প্রিন্ট ভিউ

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ,২০২৫

( ২০২৫ সনের ৬৫ নং অধ্যাদেশ )

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত

অধ্যাদেশ

যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; এবং

যেহেতু সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের কতিপয় শব্দের সংশোধন

২। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এ ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে ইহার সর্বত্র উল্লিখিত “মহিলা”, “মহিলাকে”, “মহিলার”, “মহিলাগণের” ও “মহিলাদের” শব্দগুলির পরিবর্তে যথাক্রমে, “নারী”, “নারীকে”, “নারীর”, “নারীগণের” ও “নারীদের” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১ এর সংশোধন

৩। উক্ত আইনের ধারা ১ এর উপ-ধারা (৪) এর-

(ক) দফা (ঘ) বিলুপ্ত হইবে;

(খ) দফা (জ) বিলুপ্ত হইবে;

(গ) দফা (ট) এ উল্লিখিত “(খ), (গ), (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ) ও (জ)” বর্ণগুলি, কমাগুলি, বন্ধনীগুলির পরিবর্তে “(খ), (গ), (ঙ), (চ) ও (ছ)” বর্ণগুলি, কমাগুলি, বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(ঘ) দফা (ঠ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঠ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঠ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে নাবিক (Seafarers);’’;

(ঙ) দফা (ঢ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঢ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঢ) এমন কোনো কৃষি খামার, যেখানে সাধারণত পাঁচ জনের কম শ্রমিক কাজ করেন, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো কৃষি খামারে কর্মরত এবং অন্যান্য সকল কৃষি শ্রমিক এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হইবে না;”;

(চ) দফা (ণ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ণ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ণ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো গৃহ পরিচারক;”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২ এর সংশোধন

৪। উক্ত আইনের ধারা ২ এর-

(ক) দফা (৮ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৮ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৮ক) “কৃষি শ্রমিক” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক অথবা বাৎসরিক ভিত্তিতে অথবা নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনে মজুরির বিনিময়ে কৃষিকর্মে অথবা কৃষিখামারে নিযুক্ত থাকেন;”;

(খ) দফা (৮ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৮খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৮খ) “কৃষি খামার” অর্থ ফসল, ফল, ফুল উৎপাদন, মৎস্য চাষ এবং পোল্ট্রি, পশু ও প্রাণী পালন হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে নিয়োজিত থাকে;”;

(গ) দফা (৯ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৯খ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৯খ) “গৃহ পরিচারক (Domestic Worker)” অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যিনি নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খন্ডকালীন অথবা পূর্ণকালীন নিয়োগের ভিত্তিতে গৃহকর্ম সম্পাদন করেন, এইক্ষেত্রে মেস বা ডরমিটরিও ‘গৃহ’ হিসাবে বিবেচিত হইবে;”;

(ঘ) দফা (১২) এর পর নিম্নরূপ দফা (১২ক) ও (১২খ) সংযোজিত হইবে, যথা:-

“(১২ক) “জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম” অর্থ এমন কোনো কাজ বা পরিষেবা, যাহা কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া এবং শাস্তির হুমকি দিয়া বা শোষণমূলক পদ্ধতিতে আদায় করা হয়, তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জবরদস্তিমূলক বা বাধ্যতামূলক শ্রম হিসাবে গণ্য হইবে না, যথা:-

(ক) জাতীয় আপৎকালীন বা দুযোর্গকালীন সামরিক বাহিনীর আইনের অধীন বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় অংশগ্রহণ;

(খ) নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক সেবামূলক কাজ;

(গ) আদালতের আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির কাজ, তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কাজ বা পরিষেবা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হইতে হইবে এবং উক্ত ব্যক্তিকে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি, কোম্পানি বা সমিতির তত্ত্বাবধানে ভাড়ায় নিয়োগ বা নিয়োজিত করা যাইবে না;

(ঘ) জরুরি পরিস্থিতিতে আদায়কৃত যেকোনো কাজ বা পরিষেবা, যেমন- যুদ্ধ, আগুন, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, মহামারি, পশু বা পোকামাকড়ের উপদ্রব অথবা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো দুর্যোগ;

(ঙ) সমাজের কল্যাণে কৃত গৌণ সেবামূলক কাজ, যাহা উক্ত সমাজের সদস্যগণ বা তাহাদের প্রতিনিধিদের সহিত প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পরামর্শক্রমে করা হইবে;

(১২খ) “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে এমন সহিংসতা ও হয়রানি যাহা জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি, অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া ঘটে, অথবা যাহা একটি নির্দিষ্ট জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয় বা জেন্ডার অভিব্যক্তির ব্যক্তিদের উপর ক্ষতিকর বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, ইহার মধ্যে যৌন হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;

(ঙ) দফা (১৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (১৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১৫) “ট্রেড ইউনিয়ন” অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকগণের বা কর্মকর্তাগণের বা মালিকগণের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি এবং কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও কনফেডারেশনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;

(চ) দফা (১৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (১৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(১৯ক) “দুর্ঘটনা” অর্থ কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রের বাহিরে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বা মালিকের এখতিয়ারাধীন অবস্থায় আকস্মিকভাবে সংঘটিত কোনো ঘটনা যাহার কারণে শারীরিক জখম বা মানসিক আঘাত বা প্রাণহানি ঘটে;”;

(ছ) দফা (২৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (২৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(২৩) “নাবিক (Seafarers)” অর্থ মাস্টার এবং শিক্ষানবিশসহ জাহাজের কার্যে জাহাজের যে-কোনো পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;”;

(জ) দফা (৩০) এর উপ-দফা (ক) এবং (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-দফা (ক) এবং (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ক) মৃতের স্ত্রী বা স্বামী, নাবালক সন্তান, অবিবাহিত কন্যা, বিধবা মাতা, এবং

(খ) সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মৃত্যুর সময় তাহার আয়ের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল হইবার ক্ষেত্রে- মাতা, পিতা, বিধবা কন্যা, নাবালক ভ্রাতা, অবিবাহিত বা বিধবা ভগ্নি, বিধবা পুত্রবধূ, মৃত পুত্রের নাবালক সন্তান, মৃত মেয়ের নাবালক সন্তান যদি তাহার পিতা জীবিত না থাকেন, অথবা মৃত শ্রমিকের পিতা জীবিত না থাকিলে তাহার দাদা ও দাদী;”;

(ঝ) দফা (৩৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৩৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৩৪) “প্রসূতি কল্যাণ” অর্থ চতুর্থ অধ্যায়ের অধীন কোনো নারী শ্রমিককে তাহার প্রসূতি হইবার কারণে প্রদেয় মজুরিসহ ছুটি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধা;”;

(ঞ) দফা (৩৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৩৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:

“(৩৯ক) “বন্দর কর্তৃপক্ষ” অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, ঘোষিত অন্য কোনো বন্দর কর্তৃপক্ষ;”;

(ট) দফা (৪০) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৪০) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:

“(৪০) “বাগান” অর্থ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাবার, কফি, চা ইত্যাদি উৎপাদন অথবা সংরক্ষণ করা হয় এইরূপ কোনো এলাকা যেখানে অন্যূন ০৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে;”;

(ঠ) দফা (৪১) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৪১ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৪১ক) “বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ অর্থ ধারা ৩৪৮গ-এর অধীন প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষ;”

(ড) দফা (৪৯) এর উপ-দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনামূলক বা প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনিক বা তদারকির জন্য লিখিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি;”;

(ঢ) দফা (৪৯) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৪৯ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৪৯ক) “মাস” অর্থ খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জির মাস;”;

(ণ) দফা (৫২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৫২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৫২) ‘‘যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি (CBA)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের এমন কোনো ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন যাহা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত প্রতিষ্ঠানে, প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে, বা খাতভিত্তিক, জাতীয় বা অন্যান্য স্তরে যৌথ দর-কষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি;”;

(ত) দফা (৫২) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৫২ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৫২ক) “যৌন হয়রানি” অর্থ-

(ক) নিম্নলিখিত কোনো আচরণ; যথা:-

(১) অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ (সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতে) যেমন: শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের প্রচেষ্টা;

(২) প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করিয়া কাহারো সহিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা;

(৩) যৌন-নিপীড়নমূলক উক্তি;

(৪) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন;

(৫) পর্ণোগ্রাফি দেখানো;

(৬) যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা ভঙ্গি;

(৭) অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোনো ব্যক্তির অলক্ষ্যে তাহার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করিয়া ঠাট্টা বা উপহাস করা;

(৮) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ছবি, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, ফ্যাক্টরির দেওয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কোনো কিছু লেখা বা আঁকা;

(৯) ব্লাকমেইল অথবা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ করা;

(১০) যৌন ইঙ্গিত বা হয়রানি প্রত্যাখ্যানের কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ হইতে জোরপূর্বক বিরত রাখা;

(১১) প্রেম নিবেদন করিয়া প্রত্যাখাত হইয়া হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা;

(১২) ভয় দেখাইয়া বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনে চেষ্টা করা;

(১৩) ‘কুইড প্রো কো হয়রানি’, অর্থাৎ যৌন প্রকৃতির যেকোনো শারীরিক, মৌখিক বা অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার-ভিত্তিক অন্যান্য আচরণ যাহা নারী ও পুরুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং যাহা গ্রহণকারীর কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত, অযৌক্তিক ও আপত্তিকর, এবং এই ধরনের আচরণ প্রত্যাখ্যান বা মানিয়া নেওয়াকে কোনো ব্যক্তির চাকুরির সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করিবার ভিত্তি হিসাবে স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করা;

(খ) যৌন প্রকৃতির শারীরিক, মৌখিক এবং অমৌখিক আচরণ এবং জেন্ডার, জেন্ডার পরিচয়, জেন্ডার অভিব্যক্তি অথবা বৈষম্যমূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করিয়া পরিচালিত আচরণ যাহা নারী ও পুরুষ কর্মীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করিয়া এবং একটি ভীতিপ্রদ, প্রতিকূল, অপমানজনক, আপত্তিকর ও অবমাননাকর কাজের পরিবেশ তৈরি করে;”;

(থ) দফা (৬১) এর উপ-দফা (ট) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-দফা (টট) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-

“(টট) জাহাজ ভাঙা (Ship breaking);”;

(দ) দফা (৬৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (৬৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :

“(৬৫) “শ্রমিক” অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোনো ব্যক্তি, তাহার চাকুরির শর্তাবলি প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোনো ঠিকাদার, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ইহার মাধ্যমে মজুরি বা অর্থের বিনিময়ে কোনো দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরি, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা করণিক কাজে নিযুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তা হিসাবে যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, তবে ২(৪৯)(খ) নিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত সকল ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;”;

(ধ) দফা (৭৭) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (৭৮) ও (৭৯) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-

“(৭৮) “ব্ল্যাক লিস্টিং (Black Listing)” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা মালিকদের কোনো সংগঠন কর্তৃক গৃহীত এমন কোনো কার্যক্রম যাহা ঐ প্রতিষ্ঠানের বা মালিকদের কোনো সংগঠনের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সাময়িক ও বদলি শ্রমিকসহ ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা অন্যকোনো কারণে চাকুরি অবসানের পর নূতন করিয়া কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি লাভের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করিবার উদ্দেশ্যে তালিকা বা ডাটাবেইস তৈরী করা;

(৭৯) “সহিংসতা ও হয়রানি” অর্থ কর্মক্ষেত্রে সকল অগ্রহণযোগ্য আচরণ, চর্চা, রীতি, একক বা দলবদ্ধভাবে উৎপীড়নমূলক কার্যকলাপ বা হুমকি অথবা মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতন, যাহা একবার বা একাধিকবার ঘটিতে পারে এবং যার উদ্দেশ্য, ফলাফল বা সম্ভাব্য পরিণাম হলো শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, ইহার মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।’’।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩ এর সংশোধন

৫। উক্ত আইনের ধারা ৩ এর-

(ক) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ‘নব্বই’ শব্দটির পরিবর্তে ‘‘১২০ (একশত বিশ)’’ সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক আদেশ প্রদান না করিলে, উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে অথবা মহাপরিদর্শক কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি, সরকারের নিকট প্রতিকারের জন্য আবেদন বা, ক্ষেত্রমত, আপিল করিতে পারিবেন এবং সরকার উক্ত আবেদন বা, ক্ষেত্রমত, আপিল প্রাপ্তির ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং এতদĐবিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪ এর সংশোধন

৬। উক্ত আইনের ধারা ৪ এর উপ-ধারা (২) এর প্রান্তস্থিত দাঁড়ি চিহ্নের পরিবর্তে কমা চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতপর “এবং এইরূপ শ্রমিকের ক্ষেত্রে আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় প্রযোজ্য হইবে।” শব্দগুলি এবং চিহ্ন সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১২ এর সংশোধন

৭। উক্ত আইনের ধারা ১২ এর উপ-ধারা (৮) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৮) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :- ‘

“(৮) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ ৩ (তিন) কর্মদিবসের অধিক হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে লে-অফ করা হইবে এবং তাহাদেরকে ধারা ১৬ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৪ এর সংশোধন

৮। উক্ত আইনের ধারা ১৪ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

(১) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, যদি কোনো শ্রমিক কোনো প্রতিষ্ঠানে পূর্ববর্তী ১২ (বার) পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্ততঃ ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) দিন বা ৬ (ছয়) পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্তত ১২০ (একশত বিশ) দিন কাজ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি যথাক্রমে ‘এক বৎসর’ বা ‘ছয় মাস’ উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।”;

(খ) উপ-ধারা (২) এর দফা (ঘ) তে উল্লিখিত “ষোল সপ্তাহ” শব্দগুলির পরিবর্তে “১২০ (একশত বিশ) দিন” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;

(গ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৩) ধারা ১৯, ২০ অথবা ২৩ এর অধীন ক্ষতিপূরণ অথবা ধারা ২২, ২৩, ২৬ অথবা ২৭ এর অধীন মজুরি হিসাবের প্রয়োজনে “মজুরি” বলিতে কোনো শ্রমিকের ছাঁটাই, বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরির অবসানের পূর্ববর্তী সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরি, যদি থাকে, উহাকে বুঝাইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৬ এর সংশোধন

৯। উক্ত আইনের ধারা ১৬ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) যে ক্ষেত্রে বদলি বা সাময়িক শ্রমিক নহেন, এইরূপ কোনো শ্রমিককে লে-অফ করা হয়, যাহার নাম কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে এবং যিনি মালিকের অধীন অন্তত ৩ (তিন) মাস চাকুরি সম্পূর্ণ করিয়াছেন, তাহা হইলে মালিক তাহাকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।”;

(খ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৩) যে বদলি শ্রমিকের নাম কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে, তিনি এই ধারার প্রয়োজনে বদলি বলিয়া গণ্য হইবেন না যদি তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে ১ (এক) বৎসর চাকুরি সম্পূর্ণ করিয়া থাকেন।”;

(গ) উপ-ধারা (৪) বিলুপ্ত হইবে;

(ঘ) উপ-ধারা (৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৫) যদি কোনো পঞ্জিকা বর্ষে কোনো শ্রমিককে অবিচ্ছিন্নভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের অধিক সময়ের জন্য লে-অফ করা হয়, এবং উক্ত ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের পর লে-অফের সময় যদি আরও ১৫ (পনের) দিন বা তদূর্ধ্ব সময় বর্ধিত হয়, তাহা হইলে উক্ত শ্রমিককে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে ভিন্নরূপ কোনো চুক্তি না থাকিলে, পরবর্তী প্রত্যেক ১৫ (পনের) বা তদূর্ধ্ব দিনসমূহের লে-অফের জন্য উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।”;

(ঙ) উপ-ধারা (৬) বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৭ এর সংশোধন

১০। উক্ত আইনের ধারা ১৭ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ১৭ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“১৭। লে-অফকৃত শ্রমিকগণের রেজিস্টার।-কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণকে লে-অফ করা সত্ত্বেও মালিককে তাহাদের জন্য রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং স্বাভাবিক কর্মসময়ে লে-অফকৃত শ্রমিকগণের মধ্যে যাহারা কাজের জন্য হাজিরা দিবেন, তাহাদের নাম উহাতে লিপিবদ্ধ করিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, লে-অফকালীন অন্য কোনভাবে শ্রমিক রেজিস্টার সংরক্ষণ বা শ্রমিক রেজিস্টার বহির্ভূত কোনো শ্রমিক নিয়োগ করা যাইবে না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৯ এর সংশোধন

১১। উক্ত আইনের ধারা ১৯ এ উল্লিখিত “০২ (দুই)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনীর পরিবর্তে “১ (এক)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৩ এর সংশোধন

১২। উক্ত আইনের ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “অধীন” শব্দটির পর “বরখাস্তকৃত বা” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৭ এর সংশোধন

১৩। উক্ত আইনের ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপধারা (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৪) যেক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোনো স্থায়ী শ্রমিক চাকুরি হইতে ইস্তফা দেন, সেক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরির জন্য-

(ক) যদি তিনি ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৭ (সাত) দিনের মজুরি;

(খ) যদি তিনি ৩ তিন) বৎসরের বেশি কিন্তু ১০ দশ) বছরের কম মেয়াদে মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ১৫ পনের) দিনের মজুরি;

(গ) যদি তিনি ১০ (দশ) বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মজুরি, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩২ এর সংশোধন

১৪। উক্ত আইনের ধারা ৩২ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “ষাট দিনের” শব্দগুলির পরিবর্তে “৬ (ছয়) মাসের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৫ এর সংশোধন

১৫। উক্ত আইনের ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (১) ও উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহের” পরিবর্তে “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৬ এর সংশোধন

১৬। উক্ত আইনের ধারা ৪৬ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহ” এবং “আট সপ্তাহের” শব্দগুলির পরিবর্তে যথাক্রমে “৬০ (ষাট) দিন” এবং “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “মহিলাকে” শব্দের পরিবর্তে “প্রসূতিকে” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৭ এর সংশোধন

১৭। ২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৭ এর সংশোধন।-উক্ত আইনের ধারা ৪৭ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহের” শব্দগুলির পরিবর্তে ‘৬০ (ষাট) দিনের’ সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “মহিলা” শব্দের পরিবর্তে “প্রসূতি” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে;

