প্রিন্ট ভিউ

বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬

( ২০২৬ সনের ০১ নং অধ্যাদেশ )

বাণিজ্যিক বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলির বিধানের জন্য প্রণীত

অধ্যাদেশ

যেহেতু বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল করিবার জন্য বাণিজ্যিক বিরোধসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করিবার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন;

যেহেতু সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে;

সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিলেন:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

১। (১) এই অধ্যাদেশ বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

সংজ্ঞা

২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই অধ্যাদেশে-

(ক) "অর্থ ঋণ আদালত" অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৩ সনের ৮ নং আইন) এর অধীন গঠিত আদালত;

(খ) "দেওয়ানি কার্যবিধি" অর্থ Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908);

(গ) "বাণিজ্যিক আদালত" অর্থ এই আইনের ধারা ৩ এর অধীন গঠিত আদালত;

(ঘ) "বাণিজ্যিক বিরোধ" অর্থ হাইকোর্ট বিভাগের আদি অধিক্ষেত্র (original jurisdiction) ও অর্থ ঋণ আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয় ব্যতীত নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক বিষয়ে সৃষ্ট বিরোধ, যথা:-

(১) ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বণিকদের সাধারণ লেনদেন, যাহার মধ্যে বাণিজ্যিক দলিলসমূহের প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত;

(২) পণ্য বা সেবার রপ্তানি বা আমদানি;

(৩) বিমান, বিমান ইঞ্জিন, বিমান সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার সম্পর্কিত লেনদেন, যাহার মধ্যে বিক্রয়, লিজ ও অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত;

(৪) পণ্য পরিবহন;

(৫) নির্মাণ ও অবকাঠামোগত চুক্তি এবং এতদসংক্রান্ত দরপত্র;

(৬) বাণিজ্য বা ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত চুক্তি;

(৭) ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি (Franchising agreements);

(৮) বিতরণ ও লাইসেন্সিং চুক্তি;

(৯) ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ চুক্তি;

(১০) যৌথ উদ্যোগ চুক্তি;

(১১) শেয়ারহোল্ডার চুক্তি;

(১২) পরিষেবা খাত সম্পর্কিত সাবস্ক্রিপশন (subscription) ও বিনিয়োগ চুক্তি, যাহার মধ্যে আউটসোর্সিং ও আর্থিক সেবা অন্তর্ভুক্ত;

(১৩) বাণিজ্যিক এজেন্সি এবং বাণিজ্যিক রীতিনীতি (mercantile usage);

(১৪) অংশীদারিত্ব চুক্তি;

(১৫) প্রযুক্তি উন্নয়ন চুক্তি;

(১৬) ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৯ নং আইন), কপিরাইট আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৪ নং আইন), বাংলাদেশ পেটেন্ট আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৩ নং আইন), বাংলাদেশ শিল্প-নকশা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ২২ নং আইন) ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৫৪ নং আইন) এর অধীন অর্পিত কোনো অধিকার বা ডোমেইন নাম সম্পর্কিত কোনো দাবি বা অধিকার;

(১৭) পণ্য বিক্রয় বা সেবা প্রদান সংক্রান্ত চুক্তি;

(১৮) খনিজ, গ্যাস বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের (যেমন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম) ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি;

(১৯) বীমা বা পুনঃবীমা অথবা বীমা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ১৩ নং আইন) এর অধীন কোনো বিষয়;

(২০) এজেন্সি চুক্তি;

(২১) জাহাজ নির্মাণ, বিক্রি বা রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি;

(২২) সালিস আইন ২০০১ (২০০১ সনের ১ নং আইন) এর অধীন সালিস চুক্তি, সালিস, সালিসি কার্যধারা ও রোয়েদাদ;

(২৩) পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ৯ নং আইন) এর অধীন কোনো লেনদেন;

(২৪) সময় সময়, সরকার বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত অন্য কোনো বাণিজ্যিক বিরোধ;

ব্যাখ্যা।-স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে উক্ত সম্পত্তি জামানত হিসাবে ব্যবহৃত হইয়াছে, কিংবা চুক্তির কোনো এক পক্ষ সরকার, সরকারের অধীন কোনো সংস্থা, অথবা এমন কোনো বেসরকারি সংস্থা যাহা সরকারি কার্যাবলি (Public Service) পরিচালনা করে, কেবল এই কারণে কোনো বাণিজ্যিক বিরোধকে সাধারণ বিরোধ হিসাবে গণ্য করা যাইবে না।

(ঙ) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(চ) "সুপ্রীম কোর্ট" অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট;

(ছ) "হাইকোর্ট বিভাগ" অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ।

বাণিজ্যিক আদালত গঠন

৩। (১) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশে বর্ণিত এখতিয়ার (jurisdiction) ও ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত গঠন করিবে।

(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাণিজ্যিক আদালতের ভৌগোলিক (Territorial) এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে এবং সময় সময় উক্ত এখতিয়ারের সীমানা বৃদ্ধি, হ্রাস বা পরিবর্তন করিতে পারিবে।

(৩) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজগণের মধ্য হইতে বাণিজ্যিক আদালতের বিচারক নিযুক্ত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ নিয়োগের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আইনের উপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বা বাণিজ্যিক বিরোধের উপর অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণসম্পন্ন বিচারকগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।

(৪) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশসমূহের বিরুদ্ধে আপীল ও রিভিশন শুনানির নিমিত্ত প্রয়োজনীয় আদেশ দ্বারা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এক বা একাধিক বাণিজ্যিক আপীল বেঞ্চ গঠন করিবেন।

বাণিজ্যিক আদালতের এখতিয়ার

৪। নিজস্ব ভৌগোলিক (Territorial) এখতিয়ারের মধ্যে উদ্ভুত সকল বাণিজ্যিক বিরোধ সম্পর্কিত মোকদ্দমা ও আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার বাণিজ্যিক আদালতের থাকিবে।

এখতিয়ারে বাধা

৫। এই অধ্যাদেশে যাহা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে কোনো আইন দ্বারা দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ বা রহিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপ বিষয়ে বাণিজ্যিক আদালত কোনো মোকদ্দমা, আবেদন বা কার্যধারা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি করিবে না।

আপিল, রিভিশন ইত্যাদি

৬। (১) প্রচলিত আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক আদালতের চূড়ান্ত রায় ব্যতীত ইহার অন্য কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, বাণিজ্যিক আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির নীতি ও বিধান অনুসরণ করিয়া রিভিশন ও রিভিউ দায়ের করা যাইবে।

(২) বিরোধের যে কোনো পক্ষ বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি উক্ত রায় বা আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল বা ক্ষেত্রমত রিভিশন দাখিল করিতে পারিবেন।

মধ্যস্থতা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

৭। (১) যেইক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো মোকদ্দমায় কোনো জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার জড়িত না থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত মোকদ্দমা দায়ের করিবার পূর্বে বাদীকে এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করিয়া, যদি এইরকম কোনো বিধি মোকদ্দমা দায়েরের সময় বিদ্যমান থাকে, মোকদ্দমা দায়েরের পূর্ববর্তী মধ্যস্থতা (pre-suit mediation) পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) মোকদ্দমা দায়েরের পর রায়ের পূর্বে যে-কোনো পর্যায়ে, উভয়পক্ষ সম্মত হইলে বাণিজ্যিক আদালত মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে প্যানেল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিংবা পক্ষগণের সম্মতি ও আদালতের অনুমতিক্রমে অন্য যে-কোনো উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিয়া বিরোধ নিষ্পত্তি করা যাইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, মধ্যস্থতা কার্যক্রম ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সম্পন্ন করিতে হইবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপিত হইবে এবং এইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত উপযুক্ত মনে করিলে মধ্যস্থতার জন্য অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় বর্ধিত করিতে পারিবে।

(৩) যেক্ষেত্রে পক্ষগণ মোকদ্দমা দায়েরের পূর্বে কিংবা মোকদ্দমা চলমান থাকা অবস্থায় এই ধারার বিধান অনুসারে মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় উপনীত হন, সেইক্ষেত্রে উহা লিখিত চুক্তি আকারে প্রণীত হইবে এবং বিরোধের সকল পক্ষ এবং মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে।

(৪) পক্ষগণ এবং মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত চুক্তিনামা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে উপস্থাপিত হইবে এবং উক্ত চুক্তিনামা দ্বারা তৃতীয় পক্ষের কোনোরূপ স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় নাই মর্মে বাণিজ্যিক আদালত সন্তুষ্ট হইলে উক্ত চুক্তিনামা একটি ডিক্রি হিসাবে গণ্য হইবে ও বাণিজ্যিক আদালত কর্তৃক কার্যকর করা যাইবে।

(৫) প্যানেল মধ্যস্থতকারীদের যোগ্যতা, নিয়োগ ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

বিচারাধীন মোকদ্দমার হস্তান্তর

৮। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর কোনো দেওয়ানি আদালতে এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো বাণিজ্যিক বিরোধ, যাহার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের অধীন বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হইয়াছে, তদসংক্রান্ত কোনো কার্যধারা বিচারাধীন থাকিলে, উক্ত কার্যধারা, সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ কোনো কার্যধারার কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর কোনো আদালতে কোনো আপিল বা রিভিশন চলমান থাকিলে, উক্ত আপিল বা রিভিশন নিষ্পত্তি হইবার পর মূল কার্যধারাটি বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরিত হইবে।

ব্যাখ্যা।- (ক) এই উপ-ধারার বিধান সালিস আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১ নং আইন) এর অধীন দায়েরকৃত কার্যধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।

(খ) যে সকল কার্যধারা, যাহার মধ্যে সালিস আইন, ২০০১ (২০০১ সনের ১ নং আইন) এর অধীন আবেদনও অন্তর্ভুক্ত, এই উপ-ধারার অধীন বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরিত হইবে, সেই সকল কার্যধারার বিচারপ্রক্রিয়ার যে অংশ সম্পন্ন হয় নাই, তাহার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।

(২) বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরিত কোনো মোকদ্দমায় ইতিপূর্বে জবাব দাখিল হইয়া থাকিলে, মোকদ্দমা যেই পর্যায়েই থাকুক না কেন, বাণিজ্যিক আদালত ধারা ৯ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা শুনানির আয়োজন করিবে এবং উক্ত বিধান যতদূর প্রযোজ্য, ততদূর অনুসরণ করিয়া মোকদ্দমার অবশিষ্ট অংশের জন্য করণীয় নির্ধারণ করিবে।

(৩) যেক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরিত মোকদ্দমার কোনো পক্ষ মনে করেন যে, উক্ত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বাণিজ্যিক বিরোধ নয়, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তরের পর উক্ত মোকদ্দমাটির প্রথম ধার্য তারিখের পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে এবং বাণিজ্যিক আদালত উক্ত আপত্তি পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করিবে।

(৪) যেক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত উপ-ধারা (৩) এর অধীন নির্ধারণ করিবে যে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুটি প্রকৃতপক্ষেই বাণিজ্যিক বিরোধ নয়, সেইক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে মোকদ্দমাটি পূর্ববর্তী আদালতে ফেরত পাঠানো হইবে।

দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ ও কার্যধারা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

৯। (১) এই অধ্যাদেশে ভিন্নরূপ কোনো বিশেষ বিধান না থাকিলে, বাণিজ্যিক আদালত, বাণিজ্যিক বিরোধ সংক্রান্ত মোকদ্দমার বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানাবলি অনুসরণ করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে বাদী সুদ দাবি করেন, সেই ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি-এর Order VII, Rule 1-এ উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সুদ সংক্রান্ত দাবির বিস্তারিত বিবরণ বাদীর আরজিতে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৩) মোকদ্দমা দায়েরের পর যে-কোনো সময় বাণিজ্যিক আদালত মোকদ্দমাটি রক্ষণীয় (maintainable) নয় মর্মে সন্তুষ্ট হইলে আরজি নাকচ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে বাদী বা ক্ষেত্রমতো বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।

(৪) বিবাদীপক্ষ হইতে জবাব দাখিল করিবার পর প্রথম শুনানির দিন মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা (Suit Management) শুনানি অনুষ্ঠিত হইবে; উক্ত শুনানিতে উভয়পক্ষ স্ব স্ব দাবি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করিবে এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতপূর্বক বাণিজ্যিক আদালত-

(ক) মূল বিচার্য বিষয়সমূহ নির্ধারণ করিবে;

(খ) ঘটনাগত এবং আইনগত বিচার্য বিষয়সমূহ পৃথকভাবে চিহ্নিত করিবে;

(গ) শুধুমাত্র দালিলিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তিযোগ্য কি না তাহা নির্ধারণ করিবে;

(ঘ) কোন কোন বিচার্য বিষয় প্রমাণে মৌখিক সাক্ষ্য প্রয়োজন এবং কোন কোন বিচার্য বিষয় প্রমাণে দালিলিক সাক্ষ্যই যথেষ্ট, তাহা নির্ধারণ করিবে;

(ঙ) কোন পক্ষ কতজন সাক্ষী উপস্থাপন করিবে, তাহার প্রাথমিক সংখ্যা নির্ধারণ করিবে;

এবং

(চ) মোকদ্দমায় কতটি পর্যায় প্রয়োজন হইবে এবং প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় ব্যয় হইবে তাহা স্থির করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, দেওয়ানি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোকদ্দমা ব্যবস্থাপনা শুনানিতে কোনো পক্ষ অনুপস্থিত থাকিলে বাণিজ্যিক আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির Order IX এর বিধান প্রয়োগ করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৫) এই অধ্যাদেশের অধীন আনীত কোনো মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানির পূর্বে যে-কোনো পক্ষ উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সর্বোচ্চ তিনবার সময় প্রার্থনা করিতে পারিবে এবং বাণিজ্যিক আদালত সন্তুষ্ট হইলে যুক্তিসঙ্গত খরচ নির্ধারণ করিয়া উক্ত আবেদন মঞ্জুর করিতে পারিবে।

(৬) বাণিজ্যিক আদালত, যেই তারিখে মোকদ্দমাটিকে চূড়ান্ত শুনানির জন্য নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে, কোনো প্রকার ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে, চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো পক্ষের ইচ্ছাকৃত কর্ম, কর্মবিরতি বা গাফিলতির কারণে এই উপ-ধারায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে বাণিজ্যিক আদালত তাহার বিবেচনায় উক্ত পক্ষের উপর উপযুক্ত পরিমাণ খরচ আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত খরচ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সেই পক্ষ মোকদ্দমার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না; পক্ষ কর্তৃক খরচ পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বাণিজ্যিক আদালত মূল ডিক্রির সহিত উক্ত খরচ সংযুক্তপূর্বক উহা আদায়ের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

(৭) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা বাদীর ব্যর্থতায় খারিজ হয় কিংবা বিবাদীর অনুপস্থিতিতে একতরফা ডিক্রি হয়, সেইক্ষেত্রে বিবিধ মামলা দায়েরের প্রয়োজন হইলে নিয়মিত সমন জারি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অপরপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবীকে নোটিশ প্রদান করাই যথেষ্ট হইবে, যদি না উক্ত আইনজীবী লিখিতভাবে জানান যে, উক্ত মামলায় তিনি আর নিযুক্ত আইনজীবী নহেন; অনুরূপ বিবিধ মামলা যথাসম্ভব মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতিরেকে কেবল শুনানি ও খরচ প্রদানের মাধ্যমে অথবা ক্ষেত্রমত এফিডেভিটকৃত জবানবন্দি ও দালিলিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হইবে।

(৮) যেক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত মনে করে, উভয়পক্ষের দাখিলি এফিডেভিটকৃত বক্তব্য, দালিলিক প্রমাণ ও শুনানির উপর ভিত্তি করিয়া কোনো মোকদ্দমার রায় প্রদান সম্ভব, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতিরেকেই রায় প্রদান করিতে পারিবে; যেক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা আবশ্যক বলিয়া মনে হয়, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত বিচার্য বিষয় অনুসারে মৌখিক সাক্ষ্যের ক্ষেত্র নির্ধারণপূর্বক সাক্ষীদের এফিডেভিটকৃত মৌখিক সাক্ষ্য ও সংক্ষিপ্ত জেরা গ্রহণ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রের বাহিরে অন্য কোনো বিষয়ে বা মোকদ্দমার ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে না।

(৯) বাণিজ্যিক আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং পক্ষগণকে ক্ষতিগ্রস্ত না করিয়া মোকদ্দমার বিভিন্ন পর্যায় একই ধার্য তারিখে সম্পন্ন করিবার আদেশ দিতে পারিবে।

(১০) কোনো মোকদ্দমায় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো প্রকল্প বা উল্লেখযোগ্য গুরুত্বসম্পন্ন বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকিলে বাণিজ্যিক আদালত উহার বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উক্ত মোকদ্দমা নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় আদেশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(১১) পক্ষগণের দ্বারা অন্যভাবে সাব্যস্ত না হইলে-

(ক) রায়ে অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকিলে পরিশোধিতব্য অর্থের সহিত, বিরোধ উদ্ভব হইবার তারিখ হইতে রায় প্রদান করিবার তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার সম্পূর্ণ বা অংশের জন্য চুক্তিতে নির্ধারিত হারে বা, অনুরূপ হার না থাকিলে, বাণিজ্যিক আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হারে সুদ যুক্ত করা যাইবে; এবং

(খ) রায়ে অন্যভাবে আদেশ প্রদত্ত না হইলে, রায় প্রদান করিবার তারিখ হইতে অর্থ পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত সময়কালের জন্য রায় দ্বারা যে অর্থ পরিশোধের জন্য আদেশ প্রদান করা হইবে উক্ত অর্থের সহিত প্রচলিত ব্যাংক হার অপেক্ষা ২% অধিক বাৎসরিক হারে সুদ প্রদেয় হইবে।

ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারার "ব্যাংক হার" অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত সুদের হারকে বুঝাইবে।

(১২) বাণিজ্যিক আদালত উহার রায়ে খরচ প্রদানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হইবে-

(ক) মোকদ্দমায় যে পক্ষ ব্যর্থ হইবে, সাধারণ নিয়মে উক্ত পক্ষ সফল পক্ষকে খরচ পরিশোধ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ব্যর্থ পক্ষ মামলার কোনো অংশে সফল হন, বা ব্যর্থ পক্ষের মোকদ্দমায় কোনোরূপ অসাধু উদ্দেশ্য (mala fide) না থাকে, বা বাণিজ্যিক আদালতের বিবেচনায় ব্যর্থ পক্ষের বিরুদ্ধে খরচ আরোপ করা অন্যায্য প্রতীয়মান হয়, সেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আদালত খরচ প্রদানের আদেশ প্রদান হইতে বিরত থাকিতে পারিবে বা, ক্ষেত্রমত, হ্রাসকৃত খরচ প্রদান করিতে পারিবে।

(খ) খরচ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক আদালত উভয় পক্ষকে খরচের বিস্তারিত হিসাব দাখিল করিতে নির্দেশ দিতে পারিবে এবং দাখিলকৃত হিসাব পর্যালোচনা করিয়া উহা যুক্তিসঙ্গত করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় "খরচ" অর্থে মোকদ্দমায় ব্যয়িত কোর্ট-ফি, আইনজীবীর ফি, সাক্ষীদের রাহাখরচসহ মোকদ্দমা পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(১৩) ডিক্রি জারি করিবার ক্ষেত্রে দায়িকের সম্পত্তি শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক আদালত দায়িককে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত প্রদান করিবার আদেশ দিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য আবেদন

১০। (১) এই অধ্যাদেশের অধীন বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিবাদীর প্রতি সমন জারি হইবার পর মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ, ইস্যু গঠন করিয়া সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে রায় প্রদানের জন্য বাণিজ্যিক আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারিবে।

(২) বাণিজ্যিক আদালত, উক্ত আবেদন গ্রহণযোগ্য মনে করিলে আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করিবে।

(৩) শুনানি সম্পন্ন হইবার পর-

(ক) যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে মোকদ্দমায় বাদীর প্রতিকার প্রাপ্তির কিংবা বিবাদীর নিজ দাবি প্রমাণের কোনোরূপ সম্ভাবনা নাই; এবং

(খ) বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোনো মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নাই,

তাহা হইলে বাণিজ্যিক আদালত উভয়পক্ষের লিখিত আরজি-জবাব, দাখিলি দালিলিক প্রমাণ বিবেচনা করিয়া রায় প্রদান করিতে পারিবে।

তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ

১১। বাণিজ্যিক আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলকৃত মোকদ্দমা, আবেদন, আপীল ও রিভিশন এর সংখ্যাসহ বিচারাধীন মোকদ্দমার সংখ্যা, মোকদ্দমার অবস্থা এবং নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক প্রতি মাসে হালনাগাদ করিতে হইবে এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করিতে হইবে।

প্র্যাকটিস ডাইরেকশন (Practice Directions) প্রদানের ক্ষমতা

১২। সুপ্রীম কোর্ট, বিজ্ঞপ্তি দ্বারা, এই অধ্যাদেশের বিধানসমূহ বা Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর যে সকল বিধান বাণিজ্যিক বিরোধের শুনানিতে প্রযোজ্য, উহা কার্যকররূপে প্রয়োগ করিবার নিমিত্ত কিংবা বাণিজ্যিক আদালতের রায় বা আদেশ হইতে উদ্ধৃত কোনো আপিল বা রিভিশন শুনানি দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন (practice directions) জারি করিতে পারিবে।

অবকাঠামো সুবিধা প্রদান

১৩। সরকার বা, ক্ষেত্রমত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্যিক আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য এবং তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করিবে।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার

১৪। (১) আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ (২০২০ সনের ১১ নং আইন) অনুসরণপূর্বক পক্ষ ও আইনজীবীগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বাণিজ্যিক আদালতের সব ধরনের শুনানি সম্পাদন করা যাইবে।

(২) মোকদ্দমা দায়ের, সমন জারি, দলিল উপস্থাপন, রায়প্রকাশসহ যেসব কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে করা সম্ভব, সেসব কার্যক্রম, সরকার কর্তৃক প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসারে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পাদন করা যাইবে।

প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ

১৫। সরকার বা, ক্ষেত্রমত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, বাণিজ্যিক আদালতে নিযুক্ত বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীগণের পেশাগত মানোন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং উক্ত আদালতের বিচারকগণ ও আইনজীবীগণের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করিবে।

অধ্যাদেশের প্রাধান্য

১৬। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অধ্যাদেশে বর্ণিত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্য কোনো আইন বা আইনের বিধান যদি এই অধ্যাদেশের বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে সেই আইন বা আইনের বিধান যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

১৭। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধানাবলি সাপেক্ষে, সরকার, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

ইংরেজিতে অনুদিত পাঠ প্রকাশ

১৮। (১) এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।

(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।


Copyright © 2019, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs