর পরিদর্শক;
(৫৩) “পরিচালক” বা “ব্যবস্থাপক” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো পরিচালক বা ব্যবস্থাপক;
(৫৪) “প্রধান কর্মকর্তা” অর্থে কোনো কোম্পানি 18[***] বা ব্যক্তিসংঘের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত হইবেন, যথা:-
(ক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, কোষাধ্যক্ষ, এজেন্ট বা অ্যাকাউন্টেন্ট, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অথবা উক্ত 19[কোম্পানি] বা সংঘের কার্যাদি পরিচালনা বা হিসাব সম্পাদনের জন্য দায়ী কোনো কর্মকর্তা; এবং
(খ) কোনো কোম্পানি 20[***] বা সংঘের ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি যাহাকে উপকর কমিশনার কর্তৃক উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা গণ্যে নোটিশ করা হইয়াছে;
(৫৫) “পারকুইজিট” অর্থ ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট;
(৫৬) “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি” অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৩১ এর অধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি;
(৫৭) “ফটকা কারবার” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যবসা যেইক্ষেত্রে পণ্যের ক্রয় বা বিক্রয় চুক্তি এইরূপভাবে সম্পন্ন করা হয়, যাহার ফলে পণ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা চূড়ান্তভাবে হস্তান্তরিত বা সরবরাহ না করিয়াও অন্যভাবে নিষ্পত্তি হইতে পারে, তবে এইরূপ কোনো ব্যবসা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যাহাতে-
(ক) কোনো কাঁচামাল অথবা পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করিবার সময় ভবিষ্যৎ দরদাম হ্রাসবৃদ্ধি জনিত লোকসান হইতে অব্যাহতি পাইবার জন্য উহার নিশ্চিত মূল্য প্রাপ্তির স্বার্থে কোনো উৎপাদক যথাযথভাবে বিলি বণ্টন বা সরবরাহ করিবার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়;
(খ) দরদাম হ্রাসবৃদ্ধির কারণে স্বীয় দখলীকৃত স্টক ও শেয়ারের লোকসানের আশঙ্কা হইতে অব্যাহতি পাইবার লক্ষ্যে ডিলার বা বিনিয়োগকারীর সহিত স্টক ও শেয়ারের বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করা হয়; এবং
(গ) অগ্রিম বাজার বা স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো সদস্য তাহার পাইকারি ও মধ্যস্বত্ব প্রকৃতির ব্যবসার লোকসানে, যাহা উক্ত সদস্যের ব্যবসার স্বাভাবিকতায় দেখা দিতে পারে, এইরূপ আশঙ্কার প্রতিকারার্থে কোনো চুক্তি সম্পাদন করেন;
ব্যাখ্যা। - এই দফার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(অ) পণ্য অর্থে শেয়ার বা স্টকও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(আ) কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ এবং কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় ফটকা কারবার হিসাবে অভিহিত হইবে না;
21[(৫৭ক) “ফাইন্যান্স কোম্পানি” অর্থ ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১৭) তে সংজ্ঞায়িত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি;]
(৫৮) “ফার্ম” অর্থ Partnership Act, 1932 (Act No. IX of 1932) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ফার্ম;
(৫৯) “বৎসর” অর্থ অর্থবৎসর;
(৬০) “বাজারমূল্য” অর্থ-
(ক) যেইক্ষেত্রে কৃষিজাত পণ্য কাঁচা অবস্থায় সাধারণভাবে বাজারে বিক্রয় করা হয় বা উৎপাদনের সহিত নিযুক্ত কৃষকের মাধ্যমে বিক্রয়ার্থে প্রক্রিয়াজাতপূর্বক বিক্রয় উপযোগী করা হয়, সেইক্ষেত্রে পণ্যটি হইতে উদ্ভূত আয়ের উপর সর্ব প্রথম যেই বৎসর কর নির্ধারণ করা হইবে উহার পূর্ববর্তী সমগ্র বৎসরব্যাপী উহা যে মূল্যে বিক্রয় করা হইয়াছে উহার গড়মূল্য; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে উক্ত কৃষিজাত পণ্য সাধারণত কাঁচা অবস্থায় বাজারে বিক্রয় করা না হইয়া থাকে, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অর্থের সমষ্টি-
(অ) চাষাবাদের ব্যয়;
(আ) উৎপাদিত ফসল যে ভূমিতে জন্মায় উক্ত ভূমি উন্নয়ন কর বা ভাড়া; এবং
(ই) উপকর কমিশনার কর্তৃক কৃষিপণ্য হিসাবে বিবেচিত ও তর্কিত পণ্যের বিক্রয়মূল্যের উপর পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে যুক্তিসঙ্গতভাবে নির্ধারিত মুনাফার হার;
(৬১) “বাংলাদেশি কোম্পানি” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত ও নিগমিত কোনো কোম্পানি, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত কার্যালয় রহিয়াছে এইরূপ কোনো সত্ত্বাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬২) “বার্ষিক মূল্য” অর্থ কোনো সম্পত্তি ভাড়ার ক্ষেত্রে-
22[(ক) কোনো সম্পত্তির যুক্তিসঙ্গত বার্ষিক ভাড়া;]
(খ) যেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ উপ-দফা (ক) অনুযায়ী নিরূপিত অঙ্কের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়া;
(৬৩) “বিক্রয়লব্ধ অর্থ” অর্থ-
(ক) পরিসম্পদ বিক্রয় করা হইলে উক্ত পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা ন্যায্য বাজার মূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক;
(খ) বিনিময়ের মাধ্যমে পরিসম্পদ হস্তান্তর হইলে উক্ত হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জিত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;
(গ) বিক্রয় বা বিনিময় ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পরিসম্পদ হস্তান্তর করা হইলে উক্ত হস্তান্তরের বিনিময়ে প্রাপ্ত পণমূল্য;
(ঘ) কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন, ধ্বংস বা হারাইয়া গেলে উক্ত পরিসম্পদের স্ক্র্যাপ মূল্য, বা পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য অর্থসহ উহা বিক্রয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অর্থ;
(ঙ) বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ অধিগ্রহণ করা হইলে, অধিগ্রহণকৃত বাবদ পরিশোধিত ক্ষতিপূরণ;
(চ) করদাতার কৃষিকাজে পরিসম্পদের ব্যবহার সমাপ্ত হইলে, সমাপ্ত হইবার সময় উক্ত পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;
(ছ) কোনো প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে ব্যবহারের পর তাহা বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা হস্তান্তর হইলে প্রাপ্ত রপ্তানি মূল্য;
(জ) কোনো 23[মোটরযানের] মূল্য তৃতীয় তফসিলের অধীন সর্বোচ্চসীমা সাপেক্ষে হইলে তাহার পরিমাণ হইবে –
ক × (খ/গ), যেখানে-
ক= যানটি বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ;
খ= তৃতীয় তফসিলে যেই পরিমাণ উল্লেখ করা হইয়াছে;
গ= যানটি অর্জনের জন্য নির্বাহকৃত প্রকৃত ব্যয়;
ব্যাখ্যা।-“বিক্রয়” অর্থে বিনিময় বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর বা বলবৎ কোনো আইনের অধীন আবশ্যকভাবে অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৬৪) “বিদেশি কোম্পানি” অর্থ কোনো কোম্পানি যাহা বাংলাদেশি কোম্পানি নহে;
(৬৫) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(৬৬) “বৈজ্ঞানিক গবেষণা” অর্থ জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে প্রাকৃতিক বা ফলিত বিজ্ঞান বিষয়ে পরিচালিত কোনো কার্যক্রম;
(৬৭) “বৈজ্ঞানিক গবেষণামূলক ব্যয়” অর্থে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি বিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত দান অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) অবচয় বা অ্যার্মোটাইজেশন ভাতা প্রযোজ্য এইরূপ কোনো পরিসম্পদ বা স্পর্শাতীত (intangible) পরিসম্পদ অধিগ্রহণ;
(খ) স্থায়ী পরিসম্পদ অধিগ্রহণ; বা
(গ) কোনো প্রাকৃতিক পরিসম্পদের অস্তিত্ব, অবস্থান, ব্যাপ্তি বা মান নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;
(৬৮) “বোর্ড” অর্থ National Board of Revenue Order, 1972 (President’s Order No. 76 of 1972) এর article 3 এর clause (1) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;
(৬৯) “ব্যক্তি” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার, ট্রাস্ট, তহবিল ও কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭০) “ব্যবসা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদন;
(খ) কোনো ট্রেড, বাণিজ্য বা পণ্য উৎপাদনধর্মী কোনো ঝুঁকি গ্রহণ বা কর্মপ্রচেষ্টা;
(গ) লাভজনক বা অলাভজনক কোনো সত্তার পণ্য বা সেবার বিনিময়; বা
(ঘ) যেকোনো পেশা বা বৃত্তি;
(৭১) “ব্যাংক কোম্পানি” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ব্যাংক-কোম্পানী, এবং বাংলাদেশে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন বা আইন দ্বারা স্থাপিত বা গঠিত এবং বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে এইরূপ কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭২) “ব্যাংক ট্রান্সফার” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) ব্যাংকের এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে ক্রসড চেক বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোনো পন্থায় অর্থের স্থানান্তর;
(খ) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর মাধ্যমে এক হিসাব হইতে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর;
(গ) চালানের মাধ্যমে সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি, চার্জ, শুল্ক-করাদি বা অন্য কোনো অর্থ সরকার বা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুকূলে পরিশোধ;
(৭৩) “মজুদ” অর্থ ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায়-
(ক) উৎপাদিত বা তৈরিকৃত যেকোনো কিছু;
(খ) তৈরি, বিক্রয় বা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে আহরিত বা ক্রয়কৃত যেকোনো কিছু; অথবা
(গ) উৎপাদন বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হইয়াছে এইরূপ সকল উপাদান বা সরবরাহ,
তবে শেয়ার বা স্টক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৭৪) “মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);
(৭৫) “মহাপরিচালক (পরিদর্শন)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (পরিদর্শন);
(৭৬) “মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ)” অর্থ ধারা ৪ এ উল্লিখিত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ);
(৭৭) “মূলধনি পরিসম্পদ” অর্থ-
(ক) কোনো করদাতা কর্তৃক ধারণকৃত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সম্পত্তি;
(খ) কোনো ব্যবসা বা উদ্যোগ (undertaking) সামগ্রিকভাবে বা ইউনিট হিসাবে;
(গ) কোনো 24[সিকিউরিটিজ],
তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) করদাতার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ধারণকৃত কোনো মজুদ, ভোগ্য পণ্য বা কাঁচামাল;
(আ) ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, যেমন- অস্থাবর সম্পত্তি অর্থে অন্তর্ভুক্ত পরিধেয় পোশাক, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, ফিক্সার বা কারুপণ্য, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন যাহা করদাতা কর্তৃক অথবা তাহার উপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় এবং তাহার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় নাই;
(৭৮) “মোট আয়” অর্থ এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে হিসাবকৃত ধারা ২৬ এ উল্লিখিত মোট আয়, এবং তৎসহ এই আইনের বিধানাবলির অধীন কোনো করদাতার সর্বমোট আয়ের সহিত সংযুক্ত হইতে পারে এইরূপ অন্য যেকোনো আয়;
(৭৯) “রয়্যালটি” অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জিত হইতে পারে এইরূপ কোনো প্রতিদান এবং “মূলধনি আয়” খাতে প্রাপকের আয় হিসাবে গণ্য প্রতিদান ব্যতীত এককালীন কোনো প্রতিদানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির অনুমোদিত লাইসেন্সসহ সকল বা যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর করিবার মাধ্যমে;
(খ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;
(গ) পেটেন্ট, শিল্প নকশা বা ট্রেডমার্ক বা মেধাস্বত্ব সম্পর্কিত অন্য কোনো সম্পত্তির এইরূপ সম্পত্তি ব্যবহার করিবার মাধ্যমে;
(ঘ) প্রযুক্তিগত, শৈল্পিক, বাণিজ্যিক বা বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা কলা-কৌশল সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করিবার মাধ্যমে;
(ঙ) সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের বিক্রয়, বিতরণ বা প্রদর্শন ব্যতীত কপিরাইট বা ফিল্মের লাইসেন্স প্রদানসহ যেকোনো স্বত্ব হস্তান্তর; অথবা
(চ) পূর্বে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের সহিত সম্পৃক্ত কোনো সেবা প্রদানের মাধ্যমে;
(৮০) “রপ্তানি” অর্থ বাংলাদেশের অভ্যন্তর হইতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার বাহিরে কোনো পণ্য বা সেবার সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাক টু ব্যাক এলসির অধীন রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ ও রপ্তানি অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে;
25[(৮০ক) “রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ” অর্থ-
(ক) স্বাভাবিক ব্যক্তি (individual) ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নভেম্বর মাসের ৩০ (ত্রিশ) তম দিন;
(খ) স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে, আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী নবম মাসের 26[পনেরোতম দিন অথবা যেইক্ষেত্রে উক্ত পনেরোতম দিন সেপ্টেম্বর মাসের পনেরোতম দিনের পূর্বের তারিখে পড়ে, সেইক্ষেত্রে আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাসের পনেরোতম দিন];
(গ) পূর্বে কখনোই রিটার্ন দাখিল করেন নাই এইরূপ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে আয়বর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ৩০ জুন তারিখ;
(ঘ) বিদেশে অবস্থানরত কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে, তাহার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন হইতে ৯০ (নব্বই) তম দিন, যদি উক্তরূপ ব্যক্তি-
(অ) উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটিতে অথবা চাকরির জন্য প্রেষণে বা লিয়েনে নিযুক্ত হইয়া বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন; বা
(আ) অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসা এবং পারমিটধারী হয়ে 27[বাংলাদেশের] বাহিরে অবস্থান করেন;
(ঙ) কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে দাখিলকৃত লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে অনিবার্য কারণ বিবেচনায় কর কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত তারিখ যাহা উপ-দফা (ক), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত দিন হইতে ৯০ (নব্বই) দিনের বেশি হইবে না;
(চ) যদি উপ-দফা (ক), (খ), (গ), (ঘ) ও (ঙ) এ উল্লিখিত দিন সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহা হইলে উক্ত দিনের অব্যবহিত পরবর্তী কর্মদিবস।]
(৮১) “লভ্যাংশ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ, যদি এইরূপ বণ্টনের ফলে কোম্পানির পরিসম্পদ বা রিজার্ভ পূর্ণ বা আংশিকভাবে হ্রাস পায়;
(খ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, যেকোনো প্রকারের ডিবেঞ্চার, ডিবেঞ্চার স্টক বা ডিপোজিট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে পুঞ্জিভূত মুনাফার কোনো বিতরণ;
(গ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, কোনো কোম্পানির অবসায়নকালে উক্তরূপ অবসায়নের অব্যবহিত পূর্বে কোম্পানির পুঞ্জিভূত মুনাফা আকারে সংরক্ষিত অর্থ হইতে উহার শেয়ার হোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;
(ঘ) মূলধনায়িত হউক বা না হউক, মূলধন হ্রাসকরণের জন্য কোম্পানি কর্তৃক উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে বিতরণ;
(ঙ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে প্রেরিত কোনো মুনাফা;
(চ) কোনো মিউচুয়াল ফান্ড, রিয়াল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট, একচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এর মুনাফা বিতরণ;
(ছ) কোনো 28[***] কোম্পানি উহার মালিকানাধীন পুঞ্জিভূত মুনাফা হইতে কোনো শেয়ারহোল্ডারগণকে অগ্রিম বা ঋণ হিসাবে পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ, উহা কোম্পানির পরিসম্পদের অংশ হউক বা না হউক, অথবা এইরূপ কোনো শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এইরূপ কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো পরিমাণ অর্থ,
তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) যেইক্ষেত্রে কোম্পানির অবসায়নকালে কোনো শেয়ারহোল্ডার বা ডিবেঞ্চারহোল্ডার কোম্পানির উদ্বৃত্ত পরিসম্পদে অংশীদারিত্বের অধিকারী নহে, সেইক্ষেত্রে উপ-দফা (গ) বা (ঘ) অনুসারে অগ্রাধিকার শেয়ারসহ যেকোনো শেয়ারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নগদ অর্থ আকারে বিতরণ, অথবা ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার-স্টকের দায়মোচন;
(আ) যেইক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করাই কোনো কোম্পানির মূল ব্যবসা সেইক্ষেত্রে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় কোনো শেয়ারহোল্ডারকে প্রদত্ত অগ্রিম বা ঋণ;
(ই) কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধকৃত কোনো লভ্যাংশ যাহা ইতঃপূর্বে পরিশোধিত সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো অর্থের বিপরীতে কোম্পানি কর্তৃক সমন্বয় করা হইয়াছে এবং 29[উপ-দফা (ছ)] এর অর্থে লভ্যাংশ হিসাবে বিবেচিত, যাহার ক্ষেত্রে উক্তরূপে সমন্বয় করা হইয়াছে ততটুকু;
(ঈ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত বোনাস শেয়ার;
30[(উ) কোনো নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে গঠিত জয়েন্ট ভেঞ্চার কর্তৃক কর পরবর্তী মুনাফা স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হইলে উক্ত বন্টনকৃত অংশ;]
ব্যাখ্যা।-“পুঞ্জিভূত মুনাফা” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে,-
(ক) এই দফায়, এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য কোনো ভাতা, কর্তন বা অব্যাহতির মাধ্যমে সৃষ্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ রিজার্ভ;
(খ) উপ-দফা (ক), (খ) ও (ঘ) এর ক্ষেত্রে, এইরূপ বণ্টনের তারিখ পর্যন্ত কোম্পানির সকল মুনাফা; এবং
(গ) উপ-দফা (গ) এর ক্ষেত্রে, কোম্পানিটি অবসায়নের তারিখ পর্যন্ত উহার সকল মুনাফা;
(৮২) “শেয়ারহোল্ডার” অর্থে অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮৩) “সদস্য (কর)” অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর) হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(৮৪) “সন্তান” অর্থে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তির সৎ সন্তান ও পোষ্য সন্তানও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮৫) “সমবায় সমিতি” অর্থ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ৪৭ নং আইন), বা সমবায় সমিতি নিবন্ধন সম্পর্কিত আপাতত বলবৎ কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো সমবায় সমিতি;
(৮৬) “সহকারী কর কমিশনার” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন সহকারী কর কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(৮৭) “সিকিউরিটিজ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে¾
(ক) সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল, বন্ড, mÂqcÎ, ঋণপত্র (Debenture), সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত সিকিউরিটি বা অনুরূপ দলিল;
(খ) কোনো কোম্পানি বা আইনগত সত্তা বা ইস্যুয়ার কর্তৃক ইস্যুকৃত শেয়ার বা স্টক, বন্ধক বা চার্জ বা হাইপোথিকেশনের মাধ্যমে ইস্যুকৃত দলিল, বন্ড, ডিবেঞ্চার, ডেরিভেটিভস, মিউচুয়াল ফান্ড বা অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসহ যেকোনো যৌথ বিনিয়োগ স্কিমের ইউনিট, সুকুক বা শরীয়াহ ভিত্তিক ইস্যুকৃত অনুরূপ দলিল, এবং পূর্বোল্লিখিত দলিল গ্রহণার্থে ক্রয়ের অধিকার বা ক্ষমতাপত্র (warrant):
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো মুদ্রা বা নোট, ড্রাফট, চেক, বিনিময়পত্র, ব্যাংকের স্বীকৃতিপত্র, ব্যবসায়িক দেনাদারদের নিকট প্রাপ্য অর্থ (trade receivables) বা ব্যবসায়িক পাওনাদারদেরকে প্রদেয় অর্থ (trade payables) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৮৮) “সুদ” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) যেকোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা, যেমন- ঋণ, ধার, ট্রেড ক্রেডিট, অগ্রিম, সিকিউরিটি বা গ্যারান্টির বিপরীতে পরিশোধিত যেকোনো প্রকারের সুদ বা আর্থিক দায়; বা
(খ) সেবা ফি বা এইরূপ কোনো প্রকারের দায় বা পরিশোধ যাহা আর্থিক সমতুল্যে সুদ হিসাবে গণ্য হইবে,
তবে অর্থ বা মূলধন সংগ্রহের সহিত জড়িত ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৮৯) “সেবা” অর্থ যেকোনো সেবা, তবে পণ্য, স্থাবর সম্পত্তি এবং অর্থ (money) ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
31[(৮৯ক) “স্বীকৃত করদায়” অর্থ দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন এর ভিত্তিতে, ক্ষেত্রমত, ধারা ১৭৩, ১৭৪ বা ১৮১ অনুযায়ী পরিগণিত প্রদেয় আয়কর দায়;]
(৯০) “স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল” অর্থ এইরূপ ভবিষ্য তহবিল যাহা দ্বিতীয় তফসিলের অংশ ৩ এর বিধানাবলির অধীন কমিশনার কর্তৃক অনুমোদিত;
(৯১) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ;
(৯২) “স্থায়ী স্থাপনা (permanent establishment)” অর্থ ব্যবসা আয়ের ক্ষেত্রে, ব্যবসার সেইরূপ নির্দিষ্ট স্থান বা কার্যক্রম যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উক্তরূপ ব্যবসা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত হয়, এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) ব্যবস্থাপনার কোনো স্থান;
(খ) কোনো শাখা;
(গ) কোনো এজেন্সি;
(ঘ) কোনো অফিস;
(ঙ) কোনো গুদাম;
(চ) কোনো কারখানা;
(ছ) কোনো কর্মশিবির;
(জ) কোনো খনি, তৈল অথবা গ্যাসকূপ, ভূ-গর্ভস্থ খাদ অথবা প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন বা আহরণের জন্য অন্য কোনো স্থান;
(ঝ) কোনো খামার বা বৃক্ষায়ন;
(ঞ) কোনো নির্মাণ স্থান, কোনো নির্মাণ, স্থাপন বা সংযোজন প্রকল্প বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো তদারকি কার্যক্রম;
(ট) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বা উক্ত ব্যক্তির দ্বারা এই উদ্দেশ্যে নিয়োজিত কোনো জনবল কর্তৃক কনসালটেন্সি সেবাসহ কোনো সেবা প্রদান, যদি উক্তরূপ কার্যক্রম বাংলাদেশে (একই কাজে বা উক্ত কাজের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কাজে) অব্যাহতভাবে চলে; এবং
(ঠ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির সহযোগী সত্তা বা উক্ত অনিবাসী ব্যক্তির উপর বাণিজ্যিকভাবে নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি যিনি অনিবাসী ব্যক্তির বাংলাদেশে সম্পাদিত কোনো বিক্রয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেন;
(৯৩) “হস্তান্তর” অর্থে মূলধনি পরিসম্পদের ক্ষেত্রে, বিক্রয়, বিনিময় বা ত্যাগ বা পরিসম্পদের কোনো স্বত্ব বিলোপিত হওয়া অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(ক) মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর যদি দানমূলে, উইলমূলে, অছিয়তমূলে বা অবাতিলযোগ্য কোনো ট্রাস্টমূলে সংঘটিত হয়;
(খ) কোম্পানির অবসায়নকালে শেয়ার হোল্ডারগণের নিকট যদি উহার পরিসম্পদ যেকোনো উপায়ে বিতরণ করা হয়; এবং
(গ) ফার্ম বা অন্যবিধ ব্যক্তিসংঘের বিলুপ্তির মুহূর্তে অথবা, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার বিভক্তিকালে যদি কোনো মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণ করা হয়।
৩। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।
(২) অন্য কোনো আইন বা উহার কোনো বিধান যদি এই আইনের কোনো বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে সেই আইন বা সেই আইনের বিধান যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।
৪। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত আয়কর কর্তৃপক্ষ থাকিবে, যথা:-
(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড;
(খ) মুখ্য কর কমিশনার;
(গ) মহাপরিচালক (পরিদর্শন);
(ঘ) কর কমিশনার (আপিল);
(ঙ) কর কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট);
(চ) মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ);
(ছ) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);
(জ) কর কমিশনার;
(ঝ) অতিরিক্ত কর কমিশনার যিনি অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা 32[পরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)], 33[পরিচালক (প্রশিক্ষণ)], অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার;
(ঞ) যুগ্মকর কমিশনার যিনি যুগ্মকর কমিশনার (আপিল), 34[যুগ্ম পরিচালক (প্রশিক্ষণ)], 35[যুগ্মপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)], 36[যুগ্ম মহাপরিচালক (পরিদর্শন)] বা পরিদর্শী যুগ্মকর কমিশনার;
(ট) উপকর কমিশনার 37[, উপ মহাপরিচালক (পরিদর্শন), উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ)] 38[বা উপপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)];
(ঠ) কর কমিশনার কর্তৃক তাহার অধিক্ষেত্রাধীন উপকর কমিশনারগণের মধ্য হইতে মনোনীত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার;
(ড) সহকারী কর কমিশনার 39[, সহকারী মহাপরিচালক (পরিদর্শন), সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ)] 40[বা সহকারী পরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)];
(ঢ) অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার; এবং
(ণ) কর পরিদর্শক।
৫। (১) প্রযোজ্য আইন ও বিধি-বিধান সাপেক্ষে, আয়কর কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত হইবেন।
(২) বোর্ড, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, কোনো ব্যক্তিকে আয়কর কর্তৃপক্ষ হিসাবে নিয়োগ ও পদায়ন করিতে পারিবে।
(৩) বোর্ড, সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
41[(৪) কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ তাহার বিদ্যমান পদের অব্যবহিত উচ্চতর পদে চলতি দায়িত্বে পদায়িত হইলে তিনি উক্তরূপ উচ্চতর পদের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন।]
42[৬। (১) বোর্ড, আদেশ দ্বারা,—
(ক) উহার কোনো ক্ষমতা অধীনস্ত অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে;
(খ) কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) কর কমিশনার, আদেশ দ্বারা, তাহার কোনো ক্ষমতা তাহার অধীনস্ত অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে।]
৭। বোর্ড, আদেশ দ্বারা, আয়কর কর্তৃপক্ষসমূহের অধীনস্থতা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিধান করিতে পারিবে।
৮। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, সদস্য (কর) সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) মহাপরিচালক (পরিদর্শন) নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিবেন, যথা:-
(ক) এই আইনের অধীন কার্যধারার বাস্তবায়ন পরিদর্শন;
(খ) পরিদর্শনের উপর ভিত্তি করিয়া করনীতি সংস্কারের প্রস্তাব এবং কর প্রশাসন উন্নয়নের ক্ষেত্র শনাক্তকরণ;
(গ) বোর্ডের নিকট বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে মতামত এবং সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করিয়া প্রতিবেদন আকারে পেশকরণ; এবং
(ঘ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো কার্য।
(৩) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিবেন, যথা:-
(ক) করদাতাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্য;
(খ) গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সংগৃহীত তথ্যের সহিত সংশ্লিষ্ট আয়কর রেকর্ড বিশ্লেষণ;
(গ) অংশ ১৩ এবং অংশ ১৫ এ উল্লিখিত কর পরিহার, গোপনকৃত আয় ও অনিয়ম শনাক্তকরণ;
(ঘ) কর ফাঁকি বা গোপনকৃত আয় উদঘাটন বা কর সংক্রান্ত অন্য কোনো অনিয়ম প্রমাণ করিবার জন্য এবং জরিমানা প্রদানপূর্বক কর পুনরুদ্ধারের জন্য কর জালিয়াতি বা কর জালিয়াতির পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে, উপযুক্তরূপে মামলা পরিচালনার সুপারিশ প্রদানের জন্য তদন্ত পরিচালনা;
(ঙ) অন্য কোনো আইন দ্বারা অনুমোদিত বা বোর্ড কর্তৃক অর্পিত অন্য কোনো কার্য;
(৪) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, আয়কর কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিতে পারিবে, এবং প্রয়োজনে, আয়কর কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে বা কার্যাবলি পরিবর্তন করিতে পারিবে বা এক আয়কর কর্তৃপক্ষের কার্যাবলি ও ক্ষমতা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত এইরূপ হস্তান্তর স্বাভাবিক কার্যধারার যেকোনো পর্যায়ে করা যাইবে এবং যে পর্যায়ে হস্তান্তর হইয়াছিল সেই পর্যায় হইতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে।
(৬) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, করদাতাগণের কর নির্ধারণের স্থান নির্ধারণ করিতে পারিবে।
৯। এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার ক্ষেত্রে, যদি কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ আয়কর কর্তৃপক্ষ পূর্বসূরি কোনো কার্য যে পর্যায়ে অসমাপ্ত রাখিয়া গিয়াছেন উক্ত পর্যায় হইতে শুরু করিবে।
১০। এই আইনের অধীন কোনো কার্য-সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তি, উক্তরূপ কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে, বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা অনুসরণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আপিল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে 43[***] অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর বিবেচনায় হস্তক্ষেপ হইতে পারে এইরূপ কোনো আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রদান করা যাইবে না।
১১। এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম পরিচালনাকালে উপকর কমিশনার যে আয়কর কর্তৃপক্ষের অধীনস্ত থাকিবেন সেই কর্তৃপক্ষ অথবা বোর্ড কর্তৃক এতদ্বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তি উপকর কমিশনারকে সহযোগিতা অথবা নির্দেশ বা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবেন।
১২। (১) কমিশনার, বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে, লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, তাহার অধীক্ষেত্রাধীন নির্দিষ্ট কোনো মামলা বা মামলা শ্রেণি বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণি সম্পর্কিত সকল বা কোনো কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যে, এই আইনের অধীন কোনো কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যক্রম উক্ত কর্তৃপক্ষের অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত কোনো আদেশ, এই আইন বা ইহার অধীন প্রণীত কোনো বিধির অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষের কোনো রেফারেন্স অব্যবহিত ঊর্দ্ধতন আয়কর কর্তৃপক্ষ বরাবর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
১৩। (১) এই আইনের অধীন আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার একজন প্রেসিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে, সময় সময়, কর আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসাবে নিযুক্ত হইবেন না, যদি না-
(ক) তিনি কোনো সময়ে বোর্ডের সদস্য হইয়া থাকেন বা বর্তমানে বোর্ডের সদস্যের দায়িত্বে থাকেন;
44[(খ) তিনি জেলা ও দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন;]
(গ) তিনি কর কমিশনার হইয়া থাকেন;
(ঘ) তিনি ধারা ৩২৭ এর অধীন কর আইনজীবী এবং পেশাগতভাবে আয়কর কার্যালয়ে অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন; বা
(ঙ) তিনি পেশাগতভাবে আর্থিক ও কর সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রণয়ন কার্যে বিশেষজ্ঞ এবং অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন;
(৩) সরকার, আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের মধ্য হইতে একজন সদস্যকে, যিনি বোর্ডের সদস্য 45[***] আছেন, প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করিবে।
১৪। (১) প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গঠিত কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে বা শ্রেণির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত প্রদান না করা হইলে, আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যসমূহ ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চসমূহ, অতঃপর বেঞ্চ বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত বেঞ্চে অন্যূন ২ (দুই) জন সদস্য থাকিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত প্রতিটি বেঞ্চের অন্যূন একজন সদস্য নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ হইতে নিযুক্ত হইবেন, যথা :
(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সদস্য, বা
(খ) কর কমিশনার।
১৫। (১) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো মামলার ক্ষেত্রে বা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(২) কোনো বিষয়ে বেঞ্চের সদস্যগণ সমানভাবে বিভক্ত হইলে তাহা লিখিতভাবে বর্ণনা করিতে হইবে এবং উহা প্রেসিডেন্ট আপিল ট্রাইব্যুনালের এক বা একাধিক সদস্যের নিকট শুনানির জন্য প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণের, যাহারা প্রথমবার শুনানি করিয়াছেন তাহারাসহ, মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
46[(৩) আপিল ট্রাইব্যুনালের কোনো বেঞ্চে কেবল ২ (দুই) জন সদস্য থাকিলে এবং মতামত ভিন্ন হইলে, উক্ত মামলাটি শুনানির উদ্দেশ্যে সরকার আপিল ট্রাইব্যুনালের উক্ত বেঞ্চে অতিরিক্ত সদস্য নিয়োগ করিতে পারিবে এবং মামলার সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালের উক্ত বেঞ্চের সদস্যগণের অধিকাংশের মতামত অনুযায়ী গৃহীত হইবে।]
১৬। ধারা ১৪ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ইহার কোনো এক বা একাধিক সদস্য কর্তৃক যৌথভাবে বা পৃথকভাবে ব্যবহার প্রয়োগের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
১৭। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, আপিল ট্রাইব্যুনাল ইহার নিজস্ব ও বেঞ্চসমূহ কোন্ স্থানে কার্যনিষ্পত্তি করিবে তাহাসহ অন্যান্য কার্যনিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিষয়সমূহ নিরসন সংক্রান্ত কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
প্রথম অধ্যায়
কর ধার্যকরণের ভিত্তি
১৮। (১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের ভিত্তিতে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে।
(২) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন কোনো করবর্ষভিত্তিক নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে:
তবে আয়বর্ষ ব্যতীত অন্য কোনো মেয়াদে অর্জিত আয়ের উপর নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা যাইবে।
(৩) এই আইনের বিধানানুযায়ী নিম্নবর্ণিত করাদি ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে, যথা:-
(ক) উৎসে কর;
(খ) অগ্রিম আয়কর;
(গ) ন্যূনতম কর; এবং
(ঘ) অন্য কোনো কর।
(৪) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন নির্ধারিত হারে ও প্রকৃতিতে সারচার্জ অথবা অন্য কোনো চার্জ ধার্য, আরোপ বা সংগ্রহ করা হইবে।
(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে অংশ ৭ এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত হারে কর আরোপিত হইবে, যথা:-
(ক) মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়;
(খ) লভ্যাংশ হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়; এবং
(গ) লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে এইরূপ প্রাপ্তি।
১৯। এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক নহে এইরূপ 47[কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তিকে কোনো আয়বর্ষে তাহার ব্যবসায় নিয়োগ] প্রদান বা কর্মের সুযোগ প্রদান করিলে এইরূপ ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক, অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধ করিবে।
48[***]
২১। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো নিবাসী বাংলাদেশি 49[করদাতা বা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী ছিলেন বা আছেন এইরূপ] করদাতার রিটার্নে প্রদর্শিত নহে, এইরূপ কোনো বিদেশস্থ সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায় এবং করদাতা উক্তরূপ সম্পত্তি অর্জনের উৎস বা প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হন অথবা উপস্থাপিত ব্যাখ্যা উপকর কমিশনারের নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান না হয়, সেইক্ষত্রে উপকর কমিশনার বিদেশস্থ সম্পত্তির ন্যায্য বাজার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসাবে উক্ত করদাতার উপর আরোপ করিবেন এবং আদায় করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন উদ্ভূত কোনো দায়কে ক্ষুণ্ন করিবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে করদাতাকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন আরোপিত জরিমানা করদাতার কোনো পরিসম্পদ বা করদাতার পক্ষে অন্য কেহ কোনো পরিসম্পদ ধারণ করিলে তাহা বিক্রয় বা বাজেয়াপ্ত করিয়া আদায় করিতে পারিবেন।
(৫) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, করদাতার রিটার্নে অপ্রদর্শিত বিদেশস্থ সম্পত্তি রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত সম্পত্তির বিষয়ে দেশে ও বিদেশে তদন্ত করিতে পারিবেন।
(৬) বোর্ড, রিটার্নে অপ্রদর্শিত কোনো সম্পত্তি ধারণ প্রতিরোধে বা বিদেশে পাচারকৃত কোনো সম্পত্তি উদ্ধারে-
(ক) যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে; বা
(খ) উপকর কমিশনারের নিম্নে নহে এইরূপ যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার নিমিত্ত সম্মতি প্রদান, অনুমতি প্রদান বা ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
50[২২। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক সংরক্ষিত আয়ে অথবা কোনো তহবিল, সঞ্চিতি বা উদ্বৃত্তে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কর পরবর্তী নীট আয় হইতে অর্থ স্থানান্তর করিয়া থাকে এবং উক্ত স্থানান্তরিত অর্থের পরিমাণ কর পরবর্তী নীট আয়ের ৭০% (সত্তর শতাংশ) অতিক্রম করে, তাহা হইলে সেই আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক যেই পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হইয়াছে উহার উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।]
২৩। এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশ ঘোষিত বা বিতরণকৃত নগদ লভ্যাংশকে অতিক্রম করিলে অথবা নগদ লভ্যাংশ ব্যতীত কেবল স্টক লভ্যাংশের ঘোষণা বা বিতরণ করা হইলে, সেই আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।
51[২৪। প্রথম তফসিলে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ এবং উক্ত তফসিলের সকল শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত আয় চলতি করবর্ষের আয়ের সহিত রিটার্নে প্রদর্শন করা যাইবে, যথা:-
(ক) কোনো ব্যক্তি যাহার পূর্ববর্তী এক বা একাধিক আয়বর্ষের কর নির্ধারণ করা হয় নাই এবং যিনি উক্ত এক বা একাধিক বৎসরের জন্য কোনো রিটার্ন দাখিল করেন নাই, উক্ত ব্যক্তির পূর্ববর্তী করবর্ষসমূহের খাতওয়ারি আয়; বা
(খ) কোনো ব্যক্তি যাহার পূর্ববর্তী এক বা একাধিক আয়বর্ষের কর নির্ধারণ করা হইয়াছে, তবে এইরূপ আয় নির্ধারণের সময় কোনো আয় বাদ পড়িয়াছে অথবা নির্ধারণকৃত আয়ের পরিমাণ প্রকৃত আয় অপেক্ষা কম প্রদর্শিত হইয়াছে, উক্ত ব্যক্তির উক্ত কম প্রদর্শিত আয়।]
২৫। যেইক্ষেত্রে 52[চতুর্থ, পঞ্চম এবং] অষ্টম তফসিলে কোনো ব্যক্তি শ্রেণির আয় পরিগণনার জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট আয় পরিগণনার জন্য বিশেষ বিধান করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে আয় পরিগণনা করিতে হইবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
আয়ের আওতা
২৬। এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(ক) কোনো নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত (derived) নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-
(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত (accrued) বা উদ্ভূত (arised), অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;
(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত;
(ই) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা
(ঈ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;
(খ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-
(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত, অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা
(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য।
২৭। নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ বাংলাদেশে উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) পরিশোধের স্থান নির্বিশেষে চাকরি হইতে আয় খাতভুক্ত যেকোনো আয়, যদি তাহা-
(অ) বাংলাদেশে অর্জিত হয়; বা
(আ) সেবা প্রদানের বিপরীতে যদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে পরিশোধ করা হয়;
(খ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, উপচিত বা উদ্ভূত কোনো আয়, যথা:-
(অ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো স্থায়ী স্থাপনা;
(আ) বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো স্পর্শাতীত (intangible) সম্পত্তি, বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো সম্পত্তি, অধিকার, অথবা আয়ের অন্য কোনো উৎস; বা
(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর;
(ঈ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ক্রেতার নিকট ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়; বা
(উ)বাংলাদেশে ব্যবহৃত কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি;
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,
(ক) বাংলাদেশে নিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার, তাহা যাহার নিকট থাকুক না কেন, বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে, যদি-
(অ) স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত হয়; বা
(আ) যেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশে অনিবাসী, সেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তিটি যদি উপরিবর্ণিত অনিবাসীর বাংলাদেশে অবস্থিত স্থায়ী এস্টাব্লিসমেন্টের সহিত সংশ্লিষ্ট হয়:
(গ) বাংলাদেশে অনিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরিত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর যেখানেই সংঘটিত হউক না কেন, এবং উক্ত কোম্পানির বাংলাদেশে কোনো পরিসম্পদ থাকিলে উক্ত হস্তান্তরিত শেয়ারমূল্যের যতটুকু বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদের মূল্যের সহিত সম্পর্কিত ততটুকু পর্যন্ত অঙ্ক বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদ হস্তান্তর বলিয়া গণ্য হইবে;
(ঘ) বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধিত কোনো লভ্যাংশ;
(ঙ) সুদ হিসাবে প্রদেয় কোনো আয়, যদি তাহা-
(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়;
(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি ঋণ বা ধারকৃত অর্থ-
(১) বাংলাদেশের বাহির হইতে গৃহীত হয়; এবং
(২) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়;
(ই) বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত বা ব্যবহৃত কোনো ঋণের বা ধারকৃত কোনো অর্থের বিপরীতে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;
(চ) কারিগরি সেবার জন্য ফি হিসাবে প্রাপ্ত কোনো আয়, যদি তাহা-
(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়; বা
(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত ফি-
(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়; অথবা
(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়;
(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত সেবার ফি হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;
ছ) রয়্যালটি আয়, যাহা-
(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;
(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে উহা প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত রয়্যালটি-
(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়; অথবা
(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়;
(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের জন্য ব্যবহৃত কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;
(জ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো ঝুঁকি হইতে রক্ষার বিপরীতে কোনো নিবাসী বা অনিবাসী দ্বারা উপচিত বা প্রদেয় বিমা বা পুনঃবিমার প্রিমিয়াম।
২৮। যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে কোনো অর্থ কোনো ব্যক্তির বরাবর উপচিত বা উদ্ভূত হইয়া অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া সম্পূর্ণ বা আংশিক আয় হিসাবে মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ উক্ত ব্যক্তির বরাবর বাংলাদেশে অন্য কোনো আয়বর্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
প্রথম অধ্যায়
মোট আয়
২৯। সকল খাতের আয় যোগ করিয়া মোট আয় পরিগণনা করিতে হইবে।
৩০। এই আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু না থাকিলে, আয়কর আরোপ এবং মোট আয় পরিগণনার জন্য, যেকোনো আয় নিম্নবর্ণিত কোনো একটি খাতে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-
(ক) চাকরি হইতে আয়;
(খ) ভাড়া হইতে আয়;
(গ) কৃষি হইতে আয়;
(ঘ) ব্যবসা হইতে আয়;
(ঙ) মূলধনি আয়;
(চ) আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়;
(ছ) অন্যান্য উৎস হইতে আয়।
৩১। (১) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) উক্ত ব্যক্তি কোনো ফার্মের অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘের সদস্য হইলে, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের আয়ে তাহার অংশ;
(খ) উক্ত ব্যক্তির 53[উক্ত ব্যক্তি কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি হইলে, উক্ত স্বাভাবিক ব্যক্তির] স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয়, যদি-
(অ) উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান তাহার উপর নির্ভরশীল হন;
(আ) এইরূপ আয়ের উপর উক্ত 54[স্বাভাবিক] ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ থাকে; বা
(ই) তিনি এইরূপ একীভূতকরণে ইচ্ছুক হন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পৃথক কর নির্ধারণ করা হইলে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
55[***]
দ্বিতীয় অধ্যায়
চাকরি হইতে আয়
৩২। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, চাকরি হইতে আয় অর্থে নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) চাকরি হইতে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য যেকোনো প্রকার আর্থিক প্রাপ্তি, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা;
(খ) কর্মচারী শেয়ার স্কিম হইতে অর্জিত আয়;
(গ) কর অনারোপিত বকেয়া বেতন; বা
(ঘ) অতীত বা ভবিষ্যতের কোনো নিয়োগকর্তা হইতে প্রাপ্ত যেকোনো অঙ্ক বা সুবিধা।
(২) নিম্নবর্ণিত প্রাপ্তিসমূহ চাকরি হইতে আয় এর অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
56[(ক) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নহে এইরূপ অন্য কোনো কর্মচারীর হৃদযন্ত্র, বৃক্ক, চক্ষু, যকৃত ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং ক্যানসার সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;]
(খ) সম্পূর্ণরূপে এবং কেবল চাকরির দায়িত্ব পরিপালনের জন্য প্রাপ্ত এবং ব্যয়িত যাতায়াত ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা 57[;]
58[(গ) কোম্পানি কর্তৃক গোষ্ঠী বীমা বাবদ কোনো কর্মচারীর পক্ষে বীমা কোম্পানিকে পরিশোধিত প্রিমিয়াম।]
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,
(ক) “বেতন” অর্থ কর্মচারী কর্তৃক চাকরি হইতে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকৃতির অঙ্ক এবং নিম্নবর্ণিত বিষয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(অ) যেকোনো বেতন, মজুরি বা পারিশ্রমিক;
(আ) যেকোনো ভাতা, ছুটি ভাতা, ছুটি নগদায়ন, বোনাস, ফি, কমিশন, ওভারটাইম;
(ই) অগ্রিম বেতন;
(ঈ) আনুতোষিক, অ্যানুইটি, পেনশন বা ইহাদের সম্পূরক;
(উ) পারকুইজিট;
(ঊ) বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি অথবা বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি;
(খ) “বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি” অথবা “বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-
(অ) চাকরির অবসানের কারণে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(আ) ভবিষ্য তহবিল বা অন্য কোনো তহবিলে কর্মচারীর অনুদানের অংশ ব্যতিরেকে অবশিষ্ট অংশ;
(ই) চাকরির চুক্তির শর্তাবলির পরিবর্তনের ফলে প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;
(ঈ) চাকরিতে যোগদানকালে বা চাকরির অন্য কোনো শর্তের অধীন প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;
(গ) “পারকুইজিট” অর্থ নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীকে প্রদত্ত ইনসেনটিভ বোনাসসহ যেকোনো প্রকারের পরিশোধ বা সুবিধা, তবে নিম্নবর্ণিত পরিশোধসমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) মূল বেতন, বকেয়া বেতন, অগ্রিম বেতন, উৎসব ভাতা, ছুটি নগদায়ন ও ওভারটাইম;
(আ) স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত পেনশন তহবিল, অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল ও অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;
59[(ই) কোম্পানি কর্তৃক গোষ্ঠী বীমা বাবদ কোনো কর্মচারীর পক্ষে বীমা কোম্পানিকে পরিশোধিত প্রিমিয়াম;]
(ঘ) “মূল বেতন” অর্থ মাসিক বা অন্য প্রকারে প্রদেয় বেতন যাহার ভিত্তিতে অন্যান্য ভাতা এবং সুবিধা নির্ধারিত হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ভাতা বা সুবিধাদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-
(অ) সকল প্রকার ভাতা, পারকুইজিট, অ্যানুইটি, বোনাস ও সুবিধা; এবং
(আ) নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীর বিভিন্ন তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;
(ঙ) “নিয়োগকর্তা” অর্থ যিনি নিয়োগ দান করিয়া থাকেন এবং বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করিয়া থাকেন বা নিয়োগকর্তার পক্ষে উক্ত কাজ সম্পন্নকারী ব্যক্তিও নিয়োগকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন।
৩৩। আর্থিক মূল্যে প্রদেয় পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধা ব্যতীত অন্যান্য পারকুইজিট, ভাতা ও সুবিধার আর্থিক মূল্য নিম্নবর্ণিত সারণী মোতাবেক নির্ধারিত হইবে, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
পারকুইজিট, ভাতা, সুবিধা, ইত্যাদি |
নির্ধারিত মূল্য |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
আবাসন সুবিধা |
(ক) আবাসনের ভাড়া সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিশোধিত হইলে অথবা নিয়োগকর্তা কর্তৃক আবাসনের ব্যবস্থা করা হইলে আবাসনের বার্ষিক মূল্য; (খ) হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রাপ্ত আবাসনের ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ (ক) অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া এবং পরিশোধিত ভাড়ার পার্থক্য। |
|
২। |
মোটরগাড়ি প্রতি সুবিধা |
60[(ক) ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ১৫ (পনেরো) হাজার টাকা; (খ) ১৫০০ সিসির অধিক কিন্তু ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা; (গ) ২০০০ সিসির অধিক কিন্তু ২৫০০ সিসি পর্যন্ত এইরূপ গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা; (ঘ) ২৫০০ সিসির অধিক এইরূপ গাড়ির ক্ষেত্রে মাসিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা।] |
|
৩। |
অন্য কোনো পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধা |
পারকুইজিট, ভাতা বা সুবিধার আর্থিক মূল্য বা ন্যায্য বাজার মূল্য। |
৩৪। (১) কর্মচারী শেয়ার স্কিম অর্থ কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থাপনা যাহার অধীন একটি কোম্পানি-
(ক) তাহার কোনো কর্মচারী বা তাহার কোনো সহযোগী 61[কোম্পানির কর্মচারী বরাবর শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার] ইস্যু করিতে পারিবে; বা
62[(খ) একটি ট্রাস্টের ট্রাস্টি বরাবর শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার ইস্যু করিতে পারিবে এবং পরবর্তীতে ট্রাস্টি ট্রাস্টের দলিল মোতাবেক উক্ত শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার দফা (ক) এ উল্লিখিত কর্মচারী বরাবর ইস্যু করিতে পারিবে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরকরত উদ্ভূত লভ্যাংশ দফা (ক) এ উল্লিখিত কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করিতে পারিবে।]
(২) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার প্রাপ্ত হইলে, শেয়ার প্রাপ্তির বৎসরে ক-খ নিয়মে আয় চাকরি হইতে আয়ের সহিত যোগ হইবে, যেখানে-
ক = প্রাপ্তির তারিখে শেয়ারের ন্যায্য বাজার মূল্য,
খ = শেয়ার অর্জনের ব্যয়।
(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত শেয়ার অর্জনের ব্যয় বলিতে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহের যোগফল বুঝাইবে, যথা:-
(ক) কর্মচারী শেয়ার অর্জনে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন;
(খ) কর্মচারী শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন।
(৪) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার অর্জনের প্রাপ্ত অধিকার বা সুযোগ কর্মচারী বিক্রয় বা হস্তান্তর করিলে চাকরি হইতে আয়ের সহিত ক-খ নিয়মে আয় যোগ হইবে, যেখানে-
ক = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য,
খ = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে পরিশোধিত মূল্য।
63[তৃতীয় অধ্যায়
ভাড়া হইতে আয়
৩৫। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—
(১) “গৃহসম্পত্তি” অর্থে যেকোনো গৃহসম্পত্তি, ভবন বা দালানসহ নিম্নবর্ণিত পরিসম্পদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা—
(ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং
(খ) গৃহসম্পত্তি যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি:
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ভবন বা দালান ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:—
(অ) কোনো ভবন যাহা সম্পূর্ণরূপে গুদাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়, বা
(আ) কোনো কারখানা ভবন যাহা প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ভাড়া প্রদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ভাড়া প্রদান করা হয়;
(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান, তবে স্বীয় মালিকানাধীন হউক বা না হউক, কোনো তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, কোনো উন্নয়নমূলক ফাইন্যান্স কোম্পানি অথবা মুদারাবা বা লিজিং কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(৩) “সম্পত্তি” অর্থ গৃহসম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায়।
৩৬। (১) কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির ভাড়া প্রদান হইতে অর্জিত মোট ভাড়ামূল্য হইতে এই অধ্যায়ে বর্ণিত সর্বমোট অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দিলে যাহা অবশিষ্ট থাকিবে, উহা হইবে উক্ত সম্পত্তি হইতে উক্ত ব্যক্তির ভাড়া হইতে আয়।
(২) কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির কোনো অংশ উক্ত ব্যক্তির স্বীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইলে বা উহা হইতে প্রাপ্ত আয় উক্ত ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় খাতে পরিগণনাযোগ্য হইলে, উক্ত অংশের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
(৩) হোস্টেল, হোটেল, মোটেল বা রিসোর্টের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়ার প্রকৃতি, কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসা নির্বিশেষে যে ধরনেরই হউক না কেন, উক্ত সম্পত্তি হইতে অর্জিত আয় “ভাড়া হইতে আয়” খাতের অধীন পরিগণনা করিতে হইবে।
64[৩৭। (১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
ক= (খ+গ+ঘ)-ঙ, যেখানে-
ক= মোট ভাড়ামুল্য,
খ= গৃহসম্পত্তির বার্ষিক মূল্য,
গ= উক্ত আয়বর্ষে উক্ত গৃহসম্পত্তি ব্যবহার সূত্রে প্রাপ্ত সেলামী বা প্রিমিয়াম, ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত, অগ্রিম ব্যতীত অন্য যেকোনো অংক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যাহা খ এ উল্লিখিত অংকের অতিরিক্ত,
ঘ= গৃহসম্পত্তির ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো প্রকারের সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ বা অন্য কোনো অর্থ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,
ঙ= শূন্যতা ভাতা যাহা কেবল বিদ্যুৎ বিল উপস্থাপন সাপেক্ষে প্রমাণিত হইলে অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) গৃহসম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-
ক= (খ+গ), যেখানে-
ক= মোট ভাড়ামূল্য,
খ= গৃহসম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য,
গ= অন্য কোনোভাবে উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার হইতে অর্জিত আয় এবং উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার সূত্রে প্রাপ্ত সেলামী বা প্রিমিয়াম, ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত, অগ্রিম ব্যতীত অন্য যেকোনো অংক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যাহা খ এ উল্লিখিত অংকের অতিরিক্ত।]
৩৮। (১) কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন গৃহসম্পত্তির ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত খরচ বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:—
(ক) কোনো গৃহসম্পত্তির ক্ষতি বা ধ্বংসের ঝুঁকির বিপরীতে কোনো বিমা করা হইলে তাহার জন্য পরিশোধিত প্রিমিয়াম;
(খ) গৃহসম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে কোনো মূলধনি ঋণ গ্রহণ করা হইলে সেই ঋণের উপর পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা;
(গ) গৃহসম্পত্তির উপর পরিশোধিত কোনো কর, ফি বা অন্য কোনো বার্ষিক চার্জ, যাহা মূলধনি চার্জ প্রকৃতির নহে;
(ঘ) গৃহসম্পত্তি অর্জন, নির্মাণ, মেরামত, নবনির্মাণ বা পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যবহৃত কোনো মূলধনি ঋণের উপর কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানিকে ভাড়াপূর্ব সময়ে কোনো সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করা হইয়া থাকিলে সেই সুদ বা মুনাফা ভাড়া শুরুর সহিত সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ হইতে একাদিক্রমে মোট ৩ (তিন) আয়বর্ষে সমকিস্তিতে:
তবে শর্ত থাকে যে, ভাড়াপূর্ব সময়ের কোনো সুদ বা মুনাফা বা উহার কোনো অংশ, যদি থাকে, উক্ত বর্ণিত সময়ের পরে বিয়োজনযোগ্য হইবে না;
(ঙ) ভাড়া সংগ্রহ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ এবং অন্য কোনো মৌলিক সেবা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত অংক, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
সম্পত্তির ধরন |
সংবিধিবদ্ধ বিয়োজন (মোট ভাড়ামূল্যের শতকরা হারে) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি |
৩০% (ত্রিশ শতাংশ) |
|
২। |
অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত গৃহসম্পত্তি |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ) |
(চ) গৃহসম্পত্তির আংশিক ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে আংশিক ভাড়ার বিপরীতে আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে;
(ছ) যেইক্ষেত্রে কোনো গৃহসম্পত্তি আয়বর্ষের অংশবিশেষের জন্য ভাড়া প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে ভাড়া প্রদানকৃত সময়ের আনুপাতিক হারে খরচ অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় হিসাবের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে বিয়োজনসমূহ অনুমোদিত হইবে, যথা:—
(ক) ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯-৫৫ অনুযায়ী যে সকল বিয়োজন যে সকল সীমা ও শর্তে অনুমোদিত;
(খ) তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী অনুমোদিত ভাতাসমূহ ব্যতীত অন্যান্য সকল বিয়োজন ব্যাংক ট্রান্সফার এর মাধ্যমে সম্পন্ন হইলে।
৩৯। (১) ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী কোনো সংবিধিবদ্ধ বিয়োজনের কোনো অংশ অব্যয়িত বলিয়া দাবি করিলে, উহা বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) অ্যাকাউন্টিং সমন্বয়ের ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত, ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অননুমোদিত বিয়োজনসমূহ বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
65[(৩) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদানের বিপরীতে ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম বাবদ গৃহীত অর্থের সর্বমোট পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে, উক্তরূপে গৃহীত অর্থ উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে,
(অ) যেইক্ষেত্রে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিমের অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, সেইক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের বৎসরের পরবর্তী পাঁচ বৎসর অথবা চুক্তির মেয়াদ, যাহা কম হইবে, উহার মধ্যে উক্ত অর্থ সমন্বয় করিতে হইবে;
(আ) গৃহীত সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম বা তাহার কোনো অংশ উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রম হইবার পর অসমন্বয়কৃত থাকিলে, উক্ত অসমন্বয়কৃত অঙ্ক সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।]
66[(৪) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদানের বিপরীতে গৃহীত অসমন্বয়যোগ্য অঙ্ক, উহা যেই নামেই অভিহিত হোক না কেন, উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, করদাতার ইচ্ছানুযায়ী উক্ত অর্থকে এমনভাবে বণ্টন করা যাইবে, যাতে কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উক্ত অর্থ প্রাপ্তির বৎসর এবং পরবর্তী চার বৎসরে সমান অংশে তাহা গণ্য করা যায়:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে করদাতা কর্তৃক উক্ত অর্থ বা তাহার কোনো অংশ পরবর্তী কোন আয়বর্ষে ফেরত প্রদানকৃত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ফেরত প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতার “ভাড়া হইতে আয়” পরিগণনার ক্ষেত্রে বিয়োজনযোগ্য হইবে।
(৫) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় এর ক্ষেত্রে ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত আয়ের বিপরীতে কোনো প্রকারের বিয়োজন, ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা ও তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর নিয়মিত করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে।]
চতুর্থ অধ্যায়
কৃষি হইতে আয়
৪০। (১) কোনো ব্যক্তির কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে অর্জিত আয় কৃষি হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।
(২) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা এবং রাবার এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৪০% (চল্লিশ শতাংশ) 67[ব্যবসা হইতে আয় খাতে প্রাপ্তি] এবং ৬০% (ষাট শতাংশ) 68[কৃষি হইতে আয় খাতে প্রাপ্তি] বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) কৃষি অর্থে যেকোনো প্রকার উদ্যান পালন, পশু-পাখি পালন, ভূমির প্রাকৃতিক ব্যবহার, হাস-মুরগি ও মাছের খামার, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর খামার, নার্সারি, ভূমিতে বা জলে যেকোনো প্রকারের চাষাবাদ, ডিম-দুধ উৎপাদন, কাঠ, তৃণ ও গুল্ম উৎপাদন, ফল, ফুল ও মধু উৎপাদন এবং বীজ উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৪১। (১) ধারা ৪০ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ কৃষি আয় গণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোনো পরিসম্পদ করদাতার ধারা ৪০ এর কৃষিকাজে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হইলে তাহা নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণিত হইবে, যথা:-
|
ক্রমিক নং |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ |
আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “কৃষি হইতে আয়” শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
|
২। |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “কৃষি হইতে আয়” শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(৩) কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক তাহার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত পরিসম্পদের অবলোপিত মূল্যের অধিক হইলে উক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে কৃষি হইতে আয় খাতে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
|
ক্রমিক নং |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ |
আয় হিসাবে বিবেচিত অর্থের পরিমাণ |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে; খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘কৃষি হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
২। |
বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘কৃষি হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে। |
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
ক = পরিসম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ,
খ= পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং
গ= তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,
-কে বুঝাইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ‘কৃষি হইতে আয়’ খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
69[(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ কৃষি আয় হিসাবে গণ্য হইবে।]
৪২। (১) এই আইনের অধীন, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির কৃষি হইতে আয় খাতে করযোগ্য আয় গণনার ক্ষেত্রে, উক্ত বৎসরে করদাতা কর্তৃক, মূলধনি ব্যয় বা ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যতীত, সর্ম্পূণরূপে এবং কেবল কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যয়িত অর্থ বিয়োজন হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ সাধারণ বিয়োজন হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার উপর পরিশোধিত যেকোনো প্রকার কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা;
(খ) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় এবং চাষাবাদ ব্যয়;
(গ) কৃষির উদ্দেশ্যে গৃহীত ঋণের পরিশোধযোগ্য সুদ বা মুনাফা;
(ঘ) কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং চাষাবাদের জন্য পালিত গবাদিপশুর লালন-পালন, তৎসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহণ সংক্রান্ত ব্যয়;
(ঙ) ভূমির বা আঙ্গিনার ক্ষতিপূরণে অথবা ভূমি বা আঙ্গিনা হইতে উৎপাদিত ফসল বা পণ্যের ক্ষতিপূরণে অথবা গবাদিপশু পালনে নিরাপত্তার লক্ষ্যে পরিশোধযোগ্য বিমার প্রিমিয়াম;
(চ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হইতে কৃষিকে রক্ষার নিমিত্ত ব্যয়িত অর্থ;
(ছ) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ-
(অ) করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কৃষিতে ব্যবহৃত সম্পদের অবচয়;
(আ)সংশ্লিষ্ট কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্পর্শাতীত সম্পদের অ্যামোর্টাইজেশন;
(জ) যেইক্ষেত্রে করদাতার কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশুর মৃত্যু হইয়াছে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হইয়া গিয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত পশুর প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং, ক্ষেত্রমত, সেই পশু বিক্রয় বা তাহার মাংস বিক্রয় হইতে প্রাপ্ত অর্থ, এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক;
(ঝ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কৃষি সম্পর্কিত কোনো ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়, যাহা মূলধনি প্রকৃতির নহে;
(ঞ) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে এইরূপ কোনো স্কিমের সহিত সম্পর্কিত বিষয়ের উপর বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;
(ট) কোনো কৃষি সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা খাতে নির্বাহকৃত ব্যয় বা এইরূপ কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনায় নির্বাহকৃত ব্যয় যাহার দ্বারা গবেষণাটি সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে করদাতার কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে পরিচালিত হইয়াছে।
(২) এই ধারার অধীন কোনো ব্যয়ের যতটুকু অংশ কৃষি হইতে আয় এর সহিত সম্পর্কিত কেবল ততটুকু অংশই অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।
৪৩। (১) যদি ইহা প্রতীয়মান হয় যে,–
(ক) করদাতা নিয়মিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করিতেছেন না;
(খ) করদাতা এইরূপ কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করিতেছেন যাহার ভিত্তিতে করদাতার আয় বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নহে বলিয়া উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হইতেছে;
(গ) করদাতা হিসাব বা লেনদেনের রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা
(ঘ) করদাতা যে হিসাব বা লেনদেনের রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণ করিয়াছেন তাহা যাচাইযোগ্য নহে,
তাহা হইলে, অন্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্তরূপে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজার মূল্যের ৬০% (ষাট শতাংশ) অনুমোদিত ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে ভূমি বা আঙ্গিনার মালিক আধি, বর্গা, ভাগা বা অংশহারে কৃষি হইতে আয় প্রাপ্ত হইবেন সেইক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
৪৪। (১) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ সকল ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলির পরিপালন না হইলে এই অধ্যায়ের অধীন দাবিকৃত বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না।
(২) ধারা ৫৫ এ বর্ণিত বিধানাবলি এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন বিধানাবলি এই অধ্যায়ের সহিত সম্পর্কিত।
পঞ্চম অধ্যায়
ব্যবসা হইতে আয়
৪৫। করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ ব্যবসা হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-
(ক) আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত বা পরিচালিত বলিয়া গণ্য ব্যবসায়ের কোনো লাভ ও মুনাফা;
(খ) কোনো ব্যবসায় বা পেশাজীবী সংগঠন বা এইরূপ কোনো সংগঠন কর্তৃক উহার সদস্যদের নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত কোনো আয়;
(গ) কোনো ব্যক্তির অতীত, বর্তমান বা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বা সম্পর্কের কারণে উদ্ভূত কোনো সুবিধার ন্যায্য বাজার মূল্য, তাহা অর্থে রূপান্তরযোগ্য হউক বা না হউক;
(ঘ) কোনো ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, মুদারাবা ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসহ, কর্তৃক উদ্ভূত কোনো ব্যবস্থাপনা ফি;
(ঙ) নিজের অথবা অন্যের মালিকানাধীন কোনো পরিসম্পদ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট লীজ প্রদানের বিপরীতে লীজদাতা ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রাপ্য কোনো অর্থ;
(চ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে মুদ্রা বিনিময় হইতে নগদায়িত লাভ (realized gain);
(ছ) বন্ধ হইয়া যাওয়া কোনো ব্যবসা হইতে আয়বর্ষে গৃহীত কোনো আয়।
৪৬। (১) ধারা ৪৫ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) করদাতার যে ব্যবসায়ের জন্য আয় পরিগণিত হইতেছে সেই ব্যবসায়ে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয়, তাহা হইলে উক্ত বিক্রয়লব্ধ আয়ের পরিমাণ হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
|
ক্রমিক নং |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ |
আয়ের পরিমাণ |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;
খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
|
|
২। |
বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
|
(৩) করদাতার ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহার পরিমাণ যদি উক্ত সম্পদের অবলোপিত মূল্যের চাইতে অধিক হয় তাহা হইলে এই ক্ষেত্রে আয়ের অঙ্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা:-
|
ক্রমিক নং |
70[বিক্রয়লব্ধ অর্থ] |
আয়ের পরিমাণ |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক হয় |
ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘মূলধনি আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;
খ-গ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
|
|
২। |
বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ যদি পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইতে অধিক না হয়, তবে অবলোপিত মূল্য হইতে অধিক হয় |
যেইক্ষেত্রে ক>গ, সেইক্ষেত্রে ক-গ এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;
যেইক্ষেত্রে ক<গ, সেইক্ষেত্রে গ-ক এর সমপরমিাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ পরিগণনার ক্ষেত্রে ধারা ৪৯ এর অধীন ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে।
|
(৪) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ব্যবসা হইতে আয় খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণীতে বর্ণিত-
ক = পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ 71[বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ],
খ = পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং
গ = তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,
-কে বুঝাইবে।
(৬) যদি কোনো রপ্তানিকারক করদাতা সরকার কর্তৃক তাহার অনুকূলে বণ্টনকৃত রপ্তানি কোটার সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো আয়বর্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিয়া থাকেন, তাহা হইলে এইরূপ হস্তান্তরিত কোটার আনুপাতিক রপ্তানি মূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
72[***]
(৮) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় যদি করদাতার কোনো ট্রেডিং দায় হিসাবে নেওয়া হয় এবং–
(ক) পরবর্তী কোনো আয় উক্ত আয়বর্ষে করদাতা যদি ট্রেডিং দায় বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হয় তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;
(খ) উক্ত ট্রেডিং দায় যেই আয়বর্ষে হিসাবে নেওয়া হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি ট্রেডিং দায় বা তাহার কোনো অংশ অপরিশোধিত থাকে তাহা হইলে উক্ত অপরিশোধিত ট্রেডিং দায় উক্ত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্রেডিং দায় যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয় তাহা হইলে পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সেই অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনায় বাদ যাইবে।
(৯) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় লোকসান, কুঋণ বা কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে করদাতা যদি সেই বিয়োজিত লোকসান, কুঋণ বা খরচ বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হন তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
73[(১০) ধারা ১৮০ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল হইয়াছে তাহার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) আয়বর্ষের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রদর্শিত প্রারম্ভিক মূলধনের যেকোনো পরিমাণের ঘাটতি ব্যবসা সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে “ব্যবসা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।]
(১১) কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কুঋণ বা সন্দেহজনক ঋণ হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণের উপর সুদ বা মুনাফা আয় যেই আয়বর্ষে লাভ ক্ষতির হিসাবে ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, অথবা যেই আয়বর্ষে প্রকৃতভাবে গৃহীত হইবে, দুইয়ের মধ্যে যাহা আগে হয় সেই আয়বর্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে।
(১২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) বিক্রয়ের পূর্বে পরিসম্পদটি যে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই ব্যবসা পরিসম্পদ বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) করদাতার ব্যবসায় ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা স্থানান্তরিত হইলে, উক্ত রপ্তানির বা স্থানান্তরের তারিখই পরিসম্পদ বিক্রয়ের তারিখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সম্পদের 74[রপ্তানি মূল্যকে] উহা বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বলিয়া বিবেচনা করা হইবে।
৪৭। নিম্নবর্ণিত সারণির কলাম (২) এ উল্লিখিত ব্যবসায়ের মুনাফা সারণির কলাম (৩) এ বর্ণিত তফসিলের বিধান অনুসারে পরিগণনা করা হইবে, যথা:-
সারণি
|
ক্রমিক নং |
ব্যবসা |
তফসিল |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
বিমা ব্যবসা |
চতুর্থ তফসিল |
|
২। |
প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তৈল বা অন্যান্য খনিজ উত্তোলন ও অনুসন্ধান |
পঞ্চম তফসিল |
৪৮। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ফটকা কারবার পরিচালিত হইলে তাহা উক্ত ব্যক্তির অন্যান্য ব্যবসা হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্র ব্যবসা হিসাবে বিবেচিত হইবে।
৪৯। এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্বতন্ত্র এবং ভিন্ন ব্যবসায়ের জন্য নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) কাঁচামাল, মজুদ, ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ও ব্যবসায়ে ব্যবহারের নিমিত্ত পণ্য ক্রয় বাবদ ব্যয় এবং কোনো অবলোপিত মজুদ ব্যয়;
(খ) এই আইন ও দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন পরিশোধিত নহে, তবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিশোধিত এইরূপ শুল্ক-করাদি, পৌর কর, স্থানীয় কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা ও সরকারি ফি;
(গ) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয়;
(ঘ) এই আইনের অধীন চাকরি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়, কল্যাণ ব্যয় বা পারিশ্রমিক;
(ঙ) মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয়;
(চ) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে 75[ও কর্মীদের জন্য] কৃত ও পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম;
(ছ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ অন্যান্য পরিষেবা ব্যয়;
(জ) পণ্য পরিবহণ, ক্লিয়ারিং এবং ফরওয়ার্ডিং চার্জ;
(ঝ) বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কমিশন, দালালি, ডিসকাউন্ট বা ওয়ারেন্টি চার্জ প্রকৃতির ব্যয়;
(ঞ) বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয়;
(ট) কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয়;
(ঠ) বিক্রয় প্রতিনিধিদের সম্মেলন, হোটেল ও আবাসন বাবদ ব্যয়;
(ড) যাতায়াত ও ভ্রমণ বাবদ ব্যয়;
(ঢ) ইন্টারনেট সেবা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যয়;
(ণ) আইনি সেবা, নিরীক্ষা সেবা ও অন্যান্য পেশাদারী সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয়;
(ত) আপ্যায়ন ও অতিথিশালা সংক্রান্ত ব্যয়;
(থ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে, বৈদেশিক মুদ্রার নগদায়িত বিনিময় ক্ষতি;
(দ) কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক সমিতিতে প্রবেশ ফি-সহ তাহাদের সুবিধাদির ব্যবহারের জন্য চাঁদা;
(ধ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কোনো ট্রেড ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়;
(ন)রয়্যালটি, কারিগরি ফি, হেড অফিস ব্যয়;
76[(প) শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৩৪ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) অনুযায়ী অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৫ নং আইন) এর ধারা ১৪ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদেয় অর্থ যাহা প্রদর্শিত নীট ব্যবসায়িক মুনাফার ৫% (পাঁচ শতাংশ) এর অধিক নহে;]
(ফ) সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত অন্যান্য ব্যয়।
৫০। (১) নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা ও শর্ত অনুযায়ী বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:-
(ক) সাধারণ অবচয় ভাতা;
(খ) প্রারম্ভিক অবচয় ভাতা;
(গ) ত্বরান্বিত অবচয় ভাতা;
(ঘ) অ্যামোর্টাইজেশন ভাতা; এবং
(ঙ) গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়।
(২) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি অবলোপিত মূল্য অপেক্ষা কম হয়, তাহা হইলে করদাতা কর্তৃক বিয়োজন দাবি সাপেক্ষে, অবলোপিত মূল্য এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক।
(৩) ধারা ৫১ অনুযায়ী অনুমোদিত কুঋণ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।
(৪) ধারা ৫২ ও ৫৩ অনুযায়ী অনুমোদিত সুদ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।
৫১। (১) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-
(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;
(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হইয়া থাকে;
(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।
(২) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-
77[(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) ও বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রবিধি অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;]
(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়;
(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।
৫২। (১) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ধারকৃত কোনো মূলধনের উপর কোনো সুদ পরিশোধ বা, ক্ষেত্রমত, কোনো মুনাফা ভাগের অর্থ পরিশোধ করা হইলে তাহা ব্যবসায়িক ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে।
(২) যদি দেখা যায় যে, ধারকৃত অর্থের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইয়াছে বা ধারকৃত অর্থে অর্জিত সম্পদের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হইয়াছে যেখানে অর্থলগ্নী করা স্থানান্তরকারীর ব্যবসা নহে, তাহা হইলে উক্ত অর্থ বা সম্পদের যে অংশ ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহার করা হইয়াছে সেই অংশের আনুপাতিক হারে সুদ বা মুনাফা ব্যয় অনুমোদিত হইবে।
৫৩। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক ধারা ২৩৩ এ সংজ্ঞায়িত কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান বরাবর কোনো করবর্ষে সুদ ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি ও সীমা অনুযায়ী অনুমোদিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আয়বর্ষে পরিশোধিত সুদের পরিমাণ ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
৫৪। (১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন এইরূপ কোনো ব্যয় যদি বিয়োজন হিসাবে অনুমোদিত হয় যাহা সর্ম্পূণ বা আংশিকভাবে কোনো পরিসম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে তাহা হইলে উক্ত পরিসম্পদ বাবদ একই আয়বর্ষে আর কোনো বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য হইবে না।
(২) ধারা ৪৯ এর অধীন কোনো ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনার ক্ষেত্রে আমলে লওয়া হইবে, যথা:-
(ক) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়;
(খ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় রাজস্ব প্রকৃতির হয়; এবং
(গ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত হয়।
৫৫। এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যথা:-
(ক) যেকোনো প্রকারের ব্যয় বা পরিশোধ যাহার ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করা হয় নাই;
(খ) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যকে প্রদত্ত সুদ, বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক;
(গ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক 78[স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারকে] কোনো কমিশন বা ডিসকাউন্ট প্রদান;
(ঘ) ধারা ৩২ এর ব্যাখ্যাতে সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোনো কর্মচারীকে প্রদত্ত 79[২০ (বিশ)] লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোনো অঙ্ক:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত মজুরি বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না;
(ঙ) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি সেবা ফি, কারিগরি কৌশল বাবদ ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ব্যবহার বাবদ নির্বাহকৃত সমপ্রকৃতির অন্য যেকোনো ফি বাবদ মোট ব্যয়সমষ্টির ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত 80[ব্যবসায়িক টার্নওভার এর ৬% (ছয় শতাংশ) অথবা নীট ব্যবসায় মুনাফার ১৫% (পনের শতাংশ), যেটি কম,] এর অতিরিক্ত ব্যয়;
(চ) বাংলাদেশে নিবন্ধিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক নির্বাহকৃত হেড অফিস অথবা ইন্ট্রা-গ্রুপ ব্যয়, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ) এর অতিরিক্ত ব্যয়;
(ছ) ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অতিরিক্ত অঙ্ক:
তবে শর্ত থাকে যে, করদাতা সরকারকে কোনো সেবা প্রদানের কাজে বিদেশ ভ্রমণ করিলে সেইক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই দফায় অধীন পরিগণিত অতিরিক্ত অঙ্কের সমর্থনে প্রমাণাদি উপস্থাপন করিলে এবং উহার বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা প্রমাণিত হইলে এই দফায় প্রদত্ত সীমা প্রযোজ্য হইবে না;
(জ) আপ্যায়ন ব্যয় হিসাবে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-
(অ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকার ৪% (চার শতাংশ); এবং
(আ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকা বাদে পরবর্তী অঙ্কের ২% (দুই শতাংশ);
(ঝ) ফ্রি স্যাম্পল বিতরণে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-
(অ) ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ২% (দুই শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(আ) খাদ্য, প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ১% (এক শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;
(ই) অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে-
(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;
(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;
(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.১% (শূন্য দশমিক এক শতাংশ) হারে;
(ঞ) বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অধিক অঙ্ক;
(ট) কর্মচারীর চাকরি হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত এইরূপ কোনো অর্থ যদি ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়;
(ঠ) কোনো পরিশোধ যাহা ভাড়া হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত তাহা ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;
81[(ড) দফা (ট), (ঠ) এবং কাঁচামাল ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার ব্যয় বাবদ মোট পরিশোধের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধিত হইয়া থাকিলে অন্য মাধ্যমে পরিশোধিত মোট অঙ্কের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ);]
82[***]
(ণ) ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা 83[২৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৬ ও ৩৭] অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে বাধ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত কোনো অঙ্ক, যদি অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয় 84[:]
85[তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৪২ এর বিধানাবলি পরিপালন সাপেক্ষে এই দফার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(ত)মূলধনি প্রকৃতির কোনো ব্যয় কিংবা করদাতার ব্যক্তিগত কোনো ব্যয়;
(থ) 86[কোনো বিয়োজন বা কোনো দায়ের বিপরীতে সৃষ্ট কোনো বিয়োজন] যাহা সুস্পষ্টভাবে নিরূপিত নহে;
(দ) ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের সহিত সম্পর্কিত নহে এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়;
(ধ) International Financial Reporting Standard মোতাবেক কোনো পরিসম্পদের Right of Use বাবদ দাবিকৃত কোনো অবচয় ভাতা ও সুদ বিয়োজন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত 87[পরিসম্পদের] জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনুমোদন করিতে হইবে;
(ন) ধারণাগত পরিসম্পদ অনিষ্টজনিত ক্ষতি (impairment loss);
88[(প) এই আইনে অনুমোদন গ্রহণের বিধান রহিয়াছে কিন্তু অনুমোদন গ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ কোনো তহবিলে প্রদত্ত অর্থ;]
(ফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বিধান পরিপালন না হইলে প্রমাণকহীন সকল খরচ।
ব্যাখ্যা।– এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(অ) “নীট ব্যবসায় মুনাফা” অর্থ কোনো সত্তা কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত ব্যবসায়িক মুনাফা, তবে কোনো সাবসিডিয়ারি, অ্যাসোসিয়েট বা জয়েন্ট ভেঞ্চার হইতে অর্জিত মুনাফা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(আ)“প্রচারণামূলক ব্যয়” অর্থ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে কোনো বস্তু, অর্থ বা অন্য কোনো প্রকারের সুবিধার প্রদানের বিপরীতে দাবিকৃত ব্যবসায়িক খরচ দাবি, তবে বিজ্ঞাপন ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
89[৫৬। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ধ) ও (ন) এর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য দফার অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ব্যবসা আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) এই অধ্যায়ের অধীন “বিশেষ ব্যবসা আয়” বা “ব্যবসা হইতে আয়” এর বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ হিসাবে গণ্য কোনো আয়ের বিপরীতে কোনো প্রকারের ব্যয়, লোকসানের সমন্বয় বা জের টানা এবং তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর নিয়মিত করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, হ্রাসকৃত কর হার প্রযোজ্য হয় এইরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর ক্ষেত্র ব্যতীত উপ-ধারা (১) এর অধীন গণ্য বিশেষ ব্যবসা আয়ের উপর উক্তরূপ হ্রাসকৃত হারে করদায় নির্ধারিত হইবে।]
ষষ্ঠ অধ্যায়
মূলধনি আয়
৫৭। মূলধনি পরিসম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত মুনাফা ও লাভ মূলধনি আয় হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, International Accounting Standards (IAS) বা International Financial Reporting Standards (IFRS) অনুযায়ী ন্যায্য বাজার মূল্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া কোনো পরিসম্পদ যাহা প্রকৃত অর্থে হস্তান্তরিত হয় নাই, উহা হইতে উদ্ভূত কোনো ধারণাগত লাভ বা মুনাফা মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত হইবে না।
৫৮। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তির মূলধনি আয় হইবে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য এবং উক্ত পরিসম্পদের অর্জন মূল্যের পার্থক্য।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য বলিতে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য হইবে ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে যাহা অধিক, যেখানে-
ক = পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে প্রাপ্ত বা উপচিত অর্থ; এবং
খ = হস্তান্তরের তারিখে পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;
(খ) “পরিসম্পদের অর্জন মূল্য” বলিতে-
(অ) কোনো পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইবে নিম্নবর্ণিত খরচসমূহের সমষ্টি-
(১) এইরূপ কোনো খরচ যাহা কেবল উক্ত পরিসম্পদের স্বত্ব হস্তান্তরের সহিত সম্পর্কিত;
(২) পরিসম্পদের ক্রয়মূল্য; এবং
(৩) ধারা ৩৮, ৪২, ৪৯, ৫০ বা ৬৪ অনুযায়ী অনুমোদিত খরচ ব্যতীত উক্ত পরিসম্পদ উন্নয়নের খরচ, যদি থাকে;
(আ) যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারি উক্ত পরিসম্পদ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জন করিয়াছেন-
(১) কোনো উপহার, দান বা উইলের অধীন;
(২) সাকসেশন, উত্তরাধিকার বা পরম্পরাক্রমে;
(৩) প্রত্যাহারযোগ্য বা অপ্রত্যাহারযোগ্য কোনো ট্রাস্টের হস্তান্তরের অধীন;
(৪) কোনো কোম্পানি অবসায়নের জন্য মূলধনি পরিসম্পদের কোনো বিতরণের মাধ্যমে; বা
(৫) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভাজনের ক্ষেত্রে মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণের মাধ্যমে,
সেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারী কর্তৃক উক্ত পরিসম্পদের মালিকানা অর্জনের তারিখের ন্যায্য বাজার মূল্য উক্ত পরিসম্পদের অর্জনমূল্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।
৫৯। মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত আয় উক্ত হস্তান্তর যেই আয়বর্ষে সংঘটিত হইয়াছে সেই আয়বর্ষের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৬০। উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহা যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হইলে, উক্ত ব্যয়কে এই অধ্যায়ের অধীন অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে না।
৬১। (১) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য অপেক্ষা ১৫% (পনেরো শতাংশ) এর অধিক হইলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার সেই পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করিবেন।
(২) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত অর্জন মূল্য অপেক্ষা ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক হইলে উপকর কমিশনার, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত পরিসম্পদ ঘোষিত অর্জন মূল্যে ক্রয় করিবার জন্য প্রস্তাব দিতে পারিবেন।
(৩) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নূতন কোনো কোম্পানির নিকট কোনো অংশীদারি ফার্মের সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের ফলে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে তাহা করমুক্ত থাকিবে যদি সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের বিনিময় মূল্য নূতন কোম্পানি ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়।
সপ্তম অধ্যায়
আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়
৬২। (১) কোনো ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) সরকারি বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;
(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার বা অন্য কোনো প্রকারের সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;
(গ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্য সুদ বা মুনাফা, যথা: -
(অ) কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত আমানত, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(আ) কোনো আর্থিক 90[পরিসম্পদ,] পণ্য বা স্কিম;
(ঘ) লভ্যাংশ।
(২) আর্থিক পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে অর্জিত মূলধনি আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” শ্রেণিভুক্ত হইবে না।
৬৩। কোনো ব্যক্তি যেই আয়বর্ষে আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় প্রাপ্ত হইবেন বা যেই আয়বর্ষে তাহার হিসাবে উক্ত আয় জমা হইবে, এর মধ্যে যাহা পূর্বে ঘটে, সেই আয়বর্ষে তাহা অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৬৪। “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে, যথা:-
(ক) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক করদাতাকে সুদ বা মুনাফা প্রদানের বিপরীতে আয়কর ব্যতীত কর্তনকৃত অর্থ;
(খ) কেবল “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণকৃত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ;
(গ) কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, দফা (ক) বা (খ)তে উল্লিখিত ব্যয় ব্যতীত, নির্বাহকৃত অন্য কোনো ব্যয়।
৬৫। এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে না, যথা:-
(ক) বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধযোগ্য কোনো সুদ যাহা হইতে এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন বা পরিশোধ করা হয় নাই;
(খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত 91[***] এইরূপ আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়ের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা কমিশন;
(গ) মূলধনি বা ব্যক্তিগত প্রকৃতির কোনো ব্যয় 92[;]
93[(ঘ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহা যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হইলে উক্ত ব্যয়।]
অষ্টম অধ্যায়
অন্যান্য উৎস হইতে আয়
৬৬। কোনো করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্যান্য উৎস হইতে আয় খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত ও পরিগণিত হইবে, যথা:-
(ক) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের জন্য ফি এবং স্পর্শাতীত সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয়;
(খ) সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি;
94[(গ) খনিজ মজুদ ও হাইড্রোকার্বন (mineral deposits and hydrocarbons) এবং সুনাম (goodwill) ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ, যাহা প্রাকৃতিক বা কোনো ব্যক্তির স্বীয় সৃষ্ট, হস্তান্তর হইতে অর্জিত আয়;]
95[(ঘ) যেকোনো দান, অনুদান বা উপহার, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
96[(ঙ) গোষ্ঠী বীমা পলিসি হইতে কর্মচারী কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা, উহা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন;]]
97[(চ) ধারা ৩০ এর দফা (ক) হইতে দফা (চ) এ বর্ণিত কোনো খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হয় নাই এইরূপ কোনো উৎস হইতে আয়।]
৬৭। (১) ধারা ৬৬ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, এই অধ্যায়ের বিধান অনুসারে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” পরিগণনার ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে করদাতার হিসাবের বহিতে অথবা অন্য কোনো দলিলাদিতে এইরূপ কোনো অঙ্কের ক্রেডিট (any sum found credited) দেখা যায়, যাহার প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে করদাতা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করিতে পারেন না অথবা করদাতার ব্যাখ্যা উপকর কমিশনারের নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত অঙ্ক উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে করদাতা কোনো আয়বর্ষে কোনো সম্পদের মালিক হন বা কোনো ঋণ গ্রহণ করেন বা ব্যয় নির্বাহ করেন বা এইরূপ কোনো লেনদেন করেন যাহা করদাতার পরিসম্পদকে প্রভাবিত করে, সেইক্ষেত্রে (ঘ+ঙ+চ) অপেক্ষা (ক+খ+গ) অধিক হইলে, (ক+খ+গ)- (ঘ+ঙ+চ) এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে, যেখানে-
ক= নীট পরিসম্পদের পরিবৃদ্ধি,
খ= নির্বাহকৃত প্রকৃত খরচ,
গ= ক ও খ ব্যতীত তহবিল হইতে অন্যান্য ব্যয়,
ঘ= মোট নিরূপিত আয়,
ঙ= নিরূপিত কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়, এবং
চ= ঘ ও ঙ ব্যতীত তহবিলের অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রাপ্তি।
(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা বাণিজ্যিক মজুদ বা আর্থিক পরিসম্পদ ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রয় করেন এবং উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে, করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত মূল্য ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম, সেইক্ষেত্রে পরিশোধিত মূল্য ও ন্যায্য বাজার মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য, তাহা 98[সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে] করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইয়া “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।
(৫) কোনো চুক্তি বাতিল বা রদ করিবার অথবা চুক্তির কোনো শর্তে পরিবর্তন বা সংশোধনের কারণে কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা ফি, কমিশন, ক্ষতিপূরণ সুনামমূল্য, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, এইরূপ কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহা সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৬) লিজ বা ভাড়ার মাধ্যমে সেলামী বা প্রিমিয়াম আকারে কোনো করদাতা কর্তৃক কোনো আয়বর্ষে কোনো এককালীন অর্থ প্রাপ্ত বা প্রাপ্য হইলে তাহা করদাতার উক্ত আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৭) কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর্তৃক কোনো পরিসম্পদ অর্জনকালে পরিশোধিত অর্থ হইতে অংশ ৭ অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এইরূপ পরিশোধিত অর্থ করদাতার উক্ত আয়বর্ষে “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(৮) ঋণের দায় মওকুফের প্রেক্ষিতে কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা যদি কোনো প্রকার লাভ বা সুবিধা প্রাপ্ত হন, তবে তাহা অর্থে রূপান্তরযোগ্য হউক বা না হউক, উক্ত লাভ বা সুবিধার অর্থমূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইবে এবং তাহা “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার বিধান নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-
(ক) কোনো তফসিলি ব্যাংক অথবা 99[ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন)] এর অধীন নিবন্ধিত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বরাবর ঋণ অথবা সুদ মওকুফ;
(খ) কোনো ব্যক্তি করদাতার স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনকৃত কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বিপরীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ বা উহার অধীন প্রণীত বিধির আলোকে নিবন্ধিত মার্চেন্ট ব্যাংকার এন্ড পোর্টফোলিও ম্যানেজার বা স্টক ব্রোকার কর্তৃক কোনো মার্জিন লোন বা উহা হইতে উদ্ভূত সুদ মওকুফের কারণে অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) লক্ষ টাকা লাভ বা সুবিধা।
(৯) কোনো আয়বর্ষে করদাতা লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে, এইরূপ প্রাপ্তি উক্ত আয়বর্ষে সংশ্লিষ্ট করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে।
(১০) যেইক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নহে, এইরূপ কোনো কোম্পানি কোনো আয়বর্ষে কোনো শেয়ারহোল্ডারের নিকট হইতে ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত নগদে পরিশোধিত মূলধন প্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধিত মূলধন উক্ত আয়বর্ষে কোম্পানি করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন হিসাবে নগদ ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ বা সেবা গৃহীত হইলে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(১১) 100[যেইক্ষেত্রে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ব্যতীত কোনো করদাতা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো অগ্রিম, ঋণ, বা অন্য কোনো প্রকার ডিপোজিট গ্রহণ করে], সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ যেই বৎসর ঋণ হিসাবে গৃহীত হইয়াছিল, সেই আয়বর্ষে উক্ত করদাতার আয় হিসাবে গণ্য হইবে এবং তাহা “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারায় বর্ণিত কোনো ঋণ বা তাহার অংশবিশেষ পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে পরিশোধ করা হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপে পরিশোধিত অর্থ উক্ত পরবর্তী আয়বর্ষের আয় পরিগণনার সময় বাদ যাইবে।
(১২) যেইক্ষেত্রে 101[কোনো আয়বর্ষে] কোনো কোম্পানি করদাতা সরাসরি বা ভাড়ায় এক বা একাধিক মোটর কার বা জিপ ক্রয় করে এবং কোনো মোটর কার বা জিপের মূল্য রিজার্ভ ও পুঞ্জিভূত মুনাফাসহ তাহার পরিশোধিত মূলধনের ১০ (দশ) শতাংশের অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ ১০% (দশ শতাংশ) অতিক্রান্ত হওয়া অর্থের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১৩) যেইক্ষেত্রে কোনো 102[স্বাভাবিক] ব্যক্তি করদাতা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে ক্রসড চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো অগ্রিম, ঋণ, 103[***] বা অন্য কোনো প্রকার ডিপোজিট হিসাবে সর্বমোট ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক পরিমাণের কোনো অর্থ গ্রহণ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে গৃহীত অর্থ যেই বৎসর অগ্রিম, ঋণ, 104[***] বা অন্য কোনো প্রকার ডিপোজিট হিসাবে গৃহীত হইয়াছিল, সেই আয়বর্ষে উক্ত করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে এই উপ-ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না
(ক) স্বামী-স্ত্রী, 105[আপন ভাই বা বোন,] পিতা-মাতা বা সন্তানের নিকট হইতে এইরূপ অর্থ গ্রহণ করা হইলে এবং উহা 106[দাতা ও গ্রহীতার রিটার্নে প্রদর্শিত হইলে];
(খ) ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির সহিত নিবন্ধিত কোনো সংস্থা কর্তৃক গৃহীত কোনো ডিপোজিট।
(১৪) যেইক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িত নহে এইরূপ কোনো করদাতা কোনো গৃহসম্পত্তি বা তাহার অংশবিশেষ নির্মাণ বা মেরামতের জন্য বাকিতে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করেন এবং এইরূপ ক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ সমাপ্তির পরবর্তী ২ (দুই) আয়বর্ষের মধ্যে তাহা পরিশোধ না করেন, সেইক্ষেত্রে তাহা উক্ত ২ (দুই) আয়বর্ষ সমাপ্ত হইবার পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে ।
107[(১৫) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা কোনো সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন এবং উক্ত সংশোধিত রিটার্নে এইরূপ কোনো আয় প্রদর্শন করেন যাহা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহারের আওতাধীন, সেইক্ষেত্রে ক-খ এর সমপরিমাণ অর্থ উক্ত আয়বর্ষে করদাতার “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতের আয় হিসাবে অর্ন্তভুক্ত হইবে, যেখানে-
ক= কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহারের আওতাধীন আয় হিসাবে সংশোধিত রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থ,
খ= মূল রিটার্নে প্রদর্শিত আয়:
তবে শর্ত থাকে যে, ষষ্ঠ তফসিল অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
৬৮। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, মূলধনি বা ব্যক্তিগত ব্যয় নহে এইরূপ ব্যয় খরচ হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে।
(২) ধারা ৬৭ এর উপ-ধারা (৫) ও (৬) ব্যতীত ধারা ৬৭ এর অন্যান্য উপ-ধারার অধীন আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে কোনপ্রকারের ব্যয় অনুমোদিত হইবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে, উক্ত খরচের যৌক্তিকতা বিবেচনা করিতে হইবে।
৬৯। (১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন কোনো সম্পদের বিপরীতে খরচ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অনুমোদিত হইলে তাহা একই সম্পদের বিপরীতে পুনরায় অনুমোদিত হইবে না।
(২) খরচ অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কিত ধারা ৫৫ এ উল্লিখিত বিধানাবলি এই অধ্যায়ের এইরূপ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
নবম অধ্যায়
ক্ষতির সমন্বয় এবং জের টানা
৭০। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি অন্য খাতের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে।
(২) নিম্নবর্ণিত সারণী উল্লিখিত কোনো ক্ষতি কেবল সেই খাত বা উৎসের আয় ব্যতীত অন্য কোনো খাত বা উৎসের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে না, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
আয়ের উৎস বা খাত |
যেরূপে সমন্বয় করা যাইবে |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
মূলধনি ক্ষতি |
কেবল মূলধনি আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে।
|
|
২। |
ব্যবসায়িক ক্ষতি |
কেবল ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে। |
|
৩। |
ফটকা ব্যবসায় ক্ষতি |
কেবল ফটকা ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে।
|
|
৪। |
তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবসায় ক্ষতি |
কেবল তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবসা হইতে আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে। |
(৩) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা 108[ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী] ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাইবে না।
(৪) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত ক্ষতি কেবল উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে এবং উক্ত ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যের আয়ের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।
(৫) কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি উক্ত বৎসরের অন্য কোনো খাতের বা উৎসের আয়ের সহিত সম্পূর্ণ সমন্বয় করা না গেলে অসমন্বিত ক্ষতির জের টানিয়া পরবর্তী ৬ (ছয়) করবর্ষে সমন্বয় করা যাইবে।
(৬) অষ্টম তফসিল সাপেক্ষে, ব্যবসা বা পেশায় উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হইলে, উত্তরসূরি নিজের কোনো আয়ের বিপরীতে পূর্বসূরির ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানিতে পারিবেন না।
৭১। (১) এই আইনানুযায়ী অনুমোদিত কোনো অবচয় কোনো করবর্ষের গ্রস আয়ের বিপরীতে ব্যয় হিসাবে সম্পূর্ণরূপে চার্জ করা না গেলে তাহা পরবর্তী করবর্ষের অবচয়ের সহিত যুক্ত হইবে।
(২) এই আইনের কোনো বিধান পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে কোনো অবচয় ভাতা অননুমোদিত হইলে উহার জের টানা যাইবে না।
(৩) জের টানা অবচয়ের ভাতা চার্জ করিবার পূর্বে জের টানা ক্ষতির সমন্বয় করিতে হইবে।
(৪) অনুমোদিত অবচয় ভাতা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয়কৃত হওয়া পর্যন্ত জের টানা যাইবে।
দশম অধ্যায়
হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি
৭২। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, একজন ব্যক্তির আয়কে নিয়মিতভাবে প্রয়োগকৃত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসারে পরিগণনা করিতে হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি মনে করেন যে, হিসাব পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি অভিষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর উপকর কমিশনার করদাতার আয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অনুমোদন করিতে পারিবেন।
(৩) বোর্ড, বিধি দ্বারা, কোনো ব্যবসা, বা কোনো শ্রেণির ব্যবসা, বা অন্য কোনো উৎস, বা কোনো উৎসের আয়ের জন্য হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও অন্যান্য যাচাই মানদণ্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৪) পূর্ববর্তী বিধানসমূহ ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোনো কোম্পানি International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) 109[, IFRS for SMEs] ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব রক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।
110[৭৩। (১) স্বাভাবিক ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও তহবিল ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তি এবং দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি হইতে আয় প্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি আয়বর্ষের রিটার্নের সহিত নিরীক্ষাকৃত আয় বিবরণী এবং নিরীক্ষাকৃত আর্থিক বিবরণীসমূহের একটি অনুলিপি এই মর্মে প্রদান করিবে যে-
(ক) উক্ত করবর্ষের জন্য International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS), IFRS for SMEs ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব সংরক্ষণ করা হইয়াছে এবং নিরীক্ষাকৃত বিবরণীসমূহ প্রস্তুত ও দাখিল করা হইয়াছে;
(খ) বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হইয়াছে;
(গ) International Standards on Auditing (ISA) অনুসারে উহা নিরীক্ষা করা হইয়াছে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-
(অ) অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার গ্রস প্রাপ্তি রহিয়াছে এইরূপ কোনো ফার্ম, ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ, ফাউন্ডেশন, সমিতি এবং সমবায় সমিতি;
(আ) যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাহা কেবল প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাদানে নিয়োজিত।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয় বিবরণী এবং আর্থিক বিবরণীসমূহ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষিত ও প্রত্যয়িত হইতে হইবে।]
৭৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণিভুক্ত এবং গণনাকৃত আয়ের জন্য উপচিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করেন, সেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হইতে উদ্ভূত আয় সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি অনুসারে গণনা করিতে হইবে।
(২) কোনো করবর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের শতাংশ, উক্ত করবর্ষ শেষ হইবার পূর্বে চুক্তিতে মোট বরাদ্দকৃত ব্যয় এবং সংঘটিত খরচের সহিত চুক্তির শুরুতে নির্ধারিত আনুমানিক মোট চুক্তিব্যয়ের মধ্যে তুলনার মাধ্যমে নির্ধারিত হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) "দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি" অর্থ উৎপাদন, স্থাপন, বা নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি, বা এতৎসংক্রান্ত প্রতিটি চুক্তি সম্পর্কিত পরিষেবা সমূহের সম্পাদন, যাহা চুক্তির অধীন কাজ আরম্ভ হইবার 111[বৎসরের] মধ্যে সম্পন্ন হয় নাই, তবে চুক্তির অধীন কাজ শুরু হইবার দিন হইতে আনুমানিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে শেষ হইবে এইরূপ চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তি;
(খ) "সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি" অর্থ সার্বজনীনভাবে গৃহীত হিসাবরক্ষণ নীতি যাহার অধীন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতাধীন রাজস্ব ও ব্যয় উপ-ধারা (২) এর অধীন সংশোধনকৃত চুক্তির সমাপ্তির পর্যায়ে স্বীকৃত হয়।
৭৫। 112[(১) কোনো করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত রিটার্ন, বিবরণী বা জমাকৃত নথি, অডিট বা কর নির্ধারণ কার্যক্রম চলাকালে যাচাইযোগ্য না হইলে যেকোনো পর্যায়ে তাহা অগ্রাহ্য করিবার ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের কোনো কিছুই আয়কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাকে বারিত করিবে না।]
(২) যেইক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণের কোনো প্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় নাই, বা উপকর কমিশনার করদাতার হিসাবসমূহের সঠিকতা বা সম্পূর্ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন, বা করদাতার হিসাবসমূহ ধারা ৭৩ এর বিধান অনুসারে প্রস্তুত এবং সংরক্ষণ করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে করদাতার কর নিরূপণ করিবেন।
প্রথম অধ্যায়
অব্যাহতি, হ্রাস ও বাদ
113[৭৬। (১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো শ্রেণির ব্যক্তিকে বা কোনো শ্রেণির যেকোনো আয়কে কর অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে এই আইন ব্যতীত অন্য কোনো আইন বা আইন হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো আইনগত দলিলের বিধানানুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে, উক্তরূপ অন্য আইনে বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা না হইলে উক্তরূপ বিধান কার্যকর হইবে না।
(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো কর অব্যাহতি বাতিল করিতে পারিবে।
(৪) এই আইনের অধীন কোনো কর অব্যাহতি ভূতাপেক্ষভাবে প্রদান করা যাইবে না।
(৫) ধারা ১৬৬ এবং ধারা ১৭১ এর বিধানাবলি পরিপালনপূর্বক রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতায় কোনো ব্যক্তির আয় কোনো করবর্ষে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) কোনো ব্যক্তি কোনো একটি উৎসের আয়ের বিপরীতে আইন দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইলে উক্তরূপ উৎসের আয়ের বিপরীতে পুনরায়, অন্য কোনোভাবে বা অন্য কোনো মেয়াদে, কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না এবং উক্তরূপ কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকারের একীভূতকরণ, ডিমার্জার ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হইলেও উক্তরূপ কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে এই আইনের মাধ্যমে কোনো কর অব্যাহতির বিদ্যমান মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৭) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো উৎসের আয় বা ব্যক্তির আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদিত কোনো ব্যয়ের উপর ধারা ৫৬ এর বিধান অনুযায়ী কর প্রদেয় হইবে।]
৭৭। (১) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ১ এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অর্জিত আয় উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির মোট আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা উক্ত আয়বর্ষের তহবিলের উৎস পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) রিটার্নের মোট আয় হইতে বাদ সংশ্লিষ্ট কলামে আয়ের হিসাব যথাযথভাবে দেখাইতে হইবে; এবং
(খ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করিতে হইবে।
(২) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের অর্থ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির করদায় পরিগণনার সময় মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইবে, যথা:-
(ক) উক্ত অনুদান রিটার্ন বা বিবরণ বা রিটার্নের সহিত সংযুক্ত দলিলাদিতে প্রতিফলিত হইয়াছে;
(খ) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন প্রদত্ত অনুদানের মোট পরিমাণ উক্ত ব্যক্তির অনুদান পূর্ববর্তী প্রদর্শিত মোট আয়ের ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক নহে;
(গ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করা হইয়াছে।
৭৮। এই আইনের বিধান সাপেক্ষে এবং ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ এ নির্ধারিত সীমা, শর্তাবলি এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে কোনো বিনিয়োগ করা হইলে, কোনো করবর্ষে মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হইতে নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ও অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নিম্নবর্ণিতভাবে কর রেয়াত প্রাপ্য হইবেন-
(ক) ০.০৩ × ‘ক’; বা
(খ) ০.১৫ × ‘খ’; বা
(গ) ১০ (দশ) লক্ষ টাকা,
এই তিনটির মধ্যে যাহা কম,
এইক্ষেত্রে-
‘ক’ = কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এইরূপ আয় 114[, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়] প্রযোজ্য এইরূপ আয় বাদ দিয়া পরিগণিত মোট আয়, এবং
‘খ’ = কোনো আয়বর্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ অনুসারে করদাতার মোট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ।
৭৯। কোনো সমবায় সমিতি কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম হইতে অর্জিত আয় প্রদেয় কর হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে, যথা:-
(ক) ফসল উৎপাদন;
(খ) কুটির শিল্প পরিচালনা;
(গ) ইহার সদস্যগণ কর্তৃক কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণ।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কুটির শিল্প" অর্থ একটি উদ্যোগ, যাহা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধনপ্রাপ্ত নহে, যেখানে-
(ক) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন বিনিয়োগকারী, পূর্ণসময়কালীন কর্মী এবং প্রকৃত উদ্যোক্তা;
(খ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট, যন্ত্রপাতি ও উপকরণে বিনিয়োগকৃত মূলধন আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করে না;
(গ) মালিক ও তাহার পরিবারের সদস্যসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ (পনেরো) জনের অধিক নহে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
গড়করণ
৮০। (১) ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্য বা ফার্মের কোনো অংশীদারের মোট আয়ে ব্যক্তিসংঘ বা, ক্ষেত্রমত, ফার্ম হইতে উদ্ভূত করারোপিত শেয়ার আয় অন্তর্ভুক্ত হইলে উক্ত শেয়ার আয়ের উপর গড় হারে হিসাবকৃত কর পরিশোধযোগ্য হইবে না।
(২) নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুসারে গড় হারে কর হিসাব করিতে হইবে, যথা:-
ট= ক × (খ/গ), যেইক্ষেত্রে-
ট= গড় হারে কর,
ক= 115[ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের শেয়ার আয়সহ মোট আয়ের উপর কর রেয়াত পূর্ব হিসাবকৃত কর],
খ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়,
গ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়সহ মোট আয়।
তৃতীয় অধ্যায়
কর অবকাশ
৮১। (১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা কর্তৃক অর্জিত ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতের অন্তর্ভুক্ত আয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত সীমা, শর্ত এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৪ এবং এই অধ্যায়ের অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে করছাড় সুবিধাপ্রাপ্ত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আয়কর ছাড়ের সুবিধা প্রাপ্ত হইলে তাহা করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা রিটার্নের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(৩) কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে করছাড় সুবিধা প্রদান করা যাইবে, যথা:-
(ক) উক্ত সত্তা এইরূপ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীনে এবং ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত, যিনি-
(অ) আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা যাহার প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে অবস্থিত;
(আ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত অফিস রহিয়াছে এইরূপ কোম্পানি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হইবার তারিখে ক্রয়কৃত বা পরিশোধিত মূলধন ২০ (বিশ) লক্ষ টাকার নিম্নে নহে;
(খ) উক্ত সত্তা ইতোমধ্যে অস্তিত্ব রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যবসা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া বা পুনর্গঠন বা পুনঃসংযোজনের মাধ্যমে গঠিত হয় নাই;
(গ) কোনো কারখানা, যন্ত্রপাতি, উপকরণ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি যদি বাংলাদেশের অন্য কোনো সত্তা কর্তৃক ইতঃপূর্বে ব্যবহৃত না হইয়া থাকে;
(ঘ) উক্ত সত্তা-
(অ) টিআইএন গ্রহণ করিয়াছে;
(আ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ করিয়াছে;
(ই) স্বতন্ত্রভাবে এবং পৃথকভাবে হিসাব রক্ষণ করিয়াছে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা” অর্থ কোনো আয়বর্ষের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো সত্তা যাহার ব্যবসা হইতে আয় রহিয়াছে এবং যাহা-
(ক) এই অধ্যায়ের অধীন আংশিক বা সম্পূর্ণ করছাড়ের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে;
(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত করছাড় বা করহ্রাসের জন্য অনুমোদিত হইয়াছে।
৮২। (১) কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য কোনো ব্যবসায়িক সত্তাকে ইহার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হইবার 116[অনধিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে], বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন দাখিল করিতে হইবে।
(২) আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, বোর্ড, লিখিত আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
(৩) বোর্ড উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে, কর অবকাশ প্রাপ্তির আবেদনটি অস্থায়ীভাবে মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং, উক্ত বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত ব্যবসায়িক সত্তাকে কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(৪) আবেদনকারীকে যুক্তিসঙ্গতভাবে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া বোর্ড কোনো আবেদন বাতিল করিবে না।
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে কোনো আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হইলে, সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির ৪ (চার) মাসের মধ্যে উক্ত আবেদনকারী বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং বোর্ড পূর্ববর্তী আদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবে এবং তৎবিবেচনায় উপযুক্ত আদেশ জারি করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (১) এর বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার কর পরিপালন নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপে এই ধারার অধীন অনুমোদন মঞ্জুর ও পুনর্বিবেচনা বা যেকোনো বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৮৩। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা ইহার অন্য কোনো সহযোগী সত্তার সহিত লেনদেনে জড়িত থাকে এবং যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে,-
(ক) লেনদেন উন্মুক্ত বাজার মূল্যে হয় নাই; এবং
(খ) এই ধরনের লেনদেনের ফলে কোনো আয়বর্ষে কোনো সহযোগী সত্তার আয় প্রকৃত আয় আপেক্ষা কম হইয়াছে,
সেইক্ষেত্রে সহযোগী সত্তাটির জন্য যে পরিমাণে আয় কম পরিগণনা করা হইয়াছে তাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাটির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং তাহা উক্ত আয়বর্ষের জন্য "অন্যান্য উৎস হইতে আয়" খাতে শ্রেণিভুক্ত হইবে।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) কোনো সত্তা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার সহযোগী সত্তা হিসাবে বিবেচিত হইবে, যদি-
(অ) কোনো সত্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক কিংবা একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে, অন্য কোনো সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে; অথবা
(আ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি ও বংশধরসহ, উভয় সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক বা একাধিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে; অথবা
(ই) কোনো সত্তা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, অন্য কোনো সত্তার ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা
(ঈ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি বা বংশধরসহ, উভয় সত্তায় ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা
(উ) দুইটি সত্তা একই গ্রুপের সদস্য হয়।
(খ) "উন্মুক্ত বাজার মূল্য" অর্থ মুক্ত বাজারে সম্পর্কহীন (দুইটি পক্ষের মধ্যে সম্মত মূল্য;
(গ) "সত্তা" শব্দ অর্থে কোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৮৪। (১) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় অন্য কোনো ব্যবসা হইতে পৃথকভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।
(২) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয়ের ন্যায় একইভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।
(৩) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ উল্লিখিত কেবল সাধারণ অবচয় ভাতা প্রযোজ্য হইবে।
(৪) কোনো আয়বর্ষের জন্য অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার পরিগণিত ক্ষতি করদাতার অন্য কোনো সত্তা বা খাত, যাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত নহে, উহার লাভের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।
(৫) ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদনের ফলে উক্ত সত্তার উদ্ভূত আয়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্তরূপ আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপ করা হইবে।
৮৫। (১) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন গৃহীত কোনো কার্যধারা হইতে দেখা যায় যে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা এই অধ্যায়ে বর্ণিত কোনো শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে অবকাশ সুবিধা প্রদান করিতে পারিবেন না এবং উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সত্তার জন্য নিয়মিত পদ্ধতিতে ও হারে প্রদেয় কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(২) অনুমোদিত কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত সত্তা উক্তরূপ সুবিধা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ অনুমোদনের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন দাখিল করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আবেদন প্রাপ্ত হইলে বোর্ড তৎবিবেচনায় উপযুক্ত কোনো আদেশ জারি করিতে পারিবে।
(৩) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড জনস্বার্থে, এই ধারার অধীন অনুমোদিত কোনো ছাড় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবে।
প্রথম অধ্যায়
নিবাসী হইতে কর কর্তন
৮৬। (১) কোনো প্রাপককে "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো চাকরির অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধের সময়, উক্ত খাতের অধীন প্রাপকের 117[প্রাক্কলিত] মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।
118[***]
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা আয়নকারী ও ব্যয়নকারী কর্মকর্তা (ডিডিও) হিসাবে কার্য সম্পাদন করিয়াছেন বা সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে "চাকরি হইতে আয়" উত্তোলন করিবার জন্য নিজের বা অন্য কোনো সরকারি অধীনস্তের জন্য বিল প্রস্তুত বা স্বাক্ষর করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিল তৈরি বা স্বাক্ষরের সময়, উক্ত আয়বর্ষের জন্য প্রদেয় বার্ষিক বেতন যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহা হইলে উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট আয়ের জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন কোনো কর্তনের সময়, 119[চলতি আয়বর্ষের] কোনো উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সহিত সমন্বয়ের জন্য উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সমপরিমাণ অর্থ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন প্রদেয় অগ্রিম করসহ, এই ধারার অধীন ইতোমধ্যে উৎসে কর প্রদান করা হইয়াছে এবং কোনো কর্মচারীর সম্ভাব্য মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর উক্তরূপে প্রদেয় করের পরিমাণের কাছাকাছি বলিয়া বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত কর্মচারী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন এবং প্রদত্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অবশিষ্ট আয়বর্ষের জন্য এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র জারি করিতে পারিবেন যে, উক্ত কর্মচারীর নিকট হইতে কোনো কর কর্তন করা হইবে না বা কম হারে কর কর্তন করা হইবে।
৮৭। সংসদ সদস্যের সম্মানী হিসাবে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, প্রদেয় সম্মানীর উপর, প্রযোজ্য পরিমাণে আয়কর প্রাপকের উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট সম্মানীর জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর্তন করিবেন।
120[৮৮। বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৩৪ অনুযায়ী অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউণ্ডেশন তহবিল হইতে ইহার কোনো সুবিধাভোগীকে অর্থ প্রদানকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ পরিশোধ বা ক্রেডিটকালে ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]
৮৯। যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে নিম্নবর্ণিত কারণে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়-
(ক) অংশ ৭ এর অন্য কোনো ধারায় উল্লিখিত পরিষেবা প্রদান বা সরবরাহের জন্য চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তি সম্পাদন;
(খ) পণ্য সরবরাহ;
(গ) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা রূপান্তর;
(ঘ) মুদ্রণ, প্যাকেজিং বা বাঁধাই,
সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটকালে ভিত্তিমূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ১০% (দশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।
৯০। কোনো সেবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।
৯১। রয়্যালটি, ফ্র্যাঞ্চাইজ বা লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, কপিরাইট, শিল্প নকশা, উদ্ভিদের জাত, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বা মেধাসত্ত্ব সংক্রান্ত অন্য কোনো সম্পত্তি অথবা অভৌত বা অমূর্ত বা নিরাকার বিষয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটের সময় 121[ভিত্তিমূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]
122[***]
৯২। নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক বিজ্ঞাপন, প্রচার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বেসরকারি রেডিও স্টেশন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে (মিডিয়া বায়িং এজেন্ট ব্যতীত) অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
৯৩। (১) কোনো চলচ্চিত্র, নাটক বা টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রাম ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইহার আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধিত বা পরিশোধযোগ্য অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন বা কোনো টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রামে অভিনয় করিবার জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
৯৪। (১) কোনো পরিবেশককে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে পণ্য বা সেবা সরবরাহ বা বিপণনের জন্য কমিশন, বাট্টা, ফি, প্রণোদনা বা কর্মদক্ষতা ভাতা বা কর্মদক্ষতা সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রণোদনা বা এইরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ বা একই প্রকৃতির সুবিধার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি বা ফার্ম অর্থ পরিশোধকালে বা অনুমোদিত কোনো অঙ্কের অর্থ প্রদানকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পরিশোধযোগ্য পরিমাণ বা প্রদেয় অনুমোদিত অঙ্কের অর্থ বা অনুমোদিত সুবিধার আর্থিক মূল্য, ক্ষেত্রমত, এর উপর শতকরা ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।
(২) কোনো কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কোনো অর্থ পরিশোধকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের জন্য প্রাপ্ত অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
(৩) তেল বিপণন কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানি বা ফার্ম, যাহা –
(ক) কোনো পরিবেশক; বা
(খ) চুক্তির অধীন অন্য কোনো ব্যক্তি,
-এর নিকট উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম 123[বা অন্য কোনো ব্যক্তি] কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্য হইতে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করে, উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে খ × গ এর সমপরিমাণ মূল্যের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে, যেইক্ষেত্রে-
খ = পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট কোম্পানি বা ফার্মের বিক্রয় মূল্য;
গ = ৫% (পাঁচ শতাংশ):
তবে শর্ত থাকে যে, সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিক্রয়কালে উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পণ্যের বিক্রয় মূল্য এবং উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের
৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে।
৯৫। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন বা ছাড় বা অন্য কোনো সুবিধার মাধ্যমে, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, কোনো নিবাসীকে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধকালে যাত্রী টিকিট 124[বিক্রয়ের] মাধ্যমে রূপান্তরযোগ্য মোট অর্থের উপর ০.৩% (শূন্য দশমিক তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন বা অগ্রিম কর সংগ্রহ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত টিকেট বিক্রয়ের মাধ্যমে 125[প্রাপ্ত] ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধিত হইলে উক্তরূপ অর্থ পরিশোধকালে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক/খ x গ এর সমপরিমাণ অর্থ কর্তন করিবেন, যেখানে-
"ক"= এই উপ-ধারাতে উল্লিখিত ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা,
"খ"= কমিশন বা ডিসকাউন্ট বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার পরিমাণ, এবং
"গ"= কমিশন বা ছাড় বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার উপর উৎস করের পরিমাণ।
(৩) টিকিট বা চার্জের মূল্য গণনাকালে কোনো প্রারম্ভিক ফি, ভ্রমণ কর, ফ্লাইট সুরক্ষা বিমা, নিরাপত্তা কর এবং বিমানবন্দর কর বাবদ পরিশোধিত অর্থ মূল্য বা চার্জ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
৯৬। নিজ বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য পণ্য আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ঋণপত্রের কমিশন সংগ্রহকালে, কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে ৫% (পাঁচ শতাংশ) কর কর্তন করিবেন।
৯৭। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো স্থানীয় ঋণপত্র বা উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থা নহে এইরূপ অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির অধীন ব্যবসা বা প্রক্রিয়া বা রূপান্তরের পরে পুনঃবিক্রি করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ক বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি খ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট হইতে বাংলাদেশে কোনো পণ্য ক্রয়ের জন্য কোনো ঋণ সুবিধা প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ক কর্তৃক ক্রয়ের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো পরিবেশককে এইরূপ কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থার অধীন কোনো ঋণসুবিধা প্রদান করিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি
গ বলিয়া উল্লিখিত, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে তাহার কোনো পরিবেশক, অতঃপর ব্যক্তি
ঘ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট পণ্য বিক্রি বা ইনভয়েসের বিপরীতে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি গ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ঘ এর অনুকূলে ইনভয়েসকৃত পণ্যের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর 127[১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবে।
128[(৩) সকল প্রকার ফল এবং কম্পিউটার বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ২% (দুই শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।]
129[(৪) তুলা এবং সুতা ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।]
130[(৫) ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, মাছ, মাংস, পিঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভূট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাচা চা-পাতা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং পাট ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।
(৬) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে বোর্ড, সেইরূপ কোনো প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ, যাহা এই ধারার অধীন কর কর্তনযোগ্য, কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তন করিয়া পরিশোধ করা যাইবে।]
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ‘পরিবেশক’ বলিতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত পণ্য সর্বশেষ ক্রেতার নিকট প্রত্যক্ষভাবে বা অন্য কোনো মধ্য স্বত্বভোগীর মাধ্যমে সরবরাহের কার্যক্রম পরিপালন করেন।
৯৮। কোনো সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর 132[, টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি ইত্যাদি] কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কোনো আয় বন্টন বা কোনো লাইসেন্স ফি বা অন্য কোনো ফি বা চার্জ, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, বাবদ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জমা বা অর্থ পরিশোধকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত পরিমাণ অর্থের 133[২০% (বিশ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন।
৯৯। কোনো নিবাসীকে কোনো জীবন বিমা কোম্পানির সহিত কৃত কোনো জীবন বিমা পলিসির জন্য প্রদত্ত প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, পলিসি গ্রাহককে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ প্রদানকালে ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, পলিসি গ্রহীতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।
১০০। কমিশন বা অন্য কোনো উপায়ে সম্মানি বা পুরষ্কারের মাধ্যমে বিমা গ্রহণের জন্য আহ্বান বা বিমা সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিমা পলিসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নবায়ন বা পুনরুজ্জীবনের সহিত সম্পর্কিত ব্যবসার জন্য কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অঙ্ক গ্রহীতার হিসাবে জমা প্রদানকালে বা উক্ত অঙ্কের অর্থ নগদ বা চেক বা ড্রাফট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে প্রদানকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত অঙ্কের উপর পাঁচ শতাংশ (৫%) হারে কর কর্তন করিবেন।
১০১। কোনো বিমাকারীর বিমা দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কোনো জরিপ পরিচালনার জন্য কোনো নিবাসীকে পারিশ্রমিক বা ফি দ্বারা অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অর্থ পরিশোধকালে, মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে আয়কর কর্তন করিবেন।
১০২। 134[(১) এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের কোনো আইনের অধীন কোনো প্রকার ব্যাংকিং, ইনস্যুরেন্স, লিজিং, ফাইন্যান্সিং, ডাক ও ব্যাংকিং, সমবায় বা মোবাইল ফাইন্যন্সিয়াল সার্ভিসেস কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো ব্যক্তি, অথবা কোনো প্রকারের আমানত (deposit) এর বিপরীতে সুদ বা মুনাফা পরিশোধকারী কোনো ব্যক্তি, অন্য কোনো নিবাসী ব্যক্তিকে কোনো প্রকারের সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করিলে, সুদ বা মুনাফা পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুদ বা মুনাফা কোনো ব্যক্তির হিসাবে ক্রেডিটের সময় অথবা সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময়, যাহা পূর্বে ঘটে, নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে উৎসে কর কর্তন করিয়া সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিবেন, যথা:—
135[সারণী
|
ক্রমিক নং |
প্রাপকের ধরন
|
কর কর্তনের হার
|
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানির ক্ষেত্রে |
২০% (বিশ শতাংশ) |
|
২। |
অন্যান্য ক্ষেত্রে |
১০% (দশ শতাংশ) |
136[(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড যাচাই সাপেক্ষে, ক্ষেত্রমত, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ যাহা হইতে এই ধারার অধীন কর কর্তন করিতে হইবে উহা কোনো কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তনযোগ্য।]
137[***]
১০৪। 138[(১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো ঋণ বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে উক্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]
(২) বোর্ড করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই সাপেক্ষে, এই মর্মে লিখিত সার্টিফিকেট প্রদান করিতে পারিবে যে, এই 139[ধারার] অধীন করদাতার প্রাপ্য অর্থের উপর কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে।
১০৫। (১) এই আইনের অন্য কোনো বিধান বা অন্য কোনো আইনে অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল বা গ্র্যাচ্যুইটি তহবিল বা স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল বা শ্রমিক স্বার্থ অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের উপর প্রাপ্ত মুনাফা কর অব্যাহতির বিষয়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
(২) কোনো আয়বর্ষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে, উক্তরূপ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত মুনাফা হইতে এই ধারার অধীন কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।
(৩) বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারীর উন্নয়ন বন্ড, মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো বিনিয়োগ বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ড হইতে উদ্ভূত সুদ বা লভ্যাংশ হইতে কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।
১০৬। সরকারি সিকিউরিটিজ অথবা সরকার বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজ ইস্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ডিসকাউন্ট, সুদ বা মুনাফা পরিশোধ বা ক্রেডিটকালে, যাহা আগে ঘটে, 140[নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে উৎসে কর কর্তন করিয়া সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিবেন, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
প্রাপকের ধরন |
কর কর্তনের হার |
|
(১)
|
(২) |
(৩) |
|
১। |
কোম্পানি করদাতার ক্ষেত্রে |
১৫% (পনেরো শতাংশ) |
|
২। |
কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে |
১০% (দশ শতাংশ) |
]।
১০৭। বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড় বা কর্তনের জন্য কোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, উহার উপর প্রযোজ্য পরিমাণের সর্বোচ্চ হারে কর কর্তন করিবেন।
১০৮। (১) আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে সেবা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা প্রদানকারীর হিসাবে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে জমাকৃত মোট অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।
(২) আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা অপারেটর, যাহার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কিত কোনো অর্থ প্রদান করা হয় অথবা ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস (এএনএস), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) এর সহিত চুক্তির অধীন কোনো হিসাবে অর্থ জমা প্রদান করা হয়, উক্ত চুক্তির আওতায় পরিশোধ বা জমাকৃত মোট অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে বহির্গামী আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) পরিষেবাদি বা অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক পরিষেবাদি (এএনএস) প্রদানের বিনিময়ে কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান বা জমা দেওয়া হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (১), (২) বা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে বোর্ড কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, লিখিতভাবে কোনো সনদ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আয়কর হইতে মুক্ত হইবে বা এই ধারায় উল্লিখিত হারের নিম্ন হারে কর প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হইবে এবং এই ধরনের অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে অর্থ পরিশোধ করিবেন-
(ক) কর কর্তন ব্যতীত; অথবা
(খ) সনদে উল্লিখিত হারে কর কর্তন সাপেক্ষে।
১০৯। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি-
(ক) কোনো গৃহ সম্পত্তি;
(খ) হোটেল বা গেস্ট হাউজ;
(গ) খালি স্থান বা প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি; বা
(ঘ) সরকারি জলাধার ব্যতীত অন্য কোনো জলাধার,
ভাড়া করেন সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির ভাড়া পরিশোধকালে প্রদেয় ভাড়ার উপর 141[১০% (দশ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৎসরের কর নির্ধারণের পর দেখা যায় যে, 142[***] সম্পত্তির মালিক কর্তৃক কোনো কর প্রদেয় নাই বা প্রদত্ত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষা অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত হারে কর্তিত অর্থ ফেরত প্রদান করা হইবে,-
(ক) কোনো কর প্রদেয় না হইলে, সম্পূর্ণ অংশ; বা
(খ) কর্তিত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষে অধিক হইলে, যতটুকু অধিক সেইটুকু।
143[(৩) যেইক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার এতদুদ্দেশ্যে কৃত আবেদনের ভিত্তিতে, নির্ধারিত ফরমে সরল বিশ্বাসে এই মর্মে সনদ প্রদান করেন যে, উক্ত বৎসরে সম্পত্তির মালিকের কোনো করযোগ্য আয় নাই বা এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে উহা আয়কর মুক্ত, সেইক্ষেত্রে প্রদত্ত সনদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত সম্পত্তির ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয়ের উপর কর কর্তনযোগ্য হইবে না।]
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "ভাড়া" অর্থ কোনো পরিশোধ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহা কোনো লিজ, ভোগ স্বত্ত (tenancy) বা কোনো চুক্তি বা সমঝোতার মাধ্যমে কোনো আসবাবপত্র, জিনিসপত্র এবং ভূমিসহ কোনো ভবন ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়।
১১০। যেইক্ষেত্রে কোনো কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, কক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, হল, হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার বা কোনো রেস্টুরেন্ট ভাড়া বা স্থান ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত সেবার জন্য পরিশোধিত সম্পূর্ণ পরিমাণের উপর 144[১০% (দশ শতাংশ)] হারে কর উক্ত পরিশোধের সময় কর্তন করিবেন।
১১১। কোনো স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য উহার মালিককে কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় নিম্নবর্ণিত হারে কর কর্তন করিবেন,-
(ক) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৬% (ছয় শতাংশ);
(খ) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাহিরে অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৩% (তিন শতাংশ)।
১১২। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য রপ্তানিকারককে নগদ রপ্তানি ভর্তুকির কারণে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, অর্থ প্রদান বা জমার সময়, প্রদেয় মোট অর্থের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।
145[****]
১১৪। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তি 146[অথবা ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হইতে বিদ্যুৎ ক্রয় করেন এইরূপ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি], বিদ্যুৎ ক্রয়ের অর্থ পরিশোধকালে প্রদেয় অর্থের 147[৪% (চার শতাংশ)] হারে কর সংগ্রহ, কর্তন বা পরিশোধ করিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন হইতে কোনো আয়বর্ষের আয় এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, বোর্ড, উক্ত আয়বর্ষের আয় কোনোরূপ সংগ্রহ বা কর্তন ব্যতীত অথবা আনুপাতিকভাবে হ্রাসকৃত হারে সংগ্রহ বা কর্তন প্রযোজ্য হইবে মর্মে প্রত্যয়ন করিতে পারিবে।
১১৫। যেইক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়ন (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ব্যবসার সহিত জড়িত কোনো ব্যক্তি সাইনিং মানি, পণমূল্য (subsistence money), বাড়ির ভাড়া বা অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমি উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা কোনো চুক্তি বা কোনো লিখিত চুক্তি দ্বারা প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ভূমি মালিককে কোনো অর্থ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে অর্থ প্রদানকালে মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করা হইবে।
১১৬। যেইক্ষেত্রে, ঋণপত্রের শর্তাবলি বা কোনো নির্দেশের অধীন কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রপ্তানিকারক পণ্য রপ্তানির জন্য অর্থ প্রদান করে, কোনো এজেন্ট এর হিসাবে পণ্য রপ্তানি হইতে কোনো পরিমাণ অর্থ কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক হিসাবে প্রদান করে, বৈদেশিক ক্রেতা হিসাবে প্রতিনিধিত্বকারী বা উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক প্রদানের সময় ব্যাংক 148[৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।
১১৭। বাংলাদেশ নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির মুখ্য কর্মকর্তা (প্রধান নির্বাহী), কোনো শেয়ারহোল্ডারকে 149[বা ইউনিট হোল্ডারকে] কোনো লভ্যাংশ প্রদানকালে, কোনো নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশির ক্ষেত্রে, উক্ত লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন করিবেন,-
(ক) শেয়ারহোল্ডার 150[বা ইউনিট হোল্ডার] যদি কোনো কোম্পানি হয়, তাহা হইলে কোম্পানির উপর প্রযোজ্য হারে;
(খ) শেয়ারহোল্ডার 151[বা ইউনিট হোল্ডার] যদি কোম্পানি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি হয়, উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) হইলে ১০% (দশ শতাংশ) হারে বা উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) না হইলে ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান কোনো কোম্পানির কর লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবেনা, যদি উক্ত কর লভ্যাংশ ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা ৩২ এর অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইয়া থাকে।
১১৮। লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, ২০% (বিশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।
ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “যেকোনো পরিমাণ" অভিব্যক্তিটির অর্থ কোনো পণ্য বা সম্পত্তির মূল্য যেখানে উক্ত বিজয়ীর হিসাবে নগদে অর্থ বা সম্পদ দ্বারা প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়
অনিবাসীর নিকট হইতে কর কর্তন
১১৯। (১) এই অধ্যায়ের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কোনো অনিবাসীকে এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধ করেন যাহা এই আইনের অধীন উক্ত অনিবাসীর জন্য করযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত অর্থ প্রদানকারী, যদি না তিনি নিজেই এজেন্ট হিসাবে কর পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, প্রদেয় অর্থের উপর নির্ধারিত, অনধিক ৩০% (ত্রিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে বোর্ড, এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোনো অনিবাসীকে কর সংক্রান্ত চুক্তি বা অন্য কোনো কারণে বাংলাদেশে কোনো কর প্রদান করিতে হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদান করিতে হইবে, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিশোধ কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তনপূর্বক করা যাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন কর্তনকৃত কর, যে আয়ের উপর উক্ত কর কর্তন করা হইয়াছে, উক্ত আয়ের উপর প্রাপকের ন্যূনতম করদায় বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোনো দাবির বিপরীতে উহা সমন্বয় করা যাইবে না।
(৪) কোনো কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তর হইতে কোনো অনিবাসী করদাতার পক্ষে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর কার্যকরের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, উক্ত মূলধনি আয়ের উপর প্রদেয় কর পরিশোধিত না হইলে, উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবেন না।
(৫) এই ধারার অধীন সংগৃহীত কোনো কর নিবাসী কোনো ব্যক্তির নামে জমা হইলে এই ধারার অধীন কর সংগৃহীত হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।
152[***]
তৃতীয় অধ্যায়
উৎসে কর সংগ্রহ
১২০। কমিশনার, কাস্টমস বা এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা পণ্যের আমদানি মূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ) হারে, উৎসে কর সংগ্রহ করিবেন।
১২১। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক-
(ক) জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সিসমূহকে জনশক্তি রপ্তানিতে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না যদি না এজেন্সিসমূহ জনশক্তি রপ্তানি বাবদ গৃহীত সার্ভিস চার্জ বা ফি’র ১০% (দশ শতাংশ) কর জমার চালানের কপি আবেদনের সহিত জমা প্রদান করে;
(খ) বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৮ নং আইন) এর ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করিবেন না যদি না জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সি এই মর্মে দাখিলকৃত আবেদনের সহিত ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার করের চালান জমা প্রদান করে।
১২২। Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর অধীন অনুমোদিত কোনো ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট কর্তৃক কোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানিকালে ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট এর প্রাপ্য কমিশনের উপর, কমিশনার, কাস্টমস ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।
১২৩। (১) কোনো ব্যাংক, যেকোনো পণ্য রপ্তানিকারক কর্তৃক রপ্তানির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রপ্তানিকারকের হিসাবে জমা প্রদানকালে মোট রপ্তানি আয়ের ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তনপূর্বক তাহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।
(২) যেইক্ষেত্রে, বোর্ড, আবেদনের ভিত্তিতে এই মর্মে লিখিতভাবে সনদ প্রদান করিয়া থাকে যে, রপ্তানিকারকের আয় এই আইনের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃতহারে করযোগ্য, তাহা হইলে ব্যাংক সনদে উল্লিখিত সময়ের জন্য করদাতার হিসাবে কোনো কর্তন ব্যতিরেকে বা সনদে উল্লিখিত হ্রাসকৃতহারে কর কর্তনপূর্বক উহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।
১২৪। ফি, সেবা চার্জ বা পারিশ্রমিক 153[বা প্রাপ্তি], তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা যেকোনো নামে বা প্রকৃতির রেভিনিউ শেয়ারিং এর মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কাজের বিনিময়ে বিদেশ হইতে প্রেরিত অর্থ কোনো ব্যক্তির হিসাবে পরিশোধ বা জমা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রাপকের হিসাবে অর্থ পরিশোধ বা জমা প্রদানকালে উক্ত পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর 154[৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন, যথা:-
(ক) বাংলাদেশে প্রদত্ত কোনো সেবার জন্য;
(খ) কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিদেশি ব্যক্তিকে পরিষেবা প্রদান 155[, কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদান] বা কোনো কাজের জন্য;
(গ) বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য:
তবে শর্ত থাকে যে,-
156[(১) ফ্রেইট ফরওয়ার্ড এজেন্ট কর্তৃক গৃহীত গ্রস বিল বা কমিশনসহ গ্রস বিল বিলের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিতে হইবে;]
157[(২) বিদেশ হইতে প্রেরিত নিম্নবর্ণিত অর্থের বিপরীতে কোনো কর্তন করা যাইবে না, যথা:-
(অ) ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (১২), (১৭), (২১) ও (৩৩) দ্বারা মোট আয় বহির্ভূত অর্থ;
(আ) কোনো শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত কোনো দান বা অনুদান হয়।]
১২৫। 158[(১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর section 17 এর sub-section (1) এর clauses (b), (c) বা (e) এর অধীন দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা কোনো দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধন করিবেন না, যদি না সম্পত্তি হস্তান্তরকারী নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করেন।]
(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করের হার-
(ক) জমির ক্ষেত্রে 159[শতাংশ প্রতি ১২ (বারো)] লক্ষ টাকা;
(খ) কোনো স্থাপনা, ভবন, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লোর স্পেস এর ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ১ (এক) হাজার টাকা; অথবা
(গ) দলিলে উল্লিখিত মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ),
যাহা অধিক হয়, তাহা অতিক্রম করিবে না।
(৩) এই ধারার কোনো কিছুই নিম্নরূপ কোনো দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-
(ক) বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রয়;
(খ) ঋণের বিপরীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রদত্ত বন্ধকী সম্পদ;
(গ) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সুকুক ইস্যুর নিমিত্ত গঠিত কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল হইতে অথবা কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল বরাবর কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর।
160[১২৬। (১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর অধীন কোনো ভূমি, স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস হস্তান্তরের নিমিত্ত কোনো দলিল নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ কোনো দলিল নিবন্ধন করিবেন না, যদি না ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কর্তৃক নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করা হয়।
(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করহার নিম্নবর্ণিত হারের অধিক হইবে না, যথা:—
ক) আবাসিক উদ্দেশ্যে নির্মিত বা ব্যবহৃত স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি ১৬০০ (এক হাজার ছয়শত) টাকা;
খ) স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস আবাসিক উদ্দেশ্যে নির্মিত বা ব্যবহৃত না হইলে বর্গমিটার প্রতি ৬৫০০ (ছয় হাজার পাঁচশত) টাকা;
গ) স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের সহিত সংশ্লিষ্ট ভূমির ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের ৫% (পাঁচ শতাংশ)।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার” বলিতে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪৮ নং আইন) এ বর্ণিত ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে বুঝাইবে এবং যদি কোনো ব্যক্তি ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের অনুরূপ কার্যাবলি সম্পাদনপূর্বক তাহার নিজের বা অন্যের ভূমি উন্নয়ন করেন অথবা তাহার নিজের বা অন্যের ভূমিতে স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস নির্মাণ করেন; অথবা ভূমির মালিক বা স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের মালিক ডেভেলপার বা কো-ডেভেলপারের ন্যায় আচরণ করেন, তাহা হইলে তিনিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন।]
১২৭। সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বা অনুরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো কিছু বিক্রয়ের বিপরীতে কোনো কমিশন, বাট্টা বা ফি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, পরিশোধকালে পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ পরিশোধিত অর্থ হইতে ১০% (দশ শতাংশ) হারে উৎসে কর কর্তন করিবেন।
১২৮। Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর অধীন নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের মেয়াদের কোনো স্থাবর সম্পত্তির ইজারা সম্পর্কিত কোনো দলিল নিবন্ধন করিবেন না, যদি না উক্তরূপ সম্পত্তির ইজারা মূল্যের উপর ৪% (চার শতাংশ) হারে 161[162[ইজারাদাতা] কর্তৃক] কর পরিশোধ করা হয় 163[:]
164[তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে বোর্ড, সেইরূপ কোনো প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ, যাহা এই ধারার অধীন কর কর্তনযোগ্য, কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তন করিয়া পরিশোধ করা যাইবে।]
১২৯। কোনো সিগারেট 166[উৎপাদনকারীর] কাছে ব্যান্ডরোল বিক্রির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, ব্যান্ডরোল বিক্রয়কালে, উক্তরূপ 167[উৎপাদনকারীর] নিকট হইতে ব্যান্ডরোলের মোট মূল্যমানের ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "সিগারেটের উৎপাদন" অর্থ কোনোরূপ যান্ত্রিক সহায়তা ব্যতীত প্রচলিত বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে সিগারেট উৎপাদন।
168[১৩০। (১) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর অধীন ইট প্রস্তুত বা উৎপাদনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি এই ধরনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করিবেন না, যদি না এই ধরনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের আবেদনপত্রের সহিত-
(অ) ইটভাটার আয়তন ও প্রকৃতি বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ইট উৎপাদনের পদ্ধতি ও প্রকৃতি উল্লেখপূর্বক একটি কর পরিশোধের সনদ সংযুক্ত থাকে; এবং
(আ) নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের এ-চালান সংযুক্ত থাকে:
সারণী
|
ক্রমিক নং |
ইটভাটার ধরন |
অগ্রিম করহার (টাকায়) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
১০৮০০০ (এক লক্ষ আট হাজার) ঘনফুট আয়তনের অধিক নহে এইরূপ মৌসুমী ইটভাটার ক্ষেত্রে |
৮০০০০ (আশি হাজার টাকা) |
|
২। |
১০৮০০০ (এক লক্ষ আট হাজার) ঘনফুট আয়তনের অধিক কিন্তু ১২৪০০০ (এক লক্ষ চব্বিশ হাজার) ঘনফুটের অধিক নহে এইরূপ মৌসুমী ইটভাটার ক্ষেত্রে |
১২০০০০ (এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা) |
|
৩। |
১২৪০০০ (এক লক্ষ চব্বিশ হাজার) ঘনফুটের অধিক এইরূপ মৌসুমী ইটভাটার ক্ষেত্রে |
১৬০০০০ (এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা) |
|
৪। |
ক্রমিক নং ১, ২ ও ৩ এ উল্লিখিত হয় নাই এইরূপ ইটভাটার ক্ষেত্রে |
২২০০০০ (দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা) |
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসরে একাধিক বৎসরের জন্য লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করা হইবে, সেইক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নের বৎসরের পরের বৎসর বা বৎসরসমূহের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত হারে অগ্রিম কর চালানের মাধ্যমে জমা করিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসরে ইট প্রস্তুতকারী বা উৎপাদনকারী ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় অগ্রিম করের পরিমাণ ক + খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে—
ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং
খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রদেয় অগ্রিম করের পরিমাণ।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—
(ক) “আয়তন” অর্থ ইটভাটার দেয়ালের ভেতরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার পরিমাপ;
(খ) “ইটভাটা” অর্থ এইরূপ কোনো স্থান বা অবকাঠামো যেখানে ইট প্রস্তুত করা হয়;
(গ) “মৌসুমী ইটভাটা” অর্থ এইরূপ কোনো ইটভাটা যেখানে শুষ্ক মৌসুমে হাতের সাহায্যে ইট প্রস্তুতকরণসহ ইট পোড়ানো হয়।]
১৩১। 169[ট্রেড] লাইসেন্স নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিটি 170[ট্রেড] লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিম্নবর্ণিত হারে কর সংগ্রহ করিবে, যথা:-
(ক) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩ (তিন) হাজার টাকা;
(খ) অন্য কোনো সিটি কর্পোরেশনে ২ (দুই) হাজার টাকা;
(গ) কোনো জেলা সদর দফতরের পৌরসভায় ১ (এক) হাজার টাকা;
(ঘ) কোনো পৌরসভায় ৫০০ (পাঁচশত) টাকা।
১৩২। যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাস্টমস কমিশনার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, কোনো নিবাসী করদাতার মালিকানাধীন বা ভাড়াকৃত যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক বা পণ্য পরিবহনকারী কোনো জাহাজকে পোর্ট ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না, যদি না উক্ত নিবাসী করদাতা সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সনদ গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশ বা বিদেশে প্রেরিতব্য মোট মালামালের 171[ভাড়ামূল্যের] উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর প্রদান করেন:
তবে শর্ত থাকে যে, দুই বা ততোধিক 172[দেশে] প্রদত্ত পরিষেবার বিনিময়ে গৃহীত বা গৃহীতব্য পরিবহণকৃত মালের 173[ভাড়ামূল্যের] উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করা হইবে।
১৩৩। (১) কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট মালিকের কোনো পণ্য বা সম্পত্তি সীলমোহরযুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করিলে উক্ত পণ্য বা সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তর অথবা কোনো অধিকার চর্চার অনুমতি প্রদানের পূর্বে মোট বিক্রয় মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।
(২) প্রকাশ্য নিলামে চা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে উৎসে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।
(৩) প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে প্লট আকারে কোনো জমি বিক্রয় করা হইলে এই ধারার অধীন কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “কোনো পণ্য বা সম্পত্তি বিক্রয়” অর্থে কোনো পণ্য বা সম্পত্তির ইজারা, জলমহাল, বালুমহাল, সায়রাত মহালের ইজারা, যেকোনো প্রকারের অধিকারের ইজারা, অক্ট্রয় ফি (octroi duties) বা অন্যান্য আরোপনীয় কর, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, সংগ্রহের অধিকারসহ কোনো ব্যক্তির নামে কোনো ইজারা প্রদানের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কোনো জমির প্লট বিক্রয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(খ) “নির্দিষ্ট মালিক" অর্থ সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, ইউনিটসহ কোনো কর্পোরেশন বা সংস্থা, যাহার কার্যক্রম বা প্রধান কার্যক্রম কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিল দ্বারা অনুমোদিত বা বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন অনুমোদিত বা প্রতিষ্ঠিত কোনো সত্তা বা কোনো কোম্পানি।
১৩৪। নিবাসী কোনো ব্যক্তি হইতে অপর কোনো ব্যক্তির নিকট তালিকাভুক্ত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ হস্তান্তর নিবন্ধন করিবেন না, যদি না হস্তান্তরকারী নিবাসী ব্যক্তি হস্তান্তরিত শেয়ারের অভিহিত মূল্য এবং ন্যায্য মূল্যের 174[পার্থক্যের] পার্থক্যের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর জমা প্রদানের চালান নিবন্ধনের আবেদনের সহিত সংযুক্ত করেন।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যেপূরণকল্পে,-
(ক) “অভিহিত মূল্য” অর্থ ইস্যুকারী কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে যদি উহা-
(অ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়; এবং
(আ) করদাতার আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়;
(খ) “ন্যায্য মূল্য” অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের পূর্বে কৃত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (valuation report) পেশাদার মূল্যায়নকারী (Professional valuer) দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য;
175[(গ) “পেশাদার মূল্যায়নকারী (professional valuer)” বলিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত কোনো পেশাদার মূল্যায়নকারীকে বুঝাইবে।]
176[১৩৫। (১) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বা তহবিলের সিকিউরিটিজ হস্তান্তরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সিকিউরিটিজ হস্তান্তর করিবেন না, যদি না উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবার পূর্বে হস্তান্তরকারী কর্তৃক নিম্নবর্ণিত নিয়মে কর পরিশোধ করা হইয়া থাকে, যথা:—
ক = (খ - গ) × 177[১৫% (পনের শতাংশ)], যেখানে,
ক = এই ধারার অধীন প্রদেয় করের পরিমাণ;
খ = সিকিউরিটিজের হস্তান্তর মূল্য;
গ = সিকিউরিটিজের অর্জন মূল্য।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—
(ক) “সিকিউরিটিজ” অর্থ কোনো কোম্পানির বা তহবিলের স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক ধারণকৃত উক্ত কোম্পানি বা তহবিলের সিকিউরিটিজ;
(খ) “হস্তান্তর" অর্থ মাতা-পিতা ও সন্তান 178[, আপন ভাই অথবা আপন বোন] এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দান ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার হস্তান্তর;
(গ) “হস্তান্তর মূল্য” অর্থ—
(অ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক হস্তান্তরের সম্মতি বা অনুমোদন প্রদানের দিনে সিকিউরিটিজের সমাপনী মূল্য (closing price); বা
(আ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক সম্মতি প্রদানের দিনে সিকিউরিটিজের কোনো লেনদেন না হইলে সর্বশেষ যে দিন লেনদেন হইয়াছিল উক্ত দিনে সিকিউরিটিজের সমাপনী মূল্য।
১৩৬। 179[(১) স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত কোনো লাভ বা মুনাফার উপর উক্ত শেয়ার হস্তান্তরকালে বা হস্তান্তরের ঘোষণা প্রদানকালে বা উক্তরূপ হস্তান্তরের সম্মতি প্রদানকালে, যাহা আগে ঘটে, ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন 180[লাভ বা মুনাফা] গণনার উদ্দেশ্যে এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫নং আইন) কার্যকর হইবার পূর্বের শেয়ারের অর্জন মূল্যকে উক্ত শেয়ারের অর্জন মূল্য হিসাবে গ্রহণ করা হইবে।
১৩৭। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যের দ্বারা প্রদত্ত সিকিউরিটিজ লেনদেনের মূল্য পরিশোধকালে 181[০.০৩% (শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ)] হারে কর সংগ্রহ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান তালিকাভুক্ত কোনো সুকুক ও বন্ড হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
১৩৮। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, মোটরযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না, যদি না নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের চালান মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা হয়, যথা:-
182[সারণী
|
ক্রমিক নং |
গাড়ির ধরন |
অগ্রিম কর (টাকা) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
৫২ আসনের অধিক আসন বিশিষ্ট বাস |
২৫ (পঁচিশ) হাজার |
|
২।
|
৫২ আসনের অধিক আসন নহে এইরূপ বাস |
২০ (বিশ) হাজার
|
|
৩। |
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস |
৫০ (পঞ্চাশ) হাজার |
|
৪। |
ডাবল ডেকার বাস |
২৫ (পঁচিশ) হাজার |
|
৫। |
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিনিবাস/কোস্টার |
২৫ (পঁচিশ) হাজার |
|
৬। |
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নহে এইরূপ মিনিবাস/কোস্টার |
১২ (বার) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) |
|
৭। |
প্রাইম মুভার |
৩৫ (পঁয়ত্রিশ) হাজার |
|
৮।
|
৫ (পাঁচ) টনের অধিক পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি |
৩০ (ত্রিশ) হাজার
|
|
৯। |
১.৫ (দেড়) টনের অধিক, তবে ৫ (পাঁচ) টনের অধিক নহে এইরূপ পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি |
১৫ (পনেরো) হাজার
|
|
১০।
|
১.৫ (দেড়) টনের অধিক নহে এইরূপ পেলোড ক্যাপাসিটি বিশিষ্ট ট্রাক, লরি বা ট্যাংক লরি |
৭ (সাত) হাজার ৫০০ (পাঁচশত)
|
|
১১।
|
পিকআপ ভ্যান, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা অটো রিক্সা |
৭ (সাত) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) |
|
১২।
|
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সিক্যাব
|
১৫ (পনেরো) হাজার |
|
১৩।
|
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নহে এইরূপ ট্যাক্সিক্যাব |
৭ (সাত) হাজার ৫০০ (পাঁচশত) |
(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধিতব্য কর নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোর ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-
ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং
খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ।
183[(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন অগ্রিম কর সংগ্রহ করা যাইবে না, যদি মোটরযানটি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়, যথা:-
(ক) সরকার;
(খ) সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন কোনো প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;
(গ) কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও ইহার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ;
(ঘ) বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং ইহার সংযুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ;
(ঙ) ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে রিটার্ন দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাগণ; বা
(চ) অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে না মর্মে বোর্ড হইতে সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান।]
১৩৯। (১) Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এর অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত Ordinance এর section 9 এর অধীন কোনো নৌযানকে সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন না বা section 12 এর অধীন সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করিবেন না, যদি না সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম কর জমার চালান সংযুক্ত করা হয়, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
নৌযানের বর্ণনা |
অগ্রিম কর (টাকা ) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত নৌ-যানের ক্ষেত্রে |
দিবাকালীন যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে যাত্রী প্রতি ১২৫ (একশত পঁচিশ) টাকা। |
|
২। |
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত কার্গো, কন্টেইনার (মাল্টিপারপাস) বা কোস্টারের ক্ষেত্রে |
মালামাল পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রস টনেজ প্রতি ১৭০ (একশত সত্তর) টাকা। |
|
৩। |
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত ডাম্পবার্জের ক্ষেত্রে |
মালামাল পরিবহনের ক্ষমতার ভিত্তিতে গ্রস টনেজ প্রতি ১২৫ (একশত পঁচিশ) টাকা। |
(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধতব্য কর সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা কোনো বৎসরের ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-
ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং
খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ।
(৪) এই ধারায় “নৌ-যান (Inland Ship)” এবং “অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ (Inland Water)” বলিতে Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এ সংজ্ঞায়িত যথাক্রমে “Inland Ship” এবং “Inland Water” কে বুঝাইবে।
চতুর্থ অধ্যায়
সাধারণ বিধানাবলি
১৪০। সংজ্ঞা।-এই অংশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,
(১) "অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি" বলিতে-
(অ) "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বয়ং নিয়োগকর্তা বা যেইক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এবং উহাদের প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(আ) "আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, উক্ত আর্থিক পরিসম্পদ ইস্যুকারী কোনো সংস্থা, কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা উক্ত সংস্থা, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা; এবং
(ই) এই আইনের অধীন করযোগ্য আয় হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বা এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, স্বয়ং অর্থ প্রদানকারী অথবা অর্থ প্রদানকারী কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হইলে, উহার প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২) “চুক্তি” অর্থে উপ-চুক্তি, উপ-উপ-চুক্তি, অনুযাত (subsequent) চুক্তি, কোনো সমঝোতা (agreement) বা বন্দোবস্ত (arrangement) যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৩) “নির্দিষ্ট ব্যক্তি” অর্থ-
(ক) কোনো কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট বা তহবিল;
(খ) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ;
(গ) কোনো বিদেশি ঠিকাদার, বিদেশি এন্টারপ্রাইজ বা বাংলাদেশের বাহিরে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;
(ঘ) কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার;
(ঙ) বার্ষিক এক কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট কোনো ই-কমার্স প্লাটফর্ম, যাহা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নহে, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(চ) বার্ষিক ১ (এক) কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট হোটেল, 184[রিসোর্ট, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন সেন্টার,] কমিউনিটি সেন্টার, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি;
(ছ) কৃষক নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি তামাক পাতা, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও অন্যান্য তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহে জড়িত;
(৪) “পরিশোধ” বলিতে স্থানান্তর, ক্রেডিট, পরিশোধের সমন্বয় বা কোনো পরিশোধ করিবার আদেশ বা নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৫) “ভিত্তিমূল্য” বলিতে নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) টি বিষয়ের মধ্যে যাহা অধিক তাহাকে বুঝাইবে-
(অ) চুক্তি মূল্য;
(আ) বিল বা ইনভয়েসের অঙ্ক; বা
(ই) পরিশোধ।
১৪১। (১) যেইক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি 185[বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি] কর ব্যতীত কোনো পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে পরিগণিত অঙ্কের উপর প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করিতে হইবে, যথা:-
গ = (১০০ × ক)/(১০০-খ), যেখানে-
গ = কর্তনের উদ্দেশ্যে পরিগণিত অঙ্ক,
ক = কর ব্যতীত পরিশোধ এর পরিমাণ,
খ = প্রযোজ্য করহার।
(২) যেইক্ষেত্রে, কর ব্যতীত পরিশোধের প্রাপক,-
(ক) রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনে বাধ্য কিন্তু উহা উপস্থাপনে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা
(খ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ গ্রহণে ব্যর্থ হইয়াছেন,
সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ‘খ’ এই অধ্যায়ের বিধানানুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “কর ব্যতীত পরিশোধ” অর্থ কোনো চুক্তি বা বন্দোবস্তের আওতায় উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ ব্যতিরেকে পরিশোধকারী কর্তৃক প্রাপকের বরাবর কোনো পরিশোধ।
১৪২। (১) ধারা ১১৯ এর ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ও এই অধ্যায়ের অন্যান্য ধারায় ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই 186[অংশের অধীন] কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে 187[:]
188[তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয় এইরূপ ব্যক্তি বা ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী বোর্ড কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(২) ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই অংশের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি চুক্তিমূল্য, বিল, ভাড়া, ফি, চার্জ, রেমুনারেশন, বেতনাদি বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বাবদ কোনো অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ না করিলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।
১৪৩। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি এই অংশের বিধানাবলির অধীন-
(ক) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিতে ব্যর্থ হন; বা
(খ) অপেক্ষাকৃত কম হারে বা পরিমাণে কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন; বা
(গ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর তাহা সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে ব্যর্থ হন অথবা যেই পরিমাণ কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন তাহার চাইতে কম পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করেন; বা
(ঘ) অন্য কোনো প্রকার পরিপালনে ব্যর্থ হন,
সেইক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তি খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি, এই আইনের অধীন অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন তাহা ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্নবর্ণিত অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা:-
(ক) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা হয় নাই;
(খ) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা আবশ্যক এবং প্রকৃতভাবে যাহা কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থ; বা
(গ) কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর যেই পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয় নাই তাহার সমপরিমাণ অর্থ; এবং
(ঘ) অন্য কোনো বিধানাবলি পরিপালনের ব্যর্থতায় অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিমাণের অর্থ পরিশোধ ছাড়াও, উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর দফা (ক), (খ) এবং (গ) এ উল্লিখিত পরিমাণের উপর নিম্নবর্ণিত সারণীতে প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ গণনার ভিত্তি অঙ্কের উপর প্রতিমাসে ২% (দুই শতাংশ) হারে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী হইবেন, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
ক্ষেত্রসমূহ |
অতিরিক্ত অর্থ পরিগণনার ভিত্তি |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন বা সংগ্রহের ব্যর্থতা |
যেই পরিমাণ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হয়নি। |
|
২। |
কমহারে বা কম পরিমাণে কর কর্তন বা সংগ্রহ |
যেই পরিমাণ উৎসে কর কম কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে। |
|
৩। |
কর্তন বা সংগ্রহের পর উহা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া বা পরিমাণে কম জমা দেওয়া |
উৎসে কর কর্তনের পর যেই পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় নাই। |
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন অতিরিক্ত অর্থ পরিগণনার মেয়াদ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ হইতে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ মেয়াদ ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হইবে না।
(৫) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থসহ উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।
(৬) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ডে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-
(ক) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ; অথবা
(খ) ছাড়পত্র, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স, পারমিট প্রদান, অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ,
এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।
(৭) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-
(ক) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজে, এবং
(খ) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ-
এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।
(৮) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর সংগ্রহযোগ্য বা কর্তনযোগ্য, তিনি ইতোমধ্যে উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত সকল প্রকারের অর্থ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করিয়া থাকিলে, উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত অর্থ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে না।
১৪৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে পরিশোধ ব্যতীত, উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধের সার্টিফিকেট প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি, অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন, উহা ক্ষুণ্ন না করিয়া, যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে জমা করা হয় নাই তাহা পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন।
(২) উপকর কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।
১৪৫। (১) এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে যে ব্যক্তি কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন তিনি, উক্তরূপ কর কর্তন বা সংগ্রহক্রমে যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, তাহাকে উক্তরূপ কর্তন বা সংগ্রহ সম্পর্কিত একটি সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন, যেখানে উল্লেখ থাকিবে-
(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে তাহার নাম ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), যদি থাকে;
(খ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থের পরিমাণ;
(গ) যে ধারা বা ধারাসমূহের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে;
(ঘ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান সংক্রান্ত বিবরণ; এবং
(ঙ) নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।
(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি নির্ধারণ করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে, বা মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল মাধ্যমে, কর সংগ্রহ বা কর্তনের সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণ করিবার ক্ষেত্রসমূহ;
(খ) উক্ত ইলেক্ট্রনিক, মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণের পদ্ধতি।
১৪৬। (১) এই অংশের বিধানাবলির অধীন কর্তন বা সংগ্রহকৃত সকল অর্থ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অথবা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে, কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তি কর্তৃক সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে হইবে।
(২) এই আইনের বিধানাবলি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কর হিসাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না, এবং এইরূপভাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করা হইলে তাহা এই ধারা অনুসারে জমা করিতে হইবে।
১৪৭। (১) কর কমিশনার বা 189[মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)] কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যে বা এই অংশের বিধানাবলির প্রয়োগের উদ্দেশ্যে-
(ক) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের-
(অ) প্রাঙ্গণ, স্থান, পণ্য, হিসাব বহি এবং যেকোনো প্রকারে বা পদ্ধতিতে রক্ষিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডে পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন প্রবেশ করিতে পারিবে;
(আ) কম্পিউটারে রক্ষিত বা লভ্য (available) কোনো এনক্রিপ্টেড উপাত্তকে পাঠযোগ্য ও বোধগম্য বিন্যাসে (format) বা পাঠে (text) আনস্ক্র্যামবল বা রিট্রান্সফরম করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো তথ্য, কোড বা প্রযুক্তিতে প্রবেশ করিতে পারিবে;
(ই) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ডে বা সিস্টেমে সংরক্ষিত উপাত্ত, ইমেজ বা অন্য কোনো ইনপুট এক্সট্রাক্ট (extract) করিতে পারিবে;
(ঈ) পাসওয়ার্ড ব্রেক করিয়া সিস্টেমে প্রবেশ করিতে পারিবে;
(উ) কোনো তথ্য, হিসাবের বহি, দলিলাদি, ইমেজ বা ইনপুটের কপি বা বিশ্লেষণ করিতে পারিবে;
(ঊ) হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিলাদিতে শনাক্ত চিহ্ন বা স্ট্যাম্প ছাপ দিতে পারিবে এবং উহাদের কপি বা এক্সট্রাক্ট লইতে পারিবে;
(ঋ) যেকোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম জব্দ করিতে এবং নিজেদের দখলে রাখিতে পারিবে;
(এ) কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্যকলাপ করা বা করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে পারিবে;
(খ) যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ বিশেষজ্ঞ, মূল্য নির্ধারক বা বাহিনী নিজেদের সহিত নিতে পারিবে।
(২) এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির প্রাঙ্গণে বা স্থানে প্রবেশ করিলে বা প্রবেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া যদি কোনো প্রকার বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতার সম্মুখীন হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
(৩) কোনো ব্যক্তি এই ধারার বা এই আইনের এই অংশের বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধপূর্বক, বা কোনোরূপ ব্যাখ্যার অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করিয়া নিরূপিত কর ও আরোপিত জরিমানা আদায় করিবেন।
১৪৮। এই অংশের অধীন কর্তন বা সংগ্রহের মাধ্যমে কর আরোপের ক্ষমতা অন্যান্য পদ্ধতিতে কর আদায়ের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া প্রযুক্ত হইবে।
১৪৯। যেইক্ষেত্রে এই অংশের অধীন কর হিসাবে কোনো অর্থ সংগ্রহ বা কর্তন করা হয় এবং সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি কর্তৃক তাহা পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে;
(খ) এইরূপ কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, দফা (ক) এ উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন না এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইলে কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারী দায়মুক্তি পাইবেন।
১৫০। (১) এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিয়া তাহা সরকারের হিসাবে জমা প্রদান করা হইলে উক্ত কর যে ব্যক্তির আয় হইতে কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তির আয়ের উপর কর পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আয় কর পরিশোধ করা হইলে, যেই আয়বর্ষে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, সেই আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির করদায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে উহার ক্রেডিট প্রদান করা হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির পক্ষে উৎসে কর পরিশোধ করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ক্রেডিট উক্ত অপর ব্যক্তির করদায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রদান করা হইবে।
১৫১। করদাতা কর্তৃক এই আইনের অধীন নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সরাসরি কর পরিশোধযোগ্য হইবে, যথা:-
(ক) এই অংশের বিধানাবলি সাপেক্ষে আবশ্যক কোনো কর কর্তন বা সংগ্রহ না করা হইলে;
(খ) নিয়মিত কর নির্ধারণের পর করদাতার পরিশোধযোগ্য কর অপেক্ষা কর্তন বা সংগ্রহকৃত করের পরিমাণ কম হইলে ঘাটতির সমপরিমাণ;
(গ) এই অংশের অধীন কোনো আয় বাবদ কর কর্তন বা সংগ্রহের বিধান করা না হইলে উক্ত আয়ের ক্ষেত্রে।
পঞ্চম অধ্যায়
অগ্রিম কর পরিশোধ
১৫২। (১) সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে নিট বিক্রয়মূল্যের 190[৫% (পাঁচ শতাংশ)] হারে অগ্রিম কর পরিশোধ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধিত অগ্রিম কর ধারা ১৫৫ এর অধীন পরিশোধযোগ্য অগ্রিম করের ত্রৈমাসিক কিস্তির বিপরীতে সমন্বয়যোগ্য হইবে।
(৩) এই ধারায় “নিট বিক্রয়” বলিতে বুঝাইবে ক-খ, যেইক্ষেত্রে-
ক = মোট বিক্রয় (gross sale), এবং
খ = উক্ত মোট বিক্রয়ের উপর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক, যদি থাকে।
১৫৩। (১) প্রত্যেক 192[***] মোটরযানের মালিকের উক্ত মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আয় রহিয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং তিনি নির্ধারিত হারে ও পদ্ধতিতে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, মোটরযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না, যদি না নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের চালান মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা হয়, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
গাড়ির ধরন ও ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি |
অগ্রিম কর (টাকা ) |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে নহে এইরূপ প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
২৫ (পঁচিশ) হাজার |
|
২। |
১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে, তবে ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে নহে এইরূপ প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
৫০ (পঞ্চাশ) হাজার |
|
৩। |
২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে, তবে ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে নহে এইরূপ প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
৭৫ (পঁচাত্তর) হাজার |
|
৪। |
২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে, তবে ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে নহে এইরূপ প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
১ (এক) লক্ষ ২৫ (পঁচিশ) হাজার |
|
৫। |
৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে, তবে ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে নহে এইরূপ প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
১ (এক) লক্ষ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার |
|
৬। |
৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে প্রতিটি মোটরযানের জন্য |
২ (দুই) লক্ষ |
|
৭। |
মাইক্রোবাস প্রতিটির জন্য |
৩০ (ত্রিশ) হাজার: |
193[তবে শর্ত থাকে যে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি নিজ নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত যৌথভাবে একাধিক মোটরযানের মালিক হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে একের অধিক প্রতিটি মোটরযানের জন্য ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হারে কর পরিশোধ করিতে হইবে।]
(৩) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধিতব্য কর নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা কোনো বৎসরের ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।
194[***]
195[(৫) উপ-ধারা (২) এর অধীন অগ্রিম কর সংগ্রহ করা যাইবে না, যদি মোটরযানটি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়, যথা:-
(ক) সরকার;
(খ) সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন কোনো প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;
(গ) কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও ইহার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ;
(ঘ) বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং ইহার সংযুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ;
(ঙ) ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে রিটার্ন দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাগণ;
(চ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা;
(ছ) অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে না মর্মে বোর্ড হইতে সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান।]
(৬) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর অধীন অগ্রিম কর পরিশোধ করেন, এবং উক্ত ব্যক্তির নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য করদায় উক্ত অগ্রিম কর অপেক্ষা কম হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির উক্ত আয়বর্ষে এইরূপ ধারণাগত আয় ছিল মর্মে গণ্য হইবে যাহার উপর গণনাকৃত করদায় উপ-ধারা (২) এর অধীন সংগৃহীত।
(৭) উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধকৃত অগ্রিম কর ফেরতযোগ্য হইবে না।
(৮) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “মোটরযান” অর্থে জিপ ও মাইক্রোবাস অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে ধারা ১৩৮ এ উল্লিখিত কোনো মোটরযান ও মোটসাইকেল ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
(খ) “নিয়মিত উৎসের আয়” বলিতে ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত উৎসসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো উৎসের আয় বুঝাইবে।
১৫৪। (১) এই অংশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তির সর্বশেষ নিরূপিত আয়বর্ষে তাহার মোট আয় ৬ (ছয়) লক্ষ টাকার অধিক হইলে উক্ত করদাতা কর্তৃক প্রতি চলমান অর্থবৎসরে আয়ের উপর অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে তাহা “অগ্রিম কর” হিসাবে উল্লিখিত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর কোনো কিছুই করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি-
(ক) করদাতা কেবল জমি চাষাবাদ হইতে অনধিক ৮ (আট) লক্ষ টাকা উপার্জন করেন;
(খ) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মোট আয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত আয় অন্তর্ভুক্ত হইয়া থাকে, যথা:-
(অ) “মূলধনি আয়”; বা
(আ) “এককালীন আয়” প্রকৃতির কোনো আয় যাহা এই অংশের অধীন যে চলমান অর্থবর্ষে অগ্রিম কর পরিশোধ্য, উক্ত অর্থবর্ষে উপার্জনের প্রত্যাশা করা যায় না।
১৫৫। (১) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে এবং ধারা ১৫৪ এর বিধানাবলি ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোনো চলমান অর্থ বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম অগ্রিম কর হইবে ক-খ এর সমপরিমাণ, যেইক্ষেত্রে-
ক = সর্বশেষ আয়বর্ষ নির্ধারিত করদাতার মোট আয়ের উপর পরিশোধযোগ্য কর যাহা উক্ত অর্থবর্ষে প্রযোজ্য হারে পরিগণনাকৃত;
খ = এই অংশের অধীন উৎসে কর্তনকৃত বা সংগ্রহকৃত কর বা অংশ ৭ এর অধীন পরিশোধকৃত অগ্রিম করের পরিমাণ।
(২) অগ্রিম কর হিসাবে পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম কর নিম্নবর্ণিতভাবে ৪ (চার) টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ্য হইবে, যথা:-
|
অর্থবৎসরের তারিখ |
পরিশোধতব্য অর্থের পরিমাণ |
|
(১) |
(২) |
|
১৫ সেপ্টেম্বর |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ) |
|
১৫ ডিসেম্বর |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ) |
|
১৫ মার্চ |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ) |
|
১৫ জুন |
২৫% (পঁচিশ শতাংশ)। |
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তারিখ যদি কোনো সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কিস্তি তাহার পরবর্তী কর্মদিবসে পরিশোধ করিতে হইবে।
(৪) এই ক্ষেত্রে কোনো করদাতা যেকোনো কিস্তি বা উহার অংশবিশেষ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে, এই আইনের অধীন করদাতার কোনো দায়কে ক্ষুণ্ন না করিয়া, তাহার পরবর্তী কিস্তির সহিত অপরিশোধিত কিস্তি বা উহার অংশবিশেষ যুক্ত হইয়া পরিশোধযোগ্য হইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা প্রাক্কলন করেন যে, অগ্রিম করের কিস্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন পরিগণনাকৃত কর অপেক্ষা কম হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে তিনি উপকর কমিশনার বরাবর একটি প্রাক্কলন দাখিল করিবেন এবং ইতঃপূর্বে পরিশোধকৃত কোনো কিস্তির সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয়পূর্বক প্রাক্কলন অনুসারে কিস্তি পরিশোধ করিবেন।
১৫৬। এই আইনের অধীন ইতঃপূর্বে নিয়মিত কর নির্ধারণীর আওতাভুক্ত হন নাই এইরূপ কোনো ব্যক্তির মোট আয়, ধারা ১৫৪ এর উপ-ধারা (২) এর শর্তসাপেক্ষে, 196[চলমান] আয়বর্ষে তাহার মোট আয় ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে, তিনি প্রত্যেক অর্থবৎসরের জুন মাসের ১৫ (পনেরো) তম দিনের পূর্বে তাহার প্রাক্কলিত মোট আয় এবং ধারা 197[১৫৫] এর উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিগণনাকৃত তৎকর্তৃক পরিশোধযোগ্য অগ্রিম করের হিসাব উপকর কমিশনারের নিকট দাখিল করিবেন এবং ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত কিস্তির তারিখের মধ্যে তাহা পরিশোধ করিবেন, যেন তাহা ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (৫) অনুসারে সংশোধিত কিস্তির তারিখ অতিক্রম না করে।
১৫৭। অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এইরূপ কোনো করদাতা যদি মূল পরিগণনা অনুসারে বা, ক্ষেত্রমত, প্রাক্কলিত হিসাব অনুসারে নির্ধারিত তারিখে উক্ত করের কোনো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি উক্ত কিস্তির ক্ষেত্রে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।
১৫৮। জরিমানা বা সুদ ব্যতীত অগ্রিম কর হিসাবে কোনো করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত বা তাহার নিকট হইতে আদায়কৃত কোনো অঙ্ক, তাহা সেই সময়ের জন্য অর্জিত আয়ের উপর পরিশোধিত হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ পরিশোধিত কর, করদাতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য নির্ধারিত কর হইতে বাদ দেওয়া হইবে।
১৫৯। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “সর্বশেষ আয়বর্ষের কর নির্ধারিত” অর্থ-
ক) এইরূপ করদাতার ক্ষেত্রে, যাহার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হইয়াছে;
খ) এইরূপ করদাতার ক্ষেত্রে, যাহার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হয় নাই।
ষষ্ঠ অধ্যায়
অগ্রিম করের উপর সুদ
১৬০। অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এইরূপ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত কর নির্ধারণকালে পরিলক্ষিত হয় যে, এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে অগ্রিম কর পরিশোধ করা হয় নাই, তাহা হইলে ধারা ১৫৭ এর অধীন খেলাপি করদাতার পরিণামের বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্তরূপ কর নির্ধারণের ভিত্তিতে নিরূপিত করের সহিত ধারা ১৬২-তে নির্ধারিত হারে ও মেয়াদের জন্য উহার উপর সরল সুদ পরিগণনা করিতে হইবে।
১৬১। (১) কোনো ব্যক্তির কোনো অর্থবর্ষে অগ্রিম কর হিসাবে পরিশোধকৃত অর্থের সমষ্টি যদি নিয়মিত কর নির্ধারণীর মাধ্যমে নিরূপিত করের পরিমাণ অপেক্ষা অধিক হয়, উক্ত অতিরিক্ত পরিশোধকৃত করের উপর সরকার বার্ষিক ১০% (দশ শতাংশ) হারে সরল সুদ প্রদান করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অতিরিক্ত অগ্রিম কর পরিশোধের উপর সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রথম দিন হইতে উক্ত করবর্ষের নিয়মিত কর নির্ধারণের তারিখ পর্যন্ত, বা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রথম দিন হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সময়ের জন্য সুদ পরিশোধ করিতে হইবে।
১৬২। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো অর্থবর্ষে করদাতা স্বীয় প্রাক্কলনের ভিত্তিতে অগ্রিম কর পরিশোধ করেন এবং এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন করা হয়, উক্ত কর্তনকৃত কর এবং উক্তরূপ অগ্রিম পরিশোধকৃত করের সমষ্টি যদি নিয়মিত কর নির্ধারণের মাধ্যমে নিরূপিত পরিশোধযোগ্য করের ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) 198[অপেক্ষা কম হয়, তবে সেইক্ষেত্রে, উক্তরূপ পরিশোধকৃত মোট কর এবং নিয়মিত কর] নির্ধারণীর মাধ্যমে উদ্ভূত করের ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) এর মধ্যে যে পার্থক্য হইবে তাহার উপর বার্ষিক ১০% (দশ শতাংশ) হারে সরল সুদ প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, 199[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট] তারিখে বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করা না হইলে, সুদের হার ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অতিরিক্ত অগ্রিম কর পরিশোধের উপর সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণী বর্ষে জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে উক্ত বৎসর নিয়মিত কর নির্ধারণের তারিখ পর্যন্ত, বা ১ জুলাই হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সময়ের জন্য সুদ পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে-
(ক) ধারা ১৭৩ এর অধীন কর পরিশোধ করা হয়; বা
(খ) ধারা ১৮৫ এর অধীন সাময়িক কর নির্ধারণ করা হইয়াছে কিন্তু নিয়মিত কর নির্ধারণ করা হয় নাই,
সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিধান অনুসারে সরল সুদ হিসাব করিতে হইবে, যথা:-
(অ) যেই তারিখে ধারা ১৭৩ এর অধীন বা সাময়িকভাবে নির্ধারিত কর পরিশোধ করা হইয়াছে, সেই তারিখ পর্যন্ত;
(আ) অতঃপর, নির্ধারণকৃত ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) কর অপেক্ষা উক্তরূপে পরিশোধকৃত কর যেই পরিমাণ ঘাটতি হইয়াছে, তাহার উপর সরল সুদ পরিগণনা করিতে হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে আপিল, রিভিশন বা রেফারন্সের ফলশ্রুতিতে উপ-ধারা (১) এর অধীন যেই পরিমাণ অর্থের উপর সুদ প্রদেয় ছিল তাহা হ্রাস প্রাপ্ত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে একইভাবে প্রদেয় সুদের পরিমাণ ও হ্রাস প্রাপ্ত হইবে এবং কোনো অতিরিক্ত সুদ পরিশোধিত হইয়া থাকিলে, তাহা ফেরতযোগ্য করের সহিত ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “নিয়মিত কর নির্ধারণ” অর্থে সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ বা ধারা 200[১৮২] এর অধীন অডিটের প্রেক্ষিতে প্রণীত কর নির্ধারণও অন্তর্ভুক্ত হইবে।
201[১৬৩। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, করদাতা কর্তৃক, এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, ন্যূনতম কর পরিশোধযোগ্য হইবে।
(২) ধারা ৮৮, ৮৯, ৯০, ৯১, ৯২, ৯৪, ৯৫, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৫, ১০৬, ১০৮, ১১০, ১১১, ১১৪, ১১৫, ১১৬, ১১৭, ১১৮, ১২০, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪, ১২৫, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২৯, ১৩২, ১৩৩, ১৩৪, ১৩৫, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮ এবং ১৩৯ এর অধীন কর্তন বা সংগৃহীত কর যেই সকল এক বা একাধিক উৎসসমূহের জন্য কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, সেই সকল উৎসসমূহের আয়ের উপর ন্যূনতম কর হিসাবে গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সিমেন্ট, লৌহ বা লৌহজাত পণ্য, ফেরো অ্যালয় পণ্য, কার্বোনেটেড বেভারেজ, গুঁড়ো দুধ, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য, সিরামিক পণ্য এবং কীটনাশক উৎপাদনে নিয়োজিত কোনো শিল্প উদ্যোক্তা ব্যতীত অন্য কোনো শিল্প উদ্যোক্তা কর্তৃক তাহার নিজস্ব কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত পণ্য হইতে ধারা ১২০ এর অধীন সংগৃহীত কর ন্যূনতম কর হিসাবে গণ্য হইবে না।
(৩) উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে নিম্নরূপ বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
(ক) ন্যূনতম কর প্রযোজ্য এইরূপ আয়ের উৎস বা উৎসসমূহের জন্য ধারা ৭২ এর বিধানাবলি অনুসারে নিয়মিতভাবে হিসাব বহি সংরক্ষণ করিতে হইবে;
(খ) উপ-ধারা (২) এর অধীন ন্যূনতম কর প্রযোজ্য এইরূপ কোনো উৎসের আয় নিয়মিত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর প্রযোজ্য হারে কর পরিগণনা করিতে হইবে; যদি উক্তরূপে পরিগণনাকৃত কর উপ-ধারা (২) এর অধীন ন্যূনতম কর অপেক্ষা অধিক হয়, তাহা হইলে উক্ত আয়ের উপর উক্ত অধিকতর কর প্রদেয় হইবে;
(গ) দফা (খ) অনুসারে পরিগণিত আয় বা ক্ষতি যথাক্রমে কোনো নিয়মিত উৎসের জন্য পরিগণনাকৃত আয় বা ক্ষতির সহিত সমন্বয় করা যাইবে না।
(৪) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন ন্যূনতম কর প্রযোজ্য এইরূপ এক বা একাধিক উৎসের আয় ছাড়াও নিয়মিত উৎস হইতে আয় করিয়া থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) নিয়মিত উৎস হইতে আয়ের উপর নিয়মিত কর পরিগণনা করা হইবে;
(খ) উক্ত করদাতার করদায় হইবে উপ-ধারা (৩) এর দফা (খ) এর অধীন নির্ধারণকৃত কর এবং এই উপ-ধারার দফা (ক) এর অধীন নিয়মিত করের সমষ্টি।
(৫) উপ-ধারা (৬) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, মুনাফা বা ক্ষতি নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তি তাহার গ্রস প্রাপ্তির উপর দফা (ক) ও (খ) এর বিধান অনুযায়ী ন্যূনতম কর পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা:-
(ক) যেকোনো কোম্পানি, যেকোনো ট্রাস্ট, অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকার গ্রস প্রাপ্তি রহিয়াছে এইরূপ কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ, অন্যূন ৪ (চার) কোটি টাকার গ্রস প্রাপ্তি রহিয়াছে এইরূপ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি কোনো করবর্ষে তাহার গ্রস প্রাপ্তির উপর নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
করদাতার শ্রেণি |
নূনতম করহার |
|
(১) |
(২) |
(৩) |
|
১। |
সিগারেট, বিড়ি, চিবাইয়া খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক, গুল বা অন্য কোনো তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক |
গ্রস প্রাপ্তির ৩% (তিন শতাংশ) |
|
২। |
কার্বোনেটেড বেভারেজ (carbonated beverage), মিষ্টি পানীয় (sweetened beverage) প্রস্তুতকারক |
গ্রস প্রাপ্তির ৩% (তিন শতাংশ) |
|
৩। |
মোবাইল ফোন অপারেটর |
গ্রস প্রাপ্তির ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) |
|
৪। |
সিগারেট, বিড়ি, চিবাইয়া খাওয়ার তামাক, ধোঁয়াবিহীন তামাক, গুল বা অন্য কোনো তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক ব্যতীত অন্য কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা |
গ্রস প্রাপ্তির ১% (এক শতাংশ) |
|
৫। |
অন্যান্য ক্ষেত্রে |
গ্রস প্রাপ্তির ১% (এক শতাংশ): |
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সারণীর ক্রমিক নং ৫ প্রযোজ্য হয় এইরূপ ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইহার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রথম ৩ (তিন) বৎসরের জন্য উক্ত হার হইবে এইরূপ প্রাপ্তির ০.১% (শূন্য দশমিক এক শতাংশ);
(খ) যেইক্ষেত্রে করদাতার এইরূপ কোনো আয়ের উৎস থাকে যাহা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে উক্ত এক বা একাধিক উৎস হইতে অর্জিত মোট প্রাপ্তি পৃথকভাবে প্রদর্শন করিতে হইবে, এবং এই উপ-ধারার অধীন ন্যূনতম কর নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণনা করিতে হইবে, যথা:-
(অ) নিয়মিত হারে কর প্রদান করিতে হইবে এইরূপ উৎস হইতে অর্জিত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দফা (ক) এ উল্লিখিত হার প্রয়োগ করিয়া ন্যূনতম কর হিসাব করিতে হইবে;
(আ) কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহার প্রাপ্ত উৎস হইতে অর্জিত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত কর হারের আনুপাতিক হারে দফা (ক) এ উল্লিখিত হার হ্রাস করত ন্যূনতম কর হিসাব করিতে হইবে;
(ই) এই উপ-ধারার অধীন ন্যূনতম কর হইবে উপ-দফা (অ) ও (আ) এর অধীন হিসাবকৃত ন্যূনতম করের সমষ্টি।
(৬) কোনো করদাতার ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৪) ও উপ-ধারা (৫) উভয়ের বিধান প্রযোজ্য হইলে, উক্ত করদাতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম কর হইবে-
(ক) উপ-ধারা (৪) এর অধীন ন্যূনতম কর; বা
(খ) উপ-ধারা (৫) এর অধীন ন্যূনতম কর, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক।
(৭) এই ধারার অধীন পরিগণিত ন্যূনতম করের সমন্বয়যোগ্যতা নিম্নরূপে নির্ধারিত হইবে, যথা:-
(ক) উপ-ধারা (২) এর অধীন কর্তিত বা সংগৃহীত ন্যূনতম কর প্রত্যর্পণযোগ্য হইবে না;
(খ) উপ-ধারা (৬) এর অধীন কর পরিগণনাকালে উপ-ধারা (২) এর অধীন কর্তিত বা সংগৃহীত ন্যূনতম করের অতিরিক্ত করদায় সৃষ্টি হইলে উক্তরূপ অতিরিক্ত অংকের সহিত পূর্ববর্তী করবর্ষসমূহের সৃষ্ট প্রত্যর্পণ সমন্বয়যোগ্য হইবে।
(৮) যেইক্ষেত্রে কোনো করবর্ষে পরিগণনাকৃত নিয়মিত কর এই ধারার অধীন ন্যূনতম করের পরিমাণ হইতে অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত করবর্ষে নিয়মিত কর পরিশোধযোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো করবর্ষে নিয়মিত করের তুলনায় ন্যূনতম কর অধিক হইবার কারণে যেই পরিমাণ অধিক কর প্রদান করা হইয়াছে, সেই পরিমাণ অধিক কর, পরবর্তী যেই করবর্ষে করদাতার নিয়মিত করের পরিমাণ ন্যূনতম করের পরিমাণ হইতে অধিক হয়, সেই করবর্ষের জন্য প্রদেয় ন্যূনতম করের অধিক নিয়মিত করের সাথে সমন্বয় করা যাইবে।
(৯) কোনো করবর্ষে নিয়মিত করের তুলনায় ন্যূনতম কর যেই পরিমাণ অধিক প্রদান করা হইয়াছে তাহা যদি পরবর্তী কোনো করবর্ষের উপ-ধারা 202[(৮)] এর অধীন সম্পূর্ণ সমন্বয় করা না যায় তাহা হইলে যেই পরিমাণ ন্যূনতম কর অসমন্বিত থাকিবে তাহা পরবর্তী করবর্ষসমূহের প্রদেয় ন্যূনতম করের অধিক নিয়মিত করের সহিত সমন্বয়ের জন্য জের টানা যাইবে।
(১০) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(ক) “নিয়মিত উৎস” অর্থ এইরূপ কোনো উৎস যাহার ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) এর অধীন ন্যূনতম কর প্রযোজ্য নহে;
(খ) “নিয়মিত কর” অর্থ নিয়মিত পদ্ধতি ব্যবহার করিয়া নিয়মিত আয়ের উপর পরিগণনাকৃত কর;
(গ) “নিয়মিত করহার” অর্থ এইরূপ করের হার যাহা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহার অনুমোদিত না হইলে প্রযোজ্য হইবে;
(ঘ) “গ্রস প্রাপ্তি” অর্থ-
(অ) পণ্য বিক্রয়ের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বাদে অর্জিত সকল প্রাপ্তি;
(আ) কমিশন ও ডিসকাউন্টসহ সেবা বা সুবিধা প্রদানের জন্য প্রাপ্ত সকল ফি বা চার্জ;
(ই) আয়ের যেকোনো খাত হইতে অর্জিত সকল প্রাপ্তি।
203[(১১) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত সারণীর কলাম (২)-এ উল্লিখিত উৎস হইতে অর্জিত আয়/উৎসে কর সংগ্রহের খাত এর বিপরীতে কলাম (৩)-এ উল্লিখিত ধারার অধীন উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত করের পরিমাণকে কলাম (৪)-এ উল্লিখিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষে উক্ত আয়ের জন্য চূড়ান্ত করদায় হিসাবে গণ্য করা হইবে, যথা:-
সারণী
|
ক্রমিক নং |
আয়ের উৎস/উৎসে কর সংগ্রহের খাত |
যে ধারার অধীন উৎসে কর কর্তন/ সংগ্রহযোগ্য |
যে সকল ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য
|
|
(১) |
(২) |
(৩) |
(৪) |
|
১।
|
এই আইনের ধারা ৩০ এ উল্লিখিত আয়ের খাতসমূহ
|
এই আইনের অংশ-৭ এর অন্তর্ভুক্ত সকল ধারা
|
এই আইনের ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ
|
|
২।
|
সঞ্চয়পত্র হইতে অর্জিত মুনাফা
|
১০৫
|
যেকোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি
|
|
৩। |
সম্পত্তির অধিগ্রহণ এর ক্ষতিপূরণ হইতে অর্জিত মূলধনি আয়
|
১১১
|
যেকোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি
|
|
৪। |
রপ্তানির বিপরীতে প্রাপ্ত নগদ ভর্তুকি
|
১১২
|
যেকোনো ব্যক্তি
|
|
৫।
|
সম্পত্তি হস্তান্তর হইতে অর্জিত মূলধনি আয়
|
১২৫
|
যেকোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি
|
|
৬।
|
বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মোটরযান হইতে অগ্রিম কর সংগ্রহ
|
১৩৮ |
যেকোনো ব্যক্তি
|
তবে শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত সারণীর ক্রমিক নং (৬) এ বর্ণিত বিধান বাণিজ্যিকভাবে মোটরযান পরিচালনা হইতে আয়প্রাপ্ত হন শুধুমাত্র এইরূপ করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে এবং এইরূপ উৎসে সংগৃহীত অগ্রিম করের উপর ভিত্তি করিয়া উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট উৎসের আয় পরিগণনা করিতে হইবে:
আরো শর্ত থাকে যে, এইরূপে পরিগণিত আয়ের অধিক আয় প্রদর্শিত হইলে উক্ত অধিক প্রদর্শিত আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করিতে হইব।]
(১২) যেইক্ষেত্রে কোনো সারচার্জ, অতিরিক্ত অন্য কোনো সুদ, অতিরিক্ত কোনো অর্থ, ইত্যাদি এই আইনের বিধানাবলির অধীন পরিশোধযোগ্য হয়, সেইক্ষেত্রে তাহা ন্যূনতম কর ও চূড়ান্ত করের অতিরিক্ত হিসাবে পরিশোধযোগ্য হইবে।]
প্রথম অধ্যায়
রিটার্ন এবং বিবরণী
১৬৫। (১) বোর্ড, করদাতাদের জন্য শ্রেণিভিত্তিক এবং যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ রিটার্ন নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) স্বাভাবিক 207[ব্যক্তি] করদাতার রিটার্ন করদাতার সকল প্রকার আয়ের বিবরণী, বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং, ক্ষেত্রমত, জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যয়ের বিবরণী সংবলিত হইবে।
১৬৬। (১) প্রত্যেক ব্যক্তি উপকর কমিশনারের নিকট সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের জন্য রিটার্ন দাখিল করিবেন, যদি-
(ক) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে তাহার আয় এই আইনের অধীন করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করে;
(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে কোনো বৎসর তাহার কর নির্ধারণ করা হয়;
(গ) উক্ত ব্যক্তি একটি কোম্পানি, কোনো শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী, কোনো ফার্ম, কোনো ফার্মের অংশীদার, কোনো ব্যক্তিসংঘ, কোনো ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকের পদধারী কোনো কর্মচারী, কোনো গণকর্মচারী হন বা কোনো অনিবাসী হন যাহার বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা রহিয়াছে;
(ঘ) উক্ত ব্যক্তি 208[***] সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে এইরূপ কোনো আয় প্রাপ্ত হন, যাহা অংশ ৬ এর প্রথম অধ্যায়ের অধীন কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহার সুবিধাপ্রাপ্ত;
(ঙ) ধারা ২৬১ অনুসারে করদাতা হিসাবে নিবন্ধনযোগ্য কোনো ব্যক্তি; বা
(চ) উক্ত ব্যক্তির ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে।
209[(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হইবে না, যথা:-
(ক) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-
(অ) যাহা বাংলা ভাষায় পাঠদানকারী প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় বা সরকারি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বা যাহা মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; এবং
(আ) যাহার ইংরেজি ভার্সন কারিকুলাম নাই;
(খ) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়;
(গ) বাংলাদেশ ব্যাংক;
(ঘ) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ;
(ঙ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন;
(চ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড;
(ছ) কোনো আইন বা সরকারি আদেশ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যেকোনো সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, কমিশন, ইনস্টিটিউট, বোর্ড, একাডেমি বা অনুরূপ সংস্থা, যাহারা কোনোরূপ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং যাহাদের পরিচালন ব্যয় এর আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্বাহের জন্য সরকার হইতে নিয়মিত তহবিল প্রাপ্ত হয়;
(জ) এতিমখানা, অনাথ আশ্রম এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান;
(ঝ) কোনো অনিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি যাহার বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট ভিত্তি (fixed base) নাই;
(ঞ) তহবিল;
(ট) বোর্ড কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, রিটার্ন দাখিল করা হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।]
১৬৭। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, প্রত্যেক স্বাভাবিক 210[ব্যক্তি] করদাতা আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন, যদি উক্ত ব্যক্তি-
(ক) আয়বর্ষের শেষ তারিখে 211[৫০ (পঞ্চাশ)] লক্ষ টাকার অধিক মোট সম্পত্তির মালিক হন; বা
(খ) আয়বর্ষের যেকোনো সময় কোনো মোটরযানের মালিক হন; বা
(গ) সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে গৃহ সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করেন; বা
(ঘ) আয়বর্ষের কোনো সময়ে বিদেশে কোনো পরিসম্পদের মালিক হন; বা
(ঙ) কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হন:
তবে শর্ত থাকে যে, 212[***] সকল গণকর্মচারী আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।
(২) প্রত্যেক নিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক 213[ব্যক্তি] করদাতা তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।
(৩) প্রত্যেক অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক 214[ব্যক্তি] করদাতা তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।
(৪) এইরূপ প্রত্যেক বিদেশি স্বাভাবিক 215[ব্যক্তি] করদাতা যিনি বাংলাদেশি নহেন তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।
(৫) কোনো স্বাভাবিক 216[ব্যক্তি] করদাতার জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী পূরণ বাধ্যতামূলক না হইলেও, তিনি স্বেচ্ছায় পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিতে পারিবেন।
(৬) কোনো স্বাভাবিক 217[ব্যক্তি] করদাতার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী বা নাবালক সন্তানের পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণীও দাখিল করিতে হইবে যদি তাহাদের পৃথক টিআইএন না থাকে।
(৭) উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে যেকোনো আয়বর্ষের জন্য পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিতে বলিতে পারিবেন, যদি-
(ক) উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল না করিয়া থাকেন; বা
(খ) উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের করদায় নির্ধারণের জন্য উক্ত পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী আবশ্যক বলিয়া প্রতীয়মান হইয়া থাকে।
১৬৮। (১) প্রত্যেক স্বাভাবিক 218[ব্যক্তি] করদাতাকে রিটার্নে আবশ্যিকভাবে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী দাখিল করিতে হইবে, যদি-
(ক) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির আয় ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক হয়;
(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের কোনো সময় উক্ত ব্যক্তি মোটরযানের মালিকানা লাভ করেন;
(গ) উক্ত ব্যক্তি ব্যবসা হইতে কোনো আয় করেন;
(ঘ) উক্ত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হন; বা
(ঙ) উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে গৃহ সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করেন।
(২) উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে কোনো আয়বর্ষে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী দাখিল করিতে বলিতে পারিবেন, যদি-
(ক) উক্ত 219[স্বাভাবিক] ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যয় বিবরণী দাখিল না করিয়া থাকেন; বা
(খ) উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের করদায় নির্ধারণের জন্য উক্ত ব্যয় বিবরণী আবশ্যক বলিয়া প্রতীয়মান হইয়া থাকে।
১৬৯। (১) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় বিবরণ ও তথ্যাদি প্রদান করিয়া নির্ধারিত তফসিলসমূহ, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট বা দলিলাদিসহ রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।
(২) 220[ধারা ৭৩ এর অধীন নিরীক্ষিত আয় বিবরণী এবং নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসমূহ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ করদাতার] রিটার্নের সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:-
(ক) নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী;
(খ) যাচাইয়ের নিমিত্ত বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের প্রমাণ; এবং
221[(গ) ধারা ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ অনুসারে ব্যবসা হতে বিয়োজনযোগ্য এবং ৫৫ ধারায় ব্যবসা হতে অননুমোদনযোগ্য বিয়োজনসমূহ সমন্বয় করিয়া একটি পৃথক করযোগ্য আয় পরিগণনা বিবরণী।]
(৩) কোনো আয়বর্ষে আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ কোনো সত্তার ক্ষেত্রে, ধারা ২৩৮ এর অধীন আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত একটি বিবরণী রিটার্নের সহিত দাখিল করিতে হইবে।
(৪) কোনো অনিবাসী বাংলাদেশি তাহার রিটার্নের ভিত্তিতে করদায়ের পরিশোধের প্রমাণাদিসহ রিটার্ন নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করিতে পারিবেন এবং মিশন উহার দাপ্তরিক সিলসহ উক্ত রিটার্নের একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র প্রদান করিবে এবং রিটার্নটি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৫) রিটার্ন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিপাদিত হইতে হইবে, যথা:-
(ক) কোনো স্বাভাবিক 222[ব্যক্তি] করদাতার ক্ষেত্রে, করদাতা স্বয়ং; তিনি বাংলাদেশে না থাকিলে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক, এবং তিনি মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে স্বাভাবিক কার্য করিতে অপারগ হইলে, তাহার অভিভাবক কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষর করিতে আইনগতভাবে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি;
(খ) কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে, পরিবারের কর্তা কর্তৃক, এবং কর্তা বাংলাদেশে অবস্থান না করিলে বা মানসিক অক্ষমতার কারণে স্বাভাবিক কার্য করিতে অপারগ হইলে, উক্ত পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি;
গ) কোনো কোম্পানি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে, প্রধান কর্মকর্তা;
(ঘ) কোনো ফার্মের ক্ষেত্রে, কোনো নাবালক অংশীদার ব্যতীত, উহার যেকোনো অংশীদার;
(ঙ) অন্য কোনো সংঘের ক্ষেত্রে, সংঘের কোনো সদস্য বা মুখ্য কর্মকর্তা; এবং
(চ) অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষর করিতে আইনগতভাবে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি।
223[১৭০। ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ সকল ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষের মধ্যে ধারা ১৮০ এর অধীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করিবেন।]
224[১৭১। (১) প্রত্যেক করদাতাকে রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।
(২) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী আয়কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।
(৩) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পরে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৭৪ অনুযায়ী আয়কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]
১৭২। (১) উপকর কমিশনার ধারা ১৭১ এ উল্লিখিত মেয়াদ উত্তীর্ণের পর যেকোনো সময়, কোনো ব্যক্তিকে, লিখিত নোটিশ দ্বারা, তাহার আয়ের রিটার্ন দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যদি-
(ক) ধারা ১৬৬ এর অধীন উক্ত ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক হয়; বা
(খ) উক্ত ব্যক্তির মোট আয় সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে কর আরোপযোগ্য হয়।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন, নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ২১ (একুশ) দিনের কম হইবে না, অথবা উপকর কমিশনার যেইরূপ অনুমোদন করিবে সেইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।
১৭৩। (১) ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৭৫, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২ ইহার অধীন রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিলের তারিখে বা তৎপূর্বে পরিশোধযোগ্য কর 226[ও সারচার্জ] পরিশোধ করিতে হইবে।
(২) পরিশোধযোগ্য কর ক-খ নিয়মে পরিগণনা করিতে হইবে, যেখানে-
ক = রিটার্নের ভিত্তিতে বা ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (৫) এর বিধানাবলি অনুসারে করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কর, যাহা অধিক হয়;
খ = অংশ ৭ এর বিধানাবলি অনুসারে উৎসে পরিশোধিত কর বা অগ্রিম কর।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধকৃত অর্থ নিয়মিত কর নির্ধারণের পর করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কর হিসাবে পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৪) কোনো ব্যক্তি, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।
227[১৭৪। ধারা ১৬৬ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো করদাতা রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হইলে, এই আইনের অন্যান্য বিধানের অধীন উদ্ভূত দায় অক্ষুণ্ন রাখিয়া নিম্নবর্ণিত নিয়মে করদাতার কর নির্ধারিত ও প্রদেয় হইবে, যথা:-
ক = খ + (খ - গ) × ঘ × ০.০২, যেখানে,
ক = মোট প্রদেয় করের পরিমাণ;
খ= করদাতা রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করিলে মোট যেই পরিমাণ কর পরিশোধ করিতেন সেই অংক, তবে এইক্ষেত্রে-
(অ) ষষ্ঠ তফসিল অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হইলে যেইরূপে কর পরিগণনা করা হইত সেইরূপে কর পরিগণনা করিতে হইবে; এবং
(আ) ন্যূনতম কর, সারচার্জ ও সরল সুদ ব্যতীত এই আইনের অধীন প্রযোজ্য বা ধার্যকৃত অন্য কোনো জরিমানা বা অংক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;
গ= উক্ত আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত অগ্রিম কর ও উৎসে করের সমষ্টি;
ঘ= নিম্নবর্ণিতরূপে নির্ধারিত মাসের সংখ্যা, যথা:-
(অ) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ অতিক্রান্ত হইবার পর মাসের সংখ্যা যাহা অনধিক ২৪ (চব্বিশ) হইবে;
(আ) কোনো মাসের ভগ্নাংশও পূর্ণ মাস হিসাবে গণ্য হইবে।]
228[১৭৫। (১) ধারা ১৮২ ও ২১২ এর বিধানাবলি অক্ষুণ্ন রাখিয়া, নিম্নোক্ত রিটার্নসমূহ সাধারণ রিটার্ন বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) ধারা ১৮২ এর উপ-ধারা 229[(৫)] অনুসারে দাখিলকৃত সংশোধিত রিটার্ন;
(খ) ধারা ২১২ এর উপ-ধারা 230[(১)] অনুসারে নোটিশ জারির প্রেক্ষিতে দাখিলকৃত রিটার্ন 231[:]
232[(গ) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষ অতিক্রান্ত হইবার পর দাখিলকৃত রিটার্ন।]
(২) 233[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে] এই আইনের কোনো বিধানের অধীন সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিলে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী কর পরিশোধ করিতে হইবে।
234[(৩) ধারা ১৭২ ও ধারা ২১২ এর অধীন নোটিশের প্রেক্ষিতে রিটার্ন দাখিল না করিলে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণের পর রিটার্ন দাখিল করা যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন রিটার্ন দাখিলের পর রিটার্নে কোনো উপেক্ষিত বা অশুদ্ধ বিবৃতি পরিলক্ষিত হইলে, কোনো প্রকার করদায় হ্রাস না করিয়া, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণের পূর্বে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]]
১৭৬। (১) কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৬৯ এর বিধান বা বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত কোনো নির্দেশনা অনুসরণ না করিলে উক্ত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(২) রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্নটি অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচনা করা হইলে, উপকর কমিশনার, কারণ উল্লেখপূর্বক, করদাতার নিকট সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি, যাচাইকরণ, বিবৃতি বা দলিলাদি নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিবার জন্য নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
235[(৩) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করিতে ব্যর্থ হইলে, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন, যাহা অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইয়াছিল তাহা-
(ক) ধারা ১৬৯ এর উপ-ধারা (২) এবং (৫) পরিপালনের ব্যর্থতায় এইরূপভাবে বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া বিবেচনা করা হইবে যেন উহা দাখিল করা হয় নাই এবং এইরূপ বাতিল বা অকার্যকরের ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করিবেন, যথা:-
(অ) দাখিলকৃত রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকরের নোটিশ করদাতার বরাবরে প্রেরণ;
(আ) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বাতিল বা অকার্যকর সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিতকরণ;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে ধারা ১৮২ এর অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাইবে।]
(৪) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করিলে রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন তাহা দাখিলের তারিখে সম্পূর্ণ হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৫) কেবল প্রাপ্তি স্বীকারের কারণে রিটার্নটি সম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে না।
১৭৭। (১) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ বোর্ড কর্তৃক যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ নির্ধারিত ফরমে অংশ ৭ এর বিধানাবলির অধীন কর্তনকৃত বা সংগ্রহকৃত করের রিটার্ন দাখিল করিবেন:
236[(ক) সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর এবং মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যেকোনো কোম্পানি;]
(খ) ফার্ম;
(গ) ব্যক্তিসংঘ;
(ঘ) বেসরকারি হাসপাতাল;
(ঙ) ক্লিনিক;
(চ) ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন-
(ক) করদাতা যে উপকর কমিশনারের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন তাহার নিকট দাখিল করিতে হইবে;
(খ) নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট বিবরণ ও তথ্যাদি এবং তফসিল, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট বা দলিলাদি সহযোগে দাখিল করিতে হইবে;
(গ) ধারা ১৬৯ এর উপ-ধারা (৫) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত ও প্রতিপাদন করিতে হইবে;
237[(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পূর্ববর্তী ০৩ (তিন) মাসের জন্য প্রযোজ্য রিটার্ন নিম্নবর্ণিত সময়ে দাখিল করিতে হইবে, যথা:-
|
অর্থবৎসরের তারিখ |
যে মাসের জন্য প্রযোজ্য |
|
(১) |
(২) |
|
২৫ অক্টোবর |
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর |
|
২৫ জানুয়ারি |
অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর |
|
২৫ এপ্রিল |
জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ |
|
২৫ জুলাই |
এপ্রিল, মে ও জুন: |
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে উপর্যুক্ত সারণীতে উল্লিখিত তারিখ সাপ্তাহিক বা সরকারি কোনো ছুটির দিন সেইক্ষেত্রে পরবর্তী কর্মদিবসে উক্ত রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]
238[***]
(৫) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইলেকট্রনিক, যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্র, ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
১৭৮। রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ এবং উহার প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ ইস্যুকরণ সম্পর্কিত উপকর কমিশনারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি যুগপৎভাবে যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ বা সম্পাদনের নিমিত্ত বোর্ড সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারি করিতে পারিবে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
কর নির্ধারণের জন্য তথ্য উপস্থাপন
১৭৯। (১) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, ধারা ১৬৬, ১৭৫ 239[, ১৭৬ বা ২১২] এর অধীন যিনি রিটার্ন দাখিল করিয়াছেন বা যাহার নিকট রিটার্ন দাখিলের নোটিশ জারি করা হইয়াছে এই ধরনের কোনো করদাতার রিটার্ন অডিট কার্যক্রম বা কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইতে পারে, সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অনধিক ৩ (তিন) বৎসর পূর্বের, এইরূপ রেকর্ড, বহি, হিসাব, বিবৃতি, নথি, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপকর কমিশনার যেকোনো রেকর্ড, বহি, হিসাব, বিবৃতি, দলিল, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা উহার কোনো অংশ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য নোটিশ জারি করিতে পারিবেন।
(৩) কোনো হিসাব, বিবৃতি, দলিল, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড নোটিশে উল্লিখিত তারিখে বা উহার পূর্বে দাখিল করিতে হইবে।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপুরণকল্পে,-
(ক) “রিটার্ন” অর্থে সংশোধিত রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) “তথ্য” অর্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১০) এ সংজ্ঞায়িত “উপাত্ত” অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(গ) “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” এবং “ইলেক্ট্রনিক বিন্যাস” অর্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৫) এবং (৭) এ সংজ্ঞায়িত “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” এবং “ইলেক্ট্রনিক বিন্যাস” অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১৮০। (১) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এই ধারার অধীন কোনো করবর্ষের জন্য “স্বনির্ধারণী রিটার্ন” দাখিল করা হইলে এই আইনের অধীন তাহার আয়, কর ও অন্যান্য দায় নির্ধারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উক্ত রিটার্ন-
(ক) ধারা ১৬৯ এ উল্লিখিত সকল বিধান পরিপালনপূর্বক দাখিল করা হয়; এবং
(খ) ধারা ১৭৩ এবং ধারা ১৭৪ এ উল্লিখিত সকল বিধান পরিপালনপূর্বক কর পরিশোধ করা হয় 240[।]
241[***]
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবার পর যদি করদাতা কর্তৃক পরিলক্ষিত হয় যে তাহার দাখিলকৃত রিটার্নে-
(ক) প্রদর্শিত 242[আয়ের কারণে]; বা
(খ) দাবিকৃত কর অব্যাহতি বা 243[ক্রেডিটের কারণে]; বা
(গ) অন্য কোনো কারণে,
এই আইনের অধীন প্রদেয় কর সঠিকভাবে পরিগণিত হয় নাই বা সঠিক অঙ্কে পরিশোধিত হয় নাই 244[বা রিটার্নে কোনো তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় নাই], তাহা হইলে তিনি একটি লিখিত বিবৃতিতে কারণ উল্লেখপূর্বক সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিতে পারিবেন 245[।]
246[***]
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাইবে না-
(ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন দাখিল করিবার তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) দিন শেষ হইবার পর;
(খ) সংশোধিত রিটার্ন প্রথমবার দাখিলের পর; বা
গ) মূল রিটার্নটি ধারা ১৮২ এর অধীনে অডিটের জন্য নির্বাচিত হইবার পর।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে, নূতন কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ব্যবসায়ের প্রারম্ভিক মূলধনের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হইবে না, যদি করদাতা-
(ক) এইরূপ খাত হইতে আয় প্রদর্শন করেন যাহা কর অব্যাহতি প্রাপ্ত নহে এবং প্রদর্শিত আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে;
(খ) প্রারম্ভিক মূলধনের ২০% (বিশ শতাংশ) এর নিম্নে নহে এইরূপ পরিমাণ আয় প্রদর্শন করেন;
(গ) রিটার্ন দাখিল করিবার সময় বা তৎপূর্বে নিয়মিত করহারে পরিগণিত কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য অঙ্ক পরিশোধ করেন;
(ঘ) প্রর্দর্শিত ব্যবসায়ের অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রমাণাদি দাখিল করেন;
(ঙ) সংশ্লিষ্ট করবর্ষের 247[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন] দাখিল করেন; এবং
(চ) লিখিতভাবে উল্লেখ করেন যে, দাখিলকৃত রিটার্নটি বকেয়া রিটার্ন নহে।
248[***]
(৬) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “নিয়মিত করহার” অর্থ এইরূপ করহার যাহা অব্যাহতিপ্রাপ্ত নয় বা হ্রাসকৃত নহে;
(খ) “বকেয়া রিটার্ন” অর্থ এইরূপ রিটার্ন যাহা আয়বর্ষ সংশ্লিষ্ট করবর্ষের মধ্যে দাখিল হয় নাই।
১৮১। (১) ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত “স্বনির্ধারণী রিটার্ন” বা সংশোধিত রিটার্ন উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে প্রসেস করিবেন, যথা:-
(ক) দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো গাণিতিক ত্রুটি অথবা উক্ত রিটার্নে বা রিটার্নের সহিত দাখিলকৃত কোনো বিবৃতি বা দলিলাদিতে বিদ্যমান কোনো তথ্যের আলোকে কোনো অশুদ্ধ দাবি পরিলক্ষিত হইলে উহা সমন্বয়পূর্বক আয় পরিগণনা করিতে হইবে;
(খ) এই আইনের অধীন প্রদেয় কর এবং অন্য কোনো অঙ্ক দফা (ক) এর ভিত্তিতে পরিগণনা করিতে হইবে; এবং
(গ) উৎস করসহ পরিশোধিত অগ্রিম কর এবং এই আইনের অধীন পরিশোধিত করের ক্রেডিট প্রদান করিয়া প্রদেয় বা প্রত্যর্পণযোগ্য কর নির্ধারণ করিতে হইবে।
(২) রিটার্ন প্রসেসের ফলশ্রুতিতে আয়, কর বা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পরিমাণের সহিত ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত “স্বনির্ধারণী রিটার্ন” বা সংশোধিত রিটার্নে প্রদর্শিত অঙ্কের পার্থক্য হইলে উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিতভাবে করদাতাকে লিখিত নোটিশ প্রদান করিবেন, যথা:-
(ক) রিটার্ন প্রসেসের ফলশ্রুতিতে পরিগণিত আয়, কর, প্রত্যর্পণযোগ্য কর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংবলিত পরিগণনা পত্র নোটিশের সহিত সংযুক্ত করিয়া পার্থক্যের পরিমাণ করদাতাকে অবহিত করিবেন;
(খ) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন প্রসেস প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত অতিরিক্ত দায় বা প্রত্যর্পণ হ্রাস সম্পর্কে লিখিতভাবে করদাতার অবস্থান ব্যাখ্যা করিবার সুযোগ প্রদান করিবেন; এবং
(গ) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, তাহাকে নিম্নবর্ণিত সুযোগ প্রদান করিবেন, যথা:-
(অ) নোটিশে উল্লিখিত পার্থক্য নিরসনক্রমে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিবার; এবং
(আ) উক্ত প্রসেসের ফলে প্রদেয় কর এবং অন্যান্য প্রদেয় অঙ্ক পরিশোধ করিবার।
(৩) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার-
(ক) নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পূরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্নের গ্রহণপত্র প্রেরণ করিবেন, যথা:-
(অ) উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) এর বিধান অনুসারে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে কিনা;
(আ) প্রসেসের ফলশ্রুতিতে এই আইনের অধীন প্রদেয় কোনো কর বা অন্যান্য অঙ্ক সংশোধিত রিটার্ন জমাকালে বা তাহার পূর্বে পরিশোধ করা হইয়াছে কিনা; এবং
(ই) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পার্থক্যটির রিটার্নে যথোচিত সুরাহা হইয়াছে কিনা;
(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত কোনো শর্ত পূরণ করা না হইলে, উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত তারিখ উত্তীর্ণ হইবার পরবর্তীতে আয়, কর, প্রত্যর্পণযোগ্য কর বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংবলিত পরিগণনা পত্রসহ একটি দাবির নোটিশ জারি করিতে হইবে;
(গ) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে দফা (খ)-তে উল্লিখিত দাবির নোটিশ জারি করিতে হইবে।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "রিটার্নে বা রিটার্নের সহিত দাখিলকৃত কোনো বিবৃতি বা দলিলাদিতে বিদ্যমান কোনো তথ্যের আলোকে কোনো অশুদ্ধ দাবি" অর্থ প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে এইরূপ কোনো দাবি, যাহা কোনো রিটার্ন বা কোনো বিবরণী বা দাখিলকৃত দলিলাদি হইতে উদ্ভূত-
(ক) কোনো আইটেম, যাহা অন্য কোনো সমজাতীয় এন্ট্রির সহিত সঙ্গতিপূর্ণ নহে, বা অন্য কোনো আইটেম, যাহা রিটার্নের কোনো বিবরণী বা দলিলাদির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ; অথবা
(খ) কোনো কর্তন, অব্যাহতি, রেয়াত বা ক্রেডিট, যেইক্ষেত্রে অনুমোদিত আইনগত সীমার আর্থিক পরিমাণ, অনুপাত বা ভগ্নাংশ হিসাবে নির্ধারিত কোনো কর্তন অব্যাহতি, রেয়াত বা ক্রেডিট সীমাকে অতিক্রম করে।
249[১৮২। (১) বোর্ড, ধারা ১৮০ এর অধীন দাখিলকৃত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিট করিবার উদ্দেশ্যে, অডিট ঝুঁকির কারণ, অডিট পরিচালনা এবং অডিট নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া উল্লেখপূর্বক অডিট নির্দেশনা প্রণয়ন করিবে।
(২) বোর্ড বা বোর্ডের অধীনস্থ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অডিট নির্দেশনা অনুযায়ী অডিটের জন্য রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন নির্বাচন করিতে পারিবে।
(৩) বোর্ডের অধীনস্থ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্বাচিত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিটের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (২) এর অধীন অডিট এর জন্য নির্বাচিত বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিট এর জন্য অনুমোদিত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন এর তালিকা প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট করদাতাকে অডিট এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(৫) অডিট সমাপনান্তে, যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এই আইনের পরিপালন এবং করদাতার আয়, ব্যয় ও পরিসম্পদ সংক্রান্ত সকল তথ্যাদি করদাতার রিটার্নে বা সংশোধিত রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি করদাতার নিকট অডিট প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন এবং একটি নোটিশ প্রেরণ করিবেন যাহাতে করদাতাকে অডিট প্রতিবেদনের ফলাফল প্রতিফলিত করিয়া প্রাসংগিক লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদিসহ একটি সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৬) করদাতা কর্তৃক সংশোধিত রিটার্ন দাখিল হইলে উপকর কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, অডিট প্রতিবেদনে উল্লিখিত ফলাফলগুলি সংশোধিত রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হইয়াছে এবং অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী করদায় এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অঙ্ক সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ করিবেন এবং অডিট নিষ্পন্ন হইয়াছে মর্মে করদাতার নিকট একটি পত্র প্রেরণ করিবেন।
(৭) উপ-ধারা (৫) এর অধীন নোটিশ পরিপালনার্থে করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত সংশোধিত রিটার্ন, ব্যাখ্যা, প্রমাণাদি সন্তোষজনক না হইলে অথবা উক্ত নোটিশ পরিপালনের ব্যর্থতায়, উপকর কমিশনার ধারা ১৮৩ বা ক্ষেত্রমত, ধারা ১৮৪ এর অধীন কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৮) যেই করবর্ষে কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে সেই করবর্ষ সমাপ্ত হইবার অনধিক ২ (দুই) করবর্ষের মধ্যে উক্ত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন উপ-ধারা (২) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত নির্বাচন বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত অনুমোদন করিতে হইবে।]
১৮৩। 251[(১) উপকর কমিশনার, এই ধারার অধীন, সংশ্লিষ্ট রিটার্ন, দলিলাদি বা এই আইনের অন্য কোনো বিধান অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে প্রদেয় আয়কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন ধারা ১৭৫ এর অধীন সাধারণ রিটার্ন হিসাবে গণ্য হইলে; বা
252[***]
(ঘ) কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান অনুযায়ী আয়কর পরিশোধের যোগ্য হইলে।]
253[***]
(৩) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার কোনো করদাতার কর নির্ধারণের জন্য করদাতার উপস্থিতি বা কোনো সাক্ষ্য প্রমাণাদির প্রয়োজন বিবেচনা করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তিকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করিবেন যে, তাহাকে-
(ক) নোটিশে উল্লিখিত তারিখ এবং সময়ে, নিজে বা অনুমোদিত প্রতিনিধি দ্বারা, উপকর কমিশনারের সম্মুখে হাজির হইতে হইবে; অথবা
(খ) নোটিশে উল্লিখিত রিটার্নের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দাখিল করিতে হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালন করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করিবেন।
(৫) উপকর কমিশনার করদাতার কর নির্ধারণ প্রক্রিয়াকালে অধিকতর শুনানি বা প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ চাহিতে পারিবেন এবং এইক্ষেত্রে নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে শুনানির বিষয়াদি উল্লেখসহ পরিপালনের ব্যর্থতায় উদ্ভূত ফলাফলের বর্ণনা উল্লেখ করিবেন।
(৬) উপকর কমিশনার শুনানির সুযোগ প্রদান ব্যতীত করদাতা কর্তৃক প্রদর্শিত কোনো ব্যয় অননুমোদন করিতে পারিবে না।
(৭) উপকর কমিশনার শুনানি অন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনাক্রমে লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কর নির্ধারণী আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশ করদাতাকে অবহিত করিবেন।
(৮) করদাতা উপ-ধারা (৩) বা (৫) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার ধারা ১৮৪ এর অধীন সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
১৮৪। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে করদাতার সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭২ এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন এবং ধারা ১৭৫ এর অধীন কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেন নাই; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ১৭২, ১৭৫, ১৮৩ এর উপ-ধারা (৩) ও (৫), ধারা ১৯৩ বা ২১২ এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইয়াছেন।
(২) প্রাপ্ত তথ্য ও বিষয়াদি বিবেচনা করিবার পর এবং মামলার আইনি ও বাস্তব দিকসমূহ যথাযথ মূল্যায়নের পর সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ করা হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কর নির্ধারণী আদেশে উপকর কমিশনার কর্তৃক সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণের ভিত্তিসমূহ প্রতিফলিত থাকিবে।
(৪) উপকর কমিশনার লিখিতভাবে বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সর্বোত্তম বিচারভিত্তিক কর নির্ধারণ আদেশ প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তাহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।
১৮৫। (১) উপকর কমিশনার কোনো আয়বর্ষে করদাতার মোট আয়ের উপর সাময়িক কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(২) সাময়িক কর নির্ধারণ নিম্নবর্ণিত সময়ে করা হইবে, যথা:-
254[(ক) যেইক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষ অতিক্রান্ত হইবার পর রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে; এবং]
(খ) যেইক্ষেত্রে 255[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে] সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন জমা করা হয় নাই।
(৩) সাময়িক কর নির্ধারণ নিম্নবর্ণিত বিষয়ের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হইবে, যথা:-
(ক) উপ-ধারা (২) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত ক্ষেত্রে, রিটার্নের ভিত্তিতে এবং হিসাব ও দলিলাদি, যদি থাকে, তৎসহ;
(খ) উপ-ধারা (২) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত ক্ষেত্রে, কোনো সহজলভ্য তথ্য বা উপাদান এবং উপকর কমিশনারের সর্বোত্তম বিচারের ভিত্তিতে।
(৪) এই ধারার অধীন সাময়িক কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার নিম্নরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) রিটার্ন, হিসাব এবং দলিলাদির কোনো গাণিতিক ত্রুটি সংশোধন;
(খ) রিটার্ন, হিসাব এবং দলিলাদি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারা ৭০ এবং ৭১ এর অধীন কোনো ক্ষতির সমন্বয় এবং জের টানা বা অবচয় ভাতার জের টানা।
(৫) পরিশোধ এবং পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সাময়িক কর নির্ধারণের ভিত্তিতে প্রদেয় কর এইরূপে বিবেচিত হইবে যেন তাহা নিয়মিত কর নির্ধারণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হইয়াছে।
(৬) এই ধারার অধীন করদায় পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত অঙ্ক ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, যথা:-
(ক) কোনো কর যাহা উৎসে কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে এবং সরকারকে প্রদান করা হইয়াছে; এবং
(খ) পরিশোধিত কোনো অগ্রিম কর।
(৭) যেইক্ষেত্রে সাময়িক কর নির্ধারণের মাধ্যমে করদাবির বিপরীতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে একই করবর্ষের জন্য নিয়মিত কর নির্ধারণের অধীন প্রদেয় কর পরিগণনার ক্ষেত্রে উক্ত পরিমাণে করের ক্রেডিট প্রদান করা হইবে।
(৮) এই ধারার অধীন কোনো সাময়িক কর নির্ধারণের কারণে কৃত কাজ বা সংক্ষুব্ধতা বা ক্ষতিগ্রস্ততা উহার নিয়মিত কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে উত্থাপিত কোনো সমস্যা নিরসনকল্পে গৃহীত উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করিবে না।
(৯) এই ধারার অধীন কৃত সাময়িক কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করা যাইবে না।
১৮৬। (১) কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার ধারা ১৭৭ এর অধীন দাখিলকৃত উৎস করের রিটার্ন হইতে কতিপয় রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করিবেন।
(২) উপকর কমিশনার নির্বাচিত উৎস কর রিটার্নের নিম্নবর্ণিত বিষয়ে অডিট পরিচালনা করিবেন, যথা:-
(ক) অংশ ৭ এবং তদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিতে বর্ণিত হারে, পরিমাণে এবং পদ্ধতিতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে কিনা;
(খ) সংগৃহীত বা কর্তনকৃত কর সরকারের হিসাবে প্রদান করা হইয়াছে কিনা, বা নির্ধারিত সময়ে এবং পদ্ধতিতে প্রদান করা হইয়াছে কিনা;
(গ) কর কর্তন বা সংগ্রহের সনদ এই আইনের বিধানানুযায়ী প্রদত্ত হইয়াছে কিনা।
(৩) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো হিসাবে দেখা যায় যে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানসমূহ অনুসরণ করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার অডিট পরিচালনার ক্ষেত্রে ধারা ১৪৩, ১৪৪ এবং ২৬৬ সহ এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন অডিটের উদ্দেশ্যে রিটার্ন নির্বাচন এবং অডিট নিষ্পন্নের উদ্দেশ্যে বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ আবশ্যিকভাবে পরিপালনীয় পূর্ণাঙ্গ অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে।
(৫) রিটার্ন দাখিলের পর ৪ (চার) বৎসর উত্তীর্ণ হইয়াছে এইরূপ কোনো রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাইবে না।
১৮৭। কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে-
(ক) প্রথমে ফার্মের বা ব্যক্তিসংঘের মোট আয় নির্ধারণ করিতে হইবে এবং অতঃপর মোট আয়ের ভিত্তিতে করদায় নিরূপণ করিতে হইবে; এবং
(খ) পরবর্তীতে 256[***] আয় অংশীদার বা সদস্যদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বন্টন করিতে হইবে।
১৮৮। (১) কোনো ফার্মের কর নির্ধারণের সময় যদি দেখা যায় যে, উহার গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন হইয়াছে, তাহা হইলে কর নির্ধারণকালে নূতনরূপে গঠিত ফার্মের কর নির্ধারণ করা হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিরুপিত কোনো করবর্ষের আয় ফার্মের অংশীদারদের মোট আয়ে অন্তর্ভুক্ত করিবার উদ্দেশ্যে, উক্ত আয়বর্ষে যেসকল অংশীদার আয়ের অংশ প্রাপ্তির অধিকারী সেইসকল অংশীদারদের মধ্যে আয় বিভাজন করিতে হইবে; এবং যখন কোনো অংশীদারের উপর ধার্যকৃত কর তাহার নিকট হইতে আদায় করা সম্ভব হইবে না তখন উহা কর নির্ধারণকালে গঠিত ফার্ম হইতে আদায় করা হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে কোনো ফার্মের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনয়ন করা হইয়াছে মর্মে প্রতীয়মান হইবে, যথা:-
(ক) যেইক্ষেত্রে অংশীদারদের নিজ নিজ শেয়ারে বা তাহাদের মাঝে কাহারও শেয়ারে পরিবর্তন হইলেও সকল অংশীদার বর্তমান থাকেন; বা
(খ) যেইক্ষেত্রে এক বা একাধিক অংশীদারের মালিকানার বিলোপ অথবা এক বা একাধিক অংশীদারের নূতন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সাধিত পরিবর্তন সত্ত্বেও ফার্মে এক বা একাধিক মূল অংশীদার বর্তমান থাকেন।
১৮৯। যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্মের কর নির্ধারণের সময় প্রতীয়মান হয় যে, কর নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট ফার্মের উত্তরসূরি হিসাবে নূতন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করা হইয়াছে এবং যাহার কর নির্ধারণ ধারা ১৮৮ দ্বারা নির্ধারণ করা সম্ভব নহে সেইক্ষেত্রে ধারা ১৯০ এর অধীন ব্যবসার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কর নির্ধারণী বিধানের আলোকে পূর্বসূরি ফার্ম এবং উত্তরসূরি ফার্ম এর জন্য পৃথক কর নির্ধারণ করিতে হইবে।
১৯০। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো ব্যবসায়ের উত্তরাধিকারী হয় সেইক্ষেত্রে-
(ক) যে বৎসর উত্তরাধিকার লাভ হইয়াছে সেই বৎসরে উত্তরাধিকার লাভের পূর্বের সময়ের জন্য পূর্বসূরির কর নির্ধারণ হইবে; এবং
(খ) উত্তরাধিকার লাভ হইবার পরবর্তী সময়ের জন্য উত্তরসূরির কর নির্ধারণ হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি পূর্বসূরি পাওয়া না যায়, তবে যে বৎসরে উত্তরাধিকার লাভ হইয়াছে সেই বৎসর বা তাহার পূর্বের বৎসরসমূহের জন্যেও উত্তরসূরির কর নির্ধারণ করা হইবে এবং এই আইনের যতটুকু প্রযোজ্য ততটুকু প্রয়োগ হইবে।
(৩) যদি কোনো ব্যবসায়ের আয়ের উপর পরিশোধযোগ্য কোনো অঙ্ক পূর্বসূরির নিকট হইতে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না হয় সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত অঙ্ক উত্তরসূরির নিকট হইতে পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন এবং উত্তরসূরি পুনরুদ্ধারকৃত অঙ্ক পূর্বসূরির নিকট হইতে পুনরুদ্ধার করিবার অধিকারী হইবেন।
১৯১। (১) ধারা ১৮৯ এর বিধান ব্যতিরেকে, যেইক্ষেত্রে কোনো অর্থবর্ষে কোনো ব্যবসা বন্ধ হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত বৎসরের কর নির্ধারণ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আয়বর্ষের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে আয়বর্ষে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সেই আয়বর্ষের শুরু হইতে যেই তারিখে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সেই সময়ের জন্য আয় পরিগণনা করা হইবে।
(৩) কোনো অর্থবৎসরে কোনো ব্যবসা বন্ধ হইলে তাহা ব্যবসা বন্ধ হইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনারকে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং নোটিশের সহিত আয়বর্ষ শেষের তারিখ হইতে যে তারিখে ব্যবসা বন্ধ হইয়াছে সে সময়কাল পর্যন্ত আয়ের রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে, তবে এইক্ষেত্রে উক্ত সময়ের জন্য আয়ের ক্ষেত্রে অর্থবৎসর ই করবর্ষ হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতায় উপকর কমিশনার ব্যবসা বন্ধের তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো অঙ্ক জরিমানা হিসাবে আদায় করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারেন, তবে এই জরিমানার অঙ্ক অব্যবহিত পূর্বের করবর্ষের করের অঙ্ক অপেক্ষা অধিক হইবে না।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন কর নির্ধারণ করিবার ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার-
(ক) যে ব্যক্তির কর নির্ধারণ হইবে তাহার;
(খ) ফার্মের ক্ষেত্রে ব্যবসা বন্ধের সময় যিনি ফার্মের অংশীদার ছিলেন তাহার; এবং
(গ) কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রধান কর্মচারীর-
উপর নোটিশ জারি করিয়া কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন সময় প্রদান করিয়া ধারা ১৬৯ অনুসারে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিবরণী এবং তথ্যসহ নোটিশে বর্ণিত বিবরণী, রেকর্ড এবং দলিলাদি সংযুক্ত করিয়া রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (৫) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ ধারা ১৭২ এর অধীন নোটিশ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এই আইনের বিধানাবলি যতটুকু প্রযোজ্য ততটুকু প্রয়োগ হইবে।
১৯২। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার হিসাবে নির্ধারিত কোনো হিন্দু পরিবারকে সেই পর্যন্ত হিন্দু অবিভক্ত পরিবার হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, যেই পর্যন্ত না, উক্ত পরিবারের পক্ষ হইতে এই ধারার অধীন উক্ত পরিবারের বিভক্তি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়।
(২) যেইক্ষেত্রে হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কর নির্ধারণের সময়, উক্ত পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক দাবি করা হয় যে, উক্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি বিভাজন ঘটিয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত পরিবারের সকল সদস্যকে নোটিশ প্রদানের পর উহার তদন্ত করিবেন।
(৩) তদন্ত সমাপ্তির পর, উপকর কমিশনার যৌথ পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজিত হইয়াছে কিনা তাহার তদন্তলব্ধ ফলাফল লিপিবদ্ধ করিবেন এবং যদি কোনো বিভক্তি থাকে তবে কোন্ তারিখে উক্ত পরিবার বিভক্ত হইয়াছে তৎসংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড করিবেন।
(৪) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, অবিভক্ত পরিবারের বিভাজন কোনো আয়বর্ষের মেয়াদ শেষ হইবার পর সংঘটিত হয়, সেইক্ষেত্রে অবিভক্ত পরিবারের আয়বর্ষের মোট আয় এইরূপভাবে নির্ধারণ করা হইবে যেন কোনো বিভাজন সংঘটিত হয় নাই; এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্য বা দলের প্রত্যেক সদস্য যে করের জন্য পৃথকভাবে দায়বদ্ধ তাহার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত পরিবারের নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের জন্য যৌথভাবে বা পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, অবিভক্ত পরিবারের বিভাজন কোনো আয়বর্ষের মধ্যে সংঘটিত হইয়াছিল, বিভাজনের তারিখের পূর্ব পর্যন্ত অবিভক্ত পরিবারের মোট আয় এইরূপভাবে নির্ধারণ করা হইবে যেন কোনো বিভাজন সংঘটিত হয় নাই; এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যে করের জন্য পৃথকভাবে দায়বদ্ধ তাহার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত পরিবারের উক্ত সময়ের জন্য নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের জন্য যৌথভাবে বা পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৬) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কর নির্ধারণ সম্পন্ন হইবার পর উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, উক্ত পরিবারের বিভাজন ইতোমধ্যে কার্যকর হইয়াছে, তাহা হইলে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নিকট হইতে কর পুনরুদ্ধারযোগ্য হইবে, বিভাজনের পূর্বে পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়বদ্ধ হইবেন।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের কোনো সদস্যের বা দলের পৃথক দায়বদ্ধতা তাহার বা বরাদ্দকৃত বিভাজিত পরিবারের সম্পত্তির অংশ অনুসারে পরিগণনা করা হইবে।
(৮) এই ধারার বিধানসমূহ, যতদূর সম্ভব, হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে উক্ত পরিবারের বিভাজনের তারিখ পর্যন্ত যেকোনো সময়ের জন্য কোনো জরিমানা, সুদ, দণ্ড বা অন্য কোনো অঙ্ক আরোপ এবং আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
১৯৩। (১) উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিতভাবে বাংলাদেশে কাজ করিবার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো 258[স্বাভাবিক] ব্যক্তির, যিনি চলতি অর্থবর্ষে বা ইহার মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার অল্প সময় পর বাংলাদেশ ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে পারেন এবং তাহার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইচ্ছে নাই, উক্ত বৎসরের মোট আয়ের উপর ভিত্তি করিয়া কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যদি পূর্বে তাহার কর নির্ধারণ হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে পূর্ববর্তী যেই আয়বর্ষে আয় নিরূপিত হইয়াছে তাহা সমাপ্ত হইবার পর হইতে যে সম্ভাব্য তারিখে বাংলাদেশ ত্যাগ করিবেন উক্ত সময়ের জন্য; এবং
(খ) যদি পূর্বে তাহার কর নির্ধারণ না হইয়া থাকে সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ ত্যাগের সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালীন পূর্ণ মেয়াদের জন্য।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিম্নবর্ণিতভাবে কর নির্ধারণ করা হইবে, যথা:-
(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের আওতাধীন প্রত্যেকটি পূর্ণ আয়বর্ষের ক্ষেত্রে, যথাসময়ে কর নির্ধারণ করা হইলে যে হারে কর আরোপ হইত সেই হার প্রযোজ্য হইবে; এবং
(খ) সর্বশেষ সমাপ্ত আয়বর্ষের পর প্রস্থানের সম্ভাব্য তারিখের মধ্যবর্তী সময়ের ক্ষেত্রে যে অর্থবর্ষে এইরূপ কর নির্ধারণ করা হইয়াছে সেই অর্থবৎসরে বলবৎ হারে এবং উক্ত আয়ের ক্ষেত্রে উক্ত সময়ের জন্য জন্যে অর্থবৎসর কেই করবর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।
(৩) এই ধারার অধীন কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে, উপকর কমিশনার সংশ্লিষ্ট 259[স্বাভাবিক] ব্যক্তিকে এ মর্মে নোটিশ জারি করিবেন যেন নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ৭ (সাত) দিনের নিম্নে নহে, দাখিল করা আবশ্যক-
(ক) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন, যেই ফরমে এবং যেই নিয়মে প্রতিপাদনপূর্বক দাখিল করিবার বিধান রহিয়াছে সেই ফরমে ও পদ্ধতিতে নোটিশে বর্ণিত অন্যান্য বিবরণাদি প্রতিপাদনপূর্বক সংযোজন করিয়া উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মেয়াদে প্রতিটি পূর্ণ আয়বর্ষের মোট আয় সংবলিত রিটার্ন; এবং
(খ) প্রতিটি পূর্ণ আয়বর্ষ উত্তীর্ণ হইবার পর হইতে তাহার বাংলাদেশ ত্যাগ করিবার সম্ভাব্য তারিখ পর্যন্ত মেয়াদে মোট আয়ের একটি প্রাক্কলন।
(৪) কর নির্ধারণের জন্য উপ-ধারা (৩) এর অধীন নোটিশটি এই আইনের সকল বিধান যতদূর সম্ভব প্রয়োগ করিয়া ধারা ১৭২ এর নোটিশ প্রদানের পদ্ধতিতে প্রদান করিতে হইবে।
১৯৪। (১) কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার আইনগত প্রতিনিধি এই আইনের অধীন প্রদেয় কোনো কর বা অন্য কোনো অর্থ প্রদানের জন্য সেইরূপে দায়বদ্ধ হইবেন, যেইরূপে উক্ত মৃত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ না করিলে দায়বদ্ধ হইতেন; এবং এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধি, করদাতা বলিয়া গণ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মৃত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিকে করদাতা হিসাবে গণ্য করিবার পূর্বে উক্ত বিষয়ে উপকর কমিশনার আইনগত প্রতিনিধির নিকট নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
(২) মৃত ব্যক্তির আয় নির্ধারণ ও কর আদায়ের উদ্দেশ্যে,-
(ক) মৃত্যুর পূর্বে মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গৃহীত যেকোনো কার্যক্রম আইনগত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে উক্ত কার্যক্রম যেই পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে চলমান থাকিবে; এবং
(খ) জীবিত থাকাকালে উক্ত মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেই কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইত, আইনগত প্রতিনিধির ক্ষেত্রেও একই কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে, এবং এই আইনের সকল বিধান যতদ্রুত সম্ভব তাহার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(৩) এই আইনের অধীন আইনগত প্রতিনিধির দায় কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হইতে দায় নিরসনের সক্ষমতা পর্যন্ত সীমিত থাকিবে।
(৪) এই ধারা এবং অন্যান্য ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, মৃত ব্যক্তির অধিকার, স্বার্থ এবং দায়বদ্ধতা জড়িত থাকিলে "আইনগত প্রতিনিধি" বলিতে নির্বাহক, প্রশাসক এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পরিচালনাকারী যেকোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
১৯৫। (১) উপকর কমিশনার 260[কোম্পানি ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তি, যাহার ইতঃপূর্বে কখনো কর নির্ধারণ হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে স্পটে কর নির্ধারণ] করিতে পারিবেন, যদি উক্ত ব্যক্তির-
(ক) 261[ব্যবসা খাতে] করযোগ্য আয় থাকে;
(খ) রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকে;
(গ) এই আইনের কোনো বিধানাবলি পরিপালনের বাধ্যবাধকতা থাকে;
(ঘ) এই আইনের কোনো বিধানাবলি কার্যকরণে বা পরিপালনে ব্যর্থ হইলে।
(২) কর কমিশনার তাহার এখতিয়ারে তাহার অধীনস্ত যেকোনো উপকর কমিশনারকে এই ধারার অধীন কর নির্ধারণের জন্য ক্ষমতার্পণ করিতে পারিবেন।
১৯৬। (১) এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৪ এ বর্ণিত আয়কর কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কর আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন সম্পন্ন কোনো কর নির্ধারণ লইয়া প্রশ্ন উত্থাপন করিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো কর্ম সম্পাদিত হইলে বা কোনো প্রকার প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে উহা বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহার কোনো প্রকার আইনি কার্যকারিতা থাকিবে না।
১৯৭। 262[(১) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে কর নির্ধারণ বা রিটার্ন প্রসেস সম্পন্ন করিতে হইবে, যথা:—
(ক) ধারা ১৮১ অনুসারে রিটার্ন প্রসেসের ক্ষেত্রে যেই করবর্ষে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে উক্ত করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ২ (দুই) করবর্ষ;
(খ) যেই করবর্ষে ধারা ১৮২ এর 263[উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অডিটের নিমিত্ত নির্বাচন বা উপ-ধারা (৩) এর অধীন অডিটের নিমিত্ত অনুমোদন] করা হইয়াছে সেই করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ২ (দুই) করবর্ষ;
264[(গ) যেই করবর্ষে কোনো রিটার্ন ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন সাধারণ রিটার্ন হিসাবে গণ্য হইয়াছে উক্ত করবর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ২ (দুই) করবর্ষ;]
(ঘ) ধারা ২৩৫ এর অধীন প্রণীত কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে সংশ্লিষ্ট করবর্ষে উক্ত আয় প্রথমবার নিরূপণযোগ্য হইয়াছে উহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) করবর্ষ 265[;]]
266[(ঙ) ধারা ১৭২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করা হইলে যে করবর্ষে নোটিশ জারি করা হইয়াছে উহা শেষ হইবার পরবর্তী ১ (এক) করবর্ষ।]
(২) ধারা ২১২ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করা হইলে যে 267[করবর্ষে] ধারা ২১২ এর অধীন নোটিশ জারি করা হইয়াছে তাহা সমাপ্তির ২ (দুই) 268[করবর্ষের] মধ্যে কর নির্ধারণ করা যাইবে।
(৩) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সময় সীমিত হইবে, ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯,২৯২, ২৯৪ বা ২৯৫ এর অধীন আদেশে প্রদত্ত পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশনার ফলে বা তাহা কার্যকর করিতে করদাতা বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য প্রণীত আদেশ বা কর নির্ধারণ, যাহাই হউক না কেন, বা ফার্মের ক্ষেত্রে ফার্মের জন্য প্রণীত কর নির্ধারণের ফলশ্রুতিতে ফার্মের অংশীদারের জন্য প্রণীত কর নির্ধারণ প্রণয়ন করিতে হইবে বা ধারা ৩০৪ এর অধীন উপনীত মতৈক্যের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত চুক্তিপত্র, যেই তারিখে উক্ত আদেশ বা চুক্তিপত্র অবহিত করা হইয়াছে তাহার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এবং এইরূপ সংশোধিত আদেশ পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করিতে হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর নির্ধারণী আদেশ নাকচ (set aside) করা হয় সেইক্ষেত্রে যেই তারিখে উক্ত আদেশ অবহিত করা হয় সেই তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে কর নির্ধারণ করিতে হইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯,২৯২, ২৯৪ বা ২৯৫ এর অধীন কোনো আদেশের মাধ্যমে কোনো করবর্ষের জন্য করদাতার কোনো আয় মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইলে অন্য কোনো করবর্ষের উক্ত আয়ের কর নির্ধারণ, এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, সেই আদেশের অন্তর্গত কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশের ফলে, বা কার্যকর করিবার লক্ষ্যে, করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) যেইক্ষেত্রে ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯,২৯২, ২৯৪ বা ২৯৫ এর অধীন কোনো আদেশের মাধ্যমে কোনো আয় কোনো ব্যক্তির মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইয়াছে এবং তাহা অন্য ব্যক্তির আয় হিসাবে ধার্য হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে, এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, শেষোক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ আয়ের কর নির্ধারণ উক্ত আদেশের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশের ফলে বা তাহা কার্যকর করিবার লক্ষ্যে করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৭) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে উপকর কমিশনার উল্লিখিত কোনো আদেশ বা নির্দেশ প্রদানে ব্যর্থ হইলে উপকর কমিশনারের উক্তরূপ ব্যর্থতা অসদাচরণ মর্মে বিবেচিত হইবে।
প্রথম অধ্যায়
আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ
১৯৮। এই অংশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(১) “তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ” অর্থ-
(অ) মহাপরিচালক (পরিদর্শন);
(আ) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);
(ই) কর কমিশনার; এবং
269[(ঈ) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার বা উপকর কমিশনার বা উপকর কমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে কর পরিদর্শক;]
(২) “আয় সম্পর্কিত রেকর্ড” অর্থ কোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম।
১৯৯। এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলির প্রয়োগ ক্ষুণ্ন না করিয়া, আয়কর কর্তৃপক্ষ এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলি প্রয়োগ করিতে পারিবে।
270[২০০। উপকর কমিশনারের নিম্নে নহে এইরূপ কোনো তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন কোনো তদন্ত সম্পর্কিত বা চলমান কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক হইতে পারে এইরূপ তথ্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে লিখিত নোটিশ দ্বারা অথবা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে এবং নোটিশে বর্ণিত পদ্ধতি ও মাধ্যমে, এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, তলব করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কর কমিশনারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কর কমিশনারের অধস্তন কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির নিকট হইতে কোনো তথ্য তলব করিতে পারিবে না।]
২০১। (১) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা সত্তাকে যেকোনো শ্রেণির ব্যক্তির সম্পদ, দায়, আয়, ব্যয় এবং লেনদেন সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ তাহার নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে এইরূপ যেকোনো প্রকার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে বোর্ড বা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য প্রদান বলিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) বোর্ডের সিস্টেমে ডেটা আপলোডকরণ;
(খ) বোর্ডের ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমে ডেটা শেয়ার;
(গ) অভিপ্রেত ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক তথ্য সিস্টেমে প্রবেশের কর্তৃত্ব প্রদান।
২০২। যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন কোনো তদন্ত সম্পর্কিত বা চলমান কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক হইতে পারে এইরূপ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনে যেকোনো ব্যবসায়িক রেকর্ডের কপি সংগ্রহ বা কপি প্রদানে বাধ্য করিতে পারিবে।
২০৩। যদি কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন কার্যক্রম তদন্তের বা অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচনা করে, তাহা হইলে উক্ত কার্যক্রমের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস সম্পর্কিত কোনো তথ্যাদির অনুসন্ধান করিতে পারিবে এবং আয়ের উৎস সম্পর্কিত তথ্য ও রেকর্ডের কপি সংগ্রহ বা কপি প্রদানে বাধ্য করিতে পারিবে।
২০৪। (১) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ, এই আইনের আওতায় 272[তাহার অধিক্ষেত্রাধীন] কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়ে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ অনুসন্ধান ও তদন্ত করিতে পারিবে অথবা উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা এইরূপ অনুসন্ধান ও তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো তথ্য বা আয়ের সহিত সম্পর্কযুক্ত কোনো দলিলাদি সরবরাহ করা বা সরবরাহ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত সময় ও স্থানে তাহার সম্মুখে উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
273[***]
দ্বিতীয় অধ্যায়
জরিপ, তল্লাশি ও জব্দ
২০৫। (১) এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তির কর সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা জরিপের উদ্দেশ্যে বোর্ড বা কর কমিশনার কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে ব্যবসা পরিচালিত হয় বা ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে আয় হয় এইরূপ যেকোনো স্থানে বা প্রাঙ্গণে গমনের ও জরিপের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
(২) আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নরূপ ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্থানে প্রবেশ করিবে, যথা:-
(ক) যদি উক্ত স্থানে ব্যবসাটি পরিচালিত হয়, তাহা হইলে কেবল যে সময়ে উক্ত স্থান ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত থাকে; এবং
(খ) অন্য কোনো ক্ষেত্রে, কেবল সূর্যোদয়ের পরে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত স্থানে প্রবেশ করিয়া, আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন, যথা:-
(ক) আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত যে রেকর্ড তদ্কর্তৃক পরিদর্শন করা হইয়াছে সেই রেকর্ডে পরিদর্শনের চিহ্ন প্রদান করত তাহা হইতে সারাংশ বা কপি সংগ্রহ;
(খ) তদ্কর্তৃক পরিদর্শনকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড কারণ রেকর্ডপূর্বক জব্দকরণ ও হেফাজতে গ্রহণ;
(গ) নগদ, অর্থ জমা বা মূল্যবান সামগ্রীসমূহের তালিকা প্রস্তুতকরণ;
(ঘ) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রাসঙ্গিক হইলে কোনো ব্যক্তিকে শপথপূর্বক তাহার বিবৃতি পরীক্ষা; এবং
(ঙ) অন্য কোনো প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান।
(৪) প্রত্যেক মালিক, বেতনভোগী কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো ব্যবসা পরিচালনা করেন, বা কোনো ব্যক্তি যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে এইরূপ কোনো স্থান বা প্রাঙ্গণে বসবাস করেন, কর্তৃপক্ষকে নিম্নবর্ণিতভাবে উক্তরূপ কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগে সহায়তা করিবে, যথা:-
(ক) কর্তৃপক্ষকে নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে-
(অ) আয়, পরিসম্পদ ও দায় সংক্রান্ত রেকর্ড পরিদর্শন ও প্রবেশ কর; অথবা
(আ) এইরূপ স্থান বা প্রাঙ্গণে প্রাপ্ত নগদ অর্থ, স্টক বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষণ; এবং
(খ) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত বা প্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ।
(৫) উপ-ধারা (৮) এর দফা (ঘ) এর অধীন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে।
(৬) এই ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ, প্রবেশকৃত স্থান বা প্রাঙ্গণ হইতে কোনো নগদ অর্থ, স্টক বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু অপসারণ করিবে না।
(৭) আয়কর কর্তৃপক্ষ কর কমিশনারের অনুমোদন ব্যতিরেকে এই ধারার অধীন হেফাজতে জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড ১ (এক) মাসের অধিক সময়ের জন্য তাহার নিকট রাখিবে না।
(৮) কর পরিদর্শক ব্যতীত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের ধারা ২২৩ এর উপ-ধারা (১) এর ক্ষমতা থাকিবে, যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কার্যাদি সম্পাদনে অপারগ হইলে বা অমান্য করিলে, যথা:-
(ক) হিসাবপত্র বা অন্যান্য দলিলপত্র পরীক্ষার জন্য আয়কর কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদান;
(খ) কোনো নগদ অর্থ, স্টক বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা করিবার অনুমতি প্রদান;
(গ) কোনো তথ্য প্রদান; বা
(ঘ) রেকর্ড বা বিবৃতি প্রদান।
২০৬। (১) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিতরূপে কোনো ব্যক্তির তথ্য তল্লাশি এবং জব্দকরণের ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন যদি বোর্ড বা তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে-
(ক) কোনো ব্যক্তি, যাহার নিকট এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশের মাধ্যমে আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে বলা হইয়াছে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি তাহা সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন;
(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপনের সম্ভাবনা নাই; অথবা
(গ) এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশ জারিকরণ বা উপস্থাপনের জন্য আয় সম্পর্কিত কোনো রেকর্ড প্রস্তুতের কারণে, উক্তরূপ আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ প্রস্তুত বা উপস্থাপনের ব্যর্থ হইয়াছে বা ব্যর্থ হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে।
(২) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ, সহকারী কর কমিশনার পদবির নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো কর্মকর্তাকে (অতঃপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলিয়া উল্লিখিত), এই ধারার অধীন তল্লাশি ও জব্দ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।
(৩) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যেকোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমানে প্রবেশপূর্বক, যেইক্ষেত্রে সন্দেহ করিবার কারণ রহিয়াছে সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বা হেফাজতে রক্ষিত কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশি;
(খ) কোনো দরজা, বাক্স, লকার, সেফ, আলমারি বা অন্য কোনো আধার খোলার চাবি পাওয়া না গেলে প্রবেশ বা তল্লাশির উদ্দেশ্যে তাহা ভাঙ্গিয়া উন্মুক্তকরণ;
(গ) এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি যিনি কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমান হইতে বাহির হইয়াছেন বা বাহির হইবার উপক্রম করিয়াছেন, বা ভিতরে রহিয়াছেন, যদি তাহার সম্পর্কে এইরূপ সন্দেহ করিবার কারণ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি তাহার হিসাব, নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেম, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী গোপন করিয়াছেন;
(ঘ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বিষয়াদি তল্লাশির ফলে পাওয়া গেলে তাহা জব্দকরণ;
(ঙ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডে শনাক্তকরণ চিহ্ন স্থাপন বা ইলেকট্রনিক সংখ্যা প্রদান বা তাহার সারাংশ তৈরি বা তৈরির উদ্যোগ বা তাহার কপি প্রস্তুতকরণ;
(চ) অর্থ, মূল্যবান ধাতব পিণ্ড, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা জিনিসপত্রের নোট তৈরি বা তালিকা প্রস্তুতকরণ; এবং
(ছ) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য, ছবি বা কোনো উপাত্ত উদ্ধারকরণ অথবা পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা ভাঙ্গিয়া প্রবেশকরণ বা আয় সংক্রান্ত তথ্য কপি বা বিশ্লেষণকরণ।
(৪) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সকল বা কোনো একটি উদ্দেশ্যে তাহাকে সহায়তা করিবার জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাহিতে পারিবেন; এবং সেবা চাহিতে পারিবেন, এবং এইরূপে সহায়তা চাওয়া হইলে উক্তরূপ কর্মকর্তা বা পেশাদার বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হইবে চাহিত সহায়তা প্রদান করা।
(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু জব্দ করা সম্ভব নহে, সেইক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাহার মালিক বা কোনো ব্যক্তি যিনি তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকেন তাহাকে এইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, তাহার পূর্ব অনুমতি ব্যতীত উহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করিবেন না; এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ পরিপালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত মালিক বা কোনো ব্যক্তি যদি এই উপ-ধারার বিধানসমূহ পরিপালনে ব্যর্থ হন এবং যদি মূল্যবান ধাতু, গহনা, মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু স্থানান্তর করেন, বা তাহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করা হয়, তাহা হইলে এইরূপ মালিক বা ব্যক্তিকে, উপকর কমিশনার মালিক হিসাবে চিহ্নিত করিতে পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন করখেলাপি হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(৬) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি বা জব্দের সময়, কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু পরীক্ষার সময় এবং কোনো ব্যক্তির দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শপথ গ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা প্রমাণে ব্যবহার করা যাইবে।
(৭) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশির সময় কোনো ব্যক্তির দখলে বা নিয়ন্ত্রণে পাওয়া যায়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ বিবেচনা করা যাইবে যে-
(ক) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা, বস্তু বা সামগ্রী উক্ত ব্যক্তির স্বত্বভুক্ত;
(খ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডের বিষয়বস্তু সত্য; এবং
(গ) এইরূপ কোনো হিসাব বহি বা দলিলাদিতে প্রদত্ত স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর সেই ব্যক্তির স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হিসাবে পরিগণিত হইবে যাহার স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হওয়া উচিত।
(৮) যেই ব্যক্তির হেফাজত হইতে উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড জব্দ করা হয়, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে তাহার উপস্থিতিতে বা তদ্কর্তৃক নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে উক্তরূপ কপি করিতে হইবে বা তাহার নিকট হইতে সারাংশ গ্রহণ করা যাইবে।
(৯) বোর্ড নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-
ক) অনুমোদিত কর্মকর্তা কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি সংক্রান্ত-
(অ) প্রবেশাধিকার নাই এইরূপ কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমানে অনুসন্ধানের জন্য মুক্ত প্রবেশাধিকার; এবং
(আ) জব্দকৃত মালামালের নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য; এবং
(খ) এই ধারার অধীন তল্লাশি ও জব্দকরণ সম্পর্কিত অন্য কোনো বিষয়।
(১০) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা, তল্লাশি ও জব্দকরণ সংক্রান্ত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যতদূর সম্ভব, এই উপ-ধারার অধীন Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(১১) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কার্যক্রম" শব্দটির অর্থ এই আইনের অধীন কোনো বৎসরের কোনো কার্যক্রম যাহা এই ধারার অধীন কোনো তল্লাশির জন্য অনুমোদিত তারিখে অনিষ্পন্ন বা উক্ত তারিখে বা ইহার পূর্বেই সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং এই আইনের অধীন সকল কার্যক্রম যাহা কোনো বৎসরে এইরূপ তারিখের পরে আরম্ভ হইয়াছে তাহা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
২০৭। (১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপকর কমিশনার পৃথক ব্যক্তি হন তাহা হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সংক্রান্ত রেকর্ড, তাহা যেই তারিখে রেকর্ড করা হয় উক্ত তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনারকে পৃথক ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো হিসাব বহি বা দলিলাদি জব্দ করা হয় সেই ব্যক্তির উপর অনুমোদিত কর্মচারীর কোনো কর্তৃত্ব না থাকে।
(৩) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনার একই ব্যক্তি হন, তবে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ যেই তারিখে জব্দ করা হয় উক্ত তারিখে তাহা উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৪) যখন কোনো ব্যক্তির আয় সম্পর্কিত রেকর্ড অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে জব্দ করা হয় সেইক্ষত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ জব্দকৃত বিষয়বস্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কর্তৃত্বসম্পন্ন উপকর কমিশনারের নিকট তাহা জব্দ করিবার তারিখের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হস্তান্তর করিবেন।
২০৮। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ জব্দ হইবার তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের অধিক সময়ের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংরক্ষণে রাখিবেন না।
(২) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্ধিত সময়সীমা পর্যন্ত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড সংরক্ষণে রাখিতে পারিবেন এবং তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো বৎসরে এই আইনের অধীন কার্যক্রম সমাপ্ত হইবার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণের মেয়াদ ৩০ (ত্রিশ) দিনের অধিক বর্ধিত করিবে না।
(৩) ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডের আইনগত অধিকারী কোনো ব্যক্তি, সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি উক্তরূপ সংরক্ষণের মেয়াদ বর্ধিতকরণের বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন, এবং বোর্ড, আবেদনকারীকে যুক্তিসংগতভাবে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ জারি করিবে।
২০৯। (১) যেইক্ষেত্রে ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত কোনো অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা জিনিস (অতঃপর সম্পদ বলিয়া উল্লিখিত), উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
(২) উপকর কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন এবং অতঃপর সম্পদ জব্দের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন,-
(ক) অপ্রদর্শিত আয় সম্পর্কে আনুমানিক হিসাব করিয়া অপ্রদর্শিত সম্পত্তি হইতে আয়সহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংক্ষেপে তাহার বিবেচনায় সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
(খ) প্রদেয় অঙ্ক পরিগণনা, যাহা নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির সমষ্টি হইবে, যথা:-
(অ) দফা (ক) এর প্রাক্কলনের ভিত্তিতে প্রদেয় কর এবং অন্য কোনো অঙ্ক; এবং
(আ) এইরূপ ব্যক্তির, বিদ্যমান যে করদায়ের জন্য করখেলাপি অথবা করখেলাপি হিসাবে বিবেচিত সেই করদায় পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্ক।
(৩) উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ৯০ (নব্বই) দিন সময় গণনাকালে, এই ধারার অধীন নির্ধারিত কোনো সময়সীমা, কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো কার্যধারা বহিভূর্ত থাকিবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে মোট আয় এবং করদায় পরিগণনার নিমিত্ত জব্দকৃত সম্পত্তি বা তাহার অংশ কোনো আয়বর্ষ বা বর্ষসমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট তাহা নিরূপণ করা সম্ভব হয় নাই সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত সম্পত্তি বা তাহার অংশবিশেষ, যাহা প্রযোজ্য, উক্ত ব্যক্তির যেই আয়বর্ষের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ করা হইয়াছে উক্ত বৎসরের হিসাবে বিবেচনা করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর অধীন কার্যক্রম সম্পন্ন করিবার পর, কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার, উপ-ধারা (২) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) যেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো অর্থ পরিশোধ করে বা সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার জব্দকৃত সম্পদ ছাড় বা তাহার নিকট উপযুক্ত মর্মে বিবেচিত এইরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।
(৭) যেইক্ষেত্রে উপ ধারা (২) এর অধীন পরিশোধ, পরিশোধের জন্য কোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা, গ্রহণ করা হয় নাই সেইক্ষেত্রে –
(ক) উক্ত ব্যক্তি অপরিশোধিত পরিমাণ কর প্রদানের জন্য করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন; এবং
(খ) ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত পরিমাণ সম্পত্তি যাহা করের অনাদায়ী অংশের আদায়ের জন্য যথেষ্ট সেই পরিমাণ সম্পদ উপকর কমিশনার হেফাজতে রাখিতে পারিবেন।
(৮) যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির দখলভুক্ত, তাহা হইলে তিনি এই ধারার অধীন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এই ধারার সকল বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(৯) যেকোনো ব্যক্তি যাহাকে উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে, তিনি যদি সংক্ষুব্ধ হন, তাহা হইলে কর কমিশনারের নিকট লিখিতভাবে আপত্তি উত্থাপন করিতে পারিবেন, এবং কমিশনার আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করিবেন।
২১০। (১) যেইক্ষেত্রে ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এর অধীন সংরক্ষণকৃত সম্পদ কেবল অর্থ হয়, বা আংশিক পরিমাণ অর্থ হয় এবং অন্যান্য অংশ হয় অন্যান্য সম্পদ, সেইক্ষেত্রে-
(ক) উপকর কমিশনার প্রথমে এই উপ-ধারার অধীন দায়ী করদাতা হিসাবে বিবেচিত ব্যক্তির অনাদায়ী পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করিবেন; এবং এইরূপ ক্ষেত্রে যেই পরিমাণ অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে পরিশোধ করা হইয়াছে সেই পরিমাণ অর্থ দায়মুক্ত হইবে; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে, দফা (ক) এর অধীন অর্থ ব্যবহারের পর, উল্লিখিত পরিমাণের যেই পরিমাণ অংশ অবশিষ্ট থাকে, উপকর কমিশনার ট্যাক্স রিকোভারি কর্মচারীর মাধ্যমে অর্থ নহে এইরূপ কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া অবশিষ্ট অনাদায়ী অর্থ পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন; এতদুদ্দেশ্যে তাহার এই আইনের অধীন কর পুনরুদ্ধারকারীর ন্যায় সকল ক্ষমতা থাকিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর কোনো বিধান এবং ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত কোনো কিছুই করদাতার নিকট হইতে এই আইনের অধীন যেকোনো উপায়ে পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করিবে না।
(৩) ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত দায় পরিশোধের পর কোনো সম্পদ বা প্রাপ্তি অবশিষ্ট থাকিলে অবিলম্বে যাহার নিকট হইতে সম্পদের হেফাজত লওয়া হইয়াছিল তাহার নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে।
তৃতীয় অধ্যায়
শুনানির জন্য তলব
২১১। (১) কোনো মামলা বিচার করিবার জন্য Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর অধীন আদালতকে যে সকল ক্ষমতা প্রদান করা হইয়াছে, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার,কর কমিশনার, মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), কর কমিশনার (আপিল) এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল এর নিম্নবর্ণিত বিষয়ে সেই একই ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-
(ক) উদঘাটন ও পরিদর্শন;
(খ) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যকরণ এবং শপথ গ্রহণ বা ঘোষণাপূর্বক তাহাকে পরীক্ষা করা;
গ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড (সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অব্যবহিত পূর্বের বা পরের দলিলাদিসহ) উপস্থাপনে বাধ্য করা; এবং
(ঘ) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন গঠন করা।
(২) কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত উপকর কমিশনার কোনো তফসিলি ব্যাংকের কোনো কর্মচারীকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করিবার বা উক্ত ব্যাংকের আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি উপস্থাপনে বাধ্য করিবার জন্য এই ধারার অধীন তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন না।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত কোনো আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করিতে পারিবেন এবং যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ মেয়াদের জন্য আটক রাখিতে পারিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার-
(ক) কারণ রেকর্ড না করিয়া আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র আটক করিবেন না; অথবা
(খ) মুখ্য কমিশনার বা কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র তাহার নিকট ১৫ (পনেরো) দিনের অধিক, ছুটির দিন ব্যতীত, আটক রাখিবেন না।
(৫) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রম, Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 196 এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, section 193 এবং 128 এর অধীন বিচারিক কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনের অধীন গৃহীত বা পরিচালিত কোনো কার্যধারায় আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ দেওয়ানি আদালতের আদেশ বলিয়া গণ্য হইবে।
২১২। কর ও অন্যান্য অঙ্ক পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া।-(১) যদি কোনো অডিট, কর নির্ধারণ বা এই আইনের আওতায় গৃহীত কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্রে, উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো করদাতা কোনো করবর্ষে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে উপকর কমিশনার উক্ত করদাতাকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে নোটিশ জারি করিয়া:
(ক) নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের জন্য রিটার্ন এবং প্রযোজ্য বিবরণী ও দলিলাদি দাখিল করিতে বলিবেন; এবং
(খ) যেই পরিমাণ কর পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা রিটার্ন দাখিলের সময় বা তাহার পূর্বে পরিশোধের জন্য বলিবেন।
(২) উপকর কমিশনার-
(ক) নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি পূরণ হইলে, রিটার্নের একটি গ্রহণ পত্র প্রেরণ করিবেন, যথা:-
(অ) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে এবং উক্ত উপ-ধারার বিধান অনুসরণপূর্বক রিটার্ন দাখিল;
(আ) রিটার্ন দাখিলের সময়ে বা তাহার পূর্বে যে অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা পরিশোধ; এবং
(ই) যে ইস্যুর জন্য কর পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে তাহা সুস্পষ্টভাবে রিটার্নে উল্লেখ;
(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত শর্তসমূহের যেকোনো একটি পূরণ করা না হইলে ধারা ১৮৩ বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ধারা ১৮৪ এর অধীন কর নির্ধারণে অগ্রসর হইবেন।
(৩) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারির পূর্বে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের নিকট হইতে লিখিত অনুমোদন গ্রহণ করিবেন, যেইক্ষেত্রে-
(ক) ধারা ১৮০ এর উপ-ধারা (১) এর বিধান পরিপালনপূর্বক সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে; অথবা
(খ) এই আইনের অন্য কোনো বিধানের অধীন সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণ সম্পন্ন করা হইয়াছে।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ জারি করিতে পারেন –
(ক) সংশ্লিষ্ট করবর্ষে কোনো রিটার্ন দাখিল ও কোনো কর নির্ধারণ করা না হইলে, যেকোনো সময়;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, যে করবর্ষে নোটিশ জারি করিবেন উহা হইতে পূর্বের ষষ্ঠতম করবর্ষ পর্যন্ত:
তবে শর্ত থাকে যে,
(অ) এই আইনের অধীন কোনো বিধানের আওতায় কোনো করবর্ষে নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করা হইলে, যে করবর্ষে নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করা হইয়াছে, সেই বৎসর সমাপ্তির পর হইতে এই ধারায় বর্ণিত মেয়াদকাল গণনা শুরু হইবে;
(আ) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির অপ্রদর্শিত কোনো পরিসম্পদ যাহা দফা (খ)-তে উল্লিখিত ষষ্ঠ করবর্ষেরও অধিককাল পূর্বে অর্জিত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিসম্পদ উক্ত ষষ্ঠতম করবর্ষে অর্জিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) কর নির্ধারণ বা এই আইনের অধীন অন্য কোনো কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে, আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর নির্ধারণ বা অন্য কোনো কার্যক্রম কোনো মেয়াদের জন্য স্থগিত রাখলে, উক্ত মেয়াদ গণনা হইতে বাদ যাইবে।
(৬) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো কর নির্ধারণ বা কোনো আদেশ রদ, নাকচ, বাতিল বা সংশোধন করা হইলে, কার্যক্রমের যে স্তরে উক্ত রদ, নাকচ, বাতিল বা সংশোধন করা হইয়াছিল তাহার পরবর্তী স্তর হইতে সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম শুরু করিতে পারিবে, এবং এই আইনের কোনো বিধান অনুসারে ইতোমধ্যে জারীকৃত কোনো নোটিশ, পুনঃজারি অথবা ইতোমধ্যে সরবরাহকৃত বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দাখিলকৃত কোনো রিটার্ন, বিবরণী বা অন্য কোনো তথ্য পুনঃসরবরাহ বা পুনঃদাখিল করিবার প্রয়োজন হইবে না।
(৭) ইতোমধ্যে কর নির্ধারণ সম্পন্ন হইয়াছে এইরূপ কোনো করদাতার সংশ্লিষ্ট করবর্ষের উপ-ধারা (২) এর আওতায় কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত ইস্যুসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিতে হইবে 274[:]
275[তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত বিষয়সমূহের বাইরে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে এইরূপ সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটিত হইলে তাহা পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে করদাতাকে অবহিতকরণপূর্বক উপ-ধারা (২) এর আওতায় কর নির্ধারণ করা যাইবে।]
(৮) কোনো করবর্ষে উপ-ধারা (২) এর অধীন কার্যক্রম পূর্বেই সম্পন্ন হইয়াছে কেবল এই কারণে উক্ত করবর্ষের জন্য এই ধারার অধীন কার্যক্রম গ্রহণে উপকর কমিশনারকে বারিত করিবে না।
(৯) এই ধারার উদ্দেশ্যপুরণকল্পে,-
(ক) এই আইনের আওতায় প্রদেয় কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে বলিতে বুঝাইবে, যদি-
(অ) কোনো আয় বা তাহার অংশ বিশেষের কর নির্ধারণ এড়াইয়া যাওয়া
হইয়াছে;
(আ) আয়ের পরিমাণ কম প্রদর্শন করা হইয়াছে;
(ই) রিটার্নে অতিরিক্ত লোকসান, বিয়োজন, ভাতা বা ছাড় দাবি করা
হইয়াছে;
(ঈ) কোনো আয়ের তথ্য গোপন বা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে বা ধারা ১৬৭ বা ১৬৮ এর অধীন দাখিলকৃত বিবরণীতে কোনো সম্পদ, দায় বা ব্যয়ের তথ্য গোপন বা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করিবার মাধ্যমে করদায় বা অন্য কোনো অঙ্কের দায় কম প্রদর্শন বা নিরূপণ করা হইয়াছে;
(উ) করযোগ্য আয় কম নিরূপিত হইয়াছে, বা প্রকৃত কর হার অপেক্ষা কম হারে আয়ের উপর কর আরোপিত হইয়াছে;
(ঊ) করযোগ্য আয়কে কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয় হিসাবে বিবেচনা করা
হইয়াছে;
(ঋ) অত্যধিক ছাড় বা লোকসান বা অবচয় ভাতা বা এই আইনের আওতায় অন্য কোনো ভাতা অনুমোদন করিয়া আয় নিরূপণ করা হইয়াছে; বা
(এ) ভিত্তি কম ধরিবার কারণে এই আইনের আওতায় প্রদেয় কর বা অন্যান্য প্রদেয় অঙ্ক কম পরিগণিত বা পরিশোধিত হইয়াছে;
(খ) সংশ্লিষ্ট করবর্ষ হইল এইরূপ করবর্ষ, যাহার ক্ষেত্রে এই আইনের আওতায় কোনো করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কোনো অঙ্ক পরিশোধ এড়াইয়া যাওয়া হইয়াছে।
২১৩। (১) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার, যদি বিবেচনা করেন যে, উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ ক্রটিপূর্ণ এবং তাহা রাজস্ব স্বার্থের পরিপন্থি, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন পরিচালিত কার্যক্রমের রেকর্ড তলব ও পরীক্ষা করিতে পারিবেন এবং করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া এবং যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন সেইরূপ তদন্ত করিবার বা করাইবার পর পরিস্থিতির নিরিখে তাহার বিবেচনায় যেইরূপ আদেশ প্রদান ন্যায়সংগত হইবে, সেইরূপ আদেশ জারি করাসহ কর নির্ধারণী আদেশ পরিবর্ধন বা পরিবর্তন বা বাতিল করিয়া নূতনভাবে কর নির্ধারণ করিবার জন্য আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
(২) কোনো ঊর্ধ্বতন আয়কর কর্তৃপক্ষ ধারা ১২ এর অধীন উপকর কমিশনারের ক্ষমতা প্রয়োগ করিলে কর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।
(৩) কোনো আদেশ জারির তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর অতিক্রন্ত হইবার পর তাহা সংশোধনের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আদেশ জারি করা যাইবে না।
(৪) ধারা ২১২ এর কোনো কিছুই, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, এই ধারার অধীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণকে বারিত করিবে না।
(৫) এই ধারায় কোনো আদেশ ক্রটিপূর্ণ হিসাবে গণ্য হইবে যদি পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার মনে করেন যে,-
(ক) আদেশে আয়ের খাত ভুল হইয়াছে;
(খ) আদেশ জারির ক্ষেত্রে, এই আইনের কোনো বিধানের ভুল ব্যাখ্যা করা
হইয়াছে;
(গ) যাচাই করিবার আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও কোনোরূপ যাচাই না করিয়া আদেশ জারি করা হইয়াছে;
(ঘ) দাবিকৃত ছাড়ের বিষয়ে কোনোরূপ তদন্ত না করিয়া ছাড় মানিয়া আদেশ জারি করা হইয়াছে;
(ঙ) আদেশে বোর্ড কর্তৃক ধারা ১০ এর অধীন জারীকৃত কোনো আদেশ, নির্দেশ বা নির্দেশনা পরিপালন বা অনুসরণ করা হয় নাই; বা
(চ) রেকর্ড হইতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, আদেশটি ক্রটিপূর্ণ।
প্রথম অধ্যায়
বকেয়া কর আদায়
২১৪। (১) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের ফলে কোনো পরিমাণ কর প্রদেয় হইলে উপকর কমিশনার, উক্ত করদাতার বরাবর (কর পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোনো ব্যক্তিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে) কর নির্ধারণী আদেশের একটি কপিসহ উক্ত প্রদেয় করের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং পদ্ধতি উল্লেখপূর্বক নির্ধারিত ফরমে একটি দাবির নোটিশ জারি করিবেন।
(২) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ফেরতযোগ্য হইলে উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত নোটিশে করদাতার নিকট ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ এবং তাহাকে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, যদি না ধারা ২২৫ এর বিধান অনুসারে এইরূপ ফেরৎ বকেয়া করের বিপরীতে সমন্বয় হয়।
(৩) করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপকর কমিশনার কোনো প্রত্যর্পণ সমন্বয় করিবেন না।
(৪) যে করদাতার উপর উপ-ধারা (১) এর অধীন দাবির নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তিনি নোটিশে বর্ণিত পরিশোধের সময় অতিবাহিত হইবার পূর্বে এবিষয়ে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিলে, উপকর কমিশনার মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন সেইরূপে পরিশোধের সময়সীমা বর্ধিত করিতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, 276[***] শর্তসহ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত দাবির নোটিশে বর্ণিত সময়ের মধ্যে অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (৪) এর অধীন বর্ধিত সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য অর্থ পরিশোধ করা না হইলে করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে।
(৬) করদাতা আরোপিত কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে অথবা উল্লিখিত করের পরিমাণের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন আপিল পেশ করিলে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।
(৭) করদাতাকে উপ-ধারা (৪) এর অধীন কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের অনুমতি প্রদান করা হইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করদাতা যদি কোনো একটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন তবে তাহাকে উক্ত দিনে অনাদায়ী অর্থের জন্য এবং অন্যান্য কিস্তি বা কিস্তিসমূহের জন্য খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং যে কিস্তিটি পরিশোধে তিনি ব্যর্থ হইয়াছেন উক্ত কিস্তি পরিশোধের জন্য ধার্য দিনই অবশিষ্ট সকল কিস্তি পরিশোধ করিবার কথা ছিল মর্মে গণ্য করা হইবে।
(৮) বাংলাদেশের বাহির হইতে উপার্জিত আয়ের উপর যদি কোনো করদাতার কর নির্ধারণ করা হয় এবং উক্ত দেশ হইতে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপিত থাকে, তবে এইরূপ নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপের কারণে যেই পরিমাণ আয় বাংলাদেশে আনয়ন করা সম্ভব হয় নাই সেই পরিমাণ আয়ের উপর আরোপিত আয়করের জন্য, বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ দূরীভুত না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার সংশ্লিষ্ট করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।
(৯) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, একজন করদাতার আয় তখনই বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে মর্মে বিবেচনা করা হইবে, যখন উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে করদাতার কোনো প্রকৃত ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতে পারিত অথবা তাহা পুঁজি আকারে বা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে।
২১৫। (১) করদাতার ব্যাংক হিসাব হইতে সরাসরি সরকারের ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফারের মাধ্যমেও করদাতার নিকট হইতে বকেয়া কর আদায় করা যাইবে।
(২) করদাতার পাওনা অর্থ করদাতার ব্যাংক হিসাবে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(৩) এই আইন বা অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, করদাতা স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করিলে, উপকর কমিশনার কর্তৃক রিটার্ন প্রসেস (process) সম্পন্ন হইবার ফলে প্রর্ত্যপণ সৃষ্টি হইলে উক্ত প্রর্ত্যপণ করদাতার রিটার্নে উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফার করিতে হইবে।
(৪) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩)-এ বর্ণিত ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কর আদায় বা ফেরত প্রদানের পদ্ধতি, শর্ত, যোগ্যতা ও সীমা নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
২১৬। (১) বকেয়া কর পরিশোধে কোনো করদাতা খেলাপি হইলে বা খেলাপি হিসাবে গণ্য হইলে উপকর কমিশনার করদাতার নিকট পাওনা বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখপূর্বক তাহা আদায়ের উদ্দেশ্যে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট তাহার স্বাক্ষরে সার্টিফিকেট প্রেরণ করিতে পারিবেন; এবং বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য অন্য যেকোনো কার্যক্রম গৃহীত হওয়া সত্ত্বেও এতদ্প্রকার সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো সার্টিফিকেট নিম্নবর্ণিত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারগণের নিকট প্রেরণ করা যাইবে, যথা:-
(ক) যেই ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীনে করদাতা ব্যবসা পরিচালনা করেন অথবা যেখানে করদাতার ব্যবসার প্রধান স্থান অবস্থিত;
(খ) যেই ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীনে করদাতা বসবাস করেন অথবা করদাতার কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অবস্থিত; বা
(গ) উপকর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণযোগ্য কোনো করদাতা, যাহার উপর সংশ্লিষ্ট যে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্র রহিয়াছে।
২১৭। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার ধারা ২১৬ এর অধীন সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক করদাতার নিকট হইতে সার্টিফিকেটে বর্ণিত অর্থ নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক পদ্ধতিতে আদায় করিবেন, যথা:-
(ক) করদাতার যেকোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, অবরুদ্ধ বা ক্রোকপূর্বক বিক্রয় অথবা বাজেয়াপ্ত, অবরুদ্ধ বা ক্রোক না করিয়া বিক্রয়ের মাধ্যমে;
(খ) করদাতাকে গ্রেপ্তার এবং তাহাকে কারাগারে আটক রাখিবার মাধ্যমে;
(গ) করদাতার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
(২) ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার, তাহার নিকট উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ আদায়কালে খেলাপি করদাতার নিকট হইতে উক্ত অর্থ ছাড়াও একই পদ্ধতিতে বকেয়া কর আদায় কার্যক্রমের সহিত সংশ্লিষ্ট যেকোনো খরচ ও চার্জসহ কোনো নোটিশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ব্যয়িত অর্থও আদায় করিতে পারিবেন।
(৩) ধারা ২১৬ এর অধীন সার্টিফিকেট অগ্রায়ন করা হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যদি তাহার অধিক্ষেত্রাধীন কোনো করদাতার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ আদায় করিতে সক্ষম না হন, কিন্তু তাহার নিকট এই মর্মে তথ্য থাকে যে, অন্য ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় উক্ত করদাতার সম্পত্তি রহিয়াছে, তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যাহার অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় উক্ত করদাতার সম্পত্তি রহিয়াছে বা উক্ত করদাতা বসবাস করেন, তাহার নিকট সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট পাঠাইতে পারিবেন, অতঃপর উক্ত সার্টিফিকেট প্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অধ্যায়ের অধীন অবশিষ্ট অনাদায়ী অঙ্ক আদায়ের জন্য এইরূপভাবে অগ্রসর হইবেন, যেন তিনি উক্ত সার্টিফিকেটটি উপকর কমিশনারের নিকট হইতে প্রাপ্ত হইয়াছেন।
২১৮। (১) ধারা ২১৬ এর অধীন কর আদায়ের লক্ষ্যে সার্টিফিকেট ইস্যু করা সত্ত্বেও, উপকর কমিশনার ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারকে ইন্টিমেশন প্রদান করিয়া, তাহা প্রত্যাহার করিবার অথবা কোনো করণিক বা গাণিতিক ভুল সংশোধনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
(২) যেই পরিমাণ করদাবি আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট জারি করা হয়, আপিল বা এই আইনের আওতায় পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে যদি তাহা হ্রাস পায়, কিন্তু আদেশটি চূড়ান্ত মীমাংসার লক্ষ্যে এই আইনের আওতায় আরও কার্যক্রম গ্রহণের আবশ্যকতা থাকে তবে সেইক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত পরবর্তী আপিল বা মামলার অন্য কোনো কার্যক্রম অমীমাংসিত থাকিবে ততক্ষণ পর্যন্ত উপকর কমিশনার সার্টিফিকেট হইতে হ্রাসকৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায় স্থগিত রাখিবেন।
(৩) বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সার্টিফিকেট ইস্যু করিবার পর আপিল বা এই আইনের অধীন পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বকেয়া দাবির পরিমাণ হ্রাস পাইলে এবং আদেশটির বিষয়বস্তু আপিল বা এই আইনের অধীন পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রম চূড়ান্ত এবং সমাপ্তিমূলক হইলে উপকর কমিশনার সার্টিফিকেটটির প্রয়োজনীয় সংশোধন বা, প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে, প্রত্যাহার করিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার কর আদায় সংক্রান্ত সার্টিফিকেটটি বাতিলকরণ, ভুল সংশোধন, কার্যক্রম স্থগিতকরণ, প্রত্যাহার বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশোধন সংক্রান্ত আদেশ সম্পর্কে আদায়কারী কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।
২১৯। উপকর কমিশনার ধারা ২১৬ এর অধীন কর আদায়ের নিমিত্তে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট সার্টিফিকেট প্রেরণ করিলে করদাতা কর নির্ধারণের সঠিকতার বিষয়ে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট আপত্তি তুলিবেন না এবং ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার সার্টিফিকেটের কোনো গ্রাউন্ডের বিষয়ে কোনোরূপ আপত্তি গ্রহণ করিবেন না।
২২০। (১) উপকর কমিশনার, যেই জেলায় তাহার অফিস অবস্থিত সেই জেলার কালেক্টর বরাবর অথবা যে জেলায় করদাতা বসবাস করেন বা সম্পত্তির মালিক বা ব্যবসা পরিচালনা করেন সেই জেলার কালেক্টর বরাবর বকেয়া পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করিয়া তাহার স্বাক্ষরযোগে সার্টিফিকেট প্রেরণ করিতে পারিবেন, এবং কালেক্টর এইরূপ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর করদাতার নিকট হইতে উক্ত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত বকেয়া অর্থ ভূমি রাজস্বের বকেয়ার ন্যায় বিবেচনা করত তাহা আদায়ের ব্যবস্থা করিবেন।
(২) জেলা কালেক্টরের অন্য কোনো ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর বিধান মোতাবেক ডিক্রির আওতায় অর্থ আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতের যে ক্ষমতা রহিয়াছে, উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার নিকট প্রেরিত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত বকেয়া আদায়ের জন্য জেলা কালেক্টরেরও সেই ক্ষমতা থাকিবে।
(৩) উপকর কমিশনার যেকোনো সময় উপ-ধারা (১) এর অধীন জেলা কালেক্টরের নিকট প্রেরিত সার্টিফিকেট প্রত্যাহার করিয়া আনিতে পারিবেন এবং এইরূপ প্রত্যাহার করিয়া আনিবার ফলে সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল হইবে।
(৪) সার্টিফিকেট প্রত্যাহার দ্বারা কালেক্টর কর্তৃক উক্ত প্রত্যাহারের পূর্ব আদায় ক্ষুণ্ন হইবে না, এইক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থের জন্য সার্টিফিকেট প্রত্যাহার করা হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে; অথবা নূতন করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যুর মাধ্যমে সার্টিফিকেট প্রত্যাহারের সময় আদায়যোগ্য অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হইবে না।
২২১। (১) বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে ধারা ২১৬ বা ধারা ২২০ এর অধীন সার্টিফিকেট ইস্যু করা সত্ত্বেও, উপকর কমিশনার উপ-ধারা (২) বা (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে উহা আদায় করিতে পারিবেন।
(২) কোনো আপিল ফোরামে বিচারাধীন নহে করদাতার নিকট এইরূপ করদাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উপকর কমিশনার, করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, উল্লিখিত করদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উক্ত করদাতার ব্যবসার স্থান হইতে যেকোনো পণ্য এবং সেবার স্থানান্তর নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন এবং ব্যবসার স্থান বন্ধও করিতে পারিবেন অথবা এইরূপ কর আদায়ের জন্য যেকোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৩) করদাতার নিকট পাওনা করদাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে, উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, নিম্নবর্ণিত যেকোনো ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বর্ণিত সরকারি কোষাগারে অর্থ জমাদান বা কর্তনপূর্বক অর্থ জমাদান করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং, ক্ষেত্রমত, অর্থ বা পরিসম্পদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যাহার নিকট করদাতার কোনো অর্থ বা পণ্য পাওনা রহিয়াছে বা পাওনা হইতে পারে;
(খ) যিনি করদাতার মালিকানাধীন অর্থ বা পণ্য ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বা পরবর্তীকালে ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন;
(গ) করদাতার পক্ষে করদাতার কোনো পরিসম্পদ, তাহা যেই প্রকারের হউক না কেন, ধারণ করেন বা তত্ত্বাবধান বা পরিচালনা করেন;
(ঘ) যিনি কোনো অনিবাসী করদাতার এজেন্ট হিসাবে অনিবাসী পক্ষে কোনো পরিসম্পদ বা পণ্য ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বা পরবর্তীকালে ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করিতে পারেন;
(ঙ) যিনি করদাতার চাকরি হইতে আয় খাতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত; বা
(চ) যিনি করদাতার “ভাড়া হইতে আয়” খাতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধ
করেন।
(৪) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে কোনো অর্থ পরিশোধ করিলে, এইরূপ পরিশোধ করদাতার নিয়ন্ত্রণাধীনে তাহার দ্বারা সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং উপকর কমিশনার, উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে যেই পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করিয়া রশিদ দিবেন করদাতার নিকট হইতে উক্ত ব্যক্তি সেই পরিমাণ দায় হইতে মুক্তি পাইবেন মর্মে গণ্য হইবে।
(৫) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর অধীন নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও নোটিশ অনুসারে অর্থ পরিশোধে বা কর্তনে ব্যর্থ হন, তবে নোটিশে বর্ণিত অর্থের জন্য তাহাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং অর্থ আদায়ের জন্য তাহার বিরুদ্ধে এইরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে যাহাতে বকেয়া কর তাহার নিকট পাওনা এবং এইক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের বিধানাবলি সমভাবে প্রযোজ্য হইবে।
(৬) উপকর কমিশনার যেকোনো সময় উপ-ধারা (৩) এর অধীন ইস্যুকৃত নোটিশ সংশোধন বা প্রত্যাহার করিতে পারিবেন অথবা এইরূপ নোটিশ অনুসারে যেকোনো অর্থ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৭) উপকর কমিশনার বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে করদাতার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিবার জন্য সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নোটিশের মাধ্যমে নির্দেশ দিবেন এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবা সরবরাহের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি এই ধারার অধীন নোটিশ প্রাপ্তির ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে উক্ত সেবাসমূহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিয়া দিবেন।
(৮) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা 277[(৭)] এর অধীন প্রাপ্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যক্তি নিজে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন এবং বকেয়া করদাবি পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হইবেন।
(৯) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৭) এর অধীন প্রাপ্ত নোটিশ পরিপালন করিয়া কোনো গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিয়াছেন সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের নিকট হইতে অনুমতি প্রাপ্তির পর উক্তরূপ সেবার সংযোগ পুনর্বহাল করিবেন।
(১০) যেইক্ষেত্রে কমিশনার নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত এলাকায় বলবৎযোগ্য বকেয়া পৌর কর আদায় বা বাংলাদেশের যেকোনো অংশে প্রযোজ্য আইন অনুসারে ধার্যকৃত স্থানীয় কর অথবা বাংলাদেশে বলবৎ অন্যান্য আইনে কর আদায়ের জন্য যেই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়, সেই প্রক্রিয়ায় কর আদায় করিতে হইবে এবং সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য এইরূপ একই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হইবেন।
(১১) উপ-ধারা (১০) এর আওতায় পৌর কর, স্থানীয় কর বা অন্যান্য কর আদায় করিবার জন্য কোনো বিধিবদ্ধ আইনের আওতায় প্রয়োগযোগ্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে বা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন), Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর কর আদায় করিবার জন্য প্রয়োগযোগ্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কী ধরনের ক্ষমতা ও কর্তব্য কী পরিমাণে অনুশীলন করা হইবে, তাহা কমিশনার কর্তৃক নির্ধারণ করিয়া দেওয়া থাকিবে।
২২২। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা এই আইনের কোনো ধারা বা বিধানানুসারে কর আদায় কার্যক্রম চলমান থাকিলে তাহা এই আইন বা অন্য কোনো আইনের অন্য কোনো ধারা বা বিধানানুসারে অন্য কোনো প্রকারে কর আদায় কার্যক্রম গ্রহণকে বারিত করিবে না।
দ্বিতীয় অধ্যায়
অন্তর্বর্তীকালীন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক
২২৩। (১) এই আইনের অধীন কার্যসম্পাদনকালে, যেইক্ষেত্রে মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) বা কমিশনারের নিকট এই মর্মে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে যে, কোনো ব্যক্তি তাহার আয় বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি গোপন করিয়াছেন 278[বা এই আইনের ধারা ২১২ এ উল্লিখিত কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া গিয়াছেন], সেইক্ষেত্রে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তি, যাহার অধিকারে এই মুহূর্তে কোনো অর্থ, বুলিয়ান, অলংকার, আর্থিক দলিল, আর্থিক পরিসম্পদ, মূল্যবান দ্রব্য বা অন্য কোনো সম্পত্তি রহিয়াছে তাহাকে আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তাহা অপসারণ, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে বিলিব্যবস্থা না করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন ।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে এক বৎসর উত্তীর্ণ হইবার পর এইরূপ আদেশের কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয়কর কর্তৃপক্ষ বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে, উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধির সময় কোনোক্রমেই সাকুল্যে ১ (এক) বৎসরের অধিক হইবে না।
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত মেয়াদ হিসাব করিবার ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ আদালত কোনো মেয়াদের জন্য স্থগিত করিলে উক্ত মেয়াদ, যদি থাকে, গণনা হইতে বাদ যাইবে।
তৃতীয় অধ্যায়
প্রত্যর্পণ ও সমন্বয়
২২৪। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপকর কমিশনারকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করেন যে, কোনো বৎসরে তাহার দ্বারা বা তাহার পক্ষে পরিশোধিত করের পরিমাণ অথবা তাহার দ্বারা বা তাহার পক্ষে পরিশোধিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত করের পরিমাণ উক্ত বৎসরে তাহার নিকট এই আইনের অধীন দাবিকৃত করদায় অপেক্ষা অধিক, সেইক্ষেত্রে পরিশোধিত তিনি অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যর্পণ পাইবার অধিকারী হইবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আয় এই আইনের কোনো বিধানাবলে অন্য কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে এইরূপ অন্য কোনো ব্যক্তি এককভাবে এইরূপ আয়ের প্রেক্ষিতে এই আইনের অধীন প্রত্যর্পণ পাইবার অধিকারী হইবেন।
২২৫। (১) এই আইনের বিধানাবলি, Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984), Gift Tax Act, 1963 (Act No. XIV of 1963) অথবা দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) বা Wealth Tax Act, 1963 (Act No. XV of 1963) এর অধীন কোনো করদাতার নিকট কোনো মেয়াদে কোনো অর্থ বকেয়া থাকিলে, উক্ত করদাতাকে প্রত্যর্পণযোগ্য অর্থ পরিশোধের পূর্বে উক্ত বকেয়া সমন্বয় করা হইবে।
(২) কোনো মেয়াদের জন্য বকেয়া কোনো পাওনার বিপরীতে প্রত্যর্পণযোগ্য অর্থের সমন্বয় করা হইলে, সমন্বয়কৃত অর্থ করদাতাকে পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং উপকর কমিশনার এতদুদ্দেশ্যে করদাতার কর রেকর্ডে তাহা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিবেন।
২২৬। এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের ফলে কোনো অঙ্ক প্রত্যর্পণযোগ্য হইলে প্রত্যর্পণযোগ্য পরিমাণ করদাতার ব্যাংক হিসাবে ইলেক্ট্রেনিক ট্রান্সফার না করিলে করদাতা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ফেরতের দাবি করিতে পারিবেন।
২২৭। মৃত্যু, অক্ষমতা, দেউলিয়াত্ব, অবসায়ন বা অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি তাহার পাওনা অর্থ ফেরৎ পাইবার দাবি করিতে বা গ্রহণ করিতে অসমর্থ হইলে, তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি বা ট্রাস্টি, অভিভাবক বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, রিসিভার উক্ত ব্যক্তি বা তাহার ভূ-সম্পত্তির সুবিধার নিমিত্তে বর্ণিত ফেরত দাবি বা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
২২৮। এই অধ্যায়ের অধীন কোনো ফেরত প্রাপ্তির দাবির ক্ষেত্রে কোনো দাবিদার কোনো কর নির্ধারণী আদেশের সঠিকতা বা বৈধতার বিষয়ে অথবা অন্য কোনো বিষয় যাহা চূড়ান্ত ও সমাপ্ত হইয়াছে, তাহা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করিতে পারিবেন না বা উক্ত বিষয় পুনঃ বিবেচনার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন না এবং দাবিদার অতিরিক্ত কর পরিশোধের কারণে অর্থ ফেরত পাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাইবার অধিকারী হইবেন না।
২২৯। কোনো আপিল আদেশ বা এই আইনের আওতায় গৃহীত অন্য কোনো কার্যক্রমের অধীন করদাতার নিকট কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য হইলে, উক্ত পরিমাণ অর্থ যদি প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় করা না হয় বা ধারা ২২৫ এর বিধান মোতাবেক পরিশোধ বিবেচনা করা না হয়, তাহা হইলে এতদবিষয়ে করদাতা কোনো দাবি উপস্থাপন না করিলেও, যেই তারিখে করদাতার উক্ত কর ফেরতযোগ্য হইয়াছে সেই তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনার করদাতাকে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদান করিবেন।
প্রথম অধ্যায়
কর পরিহার রোধ সংক্রান্ত সাধারণ বিধানাবলি
২৩০। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(১) “কর সুবিধা” অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, আয়করদায় পরিহার বা হ্রাস করা;
(খ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো ব্যক্তিকে আয়কর পরিশোধের দায় হইতে, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় হইতে মুক্ত করা;
(গ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো করদায়, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের কোনো সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় পরিহার, স্থগিত বা হ্রাসকরণ;
(ঘ) আয়কর পরিশোধে বিলম্বকরণ;
(ঙ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ এবং সরকারি কোষাগারে উক্ত কর জমা প্রদানের বাধ্যবাধকতা পরিহার;
(২) “ব্যবস্থা” অর্থ বলবৎযোগ্য বা অবলবৎযোগ্য কোনো সম্মতি, চুক্তি, পরিকল্পনা বা সমঝোতা এবং উক্ত সকল পদক্ষেপ ও লেনদেন যাহার মাধ্যমে তাহা কার্যকর হয়;
(৩) “কর ব্যবস্থার অপব্যবহার” অর্থ কোনো ব্যবস্থা, যাহার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তি যাহার মাধ্যমে সম্পাদিত হউক না কেন –
(ক) যাহা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো সরল উদ্দেশ্যে (bonafide purpose) গৃহীত বা সৃজিত হয়; বা
(খ) যাহা, একাধিক ব্যবস্থার একটি অংশ এবং উক্ত একাধিক ব্যবস্থা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত একাধিক ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দশ্যে ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গৃহীত বা সৃজিত হয়।
২৩১। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো কার্যক্রম চলাকালে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর ব্যবস্থার (tax arrangement) অপব্যবহারের মাধ্যমে কর সুবিধা নিয়েছেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই ধারায় উল্লিখিত কার্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দ্বারা উক্ত অপব্যবহারের মাধ্যমে গৃহীত কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সমন্বয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-
(ক) আয় বৃদ্ধিকরণ;
(খ) করদায় সংশোধন;
(গ) কর প্রত্যর্পণের সমন্বয়;
(ঘ) ভাতাদি, রেয়াত ইত্যাদির সংশোধন;
(ঙ) অন্য কোনো আদেশ যাহা কর সুবিধা প্রত্যাহার করে।
(৩) এই ধারার অধীন যেকোনো সমন্বয় এই আইনের অধীন সকল উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কার্যকর থাকিবে।
২৩২। (১) কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত বিষয় উল্লেখপূর্বক করদাতার প্রতি নোটিশ জারি করিবেন, যথা:-
(ক) করদাতা কর ব্যবস্থার 279[অপব্যবহারের] মাধ্যমে কর সুবিধা গ্রহণ করিয়াছেন মর্মে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ;
(খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সমন্বয়ের উদ্দেশ্য উল্লেখসহ যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক তাহার বিবরণ;
(গ) করদাতাকে নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপকর কমিশনারের নিকট হাজির
হইবার;
(ঘ) কর সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিবরণী, দলিলাদি ও তথ্যাদি উপস্থাপনের।
(২) কর সুবিধা সমন্বয়ের করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং করদাতার উপর উক্ত শুনানির জারীকৃত নোটিশ অবহিতকরণের তারিখ হইতে শুনানির দিন পর্যন্ত অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় প্রদান করিতে হইবে।
(৩) উপকর কমিশনার রেকর্ড, করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত ও শুনানিকালে উপস্থাপিত দলিলাদির ভিত্তিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত সকল তথ্যাদি বিবেচনাপূর্বক কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করিবেন এবং আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়
ট্রান্সফার প্রাইসিং
২৩৩। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(১) “আর্মস লেংথ প্রাইস” অর্থ কোনো লেনদেনের মূল্য যাহার শর্তাদি (যেমন মূল্য, মার্জিন বা মুনাফার বিভাজন) তুলনীয় পরিস্থিতির অধীন স্বাধীন সত্ত্বাসমূহের মধ্যে পরিচালিত কোনো তুলনীয় অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্তাদি হইতে ভিন্ন হয় নাই;
(২) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অথবা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ দ্বারা সম্পর্কিত, এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত নিম্নবর্ণিত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, যথা:-
(ক) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরিগণসহ), প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা এক) বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে, উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে;
(খ) এক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন শেয়ার ধারণ করে;
(গ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ [তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন পূর্বসূরিগণসহ], প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে উভয় শেয়ার ধারণ করে;
(ঘ) এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ঙ) একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাহী পরিচালক বা গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি হন;
(চ) উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(ছ) উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বা নির্বাহী সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;
(জ) একটি প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করিবার কার্যকর ক্ষমতা থাকে;
(ঝ) উভয় প্রতিষ্ঠান একই প্যারেন্ট কোম্পানি বা গ্রুপের সদস্য, সাবসিডিয়ারি বা কনসার্ন;
(ঞ) উভয় প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্বন্ধযুক্ত থাকে;
(ট) এক প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্রমযোজিত দায়ের পরিমাণ ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক হয়; বা
(ঠ) এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রদত্ত গ্যারান্টির ক্রমযোজিত পরিমাণ অন্য প্রতিষ্ঠানের মোট দেনার বুক ভ্যালুর ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক হয়;।
(৩) “প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা যেকোনো প্রকারের উদ্যোগ (উক্ত ব্যক্তি বা উদ্যোগের স্থায়ী স্থাপনাসহ);
(৪) “স্বাধীন প্রতিষ্ঠান” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে এইরূপ প্রতিষ্ঠান;
(৫) “আন্তর্জাতিক লেনদেন” অর্থ কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মধ্যে, যাহার কোনো একটি বা উভয়ই অনিবাসী, ট্যানজিবল বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা লিজ অথবা সেবা বিনিময়, বা অর্থ ধার দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো লেনদেন, অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মুনাফা, আয়, ক্ষতি, পরিসম্পদ, আর্থিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক মূল্যের সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো লেনদেনকে বুঝাইবে, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হইবে খ এর সহিত গ এর কোনো লেনদেন যদি উক্ত লেনদেনের উপর ক এর কর্তৃত্ব থাকে, যেইক্ষেত্রে-
(ক) খ ও ক সহযোগী প্রতিষ্ঠান; এবং
(খ) গ, খ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে;
(৬) “সম্পত্তি” অর্থ পণ্য, আর্টিকেল, সামগ্রী বা আইটেম, পেটেন্ট, ইনভেনশন, ফর্মুলা, প্রসেস, নকশা, প্যাটার্ন, বাস্তবজ্ঞান, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, ট্রেড নাম, ব্রান্ড নাম, সাহিত্য, সংগীত বা শৈল্পিক কম্পোজিশন, ফ্রানসাইজি, লাইসেন্স বা চুক্তি, পদ্ধতি, প্রোগ্রাম, সফটওয়ার, ডাটাবেজ, সিস্টেম, কার্যপ্রণালি, প্রচারাভিযান, জরিপ, সমীক্ষা, পূর্বাভাস, প্রাক্কলন, ক্রেতা তালিকা, কারিগরি উপাত্ত, যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি বা বিজ্ঞাপন বা বিপণন, কোনো আইটেম যাহার প্রকৃত মূল্য রহিয়াছে বা যেকোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৭) “রেকর্ড” অর্থ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ধারণকৃত তথ্য, দলিল এবং রেকর্ড ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(৮) “ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা” অর্থ ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা হিসাবে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ;
(৯) ”লেনদেন” অর্থে দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যকার কোনো ব্যবস্থা, সমঝোতা বা কার্য অন্তর্ভুক্ত হইবে, তাহা আনুষ্ঠানিক বা লিখিত হউক বা না হউক বা যাহা কোনো আইনি কার্যধারার মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করিবার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক;
(১০) “অনিয়ন্ত্রিত লেনদেন” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘটিত কোনো লেনদেন।
২৩৪। অংশ ১৫ এর তৃতীয় অধ্যায় এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আন্তর্জাতিক লেনদেন হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা ব্যয়ের পরিমাণ আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করিতে হইবে।
২৩৫। (১) লেনদেনের প্রকৃতি, নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রাপ্যতা, সম্পাদিত কার্যাদি, নিযুক্ত সম্পদ, গৃহীত ঝুঁকি কিংবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ফ্যক্টরের ভিত্তিতে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি (method) অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে হইবে, যথা:-
(ক) কমপারেবল আনকন্ট্রোলড প্রাইস মেথড (comparable uncontrolled price method);
(খ) রিসেল প্রাইস মেথড (resale price method);
(গ) কস্ট প্লাস মেথড (cost plus method);
(ঘ) প্রফিট স্প্লিট মেথড (profit split method);
(ঙ) ট্রানজেকশনাল নেট মার্জিন মেথড (transactional net margin
method);
(চ) অন্য যেকোনো পদ্ধতি, যেইক্ষেত্রে প্রমাণ দেওয়া যায় যে,-
(অ) আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবার জন্য দফা (ক) হইতে (ঙ) এ উল্লিখিত কোনো পদ্ধতি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা সম্ভবপর নহে; এবং
(আ) উক্ত পদ্ধতি আর্মস লেংথ প্রাইসের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে।
(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) বা (চ) এ উল্লিখিত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনো একটি পদ্ধতিকে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি হিসাবে প্রয়োগ করা হয় এবং আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ৬ (ছয়) বা তাহার অধিক এন্ট্রি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডাটাসেটের ৩০ (ত্রিশ) হইতে ৭০ (সত্তর) পার্সেন্টাইল মধ্যে অবস্থিত ডাটা লইয়া একটি আর্মস লেংথ রেঞ্জ গঠন করিতে হইবে এবং নিম্নবর্ণিত শর্তানুসারে আমর্স লেংথ প্রাইস নির্ধারিত হইবে, যথা:-
(ক) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরি-বর্ণিত রেঞ্জের মধ্যে থাকে তবে উক্ত মূল্যই আর্মস লেংথ প্রাইস হিসাবে বিবেচিত হইবে;
(খ) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরোল্লিখিত রেঞ্জের মধ্যে না থাকে তবে ডাটাসেটের মধ্যমাকে আর্মস লেংথ প্রাইস ধরিতে হইবে;
(গ) যদি আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ছয়ের কম সংখ্যক এন্ট্রি থাকে, তবে ডাটাসেটের অন্তর্ভুক্ত সকল ভ্যালুর গাণিতিক গড়ই হইবে আমর্স লেংথ প্রাইস।
(৩) আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের জন্য উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত মেথড বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইসের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত মোট আয় উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রকৃতপক্ষে যে মূল্যে সম্পন্ন হইয়াছিল সেই মূল্যই ধার্য বা পরিশোধিত বিবেচিত হইলে যে মোট আয় পাওয়া যেতো তাহা অপেক্ষা কম হইবে না।
(৪) যেইক্ষেত্রে অংশ ১০ এর অধীন কোনো কর নির্ধারণকালে উপকর কমিশনার এইরূপ অভিমত পোষণ করেন যে,-
(ক) করদাতা কর্তৃক আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ধার্যকৃত বা পরিশোধিত মূল্য উপ-ধারা (১) ও (৩) অনুসারে নির্ধারণ করা হয় নাই;
(খ) করদাতা ধারা ২৩৭ অনুসারে তথ্য, দলিলাদি বা রেকর্ড রাখিতে ব্যর্থ হইয়াছে; বা
(গ) করদাতা কর্তৃক যে তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইয়াছে তাহা নির্ভরযোগ্য বা শুদ্ধ নহে,
সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার তাহার নিকট প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে উপ-ধারা (১) ও (৩) এর বিধানাবলি অনুসারে উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার তাহার নিকটে প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে কেন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইবে না তৎমর্মে নোটিশ প্রদানপূর্বক নোটিশে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে করদাতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিবেন।
(৬) যেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারা (৪) ও ধারা ২৩৬ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্তরূপে নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনা করিয়া লিখিত আদেশ দ্বারা করদাতার মোট আয় পরিগণনা শুরু করিবেন।
২৩৬। (১) ধারা ২৩৫ এই যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে উপকর কমিশনার ধারা ২৩৫ এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের বিষয়টি ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মচারীর কাছে প্রেরণ করিতে পারিবেন;
(খ) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করিতে পারিবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রেফারেন্স অথবা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা করদাতাকে বিচারাধীন আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা করিবার জন্য করদাতা যেসকল প্রমাণাদির উপর নির্ভর করিয়াছিল তাহা নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপস্থাপনের বা উপস্থাপন করানোর জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন।
(৩) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিকট উপস্থাপিত প্রমাণ বা তিনি কোনো বিশেষ পয়েন্টে করদাতার নিকট বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো প্রমাণ অধিযাচন করিলে তৎসহ তাহার নিকট প্রাপ্ত বা উপস্থিত প্রমাণ বিবেচনা করিয়া এবং তাহার সংগৃহীত সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র বিবেচনাক্রমে লিখিত আদেশ দ্বারা ধারা ২৩৫ অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবেন এবং উপকর কমিশনারের নিকট তাহার একটি অনুলিপি প্রেরণ করিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (৩) এর অধীন আদেশের কপি প্রাপ্তির পর ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস অনুসারে করদাতার মোট আয় পরিগণনার কার্যক্রম শুরু করিবেন এবং এইরূপ আয় পরিগণনাকালে যদি কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির আয় পরিগণনা করিতে হয় তবে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস এর ভিত্তিতে যে সমন্বয় পাওয়া যাইবে তাহা উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপিত হইবে।
(৫) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিজস্ব উদঘাটন অথবা করদাতা বা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাহার নজরে আনিবার প্রেক্ষিতে পরিদৃষ্ট হন যে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশে এইরূপ ভুল রহিয়াছে যাহা রেকর্ডদৃষ্টে প্রতীয়মান, তাহা হইলে তিনি উক্ত ভুল সংশোধন করিতে পারিবেন এবং সেই অনুসারে এইক্ষেত্রে ধারা ৩৩০ এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোনো সংশোধন করা হইলে, ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার আদেশের একটি অনুলিপি উপকর কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিবেন যিনি পরবর্তীতে উক্ত আদেশ অনুসারে কর নির্ধারণী আদেশ সংশোধন করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
২৩৭। (১) আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলিকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ড তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবার মেয়াদ বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
২৩৮। আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি রিটার্নের সহিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে একটি আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত বিবরণী দাখিল করিবেন।
২৩৯। উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে অথবা কোনো আয়বর্ষের হিসাব বহিতে সংরক্ষিত রেকর্ড অনুসারে ৩ (তিন) কোটি টাকার অধিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ধারা ২৩৭ এর অধীন দাখিলকৃত সকল তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড বা তাহার অংশবিশেষ সম্পর্কিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর একটি প্রতিবেদন সরবরাহ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
তৃতীয় অধ্যায়
কর পরিহার রোধ সম্পর্কিত অন্যান্য বিধান
২৪০। যেইক্ষেত্রে একজন নিবাসী ও একজন অনিবাসীর মধ্যে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হয় এবং উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কের ফলে ব্যবসায়ের কার্যক্রম এইরূপভাবে বিন্যস্ত করা হইয়াছে যে, উভয়ের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলস্বরূপ নিবাসী ব্যক্তির কোনো মুনাফা অর্জিত হয় নাই, অথবা হইলেও তাহা উক্ত ব্যবসার ঈপ্সিত স্বাভাবিক মুনাফা অপেক্ষা কম, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যবসা হইতে নিবাসী ব্যক্তির উদ্ভূত হইতে পারে এইরূপ যুক্তিসঙ্গত আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন এবং উক্তরূপ নির্ধারিত আয় নিবাসীর মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
২৪১। (১) একক বা সহযোগী কর্মকান্ডের সহিত সম্মিলিতভাবে, যেভাবে হউক না কেন, কোনো সম্পদ হস্তান্তরের কারণে বা ফলস্বরূপ কোনো আয় কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় হলে উক্ত আয় এইরূপ কোনো ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে যিনি-
(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মাধ্যমে এইরূপ কোনো অধিকার অর্জন করেন যাহার কারণে বা ফলশ্রুতিতে তিনি উক্ত অনিবাসীকে প্রদেয় আয় তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তীকালে ভোগ করিবার ক্ষমতা রাখেন;
(খ) এইরূপ লেনদেন বা সহযোগী কর্মকান্ডের সুবাদে যেকোনো সময় কোনো অর্থ যাহা ঋণ বা ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে পরিশোধিত বা প্রদেয় অথবা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেন বা গ্রহণ করিবার অধিকার প্রাপ্ত হন, তবে আয় হিসাবে বা পূর্ণ আর্থিক মূল্য হিসাবে পরিশোধিত বা প্রদেয় কোনো অর্থ নহে।
(২) যে আয় একজন অনিবাসীকে প্রদেয় হয় এবং উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য করা হয় সেই আয় এই আইনের সকল উদ্দেশ্যে আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে, বর্ণিত আয় এই ধারার বিধান ব্যতীত অন্যভাবে করযোগ্য হউক বা না হউক ।
(৩) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগ করা যাইবে না, যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে-
(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মধ্যে করদায় পরিহারের এক বা একাধিক উদ্দেশ্য নিহিত ছিল না; বা
(খ) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী সকল কর্মকান্ডে প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন নিহিত ছিল এবং করদায় পরিহারের পরিকল্পনা নিহিত ছিল না।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন আয় হিসাবে গণ্য হইয়া করারোপিত হইয়াছে এমন কোনো আয় পুনর্বার কোনো ব্যক্তির আয়ের অংশ হিসাবে গণ্য করিয়া করারোপ করা যাইবে না।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তির কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে, যদি-
(ক) যেকোনো সময় যেকোনো রূপে উক্ত ব্যক্তির সুবিধা নিশ্চিত করিবার জন্য এইরূপ আয় প্রকৃতপক্ষে পরিগণনা করা হইয়াছে;
(খ) এইরূপ আয়ের প্রাপ্তি বা আয় উদ্ভূত হইবার ফলশ্রুতিতে উক্ত ব্যক্তির দখলাধীন বা সুবিধাধীন কোনো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে;
(গ) উক্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইতে পারে এইরূপ সুবিধা যেকোনো সময় প্রাপ্ত হন বা প্রাপ্তির অধিকারী হন-
(অ) এইরূপ আয় হইতে; বা
(আ) এইরূপ অর্থ হইতে, যাহা উক্তরূপ আয় এবং উক্তরূপ আয়ের প্রতিরূপকারী সম্পদের উপর সহযোগী কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে বা অনুক্রমিক ফলশ্রুতিতে উপলব্ধ হয় বা উপলব্ধ হইতে পারে;
(ঘ) এইরূপ ব্যক্তি নিযুক্তি, রদকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্মতিতে বা সম্মতি ব্যতিরেকে এইরূপ আয়ের সুবিধা ভোগের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন; বা
(ঙ) এইরূপ ব্যক্তি যেকোনো পদ্ধতিতেই উক্তরূপ আয়ের ব্যবহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হন।
(৬) কোনো ব্যক্তির আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে কিনা তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যেকোনো হস্তান্তর এবং সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফল ও প্রভাব বিবেচনা করিতে হইবে এবং এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফলস্বরূপ যেকোনো সময় এইরূপ ব্যক্তির নিকট উদ্ভূত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সুবিধা, যাহা উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায় তাহা বিবেচনা করিতে হইবে।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) “পরিসম্পদ” বলিতে যেকোনো ধরনের সম্পত্তি বা অধিকারও অন্তর্ভুক্ত হইবে এবং যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরিত সম্পদ কোনো অধিকার সেইক্ষেত্রে ‘হস্তান্তর’ বলিতে উক্তরূপ অধিকার সৃষ্টিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) কোনো হস্তান্তরের ক্ষেত্রে “সহযোগী কর্মকাণ্ড” বলিতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কিত কোনো কর্মকান্ডকে বুঝাইবে, যথা:-
(অ) হস্তান্তরিত কোনো সম্পদ;
(আ) উক্তরূপ সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো আয়; বা
(ই) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত পুঞ্জিভূত আয়;
(গ) “সুবিধা” বলিতে যেকোনো ধরনের পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ঘ) “হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো পুঞ্জিভূত” বলিতে উক্ত সম্পদ বা আয় বা পুঞ্জিভূত আয়ের হস্তান্তর যে কোম্পানির নিকট বা যে ব্যক্তির নিকট হইয়াছে সেই কোম্পানির শেয়ার বা দায়-দায়িত্বের উল্লেখ অথবা সেই ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের উল্লেখও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(ঙ) বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো সংস্থা অনিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে।
২৪২। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো সিকিউরিটিজের মালিক তাহার সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করিবার পর পুনরায় তাহা ক্রয় বা অর্জন করেন, অথবা একই ধরনের সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন, এবং উক্তরূপ লেনদেনের ফলশ্রুতিতে মালিক কর্তৃক মূল সিকিউরিটিজের বিক্রয় বা হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে প্রদেয় কোনো সুদ মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদ এই আইনের সকল উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অন্য কোনো ব্যক্তির আয় না হইয়া তাহা উক্ত মালিকের আয় হিসাবে গণ্য হইবে, পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদের উপর এই উপ-ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কর আরোপ হউক বা না হউক।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আয়বর্ষের কোনো সময়ের জন্য কোনো সিকিউরিটিজে লাভভোগী হইবার স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে এবং উক্ত বৎসরের মধ্যে এইরূপ সিকিউরিটিজ বা তাহা হইতে উদ্ভূত আয়ের লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক আয় গৃহীত হয় নাই অথবা আয় হিসাবে যেই পরিমাণ অর্থ তিনি গ্রহণ করেন, তাহা যদি উক্ত সিকিউরিটিজ হইতে উল্লিখিত সময়ের আনুপাতিক হারে দিনের পর দিন যে পরিমাণে পুঞ্জিভূত ও অংশানুপাতে জমাকৃত হইতে পারিত তাহা অপেক্ষা কম হয়, তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত সময়ে এইরূপ সিকিউরিটিজ হইতে উদ্ভূত সমুদয় আয় উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ সিকিউরিটিজ লেনদেন সংক্রান্ত ব্যবসায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন এবং উক্ত সিকিউরিটিজ উক্ত অপর ব্যক্তির নিকট পুনরায় বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন অথবা তাহার নিকট একই ধরনের সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন এবং উক্ত লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক ক্রয়কৃত বা অর্জিত সিকিউরিটিজের জন্য প্রদেয় সুদ তিনি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও উক্ত আয় উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলির কারণে তাহার আয় হিসাবে গণ্য হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উক্ত লেনদেন সম্পর্কে এই আইনের যেকোনো উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ধরনের আয় গণনাকল্পে উক্তরূপ ব্যবসা হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা লোকসান বিবেচিত হইবে না।
(৪) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, উক্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ২৮ (আঠাশ) দিনের কম নহে, কোনো ব্যক্তিকে তাহার মালিকানাধীন সকল সিকিউরিটিজের বিবরণ বা নোটিশে বর্ণিত সময়ে যে সকল সিকিউরিটিজে এইরূপ ব্যক্তির সুবধিাভোগী হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ছিল, সেইরূপ সিকিউরিটিজের বর্ণনা দাখিলের জন্য এবং এই ধারার অন্যান্য উদ্দেশ্যে ও সিকিউরিটিজ বাবদ প্রাপ্ত সুদের কর সংক্রান্ত হিসাব চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উপকর কমিশনার যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করেন সেইরূপ অন্যান্য তথ্যাদি সরবরাহ করিবার নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(ক) “সুদ” বলিতে লভ্যাংশও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের মোট নামমাত্র মূল্য অথবা তাহা ধারণ করিবার ফরম বা হস্তান্তরের পদ্ধতিতে যে পার্থক্যই থাকুক না কেন, এইরূপ সিকিউরিটিজ বলিতে সকল সিকিউরিটিজকে বুঝানো হইবে, যাহা তাহার মালিককে একই ব্যক্তির সুদ ও মুনাফার ক্ষেত্রে একই প্রকার অধিকার প্রদান করিয়া এবং উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একইরূপ সুযোগ প্রদান করে।
২৪৩। (১) বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ব্যতীত, যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল নন অথবা যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল কিন্তু বাংলাদেশ ত্যাগের সময় আয়কর কর্তৃপক্ষের অভিমত এইরূপ যে তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিবেন না, সেইক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপকর কমিশনারের নিকট হইতে এই মর্মে নিম্নবর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করিতে পারিবেন না, যথা:-
(ক) কর পরিশোধের সার্টিফিকেট, বা
(খ) তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিতে ইচ্ছুক থাকিলে, একটি অব্যাহতি সার্টিফিকেট, যাহা কেবল তখনই ইস্যু করা যাইবে যখন উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এইরূপ ইচ্ছা আছে; এবং এইরূপ অব্যাহতি সার্টিফিকেট একবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে বা সার্টিফিকেটে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে একাধিকবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে, প্রদান করা যাইতে পারে।
(২) কোনো বিমান বা জাহাজের মালিক অথবা চার্টারার উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ণিত কোনো ব্যক্তিকে যদি উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া সেইরূপ বিমান বা জাহাজ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে যেকোনো স্থানে ভ্রমণের অনুমতি দেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত মালিক বা চার্টারারকে-
(ক) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ব্যক্তির নিকট পাওনা কর বা তাহার নিকট পাওনা হইবে এবং তাহার দ্বারা প্রদেয় হইবে এইরূপ কর পরিশোধ করিতে হইবে এবং সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা পরিশোধ করিতে হইবে; এবং
(খ) সেইরূপ কর এবং জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্যে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং এইক্ষেত্রে এই আইনের সকল বিধান প্রযোজ্য হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “অব্যাহতি সার্টিফিকেট” বলিতে সার্টিফিকেটে উল্লিখিত এক বা একাধিকবার ভ্রমণের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে কর পরিশোধ সার্টিফিকেট হইতে অব্যাহতি প্রদান করিবার উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে;
(খ) “মালিক” অথবা “চার্টারার” বলিতে কোনো জাহাজ বা বিমানের মালিক অথবা চার্টারার কর্তৃক উক্ত জাহাজ বা বিমানে ভ্রমণের অধিকার ইস্যু করিবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি, এজেন্ট অথবা কর্মচারীও অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(গ) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “কর পরিশোধ সার্টিফিকেট” বলিতে এই আইন অথবা দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো দায় নাই অথবা উক্ত ব্যক্তির সকল প্রকার কর পরিশোধের অথবা তাহার দ্বারা প্রদেয় বা প্রদেয় হইতে পারে এইরূপ যেকোনো প্রকার কর পরিশোধের উদ্দেশ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গৃহীত হইয়াছে মর্মে প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে।
প্রথম অধ্যায়
কর চুক্তি
২৪৪। (১) সরকার অন্য যেকোনো দেশের সরকারের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদিতে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কর লাঘব সংক্রান্ত:
(অ) এইরূপ আয় যাহার উপর এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর পরিশোধ করা হইয়াছে; অথবা
(আ) পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসা ও বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন আরোপযোগ্য কোনো কর;
(খ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাহিরের উৎস হইতে আয় নির্ধারণ;
(গ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন দ্বৈত কর পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ;
(ঘ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর ফাঁকি অথবা পরিহার রোধে তথ্য বিনিময় অথবা উক্তরূপ ফাঁকি সম্পর্কিত মামলা তদন্ত;
(ঙ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর উদ্ধার; এবং
(চ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের যেকোনো উদ্দেশ্য পূরণকল্পে।
(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর চু্ক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধানাবলি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত চুক্তিতে এই আইন অথবা এই চুক্তি প্রণয়নের পূর্বের যেকোনো সময়ের কর লাঘব সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং যেসব আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বৈত করের আওতাভুক্ত নহে, তদ্রূপ আয় বিষয়ক বিধানাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারিবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের আইনের অধীন প্রদেয় কর বাবদ বাংলাদেশে প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় মঞ্জুর করিবার কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেইক্ষেত্রে এই অংশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বৈদেশিক কর সমন্বয় সম্পর্কিত বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
280[(৫) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি প্রাধান্য পাইবে।]
দ্বিতীয় অধ্যায়
অব্যাহতি ও বৈদেশিক কর ক্রেডিট
২৪৫। (১) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(ক) “বাংলাদেশ কর” অর্থ এই আইনের বিধান অনুসারে আরোপিত আয়কর;
(খ) “বৈদেশিক কর” অর্থ, ধারা ২৪৪ এর বিধান অনুসারে, বিদেশি রাষ্ট্রের সহিত কার্যকর চুক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত দেশের আইন অনুসারে আরোপযোগ্য কর যাহা চুক্তির অধীন সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য;
(গ) “বৈদেশিক আয়কর” অর্থ আয়করের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বৈদেশিক আয়কর।
(২) যেইক্ষেত্রে ধারা ২৪৪ এর অধীন কার্যকর চুক্তি অনুসারে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের আইনের অধীন আরোপযোগ্য কোনো কর আয়কর হিসাবে বিবেচনার করা হয়, সেইক্ষেত্রে সেই কর ক্ষেত্রমতে বিদেশি কর বা বৈদেশিক আয়কর ব্যতীত, বিদেশি কর হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৩) এই অধ্যায়ের কোনো চুক্তির অধীন অনুমোদিত রেয়াতের ক্ষেত্রে বিদেশি কর বা বৈদেশিক আয়কর সম্পর্কিত যেকোনো বরাত, যে দেশের সহিত উক্ত চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছে, সেই দেশের আইনের অধীন সরকার কর্তৃক আরোপিত করের বরাত হিসাবে বিবেচিত হইবে।
২৪৬। যদি কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশে বসবাস করেন তাহার যেকোনো বৎসরের আয়ের ক্ষেত্রে সন্তোষজনকভাবে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত বৎসরের মধ্যে তাহার উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে উদ্ভূত বা অর্জিত হইয়াছে সেই আয়ের জন্য তিনি কর্তন বা অন্য কোনোভাবে এইরূপ দেশে কর প্রদান করিয়াছেন যাহার সহিত অব্যাহতি বা দ্বৈত কর পরিহারের জন্য পারস্পরিক চুক্তি নাই, সেইক্ষেত্রে এইলক্ষ্যে উপকর কমিশনার বিদ্যমান বিধানাবলির নিরিখে বাংলাদেশে প্রচলিত করের গড় হার বা উক্ত দেশে প্রচলিত করের গড় হার, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সেই হিসাবে এইরূপ দ্বৈত কর আরোপিত আয়ের উপর কর নিরূপণ করিবেন এবং তাহা বাংলাদেশে পরিশোধ যোগ্য কর হইতে বাদ দিবেন।
ব্যাখ্যা।– “করের গড় হার” বলিতে মোট আয়ের উপর নিরূপিত করকে এইরূপ আয় দিয়া ভাগ করিয়া প্রাপ্ত হারকে বুঝাইবে।
২৪৭। (১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে ধারা ২৪৪ এর অধীন সম্পাদিত চুক্তির আওতায়, যেকোনো আয়ের উপর আরোপিত বাংলাদেশে করের বিপরীতে সমন্বয় সুবিধা অনুমোদিত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত চুক্তির বিধানাবলি সাপেক্ষে, আরোপযোগ্য কর এইরূপ সমন্বয় সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা হ্রাস পাইবে।
(২) কোনো আয়করবর্ষে যে করদাতার আয়ের উপর কর আরোপযোগ্য হইয়াছে তিনি, যে সময়ের ভিত্তিতে উক্তরূপ আয় নিরূপিত হইয়াছে সেই সময়ে নিবাসী না থাকেন, তাহা হইলে উক্ত আয়করের বিপরীতে উপ-ধারা (১) এর অধীন সমন্বয় অনুমোদনযোগ্য হইবে না।
(৩) যেকোনো আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে করের বিপরীতে বৈদেশিক কর পরিশোধের সূত্রে অনুমোদনযোগ্য সমন্বয়ের পরিমাণ দ্বৈত করযোগ্য আয়ের উপর বর্ণিত করের গড় হারে নিরূপিত অর্থের পরিমাণকে অতিক্রান্ত করিবে না।
২৪৮। (১) যেইক্ষেত্রে আয়ের মধ্যে লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং চুক্তির অধীন উক্ত ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ করের বিপরীতে কোনো রেয়াত অনুমোদিত হইবে কিনা বা প্রদেয় রেয়াতের পরিমাণ কত হইবে, তাহা নিরূপণের লক্ষ্যে কোনো বৈদেশিক কর (সরাসরি দাবিযোগ্য বা লভ্যাংশের সূত্রে কর্তনযোগ্য হউক বা না হউক) বিবেচনা করা আবশ্যক, সেইক্ষেত্রে রেয়াতের পরিমাণ নিরূপণের উদ্দেশ্যে বিবেচিত লভ্যাংশের সহিত সম্পর্কিত বৈদেশিক করের সমপরিমাণ অংশ দ্বারা সংশ্লিষ্ট আয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন, কোনো আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে বৈদেশিক কর, সরাসরি বা বিয়োজনের মাধ্যমে, আরোপযোগ্য না হইলে, উহা লভ্যাংশ প্রদানকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রদত্ত লভ্যাংশের উপর পরিশোধকৃত বৈদেশিক কর; অথবা উক্ত লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা না হইলে, লভ্যাংশ প্রদেয় হইবার পূর্বে উক্ত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক সমাপ্তকৃত সর্বশেষ হিসাব প্রস্তুতকালীন সময়ে প্রদত্ত লভ্যাংশ বিবেচনায় আনিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “পরিশোধিত” অর্থ প্রদত্ত, জমাকৃত বা বণ্টনকৃত অথবা প্রদত্ত, জমাকৃত বা বণ্টনকৃত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৩) এই ধারা এবং ধারা ৫৫ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আয়ের সূত্রে বৈদেশিক করের অংশবিশেষ বাংলাদেশ করের বিপরীতে রেয়াত অনুমোদিত না হইলে, উক্ত আয়ের পরিমাণ উক্ত বৈদেশিক করের অংশের সমপরিমাণ দ্বারা হ্রাস পাইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ হইতে গৃহীত অর্থের ভিত্তিতে কোনো আয়কর পরিশোধযোগ্য হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থের পরিমাণ আয়করের বিপরীতে রেয়াত হিসাবে অনুমোদিত সুবিধার সমহারে বৃদ্ধি পাইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(৫) ধারা ২৪৭ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত হার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির মোট আয় গণনাকালে এই ধারার উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে না, এবং এই ধারার উপ-ধারা (৪) অনুসারে ‘আয়করের বিপরীতে অনুমোদিত রেয়াত সুবিধা’ ‘আয়ের সূত্রে প্রদত্ত বৈদেশিক কর’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইবে।
২৪৯। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়ের সূত্রে প্রদত্ত বৈদেশিক করের জন্য ক্রেডিট হিসাবে অনুমোদন প্রাপ্তির দাবি, যে করবর্ষে উক্তরূপ আয় বাংলাদেশে আরোপ করা হইয়াছিল বা আরোপযোগ্য হইত সেই বৎসরের পরবর্তী ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে কার্যালয়ে উক্ত পরিশোধকারীর আয়কর আরোপ করা হইয়াছে সেই কার্যালয়ের উপকর কমিশনারের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরিশোধযোগ্য কোনো করের সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের আইন দ্বারা পরিশোধযোগ্য কোনো করের সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে চুক্তির অধীন প্রদত্ত সুবিধা অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত হিসাবে গণ্য হয়, সেইক্ষেত্রে সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর রিফান্ডের দাবি বা নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করিবার উদ্দেশ্যে এই আইনে বর্ণিত সময়সীমা প্রযোজ্য হইবে না, যদি এইরূপ সকল কর নির্ধারণী, সমন্বয় ও তাহা হইতে উদ্ভূত অন্যান্য নিরূপণ বাংলাদেশে বা অন্যত্র সম্পন্ন হইবার পরবর্তী ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে কর নির্ধারণী বা রিফান্ডের দাবি পূরণ না করা হয়।
২৫০। উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশে কোনো পরিশোধকারী কর্তৃক দাবিকৃত বৈদেশিক কর রেয়াত, পূর্ণ বা আংশিক, অননুমোদন করা হইলে, উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত আদেশ পরিশোধকারীর নিকট পৌঁছাইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পরিশোধকারী আপিল যুগ্ম কমিশনার এর নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং একইভাবে অংশ ২০ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানাবলি, প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ প্রযোজ্য হইবে।
২৫১। (১) যেইক্ষেত্রে সরকারের সহিত সম্পাদিত কোনো চুক্তি ধারা ২৪৪ এর বিধানাবলি অনুসারে এইরূপে কার্যকর থাকে যে, উক্তরূপ চুক্তিবদ্ধ কোনো দেশে নিবাসী কোনো ব্যক্তির পক্ষে অর্জিত কোনো বিশেষ শ্রেণির আয় বাংলাদেশে কর অব্যাহতি পাইবে এবং এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে উক্ত আয় হইতে কর কতর্নযোগ্য হইবে, সেইক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি এইরূপ যেকোনো শ্রেণিভুক্ত আয় (এই অনুচ্ছেদে বাংলাদেশি পরিশোধকারী হিসাবে উল্লিখিত) বর্ণিত দেশের আয় ভোগের অধিকারী ব্যক্তিকে (এই অনুচ্ছেদে অনিবাসী হিসাবে উল্লিখিত) প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বোর্ড দ্বারা বা বোর্ডের অধীন নির্দেশিত নোটিশের অধীন অনিবাসীকে এইরূপ যেকোনো আয় কর কর্তন ব্যতিরেকে পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ নোটিশ যেই তারিখে জারি করা হইয়াছিল, তাহা সেই তারিখে বাংলাদেশি পরিশোধকারী, উক্ত নোটিশে উল্লিখিত অনিবাসী ব্যক্তির নিকট নোটিশে বর্ণিত উৎস হইতে এই ধারার বিধানাবলির অধীন কোনো প্রকার কর্তন ব্যতিরেকে যেকোনো পরিমাণ আয়, বা এইরূপ কোনো বৎসরের সম্ভাব্য আয়, যাহার উপর চুক্তি বলবৎ রহিয়াছে, পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত যেকোনো নোটিশ অকার্যকর মর্মে গণ্য হইবে যদি কোনো ক্ষেত্রে, এইরূপ বর্ণনা থাকুক বা নাই থাকুক, বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ দ্বারা বা তাহার অধীন জারীকৃত বাতিল নোটিশ দ্বারা তাহা অকার্যকর হয়; এবং যদি বাংলাদেশি পরিশোধকারী জানামতে এইরূপ কোনো ঘটনা সংঘটিত হয় বা তাহাকে বাতিল নোটিশ প্রদান করা হয়, তাহা হইলে এইরূপ কোনো ঘটনা বাংলাদেশি পরিশোধকারীর গোচরীভূত হইবার পর বা, ক্ষেত্রমতে, বাংলাদেশি পরিশোধকারী নোটিশ প্রাপ্তির পর বাংলাদেশি পরিশোধকারী কর্তৃক উক্ত অনিবাসীকে কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন করিতে হইবে।
২৫২। (১) কোনো আয়ের বিষয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্বপালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি, এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উক্ত আয়ের ক্ষেত্রে –
(ক) এইরূপ কর্তব্য, দায়িত্ব ও দায়ের আওতাভুক্ত হইবে যেন এইরূপ আয় তাহার সুবিধার্থে তাহার দ্বারা গৃহীত হইয়াছে, বা তাহার বরাবর উদ্ভূত হইয়াছে বা তাহার অনুকূলে জমা হইয়াছে;
(খ) তাহার নিজ নামে কর নির্ধারণে দায়ী হইবে; এবং
(গ) এই অংশের অন্যান্য বিধানাবলির সাপেক্ষে, এই আইনের সকল উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে করদাতা হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) কোনো ব্যক্তি, যাহার কোনো আয়ের জন্য প্রতিনিধি হিসাবে এই ধারার বিধানাবলির আওতায় কর নির্ধারণ করা হইয়াছে তাহার একই আয়ের জন্য এই আইনের অন্য কোনো বিধানের অধীন কর নির্ধারণ করা যাইবে না।
(৩) এই ধারার কোনো কিছুই উক্ত ব্যক্তি যাহার জন্য বা যাহার পক্ষে বা যাহার সুবিধার জন্য প্রতিনিধি কোনো আয় গ্রহণের অধিকারী সেই ব্যক্তির সরাসরি কর নির্ধারণ বা তাহার নিকট হইতে উক্ত আয়ের উপর প্রদেয় কর আদায়কে বাধাগ্রস্থ করিবে না।
(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে-
(ক) অভিভাবক, ব্যবস্থাপক, বা ট্রাস্টি যিনি কোনো নাবালক, অপ্রকৃতিস্থ বা নির্বোধ এর জন্য বা তাহার পক্ষে বা তাহার কল্যাণে কোনো আয় গ্রহণ করেন বা গ্রহণের অধিকারী হন, তিনি উক্ত আয়ের জন্য প্রতিনিধি হিসাবে গণ্য হইবেন;
(খ) আদালতের আদেশবলে বা আদেশাধীনে নিযুক্ত অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেনারেল, অফিসিয়াল ট্রাস্টি, বা কোনো রিসিভার, ম্যানেজার বা অন্য ব্যক্তি তিনি, যে নামেই আখ্যায়িত হন কেন, অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য বা তাহার পক্ষে বা তাহার সুবিধার জন্য কোনো আয় গ্রহণ বা গ্রহণের অধিকারী হইলে, উক্ত আয়ের জন্য প্রতিনিধি হইবেন;
(গ) আইনগতভাবে বৈধ ওয়াকফ্ দলিলসহ আইনানুগভাবে সম্পাদিত লিখিত উইল বা অন্য কোনো দলিল দ্বারা ঘোষিত কোনো ট্রাস্টের অধীন নিযুক্ত ট্রাস্টি বা ট্রাস্টিবর্গ যাহারা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য বা তাহার পক্ষে বা তাহার সুবিধার জন্য কোনো আয় গ্রহণ বা গ্রহণের অধিকারী হন, তাহারা উক্ত আয়ের জন্য প্রতিনিধি হইবেন;
(ঘ) কোনো ব্যক্তি যিনি ধারা ২৫৩ এর অধীন কোনো অনিবাসীর এজেন্ট হিসাবে বিবেচিত হন, তিনি উক্ত অনিবাসীর যে আয় ধারা ২৭ এর অধীন বাংলাদেশে উদ্ভূত বা অর্জিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে সেই আয়ের জন্য প্রতিনিধি হইবেন।
২৫৩। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ, উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো অনিবাসীর এজেন্ট হিসাবে বিবেচিত হইবেন, যথা:-
(ক) বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি-
(অ) যিনি অনিবাসীর দ্বারা বা তাহার পক্ষে নিযুক্ত হইয়াছেন;
(আ) যাহার অনিবাসীর সহিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক রহিয়াছে;
(ই) যিনি অনিবাসীর মালিকানাধীন কোনো অর্থ ধারণ করিয়া অথবা প্রাপ্তি বা বন্দোবস্তকে নিয়ন্ত্রণ করেন;
(ঈ) যিনি অনিবাসীর একজন ট্রাস্টি; বা
(উ) যাহার নিকট হইতে বা মাধ্যমে অনিবাসী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো আয় গ্রহণ করেন;
(খ) নিবাসী বা অনিবাসী কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো মূলধনি সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্জন করেন;
(গ) কোনো ব্যক্তি যিনি অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে অনিবাসীর একজন এজেন্ট হিসাবে ঘোষিত অথবা বিবেচিত হন।
(২) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো স্বতন্ত্র দালাল যিনি যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে সরাসরি অনিবাসী প্রিন্সিপালের সহিত অথবা তাহার পক্ষে কারবার না করিয়া বরং কোনো অনিবাসী দালালের সহিত বা মাধ্যমে কারবার করেন, তিনি উক্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিবাসীর এজেন্ট হিসাবে বিবেচিত হইবেন না, যদি-
(ক) লেনদেনটি অনিবাসী দালালের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসাবে সম্পাদিত হয়; এবং
(খ) অনিবাসী দালাল তাহার সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উক্তরূপ লেনদেন সম্পাদন করেন।
(৩) উপকর কমিশনার কর্তৃক শুনানির সুযোগ প্রদান ব্যতীত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন অনিবাসীর সহিত সম্পর্কের সূত্রে এজেন্ট হিসাবে বিবেচিত হইবেন না।
২৫৪। (১) কোনো প্রতিনিধি যে, ধারা ২৫২ এর অধীন তাহার দায়ের বিপরীতে, কোনো অঙ্ক পরিশোধ করে, সে যাহার পক্ষে উক্ত অঙ্ক পরিশোধ করিয়াছে তাহার নিকট হইতে পরিশোধিত উক্ত অঙ্ক পুনরূদ্ধারের অধিকারী হইবে, অথবা তাহার দখলে রহিয়াছে বা দখলে আসার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা প্রতিনিধি হইবার কারণে তাহার পাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে এইরূপ অর্থ হইতে পরিশোধিত অঙ্কের সমপরিমাণ অর্থ উদ্ধার করিতে পারিবে।
(২) কোনো প্রতিনিধি, বা অন্য কোনো ব্যক্তি যাহাকে প্রতিনিধি হিসাবে গণ্য করিয়া কর নির্ধারণ করা হইতে পারে, সেই যে ব্যক্তির (অতঃপর “সুবিধাভোগী” হিসাবে উল্লিখিত) পক্ষে ধারা ২৫২ এর অধীন কর পরিশোধের জন্য দায়ী, সেই সুবিধাভোগীকে প্রদেয় কোনো অর্থ হইতে তাহার আনুমানিক করদায়ের অধিক নহে এইরূপ পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করিতে পারিবে।
(৩) সুবিধাভোগী এবং প্রতিনিধির মধ্যে কোনোরূপ মতানৈক্যের ঘটনা বা প্রতিনিধি হিসাবে গণ্য করিয়া কর নির্ধারণ করা হইতে পারে এইরূপ আশঙ্কাগ্রস্থ কোনো ব্যক্তি, যাহা প্রযোজ্য, উপ-ধারা (২) এর অধীন, যেই পরিমাণ অঙ্ক ধরিয়া রাখিবার কথা, উক্ত প্রতিনিধি বা ব্যক্তি উপকর কমিশনারের নিকট হইতে উক্ত অঙ্ক উল্লেখপূর্বক এই মর্মে সার্টিফিকেট গ্রহণ করিয়া নিশ্চয়তা দিতে পারিবে যে করদায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত অঙ্ক ধরিয়া রাখা বা মুলতবি থাকিবে এবং এইরূপে গৃহীত সার্টিফিকেট উক্ত অঙ্ক ধরিয়া রাখিবার জন্য হুকুমনামা (warrant) হিসাবে গণ্য হইবে।
২৫৫। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্মের কোনো অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যের নিকট হইতে ক্ষেত্রমত উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের অংশীদারী আয়ের প্রেক্ষিতে কোনো প্রদেয় কর অপুনরুদ্ধারযোগ্য হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার নোটিশযোগে 281[উক্ত করের পরিমাণ] ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘকে অবহিত করিবেন।
(২) আপতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন করের পরিমাণ সম্পর্কিত নোটিশ প্রাপ্তির পর, নোটিশপ্রাপ্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ উল্লিখিত কর পরিশোধের জন্য দায়ী হইবে এবং উক্ত কর পুনরুদ্ধারকল্পে করদাতা হিসাবে বিবেচিত হইবে, এবং সেই মোতাবেক এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
২৫৬। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত কোনো ব্যবসা বন্ধ হইয়া যায়, অথবা যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ ভাঙ্গিয়া যায়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের মোট আয়ের কর নির্ধারণ এইরূপভাবে করা হইবে যেন কোনোরূপ বন্ধ বা অবসান বা ভাঙ্গন সংঘটিত হয় নাই, এবং সেই মোতাবেক এই আইনের বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের প্রেক্ষিতে উপ-ধারা (১) এর অধীন কর নির্ধারণ সম্পন্ন হয়, সেইক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি যে ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের ব্যবসা বন্ধকালীন সময়ে, বা ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ ভাঙ্গিয়া যাওয়ার সময়, যাহা প্রযোজ্য, উক্ত ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের সদস্য ছিলেন, এবং তাহাদের কেহ মৃত্যুবরণ করিলে মৃত্যুবরণকারীর আইনগত প্রতিনিধি, উক্ত কর নির্ধারণের ফলশ্রুতিতে ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের দ্বারা প্রদেয় কর পরিশোধে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়ী থাকিবেন এবং, জরিমানা ও অন্যান্য কোনো প্রদেয় অঙ্কসহ উক্ত কর পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, করদাতা হিসাবে বিবেচিত হইবেন; এবং সেই মোতাবেক এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
২৫৭। (১) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে কোনো প্রাইভেট কোম্পানি অবলুপ্ত (wound up) হয় এবং কোম্পানির অবলুপ্তির পূর্বে বা অবলুপ্তকালীন সময়ে বা অবলুপ্তির পরে, যখনই হউক, বা ধারাবাহিকভাবে ৩ (তিন) বৎসর কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ থাকিলে, কোনো আয়বর্ষের কোনো আয়ের প্রেক্ষিতে কোম্পানির উপর নিরূপিত কর আদায় করা সম্ভব হয় নাই, সেইক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি যাহারা সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে উক্ত কোম্পানির পরিচালক ছিলেন তাহারা উক্ত কর পরিশোধে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে দায়ী হইবেন এবং উক্ত কর পুনরুদ্ধারকল্পে করদাতা হিসাবে বিবেচিত হইবেন, এবং সেই মোতাবেক এই আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো প্রাইভেট কোম্পানির আয়ের প্রেক্ষিতে কোনো ব্যক্তির দায় স্থগিত থাকিবে যদি সেই উপকর কমিশনারের নিকট প্রমাণ করিতে পারেন যে, কোম্পানির নিকট হইতে কর আদায় না হইবার জন্য কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে তাহার স্থূল অবহেলা, বৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার বা কোনো কর্তব্য লঙ্ঘন দায়ী নহে।
২৫৮। (১) আদালতের আদেশের মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে অবলুপ্ত (wound up) কোনো প্রাইভেট কোম্পানির লিকুইডেটর, তাহার লিকুইডেটর হিসাবে নিযুক্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তাহার নিযুক্তির বিষয়ে যে উপকর কমিশনারের অধীন উক্ত কোম্পানির কর নির্ধারণের অধিক্ষেত্র রহিয়াছে তাহার নিকট নোটিশ প্রদান করিবেন।
(২) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে, তাহার নিজস্ব বিবেচনায় আবশ্যকীয় তথ্যাদি তলব অথবা প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করে, কোম্পানি কর্তৃক উক্ত সময়ে অথবা উক্ত সময়ের পরে প্রদেয় কর পরিশোধের জন্য তাহার মতে যেই পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে সেই সম্পর্কে লিকুইডেটরকে অবগত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন অবগত হইবার পর লিকুইডেটর নোটিশে উল্লিখিত করের সমপরিমাণ অর্থ পৃথক করিয়া রাখিবেন এবং উক্ত অর্থ পৃথক করিবার পূর্বে, কোম্পানি অবলুপ্তির তারিখে কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় কর পরিশোধ অথবা যে সকল ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সরকারি পাওনার পরিশোধ অপেক্ষা অগ্রাধিকার প্রাপ্য, তাহাদের অর্থ পরিশোধের নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্য ব্যতীত কোম্পানির কোনো সম্পদ পৃথক করিয়া রাখা যাইবে না।
(৪) লিকুইডেটর কোম্পানির পক্ষে উক্ত পরিমাণ কর পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন যেই পরিমাণ সম্পর্কে উপ-ধারা (২) এর অধীন অবগত করা হইয়াছে, যদি তিনি-
(ক) উপ-ধারা (১) এর চাহিদা অনুযায়ী নোটিশ প্রদানে ব্যর্থ হন; বা
(খ) উপ-ধারা (৩) এর বিধানবলির লঙ্ঘন করেন।
(৫) যখন একাধিক লিকুইডেটর নিযুক্ত থাকিবে তখন এই ধারার অধীন লিকুইডেটরের আইনগত বাধ্যবাধকতা ও দায়সমূহ সকল লিকুইডেটরের উপর যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে বর্তাবে।
(৬) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা কার্যকর হইবে।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, “লিকুইডেটর” বলিতে অবলুপ্তির প্রক্রিয়াধীন কোম্পানির পরিসম্পদের গ্রহীতা হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত হইবেন।
২৫৯। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে কোনো অনিবাসী স্বত্বাধিকারী বা ভাড়াকারী হিসাবে, অতঃপর এই ধারায় প্রিন্সিপাল হিসাবে উল্লিখিত, জাহাজ চলাচলের ব্যবসা পরিচালনা করে, সেইক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি অনুসারে এইরূপ ব্যবসার জন্য কর আরোপ ও আদায় করা হইবে।
(২) কোনো জাহাজ বাংলাদেশের যেকোনো বন্দর ত্যাগের পূর্বে উক্ত জাহাজের মাস্টার নিম্নবর্ণিত তথ্যাদিসহ রিটার্ন প্রস্তুত করিবেন এবং উপকর কমিশনারের নিকট তাহা দাখিল করিবেন, যথা:-
(ক) জাহাজটি বন্দরে সর্বশেষ আগমনের পর হইতে জাহাজে আরোহিত যাত্রী, গবাদিপশু, ডাক বা মালামাল পরিবহণ বাবদ প্রিন্সিপাল বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে পরিশোধিত বা প্রদেয় অর্থের পরিমাণ; এবং
(খ) বাংলাদেশের বাহিরে যেকোনো বন্দরে জাহাজে আরোহিত যাত্রী, গবাদিপশু, ডাক বা মালামাল পরিবহণ বাবদ প্রিন্সিপাল কর্তৃক বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহীত, বা গৃহীত হইবে বলিয়া বিবেচিত, অর্থের পরিমাণ।
(৩) রিটার্ন প্রাপ্তির পর উপকর কমিশনার উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অর্থের সমষ্টি নির্ধারণ করিবেন, এবং এতদুদ্দেশ্যে তিনি যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন, সেইরূপ বিবরণাদি, হিসাব বা দলিলাদি তলব করিতে পারিবেন এবং উল্লিখিত অর্থের নিরূপিত সমষ্টি প্রিন্সিপাল কর্তৃক উক্ত ব্যবসা হইতে বাংলাদেশে অর্জিত আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে যাহা এই আইনের অধীন তাহার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতে করযোগ্য হইবে এবং এইরূপ আয়ের উপর ৮% (আট শতাংশ) হারে কর আরোপিত হইবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, জাহাজের মাস্টার বা প্রিন্সিপাল কর্তৃক জাহাজটি বন্দর ত্যাগের পূর্বে উপ-ধারা (২) এর অধীন আবশ্যকীয় রিটার্ন দাখিল সম্ভব নহে, এবং এতদুদ্দেশ্যে প্রিন্সিপাল কর্তৃক তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের জন্য সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে জাহাজ বন্দর ত্যাগের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা হইলে, উপকর কমিশনার প্রিন্সিপাল কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে উপ-ধারা (২) এর বিধান যাথাযথ পরিপালন সাপেক্ষে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে মর্মে গণ্য করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত কোনো চার্জ বর্ণিত ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত হইবার পর উদ্ভূত হয়, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারায় উল্লিখিত অপর ব্যক্তি যে মাসে উক্ত চার্জ উদ্ভূত হইবে সেই মাস শেষ হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত চার্জের জন্য একটি সম্পূরক রিটার্ন দাখিল করিবেন এবং তাহার উপর প্রদেয় কর পরিশোধ করিবেন।
(৫) কোনো জাহাজকে বন্দর ছাড়পত্র অনুমোদন করা হইবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত কাস্টমস্ কমিশনার বা এতদুদ্দেশ্যে যথযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদেয় কর যথাযথভাবে পরিশোধ করা হইয়াছে বা তাহা পরিশোধের সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে।
(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিরূপিত প্রাপ্তির সমষ্টিগত অর্থের বিপরীতে কোনো খরচ অনুমোদনের প্রয়াসে এই আইনের অন্য কোনো কিছুকে এখানে ব্যাখ্যা করা যাইবে না।
(৭) এই ধারার অধীন পরিশোধিত কর, এই আইনের অধীন করদাতার চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং করদাতা কর্তৃক ধারা ১৬৬ এর অধীন মোট আয়ের রিটার্ন দাখিল আবশ্যক হইবে না, অথবা তিনি উক্ত রিটার্নের ভিত্তিতে কোনো কর প্রত্যর্পণ বা সমন্বয় দাবি করিতে পারিবেন না।
(৮) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পরিমাণ অর্থের মধ্যে ডেমারেজ চার্জ বা হ্যন্ডেলিং চার্জ হিসাবে পরিশোধিত বা প্রদেয় অঙ্ক বা সমজাতীয় প্রকৃতির অন্য কোনো অঙ্ক অন্তর্ভুক্ত হইবে।
২৬০। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে কোনো অনিবাসী স্বত্বাধিকারী বা ভাড়াকারী হিসাবে (অতঃপর এই ধারায় প্রিন্সিপাল হিসাবে উল্লিখিত) বিমান পরিবহণ ব্যবসা পরিচালনা করেন, এবং তাহার স্বত্বাধীন বা ভাড়াকৃত বিমান বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে 282[283[***]] আগমন করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত বিমানবন্দর হইতে বিমানটিতে আরোহিত যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক বা মালামাল পরিবহণ বাবদ গৃহীত অর্থের সমষ্টি প্রিন্সিপাল কর্তৃক উক্ত ব্যবসা হইতে বাংলাদেশে অর্জিত আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে, যাহা এই আইনের অধীন তাহার ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতে করযোগ্য হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর আরোপিত হইবে।
(২) প্রিন্সিপাল বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো এজেন্ট প্রতি ৩ (তিন) মাসের জন্য রিটার্ন প্রস্তুত করিবেন এবং উপকর কমিশনারের নিকট তাহা প্রত্যেক অর্থবৎসরে র প্রতি ৩ (তিন) মাসের শেষ দিন, অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে ৩০ সেপ্টেম্বর, ৩১ ডিসেম্বর, ৩১ মার্চ ও ৩০ জুন, হইতে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি প্রদর্শন করিয়া দাখিল করিবে, যথা:-
(ক) 284[বাংলাদেশের কোনো] বিমানবন্দর হইতে বিমানে আরোহিত যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক বা মালামাল পরিবহণ বাবদ প্রিন্সিপাল বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে, পরিশোধিত বা প্রদেয় অর্থের পরিমাণ; এবং
(খ) বাংলাদেশের বাহিরের কোনো বিমানবন্দর হইতে যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক বা মালামাল পরিবহণ বাবদ প্রিন্সিপাল বা তাহার পক্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহীত বা গৃহীত হইবে বলিয়া বিবেচিত অর্থের পরিমাণ।
(৩) রিটার্ন প্রাপ্তির পর উপকর কমিশনার যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিবেন সেইরূপ বিবরণাদি, হিসাব বা দলিলাদি তলবক্রমে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত মোট অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন এবং উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে কর আরোপ করিতে পারিবেন।
(৪) যেইক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় কর ৩ (তিন) মাসের অধিক সময়ের জন্য পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে কর কমিশনার উক্ত বিমানের ছাড়পত্র মঞ্জুর করিবার এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রিন্সিপালের নাম ও তৎকর্তৃক প্রদেয় করের পরিমাণ উল্লেখক্রমে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করিবেন এবং উক্ত কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর উক্ত প্রিন্সিপালের স্বত্বাধীন বা ভাড়াকৃত বিমানকে প্রদেয় কর পরিশোধ না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো বিমান বন্দর ত্যাগের ছাড়পত্র মঞ্জুর করিবে না।
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নিরূপিত প্রাপ্তির সমষ্টিগত অর্থের বিপরীতে কোনো খরচ অনুমোদনের প্রয়াসে এই আইনের অন্য কোনো কিছুকে এখানে ব্যাখ্যা করা যাইবে না।
(৬) এই ধারার অধীন পরিশোধিত কর, এই আইনের অধীন চূড়ান্ত করদায় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং করদাতা কর্তৃক ধারা 285[১৬৬] এর অধীন রিটার্ন দাখিল আবশ্যক হইবে না, অথবা তিনি উক্ত রিটার্নের ভিত্তিতে কোনো কর প্রত্যর্পণ বা সমন্বয় দাবি করিতে পারিবেন না।
২৬১। (১) কোনো ব্যক্তি নিজেকে করদাতা হিসাবে নিবন্ধন করিবেন, যদি তিনি-
(ক) করদাতা হন;
(খ) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য হন;
(গ) ধারা ২৬৪ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপন করিতে বাধ্য হন;
(ঘ) কর প্রদান করিতে অথবা রিটার্ন দাখিল করিতে ইচ্ছুক হন।
(২) বোর্ড নিবন্ধিত করদাতাকে একটি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রদান করিবে।
(৩) আপগ্রেডেশন বা পুনঃনিবন্ধনের উদ্দেশ্যে বোর্ড, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, যেকোনো টিআইএনধারী ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণিকে কোনো তথ্য বা দলিলাদি উপস্থাপনের নির্দেশে দিতে পারিবে।
(৪) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধিত করদাতা হইবার যোগ্য কিন্তু নিবন্ধন গ্রহণ করিয়া টিআইএন গ্রহণে ব্যর্থ হইয়াছেন, সেইক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া টিআইএন প্রদান করিতে পারিবে।
২৬২। (১) একজন ব্যক্তি নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করিবেন, যদি উক্ত ব্যক্তি-
(ক) ধারা ২৬৪ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনে আর বাধ্য না হন এবং-
(অ) ধারা ২ এর দফা ২২ এর অধীন করদাতা হিসাবে আর সংজ্ঞায়িত না হন;
(আ) পরপর বিগত ৩ (তিন) বৎসর করযোগ্য আয় শূন্য হন এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে বা অন্য কোনো কারণে ভবিষ্যতে কোনো করযোগ্য আয় শূন্য থাকিবেন; বা
(ই) ধারা ১৬৬ এর অধীন আর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন নাই;
(খ) মৃত্যু, অবসায়ন, অবলুপ্তি (dissolution) বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে অস্তিত্বহীন হইয়া যান;
(গ) স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশে আয় উপার্জক কোনো কর্মকাণ্ড করিবেন না;
(ঘ) ডুপ্লিকেট (duplicate) নিবন্ধন বা ভুল নিবন্ধন পাইয়া থাকেন;
(ঙ) আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করেন;
(চ) অন্য কোনো আইনানুগ কারণ প্রদর্শন করেন।
(২) আয়কর কর্তৃপক্ষ, নিবন্ধন বাতিলের আবেদন প্রাপ্তির পর, আবেদনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করিয়া করদাতার নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন, যদি তিনি নিশ্চিত হন যে-
(ক) করদাতা কর্তৃক পরিশোধিতব্য কোনো বকেয়া দায় নাই;
(খ) করদাতার বিরুদ্ধে কোনো কর নির্ধারণ নিষ্পন্নাধীন নাই;
(গ) কোনো ফোরামে আয়কর সংক্রান্ত কোনো বিরোধ নিষ্পন্নাধীন নাই; এবং
(ঘ) করদাতা কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীনে নিবন্ধন বাতিলের যে কারণ উল্লেখ করিয়াছেন উহার সত্যতা রহিয়াছে।
(৩) বোর্ড নিম্নবর্ণিত বিষয়ে স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া কোনো করদাতার নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন কোনো করদাতাকে নিবন্ধন বাতিলের যুক্তি রহিয়াছে;
(খ) কোনো করদাতার প্রকৃত বা বৈধ উৎসের কোনো আয় নাই বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে;
(গ) নিবন্ধনটি আর্থিক অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে বা অর্থ পাচারের কোনো স্কিমের অংশ হিসাবে করা হইয়াছে; বা
(ঘ) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রদত্ত তথ্য ভুল এবং অসত্য।
(৪) বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, সেইরূপে নিবন্ধন বাতিলকৃত করদাতার সমস্ত তথ্য এবং রেকর্ড নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "নিবন্ধন বাতিল" অর্থ একটি টিআইএন এর নিষ্ক্রিয়করণ (inactive), রহিতকরণ (dormant) এবং সর্বসাধারণের ব্যবহার অনুপযোগীকরণ, কিন্তু ইতিমধ্যে প্রাপ্ত তথ্যের বিলোপ (deletion) বা মোচন (erasure) বুঝাইবে না।
২৬৩। (১) অংশ ৭ এর অধীন কর কর্তন বা আদায় করিবার বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি উইথহোল্ডার শনাক্তকরণ নম্বর, অতঃপর ডব্লিউআইএন বলিয়া উল্লিখিত, গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি ডব্লিউআইএন গ্রহণ না করিলেও ব্যক্তিগত দায় আরোপসহ উক্ত ব্যক্তির উপর যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই বাধা হইবে না।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির ডব্লিউআইএন গ্রহণ করিবার বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে, কিন্তু তাহা গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তিকে একটি অস্থায়ী উইথহোল্ডার নম্বর (টিডব্লিউআইএন) প্রদান করা যাইবে।
২৬৪। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহে একজন ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিল করিতে হইবে।
(২) “রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ” বলিতে বুঝাইবে-
(ক) রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়ন বা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র;
(খ) করদাতার নাম, টিআইএন এবং করবর্ষ সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড সার্টিফিকেট; বা
(গ) করদাতার নাম, টিআইএন এবং করবর্ষ সংবলিত উপকর কমিশনার কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়ন।
286[(৩) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে “রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ” দাখিল করিতে হইবে, যথা:-
১। ২০ (বিশ) লক্ষাধিক টাকার ঋণ গ্রহণে;
২। কোনো কোম্পানির পরিচালক বা স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হইতে হইলে;
৩। আমদানি নিবন্ধন সনদ বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ গ্রহণ অথবা নবায়ন করিতে;
৪। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করিতে;
৫। সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার লাইসেন্স নবায়ন করিতে;
৬। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয় বা লিজ বা হস্তান্তর বা বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন করিতে;
৭। চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, আইনজীবী ও কর আইনজীবী, একচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার হিসাবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ নবায়ন করিতে;
৮। Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর অধীন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন) এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ও Special Marriage Act, 1872 (Act No. III of 1872) এর অধীন রেজিস্ট্রার হিসাবে লাইসেন্স প্রাপ্তি অথবা নবায়ন করিতে;
৯। ট্রেডবডি বা কোনো বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি অথবা নবায়ন করিতে;
১০। স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসাবে লাইসেন্স নবায়নে;
১১। ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স, কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্স, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্স ও বায়িং হাউজ নিবন্ধন গ্রহণ ও নবায়নে;
১২। যেকোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ প্রাপ্তি ও বহাল রাখিতে;
১৩। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তিতে;
১৪। সিটি কর্পোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তিতে;
১৫। লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরার ট্রলার, কার্গো, কোস্টার, ডাম্ব-বার্জসহ যেকোনো প্রকারের ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট গ্রহণ ও নবায়নে;
১৬। পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হইতে ইট উৎপাদনের অনুমতি গ্রহণ ও নবায়নে;
১৭। সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর বা পৌরসভায় অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু বা পোষ্য ভর্তিতে;
১৮। কোম্পানির এজেন্সী বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ গ্রহণে ও নবায়নে;
১৯। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণে ও নবায়নে;
২০। আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলায়;
২১। ১০ (দশ) লক্ষাধিক টাকার মেয়াদী আমানত খোলায় ও বহাল রাখিতে;
২২। ১০ (দশ) লক্ষাধিক টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে;
২৩। পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে;
২৪। ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক বা উৎপাদন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানকারী পদমর্যাদায় কর্মরত ব্যক্তির বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে;
২৫। দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার গণকর্মচারীর বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে;
২৬। স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য করদাতাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনের হিসাব রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে;
২৭। কোনো নিবাসী করদাতা কর্তৃক অ্যাডভাইজরি বা কনসালটেন্সি সার্ভিস, ক্যাটারিং সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, জনবল সরবরাহ, নিরাপত্তা সেবা সরবরাহ বাবদ কোনো কোম্পানি হইতে অর্থ প্রাপ্তিতে;
২৮। বিমা কোম্পানির এজেন্সি সার্টিফিকেট গ্রহণ ও নবায়নে;
২৯। দ্বি-চক্র বা ত্রি-চক্র মোটরযান ব্যতীত অনান্য মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে;
৩০। এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত এনজিও বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি হইতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার অনুকূলে বিদেশি অনুদানের অর্থ ছাড় করিতে;
৩১। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করিয়া ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং অথরিটির কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়নে;
৩২। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এবং Societies Registration Act. 1860 (Act No. XXI of 1860) এর অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়নে;
৩৩। কোনো নিবাসী করদাতা কর্তৃক পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা সরবরাহের উদ্দ্যেশ্যে টেন্ডার ডকুমেন্টস্ দাখিলকালে;
৩৪। পণ্য আমদানি বা রপ্তানির উদ্দ্যেশ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিলকালে;
৩৫। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা, সময় সময়, সরকার কর্তৃক গঠিত অনুরূপ কর্তৃপক্ষ অথবা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের নিমিত্ত ভবন নির্মাণের নকশা দাখিলকালে;
৩৬। এই আইনের ধারা ১৪০ এ সংজ্ঞায়িত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া বা লিজ প্রদানকালে;
৩৭। এই আইনের ধারা ১৪০ এ সংজ্ঞায়িত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট পণ্য বা সেবা সরবরাহকালে;
৩৮। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নে;
৩৯। সামাজিক অনুষ্ঠান, কর্পোরেট প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণসহ সমজাতীয় যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হইতে ভাড়া বা অন্য যেকোনো সেবা গ্রহণকালে;
তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে “রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ” দাখিলের পরিবর্তে নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র দাখিল করিতে হইবে, যথা:-
১। সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণে;
২। সমবায় সমিতির নিবন্ধন পাইতে;
৩। সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার এর নতুন লাইসেন্স গ্রহণে;
৪। ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও নবায়নে;
৫। চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, আইনজীবী ও কর আইনজীবী, একচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার হিসাবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণে;
৬। ৫ (পাঁচ) লক্ষাধিক টাকার পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব খোলায়;
৭। Monthly Payment Order বা এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে সরকারের নিকট হইতে দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মচারীর কোনো অর্থপ্রাপ্তিতে;
৮। স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনের হিসাব রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে;
৯। স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসাবে লাইসেন্স নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তিতে;
১০। ত্রি-চক্র মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে;
১১। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করিয়া ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং অথরিটির কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণে;
১২। স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো আইন বা আইনি ক্ষমতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের অধীন নিগমিত, নিবন্ধিত বা গঠিত হইবার বৎসর বা পরের বৎসরে:
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নহে এইরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(৪) বোর্ড, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ 287[বা নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র] দাখিল করা হইতে অব্যাহতি দিতে পারিবে।
(৫) যেইসকল ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ 288[বা নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র] দাখিল বাধ্যতামূলক সেইসকল ক্ষেত্রে কোনো নমিনেশন, মনোনয়ন বা আবেদন যাচাই-বাচাই, কোনো লাইসেন্স অনুমোদন, সার্টিফিকেট, সদস্যপদ, অনুমতি, ভর্তি, এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপের অনুমোদন, ঋণ অনুমোদন, ক্রেডিট কার্ড ইস্যু, সংযোগ বা অপারেশন অনুমোদন, নিবন্ধন সম্পাদন বা পেমেন্টের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ 289[বা নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র] দাখিল ব্যতীত কোনো প্রকার যাচাই-বাচাই, অনুমোদন, অনুমতি, মঞ্জুর, ইস্যু, ছাড়, সম্পাদন বা পেমেন্ট প্রদান হইতে বিরত থাকিবেন।
290[***]
(৭) যেইসকল ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ 291[বা নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র] দাখিল বাধ্যতামূলক সেইসকল ক্ষেত্রে কোনো নমিনেশন, মনোনয়ন বা আবেদন যাচাই-বাচাই, কোনো লাইসেন্স অনুমোদন, সার্টিফিকেট, সদস্যপদ, অনুমতি, ভর্তি, এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপের অনুমোদন, ঋণ অনুমোদন, ক্রেডিট কার্ড ইস্যু, সংযোগ বা অপারেশন অনুমোদন, নিবন্ধন সম্পাদন বা পেমেন্টের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ 292[বা নাম ও টিআইএন সংবলিত সিস্টেম জেনারেটেড প্রত্যয়নপত্র] দাখিল নিশ্চিত করিবেন 293[, যাহার ব্যর্থতায়] উক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উপকর কমিশনার অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকার জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
(৮) যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান ব্যতিরেকে এই ধারার অধীন জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।
294[***]
২৬৫। (১) এই আইনের অধীন রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ করদাতা যাহার ব্যবসা হইতে আয় রহিয়াছে তিনি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ তাহার ব্যবসার স্থানে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এইরূপ কোনো স্থানে প্রদর্শন করিবেন।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা উপ-ধারা (১) এর বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হন সেইক্ষেত্রে তিনি উপকর কমিশনার অন্যূন 295[২০ (বিশ) হাজার টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার] টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৬৬। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২ এর অধীন কোনো ব্যক্তি রিটার্ন দাখিল করিতে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০% (দশ শতাংশ) হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন, যাহা ন্যূনতম ১ (এক) হাজার টাকা হইবে এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতিদিনের জন্য ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জরিমানার পরিমাণ নিম্নবর্ণিত অঙ্ক অতিক্রম করিবে না, যথা:-
(ক) কোনো ব্যক্তি করদাতা, যাহার ইতঃপূর্বে কখনো কর নির্ধারণ হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা;
(খ) কোনো ব্যক্তি করদাতা, যাহার ইতঃপূর্বে কর নির্ধারণ হইয়াছে, তাহার ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ১ (এক) হাজার টাকা, দু’টির মধ্যে যাহা অধিক।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত,
(ক) ধারা ১৭৭ এর অধীন কোনো রিটার্ন, তথ্য দাখিল বা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর তাহার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অথবা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, দু’টির মধ্যে যাহা অধিক, সেই পরিমাণ জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি মাসের জন্য অথবা তাহার ভগ্নাংশের জন্য ১ (এক) হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন;
(খ) ধারা ১৪৫ এর অধীন কোনো সার্টিফিকেট প্রদান করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি মাসের জন্য অথবা তাহার ভগ্নাংশের জন্য ১ (এক) হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন;
(গ) ধারা ২০০ এর আবশ্যকতা অনুযায়ী কোনো তথ্য দাখিল বা উপস্থাপনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে যে আয়কর কর্তৃপক্ষ ধারা ২০০ এর অধীন তথ্য চাহিয়াছে সেই কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির উপর ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে, ব্যর্থতা অব্যাহত থাকাকালীন প্রতি দিনের জন্য ৫০০ (পাঁচশত) টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৬৭। (১) যেইক্ষেত্রে স্পর্শযোগ্য (tangible) সম্পত্তি ভাড়া হইতে আয় নাই এইরূপ কোনো ব্যক্তি, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, ধারা ৭২ এর উপ-ধারা (৩) অনুসারে বা উক্ত ধারার উদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো আদেশ বা বিধিমালার বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার তাহার উপর নিম্নবর্ণিতভাবে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) তাহার প্রদেয় করের অনধিক দেড়গুণ পরিমাণ; এবং
(খ) উক্ত ব্যক্তির মোট করমুক্ত আয় সীমার মধ্যে হইলে ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা।
(২) যেইক্ষেত্রে স্পর্শযোগ্য সম্পত্তি ভাড়া হইতে আয় রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তি, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, ধারা ৭২ এর উপ-ধারা (৩) অনুসারে বা উক্ত ধারার উদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো আদেশ বা বিধিমালার বিধান পরিপালনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার তাহার উপর স্পর্শযোগ্য সম্পত্তি ভাড়া হইতে অর্জিত আয়ের জন্য প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা, দু’টির মধ্যে যাহা অধিক, সেই পরিমাণ জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৬৮। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, তাহার রিটার্নে বা কোনো দলিলে, যেখানে এই আইনের অধীন করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) আবশ্যক, অন্য কোনো ব্যক্তির অথবা জাল করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ব্যবহার করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৬৯। যেইক্ষেত্রে অংশ ১০ এর আওতায় কর নির্ধারণ সম্পর্কীয় কোনো কার্যক্রম চলাকালে উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোনো ব্যক্তি-
(ক) যৌক্তিক কারণ ব্যতীত, ধারা ১৫৪ এর বিধান অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা
(খ) ধারা ১৫৫ এর অধীন তাহার দ্বারা প্রদেয় করের এইরূপ কোনো প্রাক্কলন উপস্থাপন করেন যাহা তাহার জানামতে বা বিশ্বাস অনুযায়ী অসত্য,
সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত ব্যক্তির উপর সর্বোচ্চ এইরূপ পরিমাণ জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন যাহা উক্ত ব্যক্তির প্রদেয় কর ও প্রকৃতপক্ষে পরিশোধিত কর, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধানের অধিক নহে।
২৭০। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যৌক্তিক কারণ ব্যতীত, ধারা ১৬৭, ১৬৮, ১৭৯, ১৮১ 296[, ১৮৩ বা ২১২] এর অধীন জারীকৃত কোনো নোটিশ অমান্য করেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর এইরূপ জরিমানা ধার্য করিতে পারিবেন যাহা তাহার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য করের অধিক হইবে না।
২৭১। এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলাকালে উপকর কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোনো ব্যক্তি 297[স্বীকৃত করদায়] পরিশোধ করেন নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর সম্পূর্ণ করের অনধিক ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) অথবা, ক্ষেত্রমত, অপরিশোধিত আংশিক করের সমপরিমাণ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৭২। (১) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলাকালে, কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো ব্যক্তি, উক্ত কার্যক্রমে কিংবা একই আয়বর্ষের কর নির্ধারণ সম্পর্কিত পূর্ববর্তী কোনো কার্যক্রমে তাহার আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয়ের তথ্য বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাহা করদাতার প্রদেয় অঙ্কের সহিত সম্পর্কযুক্ত তাহা অসত্য পরিমাণে প্রদর্শনের মাধ্যমে এই আইনের অধীন প্রদেয় অঙ্কের ফাঁকি দিয়েছেন, তাহা হইলে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত ব্যক্তির 298[ক এর সমপরিমাণ জরিমানা আরোপ করিবে, যেইক্ষেত্রে-
ক = ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক × ১০% × খ,
খ = যেই করবর্ষে কর ফাঁকি সংঘটিত হইয়াছে সেই করবর্ষ হইতে উক্ত কর ফাঁকির বিষয়টি যেই করবর্ষে উদঘাটিত হইয়াছে সেই করবর্ষসহ মোট বৎসর]।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-
(ক)“কার্যক্রম পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ” বলিতে-
(অ) কমিশনার পদের নিম্নে নহে এইরূপ আয়কর কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে; এবং
(আ) কর আপিল ট্রাইব্যুনালকে বুঝাইবে;
(খ)“ফাঁকি দেওয়া অঙ্ক” বলিতে কোনো করবর্ষে গ-ঘ কে বুঝাইবে,
যেইক্ষেত্রে-
গ = যদি আয়, সম্পদ, দায়, ব্যয় বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অসত্য পরিমাণে প্রদর্শন করা না হইত তাহা হইলে কোনো করবর্ষে প্রদেয় কর ও অন্যান্য অঙ্ক,
ঘ = সংশ্লিষ্ট করবর্ষে প্রকৃত পরিশোধিত অঙ্ক।
২৭৩। যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলাকালে, উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল), কমিশনার (আপিল) অথবা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতীতভাবে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি-
(ক) কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক এই মর্মে প্রত্যয়িত নহে যে, হিসাব সংরক্ষণ, বিবরণী প্রস্তুত ও রিপোর্ট করিবার ক্ষেত্রে International Accounting Standards (IAS) ও International Financial Reporting Standards (IFRS) এবং নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডস অন অডিটিং (আই এসএ) অনুসরণ করা হইয়াছে; অথবা
(খ) অসত্য বা অশুদ্ধ হয়,
সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের উপর সর্বনিম্ন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ
২ (দুই) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিবেন।
২৭৪। যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলাকালে, উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল), কমিশনার (আপিল) অথবা আপিল ট্রাইব্যুনাল সন্দেহাতীতভাবে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, করদাতা কর্তৃক কোনো আয়বর্ষের জন্য রিটার্নের সহিত বা পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক স্বাক্ষরিত নহে বা অসত্য হিসাবে বিশ্বাসযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্তৃপক্ষ বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল উক্ত করদাতার উপর উক্ত আয়বর্ষের জন্য ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৭৫। যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা কর পরিশোধে খেলাপি হন বা খেলাপি হিসাবে গণ্য হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, উক্ত করদাতার নিকট হইতে, বকেয়া করের অতিরিক্ত, উক্ত বকেয়া করের অধিক হইবে না এইরূপ অঙ্ক জরিমানা হিসাবে আদায় করা যাইবে।
২৭৬। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ২৩৫ এর অধীন কোনো নোটিশ বা অধিযাচন পরিপালনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক লেনদেনের মূল্যমানের অনধিক ১% (এক শতাংশ) জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৭৭। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ২৩৭ অনুসারে কোনো তথ্য বা দলিল বা রেকর্ড রাখিতে, সংরক্ষণ করিতে বা সরবরাহ করিতে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার, অংশ ১৯ এর বিধানাবলি ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্ত ব্যক্তির উপর ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক লেনদেনের মূল্যমানের অনধিক ১% (এক শতাংশ) জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৭৮। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ২৩৮ এর বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক লেনদেনের মূল্যমানের অনধিক ২% (দুই শতাংশ) জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৭৯। যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ধারা ২৩৯ অনুযায়ী কোনো রিপোর্ট দাখিল করিতে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তির উপর অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।
২৮০। কোনো ব্যক্তির শুনানি গ্রহণ বা তাহাকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান না করিয়া, এই অংশের অধীন তাহার উপর জরিমানা আরোপের কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
২৮১। উপকর কমিশনার ধারা ২৬৬, ২৭৫, ২৭৬, ২৭৭, ২৭৮ ও ২৭৯-তে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ না করিয়া এই অংশের আওতায় কোনো জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন না।
২৮২। আপিল ট্রাইব্যুনাল বা উপকর কমিশনার ব্যতীত অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ এই অংশের আওতায় যদি কোনো জরিমানা আরোপের আদেশ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত আদেশের একটি অনুলিপি উপকর কমিশনার বরাবর প্রেরণ করিতে হইবে এবং সেই কারণে জরিমানা আদায়ের সহিত সম্পৃক্ত এই আইনের সকল বিধানাবলি এইরূপে কার্যকর হইবে যেন উক্ত আদেশ উপকর কমিশনার প্রদান করিয়াছেন।
২৮৩। এই অংশের অধীন কোনো ব্যক্তির উপর আরোপিত কোনো জরিমানা এই আইন অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো দায় যাহার জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়ী বা দায়ী হইতে পারে এইরূপ দায়ের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করিবে না।
২৮৪। (১) যেইক্ষেত্রে এই অংশের অধীন আরোপিত কোনো জরিমানার পরিমাণ এই আইনের বিধানাবলির আওতায় নির্ধারণকৃত আয়ের পরিমাণের সহিত সরাসরি সম্পর্কযুক্ত এবং এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা পরবর্তীতে উক্ত আয়ের পরিমাণ সংশোধিত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার আয়ের পরিমাণ সংশোধন করিবার সময় সংশোধিত জরিমানার আদেশ জারি করিতে পারিবেন।
(২) জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো প্রকার আদেশ জারির পূর্বে যাহার উপর জরিমানা প্রযোজ্য তাহাকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সংশোধিত কর নির্ধারণী আদেশ জারির পরও উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত জরিমানার সংশোধিত আদেশ জারি করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে যাহার উপর জরিমানা আদেশ প্রযোজ্য তিনি উক্ত জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করিবার অনুরোধ জানাইয়া উপকর কমিশনার বরাবর আবেদন করিতে পারিবে, এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির ১৮০ (একশত আশি) দিনের মধ্যে যদি কোনো আদেশ প্রদান করা না হয়, তাহা হইলে সংশোধিত কর নির্ধারণী অনুসারে জরিমানার আদেশটি সংশোধিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং তদনুসারে এই আইনের সকল বিধান কার্যকর হইবে।
প্রথম অধ্যায়
রিভিশন
২৮৫। (১) কমিশনার করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, এই আইনের অধীন তাহার অধীক্ষেত্রাধীন অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত আদেশের রেকর্ডপত্র তলব করিতে পারিবেন এবং যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিবেন সেইরূপ অনুসন্ধান করিয়া বা করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের পর এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, তৎসম্পর্কে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ আদেশ জারি করিতে পারিবেন, তবে করদাতার স্বার্থের হানিকর কোনো আদেশ জারি করা যাইবে না।
(২) এই আইনের অধীন কমিশনারের অধীক্ষেত্রাধীন অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ রিভিশনের আবেদন এইরূপ আদেশ করদাতার অবহিত হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে অথবা উক্ত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করিতে না পারিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া কমিশনার কর্তৃক কোনো সময় বর্ধিত করা হইলে উক্তরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।
(৩) কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার ক্ষমতা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করিবেন না, যথা:-
(ক) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর নিকট বা আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয় এবং যদি এইরূপ আপিলের সময় উত্তীর্ণ না হয় অথবা করদাতা তাহার আপিল করিবার অধিকার পরিত্যাগ না করেন; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) বা আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিলের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমান।
299[(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আবেদন বিবেচিত হইবে না, যদি না—
(ক) আবেদনের সহিত ২০০ (দুইশত) টাকা ফি প্রদান করা হয়; এবং
(খ) স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করা হয়।]
(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কমিশনার কর্তৃক অসম্মতি জ্ঞাপনসূচক কোনো আদেশ করদাতার স্বার্থের হানিকর হিসাবে জারি করা হইবে না।
(৬) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রিভিশনের আবেদন করা হইলে যদি কমিশনার উক্ত আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে এতদ্বিষয়ে কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হন, তবে উক্ত রিভিশন অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) সেই কর কমিশনারের অধস্তন কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবেন যাহার অধস্তন উপকর কমিশনার দ্বারা পুনর্বিবেচনাধীন আপিলের বিষয়বস্তু আদেশ প্রদত্ত হইয়াছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়
আপিল এবং রেফারেন্স
২৮৬। (১) কোনো করদাতা আয়কর কর্তৃপক্ষের আদেশে সংক্ষুব্ধ হইলে সংশ্লিষ্ট আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট নিম্নবর্ণিত বিষয়ে আপিল করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) আয় নির্ধারণ;
(খ) পরিশোধ্য করদায় নিরূপণ;
(গ) ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা;
(ঘ) দণ্ড বা সুদ আরোপ;
(ঙ) চার্জ এবং সারচার্জ বা অন্য কোনো অর্থ হিসাব;
(চ) প্রত্যর্পণের পরিমাণ নিরূপণ;
(ছ) করের ক্রেডিট; এবং
(জ) কোনো প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত।
(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কেবল কমিশনার (আপিল) বরাবর আপিল করা যাইবে, যথা:-
(ক) কোম্পানি কর্তৃক আপিল;
(খ) ধারা ২১৩ এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল; এবং
(গ) আন্তর্জাতিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট সমন্বয় বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল।
(৩) বোর্ড-
(ক) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের উপর কোনো আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) এক আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে অন্য আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(৪) করারোপিত শেয়ার আয় হিসাবে পরিগণিত কোনো আয়ের ক্ষেত্রে আপিল করা যাইবে না।
(৫) নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত ক্ষেত্রে, কর নিরূপণ আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাইবে না, যথা:-
সারণী
|
রিটার্ন দাখিলের পরিস্থিতি |
শর্ত |
|
(১) |
(২) |
|
যেইক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হইয়াছে |
300[স্বীকৃত করদায়] পরিশোধ করা হয় নাই |
|
যেইক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল করা হয় নাই |
উপকর কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত করের ন্যূনতম ১০% (দশ শতাংশ) কর পরিশোধ করা হয় নাই: |
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আপিলকারী আপিল দায়েরের পূর্বে তাহার রিটার্নের ভিত্তিতে কর পরিশোধ করিয়া থাকেন এবং আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, সন্তোষজনক কারণে আপিলকারী রিটার্ন দাখিলের পূর্বে কর পরিশোধ করিতে পারেন নাই, তাহা হইলে আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করিতে পারিবে।
২৮৭। (১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২৮৬ এর অধীন প্রত্যেক আপিল নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে করিতে হইবে।
(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-
ক) ইলেক্ট্রনিক্যালি বা অন্য কোনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) উক্ত আপিল দায়েরের ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) আপিলকারীকে আপিল দায়েরের তারিখে বা উহার পূর্বে ২০০ (দুইশত) টাকা ফি পরিশোধ করিতে হইবে।
(৪) আপিলকারীকে উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে, যদি-
(ক) কর নির্ধারণ বা দণ্ড সংক্রান্ত হইলে, উক্তরূপ কর নির্ধারণ বা, ক্ষেত্রমত, দণ্ড সংশ্লিষ্ট করদাবি নোটিশ জারির তারিখ হইতে; এবং
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়, তাহা জারির তারিখ হইতে।
(৫) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এ বর্ণিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরও আপিল গ্রহণ করিতে পারিবেন, যদি উহার নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিলকারীর আপিল দায়েরকরণে ব্যর্থ হইবার পর্যাপ্ত কারণ বিদ্যমান ছিল।
২৮৮। (১) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানির জন্য তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, এবং তৎসম্পর্কিত একটি নোটিশ আপিলকারী ও সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে প্রদান করিবেন।
(২) আপিলকারী এবং উপকর কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করিবেন।
(৩) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন বিবেচনা করিলে, সময় সময়, আপিল শুনানি মুলতবি রাখিতে পারিবেন।
(৪) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আবেদনে উপস্থাপিত কারণ ছাড়াও আপিলের অন্যান্য কারণ অন্তর্ভুক্ত করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে, যদি কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আপিল আবেদন ফরমে ইচ্ছাকৃতভাবে এইরূপ কারণসমূহ বাদ দেওয়া হয় নাই এবং উক্তরূপ বাদ পড়া অযৌক্তিক ছিল না।
(৫) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল নিস্পত্তির পূর্বে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ তদন্ত সম্পাদন করিতে পারিবে অথবা প্রয়োজন বিবেচনা করিলে আপিলের কারণ সম্পর্কিত তথ্যাদি তলব করিতে পারিবে অথবা উপকর কমিশনার কর্তৃক বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত সম্পাদনের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।
(৬) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানি চলাকালে এইরূপ কোনো দলিলাদি বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করিতে পারিবেন না, যাহা উপকর কমিশনারের নিকট সময়মত উপস্থাপন করা হয় নাই, যদি না তাহার নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এইরূপ দলিলাদি বা সাক্ষ্য প্রমাণ যুক্তিসঙ্গত কারণে উপকর কমিশনারের নিকট উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না।
২৮৯। (১) কোনো আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ –
(ক) কর নির্ধারণী আদেশের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণ চূড়ান্তকরণ, হ্রাস, বর্ধিত, নাকচ বা রদ করিতে পারিবে;
(খ) জরিমানা আরোপের আদেশ সংক্রান্ত মামলায়, এইরূপ আদেশ চূড়ান্তকরণ, নাকচ বা বাতিল অথবা ভিন্ন পন্থায় জরিমানা বৃদ্ধি বা হ্রাস করিতে পারিবে; এবং
(গ) অন্য যেকোনো মামলায়, কর্তৃপক্ষ যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) ধারা ৩৩৫ এর বিধানাবলি অনুসারে করদাতার উপর নোটিশ জারি করা হয় নাই মর্মে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান না হইলে, কোনো কর নির্ধারণী বা জরিমানা আরোপের আদেশ নাকচ করা যাইবে না।
(৩) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো কর নির্ধারণীতে করের পরিমাণ বা আরোপিত জরিমানার অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি অথবা কর প্রত্যার্পনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস করিতে পারিবেন না, যদি না আপিলকারীকে এইরূপ বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান না করা হয়।
(৪) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত আপিলের রায় লিখিতভাবে প্রদান করিতে হইবে এবং নিষ্পত্তির বিষয়বস্তু, তৎসম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের সমর্থনে যথাযথ কারণসমূহের উল্লেখ করিতে হইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো আপিল মামলার ফলে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশে কোনো পরিবর্তন আনীত হয়, সেইক্ষেত্রে আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের সদস্যদের আয়কর নির্ধারণীতে সেই অনুযায়ী সংশোধনী আনয়নের জন্য উপকর কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) কোনো আপিল মামলা নিষ্পত্তির পর আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ তৎকর্তৃক জারীকৃত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশ জারির বিষয়টি আপিলকারী, উপকর কমিশনার এবং কমিশনারকে অবহিত করিবে।
(৭) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আপিল যেই তারিখে আপিল দায়ের করা হইয়াছিল, সেই তারিখের সংশ্লিষ্ট মাস সমাপ্তির পরবর্তী ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) দিনের মধ্যে যদি আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ সেটির উপর কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আপিলটি অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।
২৯০। ধারা ২১৭ এর অধীন ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের জারীকৃত আদেশে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদেশটি জারির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে কর কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ আপিলের ক্ষেত্রে, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
২৯১। (১) যদি কোনো করদাতা ধারা ২৭২ অথবা ২৮৯ এর অধীন, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক জারীকৃত আদেশে সংক্ষুদ্ধ হন, তাহা হইলে তিনি আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিতে পারিবেন।
(২) করদাতা, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) এর আদেশের ভিত্তিতে ধার্যকৃত কর, এবং 301[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার যে পার্থক্য হইবে, তাহার ১০% (দশ শতাংশ), কর পরিশোধ না করিয়া থাকিলে, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিল দায়ের করিতে পারিবেন না।
(৩) আপিলকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কর কমিশনার, আবেদনে উল্লিখিত কারণ তাহার নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান হইলে, উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধের বাধ্যবাধকতা শিথিল করিতে পারিবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তিনি যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন।
(৪) উপকর কমিশনার কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক ধারা ২৮৯ এর অধীন অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(৫) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইবে সেই আদেশ সম্পর্কে করদাতা অথবা, ক্ষেত্রমত, কমিশনারকে অবহিত করিবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রত্যেক আপিল দাখিল করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে ব্যর্থ হইলেও, যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যর্থতার জন্য পর্যাপ্ত কারণ বিদ্যমান ছিল, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদপূর্তির পরও উক্ত আপিল গৃহীত হইবে।
(৬) নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে প্রতিপাদনপূর্বক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে হইবে এবং উপ-ধারা (২) এর ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপিল আবেদনের সহিত ১ (এক) হাজার টাকা ফি প্রদান করিতে হইবে।
(৭) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-
(ক) ইলেক্ট্রনিক্যালি বা অন্য কোনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) উক্ত আপিল দায়ের করিবার ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।
২৯২। (১) আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল মামলার উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদানের পর আপিলটির ক্ষেত্রে যেইরূপ যথাযথ বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।
(২) কোনো আপিল নিষ্পত্তির প্রাক্কালে আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তলব করিতে পারিবে অথবা উপকর কমিশনার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে আপিল মামলার কারণে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশে কোনো পরিবর্তন আনীত হয়, অথবা ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশ নূতনভাবে করিতে হয়, সেইক্ষেত্রে আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আনীত উক্ত পরিবর্তন মোতাবেক উপকর কমিশনারকে উক্ত ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণী সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করিবে।
(৪) কোনো আপিল মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল ট্রাইব্যুনাল তৎকর্তৃক জারীকৃত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশটি আপিলকারীকে এবং কমিশনারকে অবহিত করিবেন।
(৫) এই অধ্যায়ে বর্ণিত 302[অন্যান্য বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া] আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোনো আপিলের বিষয়ে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো করদাতা কর্তৃক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল আবেদন দাখিল করা হইলে, যে মাসে উহা দাখিল করা হইয়াছে, তৎপরবর্তী ১৮০ (একশত আশি) দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে আপিল ট্রাইব্যুনাল উক্ত আপিলের উপর কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হইলে, আপিলটি অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য করা হইবে এবং যেইক্ষেত্রে ২ (দুই) সদস্য বিশিষ্ট আপিল ট্রাইব্যুনাল মামলা শুনানি করেন এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণের কারণে একজন অতিরিক্ত সদস্য নিয়োগ করা হইলে, উক্ত মেয়াদ হইবে যেই মাসে আপিল দাখিল করা হইয়াছে, তৎপরবর্তী ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) দিন।
২৯৩। (১) ধারা ২৯২ এর অধীন করদাতা অথবা কমিশনার কর্তৃক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রাপ্ত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কমিশনার বা করদাতা এইরূপ আদেশ হইতে উদ্ভূত কোনো আইনি প্রশ্নে বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে চাহিলে এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফরমে হাইকোর্ট বিভাগ বরাবর আবেদন করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কর আপিল ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রেফারেন্স মামলা দায়ের করা যাইবে না, যদি না করদাতা নিম্নবর্ণিত হারে ফি এবং কর পরিশোধ করেন, যথা:-
(ক) করদাতার ক্ষেত্রে আবেদনের সহিত ২ (দুই) হাজার টাকা ফি সংযুক্ত করা না হয়; এবং
(খ) যেইক্ষেত্রে করদাবি ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করে, সেইক্ষেত্রে যদি আপিল ট্রাইব্যুনলের আদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত কর এবং 303[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থের ১৫% (পনেরো শতাংশ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধ না করা হয়;
(গ) যেইক্ষেত্রে করদাবি ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করে, সেইক্ষেত্রে যদি আপিল ট্রাইব্যুনলের আদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত কর এবং 304[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধ না করা হয়।
(২) বোর্ড, করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, উপ-ধারা (১) এর অধীন ফি ব্যতীত এইরূপ পরিশোধের পরিমাণ হ্রাস বা মওকুফ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন ৩ (তিন) প্রস্থে করিতে হইবে এবং এর সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযোজন করিতে হইবে, যথা:-
(ক) আপিল ট্রাইব্যুনালের যে আদেশে আইনগত প্রশ্নের উদ্ভব হইয়াছে, সেই আদেশের সত্যায়িত ৩ (তিন) টি অনুলিপি;
(খ) উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার অথবা আপিল অতিরিক্ত বা যুগ্ম কমিশনার অথবা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল), এর যে আদেশ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিষয়বস্তু ছিল উহার সত্যায়িত ৩ (তিন) টি অনুলিপি, এবং
(গ) আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু অনুসারে উদ্ভূত আইনগত প্রশ্ন সম্পর্কিত অন্য যেকোনো দলিলের ৩ (তিন) টি সত্যায়িত অনুলিপি, যাহা দফা (ক) বা (খ)-তে উল্লিখিত আদেশের সহিত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমে, উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার অথবা কমিশনার (আপিল) অথবা ক্ষেত্রমত, আপিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হইয়াছিল।
(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা বাদী, সেইক্ষেত্রে কমিশনার বিবাদী এবং যেইক্ষেত্রে কমিশনার বাদী সেইক্ষেত্রে করদাতা বিবাদী হিসাবে গণ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, করদাতার মৃত্যু ঘটিলে বা অন্য কেহ তাহার স্থলাভিষিক্ত হইলে বা করদাতা একটি অবসায়িত কোম্পানি হইলে আবেদন বাতিলযোগ্য হইবে না, এবং করদাতা বাদী হইলে করদাতার নির্বাহক, প্রশাসক বা উত্তরাধিকারী বা অন্য আইনানুগ প্রতিনিধি কর্তৃক, অথবা করদাতা বিবাদী হইলে, পক্ষে বা বিপক্ষে, কিংবা ক্ষেত্রমত, অবসায়ক বা প্রাপকের দ্বারা আবেদনটি সক্রিয় থাকিবে।
(৫) আবেদনটির শুনানির তারিখ ধার্য সংক্রান্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর বিবাদী কর্তৃক শুনানির অন্যূন ৭ (সাত) দিন পূর্বে উক্ত আবেদন সংক্রান্ত একটি লিখিত জবাব দাখিল করিতে হইবে; এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট আদেশের সূত্রে বাদী কর্তৃক আইনগত প্রশ্ন সত্যিই উত্থাপিত হইয়াছিল কিনা তাহা স্পষ্টরূপে উক্ত জবাবে বর্ণনা স্বীকার বা অস্বীকার করিতে হইবে।
(৬) বাদী কর্তৃক উত্থাপিত প্রশ্নটি বিবাদীর মতানুসারে ত্রুটিপূর্ণ মর্মে গণ্য হইলে, যে প্রেক্ষাপটে তাহা ত্রুটিপূর্ণ হইতে পারে, তাহা উপর্যুক্ত জবাবে বর্ণনা করিতে হইবে এবং সংশ্লিষ্ট আদেশে কোনো আইনগত প্রশ্ন নিহিত থাকিলে প্রশ্নটি প্রকৃত অর্থে কী হইতে পারে তাহা সেই জবাবে উল্লেখ করিতে হইবে; এবং জবাবটি ৩ (তিন) প্রস্থে দাখিল করিতে হইবে এবং আবেদনপত্রের সহিত উত্থাপিত প্রশ্নটির সহিত সম্পৃক্ত যাবতীয় দলিলপত্র সংযুক্ত করিতে হইবে যাহা উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) অথবা (খ)-তে বর্ণিত কোনো আদেশের সহিত সম্পৃক্ত কার্যক্রমের প্রয়োজনে উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল), কমিশনার (আপিল) অথবা, ক্ষেত্রমত, আপিল ট্রাইব্যুনালের বরাবর সরবরাহ করা হইয়াছিল।
(৭) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 প্রযোজ্য হইবে।
২৯৪। (১) যেইক্ষেত্রে ধারা ২৯৩ এর অধীন কোনো রেফারেন্স মামলা হাইকোর্ট বিভাগে আনীত হয়, সেইক্ষেত্রে অন্তত ২ (দুই) জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ইহার উপর শুনানি করিবে এবং এইক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব Code of Civil Procedure 1908 (Act No. V of 1908) এর section 98 এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ২৯৩ এর অধীন আনীত রেফারেন্স মামলার উপর শুনানি গ্রহণের পর মামলাটিতে উত্থাপিত আইনগত জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রেক্ষাপট বর্ণনাক্রমে রায় প্রদান করিবে এবং আদালতের সীলমোহরাঙ্কন করিয়া রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরযোগে এইরূপ, রায়ের একটি অনুলিপি আপিল ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিবে এবং ট্রাইব্যুনাল উক্তরূপ রায়ের সহিত সামঞ্জস্য বিধানপূর্বক নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যেইরূপ আবশ্যক গণ্য করিবে সেইরূপ আদেশ জারি করিবে।
(৩) ধারা ২৯৩ এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগের রেফারেন্স মামলার ব্যয়সমূহ আদালতের স্ববিবেচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হইবে।
(৪) ধারা ২৯৩ এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলা যেভাবেই গৃহীত বা দায়েরকৃত হউক না কেন, উক্ত মামলার কর আদায়ের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কোনো স্থগিতাদেশ জারি না করিয়া থাকিলে, কর নির্ধারণীর ভিত্তিতে কর পরিশোধযোগ্য হইবে।
২৯৫। (১) ধারা ২৯৪ এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো রায়ের ক্ষেত্রে, হাইকোর্ট বিভাগ যদি উক্ত রায় আপিল বিভাগে আপিলযোগ্য মর্মে প্রত্যয়ন করে, তাহা হইলে সেইক্ষেত্রে আপিল করা যাইবে।
(২) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক Code of Civil Procedure 1908 (Act No. V of 1908) এর বিধানাবলি ডিক্রির ক্ষেত্রে যেইভাবে প্রয়োগ করা হয়, আপিল বিভাগে এই ধারার অধীন বর্ণিত আপিলের ক্ষেত্রে উক্ত বিধানাবলি যতদূর সম্ভব, সেইভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোনো কিছুই ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (২) বা (৪) এর বিধানাবলিকে প্রভাবিত করিয়াছে মর্মে ব্যক্ত হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, আপিল বিভাগের আদেশ হিসাবে যে ব্যয়াদি অনুমোদিত হয়, তদসংক্রান্ত আদেশ বাস্তবায়নের নিমিত্ত আনীত দায়েরকৃত পিটিশন হাইকোর্ট বিভাগ উহার অধস্তন যেকোনো আদালতে সরবরাহ করিতে পারিবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায় পরিবর্তিত হয়, সেইক্ষেত্রে ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (২) ও (৪) এ বর্ণিত হাইকোর্ট বিভাগের রায় কার্যকর করিবার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে আপিল বিভাগের আদেশের কার্যকারিতা প্রদান করিতে হইবে।
(৪) ব্যয় এবং কর পরিশোধ সংক্রান্ত ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) এর বিধানাবলি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলায় ধারা ২৯৪ এর অধীন যেভাবে প্রয়োগ হয়, আপিল বিভাগে আপিলের ক্ষেত্রেও উক্ত বিধানসমূহ সমভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
তৃতীয় অধ্যায়
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি
২৯৬। এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে,-
(১) “অনুমোদিত প্রতিনিধি” অর্থ ধারা ৩২৭ এর উপ-ধারা (২)-এ উল্লিখিত 305[অনুমোদিত] প্রতিনিধি;
(২) “বেঞ্চ” অর্থ কর আপিল ট্রাইবুনালের বেঞ্চ;
(৩) “কমিশনারের প্রতিনিধি” অর্থ এই অধ্যায়ের অধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করিবার লক্ষ্যে ধারা ৪ এর অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষসমূহের মধ্য হইতে কর কমিশনার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা;
(৪) “আদালত” অর্থ সুপ্রীম কোর্ট;
(৫) “বিরোধ” অর্থ নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কোনো করদাতার কোনো অভিযোগ-
(ক) রিটার্নে করদাতা কর্তৃক ঘোষিত আয়কর নিরূপণের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বৎসরের আয় হইতে অধিক হইলে; অথবা
(খ) অংশ ২০ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশের ফলে আয়কর নিরূপণের পরিমাণ রিটার্নে করদাতা কর্তৃক ঘোষিত আয়কর নিরূপণের পরিমাণ হইতে অধিক হইলে।
২৯৭। কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে নিষ্পন্নাধীন কর নিরূপণ সংক্রান্ত বিরোধ এই অধ্যায়ে এবং এই অধ্যায়ের অধীন প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত পদ্ধতিতে, এবং বোর্ড কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত যোগ্যতা, শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে।
২৯৮। (১) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন করদাতা আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা সুপ্রীম কোর্টের যেকোনো বিভাগে নিষ্পন্নাধীন বিরোধ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) সুপ্রীম কোর্টের যেকোনো বিভাগে কোনো বিরোধ নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, করদাতাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন দাখিলের পূর্বে আদালতের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো বিরোধ লইয়া রিট করা হইলে উক্ত বিরোধ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে না।
(৩) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন-
(ক) নির্ধারিত ফরমে, সময়ে এবং ফি প্রদানপূর্বক প্রত্যয়ন করিয়া দাখিল করিতে হইবে;
(খ) সংশ্লিষ্ট আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করিতে হইবে।
(৪) করদাতা আবেদনপত্রের সহিত সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, দলিলাদি এবং আইনগত ভিত্তি ও প্রকৃত ঘটনা সম্বলিত বিবৃতি দাখিল করিবেন।
(৫) কোনো করদাতা কোনো আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল করিয়া থাকিলে, তিনি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন দাখিলের যোগ্য হইবেন না যদি না উক্ত আয়বর্ষে 306[স্বীকৃত করদায়] পরিশোধ না করিয়া থাকেন।
২৯৯। (১) সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে আবেদনকারী করদাতার সহিত মধ্যস্থতা করিবার জন্য, উপকর কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে, অতঃপর আয়কর প্রতিনিধি বলিয়া উল্লিখিত, মনোনীত করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত আয়কর প্রতিনিধি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সকল মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করিবেন এবং মতৈক্যে উপনীত হইলে উক্ত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।
৩০০। (১) বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত একজন সহায়তাকারীর মধ্যস্থতায় করদাতা এবং কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পরিচালিত হইবে।
(২) সহায়তাকারী নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন ও নির্ধারিত ফি গ্রহণ করিবেন।
৩০১। (১) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করদাতার স্বয়ং বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিশনারের প্রতিনিধির সহিত মধ্যস্থতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার থাকিবে।
(২) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যস্থতায় করদাতার সহিত সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত বিষয়ে আইনগত ও তথ্যগত কাগজপত্র ও দলিল সহযোগে যুক্তি তর্ক উপস্থাপনে সীমাবদ্ধ থাকিবে।
(৩) যদি কোনো সমঝোতায় উপনীত হওয়া যায়, তাহা হইলে করদাতাকে, উক্ত সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো করদায় আরোপিত হইলে, সম্মত সময়সীমার মধ্যে উহা পরিশোধ করিতে হইবে।
৩০২। (১) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন প্রাপ্তির পর, সহায়তাকারী আবেদনের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত বিষয়ে এবং ধারা ২৯৮ এর শর্তাবলি প্রতিপালিত হইয়াছে কিনা তৎমর্মে সেই বিষয়ে তাহার মতামত তলব করিবেন।
(২) যদি উপকর কমিশনার, উপ-ধারা (৩) এর দফা (গ)-এ উল্লিখিত অনুলিপি প্রাপ্তির পর, ৫ (পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে শর্তপূরণ সম্পর্কে তাহার মতামত প্রদানে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে সহায়তাকারী আবেদনে উল্লিখিত শর্তাদি প্রতিপালিত হইয়াছে মর্মে গণ্য করিতে পারিবেন।
(৩) সহায়তাকারী-
(ক) আবেদনকারী এবং কর কমিশনার বা কমিশনারের প্রতিনিধিকে নোটিশে উল্লিখিত তারিখে বিরোধ নিষ্পত্তির সভায় অংশগ্রহণের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করিতে পারিবেন;
(খ) প্রয়োজন বিবেচনা করিলে, সময় সময়, সভা মুলতুবি করিতে পারিবেন;
(গ) বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সভার পূর্বে বা সভায় উপকর কমিশনার বা আবেদনকারীর নিকট হইতে দলিল বা সাক্ষ্য-প্রমাণ তলব করিতে পারিবেন; এবং
(ঘ) উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, আবেদন নিষ্পত্তির পূর্বে কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুসন্ধান করাইতে পারিবেন।
(৪) সহায়তাকারী আবেদনকারী করদাতাকে এবং কমিশনারের প্রতিনিধিকে আলোচনা এবং সভার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সম্মত হইবার জন্য সহায়তা প্রদান করিবেন।
৩০৩। যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা কোনো আয়বর্ষে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করেন এবং উক্ত আয়বর্ষের জন্য উপকর কমিশনার আপিল ট্রাইব্যুনালে কোনো আপিল দায়ের করেন বা কর কমিশনার হাইকোর্ট বিভাগে কোনো রেফারেন্স প্রেরণ করেন, এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান না করা হয়, সেইক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আপিল বা রেফারেন্স সম্পর্কিত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকিবে।
৩০৪। (১) যেইক্ষেত্রে উভয় পক্ষ এই আইনের আওতাধীন বিরোধ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা আইনিভাবে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে উক্তকমত্য পোষণ করেন, সেইক্ষেত্রে মতৈক্যের ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ বিষয়টি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে করদাতা এবং কর কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির আংশিক বা সম্পূর্ণ মতৈক্য হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতৈক্যের বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিপিবব্ধ করিবেন।
(৩) উক্ত মতৈক্যের রেকর্ডে যেকোনো প্রদেয় বা প্রত্যার্পনযোগ্য কর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত বিষয়াদিসহ মতৈক্যের শর্তাবলির বর্ণনা থাকিবে, এবং মতৈক্যের ভিত্তিতে ন্যায্য পাওনা পরিশোধের পদ্ধতি এবং সহায়তাকারী যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ অন্যান্য বিষয়েরও উল্লেখ থাকিবে।
(৪) যদি পরবর্তীতে উদঘাটিত হয় যে, প্রতারণা ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মতৈক্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হইয়াছে, তাহা হইলে তাহা বাতিল হইবে।
(৫) করদাতা, কমিশনারের প্রতিনিধি এবং সহায়তাকারী মতৈক্যে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।
(৬) যেইক্ষেত্রে আবেদনকারী করদাতা এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে যেকোনো পক্ষের অসহযোগিতার কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কোনো মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভবপর না হয়, বা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করিয়া, মতভেদ হইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে আবেদনকারী, বোর্ড, সংশ্লিষ্ট আদালত, ট্রাইব্যুনাল, আপিল কর্তৃপক্ষ এবং, ক্ষেত্রমত, আয়কর কর্তৃপক্ষকে উক্ত অসফল বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে অবহিত করিবেন।
(৭) যেইক্ষেত্রে পাওনা আদায় ও প্রত্যার্পনের পন্থা ও সময় নির্ধারণ করিয়া মতৈক্য হয় এবং তাহা যথাযথভাবে লিপিবব্ধ ও স্বাক্ষরিত হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, এই আইনের বিধানাবলি পরিপালন করিয়া, মতৈক্য অনুসারে, উহা করদাতা এবং সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে অবহিত করিবেন।
(৮) যদি সহায়তাকারী, যে মাসে আবেদন করা হইয়াছিল সেই মাস সমাপ্ত হইবার পরবর্তী
৩ (তিন) মাসের মধ্যে, মতৈক্যে উপনীত হইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে কোনো মতৈক্য হয় নাই বলিয়া গণ্য হইবে।
(৯) যেইক্ষেত্রে সফল মতৈক্য হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী মতৈক্যের অনুলিপি উপ-ধারা (৬)-এ উল্লিখিত সকল পক্ষের নিকট, যেই তারিখে সহায়তাকারী এবং পক্ষগণ মতৈক্যে স্বাক্ষর করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে, প্রেরণ করিবেন।
৩০৫। (১) এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩০৪ এর উপ-ধারা (৯) এর অধীন সম্পাদিত সমঝোতা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে করদাতা বা কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে আপত্তি উত্থাপন করিতে পারিবে না।
(২) ধারা ৩০৪ এর অধীন নিষ্পন্নকৃত মতৈক্যের ক্ষেত্রে উহাতে উল্লিখিত বিষয় চূড়ান্ত হইবে এবং মতৈক্য বহির্ভূত কোনো বিষয়ে, এই আইনের অধীন যেকোনো কার্যধারায় পুনঃউন্মোচন করা যাইবে।
৩০৬। (১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে সকল বিরোধের ক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ মতৈক্য হয় নাই, সেই সকল ক্ষেত্রে করদাতা-
(ক) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের আদেশ হইতে বিরোধ উদ্ভূত হয়, সেইক্ষেত্রে 307[***] অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল) এর নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন;
(খ) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল) এর আদেশ হইতে বিরোধ উদ্ভূত হয়, সেইক্ষেত্রে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন;
(গ) যেইক্ষেত্রে আবেদনকারী করদাতা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ বা আদালত হইতে আপিল আবেদনের অনুমতি পান উক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(২) আপিল দাখিলের তামাদি মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদনকারী কর্তৃক আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত বা আদেশ পাইবার জন্য ব্যয়িত সময় অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
৩০৭। (১) বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন নিষ্পত্তির অগ্রগতি তদারক করিতে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন এবং সমন্বয় সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করিতে পারিবে।
(২) মতৈক্য বা মতানৈক্য সম্পর্কিত সকল প্রতিকপি বিষয়াদির অনুলিপি সহায়তাকারী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কমিশনার এবং বোর্ডের নিকট যাচাই এবং আইনগত বা ঘটনাগত সঠিকতা নিরূপণের জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) মতৈক্য বা মতানৈক্যের বিষয়াদির অনুলিপি প্রতিলিপি প্রাপ্তির পর, যদি বোর্ডের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, দায়েরকৃত মতৈক্য প্রতারণা, ভুল উপস্থাপনা বা প্রকৃত তথ্য গোপনের মাধ্যমে রাজস্বের ক্ষতি করিবে, তাহা হইলে উক্ত মতৈক্য বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হইবে।
৩০৮। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে গৃহীত ব্যবস্থা বা মতৈক্যের বিরুদ্ধে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাইবে না।
৩০৯। (১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয় সংবলিত সকল বিবরণ বা তথ্য গোপনীয় থাকিবে এবং উহা প্রকাশ করা যাইবে না, যথা:-
(ক) এই আইনের বিধানাবলির অধীন প্রস্তুতকৃত বিবৃতি, দাখিলকৃত রিটার্ন বা হিসাববিবরণী বা দলিলাদি;
(খ) অংশ ২২ এর অধীন গৃহীত কার্যধারা ব্যতীত এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা চলাকালীন প্রদত্ত কোনো সাক্ষ্য, হলফনামা বা জমাকৃত দলিলাদি; এবং
(গ) এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারায় কর নির্ধারণ বা প্রত্যার্পন সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম।
(২) Evidence Act, 1872 (Act I of 1872), দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নং আইন) বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনে উল্লিখিত ক্ষেত্র ব্যতীত, কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো রিটার্ন, হিসাব বা দলিলাদি, বা এতদ্সংক্রান্ত কোনো অংশ, এই আইনের অধীন গৃহীত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কোনো রেকর্ড, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারী কর্তৃক উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান বা এতদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাক্ষ্য- প্রমাণ তলব করিতে পারিবে না।
(৩) উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন নিষেধাজ্ঞা নিম্নরূপ বিষয় প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, -
(ক) কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিম্নবর্ণিত আইনসমূহের অধীন কোনো অপরাধের তদন্তের লক্ষ্যে জমাকৃত প্রয়োজনীয় কোনো কাগজাদি, বা কোনো বিবৃতি, রিটার্ন হিসাব, দলিলাদি, সাক্ষ্য, হলফনামা বা জমাকৃত বিষয়াদি:
(অ) Penal Code (Act No. XLV of 1860); বা
(আ) দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নং আইন):
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কোনো কাগজাদি, বা কোনো বিবৃতি, রিটার্ন হিসাব, দলিলাদি, সাক্ষ্য, হলফনামা বা জমাকৃত বিষয়াদি প্রকাশ বা প্রদানের বিষয়ে আমলি আদালত আদেশ করিবে কেবল সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ প্রয়োজনীয় কোনো কাগজাদি, বা কোনো বিবৃতি, রিটার্ন হিসাব, দলিলাদি, সাক্ষ্য, হলফনামা বা জমাকৃত বিষয়াদি প্রকাশ বা প্রদান করা যাইবে;
(খ) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে জমাকৃত প্রয়োজনীয় কোনো কাগজাদি, বা কোনো বিবৃতি, রিটার্ন হিসাব, দলিলাদি, সাক্ষ্য, হলফনামা বা জমাকৃত বিষয়াদি;
(গ) এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, এই আইন বাস্তবায়নের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির নিকট প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত কোনো বিবরণ বা তথ্য, বা সরকারের পক্ষে বা বাংলাদেশ সদস্যভুক্ত এইরূপ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কার্যরত কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির নিকট প্রদত্ত কোনো বিষয়াদি;
(ঘ) কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় কোনো বিবরণ বা তথ্য অর্জনের জন্য এই আইনের অধীন নোটিশ বা কোনো পাওনা পুনরুদ্ধারের দাবি;
(ঙ) বোর্ড বা তদকর্তৃক অনুমোদিত কোনো কর্মকর্তা, বা কমিশনার, সরকারের কোনো দপ্তর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক, কর্পোরেশন বা অন্য কোনো সংস্থার নিকট করদাতার কর বকেয়া দাবি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত কোনো কাগজাদি বিবরণী;
(চ) এই আইন হইতে উদ্ভূত কোনো দেওয়ানি আদালত সংক্রান্ত কোনো কার্যধারার প্রয়োজনে উপস্থাপিত কোনো কাগজাদি বিবরণী এবং সরকার যাহার পক্ষভুক্ত;
(ছ) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত কোনো বিষয়াদি;
(জ) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃক নিয়োগকৃত কোনো কর্মকর্তা বা বোর্ড কর্তৃক কর গ্রহণ বা প্রত্যর্পণ নিরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি;
(ঝ) আয়কর বিভাগের কোনো কর্মচারীর আচরণ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তকালীন সময়ে, তদন্ত পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংবিধানের অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারি কর্ম কমিশন এইরূপ তদন্ত হইতে সৃষ্ট কার্যাদি পালনকালে তখন তাহার নিকট উপস্থাপিতব্য বিষয়াদি;
(ঞ) আয়কর কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর আইনজীবীর বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ সংক্রান্ত কার্যধারার তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়াদি যাহা উক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিতব্য বিষয়াদি উপস্থাপন করা হইয়াছে;
(ট) কোনো গণকর্মচারী কর্তৃক এইরূপ কোনো বিষয়াদি, যেখানে Stamp Act, 1899 (Act II of 1899) এর অধীন অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প ডিউটিসহ দলিলাদি দাখিল সংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত কার্যসম্পাদন করিতে হয়;
(ঠ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরের কোনো দেশের সরকারের মধ্যে দ্বৈত কর পরিহার সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে, উক্ত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কর্মচারীর সহিত এবং যেইক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকি রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট তথ্য উক্ত চুক্তি অনুযায়ী প্রকাশযোগ্য;
(ড) সরকার কর্তৃক কোনো কর্মকর্তাকে কোনো প্রদেয় কর আদায় বা ইহার দ্বারা ধার্যকৃত কোনো কর আদায় সংক্রান্ত উদ্দেশ্য পূরণকল্পে;
(ঢ) Excise and Salt Act, 1944 (Act No. I of 1944), দান কর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ২২ নং আইন), Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) প্রয়োগের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন হইতে পারে এইরূপ কোনো ক্ষমতা;
(ণ) কোনো নির্দিষ্ট বিষয়াদি, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট, যেইক্ষেত্রে কোনো সময়ের জন্য কার্যকর কোনো আইনের কোনো বিধান মোতাবেক কোনো ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে বা আয়বর্ষসমূহে আয়কর নির্ধারণ করা হইয়াছে কিনা তাহা নির্ধারণ করিবার প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে;
(ত) গণকর্মচারীর আচরণ ও এতদসংক্রান্ত বিষয়াদি তদন্তের উদ্দেশ্যে সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা বিভাগের কার্যক্রম সম্পাদনের প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য;
(থ) মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন সম্পর্কিত প্রসিকিউশন অনুমোদনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুরোধ করা হইলে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন সংক্রান্ত তদন্তের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য;
(দ) Foreign Exchange Regulation Act, 1947 (Act No. VII of 1947) এর section 19 এর sub-section (2) এর অধীন কোনো আদেশের প্রয়োজন অনুসারে উক্তরূপ কোনো বিবরণ বা তথ্যাদি বা বিষয়াদি;
(ধ) এইরূপ কোনো তথ্য যাহা করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত বা প্রদর্শিত হয় নাই কিন্তু এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যধারা চলাকালে উদ্ঘাটিত হইয়াছে;
(ন) এই আইনের কোনো বিধানানুযায়ী কোন রিটার্ন, বিবরণী বা প্রত্যয়ন দাখিল, প্রদর্শন ও যাচাইয়ের জন্য বলা হইয়াছে;
(প) এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালার অধীন প্রস্তুতকৃত সর্বোচ্চ করদাতার তালিকা।
(৪) এই ধারার কোনো বিধান কোনো আদালতে দলিলাদি, ঘোষণাপত্র বা হলফনামা দাখিল বা ধারা ১৯২ এর অধীন গণকর্মচারী কর্তৃক প্রদত্ত কোনো বিবৃতি বা বিবৃতির জবানবন্দি প্রমাণাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৫) এই ধারার অধীন কোনো ব্যক্তির নিকট সরবরাহকৃত কোনো তথ্য এবং কোনো ব্যক্তি বা তাহার নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারী উক্ত তথ্য সম্পর্কে, এইরূপ দায় সাপেক্ষে, যেন তিনি গণকর্মচারী হইলে কোনো অধিকার, বিশেষাধিকার, দায় এবং দায়িত্ব এই আইনের বিধানাবলির আলোকে যথাযথভাবে পালন করিতে হইবে।
(৬) এই উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো তথ্য প্রকাশের নিষেধাজ্ঞা উক্ত বিবৃতি প্রস্তুতকারী, রিটার্ন প্রস্তুতকারী, হিসাব বা প্রস্তুতকৃত দলিলাদি, প্রদত্ত সাক্ষ্য বা হলফনামা বা উপস্থাপিত তথ্য, যাহাই হউক না কেন, স্বেচ্ছা ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
৩১০। (১) এই অংশের বিধানসমূহ অন্যান্য আইনের বিধানের ব্যত্যয় না ঘটাইয়া ফৌজদারি অপরাধ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হইবে।
(২) এই অংশের বিধানসমূহ এই আইনের অধীন প্রণীত বা প্রণীতব্য অন্য কোনো আদেশের হানি না ঘটাইয়া স্বাধীনভাবে কার্যকর হইবে এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বা অন্য কোনো কারণে আদেশ জারি না করিবার বিষয়ে তাহা প্রতিরক্ষক হইবে না।
৩১১। কোনো ব্যক্তি যদি কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত নিম্নরূপ তথ্য প্রদান বা কার্যসম্পাদনে ব্যর্থ হন তাহা হইলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাহা ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত হইতে পারে এইরূপ সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, যদি তিনি-
(ক) ধারা ২০০, ২০১, ২০৪ বা ২০৫ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হন বা প্রত্যাখ্যান করেন;
(খ) ধারা ২০২ অনুযায়ী পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান না করেন বা কপি গ্রহণে সম্মতি প্রদান না করেন;
308[***]
(ঘ) ধারা ২০৫ অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগকারী আয়কর কর্তৃপক্ষকে উহার কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় সুবিধাদি বা তথ্য প্রদান করিতে ব্যর্থ হন;
(ঙ) ধারা ১৪৭ বা ধারা ২০৬ এর অধীন কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি প্রদান না করেন বা বাধা প্রদান করেন।
(চ) ধারা ২২৩ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশ মানিয়া চলিতে ব্যর্থ হন;
৩১২। (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কৌশলে এই আইনের অধীন প্রদেয় করদায় এড়াইবার চেষ্টা করেন তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড, তবে ৬ (ছয়) মাসের নিম্নে নহে, বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনের অধীন প্রদেয় করদায় এড়াবার চেষ্টা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) আয়ের বিশেষ বিবরণ গোপন করেন;
(খ) আয়কর পরিশোধের দায়বদ্ধতা হ্রাস করিবার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি, দায় এবং ব্যয় সম্পর্কে অসত্য বিবরণ প্রদান করেন;
(গ) তাহার আয়ত্বের বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো হিসাব বা অন্যান্য দলিলাদি, যাহা এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার সহিত সংশ্লিষ্ট, এইরূপ বিষয়ে অসত্য তথ্য বা বিবৃতি প্রদান করেন;
(ঘ) হিসাব বা অন্যান্য বিবরণীতে কোনো মিথ্যা তথ্য, বা বিবৃতি, প্রস্তুত করেন বা করান;
(ঙ) ইচ্ছাকৃতভাবে হিসাবসমূহের বা অন্যান্য বিবৃতির কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য বা বিবৃতি বিলুপ্ত করেন বা করান; বা
(চ) এই আইনের অধীন প্রদেয় আয়কর পরিশোধ না করিবার লক্ষ্যে অন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
৩১৩। যদি কোনো ব্যক্তি এইরূপ কোনো হিসাব বা বিবৃতি প্রদান করেন যাহা মিথ্যা, এবং তিনি জানেন বা বিশ্বাস করেন যে, তাহা মিথ্যা অথবা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন না, তাহা হইলে তিনি অর্থদণ্ডসহ অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে, তবে ৬ (ছয়) মাসের নিম্নে নহে, দণ্ডিত হইবেন।
৩১৪। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন এইরূপ কোনো সনদপত্র স্বাক্ষর বা জারি করেন, যাহা তিনি মিথ্যা বলিয়া জানেন বা বিশ্বাস করেন বা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন না, তাহা হইলে কোনো সনদপত্র স্বাক্ষর বা জারি করিবার জন্য তিনি ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, তবে ৩ (তিন) মাসের নিম্নে নহে, দণ্ডিত হইবেন।
৩১৫। (১) কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাহা ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত হইতে পারে এইরূপ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, যদি তিনি যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত,
(ক) অংশ ৭ এর বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় কর আদায় বা সংগ্রহ ও পরিশোধে ব্যর্থ হন;
(খ) ধারা ২২১ এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে কর আদায় করিতে এবং কর প্রদানে ব্যর্থ হন।
(২) যদি কর্তনকৃত, সংগ্রহকৃত বা পরিশোধিত করের পরিমাণ ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অতিক্রম না করে তাহা হইলে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শনাক্ত হইবার পূর্বে স্বেচ্ছায় উপ-ধারা (১) এর অধীন কর কর্তন করেন, নির্ধারিত সময়ে কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত জরিমানা এইরূপ হারে গণনা করা হইবে যাহা ধারাবাহিক ব্যর্থতাকালীন সময়ে প্রতিদিনের জন্য অন্যূন ১০০ (একশত) টাকার কম বা ৫০০ (পাঁচশত) টাকার অধিক হইবে না।
৩১৬। যদি কোনো ব্যক্তি রিটার্নের সহিত বা তদনুসারে কোনো নিরীক্ষিত হিসাববিবরণী দাখিল করেন যাহা জাল বা মিথ্যা এবং তিনি জানেন বা বিশ্বাস করেন যে, তাহা জাল ও মিথ্যা, বা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করেন না, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে, তবে ৬ (ছয়) মাসের নিম্নে নহে, দণ্ডিত হইবেন।
৩১৭। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাল বা অপর কোনো ব্যক্তির করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের অসঙ্গত অনুচিত ব্যবহার করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তিনি সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩১৮। কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কার্যাবলি নির্বাহকালে কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে বাধা প্রদান করিলে তিনি অন্যূন ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩১৯। কোনো সম্পত্তির মালিক, বা তাহার প্রতিনিধি বা তাহার পক্ষে দাবিকারী ব্যক্তি কর উদ্ধারকারী কর্তকর্তার নিকট হইতে নোটিশ প্রাপ্তির পর যদি ক্রোক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কোনো সম্পদ বিক্রয়, বন্ধক, বন্দোবস্ত, লিজ বা অন্য কোনোভাবে রফা করেন তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩২০। কোনো ব্যক্তি যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত, ধারা ২২১ এর উপ-ধারা (৭) এর অধীন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাহা ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত হইতে পারে এইরূপ সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩২১। কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন জ্ঞাতসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ সংঘটিত করিবার জন্য সহায়তা, প্ররোচিত করা বা উস্কানি, বা উদ্দীপনা প্রদান করিলে, প্রথমে উল্লিখিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাহা ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত হইতে পারে এইরূপ সর্বোচ্চ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩২২। কোনো গণকর্মচারী, বা সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তি, বা নিয়োজিত ব্যক্তি বা এই আইন বাস্তবায়নের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি ধারা ৩০৯ এর বিধান লঙ্ঘনক্রমে কোনো সুরক্ষিত দলিলাদি, বিশেষ বিবরণী বা তথ্য প্রকাশ করিলে তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩২৩। যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ কোম্পানি, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক সংঘটিত হয় সেইক্ষেত্রে-
(ক) উক্ত কোম্পানি, ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘকে কেবল জরিমানা করা হইবে; এবং
(খ) কোম্পানি বা এতদসংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা, বা ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ পরিচালনার বা ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি অর্থদণ্ডসহ অনধিক ৬ (ছয়) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে, তবে ৬ (ছয়) মাসের নিম্নে নহে, দণ্ডিত হইবেন।
(২) কোম্পানি, ফার্ম বা ব্যক্তি সংঘ এবং উপ-ধারা (১) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, বিচারকার্য সম্পাদিত হইবে এবং তদনুসারে তাহারা দণ্ডিত হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত ব্যক্তিগণ দণ্ডিত হইবেন না, যদি তিনি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে-
(ক) অপরাধ তাহার জ্ঞান, সম্মতি বা পরোক্ষ সম্মতি ব্যতীত সংঘটিত হইয়াছিল;
(খ) অপরাধটি তদ্কর্তৃক কোনো অবহেলার কারণে সংঘটিত হয় নাই; এবং
(গ) এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য প্রচেষ্টা করিয়াছিলেন।
৩২৪। কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত এই অংশের কোনো বিধানের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য কোনো মামলা দায়ের করা যাইবে না।
৩২৫। কমিশনার এই অংশের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধের জন্য বোর্ডের পূর্বানুমোদনক্রমে কোনো কার্যক্রম বা মামলা দায়েরের পূর্বে বা পরে প্রসিকিউশন প্রক্রিয়া শুরুর আগে বা পরে, আপোষ করিতে পারিবেন।
৩২৬। (১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) বা অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, ধারা ৩২২ এর অধীন অপরাধ ব্যতীত, Criminal Law Amendment Act, 1958 (Act No. XL of 1958) এর অধীন নিযুক্ত বিশেষ জজ কর্তৃক বিচার্য হইবে, যেন উক্ত অপরাধ উক্ত Act এর তফসিলভুক্ত একটি অপরাধ।
(২) ধারা ৩২৪ এর বিধান সাপেক্ষে, উপকর কমিশনার কর্তৃক লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে, বিশেষ জজ, ধারা ৩২২ এর অধীন অপরাধ ব্যতীত, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থ আমলে গ্রহণ করিতে পারিবেন।
৩২৭। (১) কোনো করদাতা, যিনি এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ বা আপিল ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হইবার উপযুক্ত বা প্রয়োজন সেইক্ষেত্রে, ধারা ২২১ এর অধীন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া ব্যতীত, অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হইতে পারিবেন।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “অনুমোদিত প্রতিনিধি" অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি করদাতার পক্ষে উপস্থিত হইবার জন্য লিখিতভাবে অনুমোদিত এবং যিনি-
(ক) করদাতার পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, ভাই বা বোন;
(খ) করদাতার কোনো পূর্ণকালীন নিয়মিত কর্মচারী;
(গ) একজন কর আইনজীবী।
(৩) উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) এর উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে, “কর আইনজীবী” অর্থ –
(ক) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসাবে নিবন্ধিত কোনো ব্যক্তি;
(খ) অনুশীলনকারী চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট;
(গ) অনুশীলনকারী কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট;
(ঘ) অনুশীলনকারী চাটার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ;
309[(ঙ) উপকর কমিশনারের নিম্নে নহে এইরূপ কোনো পদে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বৎসরের জন্য আয়কর কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করিয়াছেন এবং বোর্ড কর্তৃক কর আইনজীবী হিসাবে সনদ প্রাপ্ত হইয়াছেন; অথবা]
(চ) বোর্ড কর্তৃক কর আইনজীবী হিসাবে সনদ প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি।
310[(৪) উপ-ধারা (৩) এর দফা (ঙ) ও (চ) এ উল্লিখিত কর আইনজীবীকে কোনো নিবন্ধিত কর আইনজীবী সমিতির সদস্য হইতে হইবে।]
311[***]
(৬) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) কর আইনজীবী হিসাবে সনদ প্রাপ্তি ও বাতিল;
(খ) কর আইনজীবীর আচরণ-বিধি;
(গ) কর আইনজীবী হিসাবে প্রতিনিধিত্বের অযোগ্যতা;
(ঘ) কর আইনজীবীর শৃঙ্খলা ও আপিল; এবং
(ঙ) কর আইনজীবী হিসাবে নিবন্ধন ও পরিচিতিপত্র প্রাপ্তি।
৩২৮। (১) যেইক্ষেত্রে এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কোনো রিটার্ন, উৎসে করের রিটার্ন, যেকোনো প্রকারের বিবৃতি, আবেদন বা দলিল কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করিতে হইবে সেইক্ষেত্রে উক্ত রিটার্ন, বিবৃতি, আবেদন বা দলিল বোর্ড কর্তৃক গৃহীত বা অনুমোদিত ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটারে পাঠযোগ্য বা যন্ত্রে পাঠযোগ্য ফরমে ও পদ্ধতিতে দাখিল করা যাইবে।
(২) বোর্ড কর্তৃক গৃহীত বা অনুমোদিত নির্দিষ্ট কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমে প্রেরিত কোনো নোটিশ, আদেশ, চাহিদাপত্র, সনদপত্র, যোগাযোগ, পত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এই আইনের অধীন কোনো নোটিশ, আদেশ, চাহিদাপত্র, সনদপত্র, যোগাযোগ, পত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৩) বোর্ড, এই আইনের কোনো বিধানের অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালে কোনো প্রকার হাজিরা বা শুনানির বিষয়াদি ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে নিশ্চিতকল্পে যেকোনো কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম উন্নয়ন, ব্যবহার ও প্রচলন করিতে পারিবে এবং উক্ত সিস্টেমের মাধ্যমে হাজিরা প্রদান ও শুনানির নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করিতে পারিবে।
(৪) বোর্ড, বিশেষ আদেশ দ্বারা, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি শ্রেণি বা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আয়ের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে রিটার্ন, উৎসে করের রিটার্ন, যেকোনো প্রকারের বিবৃতি, আবেদন বা দলিল কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট বা কর আপিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল বাধ্যতামূলক করিতে পারিবে।
(৫) ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে কর পরিশোধ বা কর পরিপালন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বোর্ড বিশেষ আদেশ জারি করিতে পারিবে।
৩২৯। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বিধিবদ্ধ সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই আইনের অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষকে তাহাদের কর্তব্য পালনে সহায়তা প্রদান করিবে।
৩৩০। (১) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ অথবা আপিল ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় বা করদাতার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বা অন্য কোনো উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে কোনো আদেশে ত্রুটি দেখিতে পান, সেইক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ অথবা আপিল ট্রাইব্যুনাল লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ ত্রুটি সংশোধন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আদেশ জারির তারিখ হইতে ৪ (চার) বৎসর মেয়াদ শেষ হইবার পর এই উপ-ধারার অধীন কোনো সংশোধন করা যাইবে না।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা, কোনো করবর্ষের ক্ষেত্রে লিখিত আবেদন দ্বারা, উপকর কমিশনারের নিকট এই মর্মে দাবি উত্থাপন করেন যে, এই আইনের অধীন-
(ক) প্রদেয় অর্থের পরিমাণের চাহিতে অধিক পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হইয়াছে; বা
(খ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত কোনো করের ক্রেডিট প্রদান করা হয় নাই;
সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার করদাতার দাবির বৈধতা এবং সঠিকতা যাচাই করিয়া যে করবর্ষে উক্তরূপ অধিক পরিমাণ অর্থ পরিশোধিত হইয়াছিল সেই করবর্ষে উহার প্রত্যর্পণ সৃষ্টি করিবেন বা, ক্ষেত্রমত, উক্তরূপ পরিশোধিত করের ক্রেডিট প্রদান করিবেন।
(৩) কর নির্ধারণ বৃদ্ধি বা প্রত্যর্পণ হ্রাস বা অন্য কোনোভাবে করদাতার দায় বৃদ্ধি করিতে পারে এইরূপ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষসমূহকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো দায় সংশোধন করা যাইবে না।
(৪) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো ত্রুটি করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা হইয়াছে এবং উক্ত ত্রুটি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিবার পরবর্তী অর্থবৎসরের মধ্যে সংশোধন করা না হয়, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারার অধীন ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং তদনুসারে এই আইনের বিধানাবলি কার্যকর হইবে।
(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো ফার্মের অংশীদারের কর নির্ধারণের পর উক্ত ফার্মের কর নির্ধারণ অনুসারে বা ধারা ২১৩, ২৮৫, ২৮৯, ২৯২, ২৯৪, ২৯৫ বা ৩০৪ এর অধীন ফার্মের আয় হ্রাস বা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এইরূপ পরিদৃষ্ট হয় যে, ফার্মের লাভ বা লোকসানের অংশ উহার অংশীদারের আয় নির্ধারণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই বা অন্তর্ভুক্ত হইলেও উহা সঠিকভাবে হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উক্ত কর নির্ধারণে অংশীদারের শেয়ারের, ক্ষেত্রমত, অন্তর্ভুক্তি বা সংশোধনী এইরূপভাবে সম্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই ধারার অধীন রেকর্ড সাপেক্ষে ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি তদনুসারে কার্যকর হইবে।
(৬) যেইক্ষেত্রে ধারা ২১২ এর অধীন গৃহীত কার্যধারার ফলস্বরূপ, কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের বিবেচনায় ফার্মের অংশীদারের বা, ক্ষেত্রমতে, ব্যক্তিসংঘের সদস্যের মোট আয় পরিগণনা করা প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এইরূপ ক্ষেত্রে মোট আয় পরিগণনা করিতে পারিবে না এবং উক্ত পরিগণনার ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন যেন উক্ত পরিগণনা এই ধারার অধীন রেকর্ড সাপেক্ষে ত্রুটি সংশোধন করা হইয়াছে এবং উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি তদনুসারে কার্যকর হইবে।
৩৩১। এই আইনের অধীন প্রদেয় অর্থ বা প্রত্যর্পণের পরিমাণ নির্ধারণে, টাকার কোনো ভগ্নাংশ ৫০ (পঞ্চাশ) পয়সা বা ততোধিক হইলে উহা ১ (এক) টাকা হিসাবে গণ্য হইবে।
৩৩২। এই আইনের অধীন পরিশোধিত বা পুনরুদ্ধারকৃত অর্থের জন্য রশিদ প্রদান করিতে হইবে।
৩৩৩। (১) এই আইনের অধীন আপিল বা আবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে, যেই তারিখে অভিযোগীয় বিষয়ে আদেশ জারি করা হইয়াছিল সেইদিন, বা করদাতাকে নোটিশ জারিকালে যদি আদেশের কপি সরবরাহ করা না হয়, তাহা হইলে তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে করদাতা কর্তৃক আদেশের কপি প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দেওয়া হইবে।
(২) এই আইনের অধীন আপিল বা আবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির দিন যদি ছুটির দিন হয় তাহা হইলে আপিল বা আবেদন উক্ত ছুটির দিনের অব্যবহিত পরবর্তী দিন দাখিল করা যাইবে।
312[৩৩৪। এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, 313[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ] অনধিক ১ (এক) মাস বৃদ্ধি করিতে পারিবে;
(খ) যেইক্ষেত্রে মহামারী, অতিমারী, দৈব দুর্বিপাক ও যুদ্ধকালীন সময় বিদ্যমান বলিয়া সরকারের ঘোষণা বা আদেশ রহিয়াছে সেইক্ষেত্রে বোর্ড, জনস্বার্থে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ জারির মাধ্যমে, এই আইনের কোনো বিধান পরিপালনের সময়সীমা প্রমার্জন করিতে পারিবে বা পরিপালনের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে। না কেন, যেইক্ষেত্রে মহামারী, অতিমারী, দৈব দুর্বিপাক ও যুদ্ধকালীন সময় বিদ্যমান বলিয়া সরকারের ঘোষণা বা আদেশ রহিয়াছে সেইক্ষেত্রে বোর্ড, জনস্বার্থে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ জারির মাধ্যমে, এই আইনের কোনো বিধান পরিপালনের সময়সীমা প্রমার্জন করিতে পারিবে বা পরিপালনের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।]
৩৩৫। (১) কোনো নোটিশ, কর নির্ধারণ আদেশ, কর বা প্রত্যর্পণ পরিগণনার ফরম, বা অন্য কোনো দলিল তদোল্লিখিত নামীয় ব্যক্তিকে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বা প্রেরকের অফিসিয়াল ইলেক্ট্রনিক মেইল হইতে উক্ত ব্যক্তির নির্ধারিত ইলেক্ট্রনিক মেইল এড্রেসে বা কোনো আদালত কর্তৃক Code of Civil Procedure, 1908 (Act V of 1908) এর অধীন সমন জারির পদ্ধতিতে, জারি করা যাইবে।
(২) ধারা ৩২৭ এ উল্লিখিত অনুমোদিত প্রতিনিধি কর্তৃক কোনো নোটিশ, কর নির্ধারণ আদেশ, কর বা প্রত্যর্পণ পরিগণনার ফরম, অথবা অন্য কোনো দলিল গ্রহণ করা হইলে উক্ত অনুমোদিত প্রতিনিধি কর্তৃক এইরূপ গ্রহণ উক্ত ব্যক্তির নিকট বৈধ প্রেরণ হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৩) নিম্নবর্ণিতভাবে নোটিশ প্রেরণ করা যাইবে, যথা:-
(ক) কোনো ফার্ম বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে, ফার্মের কোনো সদস্য, বা ব্যবস্থাপক বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের নিকট;
(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানির ক্ষেত্রে, ইহার প্রধান নির্বাহী, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর নিকট;
(গ) অন্যান্য সংস্থা বা ব্যক্তিসংঘের ক্ষেত্রে, প্রধান নির্বাহী বা ইহার কোনো সদস্যের নিকট;
(ঘ) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ বিলোপিত হইয়া গেলে অনুরুপ বিলোপিত হইবার অব্যবহিত পূর্বে, ক্ষেত্রমত, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের সদস্য ছিলেন এইরূপ যেকোনো ব্যক্তির নিকট;
(ঙ) ধারা ১৯১ প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো ব্যবসা বন্ধ হইবার ক্ষেত্রে, যদি ব্যবসা বন্ধ থাকে তবে-
(অ) এইরূপ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যাহার আয় নির্ধারণ করা হইবে;
(আ) এইরূপ কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে, উক্ত কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর নিকট; এবং
(ই) এইরূপ কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের ক্ষেত্রে, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কার্যক্রম বন্ধ হইবার সময় অংশীদার ছিলেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির নিকট;
(চ) যেইক্ষেত্রে ধারা ১৯২ এর অধীন কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভক্ত হইবার তথ্য পাওয়া যায়, উক্ত ক্ষেত্রে পরিবারের সর্বশেষ ব্যবস্থাপক ছিলেন এইরূপ ব্যক্তির নিকট অথবা যদি উক্তরূপ ব্যক্তির মৃত্যু হয় তাহা হইলে বিভক্তির পূর্বে উক্ত পরিবারের সদস্য ছিলেন এইরূপ সকল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের নিকট; এবং
(ছ) অন্য কোনো ক্ষেত্রে, যাহা কোনো ব্যক্তি নহে, যিনি উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করিতেন এইরূপ ব্যক্তির নিকট।
(৪) কোনো নোটিশের অধীন রিটার্ন দাখিল বা নোটিশ পরিপালন করিবার পর উক্তরূপ নোটিশের বৈধতা বা উহা জারির বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,
(ক) “নোটিশ" অর্থে এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ বা চাহিদাপত্র অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) “ইলেক্ট্রনিক মেইল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোনো ইলেক্ট্রনিক মেইল”;
(গ) “প্রেরকের অফিসিয়াল ইলেক্ট্রনিক মেইল” অর্থ নোটিশ প্রেরণের নিমিত্ত আয়কর কর্তৃপক্ষের জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ইলেক্ট্রনিক মেইল;
(ঘ) “ব্যক্তির নির্ধারিত ইলেক্ট্রনিক মেইল এড্রেস” অর্থ ইলেক্ট্রনিক মেইল এড্রেস;
(অ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের জন্য দাখিলকৃত উক্ত ব্যক্তির রিটার্নে যেরূপে প্রদত্ত হইয়াছে;
(আ) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক লিখিতভাবে আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট যেরূপে উক্তরূপ ব্যক্তির ইলেক্ট্রনিক মেইল এড্রেস উল্লেখ করিয়াছেন।
৩৩৬। এই আইনের অধীন প্রণীত, জারীকৃত বা নিষ্পন্নকৃত অথবা প্রণীত, জারীকৃত বা নিষ্পন্নকৃত মর্মে গণ্য হয় এইরূপ কোনো কর নির্ধারণ, আদেশ, নোটিশ, ওয়ারেন্ট বা অন্যান্য দলিল, কেবল নির্ধারিত কোনো ফর্মের অভাবে বা উহাতে কোনো ভুল, ক্রুটি বা বিচ্যুতি কারণে বাতিল বা অন্যভাবে অকার্যকর হইবে না যদি না উক্তরূপ ফর্মের অভাব, ভুল, ত্রুটি বা বিচ্যুতি করদাতাকে প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩৩৭। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অবসায়নের আদেশপ্রাপ্ত বা সাময়িকভাবে অবসায়ক নিযুক্ত করা হইয়াছে, এইরূপ কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রম চলমান রাখিতে বা কোনো কার্যক্রম শুরু করিবার জন্য “লিভ অব দি কোর্ট” প্রয়োজন হইবে না।
৩৩৮। (১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের ক্ষমতাবলে অপর কোনো ব্যক্তির আয় হইতে কোনো কর কর্তন, সংগ্রহ, ধারণ বা পরিশোধ করিলে, উক্তরূপ কর কর্তন, সংগ্রহ, ধারণ বা পরিশোধের জন্য উক্ত ব্যক্তি দায়মুক্ত থাকিবেন।
(২) এই আইনের অধীন কৃত কোনো কর নির্ধারণ নাকচ বা সংশোধনের জন্য বা অন্য কোনো আদেশের জন্য কোনো দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না।
(৩) এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্য বা কার্য করিবার উদ্যোগের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্য কোনো আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের বা অন্য কোনো কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
৩৩৯। যদি কোনো বৎসরের জুলাই মাসের প্রথম দিন সংসদের আইন দ্বারা উক্ত বৎসরের জন্য কর আরোপের লক্ষ্যে বিধান গৃহীত না হয়, তাহা হইলে সংসদে পেশকৃত বিলে প্রস্তাবিত বিধান বা পূর্ববর্তী বৎসরে কার্যকরকৃত বিধান, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা করদাতার জন্য অধিক উপযোগী, উহা এই আইনের অধীন কার্যকর থাকিবে।
৩৪০। এই আইনের অন্যান্য বিধান বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, নিম্নরূপ ব্যক্তিগণকে পুরষ্কার প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) বোর্ড এবং আয়কর বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অসামান্য কর্মদক্ষতা, কর আদায় এবং কর ফাঁকি শনাক্তকরণের জন্য;
(খ) কোনো অর্থবৎসরে রাজস্ব আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব সংগ্রহের জন্য বোর্ড, এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে; অথবা
(গ) কর ফাঁকি সনাক্তকরণের লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহকারী অন্য কোনো ব্যক্তিকে।
314[***]
৩৪২। এই আইনের কোনো বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, বোর্ড, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণের লক্ষ্যে, আইনের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, বিজ্ঞপ্তি, স্পষ্টীকরণ, ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
৩৪৩। বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
৩৪৪। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984), অতঃপর রহিত Ordinance বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত হইবে।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত Ordinance এর অধীন-
(ক) কৃত কোনো কাজ-কর্ম, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) গৃহীত কোনো কার্যক্রম বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এইরূপভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে;
(গ) প্রণীত কোনো বিধি বা প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশ বা জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নীতিমালা বা প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি বা সম্পাদিত অন্য কোনো আইনগত ইন্সট্রুমেন্ট, উক্তরূপ রহিতের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত উহা বলবৎ থাকিবে; এবং
(ঘ) কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এইরূপভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই।
৩৪৫। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের মূল বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনুদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।
(২) বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।