(গ) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৩) উপ-ধারা (১) অথবা (২) এ উল্লিখিত নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক সংশ্লিষ্ট নারীকে-

(ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রে, উহা প্রদানের তারিখের পরের দিন হইতে প্রাপ্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিবেন;

(খ) উপ-ধারা (২) এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রে, সন্তান প্রসবের তারিখ হইতে প্রাপ্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিবেন।”;

(ঘ) উপ-ধারা (৪) এর দফা (ক), (খ) এবং (ঘ) এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহের” এবং “আট সপ্তাহ” শব্দগুলির পরিবর্তে যথাক্রমে “৬০ (ষাট) দিনের” এবং “৬০ (ষাট) দিন” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৮ এর সংশোধন

১৮। উক্ত আইনের ধারা ৪৮ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) ও (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

(১) এই অধ্যায়ের অধীন যে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদেয় হইবে উহা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় গণনা করিয়া দৈনিক, সাপ্তাহিক বা, ক্ষেত্রমত, মাসিক, গড় মজুরি হারে সম্পূর্ণ নগদে বা ব্যাংক হিসাবে বা ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে (ইএফটি) প্রদান করিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর প্রয়োজনে দৈনিক গড় মজুরি গণনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রসূতি কর্তৃক তাহার সর্বশেষ ধার্যকৃত মাসিক মোট মজুরিকে ২৬ (ছাব্বিশ) দ্বারা ভাগ করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৪৯ এর সংশোধন

১৯। উক্ত আইনের ধারা ৪৯ এর-

(ক) উপান্তটীকায় “মহিলার” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহের” পরিবর্তে “৬০ (ষাট) দিনের” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৫০ এর সংশোধন

২০। উক্ত আইনের ধারা ৫০ এ উল্লিখিত “আট সপ্তাহ” শব্দগুলির পরিবর্তে “৬০ (ষাট) দিন” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৬১ক এর সন্নিবেশ

২১। উক্ত আইনের ধারা ৬১ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৬১ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৬১ক। কাজের পদ্ধতি।-(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে এমনভাবে কোনো কাজ বা উৎপাদন প্রক্রিয়া চালানো এবং পণ্য সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহা শারীরিক আঘাতের কারণ হইতে পারে।

(২) কোনো মালিক কোনো শ্রমিককে এমন বিপজ্জনক কাজ করিতে বাধ্য করিতে পারিবেন না যদি শ্রমিক তাহার ঊর্ধ্বতনকে জানান যে, কাজের পদ্ধতি তাহার জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর বিপদ ঘটাইতে পারে।

(৩) কোনো মালিক কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা অন্য কোনো অযাচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন না, যদি শ্রমিক এই আইন এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (OSH) নীতি অনুসারে ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং এমন কোনো পরিস্থিতি হইতে নিজেকে সরাইয়া নেন যাহা সম্পর্কে তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে যে তাহা একটি আসন্ন ও গুরুতর বিপদ সৃষ্টি করিবে।

(৪) বিদ্যমান অন্যান্য আইন ও নীতি অনুযায়ী শ্রমিক প্রতিনিধিরা যদি যথাযথভাবে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তাহা হইলে কোনো মালিক তাহাদের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো অযাচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

(৫) যদি পেশাগত নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে কাজ বন্ধ থাকে, তবে মালিক যদি ইচ্ছা করেন, শ্রমিককে অন্য কোনো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ কাজে নিযুক্ত করিতে পারিবেন, তবে শর্ত থাকে যে, তাহার মজুরি ও অন্যান্য শর্ত একই থাকিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২নং আইনের ধারা ৮০ এর সংশোধন

২২। উক্ত আইনের ধারা ৮০ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে, কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটিলে, যাহার ফলে জীবনহানি বা শারীরিক আঘাত হয়, অথবা কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, অগ্নিকাণ্ড বা পানি বা ধোঁয়ার প্রবেশ ঘটে, তাহা হইলে মালিক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা অনুশীলনকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা ঘটনার বিষয়ে অবগত হইবার পরবর্তী ২ (দুই) কার্যদিবসের মধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম কার্যালয় বা বিভাগীয় শ্রম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিখিত অথবা ডিজিটাল নোটিশ প্রদান করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের ঘটনা ঘটিবার পর অবিলম্বে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনিবার জন্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সরকার, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, থানা, এবং প্রয়োজনে, নিকটস্থ হাসপাতাল বা সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, এসএমএস বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে অবহিত করিবে।

ব্যাখ্যা- “কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে” দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এই ধরনের নোটিশ শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে। কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাগুলি ধারা ২ এর দফা (১৯ক) এবং ধারা ১৫০ এ উল্লিখিত দুর্ঘটনার আওতার বাইরে এবং কোনও দায়বদ্ধতার সহিত সম্পর্কিত নহে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৮১ এর প্রতিস্থাপন

২৩। উক্ত আইনের ধারা ৮১ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৮১ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“৮১। কতিপয় বিপজ্জনক ঘটনার নোটিশ।-যেক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোনো বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে, উহাতে কোনো শারীরিক জখম হউক বা না হউক, মালিক পরবর্তী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে তৎসম্পর্কে নোটিশ দ্বারা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আওতাধীন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর বা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৮২ এর সংশোধন

২৪। উক্ত আইনের ধারা ৮২ এর উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) ও (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(১) কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কোনো শ্রমিক দ্বিতীয় তফসিলে ‌উল্লিখিত কোনো ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তাহা হইলে নিয়োগকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বা তাহার মনোনীত কোনো ব্যক্তি, রেজিস্টার্ড চিকিৎসক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা পরিদর্শককে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করিবেন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ২ (দুই) কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(২) যদি কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক, পেশাগত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা ভূতপূর্ব কোনো শ্রমিককে চিকিৎসাকালে দেখেন যে, তিনি দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোনো ব্যাধিতে ভুগিতেছেন বা ভুগিতেছেন বলিয়া তাহার সন্দেহ হইতেছে, তাহা হইলে উক্ত চিকিৎসক অবিলম্বে একটি লিখিত রিপোর্ট মারফত মহাপরিদর্শককে নিম্নলিখিত বিষয় অবহিত করিবেন, যথা :-

(ক) রোগীর নাম এবং ডাক যোগাযোগের ঠিকানা;

(খ) রোগী যে রোগে ভুগিতেছেন বা ভুগিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইতেছে, তাহার নাম;

(গ) যে প্রতিষ্ঠানে রোগী বর্তমানে কাজ করিতেছেন বা সর্বশেষ কাজ করিয়াছেন, তাহার নাম ও ঠিকানা।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৮৫ এর সংশোধন

২৫। উক্ত আইনের ধারা ৮৫ এর-

(ক) উপ-ধারা (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৩) যদি পরিদর্শক মনে করেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট মালিককে তাহার এই মতামতের কারণ লিখিতভাবে জানাইবেন, একইসাথে, পরিদর্শক লিখিত আদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ, প্ল্যান্ট, লে-আউট বা কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন এবং ঐ অংশে কোনো ব্যক্তিকে কাজ করানো থেকে বিরত রাখিতে পারিবেন, এবং এই নিষেধাজ্ঞা ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে যতক্ষণ না পরিদর্শক নিশ্চিত হবেন যে, বিপদ সম্পূর্ণরূপে দূর হইয়াছে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি উক্ত বিপদ অপসারণের কাজে নিযুক্ত থাকিলে তৎসম্পর্কে এই আদেশ প্রযোজ্য হইবে না।”;

(খ) উপ-ধারা (৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৫) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন প্রদত্ত প্রত্যেক আদেশ সম্পর্কে পরিদর্শক তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের নিকট রিপোর্ট পেশ করিবেন, এবং সংশ্লিষ্ট মালিককে এই রিপোর্ট প্রদান সম্পর্কে অবহিত করিবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৯০ক এর প্রতিস্থাপন

২৬। উক্ত আইনের ধারা ৯০ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৯০ক প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“৯০ক। সেইফটি কমিটি গঠন।-(১) পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সেইফটি কমিটি গঠন এবং উহাকে কার্যকর করিতে হইবে।

(২) সেইফটি কমিটি চিহ্নিত ঝুঁকি, দুর্ঘটনা, বিপজ্জনক ঘটনা এবং রোগ সম্পর্কে মালিক বা তাহার প্রতিনিধিদেরকে অবহিত করিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১১৭ এর সংশোধন

২৭। উক্ত আইনের ধারা ১১৭ এর-

(ক) উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ক) কোনো কারখানার ক্ষেত্রে, প্রতি ১৪ (চৌদ্দ) দিন কাজের জন্য ১ (এক) দিন;”;

(খ) উপ-ধারা (৮) এর দফা (ঘ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঘ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঘ) অনধিক ১২০ (একশত বিশ) দিন পর্যন্ত প্রসূতিকালীন ছুটি;”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১১৮ এর সংশোধন

২৮। উক্ত আইনের ধারা ১১৮ উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এগারো” পরিবর্তে “১৩ (তের)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৩২ এর সংশোধন

২৯। উক্ত আইনের ধারা ১৩২ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “প্রতিনিধি” শব্দের পর “বা কোনো পরিদর্শক” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৩৯ এর সংশোধন

৩০। উক্ত আইনের ধারা ১৩৯ এর উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত “পাঁচ” শব্দটির স্থলে “৩ (তিন)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৫১ক এর সন্নিবেশ

৩১। উক্ত আইনের ধারা ১৫১ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১৫১ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-

“১৫১ক। কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল (Employment Injury Scheme Fund)।-(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার বিধি দ্বারা উপযুক্ত বিবেচিত একটি কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তহবিল (Employment Injury Scheme Fund) প্রতিষ্ঠা করিবে, এবং উক্ত বিধিতে তহবিলের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের গঠন ও কার্যাবলি, প্রদেয় সুবিধার প্রকার ও মাত্রা নির্ধারণ, তহবিলের অর্থায়ন উৎস ও পদ্ধতি, এবং তহবিলের কার্যকর প্রশাসন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে।

(২) সরকার এই উদ্দেশ্যে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো কোনো শিল্প বা খাতে এই তহবিল প্রযোজ্য হইবে তাহা নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং এইরূপ নির্ধারণের পর কর্মস্থলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ধারা ১৫০ এর আওতায় মালিকের দায়িত্ব সংক্রান্ত এই আইনের বিধানাবলি সংশ্লিষ্ট শিল্প বা খাতের মালিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৭৫ এর প্রতিস্থাপন

৩২। উক্ত আইনের ধারা ১৭৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ১৭৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“১৭৫। শ্রমিকের বিশেষ সংজ্ঞা ও সংগঠন করিবার অধিকার।-(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে এবং ধারা ১(৪) ও ২(৬৫) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ে “শ্রমিক” অর্থ ধারা ২(৬৫) এ সংজ্ঞায়িত “শ্রমিক” এর পাশাপাশি স্ব-নিয়োজিত শ্রমিক, দৈনিক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক, কিংবা কোনো ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োজিত ব্যক্তি, এবং এই অধ্যায়ের অধীন শিল্পবিরোধ সম্পর্কে কোনো কার্যধারার প্রয়োজনে, উক্ত বিরোধের সূত্রে অথবা বিরোধের ফলে লে-অফকৃত, ছাঁটাইকৃত, ডিসচার্জকৃত, বরখাস্তকৃত অথবা অন্যভাবে চাকুরি হইতে অপসারিত কোনো শ্রমিক অথবা যাহার লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত বা অপসারণ হইতে উক্ত বিরোধ উত্থিত হইয়াছে এইরূপ কোনো শ্রমিক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানের পাহারা টহলদারি অথবা নিরাপত্তা স্টাফ, অগ্নি-নির্বাপক স্টাফের কোনো সদস্য এবং গোপনীয় সহকারী ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না।

(২) প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ তাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়া আলাদাভাবে অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি গঠন করিতে পারিবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৭৬ এর সংশোধন

৩৩। উক্ত আইনের ধারা ১৭৬ এর-

(ক) উপান্তটীকায় উল্লিখিত “ইউনিয়ন” শব্দটির পর “অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে;

(খ) দফা (ক) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (কক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-

“(কক) মুখ্যত প্রশাসনিক, তদারকি কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত এমন ব্যবস্থাপনামূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের তাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো পার্থক্য ছাড়াই অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি গঠন করিবার এবং সংশ্লিষ্ট সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের সমিতিতে যোগদানের অধিকার থাকিবে;”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৭৮ এর সংশোধন

৩৪। উক্ত আইনের ধারা ১৭৮ এর-

(ক) উপ-ধারা (২) এর-

(অ) দফা (ক) এর উপ-দফা (৩) এ উল্লিখিত “ঠিকানা” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে;

(আ) দফা (ক) এর উপ-দফা (৫) এ উল্লিখিত “সংখ্যা,” শব্দ ও কমার পরিবর্তে “সংখ্যা, এবং এই উপ-দফার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রতিষ্ঠানে কতজন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই বিষয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের কোনো শ্রমিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যয়ন চাহিলে তাহা ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করিতে হইবে,” শব্দগুলি ও কমাগুলি প্রতিস্থাপতি হইবে;

(খ) দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :

“(খ) সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সভাপতির স্বাক্ষরিত এবং অনুমোদিত গঠনতন্ত্র;”;

(গ) দফা (গ) বিলুপ্ত হইবে;

(ঘ) উপ-ধারা (২) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (২ক) সন্নিবেশিত হইবে, যথা :-

“(২ক) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য, যাহা এই ধারা অনুসারে রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হইয়াছে তাহা মালিকসহ অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাইবে না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৭৯ এর সংশোধন

৩৫। উক্ত আইনের ধারা ১৭৯ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর-

(অ) দফা (ঞ) এ উল্লিখিত “দুই” শব্দটির পরিবর্তে “৩(তিন)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী এবং শর্তাংশে উল্লিখিত “২” সংখ্যাটির পরিবর্তে “৩(তিন)” সংখ্যা, শব্দ ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে;

(আ) দফা (ট) পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ট) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(ট) কর্মকর্তার সংখ্যা ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে;”;

(ই) দফা (ড) পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ড) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ড) ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটি এবং সাধারণ সদস্যদের সভা আহ্বান করিবার বিষয়টি গঠনতন্ত্রে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হইবে, তবে সাধারণ সদস্যদের সভা বৎসরে অন্তত একবার আয়োজন করিতে হইবে;”;

(খ) উপ-ধারা (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(২) কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্যূন ২০ জন শ্রমিক একত্রিত হইয়া এই অধ্যায়ের অধীন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন, তবে শ্রমিকগণের কোনো ট্রেড ইউনিয়ন এই অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকরণের অধিকারী হইবে না, যদি না উহার সদস্য সংখ্যা যে প্রতিষ্ঠানে উহা গঠিত হইয়াছে, সেই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণের মোট সংখ্যার নিম্নরূপভাবে নির্ধারিত হয়:

(ক) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ২০ জন হইতে ৩০০ জন পর্যন্ত ২০ জন;

(খ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০১ জন হইতে ৫০০ জন পর্যন্ত ৪০ জন;

(গ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৫০১ জন হইতে ১৫০০ জন পর্যন্ত ১০০ জন;

(ঘ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ১৫০১ জন হইতে ৩০০০ জন পর্যন্ত ৩০০ জন; এবং

(ঙ) প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ৩০০১ জন হইতে তদূর্ধ্ব পর্যন্ত ৪০০ জন।”;

(গ) উপ-ধারা (২ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(২ক) মহাপরিচালক অথবা এতৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ হইতে তালিকা সংগ্রহ করিয়া অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে ধারা ১৭৮ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর উপ-দফা (৫) এবং এই ধারায় বর্ণিত বিষয়াদির সঠিকতা যাচাই করিবেন;”;

(ঘ) উপ-ধারা (৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৫) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-

“(৫) কোনো প্রতিষ্ঠানে অথবা প্রতিষ্ঠানপূঞ্জে ধারা ১৭৫ এর উপ-ধারা (১) এবং (২) এর অধীন শ্রমিকগণের বা ব্যক্তিগণের বা কর্মকর্তাগণের বা মালিকগণের প্রতিক্ষেত্রে কোনো সময়ে ০৫ (পাঁচ) টির অধিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা যাইবে না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮০ এর সংশোধন

৩৬। উক্ত আইনের ধারা ১৮০ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর প্রান্তস্থিত কোলন চিহ্নের পরিবর্তে দাড়ি চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং শর্তাংশ বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮২ এর সংশোধন

৩৭। উক্ত আইনের ধারা ১৮২ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এই মর্মে সন্তুষ্ট হওয়ার পর” শব্দগুলির পরিবর্তে “এই মর্মে নিশ্চিত হইবার পর” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “ইহার জবাব দিবে” শব্দগুলির পর কমা এর পরিবর্তে দাড়ি প্রতিস্থাপিত হইবে এবং পরবর্তী শব্দগুলি বিলুপ্ত হইবে;

(গ) উপ-ধারা (৭) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৮) সংযোজিত হইবে, যথা:-

“(৮) রেজিস্ট্রেশন প্রদানের কার্যপ্রণালির আওতায় কোনো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে, সে বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদারকি কমিটির সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২নং আইনের ধারা ১৮৩ এর সংশোধন

৩৮। ২০০৬ সনের ৪২নং আইনের ধারা ১৮৩ এর সংশোধন।-উক্ত আইনের ধারা ১৮৩ এর-

(ক) উপ-ধারা (৩) এর দফা (ন) এর প্রান্তস্থিত কোলন চিহ্নের পরিবর্তে সেমিকোলন চিহ্ন প্রস্তাপিত হইবে এবং অত:পর নিম্নরূপ নূতন দফা (প) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(প) গৃহ পরিচারক;”;

(খ) উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত “ত্রিশ শতাংশ” শব্দগুলির পরিবর্তে “২০ (বিশ ) জন” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮৪ এর বিলুপ্তি

৩৯। উক্ত আইনের ধারা ১৮৪ বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮৫ এর সংশোধন

৪০। উক্ত আইনের ধারা ১৮৫ এর-

(ক) উপ-ধারা ১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সমুদ্রগামী জাহাজে সাধারণত কর্মরত থাকেন এইরূপ নাবিকগণ (Seafarers) যথা- অফিসার ও রেটিংস, তাহাদের স্ব-স্ব ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে অফিসার ও রেটিংসদের স্ব-স্ব ইউনিয়ন যৌথ দর কষাকষি চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।”;

(খ) উপ-ধারা (৩) বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮৫ক এর সংশোধন

৪১। উক্ত আইনের ধারা ১৮৫ক এর-

(ক) উপান্তটীকায় উল্লিখিত “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা” শব্দগুলি বিলুপ্তি হইবে;

(খ) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা” শব্দগুলি বিলুপ্তি হইবে;

(গ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “চট্টগ্রাম ও মংলা” শব্দগুলি বিলুপ্তি হইবে;

(ঘ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “চট্টগ্রাম ও মংলা” শব্দগুলি বিলুপ্তি হইবে;

(ঙ) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা” শব্দগুলি বিলুপ্তি হইবে;

(চ) উপ-ধারা (৫) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত “অবিরামভাবে” শব্দের পরিবর্তে “নিরবচ্ছিন্নভাবে” শব্দটি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(ছ) উপ-ধারা (৭) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৭) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৭) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, জনস্বার্থে-

(ক) এই ধারার অধীন গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যেকোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে; এবং

(খ) ধারা ১৯০ এর অধীন যে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৮৮ এর সংশোধন

৪২। উক্ত আইনের ধারা ১৮৮ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) কোনো ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের প্রত্যেক সংশোধন, উহার কর্মকর্তার প্রত্যেক পরিবর্তন, এবং উহার নাম ও ঠিকানার পরিবর্তন উক্তরূপ সংশোধন বা পরিবর্তনের ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অথবা হাতে হাতে নোটিশ প্রদান করিয়া মহাপরিচালককে অবহিত করিতে হইবে, এবং মহাপরিচালক নোটিশ প্রাপ্তির পর, উক্তরূপ সংশোধন বা পরিবর্তন এই আইন এবং তদনুযায়ী প্রণীত বিধি অনুযায়ী হইলে, ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রিকরণপূর্বক সঙ্গে সঙ্গে উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিকে এবং মালিককে তাহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিবেন।”;

(খ) উপ-ধারা (৪) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৪) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৪) যদি কোনো ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের বিষয়ে বিরোধ থাকে, তাহা হইলে উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মহাপরিচালক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৯০ এর সংশোধন

৪৩। উক্ত আইনের ধারা ১৯০ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “বাতিল” শব্দের পরিবর্তে “বাতিলের জন্য আবেদন” শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এ উল্লিখিত “হাসিল করিয়া থাকে” শব্দগুলি পর “যাহা বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্যপ্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হইতে হইবে” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৯৫ এর সংশোধন

৪৪। উক্ত আইনের ধারা ১৯৫ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর দফা (ট) এ উল্লিখিত “সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষকে” শব্দগুলি ও কমার পরিবর্তে “সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা কোনো কর্মকর্তাকে” শব্দগুলি ও কমা প্রতিস্থাপিত হইবে এবং প্রান্তস্থিত “অথবা” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঠ) এর পর নিম্নবর্ণিত নূতন দফা (ড), (ঢ), (ণ), (ত) ও (থ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(ড) কোনো শ্রমিক বা ইউনিয়নের কোনো সদস্যকে কোনো কারণে চাকুরির অবসান করা হইলে, ব্ল্যাক লিস্টিং (Black listing) করিয়া নোটিশ জারি বা ডাটাবেইজ এ অন্তর্ভুক্ত করিবেন না;

(ঢ) মালিক বা মালিকদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠাকে উদ্বুদ্ধ করিবেন না;

(ণ) মালিক বা মালিকদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠনকে রাখিবার উদ্দেশ্যে আর্থিক বা অন্য কোনরূপ সহায়তা করিবেন না;

(ত) পক্ষপাতমূলকভাবে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা এবং অন্য ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করিবেন না;

(থ) চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করিয়া কোনো শ্রমিককে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইন বা প্রবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের বা কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে, হেল্পলাইনসহ, বা উপযুক্ত প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নেওয়ার কারণে, অথবা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অসৎ শ্রম আচরণ তদন্তে সাক্ষ্য প্রদানের কারণে কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রতিশোধমূলক (Retaliation) ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৯৬ক এর সংশোধন

৪৫। উক্ত আইনের ধারা ১৯৬ক এর উপ-ধারা (১) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (১ক) সংযোজিত হইবে, যথা:-

“(১ক) যদি মালিক শ্রমিকদের চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেন এবং ধারা ১৯৫ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অসৎ শ্রম আচরণ তদন্তের আবেদনের কারণে কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রতিশোধমূলক (Retaliation) ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে তাহা এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন বলিয়া গণ্য হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ১৯৬খ এর সন্নিবেশ

৪৬। উক্ত আইনের ধারা ১৯৬ক এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ১৯৬খ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“১৯৬খ। অসৎ শ্রম আচরণ এবং এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশনের অভিযোগ নিষ্পত্তি ও মালিকের পক্ষ হইতে অসৎ শ্রম আচরণে প্রতিকার প্রদান।- (১) যদি মালিক ধারা ১৯৫(১) এ ‌উল্লিখিত কোনো অসৎ শ্রম আচরণ করেন অথবা ধারা ১৯৬ক(১) এ ‌উল্লিখিত উপায়ে শ্রমিকের প্রতি বৈষম্য করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট মালিককে মহাপরিচালক কর্তৃক অবিলম্বে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করিবার নির্দেশ দেওয়া যাইবে, যদি এই ধরনের কার্যকলাপের কারণে কোনো শ্রমিকের ক্ষতি হয়, তাহা হইলে মালিককে উক্ত ক্ষতি পুনরুদ্ধারসহ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও আদেশ মহাপরিচালক কর্তৃক দেওয়া যাইবে।

(২) শ্রম অধিদপ্তরের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুসারে সম্পন্ন হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০২ এর সংশোধন

৪৭। উক্ত আইনের ধারা ২০২ এর উপ-ধারা (২৪) এর-

(ক) দফা খ) বিলুপ্ত হইবে;

(খ) দফা গ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ নূতন দফা (গ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(গ) ধারা ২১১ এর বিধান অনুযায়ী ধর্মঘটের নোটিশ প্রদানের এবং উহা ঘোষণা করিবার;”;

(গ) দফা ঙ) বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০৩ এর সংশোধন

৪৮। উক্ত আইনের ধারা ২০৩ এর-

(ক) উপান্তটীকায় “ফেডারেশন” শব্দের পর “ও কনফেডারেশন” শব্দগুলি সন্নিবেশিত হইবে;

(খ) উপ-ধারা (৩) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৪) ও উপ-ধারা (৫) সংযোজিত হইবে, যথা:-

“(৪) যদি কোনো ফেডারেশন বা কনফেডারেশন, যাহারা কোনো সেক্টরে জাতীয় বা অন্য কোনো স্তরে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক সংস্থাকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করে অথবা, যদি কোনো সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা সেই সেক্টরের জাতীয় বা অন্য কোনো স্তরে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে এমন কোনো ফেডারেশন বা কনফেডারেশনকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করে, তাহা হইলে যে পক্ষ এই ধরনের অনুরোধ পাইয়াছে তাহারা যৌথ দর কষাকষিতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে।

(৫) যৌথ দরকষাকষির পক্ষ স্বাধীনভাবে আলোচনার বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারিবে, এবং কারখানার কর্মপরিবেশ, নিয়োগের শর্তাবলি এবং শ্রমিক-মালিক-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কিত যে কোনও বিষয়ে যৌথ দরকষাকষি করা যাইতে পারে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০৩ক এর সন্নিবেশ

৪৯। উক্ত আইনের ধারা ২০৩ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ২০৩ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“২০৩ক। সেক্টরাল, জাতীয় ও অন্যান্য স্তরে যৌথ দরকষাকষি।-(১) এক বা একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন বা কনফেডারেশন, যাহারা সেক্টর, জাতীয় বা অন্য কোনো পর্যায়ে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, তাহারা মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহের সহিত যৌথভাবে দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে।

(২) একটি সেক্টরের মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক মালিক সংগঠন, যৌথভাবে কাজ করে, সেই সেক্টরের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী এক বা একাধিক যথাযথভাবে অনুমোদিত ট্রেড ইউনিয়নকে যৌথ দরকষাকষিতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে।

(৩) যখন কোনো ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বা কনফেডারেশন মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহকে যৌথ দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিবে, অথবা কোনো মালিক সংগঠন বা সংগঠনসমূহ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বা কনফেডারেশনকে যৌথ দরকষাকষির জন্য অনুরোধ করিবে, তখন অনুরোধপ্রাপ্ত সংগঠন অনুরোধ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে অনুরোধকারী পক্ষকে লিখিতভাবে জবাব দিবে।

(৪) খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা এবং যৌথ চুক্তি চূড়ান্ত করিবার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করিতে পারিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০৪ এর সংশোধন

৫০। ২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০৪ এর সংশোধন।-উক্ত আইনের ধারা ২০৪ এর-

(ক) উপান্তটীকার পরিবর্তে নিম্নরূপ উপান্তটীকা প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“বেতন হইতে চাঁদা কর্তন ( চেক-অফ)”;

(খ) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) যদি কোনো যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) বা ট্রেড ইউনিয়ন অনুরোধ করে, তাহা হইলে মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেই সকল শ্রমিকের মজুরি হইতে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ কর্তন করিবেন, যাহারা সেই সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য, এবং এই অর্থের পরিমাণ তাহাদের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকিতে হইবে অথবা সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক অন্যভাবে নির্ধারিত হইতে পারিবে, তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক শ্রমিকের লিখিত সম্মতি থাকিতে হইবে, যাহা সিবিএ বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক আবেদনে উল্লেখ থাকিবে।”;

(গ) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এ উল্লিখিত “সিবিএ” শব্দের পর “বা ট্রেড ইউনিয়ন” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২০৮ এর সংশোধন

৫১। উক্ত আইনের ধারা ২০৮ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “মালিক” শব্দের পর “ও ট্রেড ইউনিয়ন” শব্দগুলি এবং উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত “মালিক” শব্দের পর “অথবা ট্রেড ইউনিয়ন” শব্দগুলি বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২১১ এর সংশোধন

৫২। উক্ত আইনের ধারা ২১১ এর উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত “তিন বৎসর” শব্দগুলির পরিবর্তে “২ (দুই) বৎসর” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২১৩ এর সংশোধন

৫৩। উক্ত আইনের ধারা ২১৩ এ উল্লিখিত “ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি” শব্দগুলির পর “, ট্রেড ইউনিয়ন” কমা ও শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৩৫ এর সংশোধন

৫৪। উক্ত আইনের ধারা ২৩৫ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এ উল্লিখিত “ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি” শব্দের পর “বা অংশগ্রহণকারী কমিটি” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৪২ এর সংশোধন

৫৫। উক্ত আইনের ধারা ২৪২ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) প্রত্যেক বৎসর অংশগ্রহণ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থ সমান ভাগে সকল সুবিধাভোগীর মধ্যে বণ্টন করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৬৪ এর সংশোধন

৫৬। উক্ত আইনের ধারা ২৬৪ এর-

(ক) উপান্তটীকার পরিবর্তে নিম্নরূপ নূতন উপান্তটীকা প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“বেসরকারি খাতে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল অথবা সর্বজনীন পেনশন স্কীমে অংশগ্রহণ”;

(খ) উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:

১) বেসরকারি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিবে।”;

(গ) উপ-ধারা (১০) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১০) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:

“(১০) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেসকল প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ (একশত) জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে, তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জনবলের মধ্যে যাহারা লিখিতভাবে আগ্রহ প্রকাশ করিবে তাহাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’-তে অংশগ্রহণ করিলে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বিধান হইতে অব্যাহতি পাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্কীমে মালিক ৫০% চাঁদা প্রদান করিবেন এবং কর্মরত শ্রমিকও ৫০% চাঁদা প্রদান করিবেন,

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো শ্রমিক স্কীমের সদস্য হইতে লিখিতভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করিলে মালিক তাহার প্রদত্ত ৫০% চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন না।”;

(ঘ) উপ-ধারা (১১) বিলুপ্ত হইবে;

(ঙ) উপ-ধারা (১২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১২) উক্ত ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যূন অর্ধেক সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।”;

(চ) উপ-ধারা (১৬) বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৬৬ এর সংশোধন

৫৭। উক্ত আইনের ধারা ২৬৬ এর-

(ক) উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ক) মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর, পদাধিকারবলে, যিনি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন;”;

(খ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “ চেয়ারম্যান ও” শব্দগুলি বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৮৩ এর সংশোধন

৫৮। উক্ত আইনের ধারা ২৮৩ এ উল্লিখিত “পাঁচ হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৮৪ এর সংশোধন

৫৯। উক্ত আইনের ধারা ২৮৪ এ উল্লিখিত “পাঁচ হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৮৫ এর সংশোধন

৬০। উক্ত আইনের ধারা ২৮৫ এ উল্লিখিত “এক হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার হইতে অনধিক ১০ (দশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৮৬ এর সংশোধন

৬১। উক্ত আইনের ধারা ২৮৬ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “পঁচিশ হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৮৯ এর সংশোধন

৬২। উক্ত আইনের ধারা ২৮৯ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “পাঁচ হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯০ এর সংশোধন

৬৩। উক্ত আইনের ধারা ২৯০ এর-

(ক) উপান্তটীকার পরিবর্তে নিম্নরূপ উপান্তটীকা প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“দুর্ঘটনার এবং পেশাগত ব্যাধিসমূহের বিষয়ে নোটিশ প্রদানে ব্যর্থতার দণ্ড”;

(খ) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “এক হাজার টাকা পর্যন্ত” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার হইতে অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা” এবং “তিন হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ১০ (দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ (বিশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯১ এর সংশোধন

৬৪। উক্ত আইনের ধারা ২৯১ এর-

(ক) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৯৫ বা ১৯৬ক এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক
১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) কোনো শ্রমিক ধারা ১৯৬ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) কোনো ট্রেড ইউনিয়ন অথবা শ্রমিক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, ধারা ১৯৬ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”;

(খ) উপ-ধারা (৩) এর পর নিম্নরূপ নূতন উপ-ধারা (৪) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(৪) কোনো ব্যক্তি ধারা ৩১৭(৪)(খ) এবং ১৯৬খ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯২ এর প্রতিস্থাপন

৬৫। উক্ত আইনের ধারা ২৯২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২৯২ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“২৯২। নিষ্পত্তি, ধারা ১২৪ক, ইত্যাদি ভঙ্গের দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন অবশ্য পালনীয় কোনো নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ বা ধারা ১২৪ক এর সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করিলে, তিনি এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯৪ এর সংশোধন

৬৬। উক্ত আইনের ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) ও (২) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) কোনো শ্রমিক কোনো বেআইনি ধর্মঘট শুরু করিলে, অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ১০ (দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ (বিশ) হাজার পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) কোনো মালিক কোনো বেআইনি লক-আউট শুরু করিলে, অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯৫ এর প্রতিস্থাপন

৬৭। ২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯৫ এর প্রতিস্থাপন।-উক্ত আইনের ধারা ২৯৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২৯৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“২৯৫৷ কোনো ব্যক্তি কোনো বেআইনি ধর্মঘট বা লক-আউটে অংশগ্রহণের জন্য অথবা উহার জন্য অর্থ খরচ বা সরবরাহের জন্য অথবা অন্য কোনোভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯৬ এর প্রতিস্থাপন

৬৮। উক্ত আইনের ধারা ২৯৬ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২৯৬ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“২৯৬। ঢিমে তালের কাজে অংশগ্রহণ বা প্ররোচনার দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি কোনো ঢিমে তালের কাজে অংশগ্রহণ করিলে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উহাতে অংশগ্রহণে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করিলে অথবা অন্য কোনো ভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোনো কাজ করিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ২৯৯ এর প্রতিস্থাপন

৬৯। উক্ত আইনের ধারা ২৯৯ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ২৯৯ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“২৯৯। অ-রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডের দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি অ-রেজিস্ট্রিকৃত অথবা রেজিস্ট্রি বাতিল হইয়াছে এমন কোনো ট্রেড ইউনিয়নের, রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ড ব্যতীত, অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করিলে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে উক্তরূপ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত বা প্ররোচিত করিলে অথবা উক্তরূপ কোনো ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের জন্য সদস্য চাঁদা ব্যতীত অন্য কোনো চাঁদা আদায় করিলে, তিনি ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০০ এর প্রতিস্থাপন

৭০। উক্ত আইনের ধারা ৩০০ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩০০ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“৩০০। ট্রেড ইউনিয়নের দ্বৈত সদস্য পদের দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইলে বা থাকিলে, তিনি ২ (দুই) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০১ এর সংশোধন

৭১। উক্ত আইনের ধারা ৩০১ এ উল্লিখিত “দুই হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “৫ (পাঁচ) হাজার” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০২ এর সংশোধন

৭২। উক্ত আইনের ধারা ৩০২ এ উল্লিখিত “এক হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “৫ (পাঁচ) হাজার” সংখ্যা, শব্দগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০৭ এর প্রতিস্থাপন

৭৩। উক্ত আইনের ধারা ৩০৭ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩০৭ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“৩০৭। অন্যান্য অপরাধের দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি এই আইন বা কোনো বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে, এবং ইহার জন্য উহাতে অন্য কোনো দণ্ডের বিধান না থাকিলে, তিনি ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা অন্যূন ২৫ (পচিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০৭ক ও ৩০৭খ এর সন্নিবেশ

৭৪। উক্ত আইনের ধারা ৩০৭ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩০৭ক এবং ৩০৭খ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩০৭ক। কর্মস্থলে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির কারণে দণ্ড।- কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৩২ক এর বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে তিনি অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

৩০৭খ। জবরদস্তিমূলক শ্রমের দণ্ড।-কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৪৫গ এর বিধান লঙ্ঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে তিনি অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার হইতে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩০৯ এর সংশোধন

৭৫। উক্ত আইনের ধারা ৩০৯ এর উপ-ধারা (১) এর-

(ক) দফা খ) এ উল্লিখিত “দশ হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ৫০ পঞ্চাশ) হাজার হইতে অনধিক ১ এক) লক্ষ” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে;

(খ) দফা গ) এ উল্লিখিত “দুই হাজার” শব্দগুলির পরিবর্তে “অন্যূন ১০ দশ) হাজার হইতে অনধিক ২০ বিশ) হাজার” সংখ্যাগুলি, শব্দগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩১৭ এর সংশোধন

৭৬। উক্ত আইনের ধারা ৩১৭ এর উপ-ধারা (৪) এর-

(ক) দফা (খ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(খ) কোনো অপরাধের জন্য বা অসৎ শ্রম আচরণের জন্য বা এন্টি ট্রেড ইউনিয়ন ডিস্ক্রিমিনেশনের জন্য অথবা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের কোনো বিধান ভঙ্গের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শ্রমিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করিবেন, উক্ত আদেশ প্রতিপালন না করা হইলে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবে;”;

(খ) দফা (ঘ) বিলুপ্ত হইবে;

(গ) দফা (চ) এ উল্লিখিত “এবং” শব্দ বিলুপ্ত হইবে;

(ঘ) দফা (চ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (চচ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(চচ) ভবিষ্য তহবিল এর কাজকর্ম তত্ত্বাবধান এবং উহার ট্রাস্টি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচন তত্ত্বাবধান;”;

(ঙ) দফা (চচ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (চচচ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(চচচ) শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা, পরিবার-পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যক্রম, বিনোদন, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম প্রশাসন সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও এতদ্‌সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের নিকট প্রেরণ;”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩১৮ক এর সন্নিবেশ

৭৭। উক্ত আইনের ধারা ৩১৮ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩১৮ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩১৮ক। শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার কার্যাবলি।- (১) শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) শ্রমিকের চাকুরির শর্তাবলি এবং সুরক্ষার সহিত সম্পর্কিত আইনি বিধানসমূহ যথা- কর্মঘণ্টা, মজুরি, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, শিশু ও কিশোরদের কর্মে নিয়োজিতকরণ, জবরদস্তিমূলক শ্রমসহ পরিদর্শকের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য সহিংসতা ও হয়রানিসহ, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনগত বিধানসমূহ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;

(খ) আইনি বিধানসমূহের সর্বোচ্চ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান;

(গ) পরিদর্শক কর্তৃক দায়িত্বপালনকালে তাহার গোচরে আসা এমন কোনো ত্রুটি বা অপব্যবহার যাহা বিদ্যমান আইনগত বিধি-বিধান দ্বারা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নহে এমন বিষয়সমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে আনয়ন;

(ঘ) সরকার কর্তৃক সময় সময় বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদন।

(২) সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব, এমন হইবে না, যাহা পরিদর্শকের পরিদর্শন সংক্রান্ত মূল দায়িত্বের সহিত সাংঘর্ষিক হয় বা বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকের প্রতি আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাহার এখতিয়ার ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩১৯ এর সংশোধন

৭৮। উক্ত আইনের ধারা ৩১৯ এর-

(ক) উপ-ধারা (১) এর-

(অ) দফা (ক) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ক) প্রয়োজনীয় সহকারী সহকারে, তাহার বিবেচনায় কোনো প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য বা ব্যবহৃত কোনো স্থান, আঙ্গিনা, নৌযান বা যানবাহনে যে কোনো যুক্তিসংগত সময়ে ‘কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত করিয়া কিংবা অবহিতকরণ ব্যতিরেকে’ মানসম্পন্ন (Operating Procedure) অনুসারে প্রবেশ, পরিদর্শন, তদন্ত এবং পরীক্ষাকার্য পরিচালনা;

(আ) দফা (চ) এর প্রান্তস্থিত “এবং” শব্দটি বিলুপ্ত হইবে;

(ই) দফা (ছ) এর প্রান্তস্থিত দাড়ি চিহ্নের পরিবর্তে সেমিকোলন চিহ্ন প্রতিস্থাপিত হইবে এবং অতঃপর নিম্নরূপ নূতন দফা (জ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(জ) পরিদর্শন কার্য সুচারুরূপে সম্পন্ন করিবার নিমিত্ত সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিতে পারিবে।”;

(খ) উপ-ধারা (৫) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (৫) ও (৫ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(৫) মহাপরিদর্শক, অথবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাহার অধঃস্তন কোনো কর্মকর্তা, এই আইন বা কোনো বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন, তাহার এখতিয়ারাধীন কোনো বিষয়ে, কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন।

(৫ক) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ, তদারকি এবং শ্রম আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অভিন্ন অনুসরণীয় পদ্ধতি নিশ্চিতকরণে সরকার মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।”;

(গ) উপ-ধারা (৬) বিলুপ্ত হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩১৯ক এর সন্নিবেশ

৭৯। উক্ত আইনের ধারা ৩১৯ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩১৯ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩১৯ক। অভিযোগ সংক্রান্ত গোপনীয়তার দায়িত্ব।- (১) পরিদর্শক কর্মক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় বা লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগের সূত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখিবেন, এবং তাহার মালিক বা তাহার প্রতিনিধিকে কোনো রকম পূর্বতথ্য বা নোটিশ দিবেন না যে, উক্ত অভিযোগ প্রাপ্তির কারণে কর্মস্থলে তদন্ত বা পরিদর্শন করা হইয়াছে।

(২) যদি কোনো শ্রমিকের এই মর্মে যুক্তিযুক্ত বিশ্বাস থাকে যে, তিনি শ্রম পরিদর্শকের নিকট দাখিলকৃত অভিযোগের জন্য মালিকের পক্ষ হইতে বৈষম্য অথবা বৈরী আচরণের শিকার হইয়াছেন, তাহা হইলে তিনি তাহার অনুযোগ শ্রম আদালতে উত্থাপন করিবার অধিকারী হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩২৩ এর সংশোধন

৮০। উক্ত আইনের ধারা ৩২৩ এর উপ-ধারা (২) এর-

(ক) দফা (ছছ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ছছ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ছছ) শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পদাধিকারবলে;”;

(খ) দফা (ছছ) এর পর নিম্নরূপ নূতন দফা (ছছছ) সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“(ছছছ) শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, পদাধিকারবলে;”;

(গ) দফা (ঞ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঞ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(ঞ) কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পদাধিকারবলে যিনি ইহার সদস্য সচিবও হইবেন।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩২৬ এর সংশোধন

৮১। উক্ত আইনের ধারা ৩২৬ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (খ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(খ) কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারখানা বা কোনো শ্রেণির কারখানাকে লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং উক্ত লাইসেন্স প্রতি ৫ (পাঁচ) বৎসর পরপর নবায়ন করিতে হইবে, তবে ঠিকাদার সংস্থার লাইসেন্স এর মেয়াদ হইবে ১ (এক) বৎসর, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় ধার্যকৃত ফিস প্রদানপূর্বক উহা রেজিস্ট্রিকরণ বা লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩৩২ এর প্রতিস্থাপন

৮২। উক্ত আইনের ধারা ৩৩২ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৩২ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“৩৩২। কর্মজগতে এবং কর্মস্থলে সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সকল ব্যক্তির দায়িত্ব।- (১) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) মালিক, নিয়োগকর্তা ও কর্তৃপক্ষ কর্মস্থলে সহিংসতা, হয়রানি প্রতিরোধে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ যেন বৈরী না হয় তাহা নিশ্চিত করা;

(খ) যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে যেসকল নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির উল্লেখ রহিয়াছে তাহা ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রকাশ করা;

(গ) কর্মস্থলে যৌন হয়রানিমূলক সকল প্রকার ঘটনাকে প্রতিরোধ করিতে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ঘ) সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে একটি কর্মস্থল নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা;

(ঙ) পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সহিংসতা ও হয়রানি এবং সংশ্লিষ্ট মনোসামাজিক ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া;

(চ) সহিংসতা ও হয়রানির ঝুঁকি চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করা এবং তা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(ছ) কর্মরত কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকি ও বিপদ সম্পর্কে এবং প্রতিরোধ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা, তাহাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া;

(জ) কর্মস্থলের ওয়েবসাইটে এতদ্‌সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির বিবরণ প্রদান করা;

(ঝ) প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করিবার জন্য যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

(২) কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজে কোনো নারী নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, তাহার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো সহকর্মী বা অন্য কেহ এমন কোনো আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত নারীর শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থি।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনে ধারা ৩৩২ক এর সন্নিবেশ

৮৩। উক্ত আইনের ধারা ৩৩২ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৩২ক সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩৩২ক। বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি।-(১) প্রত্যেক মালিক সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করিবে, এবং উক্ত কমিটিতে ৫ (পাঁচ) জন সদস্য থাকিবে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের মধ্য হইতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী প্রতিনিধি থাকিবেন এবং প্রধান হইবেন একজন নারী, কমিটিতে দুজন সদস্যকে জেন্ডার এবং যৌন নির্যাতনের বিষয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান হইতে নিতে হইবে।

(২) কমিটি প্রতিটি অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন গ্রহণ, তদন্ত এবং পরিচালনা করিবে এবং বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করিবে।

(৩) কমিটি গোপনীয়তা রক্ষা এবং মানব মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিয়া কাজ পরিচালনা করিবে এবং অভিযোগ বা প্রতিবেদন গ্রহণ, তদন্ত ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বাধা সৃষ্টি করিবে না।

(৪) লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর, অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনে ধারা ৩৩৮ এর সংশোধন

৮৪। উক্ত আইনের ধারা ৩৩৮ এর-

(ক) উপান্তটীকার পরিবর্তে নিম্নরূপ উপান্তটীকা প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“কতিপয় বিশেষ অবস্থায় বাড়িঘর বা আঙিনার মালিক এবং একাধিক নিয়োগকারীর দায়িত্ব”;

(খ) উপ-ধারা (২) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (২) ও (২ক) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(২) একাধিক নিয়োগকারীর যৌথ দায়িত্ব, যেক্ষেত্রে কোনো আঙিনার স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বা বাড়ি বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সেইক্ষেত্রে, আঙিনার মালিক নিম্নলিখিত বিষয়ে এই আইন বা বিধির বিধান ভঙ্গ বা লঙ্ঘনের জন্য এমনভাবে দায়ী হইবেন যেন তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক, যথা:-

(ক) শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ এবং ধৌতকরণ সুবিধাসমূহে পানির অভিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা;

(খ) আঙ্গিনার মালিকের এমন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বেড়া দেওয়া যাহা কোনো ভাড়াটের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তাহার নিকট হস্তান্তর করা হয় নাই;

(গ) উপরের তলা এবং ফ্ল্যাটগুলির জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, এবং সিঁড়ি ও অভিন্ন পথের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা;

(ঘ) অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সাবধানতামূলক ব্যবস্থা;

(ঙ) হয়েস্ট এবং উত্তোলন যন্ত্রের ব্যবস্থা ও রক্ষণ; এবং

(চ) আঙ্গিনার অন্য কোনো অভিন্ন সুবিধা রক্ষণ।

(২ক) যদি একাধিক নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠান একই জায়গায় কাজ করে, তবে তাহাদের একে অপরের সহিত সমন্বয় করিয়া আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করিতে হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনে ধারা ৩৪৫ এর সংশোধন

৮৫। উক্ত আইনের ধারা ৩৪৫ এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৪৫ প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

‘‘৩৪৫। সমকাজের জন্য সমমজুরি প্রদান।-(১) কোনো শ্রমিকের জন্য কোনো মজুরি নির্ধারণ বা নিম্নতম মজুরির হার স্থিরীকরণের ক্ষেত্রে, একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য পুরুষ, নারী এবং অক্ষম শ্রমিকগণের জন্য সমান মজুরির নীতি অনুসরণ করিতে হইবে, এবং এতৎসংক্রান্ত কোনো ভেদের কারণে কোনো বৈষম্য করা যাইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ধারা ২(৪৫)(ক), (গ) এবং (ঘ) তে উল্লিখিত উপাদানসমূহ বিবেচনাযোগ্য হইবে।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনে ধারা ৩৪৫ক, ৩৪৫খ ও ৩৪৫গ এর সন্নিবেশ

৮৬। উক্ত আইনের ধারা ৩৪৫ এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৪৫ক, ৩৪৫খ ও ৩৪৫গ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩৪৫ক। শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ।-(১) কোনো মালিক কোনো শ্রমিকের সহিত বৈষম্যমূলক আচরণ করিতে পারিবেন না।

ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারায় ‘বৈষম্য’ বলিতে এমন আচরণ বোঝানো হইয়াছে, যাহা জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, লিঙ্গ পরিচয়, ধর্ম, রাজনৈতিক মতামত, জাতীয়তা, সামাজিক অবস্থান, বংশ বা প্রতিবন্ধীতার কারণে কোনো ব্যক্তিকে আলাদা করা, বাদ দেওয়া বা কম গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং যাহার ফলে চাকুরি বা পেশায় সমতার সুযোগ ও আচরণ নষ্ট হয়।

(২) যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষ যোগ্যতা বা দক্ষতা অপরিহার্য হয়, তবে সেই ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে বৈধ ধরা হইবে এবং এটি বৈষম্য হিসাবে গণ্য হইবে না।

(৩) নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও বৈষম্য হিসেবে ধরা হইবে না, যথা:-

এমন ব্যবস্থা, যাহা যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহভাজন বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কার্যকলাপে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য;

(খ) অতীতে বৈষম্যমূলক আইন বা চর্চার কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক বা শিক্ষাগতভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গৃহীত বিশেষ সুরক্ষা বা সহায়তা কার্যক্রম।

৩৪৫খ। বৈষম্যের ধরণ।-(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ হইবে।

(২) প্রত্যক্ষ বৈষম্য তখন ঘটে, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সহিত কম অনুকূল আচরণ করে, যাহা প্রকাশ্যে বা গোপনে নিষিদ্ধকরণ ( যেমন- লিঙ্গ, জাতি বা ধর্ম) করা হয়, এবং ইহার মধ্যে যৌন ও অন্যান্য ধরনের হয়রানিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৩) পরোক্ষ বৈষম্য তখন ঘটে, যখন কোনো ব্যক্তি এমন একটি শর্ত বা নিয়ম আরোপ করে, যাহা আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হইলেও-

(ক) নিষিদ্ধ কারণে কিছু ব্যক্তিকে অন্যদের তুলনায় বেশি অসুবিধায় ফেলে; এবং

(খ) কাজের জন্য বাস্তবিকভাবে প্রয়োজনীয় নহে।

(৪) প্রমাণের দায়িত্ব নিম্নরূপভাবে নিয়োগকর্তার উপর থাকিবে, যথা:-

কম অনুকূল আচরণ বৈষম্যমূলক নহে; এবং

(খ) আরোপিত শর্ত বা নিয়ম যুক্তিসঙ্গত।

৩৪৫গ। জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।-(১) কোনো ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রমে নিযুক্ত করিতে পারিবে না।

(২) কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োগ বা ব্যবহারে সহায়তা করিতে পারবে না।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩৪৮ এর সংশোধন

৮৭। উক্ত আইনের ধারা ৩৪৮ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“(১) সরকার, শ্রমিকগণের ও মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণ, সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে এই আইনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ কোর্স ও গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩৪৮ক এর প্রতিস্থাপন

৮৮। উক্ত আইনের ধারা ৩৪৮ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৪৮ক প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

“৩৪৮ক। জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ গঠন।-(১) আইন, নীতি বা শ্রম সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদানের জন্য সরকার জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ’ নামে পরিষদ গঠন করিতে পারিবে।

(২) পরিষদের গঠন এবং উহার কার্যপরিধি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের ধারা ৩৪৮খ ও ৩৪৮গ এর সন্নিবেশ

৮৯। উক্ত আইনের ধারা ৩৪৮ক এর পর নিম্নরূপ নূতন ধারা ৩৪৮খ ও ৩৪৮গ সন্নিবেশিত হইবে, যথা:-

“৩৪৮খ। জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম।-যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে সামাজিক ও শ্রম সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ, সম্মিলিত চুক্তি প্রণয়ন এবং সেইগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করিবার জন্য পক্ষগুলির প্রতিনিধিদের নিয়া একটি জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠন করা যাইবে।

৩৪৮গ। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ।-(১) এই আইনে বা বিদ্যমান অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুক থাকুক না কেন, শ্রম-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত ও যৌথ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এই আইনের আওতায় একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হইবে যাহা নিরপেক্ষ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে।

(২) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ বা শ্রম অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম মান বিষয়ক অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বা বেসরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রদান করিবে।

(৩) এই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক দপ্তর স্থাপন করিবে।

(৪) সালিশ পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করিবার জন্য মধ্যস্থতাকারীগণ (Conciliators) ও সালিশকারকদের প্যানেল (Panel of Arbitrators) থাকিবে।

(৫) এই কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম তদারকি করিবার জন্য সরকার ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি আকারে একটি গভর্নিং বডি গঠন করিবে।

(৬) গভর্নিং বডি শ্রম অধিদপ্তর (DOL) এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) মনোনীত তালিকা হইতে মধ্যস্থতাকারীগণকে (Conciliators) নিয়োগ করিবে এবং সালিশকারকগণকে (Panel of Arbitrators) প্যানেল গঠন করিবে, মধ্যস্থতাকারীগণের (Conciliators) এবং সালিশকারকগণের (Panel of Arbitrators) যোগ্যতা ও দক্ষতা সংক্রান্ত বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করা হইবে।

(৭) গভর্নিং বডির সদস্য মনোনয়নের মানদণ্ড ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং গভর্নিং বডি গঠনের বিষয়টি সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হইবে।”।

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের প্রথম তফসিল এর প্রতিস্থাপন

৯০। উক্ত আইনের প্রথম তফসিলের পরিবর্তে নিম্নরূপ প্রথম তফসিল প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের দ্বিতীয় তফসিল এর প্রতিস্থাপন

৯১। উক্ত আইনের দ্বিতীয় তফসিলের পরিবর্তে নিম্নরূপ দ্বিতীয় তফসিল প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-

২০০৬ সনের ৪২ নং আইনের তৃতীয় তফসিল এর প্রতিস্থাপন

৯২। উক্ত আইনের তৃতীয় তফসিলের পরিবর্তে নিম্নরূপ তৃতীয় তফসিল প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:-


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs