প্রিন্ট ভিউ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫

( ২০২৫ সনের ৬৩ নং অধ্যাদেশ )

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যূত্থান ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ

যেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটিয়াছে; এবং

যেহেতু বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ছিল স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান, ক্রমবিকাশ ও সকল প্রকার নিবর্তনমূলক কার্যক্রমের সূতিকাগার এবং তাহা দমন-পীড়নমূলক বিবিধরূপ কর্মকাণ্ড ও নৃশংসতার প্রতীক হইয়া উঠিয়াছিল; এবং

যেহেতু ইতিহাসের স্বার্থে ২০০৯ সাল হইতে আরম্ভ হওয়া ফ্যাসিস্ট একনায়ক শেখ হাসিনার দুঃশাসন ও অপকর্মের সকল প্রতীক, প্রমাণ, স্মারক ও দলিল দস্তাবেজ জাদুঘরে যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত সফল গণঅভ্যূত্থানের স্মৃতি সংবলিত সকল প্রকার নিদর্শন সংগ্রহ করিয়া জাতীয় ইতিহাসের প্রামাণিক অভিলেখাগার স্থাপন করা অত্যাবশ্যক; এবং

যেহেতু ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হিসাবে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সরকার প্রধানের বাসভবন গণভবনকে একটি স্বতন্ত্র জাদুঘরে রূপান্তর করিবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়াছে; এবং

যেহেতু ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসাবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদিত হইয়াছে; এবং

যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১।  (১) এই অধ্যাদেশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২।  বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে,-

(১) “অস্থাবর নিদর্শন” অর্থ ভূমি বা কোনো কাঠামোর সহিত দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত নহে ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য এইরূপ কোনো নিদর্শন;

(২) “গোপন কারাগার” অর্থ এইরূপ কোনো গুপ্তস্থান যাহা ২০০৯ সাল হইতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকার বা তাহার কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপহরণকৃত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অন্তরীণ রাখিয়া অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যা করিবার কার্যে ব্যবহৃত হইয়াছে এবং যাহা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আয়নাঘর নামেও অভিহিত হইয়াছে;

(৩) “জাদুঘর” অর্থ ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর, তবে ভবিষ্যতে সমরূপ স্থাপনা আবিষ্কৃত হইলে এবং জাদুঘর হিসেবে ঘোষিত হইলে তাহাও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;

 (৪) “জুলাই গণঅভ্যূত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যূত্থান;

(৫) “তহবিল” অর্থ ধারা ১৮-তে উল্লিখিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর তহবিল;

(৬) “নিদর্শন” অর্থ সংরক্ষণ, গবেষণা বা প্রদর্শন করিবার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে সংগৃহীত ও নিবন্ধিত বা সংগ্রহযোগ্য কোনো উপকরণ, বস্তু, দলিল, সংবাদ পত্রিকা, ফটো, ভিডিও ক্লিপ বা চলচ্চিত্র এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার ১৬ (ষোলো) বৎসরের দুঃশাসনের নিদর্শন যাহার মধ্যে দলিল দস্তাবেজ, ফটোগ্রাফ, ভিডিও, ফোনকলের রেকর্ড, আর্ট ইনস্টলেশন, ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ফিচার ফিল্ম, দালিলিক প্রমাণ বা যে কোনো শৈল্পিক প্রকাশ;

(খ) জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী সময়ের সকল ঘটনাবলি ও কার্যক্রম যাহা এই গণঅভ্যুত্থানের সহিত সম্পৃক্ত;

(গ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত কোনো নিদর্শন, উপকরণ ও দলিল যাহা ফ্যাসিস্ট সরকারের উত্থান ও পতনের ইতিহাসের ধারক ও বাহক বলিয়া প্রতিপন্ন হয়;

(৭) “পর্যদ” অর্থ ধারা ৮ এর অধীন গঠিত পর্ষদ;

(৮) “পরিচালক” অর্থ জাদুঘরের পরিচালক;

(৯) “প্রবিধান” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(১০) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;

(১১) “মহাপরিচালক” অর্থ জাদুঘরের মহাপরিচালক;

(১২) “শাখা জাদুঘর” অর্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত স্থাপনাসমূহ যেইগুলি মানবতাবিরোধী অপরাধের সংঘটনস্থল হিসাবে স্বীকৃত এবং শাখা জাদুঘর হিসেবে ঘোষিত হইবে;

(১৩) “সভাপতি” অর্থ পর্ষদের সভাপতি;

(১৪) “সদস্য” অর্থ পর্ষদের কোনো সদস্য;

(১৫) “সংরক্ষণ” অর্থ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিদর্শনের স্থায়িত্ব প্রদান, প্রাকৃতিক ক্ষতিকর প্রভাব-হইতে রক্ষা বা পুনরায়ন (restoration) সংশ্লিষ্ট কাজ;

(১৬) “স্থাবর নিদর্শন” অর্থ ভূমি বা কোনো কাঠামোর সহিত দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত ও সহজে স্থানান্তরযোগ্য নহে এইরূপ নিদর্শন।

জাদুঘর প্রতিষ্ঠা

৩।  (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হইবে।

(২) জাদুঘর একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকিবে এবং এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, জাদুঘরের স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা স্বীয় নামে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।

জাদুঘরের কার্যালয়

৪।   (১) জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকার গণভবনে থাকিবে।

(২) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ, অনুবিভাগ, শাখা ও দপ্তর থাকিবে।

(৩) ১ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখ হইতে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসকল গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে উহা জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবার অধিকার জাদুঘরের থাকিবে।

(৪) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত কোনো গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীন থাকে সেইক্ষেত্রে উক্ত সংস্থা তাহা জাদুঘরের নিকট যে অবস্থায় রহিয়াছে সেই অবস্থাতেই হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবে এবং উক্ত মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসাবে পরিগণিত ও পরিচালিত হইবে।

জাদুঘরের কার্যাবলি

৫।  এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন;

(খ) সংগৃহীত সকল নিদর্শনের তালিকা প্রণয়ন ও গ্রন্থাকারে প্রকাশ;

(গ) সকল নিদর্শনের ফটো এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে অনুকৃতি (Replica) প্রস্তুত ও সংরক্ষণ,

(ঘ) ডিজিটাল অভিলেখাগার (Archives) তৈরি এবং একাধিক স্থানে সংরক্ষণ;

(ঙ) ওয়েবসাইট স্থাপনের মাধ্যমে জাদুঘরের কার্যাবলির প্রচারণা;

(চ) সাময়িকী, পত্রিকা, গ্রন্থ, সংকলন, ডিজিটাল প্রতিকৃতি, ভার্চুয়াল জাদুঘর, চলচ্চিত্র নিদর্শন, দেখনচিত্র (Viewcard), পোস্টার এবং নিদর্শনের অনুকৃতি (Replica) তৈরি, প্রকাশ, প্রচার, দেশি-বিদেশি প্রদর্শনী ও মেলায় অংশগ্রহণ, বিনিময় ও বিপণন;

(ছ) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিষয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা;

(জ) বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, সম্মেলন, বক্তৃতামালা, সেমিনার, কর্মশালা এবং সভার আয়োজন;

(ঝ) জাদুঘর পরিচালনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ;

(ঞ) গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার বিষয়ক কার্যক্রম, অনুরূপ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, জাদুঘর পরিচালনায় প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান;

(ট) জাদুঘরের বিশেষায়িত বা গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে অথবা জরুরি প্রয়োজনে সহায়তাকল্পে কোনো অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োজিতকরণ এবং তাহাদের সম্মানি, পারিশ্রমিক বা অনুদান প্রদান;

(ঠ) বিশেষজ্ঞ বিনিময় কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ বা অনুরূপ কোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য কোনো দেশি বা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো বিদেশি জাদুঘর বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার সহিত সমঝোতা-স্মারক বা চুক্তি সম্পাদন;

(ড) সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অনুরোধে সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপি, রচনা বা দলিল প্রস্তুত;

(ঢ) জাদুঘরের সাধারণ পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় উপকরণ, যন্ত্রপাতি, এবং যানবাহন সংগ্রহ ও ব্যবহার; এবং

(ণ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত কার্যক্রম সম্পাদন।

জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা বিভাগসমূহ

৬।  (১) জাদুঘরের নিম্নবর্ণিত ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকিবে, যথা:-

(ক) প্রশাসন, হিসাব ও প্রশিক্ষণ বিভাগ;

(খ) নিরাপত্তা বিভাগ;

(গ) নিদর্শন সংগ্রহ, রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ বিভাগ;

(ঘ) নিদর্শন প্রদর্শন ও প্রদর্শনী বিভাগ;

(ঙ) গবেষণা বিভাগ;

(চ) তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ;

(ছ) ফিল্ম ও মাল্টিমিডিয়া বিভাগ;

(জ) প্রকৌশল, অবকাঠামো সংরক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ;

(ঝ) জনসংযোগ বিভাগ;

(ঞ) গ্রন্থাগার, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ; এবং

(ট) সংরক্ষণ রসায়নাগার বিভাগ।

(২) পর্ষদ জাদুঘরের প্রয়োজন অনুযায়ী নূতন বিভাগ সৃজনসহ বিভাগ পুনর্বিন্যাস করিতে পারিবে, তবে ইহাতে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকিলে সরকারের পূর্বানুমোদন আবশ্যক হইবে।

(৩) জাদুঘরের প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব ও কার্যাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

পরিচালনা ও প্রশাসন

৭।   জাদুঘরের নীতিনির্ধারণী বিষয়, সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পর্ষদের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং জাদুঘর যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে পর্ষদও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।

পর্ষদ গঠন

৮।  (১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পর্ষদ গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত শিক্ষা, ইতিহাস, সাহিত্য বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ ১ (এক) জন ব্যক্তি, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) মহাপরিচালক, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর;

(গ) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর;

(ঘ) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(ঙ) অর্থ বিভাগ কর্তৃক মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(চ) সরকার কর্তৃক মনোনীত সরকারি অথবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ (দুই) জন অধ্যাপক;

(ছ) জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট গবেষণাধর্মী কার্য বা অনুরূপ গুরুত্বপূর্ণ কার্যে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্য হইতে ১ (এক) জন প্রতিনিধি;

(জ) সরকার কর্তৃক মনোনীত ১ (এক) জন প্রতিথযশা কিউরেটর অথবা জাদুঘর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ;

(ঝ) সরকার কর্তৃক মনোনীত জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের ১ (এক) জন সদস্য এবং আহত বা অংশগ্রহণকারী অথবা তাহাদের পরিবারের ১ (এক) জন সদস্য;

(ঞ) ২০০৯ সাল হইতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, খুন, নির্যাতন, শাপলা ম্যাসাকার, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিবর্গ অথবা তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত ৩ (তিন) জন সদস্য;

(ট) জাদুঘরের মহাপরিচালক, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) ধারা (১) এর দফা (ক), (চ), (ছ), (জ), (ঝ) ও (ঞ) এ উল্লিখিত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন এবং অনধিক এক মেয়াদের জন্য পুনঃমনোনয়নের যোগ্য হইবেন।

(৩) পর্ষদের কোনো সদস্য যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

পর্ষদের কার্যাবলি

৯।  পর্ষদের কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) জাদুঘরের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নিদর্শন এবং নমুনার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তা বিধান;

(খ) ১ জানুয়ারি ২০০৯ হইতে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে উহার নিদর্শনসমূহ অধিগ্রহণ, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ;

(গ) জাদুঘরের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ;

(ঘ) জাদুঘরে রক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট নিদর্শন ও দলিলসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সংগৃহীত দলিলসমূহের বিষয়ভিত্তিক মৌলিক গবেষণা ও আনুষঙ্গিক গ্রন্থাদি প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং জাদুঘরের সংগ্রহসমূহের উপর গবেষণা এবং উক্ত গবেষণার ফলাফল প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ;

(ঙ) জাদুঘরের সংগৃহীত সকল নিদর্শন যথাযথভাবে প্রদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ;

(চ) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় অভিষিক্ত বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জাদুঘর ও সংগ্রহশালা তত্ত্বাবধান, সমৃদ্ধকরণ ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, অন্যান্য জাদুঘর ও সংগ্রহশালার সকল নিদর্শন তালিকাভুক্তির ব্যবস্থাকরণ এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরীক্ষাকরণ;

(ছ) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সম্পৃক্ত শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(জ) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জাদুঘরের বিশেষ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, পরিচালনা এবং বেসরকারি উৎস হইতে জাদুঘরের উন্নয়নের জন্য তহবিল সংগ্রহ;

(ঝ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, যাচাই-বাছাইক্রমে অন্য কোনো দেশে, স্থানে, সংগ্রহশালায় বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা উপযুক্ত নিদর্শনসমূহ দেশে ফিরাইয়া আনিবার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ;

(ঞ) নিদর্শনসমূহের ব্যবস্থাপনার জন্য ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও উহার ব্যবহার নিশ্চিতককরণ;

(ট) এই অধ্যাদেশ ও তদধীন প্রণীত বিধি ও প্রবিধানের বিধান প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ; এবং

(ঠ) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক নির্দেশিত প্রাসঙ্গিক যে কোনো কার্যাবলি সম্পাদন।

পর্ষদের সভা

১০।  (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, পর্ষদ উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) সভার তারিখ, সময় ও স্থান পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) প্রতি ৩ (তিন) মাসে পর্ষদের অন্যূন একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, পর্ষদের সভাপতি, প্রয়োজনে, যেকোনো সময় পর্ষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(৪) সভাপতি পর্ষদের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তাহার অনুপস্থিতিতে তদ্‌কর্তৃক মনোনীত কোনো সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৫) অন্যূন ৯ (নয়) জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম গঠিত হইবে, তবে মুলতুবি সভার ক্ষেত্রে কোনো কোরাম প্রয়োজন হইবে না।

(৬) সভায় উপস্থিত পর্ষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।

(৭) কেবল কোনো সদস্যপদে শূন্যতা বা পর্ষদ গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে উহার কোনো কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তদ্‌সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

(৮) সভার সিদ্ধান্তসমূহ সভাপতি ও সদস্য-সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত, লিখিত ও প্রকাশিত হইবে।

কমিটি গঠন

১১।  (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘরের সার্বিক কর্মকাণ্ড বা কোনো বিশেষ বিষয়ে তদন্ত করিবার জন্য সরকার এক বা একাধিক কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(২) কমিটি, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, তদন্তের বিষয়ে উহার প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে, এবং উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনাক্রমে সরকার, প্রয়োজনে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে বিদ্যমান প্রযোজ্য আইনানুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

মহাপরিচালক

১২।   (১) জাদুঘরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।

(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(৩) মহাপরিচালক জাদুঘরের সার্বক্ষণিক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন এবং তিনি-

(ক) পর্ষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যসম্পাদন করিবেন;

(খ) পর্ষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন;

(গ) জাদুঘরের প্রশাসন পরিচালনা করিবেন;

(ঘ) জাদুঘরের তহবিল তত্ত্বাবধান করিবেন; এবং

(ঙ) পর্ষদ কর্তৃক, সময় সময়, তাহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৪) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোনো কারণে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত জাদুঘরের পরিচালক মহাপরিচালকরূপে কার্য সম্পাদন করিবেন।

পরিচালক

১৩।  (১) জাদুঘরের একজন পরিচালক থাকিবেন।

(২) পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকরির শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।

(৩) পরিচালক মহাপরিচালককে তাহার যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তা করিবেন।

(৪) পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, কিংবা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোনো কারণে পরিচালক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে শূন্য পদে নবনিযুক্ত পরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত কিংবা পরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার জাদুঘরের উপযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।

কর্মচারী নিয়োগ

১৪।  (১) জাদুঘর, উহার কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো সাপেক্ষে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২) কর্মচারীদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে, তবে প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৩) জাদুঘর প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণপূর্বক প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করিতে পারিবে।

নিদর্শন বিনিময় ও উপহার

১৫।   জাদুঘর, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর বা কোনো ব্যক্তির সহিত জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করিতে এবং উপহার প্রদান বা গ্রহণ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণ করিতে হইলে চুক্তি সম্পাদন করিতে হইবে।

পরিদর্শন

১৬।  জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট রহিয়াছে মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে মহাপরিচালক বা তদ্‌কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং এই অধ্যাদেশ বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

জাদুঘরে প্রবেশাধিকার

১৭।  পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকিবে।

তহবিল

১৮।  (১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর তহবিল নামে জাদুঘরের একটি তহবিল থাকিবে।

(২) তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত নিয়মিত মঞ্জুরি ও বিশেষ অনুদান;

(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত নিঃশর্ত অনুদান;

(গ) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোনো বিদেশি সরকার বা সংস্থা হইতে প্রাপ্ত অনুদান;

(ঘ) জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তকাদির বিক্রয়লব্ধ অর্থ, দেশের ও দেশের বাহিরে অন্য কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত জাদুঘরের বইয়ের রয়‍্যালটি, বিক্রয়লব্ধ অর্থ এবং জাদুঘর সম্পর্কিত স্মারক দ্রব্যাদি বিক্রয়লব্ধ অর্থ;

(ঙ) সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অনুরোধে প্রস্তুতকৃত পাণ্ডুলিপি, রচনা বা দলিলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ;

(চ) তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় ও জাদুঘরের সকল আয়;

(ছ) জাদুঘরের টিকিট বিক্রয় হইতে প্রাপ্ত অর্থ; এবং

(জ) অন্য কোনো বৈধ উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

(৩) উপ-বিধি (২) এর দফা (ক) তে উল্লিখিত নিয়মিত মঞ্জুরি ও বিশেষ অনুদান ব্যতীত তহবিলের অন্যান্য অর্থ পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা যাইবে।

(৪) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তহবিল পরিচালিত হইবে, তবে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা নির্দেশনা অনুসারে উক্ত তহবিল পরিচালনা করা যাইবে।

(৫) তহবিল হইতে জাদুঘরের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।

(৬) পর্ষদের পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোনো খাতে তহবিল বা উহার অংশ বিশেষ বিনিয়োগ করা যাইবে।

বাজেট

১৯।  জাদুঘর, প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থবৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থবৎসরে সরকারের নিকট হইতে জাদুঘরের কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন উহার উল্লেখ থাকিবে।

হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা

২০।  (১) জাদুঘর যথাযথভাবে ইহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বলিয়া অভিহিত, প্রত্যেক বৎসর জাদুঘরের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং বিদ্যমান আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।

(৩) Comptroller and Auditor-General (Additional Functions) Act, 1974 (Act No. XXIV of 1974) এর বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া, Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President's Order No. 2 of 1973) এর Article 2(1)(b)-তে সংজ্ঞায়িত Chartered Accountant দ্বারা জাদুঘরের হিসাব নিরীক্ষা করা যাইবে এবং এতদুদ্দেশ্যে জাদুঘর এক বা একাধিক Chartered Accountant নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর অধীন হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, Chartered Accountant জাদুঘরের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, বার্ষিক ব্যালান্স শীট, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং মহাপরিচালক, সদস্য বা যেকোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।

(৫) জাদুঘর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চিহ্নিত কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রতিকার করিবার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

বার্ষিক প্রতিবেদন

২১।  (১) জাদুঘর প্রতি অর্থ-বৎসরে উহার সম্পাদিত কার্যাবলির বিবরণ সংবলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশ এবং সরকারের নিকট দাখিল করিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনে, জাদুঘরের নিকট হইতে যেকোনো সময় উহার যেকোনো বিষয়ের উপর বিবরণ, রিটার্ন ও প্রতিবেদন আহ্বান করিতে পারিবে এবং জাদুঘর উহা সরকারের নিকট সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।

স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্ট করিবার দণ্ড

২২।  কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা উহার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

অস্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্ট করিবার দণ্ড

২৩।  কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, ইত্যাদির দণ্ড

২৪।   কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ০১ (এক) বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

জাদুঘরের কর্মচারী কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের দণ্ড

২৫।  জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ধারা ২২, ২৩ ও ২৪ এ উল্লিখিত অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হইলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে।

অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনের জন্য ব্যয়

২৬।  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২২, ২৩ ও ২৪ এ উল্লিখিত অর্থদণ্ড, আদালতের নির্দেশ সাপেক্ষে, সমুদয় বা উহার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনটিকে উক্ত অপরাধ সংঘটনের পূর্বকালীন অবস্থায় ফিরাইয়া আনিবার নিমিত্ত ব্যয় করা যাইবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ

২৭।  এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ও এতদ্‌সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।

দণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা

২৮।  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২২ ও ২৩ এ উল্লিখিত পরিমাণ দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

২৯।   এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৩০।  এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, জাদুঘর, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশ বা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে, এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

হেফাজত

৩১। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে-

(ক) জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সম্পাদিত কোনো চুক্তি বা দলিল বা প্রদত্ত কোনো অনুমোদন বা ঘোষিত কোনো নিদর্শন এই অধ্যাদেশের অধীন কৃত, গৃহীত, সম্পাদিত, প্রদত্ত বা ঘোষিত বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) জাদুঘরের অনুকূলে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ, অধিকার ও স্বার্থ, দায়, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ বিনিয়োগ, সকল হিসাব বহি, রেকর্ড ও অন্যান্য দলিলপত্র জাদুঘরের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে;

(গ) জাদুঘরের নামে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা তদ্‌কর্তৃক দায়েরকৃত কোনো মামলা থাকিলে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরের নামে বা তদ্‌কর্তৃক দায়েরকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) জাদুঘরের কোনো কর্মচারী থাকিলে তাহারা জাদুঘরের কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন, জাদুঘর কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত সেই একই শর্তে নিয়োজিত থাকিবেন; এবং

(ঙ) সরকার বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো প্রজ্ঞাপন, আদেশ বা নির্দেশ জারি করিলে উহা এই অধ্যাদেশের অধীন জারি করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

ইংরেজিতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ

৩২।  (১) এই অধ্যাদেশ প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) মূল পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে মূল পাঠ প্রাধান্য পাইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs